📘 রউফুর রহীম 📄 তিন. খালিদ ইবনু ওয়ালিদকে সেনাপতি নির্বাচন

📄 তিন. খালিদ ইবনু ওয়ালিদকে সেনাপতি নির্বাচন


আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা শহিদ হওয়ার পর পতাকা ভূপাতিত হয়। সঙ্গে সঙ্গে তা উঠিয়ে নেন সাবিত ইবনু আকরাম আনসারি। তিনি হাঁক ছেড়ে বলছিলেন, 'মুসলিম ভাইয়েরা, একজনকে আমীর নির্বাচন করো। পাশের সাহাবিরা বললেন, 'আপনি এ দায়িত্ব নিচ্ছেন না কেন?' তিনি বললেন, 'আমি এমনটা করব না।'

মুসলিমরা খালিদ ইবনু ওয়ালিদের দিকে ইঙ্গিত করলেন। যুদ্ধের সংক্ষুব্ধতা ও তরবারির ঝনঝনানির মাঝেও সাবিত ইবনু আকরাম খালিদের দিকে তাকিয়ে বললেন, 'ওহে আবু সুলাইমান, মুসলিমদের পতাকা গ্রহণ করুন।'

খালিদ একটু অবকাশ নিয়ে বললেন, 'এটা আপনিই গ্রহণ করুন, আপনিই এর উপযুক্ত। আপনি বয়োজ্যেষ্ঠ; সবচেয়ে বড় কথা হলো, আপনি একজন বদরি সাহাবি।' সাবিত বললেন, 'ভাই আপনিই গ্রহণ করুন, আল্লাহর কসম, এটা আমি আপনার জন্যেই উঠিয়েছি।' অগত্যা খালিদ-কেই নিতে হলো সেনাপতিত্বের দায়িত্ব।

leadership গ্রহণের পর তিনি বিভিন্ন সম্ভাব্য দিক গভীরভাবে চিন্তা করেন। যুদ্ধের সার্বিক পরিস্থিতি পূর্ণরূপে নিরীখ করে দেখেন। পরিণতি তার কাছে স্পষ্ট হয়। তিনি নিশ্চিতভাবে উপলব্ধি করেন, বাহিনীর যারা আছে তাদের আপাতত পিছু হটা কৌশলগত দিক থেকে তুলনামূলক কম ক্ষতির এবং এটাই সর্বোত্তম সমাধান; নাহয় শত্রুদের কাছে মুসলিমদের শক্তি দুর্বল হয়ে যাবে। এখন তাই মুসলিম বাহিনীর সামনে কৌশলগত পশ্চাদপসরণ ছাড়া আর কোনো পন্থা বাকি নেই। এ লক্ষ্যেই খালিদ ইবনু ওয়ালিদ নিম্নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

ক. নিরাপদে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে আসতে রোমান ও মুসলিম বাহিনীর মাঝে সম্পূর্ণ নতুন পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে হবে।
খ. এই লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে আবশ্যক হলো শত্রুকে বিভ্রান্তিতে ফেলতে হবে। ওদের মনে নিশ্চিত বিশ্বাস জন্মাতে হবে যে, মুসলিমদের সাহায্যে রিজার্ভে থাকা সৈন্যরা এসে যুক্ত হয়েছে। এতে ওদের মনে ভীতি সঞ্চারিত হবে। এই সুযোগে ময়দান থেকে সরে আসা যাবে।

রাত নামে। যুদ্ধ বিরতি চলে আসে। রাতের এই অন্ধকারে তিনি বাহিনীতে পরিবর্তন আনেন। ডানপাশের যোদ্ধাদের বামদিকে নিয়ে আসেন, আর বাম পাশের যোদ্ধাদের ডানপাশে। সামনের যোদ্ধাদেরকে পেছনে, পেছনের যোদ্ধাদেরকে সামনে। এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তিনি যেন নতুন শক্তির বিস্ফোরণ ঘটান। এরপর ভোরের আলো ফুটতেই তিনি শত্রুদের ওপর তীব্র বেগে প্রবল শক্তির প্রকাশ ঘটিয়ে আক্রমণ করে বসেন। যেন ওরা এ কথা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করে যে, মুসলিম বাহিনীতে বিপুল সেনাশক্তি যুক্ত হয়েছে।

