📄 হুদাইবিয়া সন্ধির পরের কথা
ষষ্ট হিজরি। ইসলামের বাণী নিয়ে দিহইয়া কালবি ওয়াদিয়ে কুরার দিকে যাচ্ছিলেন। যাত্রাপথে হাসমা নামক স্থান দিয়ে অতিক্রম করার সময় বনু জুযাম ও লাখাম গোত্রের কিছু লোক ডাকাতি করে তার সবকিছু ছিনিয়ে নেয়। এ কারণে হাসমায় যাইদ বিন হারিসার অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। এদিকে মাযহাজ ও কুদাআহ গোত্রদ্বয় যাইদ বিন হারিসার বিরুদ্ধে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিল। এরপর কিছু দিনের মধ্যে রোমান শাসনাধীন বাসরার গভর্নর আল্লাহর রাসূলের দূত হারিস বিন উমাইর আযদীকে হত্যার পর উল্লিখিত গোত্র দুটিও মুসলিমদের সাথে শত্রুতার পথ বেছে নেয়।
সে যুগেও রাষ্ট্রীয় দূত ও বার্তাবাহককে হত্যা করা ছিল জঘন্য অপরাধ। তা সত্ত্বেও শুরাহবীল বিন আমর আল্লাহর রাসূলের দূতকে গলা কেটে হত্যা করে। এমনইভাবে দামেস্কের শাসক হারিস বিন আবি শামর গাসসানিও আল্লাহর রাসূলের দূতের সাথে দুর্ব্যবহার করে মাদীনার সাথে এক প্রকার যুদ্ধের ঘোষণা করে।
এরপর আরেকটি ঘটনা মুসলিমদের হৃদয়কে ভীষণভাবে আঘাত করে। আমর ইবনু কাআব গিফারির নেতৃত্বে আল্লাহর রাসূল ﷺ একটি অভিযান প্রেরণ করেন জা-তু ইতলা নামক স্থানে। উদ্দেশ্য এখানকার অধিবাসীদেরকে ইসলামের দিকে ডাকা; কিন্তু এখানে ঘটে যায় অপ্রীতিকর মর্মান্তিক ঘটনা। জনপদের লোকেরা ইসলাম গ্রহণ তো করেইনি, উলটো দাওয়াতি এই সাহাবিদেরকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে। শুরু হয় যুদ্ধ। এখানে সবাই শহিদ হন। বেঁচে ফিরতে পারেন কেবল বাহিনীর আমীর আমর ইবনু কাআব গিফারি। তিনি ভীষণ আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃতের মতো পড়ে ছিলেন। পরে অতি কষ্টে নিজেকে টেনে মাদীনায় এসে আল্লাহর রাসূলকে বিবরণ শোনান।
টিকাঃ
[৫১৮] তারিখে তবারি, ৩/১০৩; সীরাতে ইবনে হিশাম, ইবনু হাজারের আল ইসাবাহ
📄 সিরিয়ার খ্রিষ্টানরাও বসে থাকেনি
মুসলিমদের বিরুদ্ধে রোমানদের প্রস্তুত হতে এরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। এ লক্ষ্যেই মাআনের দায়িত্বশীল আমীর ইসলাম গ্রহণের পর ওরা তাকে হত্যা করে। এরই সূত্র ধরে সিরিয়ার ইসলাম গ্রহণকারী অন্যান্য গভর্নরকেও ওরা হত্যা করে।
টিকাঃ
[৫১৯] দেখুন, খাতামুন নাবিয়্যীন, ২/১১৩৯; 'আস সিরা' মাআ সালিবিয়্যীন এর সূত্রে, পৃ. ২০
[৫২০] দেখুন, 'আস সিরা' মাআ সালিবিয়্যীন এর সূত্রে, পৃ. ২০
[৫২১] দেখুন, 'আল মুসলিমুনা ওয়ার রুম ফি আহদিন নুবুওয়াহ' পৃ. ৮৯
📄 বাজে যুদ্ধের দামামা
৮ম হিজরি। আল্লাহর রাসূল ﷺ মুসলিমদেরকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিলেন। সাহাবিরা এই নববি ডাকে এমন স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রবল আগ্রহে সাড়া দিয়ে একত্রিত হলেন যে, ইতঃপূর্বে আর এমনটি ঘটতে দেখা যায়নি। এই অভিযানের সেনা সংখ্যা পৌঁছে যায় তিন হাজারে। নেতৃত্বের জন্য আল্লাহর রাসূল তিনজনকে নির্বাচন করলেন। যাইদ ইবনু হারিসা, জা'ফার ইবনু আবি তালিব ও আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহাকে।
