📘 রাতের সালাত > 📄 ৩.২ এই ধর্মের সহজ-সাধ্যতা

📄 ৩.২ এই ধর্মের সহজ-সাধ্যতা


৪. বিতর সালাতের বিভিন্ন পদ্ধতি ও তার রাকাত সংখ্যার বর্ণনা

বতির সালাত নিম্নের পদ্ধতি অনুসারে কয়েকভাবে আদায় করা যায়:

প্রথমত: এগারো রাকাত পড়া। প্রত্যেক দু'রাকাত পর সালাম ফিরানো ও এক রাকাত দ্বারা বিতর পড়া আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত: «كان يصلي بالليل إحدى عشرة ركعة ويوتر منها بواحدة». "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে এগারো রাকাত পড়তেন ও তন্মধ্যে এক রাকাত দ্বারা বিতর পড়তেন"। অপর বর্ণনায় আছে: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي فيما بين أن يفرغ من صلاة العشاء- وهي التي تدعونها العتمة - إلى الفجر إحدى عشر ركعة يسلم بين كل ركعتين ويوتر بواحدة...». "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার সালাত থেকে ফারেগ হয়ে ফজর পর্যন্ত এগারো রাকাত সালাত আদায় করতেন, প্রত্যেক দু'রাকাত পর সালাম ফিরাতেন ও এক রাকাত দ্বারা বিতর পড়তেন...।"

দুই. তিন রাকাত পড়া। দু'রাকাত পর সালাম ফিরানো ও এক রাকাত দ্বারা বিতর আদায় করা আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের পদ্ধতি বর্ণনা করেন: ... فقمت إلى جنبه عن يساره فوضع يده اليمنى على رأسي وأخذ بأذني يفتلها، فحولني فجعلني عن يمينه ثم صلى ركعتين، ثم ركعتين، ثم ركعتين، ثم ركعتين، ثم ركعتين، ثم ركعتين، ثم أوتر، ثم اضطجع حتى جاءه المؤذن فقام فصلى ركعتين خفيفتين، ثم خرج فصلى الصبح». "...আমি তার বাঁ পাশে দাঁড়িয়েছি, তিনি আমার মাথায় হাত রেখে আমার কান ধরে ঘুরিয়ে তার ডান পাশে নিয়ে আসলেন, অতঃপর দু'রাকাত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর দু'রাকাত আদায় করলেন। অতঃপর দু'রাকাত আদায় করলেন অতঃপর দু'রাকাত আদায় করলেন। অতঃপর দু'রাকাত আদায় করলেন। অতঃপর দু'রাকাত আদায় করলেন। অতঃপর বিতর পড়লেন। অতঃপর তিনি শুইলেন, যখন মুয়াজ্জিন আসল তিনি দাঁড়িয়ে হালকা দু'রাকাত আদায় করলেন। অতঃপর বের হয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন"।

তার থেকে আরো বর্ণিত: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي من الليل ثلاث عشرة ركعة». "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তেরো রাকাত সালাত আদায় করতেন"।

যায়েদ ইবন খালেদ আল-জুহানি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি একদা বলেছেন: «لأرمقن صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم الليلة، فصلى ركعتين خفيفتين، ثم صلى ركعتين طويلتين طويلتين طويلتين، ثم صلى ركعتين وهما دون اللتين قبلهما، ثم صلى ركعتين وهما دون اللتين قبلهما، ثم صلى ركعتين وهما دون اللتين قبلهما، ثم صلى ركعتين وهما دون اللتين قبلهما، ثم أوتر، فذلك ثلاث عشرة ركعة». "আমি আজ অবশ্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত দেখব তিনি হালকা দু'রাকাত আদায় করলেন। অতঃপর দীর্ঘ দীর্ঘ দীর্ঘ দু'রাকাত আদায় করলেন। অতঃপর দু'রাকাত আদায় করলেন, যা পূর্বের তুলনায় সংক্ষেপ ছিল। অতঃপর দু'রাকাত আদায় করলেন, যা তার পূর্বের দু'রাকাতের তুলনায় সংক্ষেপ ছিল। অতঃপর দু'রাকাত আদায় করলেন, যা তার পূর্বের দু'রাকাতের তুলনায় সংক্ষেপ ছিল। অতঃপর দু'রাকাত আদায় করলেন, যা তার পূর্বের দু'রাকাতের তুলনায় সংক্ষেপ ছিল। অতঃপর বিতর পড়লেন। এ হচ্ছে তেরো রাকাত সালাত”।

তিন, তেরো রাকাত সালাত আদায় করা তন্মধ্যে মধ্যে এক বৈঠকে পাঁচ রাকাত আদায় করা। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي من الليل ثلاث عشرة ركعة يوتر من ذلك بخمس لا يجلس في شيء إلا في آخرها». "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তেরো রাকাত সালাত আদায় করতেন, তার মধ্যে তিনি পাঁচ রাকাত দ্বারা বিতর পড়তেন, কোথাও তিনি বসতেন না শেষ রাকাত ব্যতীত"।

চার, নয় রাকাত আদায় করতেন, আট নাম্বার রাকাত ব্যতীত কোথাও বসতেন না, অতঃপর নবম নাম্বার রাকাত পড়তেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তাতে রয়েছে: ... كنا نعد له سواكه وطهوره فيبعثه الله ما شاء أن يبعثه من الليل فيتسوك ويتوضأ، ويصلي تسع ركعات لا يجلس فيها إلا في الثامنة، فيذكر الله ويحمده ويدعوه، ثم ينهض ولا يسلم، ثم يقوم فيصلي التاسعة، ثم يقعد فيذكر الله ويحمده ويدعوه، ثم يسلم تسليماً يسمعناه ...... "... আমরা তার জন্য মিসওয়াক ও পানি প্রস্তুত রাখতাম, আল্লাহ যখন তাকে উঠানোর ইচ্ছা করতেন, তাকে উঠাতেন অতঃপর তিনি মিসওয়াক করতেন ও অযু করতেন, অতঃপর নয় রাকাত সালাত আদায় করতেন আট নাম্বার রাকাত ব্যতীত কোথাও তিনি বসতেন না। অতঃপর তিনি আল্লাহর যিকির করতেন, হামদ্ ও সানা এবং দো'আ করতেন, অতঃপর উঠতেন কিন্তু সালাম ফিরাতেন না, এবং নবম রাকাতের জন্য দণ্ডায়মান হতেন। অতঃপর বসে আল্লাহর যিকির করতেন, তার হামদ-সানা করতেন ও তার নিকট দো'আ করতেন। অতঃপর তিনি আমাদের শুনিয়ে সালাম ফিরাতেন..."।