পরিকল্পনা শতভাগ কাজে লাগে। ভোরের কোমল আলোয় শত্রুদের সামনে সম্পূর্ণ নতুন যোদ্ধাদের মুখ ও নতুন পতাকাধারী দৃশ্যত হয়। আগের দিনগুলোতে এদের কখনো দেখা যায়নি। মুসলিমরা দাঁড়িয়েছেন দৃঢ় প্রত্যয়ে। ফলে ওরা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করে মুসলিমরা সাহায্য পেয়েছে, নতুন এক বাহিনী অবতীর্ণ হয়েছে যুদ্ধ ক্ষেত্রে। মুসলিমদের গৃহীত এই নিপুণ পরিকল্পনা রোমান ও তাদের মিত্রদের মাঝে ভীতি সঞ্চার করে। ওরা উপলব্ধি করে, মুসলিমদের সাহায্যে আসা এই অপ্রতিরোধ্য যোদ্ধাদের প্রতিরোধ করা অসম্ভব। ফলে তারা নিস্তেজ হয়ে পড়ে, অব্যাহতভাবে আক্রমণ চালিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়। উদ্যম ও প্রতিরোধ-ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। চাপ কমে আসে মুসলিম বাহিনীর ওপর।

খালিদ ইবনু ওয়ালিদ এই সুযোগটাই কাজে লাগান। বাহিনী ফিরিয়ে আনার দিকে মনোযোগী হন। মৃতা যুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে খালিদ কর্তৃক প্রত্যাবর্তনের জন্য গৃহীত যুদ্ধকৌশল ইতিহাসে অম্লান হয়ে আছে। বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার এই সংকল্প সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বলে বিবেচিত হয়। খালিদ প্রথমে সম্মুখের মূল বাহিনীর সাহায্যে দুই প্রান্তের সেনাদেরকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেন। এরপর উভয় প্রান্তের সেনা বেষ্টনির সাহায্যে মূল বাহিনীকে বের করে আনেন। এভাবে গোটা বাহিনীকে তিনি সরিয়ে আনতে সক্ষম হন।

ঐতিহাসিকগণ মুসলিম বাহিনীর ক্ষতি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন, 'এই যুদ্ধে মুসলিম শহিদদের সংখ্যা ১২-এর বেশি ছিল না। খালিদ বলেছেন, 'মৃতা যুদ্ধে আমার হাতে নয়টি তরবারি ভেঙে গেছে। শেষ পর্যন্ত হাতে ছিল শুধু একটি ইয়েমেনি লোহার পাত।'

এ কথা বলতে দ্বিধা নেই যে, খালিদের দূরদর্শী পরিকল্পনার ফলে আল্লাহ মুসলিম বাহিনীকে লাঞ্ছনাকর এক পরাজয় ও নিশ্চিত মৃত্যুকূপ থেকে রক্ষা করেছেন। নিশ্চয় বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়া ছিল যুদ্ধের সৃষ্ট জটিলতায় সময়োপযোগী একটি সিদ্ধান্ত। তার এই বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল পৃথিবী ধ্বংসের আগ পর্যন্ত উপমা হয়ে থাকবে।

