📄 এক. হুনাইন যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি
শাওয়াল মাসের পাঁচ তারিখে মুসলিম বাহিনী হুনাইনের দিকে যাত্রা শুরু করে। হুনাইনে গিয়ে পৌঁছে দশ তারিখ সন্ধ্যায়। মাক্কা থেকে বেরোবার সময় আল্লাহর রাসূল মক্কার শাসক নিযুক্ত করে যান ইতাব ইবনু উসাইদ-কে। এই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর সেনা সংখ্যা ছিল ১২ হাজার। হাওয়াযিন ও সাকীফের সংখ্যা ছিল মুসলিমদের দ্বিগুণ কিংবা আরও বেশি। চলতি পথে নতুন আজাদ হওয়া মুসলিমদের অনেকেই বাহিনীর দিকে দৃষ্টি দিয়ে মুগ্ধ হয়ে বলছিল, 'আজ অন্তত সংখ্যা স্বল্পতার কারণে আমরা পরাজিত হব না।'
হাওয়াযিন ও সাকীফের নেতা মালিক ইবনু আউফের গৃহীত পরিকল্পনা ধাপে বিন্যস্ত ছিল—
১. সেনাদের মাঝে মানসিক শক্তি সঞ্চার। মালিক ইবনু আউফ সেনাদের সামনে বলেছিল, 'আসলে মুহাম্মাদ আজকের আগে কখনোই লড়াই করেনি। সে এর আগে খড়কুটোর মতো কিছু জাতির সাথে মুখোমুখি হয়েছিল শুধু।'
২. যোদ্ধাদের সন্তানসন্ততি ও সম্পদ পেছনে নিয়ে আসা। আনাস ইবনু মালিক বলেন, 'আমি দেখেছি মুশরিকরা সুন্দর বিন্যস্ত সারিতে সামনে এসেছিল। প্রথমে অশ্বারোহী বাহিনী, তারপর পদাতিক বাহিনী। যোদ্ধাদের পরে নারীদের অবস্থান, তাদের পেছনে মেষপাল ও সবশেষে গবাদি পশুর সারি।'
৩. তরবারি উন্মুক্ত করে কোষ ভেঙে ফেলা। যেন ঘোষণা করত বিজয় কিংবা মৃত্যু পর্যন্ত যোদ্ধাদের ময়দানেই অবিচল থাকতে হবে।
৪. মুসলিম বাহিনীর ওপর আকস্মিক আক্রমণ। মালিক বিন আউফ একটি তিরন্দাজ বাহিনীও গঠন করে; গোপন করে রাখে মুসলিম বাহিনীর জন্য ওত পেতে থাকতে।
৫. মুসলিমদের ওপর আক্রমণের ক্ষেত্রে ক্ষিপ্রতার কর্তৃত্ব ধরে রাখা।
৬. মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধকে শানিত করা। মালিক বিন আউফ দশ হাজার উট সাথে এনেছিল। এগুলো সে পেছনের সারিতে রেখে প্রত্যেকটির ওপর আরোহণ করায় মহিলাদের। প্রতিপক্ষের জন্য এটা ছিল এক লাখ সৈন্যের মতো দৃশ্য।
শত্রুদের বিরুদ্ধে আল্লাহর রাসূলের পরিকল্পনা:
১. হাওয়াযিনের পূর্ণ গতিবিধি পর্যবেক্ষণ। আবদুল্লাহ হাদরাদ ﷺ কে নবিজি তথ্য সংগ্রহের জন্য পাঠিয়েছিলেন।
২. বাহিনী প্রস্তুতকরণ এবং ঢাল ও বর্শা তৈরি। নবিজি সাফওয়ান বিন উমাইয়ার কাছ থেকে একশটি বর্ম ও প্রয়োজনীয় অস্ত্র ঋণ গ্রহণ করেন।
৩. আল্লাহর রাসূলের অবিচলতা। মুশরিকরা হুনাইনের গিরিখাতে মুসলিমদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করলে মুসলিম সেনাব্যুহ ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। কিন্তু আল্লাহর রাসূল ও অল্প সংখ্যক সাহাবি অটল থাকেন। নবিজি উচ্চকণ্ঠে ডাকছিলেন, 'আমি আল্লাহর নবি, এতে কোনো মিথ্যা নেই, আমি আবদুল মুত্তালিবের বংশধর।' আব্বাস ﷺ নবিজির আদেশে বাইআতুর রিদওয়ানের সাহাবিদের ডাকলে তারা দ্রুত ফিরে এসে লড়াই শুরু করেন।
