📄 হুনাইন ও তাবুক মধ্যবর্তী সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি
এক. সাদকা উসুলে কর্মী নির্ধারণ
মাদীনায় প্রত্যাবর্তনের পর আল্লাহর রাসূল ﷺ যাকাত ও সাদকা আদায়ের জন্য বিভিন্ন গোত্রে প্রতিনিধি প্রেরণ করেন। বনু তামীমে উয়াইনা ইবনু হিসন, বনু আসাদ ও ফাযারায় আব্বাস ইবনু মিরদাস প্রমুখকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ইবনুল লুতবিয়্যাহ নামক এক কর্মী ফিরে এসে বললেন, 'এটা আপনাদের মাল আর এটা আমাকে হাদিয়া দেওয়া হয়েছে।' নবিজি এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মিম্বারে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করলেন যে, কোনো কর্মীর জন্য দায়িত্ব পালনকালে ব্যক্তিগত হাদিয়া গ্রহণ করা আত্মসাতের শামিল।
দুই. এ সময়ের গুরত্বপূর্ণ সারিয়্যা বা অভিযান
ক. জুল কিফলাইনে তুফাইল ইবনু আমরের অভিযান: নবিজি তাকে তার গোত্রীয় দেবতা 'জুল কিফলাইন' ধ্বংস করতে পাঠান। তিনি তা পুড়িয়ে দেন।
খ. আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফা সাহমির অভিযান: সফরের সময় একপর্যায়ে তিনি রাগের মাথায় সঙ্গীদের আগুনে ঝাঁপ দিতে বলেন। সাথীরা রাজি না হওয়ায় নবিজি পরে বলেন, 'আনুগত্য শুধু ভালো কাজে।'
গ. তাঈ নগরীর ফুল্স মূর্তি ধ্বংসে 'আলি ﷺ-এর অভিযান: ১৫০ জন মুজাহিদ নিয়ে তিনি এই মূর্তি ধ্বংস করেন এবং প্রচুর গানীমাত লাভ করেন।
ঘ. জুল-খালাসায় জারীর ইবনু আব্দিল্লাহর অভিযান: নবিজি জারীরকে ইয়েমেনের 'ইয়ামানি কা'বা' বা জুল-খালাসা ধ্বংস করতে পাঠান। তিনি ১৫০ জন অশ্বারোহী নিয়ে তা ধ্বংস করেন।
তিন. আদি ইবনু হাতিমের ইসলামগ্রহণ
বিখ্যাত দানবীর হাতিম তাঈর ছেলে আদি ইবনু হাতিম প্রথমে পলায়ন করলেও পরে নবিজির মহানুভবতা দেখে মাদীনায় আসেন। নবিজি তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে অত্যন্ত বিনয় ও সম্মানের সাথে আপ্যায়ন করেন। আদির ধর্ম সম্পর্কে নবিজির গভীর জ্ঞান দেখে তিনি মুগ্ধ হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন।
চার. মহিজরির বিক্ষিপ্ত ঘটনাবলি
এ সময়ে নবিজির পুত্র ইবরাহীম ﷺ ভূমিষ্ঠ হন। নবিজির বড় মেয়ে যাইনাব ﷺ ইন্তেকাল করেন। নবিজি তাকে নিজ হাতে কাফন-দাফনের তদারকি করেন।
টিকাঃ
[৭৪৮] দেখুন, নাদরাতুন নাঈম, ১/৩৮৪
[৭৪৯] দেখুন, মানসুর হারাবী রচিত, আদ দাওলাতুল আরাবিয়্যাহ আল ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ৪৩
[৭৫০] বুখারি, ৬৯৭৯; মুসলিম, ১৮৩৩
[৭৫১] আবু দাউদ, ২৯৪৩; কাতানী রচিত, 'আত তারাতীবুল ইদারিয়্যাহ, ১/২৬৫
[৭৫২] দেখুন, নাদরাতুন নাঈম, ১/৩৭৫
[৭৫৩] বুখারি, ৪৩৪০; মুসলিম, ১৮৪০
[৭৫৪] যাহাবি রচিত, তারীখুল ইসলাম, মাগাযি অধ্যায়; পৃ. ৬২৪
[৭৫৫] বুখারি, ৪৩৫৭; মুসলিম, ২৪৭৬; আহমাদ, ৪/৩৬২
[৭৫৬] দেখুন, হুমাইদি রচিত আত তারীখুল ইসলামী, ৮/৮১
[৭৫৭] দেখুন, সহীহ সীরাতুন নাবী, পৃ. ৫৮০
[৭৫৮] দেখুন, সীরাতে ইবনু হিশাম, ৪/২৩৬
[৭৫৯] দেখুন, হুমাইদি রচিত আত তারীখুল ইসলামী, ৮/৫৮, ৮৬
[৭৬০] দেখুন, বৃতি রচিত ফিকহুস সীরাহ পৃ. ৩২১
[৭৬১] দেখুন, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪/৩৭৪
[৭৬২] দেখুন, আবু শুহবা রচিত, আস সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ, ২/৪৯০