📘 রউফুর রহীম 📄 খাদীজার মৃত্যু

📄 খাদীজার মৃত্যু


রাসূলুল্লাহর স্ত্রী, উম্মুল-মু'মিনীন সাইয়্যিদা খাদীজা মারা যান রাসূলুল্লাহর মাদীনা হিজরাতের তিন বছর আগে; চাচা আবু তালিব যে বছরে মারা গেছেন ঠিক সেই বছরেই; আবু তালিবের কিছুদিন পরেই।

এমন দুজন আপনজনকে হারিয়ে রাসূল খুবই ব্যথিত হন। মুষড়ে পড়েন প্রচণ্ডভাবে। ইসলামের দা'ওয়াত মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছাতে গিয়ে তিনি যত কষ্ট পেয়েছেন, যত দুর্ভোগ সয়েছেন তা লাঘবে এ দুজন ছিলেন শক্ত খুঁটি; আবু তালিব সামলাতেন বাইরের ঝক্কি-ঝামেলা, জাতির সকল বাধা মোকাবিলায় ভাতিজার মাথার ওপর ছাতা হয়ে আশ্রয় দিতেন। আর সারাদিনের ক্লান্তি, শ্রান্তি অবসাদগ্রস্ততা রাসূল ﷺ নিমেষেই ভুলে যেতেন খাদীজার কাছে ফিরে। পরম ভালোবাসা দিয়ে তিনি নবিজির সারাদিনের কষ্ট, মুশরিকদের মিথ্যাচারের বেদনা সবকিছু ভুলিয়ে দিতেন। তিনি নবিজির ঘর আগলে রাখতেন পরম মমতায়।

টিকাঃ
৪৩৭. তাবাকাত ইবনু সা'দ (১/২২১), আস-সীরাহ আন-নাবাওয়ীয়াহ আস-সাহিহাহ (১/১৮৫)

📘 রউফুর রহীম 📄 তায়িফে দা‘ওয়াত

📄 তায়িফে দা‘ওয়াত


রাসূলুল্লাহর কঠিন জীবনের অধ্যায় শুরু হয়ে গেল; এ সময়ে তাঁকে অনেক সমস্যা, বিপদ, কষ্ট ও নির্যাতন মোকাবিলা করতে হয়। তিনি এখন একাই; দা'ওয়াতের বাণী নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন; আল্লাহ তা'আলা ছাড়া যেখানে তাঁর আর কোনো সাহায্যকারী নেই। কিন্তু এতেও তিনি দমে যাননি। মুশরিকদের নির্যাতনের ভয়ে ঘাবড়ে গিয়ে দা'ওয়াত দেওয়া থেকে নিবৃত্ত হননি।

দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে রাসূল ﷺ তাঁর পূর্বের নবি-রাসূলদের অনুসরণ করতেন। যেমন: নবি নূহ তাঁর জাতিকে দা'ওয়াত দিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে মানুষকে দীনের আহ্বান করেছেন। সাইয়্যিদুল-মুরাসালীন মুহাম্মাদ মানুষকে দীনের পথে আহ্বান করার ক্ষেত্রে অভিনব বিভিন্ন নিয়ম-পদ্ধতি অবলম্বন করেন। তিনি মানুষকে দা'ওয়াত দিয়েছেন গোপনে-প্রকাশ্যে, শান্তিতে-সমরে, ব্যক্তিগত ও সামষ্টিকভাবে।

রাসূলুল্লাহর সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ছিল ইসলামের জন্য নতুন একটা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য; যেখান থেকে তিনি সুষ্ঠুরূপে দীনের দা’ওয়াত ছড়িয়ে দিতে পারবেন পৃথিবীর দিদিগন্তে। এজন্য তিনি তায়িফের বানু সাকীফ গোত্রের কাছে দীনের দা’ওয়াত নিয়ে গেলেন, এ দীনকে সাহায্য করার জন্য তাঁদেরকে আহ্বানও করলেন। কিন্তু তাঁরা তাঁর ডাকে তো সাড়া দেয়ইনি, উলটো তাঁদের ছোট ছোট বাচ্চাকাচ্চাকে নবিজির বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়।

ঐতিহাসিক ওয়াকিদির মতে, নবিজির তায়িফ সফরে যান নুবুওয়াতের দশম বছরের শাওয়াল মাসে; চাচা আবু তালিব ও স্ত্রী খাদীজার মৃত্যুর পর; তিনি সেখানে দশ দিন অবস্থান করেন।

টিকাঃ
৪৩৮. সীরাহ ইবনু হিশাম (২/৭২)