ফেরেশতাদের সাহায্য: আল্লাহ তাআলা হুনাইন যুদ্ধে মুমিনদের ফেরেশতা দিয়ে সাহায্য করেন এবং কাফিরদের মনে ভীতি সঞ্চার করেন। নবিজি ﷺ একমুঠো ধুলো নিয়ে কাফিরদের দিকে নিক্ষেপ করলে তা সবার চোখে ঢুকে যায় এবং তারা পরাজিত হয়ে পালাতে শুরু করে।
পলায়নপর শত্রুদের পিছু ধাওয়া:
আবু মুসা আশআরির একটি বর্ণনা: আওতাসের দিকে নবিজি আবু আমিরের নেতৃত্বে একটি বাহিনী পাঠান। আবু আমির লড়াইয়ে শহীদ হন। শাহাদাতের আগে তিনি আবু মুসাকে সেনাপতি নিযুক্ত করেন এবং নবিজির কাছে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনার আরজি জানান।
তায়েফে পলাতকদের অবরোধ:
আল্লাহর রাসূল তায়েফ অবরোধকালে মিনজানিক ও দাবাবাহ (ট্যাঙ্ক) নামক নতুন যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করেন। তায়েফ দুর্গ অত্যন্ত সুরক্ষিত ছিল বিধায় নবিজি সেখানে প্রায় বিশ দিন পর্যন্ত অবরোধ করে রাখেন। এক পর্যায়ে নবিজি ঘোষণা করেন, যে গোলাম দুর্গ থেকে নেমে আসবে সে স্বাধীন। এতে ২৩ জন গোলাম ইসলাম গ্রহণ করে বেরিয়ে আসে। অবশেষে আল্লাহর নির্দেশে নবিজি অবরোধ প্রত্যাহার করে মাদীনায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
টিকাঃ
[৬৭৮] তাবাকাতে ইবনে সাআদ, ২/১৫০
[৬৭৯] দেখুন, আস সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ আস সাহীহাহ ২/৪৯৭
[৬৮০] দেখুন, ওয়াকিদি রচিত মাগাযি, ৩/৮৯৩
[৬৮১] মুসলিম, ১০৫৯
[৬৮২] হাকিম, ৩/৪৮-৪৯
[৬৮৩] দেখুন আল কিয়াদাতুল আসকারিয়্যাহ ফি আহদির রাসূল, পৃ. ২৫২
[৬৮৪] দেখুন, মুহাম্মাদ আহমাদ বাশমীল রচিত গাযওয়াতু হুনাইন, পৃ. ১২৮-১৩১
[৬৮৫] তারিখে তবারি, ৩/৭৩
[৬৮৬] দেখুন আল কিয়াদাতুল আসকারিয়্যাহ ফি আহদির রাসুল, পৃ. ৩৬৯
[৬৮৭] আহমাদ, ৬/৪৬৫; আবু দাউদ, ৩৫৬২; হাকিম, ৩/৪৯
[৬৮৮] আহমাদ, ৬/৪৬৫; আবু দাউদ, ৩৫৬২
[৬৮৯] মুসলিম, ১৭৭৫; ইবনে হিশাম, ৪/৮৭
[৬৯০] দেখুন, সহীহ সীরাতুন নাবী, পৃ. ৫৫৯
[৬৯১] দেখুন আল কিয়াদাতুল আসকারিয়্যাহ ফি আহদির রাসূল, পৃ. ২৫৯
[৬৯২] দেখুন, সহীহ সীরাতুন নাবী, ৫৫৯
[৬৯৩] বুখারি, ২৮৮৪; মুসলিম, ২৪৯৮
[৬৯৪] আবু দাউদ ফিল মারাসীল, ৩৩৫; তিরমিযি, ২৭৬২
[৬৯৫] আল মাদরাসাতুল আসকারিয়্যাহ, পৃ. ৪০৭
[৬৯৬] দেখুন আল কিয়াদাতুল আসকারিয়্যাহ ফি আহদির রাসূল, পৃ. ৪০৫
[৬৯৭] আল ফানুল হারবি ফি সাদরিল ইসলাম, পৃ. ১৯৫
