📘 রউফুর রহীম 📄 সারকথা ও শিক্ষা

📄 সারকথা ও শিক্ষা


ইসলামি সমাজ বিনির্মমাণে মাসজিদের ভূমিকা

ইসলামি সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মাসজিদ নির্মাণ এক অপরিহার্য বিষয়; কারণ, মাসজিদই হলো এই সমাজের প্রাণকেন্দ্র। মুসলিম সমাজ এখান থেকেই দীনের নীতি জেনে আদর্শ গ্রহণ করে, শিষ্টাচার শিখে দৃঢ় ও ঐক্যবদ্ধ হয়। মাসজিদ থেকেই আসে প্রেরণার জীবনীশক্তি।[১৮৫] আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন—
...যে মাসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাকওয়ার ওপর, প্রথম দিন থেকে তা বেশি হকদার যে, তুমি সেখানে সালাত কায়েম করতে দাঁড়াবে। সেখানে এমন লোক আছে, যারা উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসে। আর আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন। [সূরা তাওবা, ৯: ১০৮]
তিনি আরও বলেন, সেসব ঘরে, যাকে সমুন্নত করতে এবং সেখানে আল্লাহর নাম যিকির করতে আল্লাহই অনুমতি দিয়েছেন, সেখানে সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর তাসবীহ পাঠ করে। [সূরা নূর, ২৪: ৩৬]
আরও বলেছেন, সেসব লোক, যাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়বিক্রয়, আল্লাহর যিকির আদায়, সালাত কায়েম করা ও যাকাত প্রদান করা থেকে বিরত রাখে না, তারা সেদিনকে ভয় করে, যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ উলটে যাবে, যাতে আল্লাহ তাদের কৃত উত্তম আমালের জন্য তাদের প্রতিদান দেন এবং তিনি স্বীয় অনুগ্রহে তাদের আরও বাড়িয়ে দেন। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত রিযিক দান করেন। [সূরা নূর, ২৪: ৩৮]

