📘 রউফুর রহীম 📄 কিছু নবুওয়াতি নিদর্শন

📄 কিছু নবুওয়াতি নিদর্শন


কাতাদা বিন নু'মানের চোখ
যুদ্ধের সময় কাতাদা বিন নু'মানের চোখ আক্রান্ত হয়। এমনকি চোখের তারা কোটর থেকে বেরিয়ে আসে। নবিজি তার চোখের তারা আবার কোটরে বসিয়ে দেন, আল্লাহর ইচ্ছায় তা আগের চেয়ে সুন্দর হয়ে ওঠে। এমনকি অন্যটিতে ব্যাধি দেখা দিলেও এটিটিতে কিছুই হতো না। কিছুকাল পরের কথা। তার ছেলে 'উমার বিন 'আবদুল আযীয-এর কাছে আসে। তিনি জিজ্ঞেস করেন, কে তুমি? কাতাদা-এর ছেলে জবাবে বলেন, উহুদযুদ্ধে যার চোখ গণ্ডদেশে নেমেছিল, মুস্তাফা তা প্রতিস্থাপন করার ফলে আল্লাহর ইচ্ছায় তা আগের চেয়ে সুন্দর হয়—আমি সেই ভাগ্যবান যোদ্ধার সন্তান। 'উমার বিন 'আবদুল আযীয তাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ সম্পদ দান করেন।

উবাই বিন খালফের মৃত্যু
ঘটনার সূত্রপাত মাক্কায়। একদিন সকালে উবাই বিন খালফ তার ঘোড়াটাকে দানাপানি খাওয়াচ্ছিল। নবিজিকে দেখে সে বলে ওঠে, এটার ওপর সওয়ার হয়েই তোমাকে আমি হত্যা করব। জবাবে রাসূল বলেন, ইনশাআল্লাহ, আমিই তোকে হত্যা করব। উহুদের দিন রাসূলুল্লাহ ﷺ একটা পাথরে হেলান দিয়ে ছিলেন। এমন সময় উবাই বিন খালফ খুঁজতে খুঁজতে নবিজির কাছে চলে আসে। সে বলছিল, মুহাম্মাদ, যদি আজ বেঁচে যায়, তাহলে আমার আর রক্ষা নেই। নবিজি বলেন, ওকে আসতে দাও। সে আরও নিকটবর্তী হলে রাসূল হারিস বিন সাম্মাহ থেকে একটা বর্শা নেন। চোখের পলকে উবাই বিন খালফকে লক্ষ্য করে বর্শা নিক্ষেপ করেন নবিজি নিজে। সেটি উবাইয়ের কাঁধে সামান্য আঘাত হানে; কিন্তু তার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, উবাই ঘোড়া থেকে পড়ে যায়। আল্লাহর এই শত্রু মক্কায় ফেরার পথে সারিফ নামক স্থানেই মারা যায়। আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে সে বলছিল, আল্লাহর কসম, আমি যে নিদারুণ কষ্ট অনুভব করছি, এই কষ্ট গোটা মাক্কাবাসীর মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হলে সবাই মারা যেত।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে নবিজি-এর একটি মু'জিযা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেছিলেন, আল্লাহর ইচ্ছায় আমিই তোমাকে হত্যা করব। তা বাস্তবায়িত হয় এ যুদ্ধে। আঘাত ছিল সামান্য; কিন্তু এতেই আল্লাহ তাকে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করান। আরেকটি বিষয়ও প্রতিভাত হয়—নবিজির কথা সত্যে পরিণত হওয়ার ব্যাপারে এক মুশরিকের বিশ্বাসও কতটা মজবুত ছিল।

টিকাঃ
(এই অধ্যায়ে সরাসরি কোনো ফুটনোট রেফারেন্স মূল টেক্সটে নেই।)

কাতাদা বিন নু'মানের চোখ
যুদ্ধের সময় কাতাদা বিন নু'মান -এর চোখ আক্রান্ত হয়। এমনকি চোখের তারা কোটর থেকে বেরিয়ে আসে। নবিজি তার চোখের তারা আবার কোটরে বসিয়ে দেন, আল্লাহর ইচ্ছায় তা আগের চেয়ে সুন্দর হয়ে ওঠে। এমনকি অন্যটিতে ব্যাধি দেখা দিলেও এটিতে কিছুই হতো না।