[৬৯৮] তাবাকাতুল কুবরা, ২/ ২১৪
[৬৯৯] এটি বর্তমানে মসজিদে ইবনে আব্বাস নামে প্রসিদ্ধ
[৭০০] দেখুন, ওয়াকিদি রচিত মাগাযি, ১/৪১৬
[৭০১] দেখুন, আস সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ আস সাহীহাহ ২/৫১০
[৭০২] দেখুন, সুজা' রচিত দিরাসাত ফি আহদিন নুবুওয়্যাহ, পৃ. ২০৬
[৭০৩] দেখুন, যাদুল মাআদ, ৩/৪৯৭
[৭০৪] দেখুন, সহীহ সীরাতুন নাবী, পৃ. ৫৬৬
📄 মানুষের সাথে আল্লাহর রাসূলের আচরণবিধি
ক. পৌত্তলিকতায় ফিরবার সুযোগ নেই আর
হুনাইন যুদ্ধের সময় কিছু নব্য মুসলিম একটি বিশাল বৃক্ষ 'জাতু আনওয়াত' দেখে নবিজিকে অনুরূপ একটি গাছ নির্ধারণ করতে বললেন। নবিজি ﷺ বিস্মিত হয়ে বললেন, 'আল্লাহু আকবার! তোমরা তো মুসা ﷺ-এর কওমের মতোই কথা বলছ। তোমরা অবশ্যই পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অনুসরণ করবে।'
খ. সংখ্যাধিক্যের মুগ্ধতা আল্লাহর সাহায্যের পথে প্রতিবন্ধক হয়
হুনাইনের শুরুতে মুসলিমরা তাদের সংখ্যাধিক্য (১২ হাজার) দেখে গর্বিত ছিল। কিন্তু আল্লাহ তাআলা শিখিয়ে দিলেন যে, সংখ্যা দিয়ে নয় বরং আল্লাহর সাহায্যেই বিজয় আসে। সূরা তাওবার ২৫ নম্বর আয়াতে এ বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।
গ. গানীমাত হয়েছে আকৃষ্টকরণের মাধ্যম
আল্লাহর রাসূল ﷺ হুনাইনের গানীমাত বণ্টনের সময় মাক্কার কুরাইশ নেতা ও নবদীক্ষিত মুসলিমদের বড় বড় অংশ দিলেন যেন তাদের অন্তর ইসলামের ওপর মজবুত হয়। সাফওয়ান ইবনু উমাইয়া বলেন, 'আল্লাহর রাসূল আমাকে যা দেওয়ার দিয়েছেন, তখনো তিনি ছিলেন আমার কাছে সবচেয়ে অপছন্দের, আর দানের পর তিনি আমার কাছে হয়েছেন পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় মানুষ।'
আনসারদের প্রতি নবিজির ভাষণ: আনসারদের কিছু যুবক এই বণ্টনে ক্ষোভ প্রকাশ করলে নবিজি তাদের সমবেত করে বলেন, 'হে আনসারগণ! লোকেরা উট-বকরি নিয়ে ঘরে ফিরবে আর তোমরা আল্লাহর রাসূলকে নিয়ে ঘরে ফিরবে—এতে কি তোমরা সন্তুষ্ট নও?' আনসাররা কান্নায় ভেঙে পড়লেন এবং নবিজির সিদ্ধান্তে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন।
ঘ. গ্রাম্যদের রুক্ষ আচরণে নবিজির সবর
জিরানায় গানীমাত বণ্টনের সময় নবিজি ﷺ অনেক মরুচারী বেদুইনের রুক্ষ আচরণের সম্মুখীন হন। এক ব্যক্তি তার চাদর ধরে এত জোরে টান দিল যে নবিজির ঘাড়ে দাগ বসে গেল এবং সে কর্কশ ভাষায় সম্পদ দাবি করল। নবিজি সহাস্যে তাকে সম্পদ দিতে নির্দেশ দিলেন। আরেকজন নবিজির ইনসাফ নিয়ে প্রশ্ন তুললে নবিজি বললেন, 'আমি যদি ইনসাফ না করি তবে কে করবে?'
