📄 শারীরিক প্রশিক্ষণ
রাসূল যে সাহাবিদেরকে কেবল আধ্যাত্মিক ও মানসিক প্রশিক্ষণ দিতেন তাই-ই নয়, বরং তিনি তাঁদেরকে শারীরিক প্রশিক্ষণও দিতেন। অবশ্যই, তা ছিল কুরআনের দেখানো পথেই। যাতে শরীরকে যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে তা যেন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে শরীর পালন করতে পারে। কোনোরূপ কাটছাঁট না করেই; কোনোরূপ বাড়াবাড়ি কিংবা ছাড়াছাড়ি ছাড়াই।
কুরআন যেভাবে মানব-শরীরের প্রয়োজনীয়তার রূপরেখা এঁকেছে:
* খাওয়া ও পানের প্রয়োজনীয়তার প্রতি গুরুত্বারোপ।
* পোশাক-আশাকের আবশ্যকতার প্রতি নির্দেশ; নিদেনপক্ষে সতর ঢাকা যায় এবং শরীরকে শীতের প্রকোপ ও গরমের উত্তাপ থেকে রক্ষা করা এতটুকু পোশাক লাগবেই। তবে পোশাকের সৌন্দর্যের দিককে ইসলাম উপেক্ষা করেনি কখনোই। বিশেষ করে, সালাতের জন্য মাসজিদে যাওয়ার সময় সুন্দর পোশাক পরিধানকে ইসলাম উৎসাহ দিয়েছে।
* বাসস্থানের প্রয়োজনীয়তার প্রতি গুরুত্বারোপ।
* বিয়ে ও সংসার-ধর্ম করার প্রতি গুরুত্বারোপ; বরং অবস্থাভেদে কখনো কখনো এই বিয়েকে শারী'আহ ওয়াজিব করেছে। যিনা-ব্যভিচার, লিভ-টুগেদার ও সমকামিতাকে হারাম বলে ঘোষণা দিয়েছে।
* ব্যক্তি মালিকানা ও সম্পদ নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ অধিকারের প্রয়োজনীয়তার প্রতি নির্দেশ; বৈধ পথে, শারী'আহ-সমর্থিত পথে ধন-সম্পদ কামাই ও জায়গা-জমির মালিক হতে ইসলামে কোনো বাধা নেই।
* ব্যক্তির নিরাপত্তা বিধানের প্রয়োজনীয়তার প্রতি গুরুত্বারোপ; এ নিরাপত্তা দিতে ইসলাম জুলুম-অত্যাচার, নিপীড়ন ও সীমালঙ্ঘনকে নিষেধ করেছে।
* কাজ ও সফলতার প্রয়োজনীয়তার প্রতি গুরুত্বারোপ; অলসতা না করে, আঁতেল সেজে বসে না থেকে কাজ করে রুটি-রুজির বন্দোবস্তের জন্য ইসলাম জোর তাগিদ দিয়েছে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, কাজটি যাতে শারী'আহ-স্বীকৃত হয়। উদ্দেশ্য—বর্তমান ও ভবিষ্যতে ইসলাম ও মুসলিমদের কল্যাণ সাধন।
* ঔদ্ধত্য প্রদর্শন, দাম্ভিক আচরণ ও প্রাপ্ত অনুগ্রহের অকৃতজ্ঞ না হওয়া ব্যাপারে আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে বারবার সতর্ক করেছেন।
শারীরিক প্রশিক্ষণের এই ছিল মৌলিক কিছু পদ্ধতি; রাসূল ﷺ এভাবেই দীক্ষা দিতেন তাঁর সাহাবিদেরকে। যাতে করে জিহাদের মাঠের ভয়াবহতা, দা'ওয়াতর পথের কষ্ট ও জীবনের রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি হতে তাঁদের শরীরকে খুব বেশি বেগ পেতে না হয়।
📄 উত্তম চরিত্র গঠনের প্রশিক্ষণ দান
উন্নত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, আকীদা-বিশ্বাসের অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ; উন্নত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ছাড়া কোনো বিশুদ্ধ আকীদা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। রাসূল বিভিন্নভাবে, নানা পদ্ধতিতে সাহাবিদেরকে উন্নত চরিত্র অর্জনের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। রাসূল বলেন, “কিয়ামাতের দিন মু'মিনের দাঁড়িপাল্লায় সুন্দর