মাসজিদ ও মাসজিদে নববি
মাসজিদ মু'মিনদের ইবাদাতগাহ। এখানে তারা সালাত কায়েম করে, আল্লাহর যিকির ও তাসবীহ পাঠ করে এবং হামদ ও প্রশংসা জ্ঞাপন করে। তাই সকল মুসলিম মাসজিদের সম্মান ও পবিত্রতা রক্ষা করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে থাকেন।
মাসজিদে নববিতে রাসূল সাহাবা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। যারা দাওয়াত ও রিসালাতকে বিশ্বাস করে হিদায়াতের উদ্দেশ্যে সেখানে আসতেন।
মাসজিদে নববি ইল্ম, জাগতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও ওয়াহি বিষয়ক জ্ঞানের মহাবিদ্যাপিঠ, যা জ্ঞান লাভের জন্য মানুষকে উৎসাহ দেয়। মাসজিদে নববি এমন বিদ্যালয়, যেখানে মু'মিনরা তাদের চিন্তা ও জ্ঞানের আদানপ্রদান করে। এটা এমন প্রতিষ্ঠান, যার সার্বিক নেতৃত্বে থাকে জ্ঞানপিপাসুরা—যারা দীনের গভীর জ্ঞান লাভ করে সুসংবাদ ও সতর্কবার্তা নিয়ে ফিরে যায় স্বজাতির কাছে—যারা আহ্বান করে, দিশা দেয় আল্লাহর পথের এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ধারণ করে এই মহান দায়িত্ব।[১৮৬]
মাসজিদে নববি নির্মিত হয়েছে এতটাই উদার মানসিকতায়, যেন ভিনদেশি মুসাফির আশ্রয় নিতে পারে, পথিক বিশ্রাম নিতে পারে—পাছে কোনো দাতার দান যেন তাকে সংকোচে না ফেলে। এটি যেন সুপেয় পানির উন্মুক্ত ফোয়ারা, যেখানে যেকেউ তৃষ্ণা মিটাতে পারে, গ্রহণ করতে পারে মন ও বিবেকের সঠিক দিশা। কেউ তাকে জ্ঞানের আহরণে কিংবা বিচিত্র দিশার সন্ধানে বাধা দেবে না। কত সেনাপতি এই প্রাঙ্গণে স্নাতক হয়েছেন! তাদের বীরত্বের উন্মেষ ঘটেছে এই চার দেওয়ালের মধ্য থেকে! কত আলিম এই অঙ্গন থেকে গভীর জ্ঞানার্জন করে মানুষের জ্ঞান-তৃষ্ণা মিটিয়েছেন! আল্লাহমুখী কত দা'ঈ এই অঙ্গন থেকে দাওয়াহর দীক্ষা নিয়ে হাদি ও দা'ঈগণের আদর্শ হয়েছেন! হয়েছেন রাইহানা পুষ্প, যার সুবাসে হৃদয়সমূহ বিমোহিত হয়ে দিশার তরে জ্যোতির্ময় হতে ছুটেছে।[১৮৭]
রূঢ়, জ্ঞানহীন কত বেদুইন রাসূলের কাছে এসে তাঁর সাহাবিদের মাঝে বসে পড়ে। মূর্খতার চাদরে ঢাকা পড়ে গেলেও আল্লাহর দেওয়া বিবেক তো তার ভেতর সুপ্ত ছিল! একসময় বিবেকের ওপর থেকে আবরণ সরে যায়। সে বুঝতে ও অনুধাবন করতে শুরু করে। তারপর হিদায়াত ও নূর নিয়ে আল্লাহমুখী দা'ঈ হয়ে ইমামরূপে স্বজাতির কাছে ফিরে যায়। তাঁর শিক্ষাদীক্ষার আলোকে তাদের গড়ে তোলে। তারাও তাঁর দাওয়াতে ঈমান গ্রহণ করে হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়। ইসলামের ইতিহাসে এরা ছিলেন এক জ্যোতির্ময় দল। [১৮৮]
মাসজিদে নববি একটি দুর্গ। জিহাদের ডাক এলে মুজাহিদরা এখানেই সমবেত হন। এখানেই জিহাদ ও দাওয়াতের পতাকা ওড়ানো হয়। সেনাপতিদের সামনে ওড়ে রণাঙ্গনে ছুটে যাওয়ার পতাকা। যার ছায়ায় দাঁড়ায় আল্লাহর সৈনিকেরা, বিজয় কিংবা শাহাদাতের অমিয় সুধা পানের তীব্র আশায়।
মাদীনার এ মাসজিদ ছিল নতুন মুসলিম সমাজের একটি আস্থার খুঁটি। রণাঙ্গনে যুদ্ধাহত সৈনিকদের চিকিৎসাকেন্দ্র। রাসূল ﷺ আহতদের খোঁজখবর নিতেন ও শুশ্রূষা করতেন। তাদের জন্য ওষুধপত্র ও চিকিৎসা-সেবা প্রদান করতেও বিশেষ সুবিধা হতো। এককথায় এ আঙিনা হয়ে উঠত অস্থায়ী ও ইমার্জেন্সি হাসপাতাল রূপে। ময়দানে ফার্স্ট এইডের পর এখানে নিয়ে এসে শুরু হতো চূড়ান্ত চিকিৎসা।
এটি একটি ইসলামি বার্তা-প্রতিষ্ঠান। এখান থেকেই বিভিন্ন খবর প্রচার করা হয়, সংবাদ প্রকাশ করা হয়। শান্তি কিংবা যুদ্ধের রাজনৈতিক খবরাখবর আদানপ্রদান হয়। এখানেই গ্রহণ ও পাঠ করা হয় সুখবর, বিজয় কিংবা রসদের আবেদনপত্র। ঘোষণা করা হয় রণাঙ্গনের শহিদদের মৃত্যু-সংবাদ, যেন হারানোর বেদনায় মুষড়ে পড়ারা শোক প্রকাশ করে আর শাহাদাতপিপাসুরা নেমে পড়ে প্রতিযোগিতায়।
এই মাসজিদ মুসলিম সমাজের একটি পর্যবেক্ষণ-চৌকি। এখান থেকেই সন্দেহভাজন শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়। বিশেষত মুসলিম সমাজে সহাবস্থানকারী সংখ্যালঘু ইয়াহুদি, মুনাফেক ও চরমপন্থি মুশরিক শত্রুদের গতিবিধির প্রতি কঠোর নজরদারি করা হয়, যেন মুসলিম সমাজ তাদের বিশ্বাসঘাতকতা ও অপকৌশল থেকে নিরাপদ থাকতে পারে।
রাসূল ﷺ তাঁর হিজরাতের এলাকা মাদীনায় এসে প্রথমে মাসজিদে নববি নির্মাণ করেন-এটি ইসলামি ইতিহাস-ঐতিহ্যের একটি অনুকরণীয় আদর্শ। এই মাসজিদ ইসলামের মহান লক্ষ্য বাস্তবায়নের কেন্দ্রস্থল। তিনি এই মাসজিদ নির্মাণ করেন স্বল্প খরচ ও সহজ পরিশ্রমে। [১৮৯]

টিকাঃ
১৮৫. ফিকহুস সীরাহ, আল-বৃতি, পৃ. ২০৩
১৮৬. মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ, মুহাম্মাদ উরজুন, ৩/৩৩
১৮৭. প্রাগুক্ত, ৩/৩৪
১৮৮. প্রাগুক্ত, ৩/৩৪, ৩৫
১৮৯. প্রাগুক্ত, ৩/৩৩, ৩৫, ৩৬