ইমাম বুখারি তার সাহীহ কিতাবে উল্লেখ করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার বলেন, 'আল্লাহর রাসূল মৃতা অভিযানের জন্য যাইদ ইবনু হারিসাকে আমীর নির্ধারণ করে বলেন, যাইদ শহিদ হলে সেনাপতি নির্বাচিত হবে জা'ফার, সেও শহিদ হলে সেনাপতির দায়িত্ব পালন করবে আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা।'
মুসলিম বাহিনীকে বিদায় জানানোর আগে আল্লাহর রাসূল তাদেরকে নির্দেশ দেন, 'বাহিনী যেন সেই স্থানে গিয়ে অবস্থান নেয়, যেখানে হারিস বিন উমাইর আযদীকে হত্যা করা হয়েছিল। সেখানকার অধিবাসীদের ইসলামের দিকে ডাকবে, এ ডাকে সাড়া দিলে তো ভালো কথা, আর অস্বীকার করলে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে যুদ্ধ শুরু করবে।'
অন্যান্য অভিযানের অভিযাত্রীদের মতো এই বাহিনীকেও তিনি ইসলামি যুদ্ধের নীতিমালা বয়ান করে নৈতিক পাথেয়র যোগান দেন। আল্লাহর রাসূল ﷺ উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন, 'আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি, তোমরা আল্লাহকে ভয় করবে, তোমাদের সঙ্গী মুসলিমদের কল্যাণকামী হবে, যারা আল্লাহর সাথে কুফুরি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করবে—আল্লাহর নামে। গাদ্দারি কিংবা প্রতারণা করবে না, নারী ও শিশুকে হত্যা করবে না, অতিশয় বৃদ্ধকেও না। উপাসনালয় ধ্বংস করবে না, খেজুর বাগানের নিকটবর্তীও হবে না, বৃক্ষ কাটবে না, জনপদ বিনাশ করবে না। তোমরা মুশরিক শত্রুদের মুখোমুখি হলে তাদেরকে প্রথমে তিনটি বিষয়ের যেকোনো একটির দিকে আহ্বান করবে। ইসলাম মানতে বলবে, ইসলাম না মানলে জিযিয়া দিতে বলবে, জিযিয়া না দিলে যুদ্ধ করবে।'
মুসলিম বাহিনীর প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর মুসলিমরা ও আল্লাহর রাসূল তাদের বিদায় দিতে আসেন। সবাই হাত উঠিয়ে মিনতিভরা কণ্ঠে দুআ করছিলেন, আল্লাহ যেন মুসলিম ভাইদের সাহায্য করেন। তারা এই দুআ পড়ে বিদায় জানাচ্ছিলেন, 'আল্লাহ তোমাদেরকে রক্ষা করুন, ফিরিয়ে আনুন নিরাপদে সমৃদ্ধ করে।'
লোকজন আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহাকে যখন বিদায়ী সালাম জানায়, তখন তিনি অঝোরে কাঁদছিলেন, বৃষ্টি-ফোঁটার মতো অশ্রু পড়ছিল টুপটুপ করে। অন্যান্য সাহাবিরা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, 'কী ব্যাপার ইবনু রাওয়াহা, তুমি এভাবে কাঁদছ কেন?' তিনি বললেন, 'পার্থিব জীবনের ভালোবাসা ও মোহের কারণে কাঁদছি না। আমি আল্লাহর রাসূলের মুখে শুনেছি, তাঁর পঠিত একটি কুরআনের আয়াতে জাহান্নামের আলোচনা এভাবে এসেছে, 'তোমাদের প্রত্যেককেই সেখানে উপনীত হতে হবে।' আমি জানি না, অতিক্রমের সময় আমার অন্তরের অবস্থা কেমন হবে?' সাহাবিরা আবার দুআ করে বললেন, 'আল্লাহ তোমাদের সঙ্গী হোন, রক্ষা করুন, আমাদের কাছে নিরাপদে ফিরিয়ে আনুন।'
আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা কবিতা আবৃত্তি করেন—
