📄 পাঁচ. প্রতিমালয় ধ্বংসে অভিযান
বাইতুল্লাহ শরিফ মূর্তির পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র হওয়ার পর অন্যান্য প্রতিমা ঘরগুলোও ধ্বংস করে দেওয়া আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়। এগুলো বহুকাল ধরে জাহিলিয়্যাতের নিদর্শন বহন করছিল। আরব উপদ্বীপকে এসব থেকে পবিত্র করতে আল্লাহর রাসূল ﷺ বেশ কয়েকটি অভিযান প্রেরণ করেন।
১. উযযা প্রতিমা ধ্বংসে খালিদ ইবনু ওয়ালিদের অভিযান
কুরাইশ-সহ গোটা আরবের কাছে অবস্থান ও মর্যাদার দিকে থেকে সবচেয়ে বড় দেবীমূর্তি ছিল উযযা। এর অস্তিত্ব একদম মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে খালিদ ইবনু ওয়ালিদ ত্রিশজন অশ্বারোহী নিয়ে রওনা করেন। নাখলা নামক এলাকায় পৌঁছে উযযার মন্দিরের দিকে অগ্রসর হন খালিদ। মূর্তি জাতীয় সামনের সবকিছু বিনাশ করে উযযার ঘরটি ধ্বংস করেন। এ সময় তিনি বলছিলেন, 'তোকে অবিশ্বাস করছি, তোর মাঝে কোনো পবিত্রতা নেই, আর আজ তো দেখলাম, আল্লাহ তোকে কীভাবে লাঞ্ছিত করেছেন।'
লক্ষ্য বাস্তবায়নের পর খালিদ সাথিদের নিয়ে ফিরে আসেন। সফলতার কথা উপস্থাপন করেন নবিজির সামনে; কিন্তু আল্লাহর রাসূল অভিযানের সেনাপতিকে ডেকে বলেন, 'তুমি কি সেখানে কিছু দেখতে পেয়েছ?' খালিদ বললেন, না। নবিজি বললেন, 'যাও, তুমি কিছুই করতে পারনি।
খালিদ আবার ফিরে চললেন। তিনি নাখলায় পৌঁছার পর পুরোহিতরা তাকে দেখে বুঝতে পারল, এবার তিনি রফাদফা না করে ফিরছেন না। খালিদ ভেতরে ঢুকে দেখলেন এক নগ্ন নারী চুল ছড়িয়ে আছে, তার মাথায় মাটি ছিটিয়ে দেওয়া। খালিদ এই বিবসনা নারীর দিকে এগিয়ে গেলেন চেনা সাহসিকতা ও শৌর্যে। তরবারির একটা কোপ বসিয়ে মস্তক দ্বিখণ্ডিত করেন। এবার প্রশস্তি আসে তার মনে। আল্লাহর রাসূলের কাছে ফিরে সংবাদ বলেন। নবিজি বললেন, 'হুম, এটাই সেই উযযা।'
২. মানাতের দিকে সাআদ ইবনু যাইদ আশহালির অভিযান
মানাত একটি মূর্তির নাম। মাক্কা-মাদীনার মধ্যবর্তী স্থানে লোহিত সাগরের তীরবর্তী এলাকা মিশলাল নামক স্থানে এটা অবস্থিত ছিল। আউস, খাযরাজ, গাসসান ও তাদের কাছাকাছি মতাদর্শের লোকেরা জাহিলি যুগে এর পূজা করত। মাক্কা বিজয়ের পর এটার সমাপ্তির সময় ঘনিয়ে আসে। আল্লাহর রাসূল মানাত ধ্বংসে অভিযান প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেন। এই অভিযানে এমন সাহাবিকে প্রেরণ করেন, যিনি জাহিলি যুগে নিজে এটাকে সম্মান করতেন। তিনি হলেন সাআদ ইবনু যাইদ আশহালি।
সাআদ বের হয়ে মানাত ধ্বংস করতে যান। মন্দিরের সীমানায় পৌঁছার পর পুরোহিত তাকে জিজ্ঞেস করে, 'কী জন্য এসেছ?' সাআদ বললেন, 'মানাত ধ্বংস করতে এসেছি।' সাআদ মানাতের দিকে এগিয়ে যান। একটু এগুতেই তার পথ রোধ করতে এক কালো নগ্ননারী বেরিয়ে আসে, বুক চাপড়িয়ে তাকে অভিশাপ দিতে থাকে। সাআদ তরবারির এক আঘাতেই মহিলার গর্দান ফেলে দেন। তারপর সাথিদের নিয়ে এগিয়ে মানাত মূর্তি ধ্বংস করেন।
৩. সুওয়াআ মূর্তি ধ্বংসে আমর ইবনুল আ'সের অভিযান
নূহ ﷺ-এর গোত্রের মূর্তির নাম ছিল সুওয়াআ। পরবর্তী সময়ে হুজাইল গোত্রের লোকেরা এই মূর্তিটি গ্রহণ করে। মাক্কা বিজয়ের পর এটার সমাপ্তির সময় ঘনিয়ে আসে। আল্লাহর রাসূল এই মূর্তি ধ্বংসে আমর ইবনুল আ'সের নেতৃত্বে অভিযান প্রেরণ করেন।
আমর ইবনুল আ'স বলেন, 'আমি মূর্তির কাছে গিয়ে ভেঙে ফেললাম। সাথিদের বললাম খাযানা ঘর ভেঙে ফেলতে। আশ্চর্য! ভাঙার পর সেখানে কিছুই পাওয়া গেলো না। শেষে পুরোহিতকে বললাম, 'এতক্ষণ কী দেখলে?' সে বলল, 'আমি আল্লাহর জন্য ইসলাম গ্রহণ করলাম।'
mূর্তিও প্রতিমা ধ্বংসে আল্লাহর রাসূলের অভিযান প্রেরণ থেকে স্পষ্ট হয় যে, শির্ক ও তাগূতের নিদর্শন নিশ্চিহ্ন করার শক্তি অর্জিত হওয়ার পর সেগুলো একদিনও বিদ্যমান রাখা জায়েয নেই। কবরের ওপর নির্মিত যে কোনো ধরনের মূর্তি ও তাগূতের ক্ষেত্রেও একই বিধান।
টিকাঃ
[৬২৩] ৫৭৯ আস সারায়া ওয়াল বুহুসুন নাবাবিয়্যাহ, পৃ. ২৮২
[৬২৪] প্রগুক্ত
[৬২৫] দেখুন, ওয়াকিদির মাগাযি, ২/৮৭৪
[৬২৬] আস সারায়া ওয়াল বুহুসুন নাবাবিয়্যাহ, পৃ. ২৮২
[৬২৭] আবু ইয়া'লা, ৯০২; আস সারায়া ওয়াল বুহুসুন নাবাবিয়্যাহ, পৃ. ২৮২
[৬status] আস সারায়া ওয়াল বুহুসুন নাবাবিয়্যাহ, পৃ. ২৮৭
[৬২৯] তাবাকাত, ২/১৪৬
[৬৩০] আস সারায়া ওয়াল বুহুসুন নাবাবিয়্যাহ, পৃ. ২৮৮
[৬৩১] প্রাগুক্ত
[৬৩২] দেখুন, শামি রচিত সুবুলুর রাশাদ, ৬/৩০৩
[৬৩৩] দেখুন, ওয়াকিদি রচিত মাগাযি, ২/৮৭০