📘 রউফুর রহীম 📄 কুরাইশ-সভাসদদের বৈঠক ও নবিজিকে আঘাত

📄 কুরাইশ-সভাসদদের বৈঠক ও নবিজিকে আঘাত


নবিজি যখন প্রকাশ্য দা'ওয়াত শুরু করেন, তখন কুরাইশরা তাঁকে নানাভাবে শারীরিক ও মানসিক কষ্ট দিতে শুরু করে। আবু জাহল রাসূলুল্লাহর সালাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করত এবং তাঁকে অপদস্থ করার জন্য উটের বিষ্ঠা ও নাড়িভুঁড়ি তাঁর পিঠের ওপর চাপিয়ে দিত। আবু লাহাব ও তাঁর স্ত্রী উম্মু জামীল নবিজির পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখত এবং তাঁর নামে কুৎসা রটাত।

কুরাইশদের এক বৈঠকে নবিজিকে সরাসরি আক্রমণ করা হয়। তখন আবু বাক্র (রা.) তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন এবং বলেন, "তোমরা কি কেবল এ কারণে একজন লোককে হত্যা করবে যে তিনি বলেন আল্লাহ আমার রব?" রাসূলুল্লাহ অনেক সময় মুশরিকদের বিদ্রূপের জবাবে ধৈর্য ধরতেন এবং আল্লাহর কাছে তাঁদের হিদায়াতের জন্য প্রার্থনা করতেন। নবিজি নিজেই বলেছেন যে, আল্লাহর পথে তিনি যতটুকু কষ্ট সহ্য করেছেন, তা অন্য কেউ কল্পনাও করতে পারবে না।

টিকাঃ
৩৮০. সাহীহ মুসলিম, "হাশর, জান্নাত ও জাহান্নাম" হাদীস নং ২৭৯৭
৩৮১. সাহীহ আস-সীরাহ আন-নাবাওয়ীয়াহ, ইবরাহীম আল-'আলী, পৃ. ৯৬
৩৮২. সুনান আত-তিরমিযী (৪/৬৪৫) এবং আল-আলবানী একে সাহীহ আল-জামাই'-তে বিশুদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন, নং ৫০০১。
৩৮৩. ইবনু মাজাহ (৪০২৩)। সাহীহ সুনান ইবনু মাজাহ-তে আল-আলবানী একে হাসান বলে উল্লেখ করেছেন।

📘 রউফুর রহীম 📄 রাসূলুল্লাহর সাহাবিদের নির্যাতন ভোগ

📄 রাসূলুল্লাহর সাহাবিদের নির্যাতন ভোগ


নবিজির সাথে সাথে তাঁর সাহাবিদের ওপরও নেমে আসে অকথ্য নির্যাতন। বিলাল (রা.)-কে উত্তপ্ত মরুভূমিতে শুইয়ে রাখা হতো এবং তাঁর বুকে ভারী পাথর চাপা দেওয়া হতো। তবুও তিনি 'আহাদ, আহাদ' বলে তাওহীদের ঘোষণা দিতেন। আবু বাক্র (রা.) বিলালসহ আরও অনেক মুসলিম দাসকে অর্থ দিয়ে মুক্ত করেন।

ইয়াসির পরিবার—সুমাইয়া, ইয়াসির ও তাঁদের পুত্র 'আম্মার চরম নির্যাতনের শিকার হন। সুমাইয়া (রা.) ছিলেন ইসলামের প্রথম শহিদ। রাসূলুল্লাহ তাঁদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ধৈর্য ধরার উপদেশ দিতেন এবং জান্নাতের সুসংবাদ শোনাতেন। খাব্বাব ইবনুল-আরাতকে জ্বলন্ত আগুনের কয়লার ওপর শুইয়ে রাখা হতো। সা'দ ইবনু আবু ওয়াক্কাস তাঁর মায়ের পক্ষ থেকে বাধার সম্মুখীন হন। মুস'আব ইবনু 'উমাইর তাঁর ধনাঢ্য জীবন ছেড়ে কষ্টের পথ বেছে নেন। 'আবদুল্লাহ ইবনু মাস'ঊদ মক্কায় প্রথম উচ্চস্বরে কুরআন তিলাওয়াত করেন এবং কুরাইশদের হাতে প্রহৃত হন। এই নির্যাতন সাহাবিদের ঈমানকে আরও মজবুত করেছিল।

