📘 রউফুর রহীম 📄 কেন আবিসিনিয়া

📄 কেন আবিসিনিয়া


এখানে অনেকগুলো কারণ উল্লেখ করা হলো যা একজন গবেষককে— কেন রাসূল আবিসিনিয়াকে বেছে নিলেন?—এমন প্রশ্নের উত্তর পেতে সাহায্য করবে। যেমন:

১. ন্যায়পরায়ণ শাসক নাজ্জাশি: আবিসিনিয়ায় একজন সত্যনিষ্ঠ শাসক ছিলেন। তাঁকে নাজ্জাশি বলা হয়; তাঁর রাজ্যে কেউই নির্যাতিত হয় না। রাসূল তাঁকে সালিহ বা সত্যনিষ্ঠ বলে প্রশংসা করেছেন। তাঁর এই সত্যনিষ্ঠতা মুসলিমদেরকে নিরাপত্তা বিধানের সময় পরিলক্ষিত হয়।

২. কুরাইশদের বাণিজ্যিক এলাকা: আরব উপদ্বীপের বড় একটা বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত ছিল আবিসিনিয়া। মুসলিমদের কেউ কেউ পূর্বে সেখানে ব্যবসার জন্য যাওয়ার সুবাদে আবিসিনিয়াকে চিনত।

৩. নবিজির পছন্দ: হিজরাতের জন্য রাসূলুল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় দেশ ছিল আবিসিনিয়া। আবিসিনিয়ার অধিবাসীরা পালন করত খ্রিষ্টান ধর্ম; ধর্মটি পৌত্তলিকতার তুলনায় ইসলামের অনেক কাছের ধর্ম। পরিচারিকা উম্মু আইমানের কাছ থেকে রাসূলুল্লাহর আবিসিনিয়া সম্পর্কে জানাটাও সেখানে হিজরাত করার একটা কারণ ছিল।

টিকাঃ
৪২২. আস-সীরাহ আন-নাবাওয়ীয়াহ, ইবনু হিশাম; ব্যাখ্যা, হাম্মাম আবু সা'লেক (১/৪১৩)

📘 রউফুর রহীম 📄 আবিসিনিয়া যাত্রা

📄 আবিসিনিয়া যাত্রা


নুবুওয়াতের পঞ্চম বছরের রাজাব মাসে সাহাবিরা মাক্কা থেকে রওনা হন। এ দলে পুরুষ ছিলেন ১৪ জন আর মহিলা ছিলেন ৪ জন। তাঁদেরকে মক্কায় ফিরিয়ে আনতে কুরাইশরা তাঁদের পিছু নেয়। সাহাবিদের পায়ের ছাপ ধরে ধরে তাঁরা সাগরের পাড় পর্যন্ত ধাওয়া করে। কিন্তু ততক্ষণে সাহাবিরা সাগর পার হয়ে আবিসিনিয়া পৌঁছে যান।

মুহাজিরদের হিজরাতের খবরটি সর্বোচ্চ গোপনীয়তার সঙ্গে রক্ষা করা হয়েছিল। সাহাবিরা সেখানে গিয়ে পৌঁছলেন। শাসক নাজ্জাশি তাঁদেরকে উত্তম আতিথেয়তা করেন। তাঁদেরকে জানান সাদর সম্ভাষণ। নাজ্জাশির এমন কোমল আচরণে সাহাবিরা যারপরনাই অভিভূত হন; তাঁরা নাজ্জাশির নিকট নিজেদেরকে পরম নিরাপদ অনুভব করেন।

আবিসিনিয়ায় হিজরাতকারী অধিকাংশেরই সামাজিক অবস্থান খুবই ভালো ছিল। হিজরাত শুরুর তিন মাস যেতে না যেতেই মাক্কায় মুসলিমদের জীবনে বড় ধরনের একটা পরিবর্তন ঘটে যায়; হামযা এবং 'উমার ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁদের ইসলাম গ্রহণের পর সাহাবিরা মক্কায় ফিরে আসেন। তবে মুশরিকরা আবারও নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিলে দ্বিতীয়বারের মতো সাহাবিরা আবিসিনিয়ায় হিজরাত করতে বাধ্য হন। দ্বিতীয় হিজরাতের মুহাজিরদের সংখ্যা ছিল পুরুষ ৮২ বা ৮৩ জন এবং মহিলা ১৮ জন।