পাঁচ. সাত রাকাত আদায় করা, শেষ রাকাত ব্যতীত কোথাও না বসা। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে: ... فلما أسنّ نبي الله صلى الله عليه وسلم وأخذه اللحم أوتر بسبع ... .. "... যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বার্ধক্যে উপনীত হলেন ও মোটিয়ে গেলেন, তখন সাত রাকাত দ্বারা বিতর পড়েছেন..."। অপর বর্ণনায় এসেছে: لا يقعد إلا في آخرهن». "শেষ রাকাত ব্যতীত কোথাও বসতেন না"।

ষষ্ঠ, সাত রাকাত পড়া, ষষ্ঠ রাকাত ব্যতীত কোথাও না বসা। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিসওয়াক ও পানি প্রস্তুত রাখতাম, আল্লাহ তাকে উঠিয়ে দিতেন, যখন তাকে উঠাতে চাইতেন, তিনি মিসওয়াক করতেন ও অযু করতেন অতঃপর সাত রাকাত আদায় করতেন, ষষ্ঠ রাকাত ব্যতীত কোথাও বসতেন না। অতঃপর বসে আল্লাহর যিকির ও দো'আ করতেন"।

সাত, পাঁচ রাকাত পড়া, শেষ রাকাত ব্যতীত কোথাও না বসা। আবু আইয়ূব আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «الوتر حق على كل مسلم، فمن أحب أن يوتر بخمس فليفعل، ومن أحب أن يوتر بثلاث فليفعل، ومن أحب أن يوتر بواحدة فليفعل». "বেতের প্রত্যেক মুসলিমের ওপর একটি হক, যে পাঁচ রাকাত দ্বারা বিতর আদায় করতে চায়, সে যেন তাই করে। যে তিন রাকাত দ্বারা বিতর আদায় করতে চায়, সে যেন তাই করে। আর যে এক রাকাত দ্বারা বিতর আদায় করতে চায়, সে যেন তাই করে"। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদীস থেকে প্রমাণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ রাকাতগুলো বিনা বৈঠকে পড়তেন, পঞ্চম রাকাত ব্যতীত বসতেন না। তাতে আরো রয়েছে: “... পাঁচ রাকাত দ্বারা বিতর আদায় করতেন, শেষ রাকাত ব্যতীত কোথাও বসতেন না”।

আট, তিন রাকাত পড়া, দু'রাকাত পর সালাত ফিরানো, অতঃপর এক রাকাত দ্বারা বিতর আদায় করা। আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের শুনিয়ে সালাম দ্বারা জোড় ও বেজোড় সালাতের মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করতেন”। আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একটি ‘মওকুফ’ বর্ণনা রয়েছে, নাফে বলেছেন: “আব্দুল্লাহ ইবন উমার বিতর সালাতে এক রাকাত ও দু'রাকাতের মাঝে সালাম ফিরাতেন, কখনো কোনো প্রয়োজনের নির্দেশ করতেন”। ‘মওকুফ’ দ্বারা ‘মরফু’ হাদীস শক্তিশালী হয়। আমি শাইখ আব্দুল আযিয ইবন বায রহ.-কে বলতে শুনেছি, তিনি তিন রাকাত বিতর সম্পর্কে বলেছেন: “যে তিন রাকাত বিতর পড়তে চায় তার জন্য এটাই উত্তম। এটা পূর্ণতার নিকটবর্তী"

নয়, এক সাথে তিন রাকাত পড়া, শেষ রাকাত ব্যতীত না বসা। আবু আইয়ূব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে: «ومن أحب أن يوتر بثلاث فليفعل» "যে তিন রাকাত দ্বারা বিতর পড়তে চায়, সে যেন তাই করে"। উবাই ইবন কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর সালাতে প্রথম রাকাতে সূরা আলা, দ্বিতীয় রাকাতে সূরা কাফিরুন ও তৃতীয় রাকাতে সূরা ইখলাস পড়তেন। শেষ রাকাত ব্যতীত কোথাও তিনি সালাম ফিরাতেন না। সালামের পর তিনি তিনবার বলতেন: «سبحان الملك القدوس»

তবে এ পদ্ধতিতে তিন রাকাত এক তাশাহুদ দ্বারা আদায় করা, শেষ রাকাত ব্যতীত না বসা। কারণ, দুই তাশাহুদ দ্বারা পড়লে মাগরিবের সালাতের সাথে সামঞ্জস্য হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিতর আদায় করতে নিষেধ করেছেন। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: لا توتروا بثلاث، أوتروا بخمس، أو بسبع، ولا تشبهوا بصلاة المغرب». "তোমরা তিন রাকাত দ্বারা বিতর পড় না, বরং পাঁচ রাকাত অথবা সাত রাকাত দ্বারা বিতর পড়, আর মাগরিব সালাতের সাথে সামঞ্জস্য রেখ না"।