📘 রউফুর রহীম 📄 চার. আল্লাহর রাসূলের মু'জিযা

📄 চার. আল্লাহর রাসূলের মু'জিযা


এ যুদ্ধের প্রেক্ষাপটেও আল্লাহর রাসূলের মু'জিযা প্রকাশিত হয়েছে। মাদীনার মুসলিমদেরকে তিনি যাইদ, জা'ফার ও আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহার শাহাদাতের সংবাদ দিয়েছেন, তাদের খবর আসার আগেই। যুদ্ধ শুরুর পর তিনি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়েছেন, চোখদুটি হয়েছে অশ্রুসজল। শেষে তিনি খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্ব গ্রহণের বিষয়ে অবহিত করেছেন। তার হাতে বিজয়ের সুবার্তা দিয়ে তার নাম রেখেছেন সাইফুল্লাহ—আল্লাহর তরবারি। পরে যখন যুদ্ধের সংবাদ আসে, তখন তা আল্লাহর রাসূলের সংবাদের সাথে হুবহু মিলে গেছে, বিন্দুমাত্রও কমবেশ হয়নি।

খালিদ-বাহিনী মাদীনার উপকণ্ঠে এলে আল্লাহর রাসূল ﷺ সাক্ষাতের জন্য চলে আসেন। শিশুরা তাদের দিকে দৌড়ে এগিয়ে আসছিল। আল্লাহর রাসূল লোকদের সাথে আসছিলেন একটি বাহনে করে। তিনি বললেন, 'শিশুদেরকে নিয়ে বাহনে ওঠাও, আর আমাকে দাও জা'ফারের ছেলেকে।' আবদুল্লাহকে আনা হলে তিনি নিজ হাতে তাকে উঠিয়ে নেন। অন্যান্য লোকেরা বাহিনীর দিকে ধুলো ছিটিয়ে বলছিল, 'আরে, তোমরা কি আল্লাহর রাস্তা (জিহাদ) থেকে পালিয়ে এসেছ?' কিন্তু আল্লাহর রাসূল বলছিলেন, 'ওরা পালিয়ে আসেনি; বরং আল্লাহ চাহেন তো ওরা আবার ফিরে যাবে।'

ছোট শিশুদের সাথে আল্লাহর রাসূলের এই স্নেহের আচরণ মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আবার দৃশ্যত হচ্ছে, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ থেকে শহিদ না হয়ে ফিরে আসাকে তারা আল্লাহর রাস্তা থেকে পলায়ন হিসেবে দেখছেন। তাদের কাছে এর প্রতিদান হলো যোদ্ধাদের মুখে ধুলো ছিটানো।

আমাদের আজকের রাস্তার উদ্ভ্রান্ত যুবকেরা এই উচ্চ মনোবলসম্পন্ন প্রজন্মের কথা কি জানে? বর্তমান উম্মাহ আল্লাহর রাসূলের হাতে গড়া এই প্রজন্মের অনুসরণ ব্যতীত এমন উন্নত অভীষ্ট অর্জন করতে পারবে না।

📘 রউফুর রহীম 📄 যা কিছু শিক্ষণীয়

📄 যা কিছু শিক্ষণীয়


ক. এ যুদ্ধের তাৎপর্য
আরব-অনারব খ্রিষ্টানদের সম্মিলত রোমানবাহিনী ও মুসলিমদের মাঝে সংঘটিত যুদ্ধসমূহের মাঝে মুতার যুদ্ধ অনেক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, এই দুই বাহিনীর মধ্যে এটাই প্রথম সংঘর্ষ। রোমান সাম্রাজ্যে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছে এই যুদ্ধ। বলতে পারি সিরিয়া বিজয় ও রোমানদের মাঝে কম্পন সৃষ্টিতে বিরাট ভূমিকা ছিল এই যুদ্ধের। এই যুদ্ধ সেই কার্যকরি পরিকল্পনার ফল, যার মাধ্যমে আল্লাহর রাসূল সিরিয়ান শহরগুলোর সাহায্যে পরাক্রমশালী রোম সাম্রাজ্যে নাড়া দিয়েছিলেন। আরবদের অন্তরে আল্লাহর রাসূলের ক্ষমতা ও প্রতাপ গ্রথিত হয়, মুসলিমদের মানসিক ভাবনায় শক্তিশালী পরিবর্তন আসে। অন্য দিকে ক্রুশীয় খ্রিষ্টানরা যুদ্ধক্ষেত্রে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। পাশাপাশি এই যুদ্ধ মুসলিমদেরকে সুযোগ দিয়েছে রোমানদের সামরিক শক্তি ও যুদ্ধনীতি পরখ করে দেখার।

