📘 রউফুর রহীম 📄 রাসূলুল্লাহর বংশানুক্রম

📄 রাসূলুল্লাহর বংশানুক্রম


মানুষদের মধ্যে রাসূল যেমন চেহারা-সুরাত, চরিত্র মাধুর্যে, আচরণে-ব্যবহারে অনন্য, তেমনই তিনি বংশমর্যাদায়ও আর সবার থেকে উত্তম। তাঁর বংশ-মর্যাদার বর্ণনায় অনেক সহীহ হাদীস রয়েছে। ইমাম মুসলিম তার সহীহ মুসলিমে এমনই একটি হাদীস বর্ণনা করেন, রাসূল বলেন, “আল্লাহ তা'আলা 'ইসমাঈলের সন্তানদের থেকে কিনানাকে মনোনীত করেন; কুরাইশদেরকে মনোনীত করেন কিনানার থেকে; বানু হাশিমকে মনোনীত করেন কুরাইশদের থেকে; আর আমাকে মনোনীত করেন বানু হাশিম থেকে।” [১০৪]

ইমাম বুখারি তার সহীহ বুখারিতে রাসূলুল্লাহর বংশ-লতিকা বর্ণনা করেন এভাবে, “মুহাম্মাদ ইবনু 'আবদুল্লাহ ইবনু 'আবদুল-মুত্তালিব ইবনু হাশিম ইবনু 'আব্দ- মানাফ ইবনু কুসাই ইবনু কিলাব ইবনু মুররা ইবনু কা'আব ইবনু লুওয়াই' ইবনু গালিব ইবনু ফিহর ইবনু মালিক ইবনু নাদার ইবনু কিনানা ইবনু খুযাইমা ইবনু মুদরিকা ইবনু 'ইল্যাস ইবনু মুদার ইবনু নিযার ইবনু মা'আদ্দ ইবনু 'আদনান।” [১০৫]

ইমাম বাগাওয়ি শারহুস-সুন্নাহ কিতাবে রাসূলুল্লাহর বংশ-লতিকা 'আদনান পর্যন্ত উল্লেখ করার পর বলেন, "আদনানের ওপরে গিয়ে বংশ-লতিকার ধারাটি সেভাবে সংরক্ষিত হয়নি।” [১০৬]

ইমাম ইবনুল-কাইয়্যিমও রাসূলুল্লাহর বংশ-লতিকা 'আদনান পর্যন্ত উল্লেখ করার পর বলেন, “এই পর্যন্ত ('আদনান) ধারাটি বিশুদ্ধ, এবং ধারার এ পর্যন্ত এসে কুলজি বিশারদগণও একমত; কোনোরূপ দ্বিমত নেই। 'আদনানের ওপর থেকে শুরু হয় দ্বিমত। তবে কুলজি বিশারদগণ সবাই একবাক্যে স্বীকার করেন যে, 'আদনান নবি 'ইসমাঈলের সন্তানদেরই অধস্তন পুরুষ।” [১০৭]

ঐতিহাসিক ইবনু সা'দ তার তবাকাতে উল্লেখ করেন, “আদনান থেকে শুরু করে 'ইসমাঈল পর্যন্ত এসে আমাদের কোনো কথা নেই; আদনান থেকে উপরের ধারার বিষয়ে আমরা চুপচাপ থাকি।” [১০৮]

'উরওয়া ইবনু যুবাইর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আদনান কিংবা কহতানের পরবর্তী ধারা সম্পর্কে জানে এমন কাউকে খুঁজে পাইনি আমরা, যা পেয়েছি তা নিছক অনুমাননির্ভর।”[১০৯]

ইমাম যাহাবি বলেন, “আদনান হলেন 'ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীমের বংশধর-এ ব্যাপারে সবাই একমত। তবে মতভেদ যত 'আদনান ও 'ইসমাঈলের মধ্যকার ধারার মধ্যে এসে।” [১১০]