হাফিয ইবন হাজার রহ. সেসব হাদীস ও মনীষীদের বাণী উল্লেখ করেছেন, যা থেকে প্রমাণ হয় যে, শেষ বৈঠকে এক তাশাহুদ দ্বারা বিতর জায়েয। তিনি সেসব হাদীসও একত্র করেছেন যা থেকে প্রমাণ হয় যে, দুই তাশাহুদ দ্বারা তিন রাকাত বিতর পড়া নিষেধ, মাগরিবের সাথে সামঞ্জস্যতার কারণে। যে সব হাদীস তিন রাকাত বিতর প্রমাণ করে, তার মধ্যে কাসেম ইবন আব্দুল্লাহ ইবন উমার এর হাদীস একটি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «صلاة الليل مثنى مثنى، فإذا أردت أن تنصرف فاركع ركعة واحدة توتر لك ما صليت». "রাতের সালাত দু'রাকাত দু'রাকাত, যখন তুমি শেষ করার ইচ্ছা কর, এক রাকাত পড়ে নাও, যা তোমার পূর্বের সালাত বেজোড় করে দিবে”। কাসেম বলেছেন: "আমরা সাবালক হয়ে অনেক লোককে দেখেছি যারা তিন রাকাত দ্বারা বিতর পড়তেন। তবে সব পদ্ধতি বৈধ, আশা করি কোনোটিতে কোনো সমস্যা নেই"।

দশ, এক রাকাত বিতর পড়া আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «الوتر ركعة من آخر الليل» "বেতের হচ্ছে এক রাকাত শেষ রাতে"।

আবু মিজলায থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবন আব্বাসকে বিতর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি? তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছি: ركعة من آخر الليل “এক রাকাত শেষ রাতে”। আমি ইবন উমারকে জিজ্ঞাসা করেছি, তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: ﴿ركعة من آخر الليل﴾. “এক রাকাত শেষ রাতে”। ইমাম নববী রহ. বলেছেন: “এ থেকে প্রমাণ হয় এক রাকাত বিতর পড়া বৈধ, এবং তা শেষ রাতে পড়া মুস্তাহাব”। আমি শাইখ আব্দুল আযিয ইবন বায রহ.-কে বলতে শুনেছি: “কিন্তু যত বেশি রাকাত পড়বে তত উত্তম, যদি কেউ এক রাকাতে সমাপ্ত করে, তাহলেও মকরুহ ব্যতীত বৈধ...”।

এক রাকাত দ্বারা বিতর পড়ার আরো দলীল: আবু আইয়ুব আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস, তাতে রয়েছে: ﴿.... ومن أحب أن يوتر بواحدة فليفعل.....﴾ “... যে এক রাকাত দ্বারা বিতর পড়তে চায়, সে যেন তাই করে...”

৫. বিতর সালাতের কিরাত। প্রথম রাকাতে সূরা আলা, দ্বিতীয় রাকাতে সূরা কাফিরুন এবং তৃতীয় রাকাতে সূরা ইখলাস পড়া আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর সালাতে সূরা আলা, সূরা কাফিরুন ও সূরা ইখলাস পাঠ করতেন এক এক রাকাতে। ইমাম তিরমিযি রহ. বলেন, প্রত্যেক রাকাতে এখন একটি করে সূরা পাঠ করবে।

৬. বিতর সালাতে কুনুত পড়ার বিধান। বিতর সালাতে কুনুত পড়া বৈধ হাসান ইবন আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কয়েকটি বাক্য শিক্ষা দিয়েছেন, যা আমি বিতর সালাতের কুনুতে পড়ি: اللهم اهدني فيمن هديت، وعافني فيمن عافيت، وتولني فيمن توليت، وبارك لي فيما أعطيت، وقني شر ما قضيت؛ فإنك تقضي ولا يُقضى عليك، وإنه لا يذل من واليت [ ولا يعز من عاديت ] [ سبحانك ] تباركت ربنا وتعاليت».

খ. আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিতর শেষে বলতেন: اللهم إني أعوذ برضاك من سخطك، وبمعافاتك من عقوبتك، وأعوذ بك منك، لا أحصي ثناء عليك، أنت كما أثنيت على نفسك». وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

৭. কুনুতের দো'আ রুকুর আগে ও পরে উভয় স্থানে পড়া যায়। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত তিনি রুকুর পূর্বে কুনুত পড়েছেন। রুকুর পরেও তার থেকে কুনুত পড়ার প্রমাণ রয়েছে অতএব উভয় পদ্ধতি বৈধ ও জায়েয, তবে উত্তম হচ্ছে রুকুর পরে কুনুত পড়া। কারণ এটা অধিক হাদীসে এসেছে। বিতর সালাতে কুনুত পড়া সুন্নাত।

কুনুতের স্থান নির্ণয় সম্পর্কে হাদীস: আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তাকে কুনুত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল রুকুর পূর্বে না পরে? তিনি বলেন, "রুকুর পূর্বে..." অতঃপর বলেন, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাস রুকুর পর কুনুত পড়েন, যেখানে তিনি বনু সুলাইম জনপদের ওপর বদ-দো'আ করতেন"। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ফজরের কিরাত শেষ করে তাকবীর বলতেন ও রুকু থেকে মাথা উঠাতেন: ﴿سمع الله لمن حمده، ربنا ولك الحمد বলতেন, অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে বলতেন: «اللهم أنج الوليد بن الوليد..... "হে আল্লাহ তুমি ওলীদ ইবন ওলিদকে মুক্ত কর..." আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহর, আসর, মাগরিব, এশা ও ফজরে সালাতে একমাস লাগাতার কুনুত পড়েছেন। প্রত্যেক সালাতের শেষে, অর্থাৎ শেষ রাকাতে سمع الله لمن حمده বলে কুনুত পড়তেন। তিনি বনু সুলাইম, রা'আল, যাকওয়ান, উসাইয়্যাহ জনপদের ওপর বদ দো'আ করতেন। তার পিছনে যারা থাকত, তারা আমীন বলত"। উবাই ইবন কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর পড়তেন ও রুকুর পূর্বে কুনুত পড়তেন"। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ফজরের সালাতে কুনুত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বলেন, "আমরা রুকুর পূর্বে ও পরে কুনুত পড়তাম"।