📘 রউফুর রহীম 📄 আরও কয়েকটি উপকারিতা ও শিক্ষা

📄 আরও কয়েকটি উপকারিতা ও শিক্ষা


কর্মের আদর্শের মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান: মাসজিদ নির্মাণে রাসূল ﷺ সাহাবিদের সঙ্গে নিজেও কাজে নেমে পড়েন। বুকে- কাঁধে করে ইট-পাথর বহন করেন। নিজ হাতেই মাটি খনন করেন।
এককথায় তিনি ছিলেন একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক, যাঁর কাছে শাসক-শাসিত কিংবা ধনী-গরিব সবাই সমান-যেমন আল্লাহর কাছে সবাই সমান। ইসলাম আরব কিংবা অনারবকে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করে না-তবে তাকওয়া ও আল্লাহভীতির ব্যাপারটা ভিন্ন। তাই সবকিছুতে ন্যায়পরায়ণতা ও সমতা বিরাজমান থাকে। দুনিয়াবি জনকল্যাণমূলক সামাজিক কাজে দাতা কৃতিত্বের ভাগ পায়। আর এখানে কৃতিত্ব হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে সাওয়াব ও প্রতিদান। রাসূলও সাধারণ মুসলিমদের মতো আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সাওয়াবের আশা করতেন।[১৯০] তাই মাসজিদ নির্মাণের কাজে রাসূলের অংশগ্রহণ অন্যান্য সাহাবিদের মতো ছিল। ফিতা কাটা কিংবা ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে কোদালের প্রথম কোপ দেওয়ার মতো নিছক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নয়; একজন সাধারণ শ্রমিকের মতোই তিনি নির্মাণ কাজে অংশগ্রহণ করেন। মুসলিমরা রাসূলের ধুলোমাখা অবস্থা দেখে অস্থির হয়ে পড়েন। 'উসাইদ ইবনু হুদাইর রাসূলের বোঝাটা তুলে নেওয়ার জন্য তাঁর দিকে ছুটে আসেন—হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে দিন। রাসূল বলেন, যাও, অন্য একটা নিয়ে এসো। তুমি আল্লাহর প্রতি আমার চেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী নও। [১৯১] রাসূলের কথা শুনে মুসলিমদের কাজের উদ্দীপনা অনেক গুণে বেড়ে গেল। [১৯২]
সাহাবাগণ ব্যাপকভাবে নির্মাণ কাজে লেগে পড়েন। এই কর্মময় শিক্ষা-প্রদান শুধু উপদেশ অথবা ভরাট গলার বক্তৃতার মাধ্যমে সম্ভব নয়; বরং এর জন্য দরকার নিরলস শ্রম ও আল্লাহর মনোনীত মহান আদর্শবান ব্যক্তিত্ব। তা ছাড়া যা কিছু মাক্কার কঠোর নির্যাতন-নিপীড়ন ও বিতাড়নের পরিবেশে করা সম্ভব হয়েছিল, তা এই নতুন সমাজে ও ভবিষ্যৎ-রাষ্ট্রেও করা সম্ভব।
ইয়াসরিবীয় সমাজে খাইবার থেকে মাদীনা অভিমুখী খেজুর, কিশমিশ ইত্যাদি শস্যের প্রতি মানুষের বিশেষ আগ্রহ ছিল; কিন্তু পবিত্র মাসজিদে নববির ইটের বোঝার সামনে এগুলো খুবই তুচ্ছ মনে হলো। কারণ, তারা আখিরাতের সামনে দুনিয়াকে খুবই নগণ্য মনে করতেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন— তোমাদের নিকট যা আছে, তা ফুরিয়ে যায়। আর আল্লাহর নিকট যা আছে, তা স্থায়ী। [সূরা নাহল, ১৬: ৯৬]

টিকাঃ
১৯০. আত-তারীখুস সিয়াসি ওয়াল-আসকারি, ড. আলি মু'তি, পৃ. ১৫৮
১৯১. সুয়ারু মিন হায়াতির রাসূল, আমীন দাউইদার, পৃ. ২৬১
১৯২. আত-তারীখুস সিয়াসি ওয়াল-আসকারি, ড. আলি মু'তি, পৃ. ১৫৮