'কিন্তু আমি প্রভু রাহমানের কাছে মাগফিরাত চাই এবং শত্রুর একটি আঘাতে মুছে ফেলতে ফেনিল পাপ/ মৃত্যু অবধারিত হয় এমন একটি আঘাত যুদ্ধ ক্ষেত্রে বিদীর্ণ হবে কলিজা ও বুকের কপাট।/ পথচারী যাবে, মোরে বলবে লক্ষ করে আল্লাহ তাকে উঠিয়েছেন সরল ঘাটের পারে।
আল্লাহর রাসূলও নিজে এগিয়ে এসে আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহাকে বিদায় জানান। ইবনু রাওয়াহা আবেগাপ্লুত হয়ে নবিজির ব্যাপারে বলেন—
'আপনার সুমহান দায়িত্বে আল্লাহ আপনাকে সুদৃঢ় রাখুন মূসার মতো, আপনি তেমন সাহায্যে আবৃত হন যেমন সাহায্য পেয়েছিলেন তিনি।/ আপনার মাঝে অপরিমেয় কল্যাণ দেখতে পাচ্ছি এ কল্যাণ লাভ করবে আপনার পরবর্তীরাও।/ আপনি আল্লাহর রাসূল, যে বঞ্চিত হবে আপনার কল্যাণ থেকে তার চেহারা হবে ধূলিমলিন, অপমানিত।
টিকাঃ
[৫২২] দেখুন, 'আস সিরা' মাআ সালিবিয়্যীন, পৃ. ২০
[৫২৩] বুখারি, ৪২৬১
[৫২৪] দেখুন, আস সীরাতুল হালবিয়্যাহ, ২/৭৮৭
[৫২৫] দেখুন, 'আস সিরা' মাআ সালিবিয়্যীন পৃ. ২১
[৫২৬] দেখুন, ওয়াকিদির মাগাযি, ২/৭৫৭-৭৫৮
[৫২৭] সীরাতে ইবনে হিশাম, ৪/২১
[৫২৮] দেখুন, উরওয়া ইবনু যুবাইর সংকলিত 'আল্লাহর রাসুলের মাগাযি, পৃ. ২০৪-২০৫
📄 দুই. মুসলিম বাহিনীর মাআনে অবতরণ, তিন সেনাপতির বীরত্বগাথা ও শাহাদাতবরণ
মুসলিম বাহিনী সিরিয়ার মাআন নামক স্থানে পৌঁছে যায়। বর্তমানে এটি উর্দুনের সংরক্ষিত এলাকা। তারা এখানে এসে খবর পান, আরব-অনারব ক্রুশীয় খ্রিষ্টানরা যুদ্ধের জন্য ব্যাপক সেনা সমাবেশ ঘটিয়েছে। লাখাম, জুযাম, বাহরা ও বালি গোত্রের এক লাখ সৈন্য সমবেত হয়েছে, সেনাপতি নির্ধারণ করা হয়েছে মালিক বিন রাফিলাকে। এদের সাহায্যার্থে রোমের বাদশা আরও এক লাখ খ্রিষ্টান সৈন্য পাঠিয়েছে, ফলে শত্রুদের মোট সেনা সংখ্যা দাঁড়ায় দু লাখ। এরা ছিল পূর্ণ সামরিক অস্ত্রে সজ্জিত, লৌহবর্ম ও শিরস্ত্রাণ পরিহিত।
মাআনে মুসলিম মুজাহিদরা দুদিন পর্যন্ত মাশওয়ারা করেন কীভাবে বিশাল সংখ্যার বাহিনীকে প্রতিহত করা যাবে। অনেকে বললেন, 'আমরা আল্লাহর রাসূলের কাছে দূত পাঠিয়ে শত্রুদের সেনা সমাবেশ সম্পর্কে অবগত করব। তিনি চাইলে আমাদের জন্য সাহায্য পাঠাবেন, চাইলে আমাদেরকে এভাবেই যুদ্ধের নির্দেশ দিতে পারেন। বাহিনীর সেনাপতি যাইদ বিন হারিসাকে অনেকে বললেন, 'আপনি অনেক শহর পদানত করে সেখানকার অধিবাসীদের মাঝে ভীতি সঞ্চারিত করেছেন, এবার আপনি ফিরে চলুন, কেননা আমাদের জীবন নিরাপদ নয়।
কিন্তু আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা বললেন, 'মুজাহিদ সাথিরা, তোমরা যে শাহাদাতের জন্য বেরিয়েছ, এখন তা অপছন্দ করছ। আল্লাহর কসম, আমরা শত্রুদের সাথে সংখ্যা কিংবা শক্তির আধিক্য দিয়ে যুদ্ধ করি না। আল্লাহ আমাদেরকে যা দিয়ে সম্মানিত করেছেন, আমরা কেবল সেই সম্মানের প্রত্যাশায় জিহাদ করি। তোমরা সামনে অগ্রসর হও, যেকোনো একটি কল্যাণ আমাদের লাভ হবেই। বিজয়; নয়তো শাহাদাত।'
মুজাহিদদের অন্তরে ইবনু রাওয়াহার কথাগুলো বজ্রের মতো আঘাত হানে। যাইদ ইবনু হারিসা মুজাহিদদের নিয়ে মুতা প্রান্তরের দিকে ধাবিত হন। এখানেই রোমানদের সাথে সংঘর্ষ হয়। তুমুল যুদ্ধের মাঝে মুসলিমদের তিন সেনাপতিই প্রবল বীরত্বে লড়াই চালিয়ে শাহাদাতের মধ্য দিয়ে তাদের জীবনের সমাপ্তি ঘটে।