📘 রউফুর রহীম 📄 কেন তায়িফ

📄 কেন তায়িফ


তায়িফ অঞ্চলটি কুরাইশ নেতৃবর্গের জন্য কৌশলগত দিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তায়িফের প্রতি কুরাইশদের অনেক লোভের কারণ সেখানকার প্রাকৃতিক সম্পদ। রাসূল যখন তায়িফ অভিমুখে রওনা হলেন তখন নিশ্চয়ই সে যাত্রার মধ্যে কোনো হিকমা ছিল; যদি রাসূল সেখানে পা রাখার জায়গা পান এবং এমন কোনো দলকে পেয়ে যান যারা তাঁকে দীনের বিষয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে সাহায্য করবে তা হলে ইসলামের খুবই কাজে আসবে।

তায়িফে পৌঁছেই রাসূল সরাসরি সেখানকার ক্ষমতা ও রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতেই দা'ওয়াতের বাণী তুলে ধরেন। তায়িফের বড় দুই গোত্র বানু মালিক ও আহলাফ। রাসূল কুরাইশদের মিত্র আহলাফের নেতৃত্বাধীন বানু 'আম্র ইবনু 'উমাইর গোত্রের কাছে সরাসরি যান। তিনি মক্কা থেকে বের হয়েছিলেন পায়ে হেঁটে, যাতে কুরাইশরা কোনো সন্দেহ না করে। যাইদকে সফরসঙ্গী হিসেবে সাথে নেন নিরাপত্তার স্বার্থে। তায়িফের নেতারা নবিজির ডাকে তো সাড়া দিলোই না, বরং তাঁরা তাঁকে অত্যন্ত নিকৃষ্টভাবে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে; কিন্তু তিনি মুখ বুজে সহ্য করে গেছেন।

📘 রউফুর রহীম 📄 মিনতি ও প্রার্থনা

📄 মিনতি ও প্রার্থনা


বানু 'আমের লোকেরা ছিল ইতর শ্রেণির মানুষ। রাসূল আসার কথা তাঁরা গোপন রাখেনি। উলটো তাঁর পেছনে তাঁদের নির্বোধ ও দাসশ্রেণির লোকদের লেলিয়ে দেয়; এরা তাঁকে গালিগালাজ করে এবং তাঁর দিকে পাথর ছুড়ে মারে। রাসূলের দুই গোড়ালি রক্তাক্ত হয়ে পড়ে। তাঁর জুতা রক্তে একাকার হয়ে যায়। তারা নবিজির গায়ে পাথর মারতে মারতে দূরে নিয়ে আসে। পরে তিনি এবং যাইদ রাবি'আর দুই ছেলে 'উতবা ও শাইবার বাগানের দেয়ালের পেছনে আশ্রয় নেন।

এমন বিষাদ ও মর্মপীড়া এবং শারীরিক ও মানসিক কষ্টের মধ্যেও তিনি তাঁর রব আল্লাহর দিকেই ফেরেন। তিনি আল্লাহর কাছে এ প্রার্থনা করেন:
“হে আল্লাহ, আমার দুর্বলতা, অক্ষমতা এবং মানুষের সামনে অপদস্থতার ব্যাপারে আমি আপনার কাছে, হে পরম দয়াবান, অনুযোগ করছি। আপনি দুর্বলদের রব, আপনি আমারও রব। আপনি আমাকে কার কাছে ন্যস্ত করেছেন? দূরের কোনো অনাত্মীয়ের কাছে? নাকি এমন শত্রুর কাছে যে নাকি আমার সব বিষয়ে খবরদারি করে? আপনি যদি আমার ওপর রাগ না করেন তা হলে আমার আর কোনো চিন্তা নেই। তবে আপনার ক্ষমা আমার জন্য খুবই দরকার। আমি আপনার চেহারার ওই আলোর আশ্রয় চাই, অন্ধকার দূর করে যে আলো চারপাশ আলোকিত করেছে। এবং নিষ্পত্তি হয় দুনিয়া ও আখিরাতের সকল বিষয়।”

টিকাঃ
৪৩৯. ড. আল-'উমারী হাদীসটিকে দুর্বল বলে মত দিয়েছেন তাঁর আস-সীরাহ আন-নাবাওয়ীয়াহ আস- সাহীহাহ (১/১৮৬) গ্রন্থে। অবশ্য ইবরাহীম আল-'আলী আরেকটি হাদীস উল্লেখ করে একে বিশুদ্ধ বলেছেন। একাধিক বর্ণনাসূত্রের মাধ্যমে হাদীসটি সহীহ ও হাসান।

ফন্ট সাইজ
15px
17px