📄 হাতিবাহিনীর ঘটনার শিক্ষা
কা'বার মর্যাদা
কা'বার সম্মান-মর্যাদার কথা সর্বজনবিদিত। এমনকি আরবের মুশরিকরা পর্যন্ত একে সম্মান করত, পবিত্র বলে জ্ঞান করত। কা'বার ওপর অন্য কিছুকে প্রাধান্য দিতে তারা ছিল নারাজ। কা'বার প্রতি তাদের এমন সম্মান প্রদর্শন দ্বারা বোঝা যায় যে, সামান্য হলেও নবি ইবরাহীম ও 'ইসমাঈলের ধর্মের প্রভাব তখনও পর্যন্ত তাদের মধ্যে অবশিষ্ট ছিল। আর ছিল বলেই আবরাহা এ ঘরকে ভাঙতে এলে তারা রবের কাছে একে রক্ষা করার মিনতি জানায়।
মাক্কার ওপর খ্রিষ্টানদের হিংসা-বিদ্বেষ
আল্লাহর ঘর কা'বার প্রতি আরবদের সম্মান ছিল প্রশ্নাতীত। ঘরটির প্রতি এমন প্রীতি ও সম্মান খ্রিষ্টান আবরাহার সহ্য হলো না; বিপরীতে কুল্লাইস নামের একটি গির্জা তৈরি করে সে। উদ্দেশ্য-আল্লাহর ঘরের প্রতি আরবদের সম্মানকে তার গির্জার দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া। উদ্দেশ্য হাসিলে সে নানা রকম কৌশল আঁটে, ফন্দি-ফিকির করে। তারপরও আরবরা এতে কোনোরূপ উৎসাহবোধ করেনি। বরং আবরাহার হীন উদ্দেশ্য কোনোভাবেই যাতে সফল না হয় সেজন্য তারা অনেক চেষ্টা-তদবির চালায়। বিষয়টি এতদূর পর্যন্ত গড়ায় যে, কুল্লাইস গির্জায় যে দুর্ঘটনাটি ঘটে তার মূল নায়ক একজন আরব বেদুইন। ফাখরুদ্দীন আর-রাযি সূরা ফীলের নিচের আয়াতটির ব্যাখ্যা এভাবে করেন:
“তিনি কি ওদের চক্রান্ত ভণ্ডুল করে দেননি?” তিনি বলেন যে, “এখানে الكيد দ্বারা বোঝায় উদ্দেশ্য-গোপনে অন্যের ক্ষতি করার ইচ্ছা। যদি কেউ প্রশ্ন তোলে, এটা কী করে গোপন চক্রান্ত হয়? আবরাহা তো প্রকাশ্যেই কা'বা ধ্বংসের ঘোষণা দিয়ে এসেছে? এ প্রশ্নের উত্তরে আমরা বলব, হ্যাঁ, এটা গোপন চক্রান্তই বটে! তবে সেটা আবরাহা তার মনে পুষে রেখেছিল, যা প্রকাশ পেয়ে যায়। কারণ, মনে মনে সে আরবদেরকে হিংসা করত। সে দেখে আর কিছুই না, কা'বাই তাদের এত মর্যাদার কারণ। তাদের মর্যাদা দেখে সে ঈর্ষাকাতর হয়ে ওঠে; যেকোনো মূল্যে নিজের জন্য, নিজ জাতির জন্য ও দেশের জন্য ছিনিয়ে আনতে চায় সেই মর্যাদা।” [৯৪]
পুণ্যভূমির জন্য জীবনবাজি
হিমইয়ারের একজন রাজা যখন খবর পেল যে, আবরাহা তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে কা'বা ধ্বংসের অভিপ্রায় নিয়ে সেদিকে এগুচ্ছে; কালবিলম্ব না করে তিনি আবরাহাকে বাধা দিতে এগিয়ে আসেন। কিন্তু তিনি আবরাহার বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে পেরে ওঠেননি; বন্দি হন।
নুফাইল ইবনু হাবীব আল-খাস'আমি তার কাছে আগত ইয়েমেনের বিভিন্ন গোত্রের লোকদের সঙ্গে নিয়ে আবরাহার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে প্রচণ্ড যুদ্ধে। তবে আবরাহার সৈন্যদের সামনে তারা বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি, তারা পরাস্ত হয়। পুণ্যভূমির পবিত্রতা রক্ষায় তারা বিলিয়ে দেয় নিজেদের জীবন।