📘 রউফুর রহীম 📄 কিছু উপকারী কথা ও শিক্ষা

📄 কিছু উপকারী কথা ও শিক্ষা


দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন
কোনো কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায়, সাহাবি তলক বিন 'আলি আল-ইয়ামামি আল-হানাফি মাসজিদে নববির নির্মাণকালে খুব দক্ষতার সাথে মাটির সংমিশ্রণ করতেন। ইবনুল আসীর রচিত জামিউল 'উসূল গ্রন্থে এই ধরনের আরও কয়েকটি বর্ণনা পাওয়া যায়। তিনি বুখারির সালাতের অধ্যায়ে মাসজিদ নির্মাণে সামাজিক সহযোগিতা পরিচ্ছেদে হাদীসটি সংকলন করেন। বুখারিতে হাদীসটির ক্রমধারা ৪৪৭ এবং বুখারির জিহাদ অধ্যায়ে মাথার ধূলি মোছার পরিচ্ছেদে ২৮১২ ক্রমে আরেকটি হাদীস বর্ণিত আছে।
ইবনুল আসীর রাযীনের সূত্রে বলেন, হাদরামাউত এলাকা মাটির খামির তৈরি করতে একজন দক্ষ রাজমিস্ত্রী আসেন। রাসূল ﷺ তাঁর জন্য আল্লাহর দয়া ও রাহমাতের দু'আ করেন। এ কাজে তার ঝোঁক দেখে এই পেশায় মনোনিবেশ করার পরামর্শ দেন।
মাদীনায় এই নতুন আগন্তুককে নবি গুরুত্বসহকারে নেন। কারণ, প্রাথমিক যুগে মুসলিমদের সচরাচর এই দক্ষতা ছিল না। ভালোভাবে মাটির খামির তৈরি করতে রাসূল ﷺ তাঁকে কাজে লাগান। এতে মুসলিমদের জন্য অমূল্য শিক্ষা আছে যে, কীভাবে যোগ্যতার মূল্যায়ন করতে হয় এবং তা থেকে উপকৃত হতে হয়। নববি দিক-নির্দেশন মানুষকে ক্রমেই শিক্ষা-সমৃদ্ধ করে। [১৯৩]

টিকাঃ
১৯৩. আত-তারবিয়াতুল কিয়াদিয়্যাহ, মুনীর আল-গাযবান, ২/২৫২

📘 রউফুর রহীম 📄 মুসলিম রাষ্ট্রের প্রতীক

📄 মুসলিম রাষ্ট্রের প্রতীক


আন্তর্জাতিকভাবে একটি মুসলিম রাষ্ট্রের মহান প্রতীক সালাতের আযান- 'আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার'- অর্থাৎ আল্লাহ সবচেয়ে মহান। তিনি অপ্রতিরোধ্য ক্ষমতার অধিকারী।
'আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-শাসকত্ব, নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব জগতের একমাত্র রব মহান আল্লাহর। বিধান একমাত্র তাঁরই। তাহলে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু'র অর্থ হলো-একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সার্বভৌম শাসক, কোনো আদেশদাতা কিংবা কোনো বিধানদাতা নেই।
'আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ'-আল্লাহ মুহাম্মাদ ﷺ-কে নেতৃত্ব দান করেছেন। কারও সাধ্য নেই তাঁর ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার। তাঁর নেতৃত্ব সরাসরি চলবে কুরআন ও সুন্নাহর ওয়াহির দ্বারা পূর্ণ দীন কায়েম হওয়া পর্যন্ত। [১৯৪] মানে, নবিজির রিসালাত, দীন-দুনিয়ায় তাঁর নেতৃত্ব, শ্রবণ ও তাঁর প্রতি আনুগত্য মেনে নিতে হবে। তাঁর ওয়াফাতের পরেও তাঁকে অনুরূপ বিশ্বাস করে যেতে হবে। সব সময়ে তিনি সমান প্রাসঙ্গিক। [১৯৫]
'হাইয়া আলাস সালাহ, হাইয়া আলাল ফালাহ'-হে মানুষ, আল্লাহর দাসত্বে গড়া রাষ্ট্রের পতাকাতলে আলোকিত হতে এসো। যে রাষ্ট্রের লক্ষ্য-স্রষ্টা ও মুসলিমদের মাঝে অটুট সম্পর্ক স্থাপন করা।
'কাদ কামাতিস সালাহ'-সকল ইবাদাতের মাঝে নির্বাচিত ইবাদাত সালাত; কারণ, সালাত গোটা দীনের খুঁটি। সালাতের রুকু, সিজদা, কিয়াম ইত্যাদি আল্লাহর সম্মুখে বান্দার বিনয়, আনুগত্য, দাসত্ব ও দীনতা প্রকাশ করে। সালাতের মধ্য দিয়ে দাস আনুগত্য ও দীনতাভরে মনিবের সামনে সমর্পিত বদনে দাঁড়ায়। কুরআনে আল্লাহ তা'আলা আনুগত্যের স্বরূপ তুলে ধরে বলেন,
বলো, যেহেতু আমার রবের পক্ষ থেকে আমার কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি এসেছে, তাই তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের আহ্বান করো, নিশ্চয় তাদের ইবাদাত করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে। আর জগৎসমূহের পালনকর্তার নিকট আত্মসমর্পণ করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি। (সূরা গাফির, ৪০: ৬৬)
'হাইয়া আলাস সালাহ' ও 'কদ কামাতিস সালাহ'- এই মহান দুই বাক্যের সঙ্গে রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রতীক, আল্লাহর বিধায়কত্ব, শারী'আতের কর্তৃত্ব, তাগুতি আইনকানুন ও শাসনব্যবস্থা পতনের সম্পর্ক এই ইঙ্গিত করে যে, যথাযথ সালাত সম্পাদন কেবল এমন রাষ্ট্রের ছায়াতেই সম্ভব, যে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয় সালাতের মাধ্যমে ও সালাতের জন্য।
'আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার'-তারপর পূর্বের কথার তাগিদ দেওয়ার জন্য আবার বলা হয়। [১৯৬]
রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পূর্বে মুসলিমরা মাক্কার গিরিপথে লুকিয়ে সালাত সম্পাদন করত। পরে আনসারদের তলোয়ারের ছায়ায় মাদীনাতে সালাত প্রতিষ্ঠিত হলে সাহাবিগণ প্রকাশ্যে আযান-ইকামাত দিয়ে মহান রাব্বুল আলামীনের উদ্দেশে রুকু-সিজদা করেন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, দীনের শত্রুদের থেকে প্রজাদের সুরক্ষা দিতে পারে, এমন শক্তিধর রাষ্ট্রেই আল্লাহর যথাযথ ইবাদাত সম্ভব। কুফরের পতাকা ভূপাতিত করতে, ঈমানের পতাকা তুলে ধরতে এবং শারী'আহ-পরিচালিত তাওহীদি রাষ্ট্র কায়েম করতে আমাদের অন্তর থেকে আযানের মর্মকথা অনুধাবন করতে হবে।

