📄 রাসূল (সা.) তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিতেন যে যে বিষয়ের ওপর
রাসূলুল্লাহ সাহাবিদেরকে আধ্যাত্মিক ও মানসিক দৃঢ়তা অর্জনের প্রশিক্ষণ দিতেন। তিনি তাঁদেরকে তিনটি প্রধান বিষয়ে গুরুত্ব দিতেন:
১. পূর্ববর্তী নবি-রাসূলদের ধৈর্যের উদাহরণ দিয়ে তাঁদের সান্ত্বনা দিতেন।
২. মুত্তাকিদের জন্য পরকালে জান্নাতের নেয়ামাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিতেন।
৩. এই দুনিয়াতেই আল্লাহর সাহায্য ও বিজয়ের সুসংবাদ দিতেন।
তিনি সাহাবিদেরকে শেখাতেন যে, সাহায্য অর্জনের পূর্বশর্ত হলো ধৈর্য ও কষ্ট স্বীকার। তিনি তাঁদেরকে তাড়াহুড়ো না করে আল্লাহর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে বলতেন। পাশাপাশি তিনি কীভাবে একটি শক্তিশালী ইসলামি সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করা যায়, সেই পরিকল্পনাও সাহাবিদের মনে গেঁথে দিতেন।
টিকাঃ
৩৯৮. আল-গুরাবা আল-আওয়ালুন (পৃ. ১৪৫, ১৪৬)
📄 মাক্কায় যুদ্ধ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ
মাক্কা যুগে সাহাবিরা মুশরিকদের নির্যাতনের শিকার হলেও রাসূলুল্লাহ তাঁদেরকে যুদ্ধ করার অনুমতি দেননি। এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক কারণ ছিল। প্রথমত, মুসলিমদের তখন প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিল এবং আরবের ঐতিহ্যের বিপরীতে তাঁদেরকে ধৈর্যের প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি ছিল। দ্বিতীয়ত, তখন যুদ্ধ শুরু করলে তা গৃহযুদ্ধে রূপ নিত এবং দা'ওয়াতের কাজ ব্যাহত হতো।
আল্লাহর নির্দেশ ছিল সবুর করা এবং নিজেদের চরিত্র গঠন করা। নবিজি চেয়েছিলেন কাফিরদের বংশধরদের মধ্য থেকে যেন এমন এক প্রজন্ম বের হয়ে আসে যারা এক আল্লাহর 'ইবাদাত করবে। তাই তিনি মাক্কার বৈরী পরিবেশেও সালাত ও আত্মশুদ্ধির দিকেই বেশি মনোনিবেশ করেছিলেন। এই ধৈর্যই পরবর্তী সময়ে মদীনার বিজয়ের ভিত্তি তৈরি করেছিল।
টিকাঃ
৪০৪. আস-সীরাহ আন-নাবাওয়ীয়াহ আস-সাহিহাহ (১/১৫৮)
৪০৫. আত-তিরমিযীর সাথে সম্পর্কিত, বিশুদ্ধ, আয-যুহদ (৪/৫১); হাদীস নং ২৩৯
৪০৬. বুখারি, শিষ্টাচার; হাদীস নং ৬০৭৬
📄 সাহাবিদের আত্মিক পরিশুদ্ধতায় কুরআনের প্রভাব
কুরআনুল-কারীম একদিকে মুসলিমদের সান্ত্বনা দিত এবং অন্যদিকে মুশরিকদের আযাবের ভয় দেখাত। আল্লাহ কুরআনের মাধ্যমে নবিজিকে ভর্ৎসনা করেছেন যখন তিনি অন্ধ সাহাবি ইবনু উম্মু মাকতূমের প্রতি মনোযোগী হননি। এটি প্রমাণ করে যে ইসলামে আভিজাত্যের চেয়ে ঈমানের মূল্য অনেক বেশি।
কুরআন সাহাবিদের ভালো কাজের ভূয়সী প্রশংসা করত এবং তাঁদের ত্যাগের বিনিময়ে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিত। এটি তাঁদেরকে শারীরিক ও মানসিক সকল নির্যাতনের মুখে অটল থাকতে সহায়তা করত। সাহাবিরা কুরআন পাঠের মাধ্যমে অন্তরের প্রশান্তি লাভ করতেন এবং আল্লাহর প্রতি তাঁদের বিশ্বাস অটুট রাখতেন।
টিকাঃ
৪০৭. আস-সীরাহ আন-নাবাওয়ীয়াহ, ইবনু কাসীর (২/৪)
📄 আলাপ-আলোচনার পদ্ধতি
রাসূলুল্লাহ বিরুদ্ধবাদীদের সাথে আলাপ-আলোচনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ধৈর্য ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিতেন। 'উতবা ইবনু রাবি'আ যখন তাঁকে ধন-সম্পদ ও নারীর প্রলোভন দিয়ে দা'ওয়াত থেকে নিবৃত্ত করতে চাইল, নবিজি শান্তভাবে তাঁর কথা শুনলেন। 'উতবার কথা শেষ হওয়ার পর তিনি কোনো ব্যক্তিগত বিতর্কে না জড়িয়ে সূরা ফুসসিলাতের আয়াতসমূহ পাঠ করে শোনান। কুরআনের এই বাণীর প্রভাবে 'উতবা স্তম্ভিত হয়ে যান এবং কুরাইশদের পরামর্শ দেন নবিজিকে তাঁর কাজে বাধা না দিতে। রাসূলুল্লাহর এই পদ্ধতি দা'ঈদের জন্য একটি মহান শিক্ষা।
টিকাঃ
৪০৮. আল-বিদায়াহ আন-নিহায়াহ, ইবনু কাসীর (৩/৬৮,৬৯)
৪০৯. আস-সীরাহ আন-নাবাওয়ীয়াহ, ইবনু হিশাম (১/২৯৪)
৪১০. বুখারি, বিয়ে: হাদীস নং ৫০৯৬; মুসলিম, আর-রিকাক; হাদীস নং ২৭৪০, ২৭৪১