📄 দা‘ওয়াতের পথে মুশরিকদের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি
আল্লাহর ওয়াহদানিয়্যা তথা তাঁর এককত্ব, আখিরাতে বিশ্বাস, নবিজির রিসালাতের ওপর আস্থা, এবং সর্বোপরি আল্লাহর পাঠানো কুরআন ইত্যাদির বিরোধিতা করাই ছিল মুশরিক নেতাদের মূল লক্ষ্য।
মাক্কার মুশরিকরা তাওহীদের বিরোধিতা করত। যদিও তাঁরা বিশ্বাস করত আল্লাহ সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু তাঁরা মূর্তিপূজা করত এই ধারণায় যে এগুলো তাঁদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেবে। কুরআন তাঁদের এই ভুল আকীদা সংশোধন করে দেয়। আল্লাহ জিন ও ফেরেশতাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তাঁরা তাঁর সন্তান বা সঙ্গী নয়। মুশরিকরা ফেরেশতাদেরকে আল্লাহর কন্যা মনে করত, যা কুরআন প্রত্যাখ্যান করেছে।
মুশরিকরা পরকালকেও অস্বীকার করত। তাঁরা মনে করত দুনিয়ার এ জীবন ছাড়া আর কোনো জীবন নেই এবং মৃত্যুর পর পুনরায় ওঠানো হবে না। তাঁরা মৃত মানুষের জীর্ণ হাড্ডি দেখিয়ে রাসূলুল্লাহকে উপহাস করত। এর জবাবে আল্লাহ ঘোষণা করেন যে, যিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, তিনিই পুনরায় জীবিত করবেন। কুরআন কাফিরদের সামনে যুক্তি পেশ করে যে, শস্যহীন ভূমিকে যেমন আল্লাহ বৃষ্টির মাধ্যমে সজীব করেন, তেমনিভাবে মৃত মানুষকেও তিনি পুনরায় উত্থিত করবেন।
মুশরিকরা রাসূলুল্লাহর ব্যক্তিত্বের ওপরও আঘাত হানে। তাঁরা দাবি করত রাসূল কেন তাঁদের মতো রক্ত-মাংসের মানুষ হবেন, কেন তিনি ফেরেশতা নন। তাঁরা রাসূলকে পাগল, গণক, কবি বা জাদুকর বলে অপবাদ দিত। আল্লাহ কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের মাধ্যমে তাঁদের এই মিথ্যাচারের জবাব দেন এবং রাসূলুল্লাহকে সান্ত্বনা দান করেন। আল্লাহ জানিয়ে দেন যে, তাঁরা আসলে নবিজিকে মিথ্যাবাদী বলছে না, বরং আল্লাহর নিদর্শনাবলিকেই অস্বীকার করছে।
টিকাঃ
৩৫২. রিসালাতুল-আম্বিয়া (৩/৫২)।
৩৫৩. ইবনু 'আব্বাসের এক বর্ণনা অনুযায়ী: লোকটি উবাই ইবনু খালাফ ছিল না; ছিল 'আস ইবনু ওয়া'ইল।
৩৫৪. তাফসীর ইবনু কাসীর, (৩/৫৮১)।
৩৫৫. দেখুন: আল-ওয়াসিতিয়্যাতু ফিল-কুরআনিল-কারীম (পৃ. ৪০২)।
৩৫৬. তাফসীর ইবনু কাসীর (২/১২৪)।
৩৫৭. তাফসীর ইবনু কাসীর (৪/১২৬, ১২৭)।
৩৫৮. দেখুন: রিসালাতুল-আম্বিয়া (৩/৫৭)।
৩৫৯. প্রাগুক্ত (৩/৫৮)।
📄 কুরআনের ব্যাপারে তাদের অবস্থান
মুশরিকরা কোনোভাবেই বিশ্বাস করছিল না যে, কুরআন আল্লাহর কাছ থেকে নাযিলকৃত একটি কিতাব। তাঁরা একে কবিতার বই বা গণকদের কথা হিসেবে বিবেচনা করত। আল্লাহ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন যে, যদি তাঁদের সন্দেহ থাকে তবে তাঁরা যেন কুরআনের অনুরূপ কোনো সূরা রচনা করে নিয়ে আসে। কিন্তু তাঁরা তা করতে ব্যর্থ হয়।
মুশরিকদের কেউ কেউ দাবি করত যে মুহাম্মাদ তো একজন অনারব দাসের কাছ থেকে কুরআন শেখেন। আল্লাহ এই দাবির অসারতা প্রমাণ করেন এই বলে যে, যার দিকে তাঁরা ইঙ্গিত করছে তাঁর ভাষা তো স্পষ্ট নয়, অথচ কুরআনের ভাষা সুষ্পষ্ট আরবি। মুশরিকরা প্রশ্ন তুলত কেন কুরআন একবারে নাযিল না হয়ে ধাপে ধাপে নাযিল হলো। আল্লাহ জানান যে, মু'মিনদের অন্তর সুদৃঢ় করার জন্যই এটি ক্রমে ক্রমে নাযিল করা হয়েছে। কুরাইশরা ভাষার বিশুদ্ধতায় পারদর্শী হওয়া সত্ত্বেও কুরআনের একটি ছোট সূরার মোকাবিলা করতেও সক্ষম হয়নি।
টিকাঃ
৩৬০. প্রাগুক্ত (৩/৫৯)।
৩৬১. রিসলাতুল-আম্বিয়া (৩/৫৯)।
৩৬২. দেখুন: তাহযীব আস-সীরাহ (১/৭৪, ৯০), এবং সীরাত ইবনু হিশাম (১/৩৯৩)
৩৬৩. দেখুন: তাফসীর ইবনু কাসীর (২/৫৮৬)।
৩৬৪. দেখুন: রিসালাতুল-আম্বিয়া (৩/৬৬)।