মাসজিদে নববির মর্যাদা
রাসূল ﷺ মাসজিদে নববির মর্যাদা সম্পর্কে সাহাবিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সাহাবিরা তাদের ভালোবাসায় এই মাসজিদকে এমনভাবে গ্রহণ করেছেন যে মাসজিদে নববি জুড়ে আছে তাদের জীবনের অঙ্গ হয়ে। এই প্রসঙ্গে বিখ্যাত হাদীসগ্রন্থ বুখারি ও মুসলিমে অনেক হাদীস বর্ণিত আছে। আমরা মাসজিদে নববির ফাযীলাহ সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হাদীস উল্লেখ করছি—
আবু হুরায়রা রাসূল ﷺ থেকে শুনে বর্ণনা করেন, যে আমাদের এই মাসজিদে কল্যাণকর কোনো বিষয় শিখতে অথবা শেখাতে আসে, সে আল্লাহর পথের মুজাহিদের মর্যাদা লাভ করবে। আর যে ভিন্ন উদ্দেশ্যে আসে, সে যেন অন্যের সম্পদে দৃষ্টি দিল।[১৯৭]

মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে অনুপম ভ্রাতৃত্ব
রাষ্ট্র, জাতি ও প্রশাসনের সংস্কারপ্রকল্পে রাসূলের সর্বপ্রথম কাজ ছিল মানুষকে তাওহীদ ও কুরআনের দাওয়াত দেওয়া, মাসজিদ নির্মাণ করা ও মুহাজির-আনসার ভ্রাতৃত্ব তৈরি করা। সবগুলোই সমান গুরুত্ববহ। ভ্রাতৃত্ব তৈরি মাসজিদ নির্মাণের চেয়ে কোনো ভাবেই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ, এর মাধ্যমে নতুন জাতিসত্তার অবকাঠামো নির্মাণ ও লক্ষ্য নির্ধারিত হয়। [১৯৮]
দাওয়াতের সূচনাকাল থেকেই মুসলিমদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব গড়ার কাজ শুরু হয়। হাদীসে আছে—তোমরা পরস্পরে হিংসা-বিদ্বেষ ও ছিদ্রান্বেষণ করো না; বরং ভাই ভাই হয়ে যাও। কোনো মুসলিম যেন তার ভাইয়ের সঙ্গে তিন দিনের অধিক সম্পর্কচ্ছেদ করে না থাকে। [১৯৯]
রাসূল ﷺ বলেন, মুসলিম মুসলিমের ভাই। এক মুসলিম অপর মুসলিমকে জুলুম করবে না এবং একে অপরকে জুলুম থেকে বাঁচাবে। যে মু'মিন ভাইয়ের প্রয়োজনে এগিয়ে আসে, আল্লাহও তার প্রয়োজনে এগিয়ে আসেন। যে ব্যক্তি কোনো মু'মিন ভাইয়ের দুঃখ মুছে দেবে, আল্লাহও কিয়ামাতের দিন তার দুঃখ মুছে দেবেন এবং যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ গোপন করবে, আল্লাহও কিয়ামাতের দিন তার দোষ গোপন করবেন। [২০০]
কুরআনুল কারীমে মুসলিম উম্মাহর ভ্রাতৃত্বের প্রতি গুরুত্বারোপ করে আল্লাহ তা'আলা বলেন—
আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আকড়ে ধরো এবং বিভক্ত হয়ো না। আর তোমরা তোমাদের ওপর আল্লাহর নিয়ামাতকে স্মরণ করো- যখন তোমরা পরস্পরে শত্রু ছিলে; তারপর আল্লাহ তোমাদের অন্তরে ভালোবাসার সঞ্চার করেছেন, অনন্তর তাঁর অনুগ্রহে তোমরা ভাই ভাই হয়ে গেলে। আর তোমরা ছিলে আগুনের গর্তের কিনারায়, অতঃপর তিনি তোমাদের তা থেকে রক্ষা করেছেন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করেন, যেন তোমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত হও। (সূরা আলে- ইমরান, ৩: ১০৩)
তিনি অন্য আয়াতে বলেন—আর তিনি তাদের অন্তরসমূহে প্রীতি স্থাপন করেছেন। যদি তুমি যমিনে যা আছে, তার সম কিছু ব্যয় করতে-তবুও তাদের অন্তরসমূহে প্রীতি স্থাপন করতে পারতে না; কিন্তু আল্লাহ তাদের মধ্যে প্রীতি স্থাপন করেছেন। নিশ্চয় তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান। (সূরা আনফাল, ৮:৬৩)
আমাদের এই আলোচনা বিশেষ ভ্রাতৃত্ব সম্পর্কে। যে ভ্রাতৃত্বে কিছু বিশেষ অধিকার ও কর্তব্য আছে, যা মু'মিনদের সাধারণ মেলবন্ধনে আবশ্যক নয়। [২০১] তবে কোনো কোনো আলিম হিজরাতের আগে মাক্কিজীবনে মুহাজিরদের মাঝে আরেক ভ্রাতৃত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। এই প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক বালাযুরি মাক্কায় মুসলিমদের মাঝে সত্য ও সহমর্মিতার ওপর রাসূলের ভ্রাতৃত্ব স্থাপনের ইঙ্গিত দেন। রাসূল ﷺ ভাই ভাই বানিয়ে দেন হামযাহ ও যাইদ বিন হারিসাকে, আবু বাক্র ও 'উমারকে, 'উসমান ইবনু 'আফফান ও 'আবদুর রাহমান ইবনু 'আউফকে, যুবাইর ইবনুল আওয়াম ও 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদকে, উবাইদা ইবনুল জাররাহ ও বিলাল হাবশিকে, মুসআব ইবনু উমাইর ও সা'দ ইবনু আবি ওয়াক্কাসকে, আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ ও হুযাইফার মুক্ত দাস সালিমকে, সায়ীদ বিন যাইদ বিন আমর বিন নুফাইল ও তালহা ইবনু উবায়দুল্লাহকে এবং রাসূল নিজে ভাইয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন 'আলি বিন আবু তালিবের সঙ্গে। [২০২]
ঐতিহাসিক বালাযুরি (২৭৬ হিজরি) একজন প্রবীণ সারির ইতিহাসবিদ। তিনি ও আরও কয়েকজন ঐতিহাসিক মাক্কিজীবনের ভ্রাতৃত্বের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই ব্যাপারে ইবনু 'আবদিল বার (৪৬৩ হিজরি) ও ইবনু সাইয়িদিন নাস তার সঙ্গে একমত। [২০৩]
