📘 রউফুর রহীম 📄 নবিজির ব্যক্তিত্বের প্রভাব

📄 নবিজির ব্যক্তিত্বের প্রভাব


মানব ইতিহাসের শিক্ষা-দীক্ষার সবচেয়ে মহান বিদ্যাপীঠটির নাম ‘দারুল-আরকাম ইবনুল-আরকাম’। আর এটি মহান হবেই না বা কেন, যখন এর শিক্ষক রাসূল ﷺ নিজেই। দারুল-'আরকামে রাসূল ﷺ প্রথম প্রজন্মের মুসলিমদেরকে আল্লাহর অনুগ্রহে এমনভাবে গড়ে তোলেন যে, তাঁরা মানব ইতিহাসে দা’ওয়াতের মহান কাজগুলো সহজেই সম্পাদন করতে সক্ষম হন।

রাসূল ﷺ গোপনে দা’ওয়াত দেওয়ার ওই সময়ে দারুল-'আরকামে অনন্যসাধারণ এমন একদল লোককে প্রশিক্ষিত করতে সক্ষম হন যাঁরা, তাঁর মৃত্যুর পরও, তাওহীদ, দা’ওয়াত ও জিহাদের পতাকা বহন করেন। নুবুওয়াতি জীবনের প্রথম তিন বছরের মধ্যে দা’ওয়াতের প্রধান ব্যক্তিদের বাছাইয়ে রাসূল ﷺ অত্যন্ত বিচক্ষণতার পরিচয় দেন। তিনি তাঁদেরকে নেতার আনুগত্যের অর্থ, নেতৃত্বের সুলুকসন্ধান এবং এর রীতিনীতি হাতেকলমে শেখান।

দারুল-'আরকামে দীক্ষা দানে সবচেয়ে বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে নবিজির ব্যক্তিত্ব। যেকোনো লোক এসেই তাঁর এমন ব্যক্তিত্ব দেখে বিমোহিত হয়ে যেত। নবিজির ব্যক্তিত্ব ইসলামের জন্য চালিকাশক্তি ও উদ্দীপকের কাজ করত। তাঁর ব্যক্তিত্বে মানুষকে সহজে আপন করে নেওয়ার মতো অসাধারণ একটি গুণ ছিল। মু'মিনরা তাঁর ব্যক্তিত্বের কারণে যেমনি ভালোবাসতেন, তেমনি ভালোবাসতেন আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর কাছে ওয়াহি আসার কারণে তাঁদের সম্পর্ক সরাসরি রবের সঙ্গে স্থাপিত হলো বলেও। এভাবেই রাসূলুল্লাহর ব্যক্তিত্বে দুটি গুণের সমন্বয় ঘটে: তিনি একাধারে একজন মহামানব ও একজন মহান রাসূল।

টিকাঃ
৩০০. দেখুন: রাসূলুল্লাহর রাষ্ট্র: শিকড় থেকে শিখরে (পৃ. ২১৯)।
৩০১. প্রাগুক্ত (পৃ. ২২০)।
৩০২. দেখুন: মুহাম্মাদ কুতুব, মানহাজুত-তারবিয়াতিল-ইসলামিয়্যাহ (পৃ. ৩৪, ৩৫)।

📘 রউফুর রহীম 📄 দারুল-আরকামের পাঠ্যসূচি

📄 দারুল-আরকামের পাঠ্যসূচি


রাসূল ﷺ দারুল-'আরকামে যে পাঠ্যসূচির আলোকে পাঠদান করতেন তা ছিল আল-কুরআন; কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানের প্রধানতম উৎস। সাহাবিদের জ্ঞানের প্রধানতম উৎস যাতে এ কুরআনই হয় সে বিষয়ে রাসূল ﷺ ছিলেন সচেষ্ট। তিনি চাইতেন কুরআনই যাতে এ বিদ্যাপীঠের একমাত্র মানহাজ হয়। যার আলোকে পরিচালিত হবে একজন মুসলিমের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবন।

ওয়াহির অমিয় বাণী তাঁদের হৃদয় ছুঁয়ে যেত, অন্তরে গেঁথে যেত। দারুল-'আরকামে সাহাবিরা শিখলেন যে, কুরআন ও নবিজির সুন্নাহই দা'ওয়াত, জীবন, রাষ্ট্র ও সভ্যতা পরিচালনার সবচেয়ে বড় ও সুপ্রীম সংবিধান। প্রথম প্রজন্ম কুরআনকে গ্রহণ করেন ঐকান্তিকভাবে, প্রচণ্ড নিষ্ঠার সাথে। তাঁরা উদগ্রীব ছিলেন কুরআন অনুধাবনে এবং জীবনে তাঁর পরিপূর্ণ বাস্তবায়নে।

এভাবেই ইসলামের প্রথম প্রজন্ম গড়ে ওঠে কুরআনের আলোকে; রব-প্রদত্ত এ নির্দেশনাগুলো কাজে পরিণত করার জীবন্ত ছবি হয়ে ওঠেন তাঁরা। কুরআন ছিল তাঁদের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত নির্দেশনার বিদ্যালয়। ইসলামের এ প্রজন্মের মুসলিমরা কুরআনের দীক্ষায় গ্র্যাজুয়েশন শেষে বের হয়ে পৃথিবীর সব সমাজে অনন্যতার ছাপ রাখেন।