আবহমান কাল ধরেই পুণ্যভূমি কিংবা পবিত্র স্থান রক্ষা করা এবং এর জন্য জীবন উৎসর্গ করা মানুষের সহজাত একটা স্বভাব।
বিশ্বাসঘাতকদের করুণ পরিণতি
কা'বা ঘর ধ্বংসের উদ্দেশ্যে এগিয়ে এলে আবরাহাকে বাধা না দিয়ে উলটো কিছু লোক সেদিন তার কাজে পূর্ণ সমর্থন দেয়; তাকে সাহায্য করে। তারা ইতিহাসের ধিকৃত আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। তাদের কেউ কেউ গোয়েন্দা সেজে আবরাহাকে খবরাখবর সরবরাহ করেছে, কেউ-বা তার পাশে পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছে। আবার কেউ প্রাচীন ঘরটি ধ্বংস করার জন্য আবরাহাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে গেছে। তারা দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত। লোকেরা আজও তাদেরকে শাপ-শাপান্ত করে; আল্লাহর লা'নাত, আল্লাহর অভিশাপ তো আছেই। দালালি, গাদ্দারি ও বিশ্বাসঘাতকতার একটা ঘৃণ্য প্রতীক হয়ে ওঠে আবু রিগালের কবর। মানুষের মনে তার জন্য ঘৃণা ছাড়া কিছুই নেই। তার কবরের পাশ দিয়ে যেই যায়, ঘৃণাভরে পাথর ছুঁড়ে মারে。
আল্লাহ ও তাঁর শত্রুদের মধ্যে যুদ্ধের প্রকৃতি
'আবদুল-মুত্তালিব যখন আবরাহার কথার উত্তরে বলেছিলেন, “আমরা বিষয়টি কা'বার মালিকের ওপর ছেড়ে দিলাম। আমরা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছি না। আল্লাহ যদি ঘরটি ধ্বংস হওয়া থেকে আবরাহাকে বাধা না দেন, তবে আমাদের কোনো শক্তি নেই যে আমরা আবরাহাকে প্রতিরোধ করব।” 'আবদুল-মুত্তালিবের এ কথার মধ্যেই পাওয়া যায়, আল্লাহ ও তাঁর শত্রুদের মধ্যকার যুদ্ধের প্রকৃতির যথার্থ ইঙ্গিত-শত্রু যতই শক্তিশালী হোক, জনবলে যতই বলীয়ান হোক; আল্লাহর কুদরত, আল্লাহর শক্তি, তাঁর পাকড়াও এবং তাঁর প্রতিশোধপরায়ণতার সামনে এক মুহূর্তের জন্যও কেউ দাঁড়াতে পারবে fix না। তিনি সর্বশক্তিমান। তিনি মহান। তিনিই জীবনদাতা এবং যখন যাকে ইচ্ছে করবেন নিয়ে নেবেন যেকোনো সময়। [৯৫]
শাইখ কাসিমি বর্ণনা করেন যে, শাইখ কাশানিউ বলেন, “হাতিবাহিনীর ঘটনাটি খুবই বিখ্যাত। রাসূলুল্লাহর যুগের কিছু আগে ঘটনাটি ঘটে। আল্লাহর কুদরতের একটি নিদর্শন এটি। যে ঘরকে আল্লাহ হারাম বা পবিত্র করে সৃষ্টি করেছেন, যারা সে ঘর ধ্বংসের পাঁয়তারা করেছিল তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ ছিল ঘটনাটি।”
কা'বা ও কুরাইশের প্রতি মানুষের ভক্তি-শ্রদ্ধা