৮. কুনুতে হাত উঠানো ও মুক্তাদিদের আমীন বলা। সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসের ব্যাপকতা থেকে কুনুতে হাত উঠানো ও মুক্তাদিদের আমীন বলা প্রমাণ হয়, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «إن ربكم تبارك وتعالى حي كريم يستحي من عبده إذا رفع يديه أن يردهما صفراً» "নিশ্চয় তোমাদের রব লজ্জাশীল ও দয়াবান, বান্দা যখন তার দু'হাত উঠায়, তিনি তা খালি ফিরিয়ে দিতে লজ্জা বোধ করেন"।

দ্বিতীয়ত উমার ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাফে ইবন খাদিজ বলেছেন: "আমি উমার ইবন খাত্তাবের পিছনে সালাত আদায় করেছি, তিনি রুকুর পর কুনুত পড়েছেন, দু'হাত উঠিয়েছেন ও জোড়ে দো'আ পড়েছেন"।

আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে কারীদের ঘটনায় বর্ণিত, যাদেরকে শহীদ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, যখনি তিনি ফজরের সালাত আদায় করতেন, হাত উঠিয়ে তাদের জন্য বদ দো'আ করতেন, অর্থাৎ যারা কারীদের হত্যা করেছে, তাদের জন্য বদ দো'আ করতেন"। ইমাম বায়হাকি রহ. উল্লেখ করেছেন: কতক সংখ্যক সাহাবী কুনুতে হাত উঠিয়েছেন। আর ইমামের কুনুতে মুক্তাদিদের আমীন বলার দলীল হচ্ছে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শেষ রাকাতে বলতেন, তিনি বনু সুলাইম জনপদের রা'আল, যাকওয়ান ও উসাইয়‍্যাহ বংশের লোকদের ওপর বদ-দো'আ করতেন। তার পিছনে যারা থাকত, তারা আমীন বলত"

৯. রাতের সর্ব শেষ সালাত বিতর আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "রাতে তোমরা তোমাদের সর্বশেষ সালাত আদায় কর বিতর" মুসলিমের অপর বর্ণনায় আছে: "যে রাতে সালাত আদায় করে, সে যেন তার সর্বশেষ সালাত আদায় করে বিতর ফজরের পূর্বে কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ নির্দেশ দিতেন”।

১০. বিতর সালাত শেষে সালামের পর দো'আ করা। যেমন, সালামের পর বলা: ﴿سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوْسِ، سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوْسِ، سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوْسِ رَبِّ الْمَلائِكَةِ وَالرُّوْحِ﴾ কারণ, উবাই ইবন কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন রাকাত দ্বারা বিতর পড়তেন। প্রথম রাকাতে সূরা আলা, দ্বিতীয় রাকাতে সুরা কাফিরুন ও তৃতীয় রাকাতে সূরা ইখলাস পড়তেন। তিনি রুকুর পূর্বে কুনুত পড়তেন। যখন তিনি সালাত শেষ করতেন, তখন বলতেন; তিনবার। অতঃপর উচ্চ আওয়াজে বলতেন: ﴿سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوْسِ﴾ ﴿رَبِّ الْمَلائِكَةِ وَالرُّوْحِ﴾

১১. এক রাতে দু'বার বিতর বৈধ নয়, সাবেক বিতর বাতিল করা যাবে না। তালক ইবন আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছি: ﴿لاَ وِتْرَانِ فِيْ لَيْلَةٍ﴾ "এক রাতে দু'বার বিতর নেই"। দ্বিতীয়তঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর পড়ে দু'রাকাত সালাত আদায় করতেন। যদি কোনো মুসলিম প্রথম রাতে বিতর আদায় করে, অতঃপর ঘুমিয়ে যায়, অতঃপর আল্লাহ তাকে শেষ রাতে উঠার তাওফিক দান করেন, তখন সে দু'রাকাত দু'রাকাত সালাত আদায় করবে, পূর্বের বিতর ভঙ্গ করবে না, বরং তাতেই যথেষ্ট করবে।

১২. বিতর সালাতের জন্য পরিবারের সদস্যদের জাগ্রত করা বৈধ। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে সালাত আদায় করতেন, আমি তার বিছানায় শুয়ে থাকতাম। যখন তিনি বিতর পড়ার ইচ্ছা করতেন আমাকে জাগিয়ে দিতেন, আমি বিতর পড়তাম"। মুসলিমের এক বর্ণনা এভাবে এসেছে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তার সালাত আদায় করতেন, আর সে (আয়েশা) তার সামনে শুয়ে থাকত, যখন বিতর বাকি থাকত, তিনি তাকে জাগ্রত করতেন, সে বিতর পড়ত"। মুসলিমের অপর বর্ণনা এভাবে এসেছে: "যখন তিনি বিতর পড়তেন বলতেন, 'হে আয়েশা ওঠ, বিতর পড়”। ইমাম নববী রহ. বলেছেন: "এখান থেকে প্রমাণ হয় যে, শেষ রাতে বিতর পড়া মুস্তাহাব, ব্যক্তি তাহাজ্জুদ পড়ুক বা না পড়ুক, যদি শেষ রাতে উঠার ব্যাপারে নিশ্চিত হয় নিজে নিজে অথবা কারো জাগ্রত করার দ্বারা। ঘুমের পূর্বে বিতর পড়ার নির্দেশ তাকে দেওয়া হয়েছে, যে শেষ রাতে উঠার ব্যাপারে নিশ্চিত নয়"।

১৩. যার বিতর ছুটে যায়, তার বিতর কাযা করা উচিৎ। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত: "... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো সালাত আদায় করতেন, তা তিনি নিয়মিত আদায় করা পছন্দ করতেন। তার অভ্যাস ছিল, যদি তার ওপর ঘুম প্রবল হত অথবা রাতে সালাত আদায় করা কষ্টদায়ক হত, তাহলে তিনি দিনের বেলা বারো রাকাত সালাত আদায় করতেন। আমি জানি না আল্লাহর নবী কোনো রাতে পূর্ণ কুরআন খতম করেছেন, আর না সকাল পর্যন্ত কোনো রাত সালাত আদায় করেছেন, না পূর্ণ মাস সিয়াম পালন করেছেন রমযান ব্যতীত..."।