টিকাঃ
৩০৩. দেখুন: রাসূলুল্লাহর রাষ্ট্র: শিকড় থেকে শিখরে (পৃ. ২২৫)।
৩০৪. দেখুন: রাসূলুল্লাহর রাষ্ট্র: শিকড় থেকে শিখরে (পৃ. ৩৩৫)।

📘 রউফুর রহীম 📄 দারুল-'আরকামকে বেছে নেওয়ার কারণ

📄 দারুল-'আরকামকে বেছে নেওয়ার কারণ


অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে দারুল-'আরকামকে দীনের প্রথম বিদ্যালয় হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনে। এর কয়েকটি নিম্নরূপ:

* 'আরকাম প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেননি। তাই সংগত কারণেই কেউ কল্পনাও করতে পারেনি যে, সাহাবিরা নবিজির সঙ্গে 'আরকামের বাড়িতে গোপনে দেখা-সাক্ষাৎ করেন।

* 'আরকাম ইবনু আবুল-'আরকাম ছিলেন মাখযূম গোত্রের লোক। আর মাখযূম গোত্রের শত্রুতা ছিল হাশিম গোত্রের সঙ্গে। তাঁর ঘরে মুসলিমদের জমায়েত হওয়ার মানেই হচ্ছে: মুসলিমরা জেনেশুনেই শত্রু ঘাঁটির কলিজায় বসে রাসূলুল্লাহর সঙ্গে তাঁদের নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ করে যাচ্ছে।

* ইসলাম গ্রহণকালে 'আরকামের বয়স খুব বেশি ছিল না; ষোলো ছুঁই ছুঁই করছিল। তখন যদি কুরাইশদের মনে ইসলামি দাওয়াতের কেন্দ্র খোঁজার চিন্তা মাথায় আসতও, তবুও এত অল্প বয়সি এক সাহাবির ঘরে খোঁজার কথা তাঁদের মাথায় আসত না ঘুণাক্ষরেও। এ কারণেই বলা যায়, নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে 'আরকামের বাড়িকে বেছে নেওয়াটা ছিল চূড়ান্ত প্রজ্ঞার পরিচায়ক।

টিকাঃ
৩০৫. দেখুন: আল-গদবান, আল-মিনহাজুল-হারাকি (১/৪৯)।

📘 রউফুর রহীম 📄 প্রথম প্রজন্মের মুসলিমদের কিছু বৈশিষ্ট্য

📄 প্রথম প্রজন্মের মুসলিমদের কিছু বৈশিষ্ট্য


মাক্কা যুগে মু'মিনরা গড়ে ওঠেন ধীরেসুস্থে, ধাপে ধাপে এবং গোপনীয়তা মেনে চলে। সূরা কাহফ্ফের ২৮ নং আয়াতটি সাহাবিদের অনেকগুলো গুণ প্রতিভাত করে:

১. ধৈর্যধারণ: সাহাবিরা নিশ্চিত ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে যাওয়ার জন্য ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। ইসলামে ধৈর্যের এতটাই গুরুত্ব যে, নিশ্চিত ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে যাওয়া মুসলিমদের চারটি গুণের একটির নাম ধৈর্য।

২. আল্লাহর কাছে বারবার মিনতি করা: সাহাবিরা সকাল-সন্ধ্যায় তাঁদের রবকে ডাকতেন। রবের কাছে জানাতেন নিজেদের মনের আকুতি-মিনতি। কারণ, দীনের কাজে আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী মাধ্যমটির নাম দু'আ।

৩. নিষ্ঠা: সাহাবিদের সবকিছুই ছিল একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায়। রবকে ডাকার পেছনে কোনো পার্থিব প্রাপ্তি বা সামাজিক মান-মর্যাদার আশা কাজ করেনি তাঁদের মধ্যে।

৪. সত্যের ওপর অবিচলতা: পার্থিব জীবনের শোভা কামনা না করে তাঁরা সত্যের ওপর অবিচল ছিলেন। ঈমান, পৌরুষত্ব ও সততা—এই তিনটি গুণ তাঁদেরকে চারিত্রিক অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করত।

টিকাঃ
৩০৬. দেখুন: হুসাইন ইবনু মুহসিন, আত-তরীকু 'ইলা জামাআ'তিল-মুসলিমীন (পৃ. ১৭০)।
৩০৭. দেখুন: আয-যিলাল, (৬/৩৯৬৮)।
৩০৮. দেখুন: ফিকহুত-তামকীন মিনাল-কুরআনিল-কারীম (পৃ. ২২১)।
৩০৯. দেখুন: ড. আলি জারীশাহ, দা'ওয়াতুল্লাহ বাইনাত-তাকউঈন ওয়াত-তামকীন (পৃ. ৯১, ৯২)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px