📄 আল্লাহর পথে প্রথম ধনুক নিক্ষেপকারী
মুসলিমদের সামরিক ইতিহাসে কাফিরদের সঙ্গে প্রথম মোকাবিলা হয় আবু উবাইদা ইবনুল হারিস অভিযানে। দুই পক্ষে মৃদু বাণ বিনিময় হয়। সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস প্রথম এই অভিযানে তির ছুড়েন। তিনিই আল্লাহর পথে প্রথম ধানুকির খেতাব পান। [৩২৪] তবে দু-পক্ষের মধ্যকার লড়াই বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। কারণ, উভয়পক্ষই নিরাপদে গন্তব্যে যেতে মরিয়া ছিল; কিন্তু মুসলিমরা প্রস্থান করে বীরত্ব ও শৃঙ্খলার সঙ্গে। এই নিরাপদ ও বীরত্বপূর্ণ প্রস্থানের অগ্রভূমিকা পালন করেন সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস। তার লক্ষ্যভেদী বাণ-বৃষ্টির ফলে কাফিররা দিশেহারা হয়ে ছুটে পালায়। এর ফলে মুসলিমদের পক্ষে এক নিরাপত্তাব্যূহ তৈরি হয়। এই সুযোগে উতবাহ বিন গাযওয়ান ও আল-মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ মুসলিমদের কাছে পালিয়ে চলে আসেন। ইতঃপূর্বেই তারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। এই অভিযানেই সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস ইসলামের পক্ষে প্রথম সামরিক সমৃদ্ধির স্বাক্ষর রাখেন। আল্লাহর দীনের সহযোগিতায় তিনি নিজেকে উৎসর্গ ও অনেক ত্যাগ স্বীকার করেন।
এই অভিযানের কল্যাণে মুহাজিরদের মাধ্যমে রাসূলের বিশেষ উন্নয়নশীল রাজনীতির গতি বেগবান হয়। বিশেষ করে ঐতিহাসিক বদরযুদ্ধ পর্যন্ত এই খণ্ড যুদ্ধগুলো পরিচালিত হয় দ্বিতীয় আকাবার ঐক্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে। [৩২৫]
টিকাঃ
৩২৪. সুনানুত তিরমিযি, ২/২৭৭
৩২৫. আস-সারায়া ওয়াল বুয়ুসুন নাবাউয়্যাহ, পৃ. ৯২
📄 কথা বলার ক্ষেত্রে আল্লাহ্র রাসূলের অনন্য নীতি
বারবার বলা, দ্বিরুক্তি করা:
রাসূল ﷺ প্রত্যেক কথা একাধিকবার বলতেন, যেন শ্রোতারা সহজে বুঝতে পারে ও তাদের মনে গেঁথে যায়। কথার সারমর্ম অনুধাবন করতে পারে। এই প্রসঙ্গে একটি হাদীস- আনাস বিন মালিক বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ একটি কথা তিনবার বলতেন, যেন শ্রোতা মর্মানুধাবন করতে পারে। [৩৪২]
ধীরে ধীরে ও থেমে থেমে বলা:
রাসূল শ্রোতার সুবিধার্থে ধীরে ও থেমে কথা বলতেন, এমনকি শব্দ ও বাক্য আলাদা আলাদা বলতেন-যেন শ্রোতার শুনেই মুখস্থ হয়ে যায়। রাসূলের থেকে বর্ণনা করতে কোনো বিকৃতি কিংবা পরিবর্তনের কসুর না ঘটে। রাসূল এতটাই ধীরে সাগ্রহে কথা বলতেন, শ্রোতা চাইলে তাঁর কথার বাক্যগুলো গুনতে পারত। [৩৪৩] উরওয়া বিন যুবাইর বর্ণনা করেন, আয়িশা তাঁকে বলেন, ওমুককে দেখে তোমার অবাক লাগে না! একবার আমি যিকির করছিলাম, এমতাবস্থায় সে আমার কামরার পাশে বসে আমাকে শোনানোর জন্য রাসূলের সূত্রে হাদীস বর্ণনা করতে শুরু করেন। আমার যিকির শেষ করার আগেই সে উঠে চলে যায়। আমি তাঁকে পেলে শুধরে দিতাম যে, রাসূল তোমাদের মতো এভাবে কথা বলতেন না। [৩৪৪]
