📄 জা‘ফার (রা.) ও নাজ্জাশির কথোপকথন
নাজ্জাশি রাসূলুল্লাহর মুহাজির সাহাবিদেরকে ডাকতে দূত পাঠালেন। সাহাবিরা পরামর্শ করে জা'ফার ইবনু আবু তালিবকে তাঁদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করলেন। নাজ্জাশি সাহাবিদের নিকট জানতে চান, এটা কোন ধর্ম যা তোমাদের জাতির মধ্যে বিভেদ ঘটিয়েছে?
জা'ফার ইবনু আবু তালিব নাজ্জাশিকে বললেন, “হে মহামান্য শাসক! আমরা গণ্ডমূর্খ একটা জাতি ছিলাম; মূর্তিপূজা করতাম, অশ্লীল কাজ করে বেড়াতাম। এরপর আল্লাহ আমাদের কাছে একজন রাসূল পাঠালেন; তাঁর বংশমর্যাদা, সততা ও বিশ্বস্ততার কথা আমাদের মধ্যে সর্বজনবিদিত। তিনি আমাদেরকে এক আল্লাহর 'ইবাদাতের দিকে ডাকলেন। তিনি আমাদের সত্য কথা বলতে বললেন। আদেশ করলেন আমানাত আদায় করতে। এ কারণেই আমাদের জাতি আমাদের ওপর নির্যাতন শুরু করে যাতে আমরা আবার মূর্তিপূজার দিকে ফিরে আসি। তাই আমরা আপনার দেশে আশ্রয় নিয়েছি।”
এরপর নাজ্জাশি কুরআনের কোনো অংশ পাঠ করতে বললে জা'ফার সূরা মারইয়ামের প্রথম আয়াতগুলো পাঠ করেন। জা'ফারের তিলাওয়াত শুনে নাজ্জাশি কেঁদে ফেললেন। তিনি বললেন, “নিশ্চয়ই এটা ঠিক ওই জিনিস, যা নবি মূসা নিয়ে এসেছিলেন। তোমরা চলে যাও। আল্লাহর কসম! আমি তাঁদেরকে তোমাদের হাতে তুলে দিচ্ছি না।”
টিকাঃ
৪২৫. মুসনাদ ইমাম আহমাদ (১/২০২, ২০৩)
📄 নাজ্জাশি ও মুহাজিরদের মাঝে বিভেদের আরেকটা অপচেষ্টা
নাজ্জাশির নিকট কোনোরূপ সুবিধা করতে না পেরে 'আম্র ইবনুল-'আস নতুন এক ফন্দি আঁটল। সে নাজ্জাশিকে বলল, “এরা আপনাদের নবি 'ঈসা ইবনু মারইয়ামকে আল্লাহর একজন বান্দা মনে করে।” নাজ্জাশি আবারও সাহাবিদের ডেকে পাঠালেন।
দূত এলে সাহাবিরা আবারও পরামর্শ করলেন এবং ঠিক করলেন 'ঈসার ব্যাপারে তাই বলবেন যা আল্লাহ কুরআনে বলেছেন। জা'ফার ইবনু আবু তালিব নাজ্জাশিকে বললেন, “আমরা তাঁর ব্যাপারে তাই বলব যা আমাদের নবি নিয়ে এসেছেন: তিনি (ঈসা) আল্লাহর বান্দা, রাসূল, রূহ এবং তাঁর কালিমা যা তিনি প্রেরণ করেছেন মারইয়ামের কাছে।”
নাজ্জাশি একটি কাঠি কুড়িয়ে নিলেন এবং বললেন, “তুমি যা বললে, 'ঈসা ইবনু মারইয়াম তাঁর চেয়ে এই কাঠির পরিমাণও বেশি কিছু নন।” নাজ্জাশি মুশরিক প্রতিনিধিদের উপহার ফেরত দিয়ে দিলেন এবং মুসলিমদেরকে তাঁর দেশে পূর্ণ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলেন।
টিকাঃ
৪২৬. মুসনাদ ইমাম আহমাদ (১/২০৩), বিশুদ্ধ, হাদীস নং ১৭৪০।
📄 নাজ্জাশির ইসলাম গ্রহণ
নাজ্জাশি নবিজির নুবুওয়াতের স্বীকৃতি দিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। তবে তিনি তাঁর মুসলিম হওয়ার কথা নিজ জাতির কাছে গোপন রাখেন। কারণ তাঁদের ভ্রষ্টতা সম্পর্কে তিনি ভালো করেই জানতেন। যেদিন নাজ্জাশি মারা যান, রাসূল ﷺ সাহাবিদেরকে নিয়ে নাজ্জাশির গায়েবানা জানাযার সালাত আদায় করেন এবং বলেন, “আজকে একজন সৎ ব্যক্তি মারা গেছেন। তোমরা দাঁড়াও, তোমাদের ভাইয়ের জন্য জানাযার সালাত পড়ো।” নাজ্জাশি নুবুওয়াতের নবম বছরে বা মাক্কা বিজয়ের আগে অষ্টম বছরে মারা যান।
টিকাঃ
৪২৭. বুখারি, জানাযার সালাত, হাদীস নং ১৩৩৩
৪২৮. বুখারি, আনসারদের গুণাবলি, হাদীস নং ৩৮৮৮
📄 আল্লাহর রাসূল (সা.) হিজরাত করলেন না কেন
কোনো কোনো গবেষক মনে করেন যে, অনেকগুলো কারণে রাসূল নিজে আবিসিনিয়ায় হিজরাত করেননি। কারণগুলো নিম্নরূপ:
১. রাসূল স্বপ্নে দেখেছিলেন যে, হিজরাত হবে খেজুর বাগানবহুল প্রস্তরময় দুটি ভূমির মাঝে অবস্থিত একটি এলাকায়।
২. ইসলামের দা'ওয়াত প্রচার ও বিশ্বব্যাপী সে দাওয়াাতের বাণী ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ভৌগোলিকভাবে আবিসিনিয়া এর উপযোগী ছিল না।
৩. আরব উপদ্বীপে প্রথমে মাক্কা ও পরে মাদীনাকে ওয়াহি নাযিল ও ইসলামের কর্মকাণ্ড চালানোর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনে অনেক যৌক্তিক কারণ রয়েছে।
৪. আবিসিনিয়ার খ্রিষ্টান পরিবেশ সেখানে আশ্রয় নেওয়া ইসলামের উন্নতিকে মেনে নিতে পারত না কোনোভাবেই।
৫. মাক্কায় থাকাটা কৌশলগতভাবেও দরকার ছিল যাতে কুরাইশদের অত্যাচারী চেহারা সবার সামনে উন্মোচিত হয় এবং আরবের অন্যান্য গোত্রের সহানুভূতি পাওয়া যায়।