উমার ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «من نام عن حزبه أو عن شيء منه فقرأه فيما بين صلاة الفجر وصلاة الظهر كتب له كأنما قرأه من الليل». "যে ব্যক্তি তার অযীফা না পড়ে ঘুমিয়ে যায়, অথবা আংশিক পড়ে ঘুমিয়ে যায়, অতঃপর সে তা ফজর ও যোহরের মধ্যবর্তী সময়ে পড়ে নেয়, তার জন্য লেখা হবে যেন সে তা রাতেই পড়েছে"।

আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «من نام عن الوتر أو نسيه فليصل إذا أصبح أو ذكره». "যে ব্যক্তি বিতর না পড়ে ঘুমিয়ে যায় অথবা তা ভুলে যায়, সে যেন তা পড়ে নেয় যখন ভোর করে অথবা যখন স্মরণ হয়"।

অতএব, উত্তম হচ্ছে যদি বিতর আদায় না করে ঘুমায় অথবা ভুলে যায়, তাহলে তা দিনে সূর্য উঠার পর অভ্যাস অনুযায়ী জোড় সংখ্যায় কাযা করে নেওয়া। যদি রাতে এগারো রাকাত পড়ার অভ্যাস থাকে, তাহলে দিনে বারো রাকাত পড়া আর যদি রাতে নয় রাকাত পড়ার অভ্যাস থাকে, তাহলে দিনে দশ রাকাত পড়া, এভাবে।

সমাপ্ত

এ গ্রন্থটি রাতের সালাত সম্পর্কে সংক্ষিপ্তি একটি রচনা। এখানে তাহাজ্জুদের অর্থ, কিয়ামুল লাইলের ফযীলত, উত্তম সময়, রাকাত সংখ্যা, আদব ও কিয়ামুল লাইলের সহায়ক উপকরণ উল্লেখ করা হয়েছে। অনুরূপ তারাবীর সালাতের অর্থ, হুকুম, ফযীলত, সময়, রাকাত সংখ্যা ও তাতে জামা'আতের বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। আরো উল্লেখ করা হয়েছে বিতর সালাত, বিতর সালাতের হুকুম, ফযীলত, সময় ও বিভিন্ন প্রকার, রাকাত সংখ্যা ও তাতে কিরাতের বর্ণনা ইত্যাদি। প্রত্যেকটি মাসআলা দলীলসহ বর্ণনা করা হয়েছে।