“রাসূলুল্লাহর এমন বংশমর্যাদার কারণে মানুষের মনে তিনি মর্যাদাপূর্ণ অন্যরকম এক আসনে সমাসীন ছিলেন; যদিও উন্নত বংশমর্যাদা ও নেতৃত্ব নুবুওয়াত কিংবা রাজত্ব পাওয়ার মাপকাঠি কখনোই নয়। কিন্তু মানবমন কখনোই ইতর শ্রেণির কোনো লোককে তাদের নেতা হিসেবে মেনে নেবে না। আর সেখানে নীচ বংশের কাউকে যে তারা নবি হিসেবে মেনে নেবে না তা বলাই বাহুল্য; তিনি যখন দীনের পথে মানুষদের ডাকবেন তখন তারা কর্ণপাত করবে না। সমবেত হবে না তার পতাকাতলে। যেহেতু আল্লাহ নবিজিকে নবি করে পাঠাবেন, তাই তিনি তাঁর বন্ধুকে উন্নত বংশে প্রেরণ করেন। যাতে করে মানুষ তাঁর বংশ-মর্যাদা নিয়ে কোনো আপত্তি তুলতে না পারে। এতে দলে দলে লোকজনের ইসলাম গ্রহণ ও তাঁকে অনুসরণ করাটা সহজ হয়ে যায়।” [১১১]

রাসূলুল্লাহর বংশধারা নিঃসন্দেহে বিশুদ্ধ ও উৎকৃষ্ট। তিনি একাধারে 'ইসমাঈল আয-যাবী ও ইবরাহীম খলীলুল্লাহর সরাসরি বংশধর। মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহীমের দু'আর ফসল এবং 'ঈসার সুসংবাদের ফল। রাসূল নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, “(আমি) আমার পিতা ইবরাহীমের দু'আ ও 'ঈসার সুসংবাদের ফসল।” [১১২]

এটা খুবই স্বাভাবিক যে, বিশুদ্ধ ও উৎকৃষ্ট বংশধারা এমনই শক্তি রাখে যে, সে মানুষকে জঘন্য সব মন্দকাজ থেকে আলগোছে দূরে সরিয়ে রাখে। উদ্বুদ্ধ করে ভালো কাজ করতে, উচ্চাকাঙ্ক্ষী হতে। চারিত্রিক এমন নিষ্কলুষতা ব্যক্তিকে সমাজের নিকট করে তোলে গুরুত্বপূর্ণ, মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে যায়। পৃথিবীর উষালগ্ন থেকে শুরু করে নবি-রাসূলগণ ও দা'ঈরা নিজেদের বংশ-মর্যাদা, মান-সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখতে সচেষ্ট ছিলেন সর্বদা। মানুষজন তাদের এমন গুণের কথা জানত বলেই তাদের প্রশংসায় থাকত পঞ্চমুখ। তাদের প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রাখত চোখ বুজে। [১১৩]

রাসূলুল্লাহর বংশ-মর্যাদা-সম্পর্কিত আলোচনা থেকে একটা বিষয় খুব সহজেই প্রমাণ করা যায় যে, আল্লাহ তা'আলা পৃথিবীর আর সব মানুষের ওপর এক অনন্য বৈশিষ্ট্য দান করেন আরবদের; আরবের অন্য গোত্রগুলোর মধ্যে মর্যাদা দান করেন কুরাইশদের। সুতরাং 'রাসূলুল্লাহকে ভালোবাসি'- কথাটির দাবি হলো, তাঁকে ভলোবাসার সঙ্গে সঙ্গে ওই জাতিকেও ভালোবাসা চাই, যে জাতির একজন হয়ে তাঁর পৃথিবীর বুকে আগমন। ওই গোত্রকেও ভালোবাসতে হবে, যে গোত্রে তাঁর জন্ম। এর মানে এই নয় যে, আরব বা কুরাইশদের মধ্যে যারা আল্লাহর পথ ছেড়ে বিপথে পা বাড়িয়েছে, আমরা তাদেরকেও ভালোবাসব। আল্লাহর পথ থেকে তাদের এ বিচ্যুতি এবং ইসলাম গ্রহণ না করার কারণে তাদের সঙ্গে রাসূলুল্লাহর সত্যিকার সম্পর্কটা আর থাকবে না। শুধু তা-ই নয়, রাসূলুল্লাহর সঙ্গে তাদের রক্তের সম্পর্ককেও তখন আর বড় করে দেখা হবে না। [১১৪]