ইবনু 'উমার থেকে জামি ইবনু উমাইরের সূত্রে হাকিম তার মুসতাদরাকে উল্লেখ করেন, রাসূল ভাইভাই বানিয়ে দেন আবু বাক্র ও 'উমারকে, তালহা ও যুবাইরকে এবং 'আবদুর রহমান ইবনু 'আউফ ও 'উসমানকে। [২০৪] 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন, রাসূল যুবাইর ও ইবনু মাসঊদকে ভাই ভাই বানিয়ে দেন।[২০৫]
ইবনুল কাইয়িম, ইবনু কাসীর প্রমুখ ইতিহাসবিদের মতে মাক্কায় কোনো ভ্রাতৃত্ব স্থাপন হয়নি। তবে ইবনুল কাইয়িম বলেন, জানা যায়, রাসূল দ্বিতীয়বার মুহাজিরদের মধ্যে পরস্পর ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করেছিলেন। সেবার তিনি 'আলিকে নিজের ভাই বানান; তবে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন মাদীনাতেই হয়েছিল। [২০৬] ইবনু কাসীর বলেন, কতিপয় আলিম মাক্কার এই ভ্রাতৃত্বসংক্রান্ত বক্তব্যটি নাকচ করে দিয়েছেন-কারণ, ইবনুল কাইয়িম নাকচ করেছেন। [২০৭]
সীরাতের প্রাচীন গ্রন্থগুলোতে মাক্কায় ভ্রাতৃত্ব স্থাপনের ব্যাপারে কোনো ইঙ্গিত মেলে না। সে মতে বালাযুরির বর্ণনার সনদ না থাকায় তা গ্রহণযোগ্য নয়; এমনকি বালাযুরি নিজেও হাদীস পর্যালোচকদের নিকট দুর্বল বর্ণনাকারী হিসেবে বিবেচিত। তবে মাক্কায় এই ভ্রাতৃত্বের কথা মেনে নিলেও তা ছিল শুধু পারস্পরিক সহযোগিতা ও সদুপদেশের জন্য, উত্তরাধিকারের হক সাব্যস্ত হওয়ার জন্য নয়।[২০৮]
মাদীনায় ভ্রাতৃত্বের বন্ধন রাসূল মুসলিম উম্মাহর প্রত্যেক সদস্যকে এক সুতোয় বাঁধার লক্ষ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরি করেন। এক অন্যরকম পূর্ণাঙ্গ ও সর্বাঙ্গীণ ভ্রাতৃত্ব, যার সামনে জাহিলি স্বজনপ্রীতি একেবারে বিলীন; বংশ, বর্ণ ও রাষ্ট্রের শ্রেণিভেদ হয়ে যায় অস্তিত্বহীন; ফলে কেউ অগ্রসর কিংবা পশ্চাৎপদ নয়। একমাত্র ইসলামের জন্যই তারা নিজেদের জানমাল সর্বস্ব উৎসর্গ করে। তাদের কাছে সম্মানের মাপকাঠি তাকওয়া ও মানবতা। রাসূলের গড়া এ ভ্রাতৃত্ব শুধু মৌখিক স্বীকারোক্তির কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছিল না; বরং তা ছিল আত্মার অটুট বন্ধনের উপমাবাহী বিস্ময়কর ঘটনা-যা ত্যাগ, সহমর্মিতা ও ভালোবাসায় পরিপূর্ণ। নতুন সমাজ বিনির্মাণে এই অনন্য ভ্রাতৃত্বের প্রভাব ছিল অপরিসীম।[২০৯] আল্লাহর ভালোবাসার ভিত্তিতে গড়া এই সমাজের প্রত্যেক সদস্য একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আল্লাহর দীন তাদের শেখায় ঈমান, আমাল, কথা, কাজ ইত্যাদি। ফলে তারা হয়েছেন অনন্য মানুষ। কুরআনের ভাষায় তারা ছিলেন এমন—
মু'মিনদের যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে এই মর্মে আহ্বান করা হয় যে, তিনি তাদের মধ্যে বিচার-মীমাংসা করবেন, তাদের কথা তো এই হয় যে, তখন তারা বলে, 'আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম।' আর তারাই সফলকাম। [সূরা নূর, ২৪: ৫১]
এই অনন্য ভ্রাতৃত্বের কল্যাণেই আজও মুসলিম উম্মাহর সমৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এরই মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর দীন ও রাসূলকে সুদৃঢ় করেছিলেন। রাসূল আজীবন তাঁর দাওয়াতি কাজে এর সুফল পেয়েছেন; এমনকি আবু বাক্র সিদ্দীকের বাই'আতকালেও মুসলিম উম্মাহ এই ভ্রাতৃত্বের সুফল পায়। আনসার সাহাবিগণ ক্ষমতার নেশায় মত্ত হয়ে উম্মাহর ঐক্যে চিড় ধরাননি। মোটকথা, রাজনৈতিক অঙ্গনে ভ্রাতৃত্বের অভূতপূর্ব এই শিক্ষার মাধ্যমে রাসূল আনসার ও মুহাজিরদের মাঝে সুদৃঢ় সম্পর্ক তৈরি করেন এবং তাদের মনে ভ্রাতৃত্বের শিকড় গেঁথে দেন। ফলে আন্তরিকভাবে তারা এর যত্ন নেন; এমনকি এই ভ্রাতৃত্বের ধারা বাস্তবায়নে রীতিমতো তারা প্রতিযোগিতা করতেন। [২১০] বিশেষত, আনসার সাহাবিদের বদান্যতা ও উদারতার যথাযথ বিবরণ দেওয়া কোনো লেখক-গবেষকের পক্ষে সম্ভব নয়। একমাত্র আল্লাহ তা'আলাই পারেন এর যথার্থ বিবরণ দিতে। [২১১] তিনি বলেন— আর মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে যারা মাদীনাকে নিবাস হিসেবে গ্রহণ করেছিল এবং ঈমান এনেছিল (তাদের জন্যও এই সম্পদে অংশ রয়েছে); আর যারা তাদের কাছে হিজরাত করে এসেছে, তাদের ভালোবাসে। আর মুহাজিরদের যা প্রদান করা হয়েছে, তার জন্য তাদের অন্তরে কোনো ঈর্ষা অনুভব করে না এবং নিজেদের অভাব থাকা সত্ত্বেও তাদের অগ্রাধিকার দেয়। মনের কার্পণ্য থেকে যাদের রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফলকাম। (সূরা হাশর, ৫৯: ৯)