খ. শাহাদাতের অদম্য আগ্রহ আত্মনিবেদনে অনুপ্রাণিত করে
অসীম ধৈর্য, অবিচলতা ও আত্মত্যাগের মহিমা সেনাপতি ও সেনাদের মাঝে দীপ্তিময় হয়েছিল। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল শাহাদাতের অতুচ্চ মর্যাদা ও মুজাহিদদের মহাপ্রতিদান লাভ করা। আল্লাহ যেন তাদেরকে নবি, সিদ্দীক, শুহাদা ও সালিহীনদের মিছিলে শামিল করে নিয়ে সম্মানিত করেন। প্রবেশ করান এমন এক জান্নাতে, যার উৎকৃষ্টতা দেখেনি কোনো চোখ, শোনেনি কোনো কান, ভাবতে পারেনি কোনো মানুষের হৃদয়।

গ. এই যুদ্ধটি কেন আলাদা মহিমায় উজ্জ্বল
এই একটি যুদ্ধ, যার সার্বক্ষণিক খবর আল্লাহর রাসূলের কাছে আসমান থেকে এসেছে। রণক্ষেত্র থেকে সংবাদ আসার আগেই আল্লাহর তিন শ্রেষ্ঠ বীরের শাহাদাতের সুবার্তা-সহ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তিনি সাহাবিদের শোনাচ্ছিলেন। যুদ্ধটি এদিক থেকেও আলাদা যে, শুধু এই অভিযানের জন্য নবিজি পর্যায়ক্রমে তিনজন সেনাপতি নির্ধারণ করেছিলেন—যাইদ বিন হারিসা, জা'ফার বিন আবি তালিব ও আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা।

📘 রউফুর রহীম 📄 জা'ফার পরিবারের প্রতি নবিজির সম্মান প্রদর্শন

📄 জা'ফার পরিবারের প্রতি নবিজির সম্মান প্রদর্শন


জা'ফারের শাহাদাতের পর আল্লাহর রাসূল আসমা বিনতে উমাইসের ঘরে প্রবেশ করেন। ছেলেরা অন্য কোথাও ছিল। তাদের ডাকতে বললেন, 'জা'ফারের ছেলেদেরকে আমার কাছে নিয়ে এসো।' ছেলেরা আসার পর নবিজি তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করেন, চুমু খান। এ সময় স্নেহের আবেশে তাঁর আবেগের অশ্রু ঝরছিল।

আসমা বললেন, 'জা'ফার ও তার সাথিদের ব্যাপারে আপনি কিছু জানতে পেরেছেন?' নবিজি বললেন, 'হ্যাঁ। তারা আজ শহিদ হয়েছে।' স্বামীর মৃত্যু-সংবাদ শুনতেই আসমা কান্নায় ভেঙে পড়েন। কাঁদতে থাকেন শব্দ করে। আল্লাহর রাসূল এই ভারাক্রান্ত পরিবারের প্রতি খেয়াল রাখবার জন্য বললেন, ‘জা’ফরের পরিবারের জন্য খাবার রান্না করতে তোমরা ভুলে যেয়ো না। কারণ, তারা আজ ব্যথায় কাতর।’

আল্লাহর রাসূলের এই সহমর্মিতার আচরণ থেকে আমরা যা শিখি—

ক. স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রী কান্না করতে পারে:
আল্লাহর রাসূল ﷺ জা’ফার ও তার সাথিদের শাহাদাতের সংবাদ আসমাকে বলার পর তিনি যে শব্দ করে কেঁদেছেন, তার কান্না দেখে নবিজি বারণ করেননি, কাজটাকে অপছন্দও করেননি, এতে প্রমাণ হয় এটা নিষিদ্ধ হলে নবিজি অবশ্যই বারণ করতেন। তবে ইসলামে যে কান্নাকে নিষেধ করা হয়েছে তা হলো জাহিলি যুগের চিল্লাচিল্লি, মাতম করা, আল্লাহকে অভিযুক্ত করা, লাথি মারা, কাপড় ছিঁড়ে ফেলা ইত্যাদি। আর আল্লাহর ফায়সালা ও তাঁর পূর্ব নির্ধারণের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করা নিশ্চয় বড় অবাধ্যতা।