টিকাঃ
১০৪. সহীহ মুসলিম, কিতাবুল-ফাদাইল, পরিচ্ছেদ: নবিজির বংশীয় মর্যাদা, ৪/১৭৮২, হাদীস নং ২২৭৬।
১০৫. সহীহ বুখারি, কিতাবু মানাকিবিল-আনসার, পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহর আগমন, ৪/২৮৮।
১০৬. শারহুস-সুন্নাহ, ১৩/১৯৩।
১০৭. যাদুল-মা'আদ, ১/১৭।
১০৮. ইবনু সা'দ, ১/৮৫।
১০৯. প্রাগুক্ত।
১১০. যাহাবি, আস-সীরাহ আন-নাবাওয়িয়া, পৃ. ১।
১১১. দেখুন: রাসূলুল্লাহর ব্যক্তিত্ব: একটি পর্যালোচনা, পৃ.৯৬।
১১২. দেখুন: আল-হাকিম, ২/৬০০। ইমাম হাকিম ও যাহাবি একে সহীহ বলেছেন।
১১৩. দেখুন: আবু ফারিস, আস-সীরাহ আন-নাবাওয়িয়া, পৃ. ১০২।
১১৪. দেখুন: আল-বৃতি, ফিকহুস-সীরাহ, পৃ. ৪৫।

📘 রউফুর রহীম 📄 পিতা 'আবদুল্লাহর বিয়ে ও মাতা আমিনার স্বপ্ন

📄 পিতা 'আবদুল্লাহর বিয়ে ও মাতা আমিনার স্বপ্ন


'আবদুল্লাহ ইবনু 'আবদুল-মুত্তালিব তার পিতার সবচেয়ে স্নেহধন্য পুত্র ছিলেন। তিনি যখন নির্ঘাত জবাই হওয়া থেকে বেঁচে ফিরে এলেন, তখন তার পিতা 'আবদুল- মুত্তালিব তার জানের বদলে দুইশো উট উৎসর্গ করেন। এরপর সম্ভ্রান্ত বংশের কন্যা আমিনা বিন্ত ওয়াহাব ইবনু 'আব্দ-মানাফ ইবনু যুহরা ইবনু কিলাবের সঙ্গে ছেলের বিয়ে দেন। [১১৫]

আমিনা গর্ভবতী হওয়ার কিছুদিনের মাথায় রাসুলুল্লাহর পিতা 'আবদুল্লাহ মারা যান। মাদীনায় 'আদি ইবনু আন-নাজ্জার বংশের তার মামাদের পাশে, তাকে দাফন করা হয়। তিনি এক বাণিজ্যিক সফরে শামে যাচ্ছিলেন। ফিরতি পথে মাদীনায় তিনি মারা যান। কিন্তু মারা যাওয়ার আগেই তিনি পবিত্র এক প্রাণ রেখে যান আমিনার গর্ভে। নিয়তি কেমন যেন তাকে বলছিল, তোমার জীবনের মিশন শেষ; তুমি খুব সুষ্ঠুভাবেই তা সম্পন্ন করতে পেরেছ। পবিত্র এই ভ্রূণকে আল্লাহ তা'আলা আপন হিকমা, রাহমাহ ও জ্ঞানের মাধ্যমে লালন-পালন করবেন। শিষ্টাচার ও তারবিয়া শেখাবেন। এমনভাবে গড়ে তুলবেন যাতে করে তিনি মানবতাকে নিকষ আঁধার ছিঁড়ে নিয়ে আসেন উদ্ভাসিত আলোক রেখায়।