আল্লাহর জন্য ভ্রাতৃত্ব-বন্ধনে আবদ্ধ কতিপয় আনসার-মুহাজির
আবু বাক্র সিদ্দীক ও খারিজা ইবনু যুহাইর, 'উমার ইবনুল খাত্তাব ও ইতবান ইবনু মালিক, আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ ও সা'দ ইবনু মু'আয, 'আবদুর রহমান ইবনু 'আউফ ও সা'দ ইবনুর রাবি, যুবাইর ইবনুল আওয়াম ও সালামাতু ইবনু সালামাতু ইবনু ওয়াকশ, তালহা ইবনু উবায়দুল্লাহ ও কা'ব বিন মালিক, সায়ীদ ইবনু যাইদ ও উবাই ইবনু কা'ব, মুসআব ইবনু উমাইর ও আবু আইয়ূব খালিদ বিন যাইদ, আবু হুযাইফা ইবনু উতবা ইবনু রাবী'আ ও আববাদ ইবনু বিশর ইবনু ওয়াকশ, আম্মার ইবনু ইয়াসীর ও হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান, আবু যার গিফারি ও মুনযির ইবনু আমর, হাতিব ইবনু আবু বালতা ও উয়াইম ইবনু সাইয়িদা, সালমান আল ফারসি ও আবু দারদা, রাসূলের মুয়াজ্জিন বিলাল ও আবু রুওয়াইহা 'আবদুল্লাহ ইবনু 'আবদুর রাহমান আল খাস'আমি পরস্পর আনসার-মুহাজির কেবল আল্লাহর জন্য ভ্রাতৃত্ববন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। [২১২]