আবরাহার মতো দুষ্ট লোকদের হাত থেকে আল্লাহ তা'আলা তাঁর ঘরকে রক্ষা করার পর কা'বার প্রতি আরবদের শ্রদ্ধা বেড়ে যায় বহুগুণে। [৯৬] অন্য আরবরাও কুরাইশদের শ্রদ্ধা করতে শুরু করে। কুরাইশদের ব্যাপারে অন্যদের মন্তব্য হলো—
“তারা আল্লাহর আহল; আল্লাহর লোক। তাদের হয়ে আল্লাহ তা'আলা যুদ্ধ করেছেন। শত্রুর মোকাবিলায় তাদের জন্য আল্লাহ তা'আলাই যথেষ্ট ছিলেন।” এটি ছিল আল্লাহ তা'আলার একটি অনন্য নিদর্শন; নবিজির আগমনের উপক্রমণিকা—এই নবি মাক্কা নগরেই জন্মগ্রহণ করবেন, মূর্তির আখড়া দূর করে কা'বাকে করে তুলবেন পবিত্র, অনন্য এক উন্নত আসনে অধিষ্ঠিত করবেন কা'বাকে। [৯৭]
হাতির ঘটনা নুবুওয়াতের নিদর্শন
ইমাম মাওয়ারদি ও ইবনু তাইমিয়্যাহসহ বেশ কয়েকজন 'আলিম মনে করেন যে, হাতির ঘটনা নুবুওয়াতের একটি নিদর্শন ও প্রমাণ। মাওয়ারদি বলেন,
“ঘটনাটি আবরাহা রাজার অহমিকার উদাহরণ, নুবুওয়াতের আগাম নিদর্শন। ঘটনার পরিণতি দিবালোকের ন্যায় এতটাই স্পষ্ট যে, সত্য-মিথ্যা, আসল-নকলে তালগোল পাকানোর কোনো সুযোগ নেই। যখন রাসূলুল্লাহর জন্মলগ্ন ঘনিয়ে এল তখন থেকেই মূলত নুবুওয়াতের কিছু কিছু নিদর্শন প্রকাশ পেতে থাকে। এর সবচেয়ে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত—হাতিবাহিনীর ঘটনা...।”
“হাতির ঘটনার সময় রাসূল মক্কায় তাঁর মায়ের গর্ভে ছিলেন। ঘটনার ৫০ দিন পর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পিতার মৃত্যুর পর রবি'উল-আওয়াল মাসের ১২ তারিখ সোমবার তিনি জন্ম নেন। দুটি দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাটি নুবুওয়াতের অনন্য নিদর্শন:
যদি সেদিনের ঘটনায় আবরাহা ও তার বাহিনী কোনোভাবে জিতে যেত, তবে আরবদেরকে তারা বন্দি করত, দাস বানাত। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা তা হতে দিলেন না; ধ্বংস করলেন আবরাহা বাহিনীকে। এভাবেই আল্লাহ তা'আলা একজন দাস হয়ে জন্ম নেওয়া থেকে রক্ষা করলেন তাঁর রাসূলকে।
আবরাহা বাহিনীর মোকাবিলা করার মতো সমর্থ ছিল না তৎকালীন কুরাইশরা। উপরন্তু, তারা আহলে-কিতাবও নয়; তাদের কেউ কেউ পূজা করত মূর্তির, কারও-বা ধর্ম পৌত্তলিকতা। তারপরও ইসলাম প্রকাশের মাধ্যমে নুবৃওয়াতি ভিত্তির দৃঢ়তা ও কা'বার সম্মান বাড়ানোর জন্যই আল্লাহ তা'আলা হাতিবাহিনীকে ধ্বংস করেন...।
আরবের চারদিকে এই ঘটনার কথা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। হারামের সম্মান তাদের কাছে বেড়ে যায়। ইতঃপূর্বে কা'বার প্রতি তাদের এমন সম্মান ছিল না। এ ঘটনার পর কুরাইশদের প্রতি মান্যতাও বেড়ে যায় আরবদের। তারা বলত, “এরা আল্লাহর আহল; আল্লাহর লোক। তাদের হয়ে আল্লাহ যুদ্ধ করেছেন। শত্রুদের চক্রান্ত রুখে দিতে তিনিই যথেষ্ট