📘 রউফুর রহীম 📄 বানু ‘আমিরের সঙ্গে সংলাপ

📄 বানু ‘আমিরের সঙ্গে সংলাপ


রাসূল সবার আগে বানু 'আমিরের সঙ্গে আলোচনা করলেন, দীনের দাওয়াত দিলেন। রাসূল ও আবু বাক্র বানু 'আমির সম্পর্কে বিস্তর খোঁজখবর নিয়ে, অনেক চিন্তা-ভাবনা ও পরিকল্পনা করেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বানু 'আমির সাহসী ও যোদ্ধা একটা গোত্র। বিরাটসংখ্যক লোক রয়েছে এ গোত্রের। সারা আরবের হাতে গোনা পাঁচটি গোত্রের মধ্যে বানু 'আমিরও একটা যারা তৎকালীন পারস্য কিংবা রোমান কোনো শাসকের তাঁবেদারি স্বীকার করেনি। রাসূল আরও জানতেন যে, বানু 'আমির ও সাকীফ গোত্রের মধ্যে পুরোনো একটা শত্রুতা রয়েছে। তায়িফে ইসলামের বিজয় ঘটলে কুরাইশদেরকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা যাবে। তাই রাসূলুল্লাহর এ সফর ছিল রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় পূর্ণ।

সীরাত লেখকগণ উল্লেখ করেন, রাসূল যখন বানু 'আমির ইবনু স'স'আহ গোত্রের কাছে আসেন তখন প্রথমে তিনি তাঁদেরকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করেন। এরপর তাঁদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার জন্য বসেন। বাইহারা ইবনু ফারাস নামের একজন লোক নবিজিকে বলল, “আল্লাহর কসম! কুরাইশের এ যুবকের কথা যদি আমি মেনে নিই, তা হলে আরববাসী তা জেনে যাবে।” এরপর লোকটা রাসূলুল্লাহকে আরও বলল, "আচ্ছা বলুন তো, আমরা যদি আপনার ধর্ম মেনে নিয়ে আপনার বাই'আত নিই, এরপর আপনার শত্রুদের বিরুদ্ধে আল্লাহ যদি আপনাকে বিজয় দান করেন, তখন কি আপনার পরে রাজত্বের বিষয়টি আমাদের হাতে আসবে?"

রাসূল বললেন, “রাজত্বের বিষয়টি সম্পূর্ণ আল্লাহর কাছে ন্যস্ত। তিনি যাকে ইচ্ছা তাঁকে দান করেন।” লোকটি বলল, “আপনার জন্য আরবদের বিরুদ্ধে আমাদের জীবন বাজি রাখব আমরা, অথচ আপনি বিজয়ী হলে রাজত্ব আমাদের না-হয়ে হবে অন্যদের জন্য? আপনার দীন মানার আমাদের কোনো দরকার নেই।” তাঁরা রাসূলুল্লাহর কথা মানতে অস্বীকার করে।

টিকাঃ
৪৬৪. সীরাহ ইবনু হিশাম (২/৩৮)

📘 রউফুর রহীম 📄 বানু শাইবান গোত্রের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা

📄 বানু শাইবান গোত্রের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা


সাহাবি 'আলি ইবনু আবু তালিবের বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন, “আল্লাহ তা'আলা যখন তাঁর নবিকে বিভিন্ন গোত্রের কাছে দীনের দাওয়াত নিয়ে যাওয়ার জন্য আদেশ করেন, তখন আল্লাহর আদেশ মেনে নবিজি বিভিন্ন গোত্রের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন। এরপর আমরা আরেকটা বৈঠকের দিকে এগিয়ে গেলাম। বৈঠকে কোনো হট্টগোল ছিল না। আবু বাক্র সেদিকে এগিয়ে গেলেন। সালাম দিয়ে তাঁদেরকে তিনি জিজ্ঞেস করেন, “তোমরা কোন গোত্র?” তাঁরা বলল, “শাইবান ইবনু সা'লাবা।”

আবু বাক্র রাসূলুল্লাহর দিকে ফিরে বললেন, “আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান হোক, এ লোকগুলো সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত।” মাফরূক নামে এদের মধ্যে একজন লোক আছে, কথায় ও সৌন্দর্যে সে সর্বোত্তম। মাফরূক রাসূলুল্লাহর দিকে ফিরে বলল, “হে কুরাইশি ভাই, আপনি কীসের দিকে আমাদেরকে আহ্বান করছেন?” রাসূল বললেন, আমি তোমাদেরকে এই সাক্ষ্য দিতে আহ্বান করছি যে “আল্লাহ ছাড়া 'ইবাদাতের যোগ্য আর কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক। তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আর আমি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আরও আহ্বান জানাচ্ছি আমাকে আশ্রয় ও সাহায্য প্রদানের জন্য। কারণ, কুরাইশরা আল্লাহর অবাধ্যতা করেছে এবং তাঁর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে।"

মাফরূক বলল, “হে কুরাইশি ভাই, আর কীসের দিকে আপনি আহ্বান করে থাকেন। আল্লাহর কসম, এ কথার থেকে সুন্দর কথা আমি আর শুনিনি।” তখন রাসূল সূরা আন'আমের ১৫১ নং আয়াতটি তিলাওয়াত করেন। নবিজির মুখ থেকে কুরাআনের এ তিলাওয়াত শুনে উচ্ছ্বসিত হয়ে মাফরূক বলল, “আল্লাহর কসম, আপনি তো উত্তম চারিত্রিক গুণাবলি ও ভালো কাজের দিকেই আহ্বান করেছেন।"

মুসান্না ইবনু হারিসা (যিনি পরবর্তী সময়ে ইসলাম গ্রহণ করেন) রাসূলুল্লাহকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “হে কুরাইশি ভাই, আমিও আপনার বক্তব্য শুনলাম। তবে আমরা দুটো 'সরাই'র (ফাঁদের) মধ্যে পড়ে গেছি; এর একটা ইয়ামামা, অন্যটা সুমামাহ। রাসূল তাঁর কাছে জানতে চান, “সরাই (ফাঁদ) দুটো কী জিনিস?” তিনি বলেন, “পারস্যের নদ-নদী ও আরবদের পানি।”

টিকাঃ
৪৬৫. আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ (৩/১৪২, ১৪৩, ১৪৫) এবং আরও কিছু বাড়তি সংযোজন রয়েছে যেগুলো আস-সালিহীর সুবুল-আর-রাশাদ-এ নেই (২/৫৯৬, ৫৯৭)

ফন্ট সাইজ
15px
17px