টিকাঃ
১৯৪. কিরাআতু সিয়াসিয়্যাহ, লিস-সীরাতিন নাবাউয়্যাহ, ড. মুহাম্মাদ কিলআজি, পৃ. ১১৪
১৯৫. দাউলাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিনাত-তাকউইনি ইলা-তামকীন, ড. কামিল সামাহ আদ-দাকস, পৃ. ৪৩৮
১৯৬. প্রাগুক্ত, পৃ. ৪৩৯
১৯৭. মুসান্নাফ লি ইবনি আবি শাইবাহ, ২/৩৭১, ১২/২০৯-হাদীস নং ১২৫৬৭;
১৯৮. আল-ইদারাতুল ইসলামিয়্যাতু ফি আসরি উমার বিন আল-খাত্তাব, ড. মুজদালাউই, পৃ. ৫২, ৫৩
১৯৯. বুখারি, হাদীস নং ৬০৬৫; মুসলিম, হাদীস নং ২৫৫৯
২০০. বুখারি, হাদীস নং ২৪৪২; আল-মুসনাদ, ২/৯১ হাদীস নং ৫৬৪৬
২০১. আস-সীরাতুন নাবাউয়্যাতুস সাহীহাহ, উমারি, ১/২৪০
২০২. আনসাবুল আশরাফ, বালাযুরি, ১/২৭০
২০৩. আস-সীরাতুন নাবাউয়্যাতুস সাহীহাহ, ১/২৪০
২০৪. প্রাগুক্ত
২০৫. ফাতহুল বারি, ৭/৩০৪
২০৬. যাদুল মাআদ, ২/৭৯
২০৭. আস-সীরাতুন নাবাউয়্যাহ, ইবনু কাসীর
২০৮. আস-সীরাতুন নাবাউয়্যাতুস সাহীহাহ, ১/২৪১
২০৯. ফিকহুস সীরাহ, আল-গাযালি, পৃ. ১৯৩, ১৯৪
২১০. ফুসুলু ফিস-সীরাতিন নাবাউয়্যাহ, ড. আবদুল মুনঈম সাঈদ, পৃ. ২০০
২১১. হিজরাতুর রাসূল ওয়া সাহাবাতিহি ফিল-কুরআনি ওয়াস সুন্নাহ, জামাল, পৃ. ২৪৫
২১২. আস-সীরাতুন নাবাউয়্যাহ, ইবনু হিশাম, ১/৫০৫, ৫০৬; আস-সীরাতুন নাবাউয়্যাহ, ইবনু কাসীর, ২/৩২৪

ফন্ট সাইজ
15px
17px