কেবল আমিনাকে 'আবদুল্লাহর বিয়ে করাটাই নবিজির নবি হয়ে পৃথিবীতে আগমনের পথ সুগম হওয়ার সূচনা নয়; কারণ, নবিজিকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন,
"আমি হলাম আমার পিতা ইবরাহীমের দু'আর ফসল, 'ঈসার সুসংবাদের বাস্তবায়ন; আমার মা স্বপ্নে তার থেকে একটা নূর বের হতে দেখেছিলেন; সেই নূর, সেই আলোকপ্রভা শামের প্রাসাদগুলোকে আলোয় উদ্ভাসিত করেছিল।”

নবি ইবরাহীমের করা দু'আটি কুরআনে এভাবে এসেছে :
“হে আমাদের রব! তুমি তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে একজন রাসূল প্রেরণ করো, যে তোমার আয়াত তাদের কাছে তিলাওয়াত করবে, তাদেরকে কিতাব ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেবে এবং তাদেরকে পবিত্র করবে। তুমি তো পরাক্রমশলী, তত্ত্বজ্ঞানী।” [সূরা বাকারা, ২:১২৯]

রাসূলুল্লাহকে নিয়ে 'ঈসার সুসংবাদ এমন, যা আল্লাহ কুরআনে তার ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন,
“স্মরণ করো, মারইয়াম-পুত্র 'ঈসা বলেছিল, 'হে বনি-ইসরাঈল! আমি তোমাদের নিকট (প্রেরিত) আল্লাহর রাসূল। আমার আগে থেকে তোমাদের কাছে যে তাওরাত আমি তার সমর্থক; আর পরে আহমাদ নামে যে রাসূল আসবেন, আমি তাঁরও সুসংবাদদাতা।” [সূরা আস-সফ, ৬১:৬]

আর রাসূল যে বলেছেন, “আমার মা স্বপ্নে তার থেকে একটা নূর বের হতে দেখেছিলেন। সেই নূর, সেই আলোকপ্রভা শামের প্রাসাদগুলোকে আলোয় উদ্ভাসিত করেছিল।” এ সম্পর্কে ইবনু রাজাব বলেন,
“রাসূল ভূমিষ্ট হওয়ার সময় আলোটি বের হওয়ার একটি অর্থ রয়েছে। আর তা হলো—এমন এক নূরের আগমন ঘটতে চলেছে যে, সেই আলোয় পথের দিশা পাবে পৃথিবীবাসী এবং এ আলোয় শির্কের অন্ধকার দূরে পালাবে। যেমন: আল্লাহ বলেন, “হে আহল-কিতাবগণ! তোমাদের কাছে আমার রাসূল এসেছে, তোমরা কিতাবের যা যা গোপন করতে, তিনি তার অনেকে কিছু তোমাদের কাছে প্রকাশ করে এবং অনেক কিছু উপেক্ষা করে থাকে। তোমাদের কাছে আল্লাহর কাছ থেকে এক জ্যোতি ও একটি স্পষ্ট কিতাব তো এসেছে। যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে, এ (কুরআন) দিয়ে তিনি তাদেরকে শান্তির পথ দেখান, আর নিজের ইচ্ছায় তাদেরকে আঁধার থেকে আলোতে বের করে আনেন এবং তাদেরকে সরল পথে পরিচালিত করেন।" [সূরা মা'ইদা, ৫:১৫, ১৬]

