📄 কয়েকটি সামাজিক ঘটনাবলি
'উমার-কন্যা হাফসাকে আল্লাহর রাসূলের বিয়ে
'উমার ইবনুল খাত্তাব বলেন, খুনাইস বিন হুযাফা আস-সাহমির মৃত্যুতে আমার মেয়ে হাফসা আকস্মিক বিধবা হয়ে পড়ে। তার স্বামী রাসূলের সাহাবি ছিলেন। মাদীনায় মারা যান তিনি। হাফসার বিয়ের কথা ভেবে 'উসমান বিন 'আফ্ফানের সঙ্গে দেখা করি আমি। তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিই। আমার প্রস্তাব শুনে তিনি ভেবে দেখবেন বলে আশ্বাস দেন। কয়েক রাত কেটে যাওয়ার পর আবার তার সঙ্গে আমার দেখা। তিনি আমাকে জানান, আপাতত আমি বিয়ের কথা ভাবছি না।
'উমার বলেন, তারপর আবু বাক্স সিদ্দীকের সঙ্গে আমার দেখা হয়। তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বলি, আপনি চাইলে হাফসাকে আপনার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেবো। আবু বাক্ নীরব থাকেন। আমার প্রস্তাবে কোনো উত্তরই দেননি তিনি। তার আচরণে আমি 'উসমানের চেয়েও ভীষণ মনঃক্ষুণ্ণ হই। এভাবে কয়েক রাত কেটে যায়। তারপর রাসূলের কাছ থেকে প্রস্তাব এলে হাফসাকে আমি তাঁর সঙ্গে বিয়ে দিই। [৪৯৯]
ফাতিমার সঙ্গে 'আলির বিয়ে
'আলি বিন আবি তালিবের দাসী বুঝতে পারেন যে ফাতিমা বিয়ের উপযুক্ত হয়েছে এবং আল্লাহর রাসূলের নিকট তাঁর বেশকিছু বিয়ের প্রস্তাবও চলে এসেছে। দাসী তাকে বলেন, আপনি কি জানেন, আল্লাহর রাসূলের নিকট ফাতিমার জন্য একজন বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছে? আলি বলেন, না। সে বলে, হ্যাঁ, সত্যিই ফাতিমার বিয়ের প্রস্তাব এসেছে। আপনি তাহলে রাসূলের নিকট তাকে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাচ্ছেন না কেন? আপনি গেলেই তিনি আপনার সঙ্গে তাকে বিয়ে দিয়ে দেবেন। তার কথায় আলি বলেন, ফাতিমাকে বিয়ে করার মতো আমার কী আছে? সে বলে, আপনি রাসূলের নিকট গেলেই আপনার কাছে বিয়ে দেবেন।
আলি বলেন, আল্লাহর শপথ, সে আমাকে পীড়াপীড়ি করেই যাচ্ছিল। অবশেষে আমি রাসূলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। তাঁর সামনে বসে আমি আড়ষ্ট হয়ে যাই। তাঁর সম্মান ও ব্যক্তিত্বের সামনে কিছুই বলতে পারি না। আমাকে দেখে রাসূল জানতে চান, কেন এসেছ? কী প্রয়োজনে এসেছ? তারপর একটু থেমে তিনি বলেন, মনে হয়, তুমি ফাতিমাকে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছ? আমি বলি, জি। তিনি আমার সম্মতি পেয়ে জানতে চান, ওকে বৈধ করে নেওয়ার মতো (মোহরানা) তোমার কাছে কি কিছু আছে? আমি উত্তর দিই, জি না হে রাসূল, আমার কাছে কিছুই নেই। আমার দীনতার কথা শুনে জানতে চান— আমার দেওয়া বর্মটা কোথায়? হঠাৎ ওটার কথা মনে আসে; আলির প্রাণধারকের শপথ, ওটা জরাজীর্ণ, ওটার দাম চার দিরহামও হবে না। তারপর আমি উত্তর দিই, ওটা আমার কাছে আছে। তিনি বলেন, ফাতিমাকে তোমার কাছে বিয়ে দিলাম। বর্মটা তার নিকট পাঠিয়ে দাও। বর্মটার বিনিময়ে তাকে তুমি স্ত্রী করে নাও।
হাসান ইবনু 'আলির জন্ম
ইমাম কুরতুবি বলেন, হাসান প্রথম পৃথিবীর আলো দেখেছেন ৪র্থ হিজরিতে। হাসানের জন্মের পর এ বছরেই শেষের দিকে জন্ম হয় হুসাইন-এর। নববি বলেছেন, ৪র্থ হিজরির শা'বান মাসের ৫ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন হাসান।
'আলি বলেন, হাসান জন্মের পর আমি ওর নাম রাখি হারব। আল্লাহর রাসূল এসে জিজ্ঞেস করলেন, আমার ছেলেকে নিয়ে এসো, দেখি কী নাম রেখেছ? বললাম, ওর নাম রেখেছি হারব। নবিজি বললেন, ওর নাম বরং হাসান। [৫০০]
যাইদ বিন সাবিত এর ঘটনা
চতুর্থ হিজরিতে তিনি ইয়াহুদিদের ভাষা শিক্ষা করেন। এ বছরেই যাইদ বিন সাবিত ইয়াহুদিদের ভাষা শিখেন। খারিজা বিন যাইদ থেকে বর্ণিত, যাইদ বিন সাবিত বর্ণনা করেন, ইয়াহুদিদের পাঠানো চিঠি যেন লোকদের সামনে পাঠ করে শোনানো যায়, এজন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ইয়াহুদিদের ভাষা শেখার নির্দেশ দেন। তিনি মাত্র ১৫ দিনে এই ভাষা শিখে ফেলেন।
আরেকটি বর্ণনায় আছে, আল্লাহর রাসূল মাদীনায় আসার পর যাইদ-কে তার কাছে নিয়ে আসা হয়। লোকেরা বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ, বনু নাজ্জারের এই বালক ইতোমধ্যে আপনার ওপর অবতীর্ণ হওয়া ১০টির বেশি সূরা মুখস্থ করেছে। রাসূলুল্লাহ মুগ্ধ হয়ে বলেন, যাইদ, আমার জন্য তুমি ইয়াহুদিদের ভাষা শেখো। কেননা (বার্তায় ও চুক্তিপত্রে) ইয়াহুদিদের লেখা আমি বিশ্বাস করতে পারি না।
যাইদ বলেন, নবিজির জন্য আমি তাদের ভাষা রপ্ত করি। ১৫ দিন কেটে যাওয়ার আগেই আমি বেশ দক্ষতা অর্জন করি। ইয়াহুদিরা চিঠি পাঠালে আমি রাসূলের সামনে পাঠ করে শোনাতাম। লিখে পাঠাতাম এর প্রত্যুত্তরও।
টিকাঃ
৪৯৯. বুখারি, বিয়েশাদি অধ্যায়, হাদীস নং ৫১২২
৫০০. সিফাতুস সাফওয়াতি, ইবনুল জাওযি, ১/৮৪