যাইদ ইবনু হারিসা বহন করছিলেন আল্লাহর রাসূলের দেওয়া পতাকা। তিনি প্রচণ্ড বিক্রমে শত্রুব্যুহ ভেদ করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তার তীব্রতা মুজাহিদের বর্শায় সাহসের আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তার শাহাদাতের পর পতাকা হাতে তুলে নেন জা'ফার ইবনু আবি তালিব। নির্ভীকচিত্তে মুশরিকদের প্রতিরোধ ভেদ করে অগ্রসর হন। তার হাতে পতাকা দেখে এবার খ্রিষ্টানরা তাকে আক্রমণ করতে এগিয়ে আসে। দেয়ালের মতো চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে তাকে; কিন্তু তার সংকল্প ও অবিচলতায় বিন্দুমাত্রও পরিবর্তন আসেনি। তিনি যুদ্ধ অব্যাহত রাখেন। অগ্রসরতার একপর্যায়ে তিনি ঘোড়া থেকে নেমে তার গলা কেটে দেন। আবৃত্তি করে বলেন—
'এই তো জান্নাতের মোহন ছায়া, মনোহর লাগে অমীয় শীতল তার পানীয়।/ রোমানদের জীবনে ভয়াবহতা নামবে অচিরেই সৌভাগ্যের স্পর্শ থেকে তারা যে বহুদূরে/ আমার মুখোমুখি হলে ওদের আর রক্ষা নেই।
তিনি ডান হাতে পতাকা নিয়েছিলেন, সেটা কাটা পড়ায় বাম হাতে পতাকা ধারণ করেন। শত্রুরা তার বাম হাতটাও কেটে ফেললে দাঁত দিয়ে আঁকড়ে ধরেন। শেষে শাহাদাত বরণ করেন তিনি। এ সময় তার বয়স ছিল মাত্র ৩৩ বছর। প্রচুর আঘাতে জর্জরিত হয়ে গিয়েছিলেন। তির বর্শা আর তরবারির ৯০টিরও বেশি আঘাত ছিল শরীরে। আশ্চর্য বিষয়! একটি আঘাতও পেছনে ছিল না, সবগুলো পড়েছিল বুকে—মাটির দেয়ালে।
ইমাম বুখারি বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার বলেন, 'মৃতার যুদ্ধে আমিও অংশী হয়েছিলাম। এক যুদ্ধ-বিরতিতে খুঁজছিলাম জা'ফারকে। শহিদদের মধ্যে তাকে খুঁজে পেলাম। দেখলাম তার দেহের সম্মুখভাগে ৯০টির অধিক বর্শা ও তরবারির ক্ষতচিহ্ন।'
আল্লাহ তাআলা জা'ফার ইবনু আবি তালিবকে যথার্থ বিনিময় দিয়েছেন, তার বীরত্ব ও আত্মত্যাগের মহিমাকে স্মরণীয় করে চির অম্লান সম্মানে ভূষিত করেছেন, জান্নাতে তাকে দিয়েছেন দুটি ডানা, তিনি যেখানে ইচ্ছা উড়তে পারছেন। বুখারি উল্লেখ করেছেন, আমির বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার প্রতিবার জা'ফারের ছেলেকে সম্বোধন করে বলতেন, 'ওহে দুই ডানা বিশিষ্টের ছেলে, আপনাকে সালাম।'
জা'ফারের শাহাদাতের পর পতাকা তুলে নেন আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা আনসারি। এরপর অশ্বারোহণের সময় তিনি একটি উদ্দীপক কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন। আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহার এক ভাতিজা উল্লেখ করেছেন, 'দিনের শেষের দিকে ইবনু রাওয়াহার সামনে এক টুকরো গোশত পেশ করা হলো। তিনি টুকরোটা নিয়ে কেবল একটি কামড় বসিয়েছেন, এমন সময় যুদ্ধের শোর তার কানে এলো। তিনি টুকরোর কথা যেন একদম ভুলে গেলেন। নিজেকে সম্বোধন করে বলছিলেন—'তুই এখনো দুনিয়া নিয়ে আছিস?'
এটাই তার শেষ কথা। গোশতের টুকরোটা ফেলে দিয়ে শত্রু সারিতে ঢুকে পড়েন। বিরতিহীন লড়াই করে তিনি যখন শহিদ হয়ে পৃথিবীকে বিদায় জানান, তখন দিনটাও আমাদের থেকে বিদায় নিচ্ছিল।