টিকাঃ
২০৭. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৩৬।
২০৮. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৯২, ১১৭, ১৩৭, ৬৩১৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮২-৭৬৩।
২০৯. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৬৪।
২১০. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৬৫।
২১১. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৩৭।
২১২. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৪৬।
২১৩. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৪৬।
২১৪. নাসাঈ, হাদীস নং ১৭১৮, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ নাসাঈ: (১/৩৭৫)। ইমাম ইবন মাজাহ ও ইমাম আহমদ: (৬/২৯০) উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে নিম্নের শব্দে বর্ণনা করেছেন: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يوتر بسبع أو بخمس لا يفصل بينهن بسلام ولا كلام "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাত অথবা পাঁচ রাকাত দ্বারা বেতর পড়তেন, সালাম ও কথার দ্বারা মাঝখানে বিচ্ছেদ করতেন না"। সুনান ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১১৯২, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ সুনান ইবন মাজাহ: (১/১৯৭)।
২১৫. ইবন হিব্বান: (২৪৪১), শুআইব আরনাউত ইবন হিব্বানের টিকায়: (৬/১৯৫) বলেছেন: "এ সনদটি বুখারি ও মুসলিমের শর্ত মোতাবেক। আহমদ অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন: (৬/৫৪)।
২১৬. আবু দাউদ, হাদীস নং ১৪২২; নাসাঈ, হাদীস নং ১৭১২; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১১৯২; ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৬৭০; হাকেম: (১/৩০২-৩০৩)।
২১৭. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৩৭।
২১৮. ইবন হিব্বান, হাদীস নং ২৪৩৩, ২৪৩৪, ২৪৩৫; আহমদ: (২/৭৬) ইতাব ইবন যিয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন। হাফিয ইবন হাজার বলেছেন: "এর সনদ শক্তিশালী"। ফাতহুল বারি: (২/৪৮২), আলবানী বলেছেন: আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে এর একটি ‘মরফু’ ‘শাহেদ’ রয়েছে: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাকাত দ্বারা বিতর পড়তেন, তিনি দু'রাকাত ও এক রাকাতের মাঝে কথা বলতেন”। এ সনদটি সহীহ বুখারী ও মুসলিমের শর্ত মোতাবেক"। তিনি এর সূত্র হিসেবে ইবন শায়বাহ উল্লেখ করেছেন। দেখুন: ইরওয়াউল গালিল: (২/১৫০)।
২১৯. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৯১; মুয়াত্তা ইমাম মালেক: (১/১২৫)।
২২০. 'রওদুল মুরিব': (২/১৮৭) গ্রন্থের ব্যাখ্যার সময় আমি তা শুনেছি, তারিখ: ১৫/১১/১৪২২হি.।
২২১. আবু দাউদ, হাদীস নং ১৪২২; নাসাঈ, হাদীস নং ১৭১২; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১১৯২; ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৬৭; হাকেম: (১/৩০২)।
২২২. নাসাঈ, হাদীস নং ১৭০১, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ সুনান নাসাঈ: (১/৩৭২)। আরো দেখুন: নাইলুল আওতার: (২/২১১), ফাতহুল বারি: (২/৪৮১), ফাতহুল বারিতে এর অনেক শাহেদ রয়েছে। নাইলুল আওতার: (২/২১২)।
২২৩. আমি শাইখ আব্দুল আযিয ইবন বায রহ. থেকে শুনেছি, তিনি 'রওদুল মুরবি': (২/১৮৮) গ্রন্থের ব্যাখ্যায় এক সালামে তিন রাকাত পড়ার আলোচনায় বলেছেন: "কিন্তু মাগরিবের সাথে মিল করবে না, বরং লাগাতার পড়বে”। অর্থাৎ বিনা বৈঠকে।
২২৪. দেখুন: শারহুল মুমতি লি ইবন উসাইমিন: (৪/২১)।
২২৫. ইবন হিব্বান, হাদীস নং ২৪২৯; দারাকুতনি: (২/২৪); বায়হাকি: (৩/৩১); হাকেম: (১/৩০৪), হাকেম হাদীসটি সহীহ বলেছেন, ইমাম যাহাবী তার সমর্থন করেছেন। হাফিয ইবন হাজার ফাতহুল বারি: (২/৪৮১) গ্রন্থে বলেছেন: "এর সনদ বুখারী ও মুসলিমের শর্ত মোতাবেক"। তালখিসুল হাবিরে বলেছেন: সবার সনদ নির্ভরযোগ্য, তাই কারো মওকুফ বর্ণনার ফলে সমস্যা নেই। তাখিসুল হাবির: (২/১৪), হাদীস নং (৫১১)।
২২৬. দেখুন: ফাতহুল বারী: (২/৪৮১); নাইলুল আওতার: (২/২১৪)।
২২৭. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৯৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৪৯।
২২৮. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৫২।
২২৯. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৫৩।
২৩০. শারহুন নববী: (৬/২৭৭)।
২৩১. রওদুল মুরবি: (২/১৮৫) গ্রন্থের ব্যাখ্যার সময় শুনেছি।
২৩২. আবু দাউদ, হাদীস নং ১৪২২; নাসাঈ, হাদীস নং ১৭১২; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১১৯০।
২৩৩. তিরমিযী, হাদীস নং ৪৬২; নাসাঈ, হাদীস নং ১৭০২; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১১৭২, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ সুনান নাসাঈ: (১/৩৭২); সহীহ ইবন মাজাহ: (১/১৯৩); সহীহ সুনান তিরমিযী: (১/১৪৪)।