ছিলেন।” কুরাইশদের প্রতি লোকেরা সম্মান প্রদর্শন আরও বাড়িয়ে দেয়। বিনিময়ে কুরাইশরা তাদের জন্য ব্যবস্থা করে পানির ও মেহমানদারির। কা'বার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও ছিল তাদের কাঁধে। কুরাইশরা তাদের আয়ের একটা অংশ দিয়ে প্রত্যেক বছর হাজ্জের সময় মিনার ময়দানে হাজিদের পেট ভরে খাওয়াত। ধীরে ধীরে কুরাইশরা ধার্মিকদের ইমাম, অনুসারীদের নেতা হয়ে ওঠে। আর পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এভাবেই হাতিবাহিনীর ঘটনা হয়ে থাকে দৃষ্টান্ত হয়ে। (৯৮)
ইবনু তাইমিয়্যা বলেন, “হাতিবাহিনীর ঘটনার সালটি ছিল রাসূলুল্লাহর জন্মসাল। কা'বার আশপাশের মানুষজন আকণ্ঠ নিমজ্জিত ছিল শির্কে। তারা মনে করত, খ্রিষ্টধর্ম তাদের ধর্মের তুলনায় ঢের ভালো। এর থেকে বোঝা যায়, কা'বার তখনকার মুশরিক প্রতিবেশীদের জন্য আল্লাহ তাঁর ঘর রক্ষা করেননি, বরং কা'বার মর্যাদার কারণেই আল্লাহ আবরাহা বাহিনীকে ধ্বংস করেন; কিংবা হতে পারে এর কারণ নবি মুহাম্মাদ। ওই বছরই কা'বার নিকট জন্ম নেন তিনি। অথবা হতে পারে কা'বা ঘর ও নবি মুহাম্মাদ উভয়ের জন্যই আল্লাহ তা'আলা হাতিবাহিনীকে ধ্বংস করেন। হাতিবাহিনী ধ্বংসের কারণ যা-ই হোক না কেন, ঘটনাটি নবিজির নুবৃওয়াতের পূর্বাভাস।” (৯৯)
হাতির কাহিনি আলোচনা করতে গিয়ে ইবনু কাসীর বলেন, “রাসূলুল্লাহর আবির্ভাবের উপক্রম ছিল এই ঘটনা। কারণ, প্রসিদ্ধ একটি মত হলো, তিনি ওই বছরই জন্মগ্রহণ করেন। ঘটনাটির মধ্য দিয়ে আল্লাহ কেমন যেন বলতে চাচ্ছেন, হে কুরাইশ সম্প্রদায়, তোমরা আবিসিনিয়ান লোকদের থেকে উত্তম আর তারা অধম-এ কারণে আল্লাহ তা'আলা তোমাদের সাহায্য করেননি। বরং প্রাচীন ঘর কা'বার সম্মানেই আল্লাহ তা'আলা তোমাদের সেদিন রক্ষা করেছেন। সর্বশেষ নবি, উম্মি নবি মুহাম্মাদকে প্রেরণ করে এই ঘরের মর্যাদা আমি আরও বৃদ্ধি করব।” (১০০)
কা'বা ঘরকে আল্লাহর সুরক্ষা দান
আল্লাহ তাঁর এই প্রাচীন ঘরকে ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন; কা'বার কর্তৃত্ব তখনও পর্যন্ত মুশরিকদের হাতে। তা সত্ত্বেও খ্রিষ্টান আবরাহা ও তার সৈন্যদেরকে কা'বা ধ্বংস করে পুণ্যভূমিতে কর্তৃত্ব করার সুযোগ করে দেননি তিনি। কা'বা হবে সব ধরনের শির্কমুক্ত-এটাই সংগত। কিন্তু আরব মুশরিকরা কা'বার পবিত্রতা মলিন করে দেয় শির্কের পঙ্কিলতায়। আল্লাহ তা'আলার অভিপ্রায় অনুযায়ী মাক্কা আর কা'বাকে তিনি প্রজাপীড়ক ও স্বৈরশাসকের অপশাসন থেকে রক্ষা করেন। তাদের চক্রান্তের হাত কা'বার গায়ে লাগতে দেননি। এভাবেই আল্লাহ তা'আলা কা'বার স্বাধীনতা ও মর্যাদাকে আপন কুদরতে রক্ষা করেন। যাতে এই মুক্ত পরিবেশে পরবর্তী