📘 রউফুর রহীম 📄 জগৎ, জীবন ও বিভিন্ন সৃষ্টজীবের প্রতি সাহাবিদের দৃষ্টিভঙ্গি

📄 জগৎ, জীবন ও বিভিন্ন সৃষ্টজীবের প্রতি সাহাবিদের দৃষ্টিভঙ্গি


সাহাবিদেরকে আল্লাহর কিতাব কুরআন শেখানোর কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন রাসূল। কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের আলোকে তিনি তাঁদের আকীদা-বিশ্বাস এবং দুনিয়া ও জীবনের প্রতি তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি শুধরে দেন। পৃথিবীর উৎপত্তি ও তাঁর পরিণতি সম্পর্কেও রাসূল তাঁদেরকে সুস্পষ্ট ধারণা দেন। এভাবেই কুরআন সৃষ্টিজগৎ ও এর মধ্যে অবস্থিত সৃষ্টজীব সম্পর্কে সাহাবিদের ধ্যান-ধারণা, চিন্তা-ভাবনাকে একটা বিশুদ্ধ আকৃতি দেয়। ধ্বংসশীল এই জীবনের আসল ঠিকানা কোথায়, তাঁরও প্রকৃতি উন্মোচন করে দেয় কুরআন তাঁদের সামনে। প্রকৃত ঠিকানা ও মুক্তি পাওয়ার উপায়গুলো সাহাবিদেরকে রাসূল বারবার স্মরণ করিয়ে দিতেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে, তাঁদের মধ্যে যে ব্যক্তি নিজের প্রকৃত গন্তব্য এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে যাওয়ার সফলতার বিষয়টি জানবে, সে তাঁর সর্বশক্তি ব্যয় করে মুক্তির সে পথে পা বাড়াবেই। এভাবেই সে কিয়ামতের দিন পেয়ে যাবে জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাতে যাওয়ার মতো মহাসফলতা।

জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং জান্নাতে যাওয়ার মতো সফলতার বিষয়ে রাসূলুল্লাহর অধিক জোর দেওয়ার কারণ এই যে, দুনিয়ার জীবন, যত দীর্ঘই হোক না কেন, অনন্তকালীন জান্নাতের তুলনায় তা খুবই ক্ষণস্থায়ী। দুনিয়ার ভোগ-বিলাসের সামগ্রী, যতই চোখ ধাঁধানো কিংবা উপভোগ্য হোক না কেন, তা আসলে খুবই সামান্য, খুবই নগণ্য। দুনিয়ার খেল-তামাশা, ধোঁকা-প্রবঞ্চণা অনেক সময় দাওয়াতের মাঠে কাজ করেন এমন অনেককেই হতবুদ্ধি করে দেয়। আপন কর্তব্য ভুলে গিয়ে তাঁরা দুনিয়ার জীবনে মজে থাকে, ভোগের সাগরে হাবুডুবু খায়। দুনিয়ার সঙ্গে অহেতুক সম্পৃক্ততাই তাঁদেরকে এমন খাই খাই স্বভাবের করে তোলে। মুসলিম উম্মাহর কাছে দা'ওয়াতের বাণী পৌঁছানো, তাঁদেরকে গাফিলতির ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলার পথে দুনিয়ার ভোগ-বিলাস নিয়ে মত্ত থাকাটা, নিঃসন্দেহে, মস্ত বড় একটা বিপর্যয়। তবে এখানে খেয়াল করার বিষয়টি হলো, দুনিয়ার কিছুই ভোগ করা যাবে না, সবকিছুতেই মানা—ব্যাপারটি কিন্তু আদৌ তেমন নয়। বরং শারী'আহ একে পরিশীলিত করে এর জন্য একটা সীমারেখা টেনে দিয়েছে। ঠিক ততটুকুই গ্রহণ করা যাবে যা কাজে লাগবে আখিরাতে যাওয়ার বৈতরণীরূপে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px