ইবনু কাসীর বলেন, তাঁর (রাসূলুল্লাহর) নূর প্রকাশ পাওয়ার জন্য শাম দেশকে বেছে নেওয়ার পেছনে ইঙ্গিত হলো: রাসূলুল্লাহর আনীত দীন ইসলাম স্থির ও স্থায়ী হবে এ শাম দেশেই; শেষ জমানায়, কিয়ামাতের পূর্বে, ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য এক দুর্ভেদ্য দুর্গ হয়ে উঠবে শাম দেশ। নবি 'ঈসা ইবনু মারইয়াম দামেস্কের শ্বেত-শুভ্র মিনারের পশ্চিম দিকে আসমান থেকে নেমে আসবেন। সহীহ বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত আছে, রাসূল বলেন, “আমার উম্মাহর একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর দৃঢ়, অটল ও অবিচল থাকবে। অপমানকারী ও বিরুদ্ধবাদীদের কেউই তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহর হুকুম (কিয়ামাত) আসার আগপর্যন্ত তারা সত্যকে আঁকড়ে থাকবে।” সহীহ বুখারিতে বাড়তি যোগ হয়েছে এ কথাটি: তারা শামেই থাকবে। [১১৮]

টিকাঃ
১১৫. আহমাদ ফারীদ, ওয়াকাফাত তারবাওয়িয়া মা'আস-সীরাহ, পৃ. ৪৬।
১১৬. প্রাগুক্ত, পৃ. ৪৬।
১১৭. আহমাদ, ৫/২৬২, হাদীস নং ২২,২৬১; মুআস্সাসাতুর-রিসালাহ সংকরণের সম্পাদকগণ হাদীসটিকে 'সহীহ লিগাইরিহি' বলেছেন; আল-হাকিম ২/৬০০; হাকিম বলেন, “এর সনদ সহীহ, তবে সহীহ বুখারি ও মুসলিম তাদের কিতাবে হাদীসটি নিয়ে আসেননি। ইমাম যাহাবি তার সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। মাজমা'উয-যাওয়াইদ, ৮/২২২। তিনি বলেন, "ইমাম আহমাদ বর্ণিত সনদটি হাসান, এবং সাক্ষ্য-প্রমাণও হাদীসটি শক্তিশালী হওয়ার স্বপক্ষে।"
১১৮. দেখুন: ইবনু কাসীর, ১/১৮৪। ইমাম বুখারি তাঁর সহীহতে কিতাবুল-মানাকিব, ২৮ নং পরিচ্ছেদ, হাদীস নং ৩৬৪১-তে বর্ণনা করেন।

📘 রউফুর রহীম 📄 রাসূলুল্লাহর জন্ম

📄 রাসূলুল্লাহর জন্ম


রাসূল সোমবারে জন্মেছেন, এ ব্যাপারে বিজ্ঞজনরা একমত। অধিকাংশের মত, তিনি রাবি'উল-আওয়াল মাসের ১২ তারিখ রাতে জন্মগ্রহণ করেন। [১১৯] তবে তিনি যে হাতির ঘটনার বছরে পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেন, এ বিষয়টিতে কেউই দ্বিমত করেননি। [১২০] বানু হাশিমের উপত্যকায়, আবু তালিবের ঘরে রাসূল ভূমিষ্ট হন। [১২১]

প্রখ্যাত কবি আমিরুশ-শু'আরা আহমাদ শাওকি রাসূলুল্লাহর জন্ম উপলক্ষ্যে একটি কবিতা রচনা করেন। তিনি বলেন,

জন্ম নিয়েছেন হিদায়াতের আলো সৃষ্টিকুলে
আলোর সমাহার যুগের মুখে ফুটছে হাসি
দূর হলো সব আঁধার কালো।
জিব্রীল ও ফেরেশতাকুল দীন ও দুনিয়ার তরে
শুনিয়ে যাচ্ছেন সুসংবাদ এক- এসেছেন এক মহান রাসূল।”

টিকাঃ
১১৯. ইবরাহীম আল-আলি, সহীহুস-সীরাহ আন-নাবাওয়িয়া, পৃ. ৪৭।
১২০. ইবনু কাসীর, আস-সীরাহ আন-নাবাওয়িয়া, ১/২০৩।
১২১. দেখুন: ওয়াফাকাত মা'আস-সীরাহ আন-নাবাওয়িয়া, পৃ. ৪৭।