সহজবোধ্য কথা, সাবলীল ও সময়-উপযোগী ভাষার ব্যবহার:
রাসূল ﷺ মধ্যমপন্থায়, পরিমিত মাত্রায়, নির্দিষ্ট বিষয় ও সময়ের দিকে নজর রেখে তাঁর সাহাবিদের উপদেশ দিতেন, যেন সাহাবিগণ সানন্দে তাঁর কথা শুনতে ও মানতে আগ্রহী হন। তিনি সাহাবিদের প্রতি লক্ষ রাখতেন, তারা যেন সহজে বুঝতে পারেন। 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ বলেন, 'রাসূল আমাদের খুব যত্নসহকারে উপদেশ দিতেন-পাছে আমরা যেন বিরক্ত না হই, তা খেয়াল রাখতেন। [৩৪৫]
উপমাসহকারে বক্তব্য দেওয়া:
উপমাসহ বক্তব্য শ্রোতার মন-মগজে গভীর রেখাপাত করে। এমন বক্তব্যে শ্রোতা যেন বক্তার আসর থেকে সরেজমিনে হাজির হয়। কাহিনি ও কাহিনিস্থলের সম্পর্ক শ্রোতার চোখে ভাস্বর হয়ে ধরা দেয়। তা ছাড়া উপমায় হৃদয় বুঁদ হয় আর মগজ প্রখর হয়। এজন্যই কুরআন অধিকাংশ ক্ষেত্রে উপমানির্ভর বক্তব্য পেশ করেছে এবং অনেক আয়াত উপমার সুদিকগুলো ব্যাখ্যা দেয়। উপমা প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেন- এসব উদাহরণ আমি মানুষের জন্য দিয়ে থাকি। তবে কেবল জ্ঞানীরাই তা বুঝতে পারে। [সূরা আনকাবূত, ২৯: ৪৩] অন্যত্র বলেন, আমি যদি এই কুরআনকে একটি পাহাড়ের ওপর নাযিল করতাম, তাহলে পাহাড়টিকে তুমি আল্লাহর ভয়ে বিনীত ও বিদীর্ণ হতে দেখতে। আমি মানুষের জন্য এসব দৃষ্টান্ত বর্ণনা করি, যেন তারা চিন্তা করে। [সূরা হাশর, ৫৯: ২১] এভাবে রাসূল তাঁর ভাষারীতিতে ঐশ্বরিক ধারা অবলম্বন করতেন। প্রচুর পরিমাণে উপমা উদাহরণ দিতেন। 'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার বলেন, আমি রাসূল থেকে এক হাজার উপমা মুখস্থ করেছি। পরবর্তী সময়ে রাসূলের হাদীস থেকে অনেক উপমাগ্রন্থ রচিত হয়েছে। [৩৪৬]
বক্তার পক্ষ থেকে শ্রোতাদের প্রশ্ন করা:
আরও জীবন্ত ও আরও প্রাণবন্ত উপায়ে পাঠদান করতে হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি প্রশ্ন করতে হবে। এতে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে ও বাইরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক গভীর হয়। শিক্ষার্থীর মাথা প্রখর হয়। উদ্যম ও সতেজতা ফিরে পায়। রাসূল সাহাবিদের শিক্ষা দিতে নানাভাবে প্রশ্ন করতেন। ফলে তারা বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতেন, চিন্তা করতেন এবং মুখস্থ করে নিতেন। সাহাবিদের উদ্দীপ্ত করতে রাসূল সাধারণত কয়েকভাবে প্রশ্ন করতেন-
১. দৃষ্টি-আকর্ষণ-অব্যয় ব্যবহার করতেন। এই রীতি প্রসঙ্গে আবু হুরায়রা বলেন, 'রাসূল বলেছেন, আমি কি তোমাদের আল্লাহর পাপ মোচন ও সম্মান বৃদ্ধির কারণসমূহ জানিয়ে দেবো? সাহাবিগণ বলেন, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল। রাসূল বলেন, শীতকালে অনিচ্ছাসত্ত্বেও ভালোভাবে ওযু করা, বেশি বেশি মাসজিদে যাওয়া, এক সালাত শেষে আরেক সালাতের অপেক্ষায় থাকা। আর জেনে রেখো, এতেই মুসলিম রাষ্ট্রের সীমান্ত প্রহরার সাওয়াব মিলবে। [৩৪৭]