কিছুকাল পরের কথা। তার ছেলে 'উমার বিন 'আবদুল আযীয -এর কাছে আসে। তিনি জিজ্ঞেস করেন, কে তুমি? কাতাদা -এর ছেলে জবাবে বলেন, উহুদযুদ্ধে যার চোখ গণ্ডদেশে নেমেছিল, মুস্তাফা তা প্রতিস্থাপন করার ফলে আল্লাহর ইচ্ছায় তা আগের চেয়ে সুন্দর হয়—আমি সেই ভাগ্যবান যোদ্ধার সন্তান। 'উমার বিন 'আবদুল আযীয বলেন, এই সম্মান দুধমিশ্রিত পানির মতো নয়, সবশেষে যা মূত্র হয়ে বের হয়। 'উমার বিন 'আবদুল আযীয তাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ সম্পদ দান করেন।

উবাই বিন খালফের মৃত্যু
ঘটনার সূত্রপাত মাক্কায়। একদিন সকালে উবাই বিন খালফ তার ঘোড়াটাকে দানাপানি খাওয়াচ্ছিল। এমন সময় নবিজি তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। নবিজিকে দেখে সে বলে ওঠে, আমার এই ঘোড়াটাকে প্রতিদিন দানাপানি খাওয়াই, এটার ওপর সওয়ার হয়েই তোমাকে আমি হত্যা করব। জবাবে রাসূল বলেন, ইনশাআল্লাহ, আমিই তোকে হত্যা করব।

উহুদের দিন রাসূলুল্লাহ ﷺ একটা পাথরে হেলান দিয়ে ছিলেন। এমন সময় উবাই বিন খালফ খুঁজতে খুঁজতে নবিজির কাছে চলে আসে। সে বলছিল, মুহাম্মাদ, যদি আজ বেঁচে যায়, তাহলে আমার আর রক্ষা নেই। সাহাবিরা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমাদের কেউ তাকে খতম করে দিই! নবিজি বলেন, ওকে আসতে দাও। সে আরও নিকটবর্তী হলে রাসূল হারিস বিন সাম্মাহ থেকে একটা বর্শা নেন। বর্শাটি নেওয়ার সময় আশপাশের সবাই উটের পিঠে থেকেই দীর্ঘকেশীর মতো আন্দলিত হয়। চোখের পলকে উবাই বিন খালফকে লক্ষ্য করে বর্ষা নিক্ষেপ করেন নবিজি নিজে। সেটি উবাইয়ের কাঁধে সামান্য আঘাত হানে; কিন্তু তার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, উবাই ঘোড়া থেকে পড়ে যায়। সে কুরাইশের কাছে ফিরে যাওয়ার পর গাধার মতো চিল্লিয়ে বলছিল, আল্লাহর কসম, মুহাম্মাদ আমাকে হত্যা করেছে। লোকেরা বলল, আরে, এই তুচ্ছ আঘাতে তুমি এমন করছ কেন? উবাই বিন খালফ বলল, মুহাম্মাদ আমাকে মাক্কায় বলেছিল, সে আমায় হত্যা করবে। আল্লাহর কসম, সে আমার প্রতি থুতু মারলেও আমি মারা যাব। অবশেষে আল্লাহর এই শত্রু মক্কায় ফেরার পথে সারিফ নামক স্থানেই মারা যায়। অন্য বর্ণনায় আছে—আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে সে বলছিল, আল্লাহর কসম, আমি যে নিদারুণ কষ্ট অনুভব করছি, এই কষ্ট গোটা মাক্কাবাসীর মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হলে সবাই মারা যেত।

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে নবিজি -এর একটি মু'জিযা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেছিলেন, আল্লাহর ইচ্ছায় আমিই তোমাকে হত্যা করব। তা বাস্তবায়িত হয় এ যুদ্ধে। আঘাত ছিল সামান্য; কিন্তু এতেই আল্লাহ তাকে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করান। আরেকটি বিষয়ও প্রতিভাত হয়-নবিজির কথা সত্যে পরিণত হওয়ার ব্যাপারে এক মুশরিকের বিশ্বাসও কতটা মজবুত ছিল। উবাই দৃঢ় বিশ্বাসী ছিল, নবি মুহাম্মাদ -এর কথা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে। তবুও নিজেদের গোঁড়ামি ও প্রবৃত্তির পূজা তাদের ইসলাম গ্রহণ করে সম্মানিত হতে দেয়নি।

ফন্ট সাইজ
15px
17px