📘 রউফুর রহীম 📄 নবিজিকে স্তন্যদান

📄 নবিজিকে স্তন্যদান


পিতা 'আবদুল্লাহর দাসী উম্মু আইমান বারাকা হাবাশিয়্যা ছিলেন রাসূলুল্লাহর দাইমা। চাচা আবু লাহাবের দাসী সুওয়াইবাই প্রথম নবিজিকে দুধ পান করান। [১২২]

যাইনাব বিন্ত আবু সালামা থেকে বর্ণিত যে, উম্মু হাবীবা তাকে জানান, একবার তিনি নবিজিকে বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল , আপনি আমার বোন আবু সুফিয়ানের কন্যাকে বিয়ে করুন।”

রাসূল জানতে চান, “এমনটা হোক তুমি কি তা পছন্দ করো?”
“হ্যাঁ। এমনিতেও তো আমি আপনার একমাত্র স্ত্রী নই। কাজেই কল্যাণকর বিষয়ে আমার সঙ্গে যারা অংশীদার, তাদের মধ্যে আমার বোনের অংশীদারিত্ব থাকাটা আমি পছন্দ করি।”

“বিষয়টি আমার জন্য কোনোভাবেই বৈধ নয়।” (কারণ, দু-বোনকে একসঙ্গে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করা আল্লাহ হারাম করেছেন)

“লোকে বলাবলি করছে যে, আপনি নাকি আবু সালামার কন্যাকে বিয়ে করতে চান।"
রাসূল অবাক হয়ে জানতে চান, “উম্মু সালামার কন্যাকে?”
“হ্যাঁ।”
“সে তো আমার তত্ত্বাবধানে পালিত আমার স্ত্রীর কন্যা (তাই সে আমার জন্য হালাল হতে পারে না, আর যদি এমনটা নাও হতো) তবু সে আমার জন্য হালাল হতো না। কারণ, সে আমার দুধ-ভাইয়ের মেয়ে; সুওয়াইবা আমাকে ও আবু সালামাকে দুধ পান করিয়েছিলেন। তাই তোমরা তোমাদের কন্যা ও তোমাদের বোনদেরকে বিয়ের জন্য আমার সামনে পেশ কোরো না।” [১২৩]

উম্মু আইমান ছিলেন উসামা ইবনু যাইদের মা। তিনি মূলত রাসূলুল্লাহর পিতা 'আবদুল্লাহ ইবনু 'আবদুল-মুত্তালিবের পরিচারিকা ছিলেন। আবিসিনায় তার বাড়ি। পিতা 'আবদুল্লাহর মৃত্যুর কিছুদিন পর রাসূল যখন জন্ম নেন, তখন উম্মু আইমান রাসূলুল্লাহর দাইমার কাজ করেন। বড় হয়ে রাসূল উম্মু আইমানকে আর দাসী করে রাখনেনি; স্বাধীন করে দিয়ে যাইদ ইবনু হারিসার সঙ্গে তার বিয়ে দেন। রাসূলুল্লাহর মৃত্যুর পাঁচ মাস পর উম্মু আইমান মারা যান। [১২৪]

টিকাঃ
১২২. দেখুন: ওয়াফাকাত মা'আস-সীরাহ আন-নাবাওয়িয়া, পৃ. ৪৮।
১২৩. সহীহ বুখারি, কিতাবুন-নিকাহ, পরিচ্ছেদ, “তোমাদের সেই মায়েরা যারা তোমাদেরকে স্তন্য দান করেছেন।” হাদীস নং ৫১০১।
১২৪. সহীহ মুসলিম, কিতাবুল-জিহাদ; পরিচ্ছেদ, আনসারদের নিকট মুহাজিরদের গাছ ও ফলের মতো কিছু উপহার পাঠানো। হাদীস নং ১৭৭১।

ফন্ট সাইজ
15px
17px