২৩৪. সুনান তিরমিযী: (২/৩২৬), এ হাদীসটি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী, হাদীস নং ৪৬৩; আবু দাউদ, হাদীস নং ১৪২৪ ও ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১১৭৩। "তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সূরা দ্বারা বিতর আদায় করতেন? তিনি বলেন: প্রথম রাকাতে সূরা আলা, দ্বিতীয় রাকাতে সূরা কাফিরুন ও তৃতীয় রাকাতে সূরা ইখলাস এবং সূরা নাস ও ফালাক পাঠ করতেন। অনেকে এ হাদীসটি দুর্বল বলেছেন। দেখুন: নাইলুল আওতার: (২/২১১-২১২), আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ সুনান আবু দাউদ: (১/২৬৭); সহীহ সুনান তিরমিযী: (১/১৪৪), সহীহ ইবন মাজাহ: (১/১৯৩), তিরমিযি বলেছেন: "সাহাবী ও তাদের পরবর্তী অনেক আলিম যা গ্রহণ করেছেন তা হচ্ছে, সূরা আলা, সূরা কাফিরুন ও সূরা ইখলাস পাঠ করা, প্রত্যেক রাকাতে একটি করে সূরা পড়া তিরমিযী: (২/৩২৬), আমি শাইখ আব্দুল আযীয ইবন বায রহ.-কে 'বুলুগুল মারামের' (৪০৯) নং হাদীসের ব্যাখ্যায় বলতে শুনেছি: "সূরা ফালাক ও নাসের বৃদ্ধি দুর্বল। বিশুদ্ধ বর্ণনা হচ্ছে: সূরা ইখলাস পড়া। যদি আয়েশার হাদীস বিশুদ্ধ সনদে প্রমাণিত হয়, তাহলে কখনো এটা, কখনো ওটা পড়া" আমি বলছি: এ হাদীসটি হাকেম বর্ণনা করে সহীহ বলেছেন, আর ইমাম যাহাভি তার সমর্থন করেছেন। হাকেম: (১/৩০৫), শুআইব আরনউত রহ. জামেউল উসূলের টিকায় বলেছেন: “হাকেম ও যাহাবী যথার্থ বলেছেন"। 'সুবুলুস সালামে'র গবেষক বলেছেন: হাফেয ইবন হাজার নাতায়েজুল আফকার': (১/৫১৩-৫১৪) গ্রন্থে বলেছেন: "এ হাদীসটি হাসান"। সুবুলুস সালাম: (৩/৫৪)।
২৩৫. কুনুতের একাধিক অর্থ রয়েছে: এখানে উদ্দেশ্য সালাতের বিশেষ স্থানে কিয়ামের সময় দো'আ করা। দেখুন: ফাতহুল বারি: (২/৪৯০-৪৯১), শারহুল মুমতি: (৪/২৪)
২৩৬. আহমদ: (১/১৯৯); আবু দাউদ, হাদীস নং ১৪২৫; নাসাঈ, হাদীস নং ১৭৪৫, ৭৪৬; তিরমিযী, হাদীস নং ৪৬৪; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১১৭৯, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: ইরওয়াউল গালিল: (২/১৭২), হাদীস নং (৪৪৯)।
২৩৭. ব্রাকেটের শব্দ বাড়িয়েছেন তাবরানি রহ. দেখুন: তাবরানি ফিল মুজামিল কাবির: (৩/৭৩), হাদীস নং ১৭০১, ২৭০৩, ২৭০৪, ২৭০৫, ২৭০৭; বায়হাকি ফি সুনানিল কুবরা: (২/২০৯), হাফেয ইবন হাজার বলেছেন: "এ অতিরিক্ত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত"। অতঃপর তিনি প্রমাণ করেছেন এটা মুত্তাসিল সনদ দ্বারা সাব্যস্ত। ইমাম নববী রহ. এ অতিরিক্তকে দুর্বল বলেছেন, তিনি তার প্রতিবাদ করেছেন। দেখুন: তালখিসুল হাবির: (১/২৪৯), হাদীস নং (৩৭১)। আরো দেখুন: নাইলুল আওতার লি শাওকানি: (২/২২৪), 'ইরওয়াউল গালিল' লিল আলবানী: (২/১৭২)।
২৩৮. ব্রাকেটের অতিরিক্ত ইমাম তিরমিয বৃদ্ধি করেছেন, হাদীস নং ৪৬৪।
২৩৯. আহমদ: (১/৯৬); নাসাঈ, হাদীস নং ১৭৪৭; আবু দাউদ, হাদীস নং ১৪২৭; তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫৬৬; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১১৭৯, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: ইরওয়াউল গালিল: (২/১৭৫), হাদীস নং (৪৩০)।
২৪০. আল্লামা আলবানী রহ. বলেছেন: "দো'আ কুনুতের পর সাহাবীদের আমল থেকে দুরূদ প্রমাণিত। দেখুন: ইরওয়াউল গালিল: (২/১৭৭)।
২৪১. শায়খুল ইসলাম ইবন তাইমিয়া রহ. বলেছেন: "কুনুতের ব্যাপারে মানুষ দু'ভাগে বিভক্ত, অপর ভাগ আছে মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী: তাদের কেউ বলেন রুকুর পূর্ব ব্যতীত কুনুত বৈধ নয়। কেউ বলেন: রুকুর পর ব্যতীত কুনুত বৈধ নয়। আর ফিকাহবিদ আহলে হাদীসগণ, যেমন আহমদ প্রমুখ বলেন: উভয় বৈধ। কারণ, উভয় পক্ষে সহীহ হাদীস বিদ্যমান, যদিও তারা রুকুর পরে কুনুতকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। কারণ, এ ব্যাপারে হাদীস বেশি ও তা কিয়াস মোতাবেক"। ফাতওয়া ইবন তাইমিয়া: (২৩/১০০)। আমি শাইখ আব্দুল আযিয ইবন বায রহ.-কে 'রওদুল মুরবি': (২/১৮৯) গ্রন্থের ব্যাখ্যার সময় বলতে শুনেছি: "শেষ রাকাতে রুকুর পর কুনুত পড়বে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত মুসিবতের সময় তিনি রুকুর পর কুনুত পড়েছেন। রুকুর পূর্বেও কুনুত পড়া প্রমাণিত। উভয় বৈধ, এ ব্যাপারে কোনো সংকীর্ণতা নেই; কিন্তু বিশুদ্ধ ও উত্তম হচ্ছে রুকুর পর কুনুত পড়া। কারণ, হাদীসে এর উল্লেখ বেশি"। ইবন কুদামাহ উল্লেখ করেছেন: "চার খলিফা থেকে অনুরূপ বর্ণনা করা হয়েছে। ইমাম আহমদ থেকে বর্ণনা করা হয়েছে: তার মতে রুকুর পর কুনুত পড়বে, তবে তার পূর্বে পড়লে কোনো সমস্যা নেই। আল-মুগনি: (২/৫৮১-৫৮২)। আরো দেখুন: যাদুল মায়াদ: (১/২৮২); ফাতহুল বারি: (২/৪৯১)।
২৪২. কেউ বলেছেন পুরো বছর কুনুত পড়া সুন্নাত। আর কেউ বলেছেন: শুধু রমযানের শেষ অর্ধেকে কুনুত পড়া সুন্নাত আর কেউ বলেছেন: কখনো কুনুত পড়া সুন্নাত নয়। ইমাম আহমদের অধিকাংশ সাথীগণ প্রথম মত গ্রহণ করেছেন। দেখুন: আল-মুগনি: (২/৫৮০-৫৮১); নাইলুল আওতার: (২/২২৬); শারহুন নববী আলা সহীহ মুসলিম: (৫/১৮৩), শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়াহ রহ. বলেছেন: "বিতর সালাতে কুনুত পড়া জায়েয, জরুরি নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিদের মধ্যে কেউ কুনুত পড়েননি, কেউ রমযানের শেষ অর্ধেকে কুনুত পড়েছেন, আবার কেউ পুরো বছর কুনুত পড়েছেন। আলিমদের মধ্যে কেউ প্রথম মত মুস্তাহাব বলেছেন, যেমন ইমাম মালেক। কেউ দ্বিতীয় মত মুস্তাহাব বলেছেন, যেমন ইমাম শাফি ও আহমদের এক বর্ণনা। কেউ তৃতীয় মত মুস্তাহাব বলেছেন, যেমন ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আহমদের এক বর্ণনা সব পদ্ধতি বৈধ, এর কোনো একটি গ্রহণকারী তিরষ্কারের উপযুক্ত হবে না"। ফাতওয়া: (২৩/৯৯)। আরো দেখুন: আল-মুগনি: (২/৫৮০); নাইলুল আওতার: (২/২২৬)।
