📘 রউফুর রহীম 📄 গাযওয়া: যা-তুর রিকা

📄 গাযওয়া: যা-তুর রিকা


নাজদের গোত্রসমূহকে সতর্ক করতে এবং তাদের ঐক্য চূর্ণ করতে নবিজি ﷺ এই অভিযান পরিচালনা করেন। মুজাহিদরা তপ্ত বালুতে হাঁটার কারণে পায়ে কাপড়ের পট্টি বেঁধেছিলেন বলে একে 'যা-তুর রিকা' বা তালিযুক্ত যুদ্ধ বলা হয়। [৫৫০] এই যুদ্ধে প্রথম 'সালাতুল খাউফ' বা ভীতিপূর্ণ সময়ের বিশেষ সালাত আদায় করা হয়। [৫৪৯] এই যুদ্ধের সময় গাওরাস নামের এক মুশরিক নবিজিকে একা পেয়ে তরবারি উঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করলে আল্লাহর কুদরতে সে ব্যর্থ হয়। [৫৫১] এছাড়াও জাবির বিন 'আবদুল্লাহর দুর্বল উটের অলৌকিক দ্রুততা লাভের ঘটনাটি এই সফরের।

টিকাঃ
৫৪৯. বুখারি, ৫/৬২, হাদীস নং ৪১২৮
৫৫০. বুখারি, যুদ্ধাভিযান অধ্যায়, হাদীস নং ৪১২৮
৫৫১. ফিকহুস সীরাহ, আল-বৃতি, পৃ. ২০০

এক. নামকরণের সঠিক ইতিহাস ও কারণ:
নাজদের বেশ কিছু গোত্র মুসলিমদের সঙ্গে গাদ্দারি করে। এর উচিত শিক্ষা দিতে আল্লাহর রাসূল বনু সা'লাবা ও মুহারিব গোত্রদ্বয়ের উদ্দেশে বের হন। তপ্ত বালুকারাশির উত্তাপ থেকে বাঁচার জন্য মুজাহিদরা তাদের পায়ে কাপড় ও পট্টি বেঁধেছিলেন, এ কারণেই যুদ্ধের নামকরণ করা হয়েছে যা-তুর রিকা। [৫৫০]

দুই. সালাতুল খাউফ ও প্রহরা:
এ যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সালাতুল খাউফ সম্পর্কে আল্লাহ আয়াত নাযিল করেন। মুসলিমরা এদিন সালাতুল খাউফ আদায় করেন। একদল লোক নবিজির সঙ্গে দাঁড়িয়ে যায়, আরেকদল লোক অবস্থান নেয় শত্রুদের সামনে। [৫৪৯]

তিন. প্রহরা ব্যবস্থা:
রাসূলুল্লাহ দুজনকে প্রহরার জন্য নিযুক্ত করেন। তারা দুজন হলেন উব্বাদ বিন বাশার ও আম্মার বিন ইয়াসির। উব্বাদ বিন বাশার প্রহরার সময় সালাতে দাঁড়িয়ে যান, পরপর তিনটা তির তাকে আঘাত করে। তারপরও সালাম ফেরানোর আগে তিনি সালাত ছেড়ে দেননি।

চার. নবিজির বীরত্ব ও জাবির বিন 'আবদুল্লাহর সঙ্গে তাঁর কর্মপন্থা:
রাসূলুল্লাহ একটা গাছের ডালে তরবারি ঝুলিয়ে নিচে শুয়ে ছিলেন। এক গ্রাম্য লোক গাওরাস ইবনুল হারিস এসে তরবারি নিয়ে নবিজিকে হত্যার চেষ্টা করে। নবিজি বললেন, আল্লাহ আমাকে রক্ষা করবেন। আল্লাহর ইচ্ছায় মুশরিকের অন্তর ভরে গেছে আতঙ্কে এবং তরবারি তার হাত থেকে খসে পড়ে। রাসূল তাকে ক্ষমা করে দেন। [৫৫১]

টিকাঃ
৫৪৯. বুখারি, ৫/৬২, হাদীস নং ৪১২৮
৫৫০. বুখারি, যুদ্ধাভিযান অধ্যায়, হাদীস নং ৪১২৮
৫৫১. ফিকহুস সীরাহ, আল-বৃতি, পৃ. ২০০

📘 রউফুর রহীম 📄 প্রতিশ্রুত বদরযুদ্ধ ও দাওমাতুল জান্দাল

📄 প্রতিশ্রুত বদরযুদ্ধ ও দাওমাতুল জান্দাল


প্রতিশ্রুত বদরযুদ্ধ: উহুদ যুদ্ধের পর আবু সুফিয়ানের দেওয়া চ্যালেঞ্জ অনুযায়ী নবিজি ﷺ দেড় হাজার সাহাবি নিয়ে বদর প্রান্তরে যান। কিন্তু আবু সুফিয়ান ভীরুতা প্রদর্শন করে মক্কা থেকে কিছু দূর এসেই ফিরে যায়। ফলে কোনো লড়াই ছাড়াই মুসলিমদের সামরিক সুখ্যাতি পুনপ্রতিষ্ঠিত হয়।