২. কখনো সাহাবিদের সম্পূর্ণ অজানা বিষয়ে প্রশ্ন করতেন। আর তারা সবিনয়ে জানিয়ে দিতেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। রাসূল তাদের উৎসুক আর উদ্গ্রীব করতেই এমনটা করতেন। আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূল তাদের জিজ্ঞেস করেন, তোমরা কি জানো, কে রিক্তহস্ত? সাহাবিরা বলেন, যার দিরহাম নেই, পার্থিব কিছু নেই, সে-ই তো রিক্তহস্ত। রাসূল তাদের শুধরে দিয়ে বলেন, আমার উম্মাহর মাঝে সে-ই রিক্তহস্ত, যে কিয়ামাতের দিন সালাত, সাওম ও যাকাতের 'আমাল নিয়ে হাজির হবে-আবার সঙ্গে গালি, অপবাদ, লুণ্ঠন, খুন ও অত্যাচারের পাপ থাকবে। তখন সকল সংক্ষুব্ধকে তার পুণ্য দিয়ে দেওয়া হবে। বিচার নিষ্পত্তির আগে তার পুণ্য ফুরিয়ে গেলে সংক্ষুব্ধদের পাপ তার ঘাড়ে চাপিয়ে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। [৩৪৮]
৩. কখনো রাসূল সা. প্রশ্ন করতেন আর কোনো সাহাবি সঠিক উত্তর দিতে পারলে তাকে সাহস দেওয়ার জন্য তার প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতেন। উপস্থিত অন্যান্য সাহাবিদের উৎসাহ দিতেন। একবার রাসূল সা. উবাই ইবনু কা'বের সঙ্গে এই আচরণ করেন। তিনি বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, আবুল মুনযির, কুরআনের কোন আয়াতটি সবচেয়ে মহান বলো তো? আমি তাঁকে সবিনয়ে জানাই, সূরা বাকারার আয়াতুল কুরসি অংশ। তিনি আমার উত্তরে খুশি হয়ে আমার বুক চাপড়ে বলেন, আবুল মুনযির, জ্ঞানই হোক তোমার জন্য সহজলভ্য। [৩৪৯]
৪. দুর্লভ ও উদ্দীপক বিষয় উপস্থাপন করে শিক্ষার্থীর জ্ঞানপিপাসা বাড়িয়ে দেওয়া: এই প্রসঙ্গে জাবির বিন 'আবদুল্লাহ একটি সুন্দর ঘটনা বলেন, একবার রাসূল সা. সাহাবিদের নিয়ে মাদীনার বাজারের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এমন সময় দেখতে পান, পথের পাশে একটি মৃত মেষশাবক পড়ে আছে; কান দুটো কাটা। রাসূল সা. শাবকটির কানে হাত রেখে সাহাবিদের জিজ্ঞেস করেন, তোমাদের কেউ কি এটা এক দিরহামের বিনিময়ে নেবে? তারা জানান, আমরা নেব না; এটা আমাদের কী কাজে আসবে? তারপর রাসূল সা. বলেন, তোমরা কি চাও এটা তোমাদের হোক? তারা জবাব দেন, আল্লাহর শপথ, এটা জীবিত হলেও তো কান কাটা, আর মরে যাওয়ার পর তো প্রশ্নই আসে না। সাহাবিদের জবাবে রাসূল বলেন, তোমরা জেনে রেখো, আল্লাহর নিকট দুনিয়া এই মৃত মেষের চেয়েও তুচ্ছ। [৩৫০]
বর্ণনামূলক মাধ্যমে উপস্থাপনা:
হালের বর্ণনামূলক উপস্থাপনার মাধ্যমে বক্তৃতা করতেন রাসূল ﷺ, যেন বক্তব্যের কথা শ্রোতার মন-মগজে গভীর রেখাপাত করে পরিবেশ পরিস্থিতিসমেত তারা রাসূলের মর্মকথা অনুধাবন করতে পারেন। রাসূলের বর্ণনামূলক রীতি ছিল—
১. ইঙ্গিতনির্ভর উপস্থাপনা: হাত নেড়ে বিবৃতি দেওয়া। রাসূল ﷺ দুই হাতের আঙুল একসঙ্গে মিলিয়ে দুই বিশ্বাসীর ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক বোঝাতেন। এই সম্পর্কে আবু মূসা আশ'আরি রাসূলের বিবৃতি বর্ণনা করেন— বিশ্বাসী বিশ্বাসীর জন্য যেন প্রাচীরের গাঁথুনি—এই বলে দুই হাতের আঙুলগুলো একসঙ্গে মিলিত করেন রাসূল ﷺ। [৩৫১]