২৪৩. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১০০২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৭৭।
২৪৪. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৭৫।
২৪৫. আবু দাউদ, হাদীস নং ১৪৪৩; হাকেম: (১/২২৫), বায়হাকি, আলবানী রহ. বায়হাকির সনদকে সহীহ সুনান আবু দাউদে: (১/২৭০) হাসান বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন: রুকুর পর কুনুত পড়া আবু বকর, উমার ও উসমান থেকে হাসান সনদে প্রমাণিত। দেখুন: ইরওয়াউল গালিল: (২/১৬৪)।
২৪৬. আবু দাউদ, হাদীস নং ১৪২৭; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১১৮২, আলবানী তার সনদ হাসান বলেছেন। দেখুন: সহীহ ইবন মাজাহ: (১/১৯৫), ইরওয়াউল গালিল: (২/১৬৭), হাদীস নং (৪২৬); সহীহ সুনান আবু দাউদ: (১/২৬৮)।
২৪৭. ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১১৮৩, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ ইবন মাজাহ: (১/১৯৫); ইরওয়াউল গালিল: (২/১৬০)।
২৪৮. আবু দাউদ, হাদীস নং ১৪৮৮; তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫৫৬; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৩৮৬৫; বগভি ফি শারহুস সুন্নাহ: (৫/১৮৫, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ সুনান তিরমিযী: (৩/১৬৯)।
২৪৯. বায়হাকি: (২/২১২), তিনি বলেছেন: এ হাদীসটি উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে সহীহ।
২৫০. বায়হাকি: (২/২১১), আল-বান্না বলেছেন: "আল-বায়ান গ্রন্থের লেখক বলেছেন: "এটা আমাদের অধিকাংশ সাথীদের কথা। আমাদের সাথীদের মধ্যে ইমাম হাফিয আবু বকর বায়হাকি ফিকাহ ও হাদীসের মধ্যে সমন্বয় করার জন্য এটাকে গ্রহণ করেছেন। কারণ, তিনি এ হাদীসটি সহীহ অথবা হাসান সনদে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন"। অর্থৎ পূর্বের হাদীস। দেখুন: 'ফাতহুর রাব্বানি মা'আ বুলুগুল আমানি'।
২৫১. সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকি: (২/২১১)। দেখুন: আল-মুগনি: (২/৫৮৪),; আশ-শারহুল মুমতি: (৪/২৬); শারহুন নববী আলা সহীহ মুসলিম: (৫/৮৩)।
২৫২. আবু দাউদ, হাদীস নং ১৪৪৩।
২৫৩. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৯৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৫১।
২৫৪. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৫২-৭৫১।
২৫৫. নাসাঈ, হাদীস নং ১৬৯৯; আবু দাউদ, হাদীস নং ১৪৩০; দারাকুতনি: (২/৩১), ব্রাকেটের অংশ দারাকুতনি থেকে সংগৃহীত। আলবানী এ অংশ সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ সুনান নাসাঈ: (১/২৭২)।
২৫৬. আবু দাউদ, হাদীস নং ১৪৩৯; তিরমিযী, হাদীস নং ৪৭০; নাসাঈ, হাদীস নং ১৬৭৯; আহমদ: (৪/২৩); ইবন হিব্বান: (৪/৭৪), হাদীস নং ২৪৪। আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ তিরমিযী: (১/১৪৬)।
২৫৭. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৩৮।
২৫৮. দেখুন: আল-মুগনি: (২/৫৯৮), আমি শাইখ আব্দুল আযীয ইবন বায রহ.-কে 'বুলুগুল মারামের' (৪০৭) নং হাদীসের ব্যাখ্যার সময় বলতে শুনেছি: “শেষ রাতে বিতর পড়া সুন্নাত; কিন্তু কেউ যদি প্রথম রাতে বিতর পড়ে, তাহলে শেষ রাতে তা পড়বে না। কারণ, হাদীসে এসেছে: "এক রাতে দু'বার বিতর নেই”। আর যারা বিতর ভঙ্গ করার কথা বলেন, তাদের কথার অর্থ হচ্ছে তিনবার বিতর পড়া। তবে বিশুদ্ধ অভিমত হচ্ছে যখন কেউ প্রথম রাতে বিতর পড়ে, অতঃপর শেষ রাতেও সালাত আদায় করে, তাহলে সালাত আদায় করবে কিন্তু বিতর পড়বে না, বরং প্রথম রাতের বিতরকে যথেষ্ট করবে”। দেখুন: তার মজমু' ফাতওয়া: (১১/৩১০- ৩১১)।
২৫৯. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৯৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৪৪।
২৬০. শারহুন নববী আলা সহীহ মুসলিম: (২/২৭০), দেখুন: ফাতহুল বারি: (২/৪৮৭)।
২৬১. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৪৬।
২৬২. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৪৭।
২৬৩. আবু দাউদ, হাদীস নং ১৪৩১), ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১১৮৮; তিরমিযী, হাদীস নং ৪৬৫), তিরমিযির বর্ণিত শব্দ: «فليصل إذا ذكر وإذا استيقظ» "সে যেন পড়ে নেয় যখন স্মরণ করে ও যখন জাগ্রত হয়"। হাকেম: (১/৩০২), হাকেমের বর্ণিত শব্দ তিরমিযির শব্দের অনুরূপ। হাদীসটি হাকেম সহীহ বলেছেন, ইমাম যাহাবি তার সমর্থন করেছেন। আহমদ: (৩/৪৪), তার শব্দ: «إذا ذكرها أو إذا أصبح» "যখন তা স্মরণ করে অথবা যখন ভোর করে"। আলবানী আহমদের হাদীস সহীহ বলেছেন। দেখুন: ইরওয়াউল গালিল: (২/১৫৩), আমি শাইখ আব্দুল আযিয ইবন বায রহ.-কে বলতে শুনেছি: "এ শব্দে এ হাদীস দুর্বল, আবু দাউদ এ হাদীসটি জায়্যেদ সনদে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু সেখানে إذا أصبح শব্দ নেই। আবু দাউদের বর্ণনা বিশুদ্ধ বলা যায়। তাই উত্তম হচ্ছে কাযা করবে ঠিক, কিন্তু জোড় রাকাত আদায় করবে। সহীহ হাদীসে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ যদি ঘুম অথবা অসুস্থতার কারণে বিতর না পড়তেন, তাহলে দিনে বারো রাকাত সালাত আদায় করতেন"। বুলুগুল মারামের: (৪১২) নং হাদীসের ব্যাখ্যার সময় আমি তার এ বক্তব্য শ্রবণ করেছি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00