হাওয়াযিন ও সাকীফের ইসলাম গ্রহণ: যুদ্ধের পর হাওয়াযিন প্রতিনিধি দল এসে ইসলাম গ্রহণ করলে নবিজি দয়াপরবশ হয়ে তাদের ৬০০০ বন্দি মুক্তি দেন। পরে তায়েফের সাকীফ গোত্রও আনুগত্য স্বীকার করে ইসলাম গ্রহণ করে।
হুনাইন ও তায়েফ যুদ্ধের ফলাফল:
১. আরবের মুশরিকদের সাথে নবিজির শেষ বড় যুদ্ধ ছিল এটি।
২. এর মাধ্যমে আরব উপদ্বীপের প্রায় সকল প্রধান গোত্র ইসলামের ছায়াতলে চলে আসে।
৩. মাক্কা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে শিরকের অবসান ঘটে।
৪. মুসলিম উম্মাহ এক অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত হয়।
টিকাঃ
[৭০৫] আহমাদ, ৫/২১৮; তিরমিযি, ২১৮০। দেখুন, নদভী রচিত, সীরাতুন নবী, পৃ. ৩৪৯
[৭০৬] দেখুন, আস সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ আস সাহীহাহ ২/৪৯৭
[৭০৭] দেখুন, হুমাইদি রচিত আত তারীখুল ইসলামী, ৮/৬২
[৭০Status] আহমাদ, ৩/৩৩২,০০০; ইবনু হিব্বান, ১৯৭৫
[৭০৯] দেখুন, আল মুজতামাউল মুদনা, পৃ. ১৯৯
[৭১০] প্রাগুক্ত
[৭১১] দেখুন, মিন মুআইয়্যানিস সীরাহ, পৃ. ৪২১
[৭১২] দেখুন, যাদুল মাআদ, ৩/৪৪৭
[৭১৩] বুখারি, ৪৩৩০; মুসলিম, ১০৬১
[৭১৪] দেখুন, যাদুল মাআদ, ৩/৪৮৬
[৭১৫] দেখুন ফিকহুস সীরাহ, পৃ. ৪২৭
[৭১৬] দেখুন, আল মুজতামাউল মুদনা, পৃ. ২১৯
[৭১৭] প্রাগুক্ত
[৭১৮] বুখারি, ৪৩২৮। মুসলিম, ২৪৯৭
[৭১৯] বুখারি, ৪৩৩৬। মুসলিম, ১০৬২
[৭২০] দেখুন, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪/৩৫২
[৭২১] আহমাদ, ২/১৭৪; তাবারানী ফিল কাবীর, ৫৩০৪।
[৭২২] বুখারি, ৪৩১৮
[৭২৩] দেখুন, সীরাতে ইবনু হিশাম, ৪/১৯২
[৭২৪] দেখুন, সীরাতে ইবনু হিশাম, ৪/১৫৩
📄 হুনাইন ও তাবুক মধ্যবর্তী সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি
এক. সাদকা উসুলে কর্মী নির্ধারণ
মাদীনায় প্রত্যাবর্তনের পর আল্লাহর রাসূল ﷺ যাকাত ও সাদকা আদায়ের জন্য বিভিন্ন গোত্রে প্রতিনিধি প্রেরণ করেন। বনু তামীমে উয়াইনা ইবনু হিসন, বনু আসাদ ও ফাযারায় আব্বাস ইবনু মিরদাস প্রমুখকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ইবনুল লুতবিয়্যাহ নামক এক কর্মী ফিরে এসে বললেন, 'এটা আপনাদের মাল আর এটা আমাকে হাদিয়া দেওয়া হয়েছে।' নবিজি এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মিম্বারে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করলেন যে, কোনো কর্মীর জন্য দায়িত্ব পালনকালে ব্যক্তিগত হাদিয়া গ্রহণ করা আত্মসাতের শামিল।