চরিত্রের চেয়ে আর কিছুই ভারী হবে না। কারণ, নিশ্চয়ই আল্লাহ অশ্লীল ও অশালীনভাষীকে ঘৃণা করেন।” একবার নবিজিকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন কাজটি মানুষকে সবচেয়ে বেশি জান্নাতে প্রবেশ করাবে। তখন রাসূলুল্লাহ উত্তরে বললেন, “আল্লাহভীতি ও উত্তম চরিত্র।” আবার তাঁকে প্রশ্ন করা হলো, কোন কাজটি মানুষকে সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে নিয়ে যাবে। তিনি বললেন, “মুখ ও লজ্জাস্থান।” চরিত্রের বিষয়টি আল্লাহর এ দীনের দ্বিতীয় কোনো বিষয় নয়। এটা খাঁটি ঈমান ও বিশুদ্ধ আকীদার বাস্তবায়িত রূপের নামই চরিত্র। কারণ, ঈমান কেবল অন্তরের গভীরে লালিত কোনো ভাবাবেগ নয়; বরং চারিত্রিক একটি আমলের নাম ঈমান।
এজন্যই আমরা দেখি, কুরআন আকীদা-বিশ্বাসের সঙ্গে চরিত্রের একটি সুদৃঢ় মেলবন্ধন তৈরি করে দিয়েছে। রাসূল তাঁর সাহাবিদেরকে এ দীক্ষা দিতেন যে, 'ইবাদাত হলো উত্তম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের একটি প্রকার; কারণ, আল্লাহকে দেওয়া প্রতিজ্ঞাপূরণ, তাঁর দেওয়া অনুগ্রহের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং তাঁর অনুগ্রহের স্বীকৃতি প্রদানের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো চরিত্র। ফলে সাহাবিদের চরিত্র গড়ে ওঠে আল্লাহর নির্দেশিত পথে; এ চরিত্রের উদ্দীপক ছিল আল্লাহর প্রতি অবিচল ঈমান, অনুপ্রেরণা ছিল আখিরাতে পাওয়ার আশা এবং এর উদ্দেশ্য ছিল কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর পুরস্কার।
নবিজির প্রশিক্ষণের মানহাজে এসে চরিত্র তাঁর পূর্ণতা পায়; মানুষের আচরণগত কোনো দিকই বাদ পড়েনি এখানে। প্রতিটি কাজ, প্রতিটি 'ইবাদাতের চারিত্রিক দিক রয়েছে; সালাতের চারিত্রিক দিক বিনম্রতা, কথার চারিত্রিক দিক অনর্থকতা থেকে জিহ্বাকে সংযত করা। যৌনতার চারিত্রিক দিক হলো আল্লাহর দেওয়া সীমারেখা ও তাঁর নিষিদ্ধতা থেকে বেঁচে থাকা। অন্যের সঙ্গে লেনদেনেরও চারিত্রিক কিছু দিক আছে; বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির মাঝামাঝি একটি অবস্থান মেনে চলাই এর চরিত্র। সবার সঙ্গে পরামর্শ করে কাজে নামার নামই সামাজিক চরিত্র। রাগে ফেটে পড়ার আগেই ক্ষমা করে দেওয়া মহৎ লোকের কাজ। দুশমনের দুশমনি মোকাবিলারও আছে কিছু আদবকেতা; সীমালঙ্ঘন বা বাড়াবাড়িতে না গিয়ে শত্রুতা প্রতিহত করে বিজয় ছিনিয়ে আনাই এর চারিত্রিক দিক। মুসলিমের জীবনের এমন একটি দিকও খুঁজে পাওয়া যাবে না যার চারিত্রিক সমাধান ইসলাম দেখায়নি। চারিত্রিক মানহাজের প্রথমদিকে আল্লাহ তাঁর তাওহীদের অবস্থান দিয়েছেন। কুরআন এ চিত্রটি এঁকেছে এভাবে—
"আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। এটা একটা খারাপ কাজ ও নিকৃষ্ট পথ। আল্লাহ যাকে হত্যা করা নিষেধ করেছেন ন্যায্য কারণ ছাড়া তাকে হত্যা কোরো না। যাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয় তার উত্তরাধিকারীকে তো আমি ক্ষমতা দিয়েছি; তবে সে যেন হত্যার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি না করে। ইয়াতিম বয়োপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সুন্দরতম পদ্ধতি ছাড়া তার সম্পদের কাছেও যাবে না। আর ওয়াদা পূরণ করবে। ওয়াদা সম্পর্কে নিশ্চয়ই জিজ্ঞাসা করা হবে। মাপ পুরোপুরি দেবে এবং সঠিক নিক্তিতে ওজন করবে। যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই তার পেছনে লেগো না। কান, চোখ ও অন্তর এগুলোর প্রত্যেকটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। জমিনে দম্ভভরে চলো না। এসবের মধ্যে প্রতিটি খারাপ কাজ তোমার রবের কাছে অপছন্দনীয়।" [সূরা ইসরা, ১৭: ৩২-৩৮]
টিকাঃ
৩৩৫. আত-তিরমিযি, সদ্ব্যবহার ও পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখা অধ্যায়, সচ্চরিত্র ও সদাচার পরিচ্ছেদ, হাদীস নং: (২০০২), এ হাদীসটি "হাসান সহীহ”।
৩৩৬. আত-তিরমিযি, সদ্ব্যবহার ও পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখা অধ্যায়, সচ্চরিত্র ও সদাচার পরিচ্ছেদ, হাদীস নং: (২০০৪), এ হাদীসটি “সহীহ গারীব”।
৩৩৭. দেখুন: মুহাম্মাদ কুতুব, দিরাসাত কুরআনিয়্যা (পৃ. ১৩০)।
৩৩৮. দেখুন: সূরা আল-মু'মিনূন-এর ১-১১ আয়াত, সূরা আল-আন'আম-এর ১৫১-১৫৩ আয়াত, সূরা আর-রা'দ-এর ১৯-২২ আয়াত এবং সূরা আল-ইসরা-এর ২৩-২৮ আয়াত।
৩৩৯. আল-ওয়াসাতিয়্যাতু ফিল-কুরআনিল-কারীম (পৃ. ৫৯১)।
৩৪০. দেখুন: তাফসীর আল-কাসিমি (৯/৩১০)।
📄 কুরআনের বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে সাহাবিদেরকে চারিত্রিক প্রশিক্ষণ দান
কুরআনের প্রতিটি ঘটনার পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে অনুপম সব শিক্ষা, নসিহত ও উপদেশ। এখানে আকীদার আলোচনা আছে। আছে চারিত্রিক উন্নতি সাধনের দিকনির্দেশনাও। আরও আছে প্রাচীন বিভিন্ন জাতির কাহিনি থেকে শিক্ষা। কুরআনের ঘটনাগুলো এমন কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা নয় যেখানে কেবল ঐতিহাসিকদেরই খোরাক রয়েছে। বরং ইতিহাসের চেয়েও মহৎ কিছু এগুলো। ঘটনাগুলো আরেকবার পড়ুন। দেখবেন প্রতিটি ঘটনা তাওহীদ, জ্ঞানবিজ্ঞান, উত্তম চরিত্র, যৌক্তিক দালিলিক উপস্থাপন, বিগত জাতি-গোষ্ঠীর পরিণতি এবং নান্দনিক শৈলীতে উপস্থাপিত অসাধারণ সব বাক্যশৈলীতে ভরপুর।
কুরআনে বিধৃত এমন হাজারো ঘটনা থেকে নবি ইউসুফের ঘটনার কথা ভাবলে দেখা যায়, মানব-আচরণ বিশেষজ্ঞ ও জ্ঞানীরা বলেন, “কোনো সংস্কারক, নিবেদিতপ্রাণ, হিদায়াতপ্রাপ্ত পথপ্রদর্শক ও উন্নত চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তিত্ব ছাড়া উম্মাহর কাজ সুষ্ঠুভাবে কেউই সম্পাদন করতে পারে না।” একজন যোগ্য ও সৎ মুসলিম নেতার জন্য নবি ইউসুফের ঘটনা থেকে অনুপম কিছু শিক্ষা নিচে দেওয়া হলো:
১. প্রবৃত্তির তাড়না থেকে পবিত্র থাকা; ইউসুফ সর্বোচ্চ শক্তি ব্যয় করে জৈবিক বাসনা থেকে নিজের চরিত্রকে পবিত্র রেখেছেন।
২. রাগের মাথায় সহনশীল আচরণ করা।
৩. নম্রতার সময় নম্র আর কঠোরতার সময় কঠোর হওয়া।
৪. আল্লাহর ওপর ভরসা করে নিজের আস্থা রাখা।
৫. প্রখর স্মরণ শক্তির অধিকারী হওয়া।
৬. নির্মল চিত্তের অধিকারী হওয়া।
৭. শিক্ষার প্রতি উদগ্রীব হওয়া, জ্ঞানের জন্য ভালোবাসা।