খ. মৃতের পরিবারের জন্য খাবার প্রস্তুত করা মুস্তাহাব:
আল্লাহর রাসূল ﷺ সাহাবিদেরকে জা’ফারের পরিবারের জন্য খাবার প্রস্তুত করতে বলেছেন। এটা এক দিক থেকে মৃতের পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়া, যেন শোকসন্তপ্ত পরিবারে খাবারের চিন্তা কিছুটা হলেও লাঘব হয় কিংবা শোকে উপোস থাকতে না হয়। আজ কিছু ইসলামি ভূখণ্ডে এই সুন্নাহর পরিপন্থি কাজ দেখা যায়। মৃতের পরিবারকে রান্না করে খাওয়ানোর পরিবর্তে উলটো আগতদের জন্য শোকাহত পরিবারকে রান্না করতে হয়। এরপর আবার দিন ধার্য করে পুরো পাড়া ঢোল পিটিয়ে খাওয়াতে হয়। এগুলো খুব নিন্দনীয় কাজ। মুসলিমদের উচিত এসব অন্যায্য কাজ পরিহার করে চলা।

আল্লাহর রাসূল ﷺ তিন দিন পর কাঁদতে নিষেধ করেছেন। তিন দিন পরেও আসমাকে কাঁদতে দেখে নবিজি তাকে বলেছেন, ‘আজকের পরে আমার ভাইয়ের জন্য আর কাঁদবে না। আর আমার ভাতিজাদেরকে ডাকো।’ ওদেরকে নবিজির সামনে আনা হলো। উদ্ভ্রান্তের মতো দেখাচ্ছিল ওদের। আল্লাহর রাসূল নরসুন্দর ডেকে ওদের মাথা মুণ্ডিয়ে দিলেন। তারপর বললেন, ‘মুহাম্মাদ হয়েছে আমার চাচা আবু তালিবের মতো, আর আবদুল্লাহ চরিত্রে আকৃতিতে হয়েছে আমার মতো।

এরপর আবদুল্লাহর ডানহাত ধরে তিনবার বললেন, 'হে আল্লাহ, জা'ফারের প্রতিনিধি তার পরিবারে দিয়ে দাও, আর আবদুল্লাহর সৎ বাণিজ্যে তুমি বারাকাহ দান করো।' এদের মা নবিজির কাছে দুর্বলতা ও আশ্রয়হীনতার কথা উল্লেখ করলে তিনি বলেন, 'তুমি তাদের ক্ষেত্রে দারিদ্রতার ভয় পাচ্ছ; অথচ দুনিয়া ও আখিরাতে আমি তাদের অভিভাবক।'

শহিদদের পরিবার ও সন্তানদের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে এমনই ছিল আল্লাহর রাসূলের জীবনের সুরভিত কর্মপন্থা। তিনি চেয়েছেন উম্মাহ যেন আজীবন তাঁর প্রদর্শিত পথ আঁকড়ে থাকে।

গ. আবু বাকরের সাথে আসমা বিনতে উমাইসের বিয়ে:
আসমা বিনতে উমাইসের ইদ্দত শেষ হলে আবু বাকর তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। সহজেই তাদের বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়। তাদের সংসারে জন্ম নিয়েছিলেন মুহাম্মাদ ইবনু আবি বাকর। আবু বাকরের মৃত্যুর পর আসমাকে বিয়ে করেছিলেন 'আলি। 'আলির ঔরশে তিনি কয়েকটি সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন। আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px