দুই. এ সময়ের গুরত্বপূর্ণ সারিয়্যা বা অভিযান
ক. জুল কিফলাইনে তুফাইল ইবনু আমরের অভিযান: নবিজি তাকে তার গোত্রীয় দেবতা 'জুল কিফলাইন' ধ্বংস করতে পাঠান। তিনি তা পুড়িয়ে দেন।
খ. আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফা সাহমির অভিযান: সফরের সময় একপর্যায়ে তিনি রাগের মাথায় সঙ্গীদের আগুনে ঝাঁপ দিতে বলেন। সাথীরা রাজি না হওয়ায় নবিজি পরে বলেন, 'আনুগত্য শুধু ভালো কাজে।'
গ. তাঈ নগরীর ফুল্স মূর্তি ধ্বংসে 'আলি ﷺ-এর অভিযান: ১৫০ জন মুজাহিদ নিয়ে তিনি এই মূর্তি ধ্বংস করেন এবং প্রচুর গানীমাত লাভ করেন।
ঘ. জুল-খালাসায় জারীর ইবনু আব্দিল্লাহর অভিযান: নবিজি জারীরকে ইয়েমেনের 'ইয়ামানি কা'বা' বা জুল-খালাসা ধ্বংস করতে পাঠান। তিনি ১৫০ জন অশ্বারোহী নিয়ে তা ধ্বংস করেন।
তিন. আদি ইবনু হাতিমের ইসলামগ্রহণ
বিখ্যাত দানবীর হাতিম তাঈর ছেলে আদি ইবনু হাতিম প্রথমে পলায়ন করলেও পরে নবিজির মহানুভবতা দেখে মাদীনায় আসেন। নবিজি তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে অত্যন্ত বিনয় ও সম্মানের সাথে আপ্যায়ন করেন। আদির ধর্ম সম্পর্কে নবিজির গভীর জ্ঞান দেখে তিনি মুগ্ধ হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন।
চার. মহিজরির বিক্ষিপ্ত ঘটনাবলি
এ সময়ে নবিজির পুত্র ইবরাহীম ﷺ ভূমিষ্ঠ হন। নবিজির বড় মেয়ে যাইনাব ﷺ ইন্তেকাল করেন। নবিজি তাকে নিজ হাতে কাফন-দাফনের তদারকি করেন।
টিকাঃ
[৭৪৮] দেখুন, নাদরাতুন নাঈম, ১/৩৮৪
[৭৪৯] দেখুন, মানসুর হারাবী রচিত, আদ দাওলাতুল আরাবিয়্যাহ আল ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ৪৩
[৭৫০] বুখারি, ৬৯৭৯; মুসলিম, ১৮৩৩
[৭৫১] আবু দাউদ, ২৯৪৩; কাতানী রচিত, 'আত তারাতীবুল ইদারিয়্যাহ, ১/২৬৫
[৭৫২] দেখুন, নাদরাতুন নাঈম, ১/৩৭৫
[৭৫৩] বুখারি, ৪৩৪০; মুসলিম, ১৮৪০
[৭৫৪] যাহাবি রচিত, তারীখুল ইসলাম, মাগাযি অধ্যায়; পৃ. ৬২৪
[৭৫৫] বুখারি, ৪৩৫৭; মুসলিম, ২৪৭৬; আহমাদ, ৪/৩৬২
[৭৫৬] দেখুন, হুমাইদি রচিত আত তারীখুল ইসলামী, ৮/৮১
[৭৫৭] দেখুন, সহীহ সীরাতুন নাবী, পৃ. ৫৮০
[৭৫৮] দেখুন, সীরাতে ইবনু হিশাম, ৪/২৩৬
[৭৫৯] দেখুন, হুমাইদি রচিত আত তারীখুল ইসলামী, ৮/৫৮, ৮৬
[৭৬০] দেখুন, বৃতি রচিত ফিকহুস সীরাহ পৃ. ৩২১
[৭৬১] দেখুন, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪/৩৭৪
[৭৬২] দেখুন, আবু শুহবা রচিত, আস সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ, ২/৪৯০