সময়ে গড়ে ওঠে নতুন বিশুদ্ধ একটি বিশ্বাস, একটি আকীদা। সেই স্বাধীন পরিবেশে থাকবে না কোনো শাসকের চোখ রাঙানি, কোনো স্বৈরাচারীর স্বেচ্ছাচারিতায় পিষ্ট হবে না বিশ্বাসী মানুষগণ। এ পরিবেশের দীন হবে 'ইসলাম'। অবিশ্বাসীদের মানুষের দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি দিতে এ দীনের আগমন। মানুষকে শোষণ করতে নয়, অন্যের অপশাসনের নাগপাশ থেকে স্বাধীন করে, আঁধার গলি-ঘুপচি থেকে বের করে এনে আলোর দিশা দেখানোই এ দীনের উদ্দেশ্য। নিজের ঘর ও দীন রক্ষার এমনই পরিকল্পনা ছিল আল্লাহ তা'আলার। এমনকি তখন পর্যন্তও কেউ জানত না যে, দীন ইসলামের নবি এ বছরই (হাতির বছরে) জন্ম নিতে চলেছেন।[১০১]
হাতির এ ঘটনা থেকে আমরা সুসংবাদ নিতে পারি। পেতে পারি প্রশান্তি। যখন আল্লাহ আবরাহা বাহিনীর হাত থেকে কা'বাকে রক্ষা করেন, তখনও কা'বার কর্তৃত্ব ছিল মূর্তিপূজারি মুশরিকদের হাতে। আজ মাক্কা ও মাদীনা ইসলামের দুইটি পুণ্যভূমি মুসলিমদের হাতে ঠিকই; এই দুই পুণ্যভূমিসহ বায়তুল-মাকদিসকে নিয়ে ক্রুসেড খ্রিষ্টান ও ইহুদীদের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। কিন্তু আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস-আল্লাহ তাদের নিকৃষ্ট ষড়যন্ত্রের কূটজাল ছিন্ন করবেনই। আবরাহার হাতিবাহিনীকে ছোট ছোট পাখির হাতে যেভাবে নাস্তানাবুদ করে চর্বিত তৃণের মতো করে দেন, সেভাবে ইন শা আল্লাহ, ফেরেববাজ, প্রতারক, প্রবঞ্চকদের প্রতারণাকেও তিনি সফল হতে দেবেন না।।১০২)
ক্যালেন্ডারে পরিণত হয় এ ঘটনা
আর কোনো ঘটনা আরবদের মনে হাতির ঘটনার মতো দাগ কাটতে পারেনি। কেননা, জীবনে এমন অলৌকিক কাহিনি তারা আর একটিও দেখেনি। যার কারণে ঘটনার স্থান-কাল কিছুই তারা বিস্মৃত হয়নি। হাতির বছরকে তারা বর্ষপঞ্জিকায় পরিণত করে। সন-তারিখ নিয়ে কিছু বলতে গেলে তারা এভাবে বলত,
“এ ঘটনা হাতির সালে ঘটেছে।” কিংবা “অমুক ব্যক্তি হাতির সালে জন্মেছে।” অথবা “এটি হাতির সালের এত বছর পরের ঘটনা” ইত্যাদি। হাতির ঘটনা ঘটেছিল খ্রিষ্ট ৫৭০ অব্দে। (১০৩)
টিকাঃ
৯৪. দেখুন: তাফসীর আর-রাযি, ৩৩/৯৪。
৯৫. আবু ফারিস, আস-সীরাহ আন-নাবাওয়িয়া, পৃ. ১১২。
৯৬. দেখুন: কাসিমি, মাহাসিনুত-তা'উঈল, ১৭/২৬২。
৯৭. আবুল হাসান আন-নাদওয়ি, আস-সীরাহ আন-নাবাওয়িয়া, পৃ. ৯২。
৯৮. দেখুন: আবুল হাসান আন-নাদওয়ি, আস-সীরাহ আন-নাবাওয়িয়া, পৃ. ৯২。
৯৯. দেখুন: মাওয়ারদি, আ'লামুন-নুবৃওয়াহ, পৃ. ৮৫-১৮৯。
১০০. দেখুন: তাফসীর ইবনু কাসীর, ৪/৫৪৮, ৫৪৯。
১০১. আবু ফারিস, আস-সীরাহ আন-নাবাওয়িয়া, পৃ. ১১৩。
১০২. ফী যিলালিল-কুরআন, ৬/৩৯৮০。
১০৩. দেখুন: নাদওয়ি, আস-সীরাহ আন-নাবাওয়িয়া, পৃ. ৮২।