২. চিত্রনির্ভর উপস্থাপনা: একবার সাহাবিদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য মাটিতে কয়েকটি রেখা এঁকে রাসূলুল্লাহ এর ব্যাখ্যা দেন। 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেন, একটি রেখা এঁকে রাসূল ﷺ বলেন, এটা আল্লাহর পথ। তারপর সেই রেখার ডানে বামে আরও কয়েকটি রেখা এঁকে বলেন, এগুলো বিচ্ছিন্ন কিছু পথ। এ সকল পথে আহ্বান করে একেকজন নিযুক্ত শয়তান। অবশেষে কুরআন থেকে ব্যাখ্যা দেন তিনি। [৩৫২]
৩. আলোচ্যবস্তু হাজির করে বক্তব্য প্রদান করা: পুরুষের জন্য রেশমি কাপড় ও স্বর্ণালংকারের বিধান আলোচনা করতে গিয়ে রাসূল ﷺ এগুলো হাজির করেন। এই প্রসঙ্গে 'আলি বিন আবি তালিব বর্ণনা করেন, একবার রাসূল ﷺ তাঁর ডান হাতে এক টুকরো রেশমি বস্ত্র, বাম হাতে এক টুকরো স্বর্ণ নিয়ে বলেন, আমার উম্মাহর পুরুষদের জন্য এই দুটি বস্তু নিষিদ্ধ। [৩৫৩] আরেকটি বর্ণনায় নাসাঈ আবু মুসার সূত্রে বলেন, আমার উম্মাহর নারীদের জন্য স্বর্ণ ও রেশমি বৈধ আর পুরুষদের জন্য অবৈধ। [৩৫৪] উম্মাহকে রেশমি ও স্বর্ণের বিধান জানাতে রাসূল সরাসরি এগুলো হাজির করেন, যেন সুধীসমাজ এগুলো দেখে ও রাসূলের বাণী শুনে বিধানটি হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন।
সরাসরি প্রায়োগিক শিক্ষাপ্রদান:
সালাতের প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে স্বয়ং রাসূল মিম্বারে সালাত সম্পাদন করে সাহাবিদের দেখান। সাহল বিন সা'দ আসসা'দি বলেন, সেই আসরে রাসূলকে মিম্বারে সালাত সম্পাদন করতে দেখি আমরা। মিম্বারে দাঁড়িয়েই তিনি তাকবীর ও রুকু করেন। একটু পেছনে সরে এসে মিম্বারেই সিজদা করেন। এভাবেই সালাত সম্পন্ন করে তিনি আমাদের দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বলেন, হে লোকেরা, তোমাদের শেখা ও অনুকরণের উদ্দেশ্যে আমি করে দেখালাম। [৩৫৫]
কোমল ও হৃদয়গ্রাহী কথা বলে শিক্ষাদান:
কোমল ও সুন্দর কথায় শ্রোতার মনে বক্তার প্রতি আগ্রহ জন্মে। শ্রোতা শুনতে চায়, মনে রাখতে চায় তার কথা। রাসূল তাঁর কথা শুরু করতেন কোমল ও সুন্দর কথা দিয়ে। সুন্দর ও মৃদু বাক্যে শ্রোতার মনে সত্যের প্রতি আগ্রহ জাগাতেন। বিশেষত সংকোচজনক বিষয় শিক্ষাদানকালে বেশ শিষ্টাচার রীতি অবলম্বন করতেন। একবার সাহাবিদের প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারার আসন শেখাতে গিয়ে বেশ সওম্য কায়দায় তিনি সেটা দেখান। বিশ্বাসীদের সন্তানের প্রতি সুহৃদ বাবার মতো আগলে রেখে শেখান। এই প্রসঙ্গে রাসূল বলেন, তোমাদের পিতার মতো আমি, আমি তোমাদের শেখাব। তোমাদের কেউ শৌচাগারে গিয়ে কিবলার দিকে মুখ কিংবা পিঠ দিয়ে বসবে না, আর ডান হাতে শৌচকার্য সারবে না। [৩৫৬]
