📘 রউফুর রহীম 📄 ‘এবং ওয়াহির আগমন কিছু সময় বন্ধ রইল’

📄 ‘এবং ওয়াহির আগমন কিছু সময় বন্ধ রইল’


নবীন-প্রবীণ সব সীরাত-বিশেষজ্ঞগণই তাদের সীরাতের বইয়ে ওয়াহির বিরতিকাল নিয়ে আলোচনা করেছেন। হাফিজ ইবনু হাজার বলেন, “ওয়াহির বিরতিকাল অর্থ হচ্ছে, কিছুদিন ওয়াহি আগমনের ধারা বন্ধ ছিল। এর পেছনের কারণ হলো, প্রথমবার ওয়াহির সূচনায় রাসূল যে ভয় পেয়েছিলেন, তা যেন দূর হয় এবং তাঁর মনে যাতে ওয়াহি আবার কবে আসবে এমন আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হয়।”

সাহাবি জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ আল-আনসারি থেকে বর্ণিত, তিনি ওয়াহির বিরতিকালের বিষয়ে রাসূল থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল বলেন, “তখন আমি হাঁটছিলাম। এমন সময় আকাশ থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেয়ে উপরের দিকে তাকাই আমি। দেখি, হেরা গুহায় আমার কাছে যে ফেরেশতা এসেছিলেন, তিনি আকাশ জমিন বিস্তৃত একটা আসনে বসে আছেন। আমি তো তাঁকে দেখেই ভয় পেয়ে যাই। তারপর ফিরে আসি এবং বলি, 'আমাকে চাদরাবৃত করো।' তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করেন এই আয়াতগুলো। আল্লাহ বলেন, “হে বস্ত্রাচ্ছাদিত! ওঠো, আর সতর্ক করো। এবং তোমার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো। তোমার পোশাক পবিত্র রাখো। অপবিত্রতা (পৌত্তলিকতা) পরিহার করো।” রাসূল বলেন, “অতঃপর ওয়াহি তীব্রতর হলো এবং ধারাবাহিকভাবে আবার নাযিল হতে লাগল।”

শফিউর রহমান মুবারকপুরি বলেন, “ওয়াহির বিরতিকালের সময় নিয়ে অনেকগুলো মত রয়েছে। বিশুদ্ধ মত হলো, সময়টা ছিল হাতে গোনা কয়েকদিন মাত্র। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, রাসূল এ সময়টাতে খুবই অস্থির থাকতেন। তিনি যতবার পাহাড়ে যেতেন ততবারই জিব্রীল তাঁর সামনে আত্মপ্রকাশ করতেন। তাঁকে সুসংবাদ শোনাতেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল।

টিকাঃ
২৫৬. ফাতহুল-বারি, ১/৩৬।
২৫৭. সহীহ বুখারি, ওয়াহির সূচনা, হাদীস নং: ৪।
২৫৮. দেখুন: আর-রাহীকুল-মাখতুম, পৃ. ৭৯, ৮০।
২৫৯. দেখুন: আস-সুহাইলি, আর-রওদুল-উনুফু, ২/৪৩৩, ৪৩৪।

ফন্ট সাইজ
15px
17px