📘 রউফুর রহীম 📄 আবিসিনিয়ায় মুসলিমদের দ্বিতীয় হিজরাত

📄 আবিসিনিয়ায় মুসলিমদের দ্বিতীয় হিজরাত


সাহাবি 'আবদুল্লাহ ইবনু মাস'ঊদ বলেন, “আবিসিনিয়া থেকে সাহাবিরা যখন মক্কায় ফিরে আসেন তখন জাতি তাঁদের সামনে রুদ্রমূর্তি ধারণ করে। তাঁরা মুশরিকদের থেকে কঠিন নির্যাতন ভোগ করেন। সাহাবিদের এমন কষ্ট দেখে রাসূল তাঁদেরকে আবিসিনিয়ায় দ্বিতীয়বারের মতো হিজরাত করার অনুমতি দেন। তবে প্রথমবারের চেয়ে দ্বিতীয় হিজরাতটি ছিল খুবই কঠিন।”

কুরাইশরা দেখল, মুহাজিরদেরকে শত নির্যাতন করেও কোনোভাবেই আটকে রাখা গেল না। তখন তাঁরা মুহাজিরদেরকে মাক্কায় ফেরত আনার জন্য নাজ্জাশির কাছে একদল প্রতিনিধি দল পাঠাল। 'আবদুল্লাহ ইবনু আবু রাবি'আ এবং 'আম্র ইবনুল-'আসকে প্রতিনিধি করে পাঠানো হলো। সঙ্গে ছিল প্রচুর উপঢৌকন। তাঁরা নাজ্জাশির দরবারে গিয়ে উপহার পেশ করে অনুরোধ করলেন যেন মুসলিমদেরকে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু নাজ্জাশি চাইলেন মুসলিমদের কথা শুনতে। তিনি মুসলিমদের প্রতিনিধিকে তলব করলেন।

📘 রউফুর রহীম 📄 জা‘ফার (রা.) ও নাজ্জাশির কথোপকথন

📄 জা‘ফার (রা.) ও নাজ্জাশির কথোপকথন


নাজ্জাশি রাসূলুল্লাহর মুহাজির সাহাবিদেরকে ডাকতে দূত পাঠালেন। সাহাবিরা পরামর্শ করে জা'ফার ইবনু আবু তালিবকে তাঁদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করলেন। নাজ্জাশি সাহাবিদের নিকট জানতে চান, এটা কোন ধর্ম যা তোমাদের জাতির মধ্যে বিভেদ ঘটিয়েছে?

জা'ফার ইবনু আবু তালিব নাজ্জাশিকে বললেন, “হে মহামান্য শাসক! আমরা গণ্ডমূর্খ একটা জাতি ছিলাম; মূর্তিপূজা করতাম, অশ্লীল কাজ করে বেড়াতাম। এরপর আল্লাহ আমাদের কাছে একজন রাসূল পাঠালেন; তাঁর বংশমর্যাদা, সততা ও বিশ্বস্ততার কথা আমাদের মধ্যে সর্বজনবিদিত। তিনি আমাদেরকে এক আল্লাহর 'ইবাদাতের দিকে ডাকলেন। তিনি আমাদের সত্য কথা বলতে বললেন। আদেশ করলেন আমানাত আদায় করতে। এ কারণেই আমাদের জাতি আমাদের ওপর নির্যাতন শুরু করে যাতে আমরা আবার মূর্তিপূজার দিকে ফিরে আসি। তাই আমরা আপনার দেশে আশ্রয় নিয়েছি।”

এরপর নাজ্জাশি কুরআনের কোনো অংশ পাঠ করতে বললে জা'ফার সূরা মারইয়ামের প্রথম আয়াতগুলো পাঠ করেন। জা'ফারের তিলাওয়াত শুনে নাজ্জাশি কেঁদে ফেললেন। তিনি বললেন, “নিশ্চয়ই এটা ঠিক ওই জিনিস, যা নবি মূসা নিয়ে এসেছিলেন। তোমরা চলে যাও। আল্লাহর কসম! আমি তাঁদেরকে তোমাদের হাতে তুলে দিচ্ছি না।”

টিকাঃ
৪২৫. মুসনাদ ইমাম আহমাদ (১/২০২, ২০৩)

ফন্ট সাইজ
15px
17px