দুমাতুল জান্দাল: রোমান সীমান্তবর্তী এলাকায় লুণ্ঠনকারী গোত্রসমূহকে দমনে নবিজি ﷺ এই অভিযান চালান। এটি ছিল রোমানদের প্রতি এক প্রকার ভীতিপ্রদর্শন এবং ইসলামি দাওয়াতের বৈশ্বিক বিস্তৃতির একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ। [৫৫২]

টিকাঃ
৫৫২. আত-তারবিয়াতুল কিয়াদিয়‍্যাহ, ৩/৩৭৩, ৩৭৪

এক. প্রতিশ্রুত বদরযুদ্ধ:
উহুদযুদ্ধের পর আবু সুফিয়ান বলেছিল, বদরে আমাদের আবার দেখা হবে। রাসূলুল্লাহ ১৫০০ সাহাবির এক মুজাহিদ বাহিনী নিয়ে মাদীনা থেকে অভিযানে বের হন। আবু সুফিয়ান মাক্কা থেকে ৪০ মাইল দূরে মাররুজ জাহরান নামক স্থানে এসে ভীরুতা প্রদর্শন করে ফিরে যায়। পরিশেষে যুদ্ধ না করেই ফিরে আসে মুসলিম বাহিনী; কিন্তু মুসলিমরা তা বাস্তবায়ন করে নিজেদের শক্তিমত্তা দেখিয়েছে।

দুই. দুমাতুল জান্দাল:
৫ হিজরি সনে রবিউল আউয়াল মাসে আল্লাহর রাসূল এদের উদ্দেশে অভিযান পরিচালনা করেন। দুমাতুল জান্দাল এলাকাটি ছিল মাদীনা থেকে অনেক দূরে, প্রায় ১৬ দিনের পথ। মুজাহিদরা সেখানে পৌঁছালে লুণ্ঠনকারীরা পালিয়ে যায়। আল্লাহর রাসূল উয়াইনাহ বিন হিস্স-এর সঙ্গে শান্তি চুক্তি করেন। এই অভিযানের ফলে সিরিয়রা ইসলামের শক্তি ও দাপট কিছুটা হলেও আঁচ করতে পারে। [৫৫২]

টিকাঃ
৫৫২. আত-তারবিয়াতুল কিয়াদিয়‍্যাহ, ৩/৩৭৩, ৩৭৪

📘 রউফুর রহীম 📄 গাযওয়া বনু মুসতালিক

📄 গাযওয়া বনু মুসতালিক


বনু মুসতালিক গোত্র মাদীনা আক্রমণের প্রস্তুতি নিলে নবিজি ﷺ আকস্মিক হামলা চালিয়ে তাদের পরাজিত করেন। যুদ্ধে গোত্রপতির কন্যা জুওয়াইরিয়াহ বন্দি হলে নবিজি তাকে মুক্ত করে বিয়ে করেন। ফলে সাহাবিরা নবিজির আত্মীয় মনে করে বনু মুসতালিকের সব বন্দিকে মুক্ত করে দেন এবং পুরো গোত্র ইসলাম গ্রহণ করে। [৫৫৩]

মুনাফিকদের চক্রান্ত: যুদ্ধের ফেরার পথে মুনাফিক সর্দার 'আবদুল্লাহ ইবনু উবাই মুহাজির ও আনসারদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করে এবং দম্ভ করে বলে যে মাদীনায় ফিরে গিয়ে সম্মানিতরা লাঞ্ছিতদের বের করে দেবে। নবিজি ﷺ অত্যন্ত ধৈর্য ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার সাথে এই পরিস্থিতি সামাল দেন। এ প্রসঙ্গে সূরা মুনাফিকুন নাযিল হয়। [৫৫৪]

ইফকের ঘটনা (আয়িশার প্রতি অপবাদ): ফেরার পথে নবিপত্নি আয়িশা ؓ কাফেলা থেকে পিছিয়ে পড়লে মুনাফিকরা তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ রটায়। দীর্ঘ এক মাস পর আল্লাহ তা'আলা সূরা নূরের মাধ্যমে তাঁর পবিত্রতা ও চারিত্রিক শুভ্রতা ঘোষণা করেন। [৫৫৫]

টিকাঃ
৫৫৩. হাদীসুল কুরআন আন গাযওয়াতির রাসূল, ১/৩১১
৫৫৪. আল-ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম, কাহতানি, পৃ. ২০৯
৫৫৫. আস-সীরাতুন নাবাউয়্যাহ ফী যাওইল মাসাদিরিল আসলিয়্যাহ, পৃ. ৪৪০

ফন্ট সাইজ
15px
17px