৮. গায়ে বল ও পদমর্যাদা থাকা সত্ত্বেও দুর্বল-অসহায়ের প্রতি সহানুভূতি দেখানো।
৯. প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ক্ষমাসুন্দর আচরণ করা।
১০. নিকটাত্মীয়দের সম্মান করা।
১১. সুন্দর ও প্রাঞ্জল ভাষায় উপস্থাপনের যোগ্যতা থাকা।
১২. সুষ্ঠু পরিকল্পনা করতে পারার যোগ্যতা থাকা।
কুরআনের কাহিনিগুলোর উদ্দেশ্য হলো উন্নত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অর্জনের প্রতি পাঠককে উদ্বুদ্ধ করা। এ উন্নত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ব্যক্তি থেকে শুরু করে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, জাতি ও সভ্যতা সবকিছুকেই উপকার করে।
মাক্কী যুগে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মাদীনাতে নতুন কিছু পদ্ধতি যোগ হয়। যেমন:
শার'ঈ বিধান প্রণয়ন: ইসলামি শারী'আতের প্রধান লক্ষ্যই হলো মানুষের নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষা করা। দণ্ডবিধি ও কিসাসের মতো শারী'আহর বিধানগুলো এজন্যই দেওয়া হয়েছে যাতে বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় থেকে ব্যক্তি ও সমাজকে রক্ষা করা যায়।
সামাজিক কর্তৃত্ব: সামাজিক কর্তৃত্ব এমন এক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে যা সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজের নিষেধ, মু'মিনদের পারস্পরিক কল্যাণ কামনার মাধ্যমে অর্জিত হতে পারে। আল্লাহ বলেন, “তোমরা (প্রকৃত মুসলিমরা) হলে শ্রেষ্ঠ জাতি যাদেরকে মানুষের জন্য আবির্ভূত করা হয়েছে। তোমরা ভালো কাজ করার আদেশ দাও, খারাপ কাজ করতে বারণ করো এবং আল্লাহকে বিশ্বাস করো।” [সূরা আলু-'ইমরান, ৩:১িও]
রাষ্ট্র ক্ষমতা: ইসলামে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক একটি কাজ। এ রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে উন্নত চরিত্র। শাসক তাঁর সর্বশক্তি প্রয়োগ করবেন যাতে রাষ্ট্রটি একটি নৈতিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
মাক্কী যুগে চারিত্রিক ও বিশ্বাসগত ভিত্তি তৈরির প্রশিক্ষণের ফলাফল হাতেনাতে পাওয়া যায়; ইসলামে অগ্রগামী সাহাবিদের প্রথম ৫০ জনের মধ্যে ২০ জনের বেশি সাহাবি নেতৃত্বের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। উম্মাহর শ্রেষ্ঠ মানুষরা ছিলেন এ প্রথম প্রজন্মের সাহাবিদের মধ্যে। আকীদার বিশুদ্ধতা, আত্মিক পরিশুদ্ধতা ও চারিত্রিক উন্নতির জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রশিক্ষণ পান প্রথম যুগের সাহাবিরা। মানবেতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষক ও উত্তম প্রশিক্ষক নবিজির হাতে তাঁদের দীক্ষা সম্পন্ন হয়। তাঁরা ছিলেন কাফেলার নেতা এবং উম্মাহর পথপ্রদর্শক। রাসূলুল্লাহর সাথে নিয়মিত দেখা হওয়া ও তাঁর থেকে দীক্ষা পাওয়া সাহাবিরা নিজেদেরকে কতটাই-না সৌভাগ্যবান ভাবতেন!
টিকাঃ
৩৪১. আল-মিনহাজুল-কুরআনি ফী আত-তাশরী' (পৃ. ৪৩৩)।
৩৪২. দেখুন: আল-গাদবান, আত-তারবিয়াহ আল-কিয়াদিয়্যাহ (১/২০১)।
৩৪৩. প্রাগুক্ত (১/২০২, ২০৩)।