রাসূল তাঁর সাহাবিদের মহান আদর্শ ও উঁচুমানের শিষ্টাচার শেখাতেন। তাঁর সংস্রবে এসে সাধারণ মরুচারীও একজন মহান আদর্শবান দিগ্বিজয়ী মানবে পরিণত হতো। তাঁর শিক্ষা, শিষ্টাচার, দীক্ষা ও প্রতিপালনের কল্যাণে চিরকাল তারা অনুসরণীয় হয়ে থাকেন। সাধারণ ধুলোর মানুষ হয়েও স্বর্গীয় চরিত্র ধারণ করেন। [৩৫৭]
টিকাঃ
৩৪২. বুখারি, ইলম অধ্যায়, হাদীস নং, ৯৫
৩৪৩. মানাহিজু ওয়া আদাবুস সাহাবাহ, ড. আবদুর রহমান আল-বার, পৃ. ৬২
৩৪৪. বুখারি, মানাকিব অধ্যায়, হাদীস নং, ৩৫৬৮
৩৪৫. বুখারি, ইলম অধ্যায়, হাদীস নং, ৬৮
৩৪৬. মানাহিজু ওয়া আদাবুস সাহাবাহ, পৃ. ৬৫
৩৪৭. মুসলিম, পবিত্রতা অধ্যায়, হাদীস নং ৪১
৩৪৮. মুসলিম, হাদীস নং ৫৮১
৩৪৯. মুসলিম, মুসাফিরের সালাত ও সালাতে কসর অধ্যায়, সূরা কাহাফ ও আয়াতুল কুরসির ফজিলত পরিচ্ছেদ, হাদীস নং ৮১০
৩৫০. মুসলিম, হাদীস নং ২৯৫৭
৩৫১. বুখারি, হাদীস নং ২৪৪৬
৩৫২. মুসনাদে আহমাদ, ১/৪৩৫, হাদীস নং ৪১৪২, আর-রিসালাহ প্রকাশনী; হাকিম, ২/৩১৮, সনদ সহীহ।
৩৫৩. আবু দাউদ, পোশাক-পরিচ্ছদ অধ্যায়, হাদীস নং ৪০৫৭
৩৫৪. সহীহ সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ৫১৬৩
৩৫৫. বুখারি, জুমুআহ অধ্যায়, মিম্বারের উপর খুতবা পরিচ্ছেদ, হাদীস নং ৯১৭
৩৫৬. আবু দাউদ, পবিত্রতা অধ্যায়, ১/৩, হাদীস নং ৮
৩৫৭. মানাহিজু ওয়া আদাবুস সাহাবাহ ফিত তাআল্লুমি ওয়াত তালীমি, পৃ. ৮৫
📄 রাসূলের কয়েকটি মহান আদর্শ
সুযোগ্যকে উৎসাহ দান ও প্রশংসা জ্ঞাপন:
জ্ঞান-পিপাসা ও আগ্রহ বাড়ার জন্য রাসূল আবু মূসা আশ'আরিকে উৎসাহ দিতেন। তার সুললিত কণ্ঠে তিলাওয়াত শুনে রাসূল বলেন, তুমি যদি দেখো আমি তোমার সুললিত কণ্ঠের তিলাওয়াত শুনছি, তাহলে মনে করবে, তোমাকে দাউদের পরিবারের একটি অনবদ্য বংশী দেওয়া হয়েছে। [৩৫৮]
কেউ ভুল করলে কোমলভাবে তা শুধরে দেওয়া:
রাসূল সাহাবিদের অবস্থা ও সামর্থ্যের দিকে গভীর খেয়াল রাখতেন। তাদের অজ্ঞতা মেনে নিয়েই কোমলভাবে তা শোধরানোর চেষ্টা করতেন। সাহাবিদের প্রতি রাসূলের কোমলতা ও নম্রতার কারণে তারা বেশ মুগ্ধ হয়ে তাঁর বাণী মুখস্থ ও প্রচার করতেন। মুআবিয়া বিন হাকাম আস-সুলামি তাঁর নিজ অভিজ্ঞতার কথা বলেন, একবার রাসূলের সঙ্গে আমার সালাত আদায়কালে একলোক হাঁচি দেয়। 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' বলে আমি তার হাঁচির উত্তর দিই। উত্তর শুনে সবাই একযোগে আমার দিকে তাকায়। অবস্থা দেখে আমি বলে বসি, কী ব্যাপার! এভাবে তোমরা আমার দিকে তাকাচ্ছ কেন? রানে হাত চাপড়ে সকলে আমাকে থামাতে চেষ্টা করে। আমিও থেমে যাই। তারপর রাসূলের সালাত শেষ হলে তিনি আমাকে কাছে ডাকলেন। অত্যন্ত কোমলতার সঙ্গে বললেন, এই সালাতে কোনো কথাবার্টা বলা যায় না। কারণ, সালাত তাসবীহ, তাকবীর ও কুরআন পাঠের কাজ। তিনি আমাকে একটু বকলেন না, একটু শাসালেনও না। আল্লাহর শপথ, আমি তাঁর মতো কোমল, দয়ালু শিক্ষক আর দেখিনি। [৩৫৯]
নিন্দনীয় বিষয়ে ব্যক্তিকে না শাসিয়ে সকলকে একসঙ্গে উপদেশ করা ভালো:
এমন পরিস্থিতে একক ব্যক্তিকে না শাসিয়ে সবাইকে একসঙ্গে উপদেশ করলে অপরাধী-নিরপরাধী সকলের মাঝে আত্মসংশোধনের মনভাব তৈরি হয়। এতে যে ভুল করে, তার অনুভূতির প্রতিও সম্মান বজায় থাকে। সঙ্গে সঙ্গে সকলে এমন ভুল না করার জন্য সতর্ক হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে 'আবদুল্লাহ বিন লাতাবিয়ার ঘটনা বেশ উল্লেখযোগ্য- একবার রাসূল তাকে বনু সুলাইম গোত্রের সাদাকা সংগ্রাহক পদে নিয়োগ দেন। এই যাত্রায় তিনি নিজের জন্য উপহারও সংগ্রহ করেন। আবু হুমাইদ আস-সাদি বলেন, 'রাসূল ইবনু লাতাবিয়া নামের এক লোককে বনু সুলাইমের সাদাকা সংগ্রহের কাজে নিয়োগ দেন। তিনি সাদাকার সম্পদ এনে বুঝিয়ে দেওয়ার সময় বলেন, এটা আপনাদের সম্পদ আর এটা আমার উপহার। তার কথা শুনে রাসূল বলেন, তাহলে তুমি তোমার বাবা-মায়ের ঘরে যখন অবস্থান করতে, তখন দেখা যেত, কে তোমার নিকট উপহার নিয়ে আসে-এমন পরিস্থিতিতে রাসূল আমাদের একত্র করে বোঝান-সাদাকা সংগ্রহের দায়িত্ব আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন আর আমি তোমাদের কাউকে দিয়ে এই কাজ আদায় করে নিই। এমতাবস্থায় কেউ যদি এসে বলে-এটা তোমাদের সম্পদ আর এটা আমার উপহার-তাহলে ব্যাপারটা কেমন হয়! সে যদি উপহার পাওয়ার লোকই হতো, তাহলে সে বাড়িতে তার বাবা- মায়ের নিকট বসে থাকত, তখন দেখা যেত, কে তোমার নিকট উপহার নিয়ে আসে! সাবধান, আল্লাহর শপথ, তোমাদের কেউ যদি অন্যায়ভাবে কারও সম্পদ আত্মসাৎ করে, তাহলে কিয়ামাতের দিন অবশ্যই তা নিয়ে আল্লাহর নিকট হাজির হতে হবে। আর আমি অবশ্যই সেই লোককে চিনে নেব, যে আওয়াজরত উট, গরু ও ছাগল নিয়ে হাজির হবে। তারপর তিনি আকাশের দিকে দুই হাত তুলে বলেন, হে আল্লাহ, অবশ্যই আমি আমার দেখা ও শোনা অনুযায়ী তোমার বাণী পৌঁছে দিয়েছি। [৩৬০]
প্রয়োজনে ক্ষোভ প্রকাশ:
কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মাধ্যমে তার অজ্ঞাতসারে শারী'আ-বিরোধী ঘটনা হয়ে গেলে-যা ইসলাম, ঈমান ও তাওহীদের পরিপন্থি, রাসূল তার সংশোধন ও তাকে দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্য ভীষণ রাগ দেখাতেন। এই জাতীয় রাগের ধরন বোঝা যায় 'উমারের ঘটনা থেকে। একবার রাসূলকে পড়ে শোনানোর উদ্দেশ্যে তিনি এক কপি তাওরাত নিয়ে আসেন। জাবির বিন 'আবদুল্লাহ বলেন, একবার 'উমার ইবনুল খাত্তাব এক কপি তাওরাত নিয়ে রাসূলের নিকট আসেন। তিনি রাসূলকে শুনিয়ে পড়তে শুরু করেন। তার পাঠ শুনে রাসূল নীরবে ক্রোধ সংবরণ করেন। অবস্থা দেখে আবু বাক্ 'উমারকে শাসিয়ে বলেন, তুমি রাসূলের মুখে ক্রোধ দেখতে পাচ্ছ না? রাসূলের মুখের দিকে তাকিয়ে 'উমার বলেন, আমি রাসূল ও তাঁর রবের ক্রোধ থেকে আল্লাহর পানাহ চাই। আমি রব হিসেবে আল্লাহ, দীন হিসেবে ইসলাম এবং নবি হিসেবে মুহাম্মাদকে পেয়েই সন্তুষ্ট। তার কথায় রাসূল বলেন, আমার প্রাণ-ধারকের শপথ, যদি স্বয়ং মূসা আসতেন আর তোমরা আমাকে ছেড়ে তার অনুসরণ করতে, তাহলেও তোমরা পথভ্রষ্ট হয়ে যেতে! মূসা যদি আমার নবুওয়াতকালে বেঁচে থাকতেন, অবশ্যই তিনি আমার আনুগত্য করতেন। [৩৬১]