টিকাঃ
৩৮৪. আস-সীরাহ আন-নাবাওয়ীয়াহ, ইবনু কাসীর (১/৪৩৯-৪৪১) এবং আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ (৩/৩০)
৩৮৫. মুসনাদ আহমাদ (১/৪০৪), হাসান
৩৮৬. আস-সীরাহ আন-নাবাওয়ীয়াহ, ইবনু হিশাম (১/৩৯৪)
৩৮৭. আত-তাবিয়াহ আল-কিয়াদিয়াহ (১/১৪০)
৩৮৮. সাহীহ মুসলিম, বিলালের গুণাবলি, হাদীস নং ২৪৫৮
৩৮৯. আত-তাবাকাত আল-কুবরা, ইবনু সা'দ (৩/২৩২)।
৩৯০. আস-সীরাহ আন-নাবাওয়ীয়াহ, ইবনু হিশাম (১/৩৯৩)
৩৯৩. সীরাহ ইবনু হিশাম (১.৩১৯) এবং তাফসীর আল-আলুসী (৩০/১৫২)
৩৯৪. সাহীহ আস-সীরাহ আন-নাবাওয়ীয়াহ, ইবরাহীম আল-'আলী, পৃ. ৯৭, ৯৮
৩৯৫. ফিকহুস-সীরাহ, আল-গাযালী, পৃ. ১০৩
৩৯৬. তাফসীর ইবনু কাসীর (৩/৪৪৬)
৩৯৭. বুখারী, নাবৃওয়্যাতের গুণাবলি, হাদীস নং ৩৬১২
৩৯৮. আল-গুরাবা আল-আওয়ালুন (পৃ. ১৪৫, ১৪৬)
৩৯৯. মুসনাদ আহমাদ (৫/১১১)
৪০০. আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়া (৩/৩২)
৪০১. আল-ইসাবা (৬/২১৪)
৪০২. ইবনু হাশীম (১/৩১৪-৩১৫) এবং আসাদ আল-গাবাহ (৩/৩৮৫, ৩৮৬)
৪০৩. বুখারি, স্বপ্নের ব্যাখ্যা; নারীদের স্বপ্ন (৭০০৩, ৭০০৪)

📘 রউফুর রহীম 📄 নিরাপত্তার বিষয়ে উম্মু জামীলের সচেতনতা

📄 নিরাপত্তার বিষয়ে উম্মু জামীলের সচেতনতা


আবু বাক্র (রা.) গুরুতর আহত হওয়ার পর তাঁর মা উম্মুল-খাইর যখন নবিজির খোঁজ নিতে উম্মু জামীল বিনতুল-খাত্তাবের কাছে যান, তখন উম্মু জামীল অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজ করেন। তিনি শুরুতে এমন ভান করেন যেন তিনি নবিজি বা আবু বাক্রকে চেনেন না, যাতে গোপনীয়তা ফাঁস না হয়। পরে তিনি আবু বাক্রের বাড়িতে গিয়ে তাঁর অবস্থা দেখেন এবং তাঁর মায়ের সহানুভূতি অর্জন করেন।

উম্মু জামীল সরাসরি নবিজির অবস্থান না বলে উপযুক্ত সময়ের জন্য অপেক্ষা করেন। যখন পরিবেশ শান্ত হয় এবং মানুষের চলাচল কমে যায়, তখন তিনি অত্যন্ত গোপনে আবু বাক্রকে রাসূলুল্লাহর অবস্থানস্থলে পৌঁছে দেন। তথ্য গোপন রাখা এবং সঠিক সময় নির্বাচন করার ক্ষেত্রে উম্মু জামীলের এই সতর্কতা ছিল অতুলনীয়।

টিকাঃ
২৪৭. দেখুন: আল-হুমাইদি, আত-তারীখ আল-ইসলামি, ১/৬৯। (প্রাসঙ্গিক রেফারেন্স)

📘 রউফুর রহীম 📄 রাসূল (সা.) তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিতেন যে যে বিষয়ের ওপর

📄 রাসূল (সা.) তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিতেন যে যে বিষয়ের ওপর


রাসূলুল্লাহ সাহাবিদেরকে আধ্যাত্মিক ও মানসিক দৃঢ়তা অর্জনের প্রশিক্ষণ দিতেন। তিনি তাঁদেরকে তিনটি প্রধান বিষয়ে গুরুত্ব দিতেন:
১. পূর্ববর্তী নবি-রাসূলদের ধৈর্যের উদাহরণ দিয়ে তাঁদের সান্ত্বনা দিতেন।
২. মুত্তাকিদের জন্য পরকালে জান্নাতের নেয়ামাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিতেন।
৩. এই দুনিয়াতেই আল্লাহর সাহায্য ও বিজয়ের সুসংবাদ দিতেন।

তিনি সাহাবিদেরকে শেখাতেন যে, সাহায্য অর্জনের পূর্বশর্ত হলো ধৈর্য ও কষ্ট স্বীকার। তিনি তাঁদেরকে তাড়াহুড়ো না করে আল্লাহর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে বলতেন। পাশাপাশি তিনি কীভাবে একটি শক্তিশালী ইসলামি সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করা যায়, সেই পরিকল্পনাও সাহাবিদের মনে গেঁথে দিতেন।

টিকাঃ
৩৯৮. আল-গুরাবা আল-আওয়ালুন (পৃ. ১৪৫, ১৪৬)

ফন্ট সাইজ
15px
17px