রাসূলের সংশোধনীমূলক ক্রোধের আরেকটি উদাহরণ। তিনি ইমাম সাহাবিদের দীর্ঘ সালাতের ব্যাপারে বারণ করতেন। কারণ, জামা'আতের সালাতে অনেক অসুস্থ, বৃদ্ধ ও শিশু থাকে। রাসূলের বারণসত্ত্বেও কোনো কোনো সাহাবি লম্বা সময় নিয়ে সালাতের ইমামতি করতেন। অসুস্থ, বৃদ্ধ ও শিশুদের দুর্দশার কথা জানতে পেরে রাসূল খুব রাগ করেন। এই প্রসঙ্গে আবু মাসউদ আল-আনসারি বলেন, এক লোক রাসূলের নিকট অভিযোগ নিয়ে আসে, অমুক ইমামের দীর্ঘ সালাতের কারণে আমি সালাত আদায় করতে পারি না। তার অভিযোগ শুনে রাসূল খুব রাগ করেন। আমি কখনো তাঁকে এতটা রাগ করতে দেখিনি। এরপর তিনি লোকদের লক্ষ করে বলেন, তোমরা লোকদের সালাতবিমুখ করো না। তোমাদের কেউ ইমামতি করলে সে যেন নাতিদীর্ঘ করে। কারণ, সালাতের জামা'আতে অসুস্থ, দুর্বল ও প্রয়োজনগ্রস্ত লোকেরাও থাকে। [৩৬২]
রাসূলের সংশোধনীমূলক এমন ক্রোধের আরও একটি উদাহরণ। একবার সাহাবিগণ তাকদীর তথা ভাগ্য বিষয়ে বিতর্কে লিপ্ত হলে তিনি খুব রাগ করেন। 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল 'আস বর্ণনা করেন, একবার রাসূল সাহাবিদের উদ্দেশে বের হয়ে দেখেন, তারা তাকদীর তথা ভাগ্য বিষয়ে বিতর্ক করছেন। এই অবস্থা দেখে তিনি ভীষণ রাগ করেন। তাঁর চেহারায় যেন জ্বলন্ত ছাইয়ের প্রলেপ। সাহাবিদের লক্ষ করে তিনি বলেন, তোমাদের কি এই কাজের আদেশ করা হয়েছে, এই কাজের জন্যই কি তোমাদের সৃষ্টি? তোমরা তো দেখছি কুরআনের এক অংশের সঙ্গে অপরাংশের বিরোধ বাঁধাচ্ছ। জেনে রেখো, এরকম বিতর্কে জড়িয়েই পূর্বের জাতিগোষ্ঠী ধ্বংস হয়ে গেছে। [৩৬৩]
এমনিভাবে সাহাবিগণ রাসূলের নির্দেশ এড়িয়ে ধর্মীয় বিষয়ে অতিরঞ্জন ও অতিকৃচ্ছতা চর্চা করলে তিনি খুব রাগ করতেন। 'আয়িশা থেকে একটি বর্ণনা আছে। সাহাবিদের তিনি তাদের সামর্থ্যমতো কাজ করার নির্দেশ করতেন। একবার এক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কেউ একজন বলেন, হে রাসূল, আমাদের ও আপনার অবস্থা এক নয়। আল্লাহ তা'আলা তো আপনার পূর্বাপর সকল পাপ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তাদের কথায় রাসূল রাগ করেন। মাঝে মাঝে রাগে মুখ লাল করে তিনি বলতেন, তোমাদের মাঝে আল্লাহকে আমিই সবচেয়ে বেশি ভয় করি এবং জানি। [৩৬৪] এই জাতীয় পরিস্থিতিতে রাসূল অনর্থক রাগ করতেন না; বরং তিনি রাগ করতেন, যেন সাহাবিগণ সচেতন ও শিক্ষানুরাগী হন। আর সতর্ককারী রাগমাখা চেহারার হওয়াই স্বাভাবিক। অনুরূপভাবে একজনকে কখনো কোমল, কখনো কঠোর হতে হয়। সুতরাং শিক্ষক কিংবা সতর্ককারীভেদে স্থান-কাল ও পাত্র বিচারে আচরণ ও অবস্থার তারতম্য হতে পারে। [৩৬৫]
কোনো আকস্মিক ঘটনার সাহায্যে গভীর শিক্ষাপ্রদান:
রাসূলের দৈনন্দিন জীবনে অনেক ঘটনাই ঘটত। সেসব ঘটনার মাধ্যমে তিনি উদাহরণ দিয়ে সাহাবিদের শেখাতে চেষ্টা করতেন। এতে উপমা ও উপমেয় উভয়টিই খুব স্পষ্টভাবে শ্রোতা হৃদয়ঙ্গম করতে পারে। এই প্রসঙ্গে একটি ঘটনা উল্লেখ করেন 'উমার ইবনুল খাত্তাব- একবার রাসূলের নিকট একদল যুদ্ধবন্দি আসে। তাদের মধ্যে এক নারী বন্দি অস্থির পায়ে হাঁটছিল আর নিজ স্তন দোহন করছিল। এমন সময় এক শিশুকে পেয়ে সে বুকে জড়িয়ে দুধ পান করাতে থাকে। এই দৃশ্য দেখে রাসূল আমাদের জিজ্ঞেস করেন, তোমাদের কি মনে হয়, এই মা তার সন্তানকে আগুনে ছুড়ে ফেলতে পারে! আমরা বললাম না, সে তার সন্তানকে আগুনে ছুড়ে ফেলতে পারে না। আমাদের কথা শুনে রাসূল বলেন, সন্তানের প্রতি এই মায়ের দয়ার চেয়েও মানুষের প্রতি আল্লাহর দয়ার অনেক অনেক বেশি গভীর। [৩৬৬] এভাবেই রাসূল উপস্থিত সাহাবিদের দুগ্ধপোষ্য শিশুহারা মায়ের ব্যাকুলতা দেখিয়ে শিক্ষা দেন। মায়ের দয়া ও ব্যাকুলতা তুলনা করেন আল্লাহর দয়া ও ব্যাকুলতার সঙ্গে, যেন সাহাবিরা মানুষের প্রতি আল্লাহর গভীর দয়া অনুভব করতে পারেন। [৩৬৭]
টিকাঃ
৩৫৮. মুসলিম, মুসাফিরের সালাত অধ্যায়, হাদীস নং ২৩৬
৩৫৯. মুসলিম, মাসাজিদ অধ্যায়, হাদীস নং ৫৩৭
৩৬০. বুখারি, হাদীস নং ৬৯৭৯
৩৬১. মাজমাউয যাওয়াইদ, ১/১৭৩, ১৭৪
৩৬২. বুখারি, ইলম অধ্যায়, হাদীস নং ৯০
৩৬৩. ইবনু মাজাহ, হাদীস নং ৮৫
৩৬৪. বুখারি, ঈমান অধ্যায়, হাদীস নং ২০
৩৬৫. ফাতহুল বারি, ১/১৮৭
৩৬৬. বুখারি, আদব অধ্যায়, হাদীস নং ৫৯৯৯
৩৬৭. আর-রাসূলুল মুআল্লিম, আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ, পৃ. ১৬০
📄 রাসূলের সময়-সুযোগ বুঝে শালীনভাবে প্রশ্ন করা
রাসূলকে প্রশ্ন করার জন্য সাহাবিগণ সুযোগের অপেক্ষায় থাকতেন। তাঁকে নির্জন অবস্থায় পেলেই তারা শালীনভাবে প্রশ্ন করার চেষ্টা করতেন—পাছে তিনি যেন বিব্রত কিংবা বিরক্ত না হন, সেদিকেও লক্ষ রাখতেন। আবু মূসা আল-আশ'আরি বলেন, সাধারণত ফজরের সালাতের পর আমরা রাসূলের দিকে মুখ করে বসতাম। তখন কেউ কুরআন, কেউ আবশ্যক বিষয়াদি আবার কেউ স্বপ্ন সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করত। [৩৮০]
রাসূলের অবস্থার প্রতি খেয়াল রাখা এবং প্রশ্ন করে বিব্রত না করা:
রাসূলকে অতিরিক্ত প্রশ্ন করার ব্যাপারে আল্লাহর পক্ষ থেকে বারণ-বাণী আসার পর থেকে সাহাবিগণ সতর্ক হয়ে যান। এরপর থেকে কোনো বেদুইন কিংবা জ্ঞানীকে প্রশ্নের জন্য এগিয়ে দিয়ে তারা পেছন থেকে নীরবে আলোচনা শুনতেন। সাহাবিগণের এই শালীন সংস্কৃতি সম্পর্কে আনাস ইবনু মালিক বলেন, একবার রাসূলকে কোনো কিছু জিজ্ঞেস করার ব্যাপারে আমাদের বারণ করা হয়। তারপর থেকে আমরা কোনো বেদুইন কিংবা জ্ঞানী লোকের অপেক্ষায় থাকতাম। পেছনে থেকে রাসূলের সঙ্গে তাদের আলাপচারিতা শুনি। একবার পল্লি এলাকার এক লোক এসে রাসূলকে বলে, মুহাম্মাদ, তোমার প্রতিনিধি আমাদের নিকট এসে বলে, তোমাকে নাকি আল্লাহ রাসূল করে পাঠিয়েছেন? রাসূল বলেন, সে সত্য বলেছে। [৩৮১]
টিকাঃ
৩৮০. মাজমাউয যাওয়াইদ, ১/১৫৯
৩৮১. মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, ইসলামের আরকান সম্বন্ধে প্রশ্ন পরিচ্ছেদ, হাদীস নং ১০