📄 ১.৫ আল্লাহর নিয়ামত কখনোই পরিশোধ যোগ্য নয়
সপ্তম: কিয়ামুল লাইলের জন্য সহায়ক উপকরণ:
১. কিয়ামুল লাইলের ফযীলত, আল্লাহর নিকট রাতে সালাত আদায়কারীদের মর্তবা ও দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের জন্য যে বিনিময় রয়েছে তা জানা। যেমন, আল্লাহ তাদের পূর্ণ ঈমানের সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা ও মূর্খরা কখনো সমান নয়, কিয়ামুল লাইলের ফলে জান্নাত ও তার উঁচু প্রাসাদ লাভ হয়। কিয়ামুল লাইল আল্লাহর নেককার বান্দাদের সিফাত ও মুমিনদের সম্মানের ভূষণ। মুমিন ব্যক্তি রাতের সালাতের জন্য ঈর্ষা করে।
২. শয়তানের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ থাকা। কারণ, শয়তান তাতে বাধার সৃষ্টি করে। রাতে না উঠার ক্ষতি জানা ইত্যাদি। আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এক ব্যক্তির উল্লেখ করা হল, যে সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়ে ছিল, তিনি বললেন: «ذاك رجل بال الشيطان في أذنه»، أو قال: «في أذنيه» "সে এমন লোক, যার কানে শয়তান পেশাব করেছে” অথবা বলেছেন: "তার দু'কানে"।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «يعقد الشيطان على قافية رأس أحدكم إذا هو نام ثلاث عقد، يضرب على مكان كل عقدة: عليك ليل طويل فارقد، فإن استيقظ فذكر الله انحلت عقدة، فإن توضأ انحلت عقدة، فإن صلى انحلت عُقَدُهُ، فأصبح نشيطاً طيب النفس، وإلا أصبح خبيث النفس كسلان» "তোমাদের প্রত্যেকের মাথার শেষাংশে শয়তান তিনটি ঘিরা দেয়, যখন সে ঘুমায়। প্রত্যেক ঘিরার স্থানে সে মোহর এঁটে দেয়: তোমার রাত এখনো অনেক বাকি। অতএব, ঘুমাও যদি সে জাগ্রত হয়ে আল্লাহর যিকর করে একটি ঘিরা খুলে যায়, যদি সে ওযু করে অপর ঘিরা খুলে যায়, যদি সে সালাত আদায় করে, তার সব ঘিরা খুলে যায়, ফলে সে প্রাণবন্ত ও প্রফুল্ল চিত্তে ভোর করে, অন্যথায় সে খারাপ মন ও অলসতাসহ ভোর করে"।
আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: يا عبد الله لا تكن مثل فلان كان يقوم من الليل فترك قيام الليل "হে আব্দুল্লাহ তুমি অমুকের মত হয়ো না, সে রাতে কিয়াম করত, পরে সে তা ত্যাগ করেছে"।
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি একটি স্বপ্ন দেখেন, অতঃপর তা বোন উম্মুল মুমিনীন হাফসার নিকট বর্ণনা করেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বলেন, তিনি বলেন, "আব্দুল্লাহ খুব ভালো ছেলে, যদি সে রাতে সালাত আদায় করত"। এরপর থেকে তিনি রাতে খুব কম ঘুমাতেন।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: إِنَّ اللهَ يُبْغِضُ كُلَّ جَعْظَرِيٌّ جَوَّاظ ، سَخَّابٌ بِالأَسْوَاقِ، جِيْفَةٌ بِاللَّيْلِ، حِمَارٌ بِالنَّهَارِ، عَالِمٌ جَاهِلٌ بِأَمْرِ الآخِرَة». “নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা অপছন্দ করেন প্রত্যেক কঠোর মেজাজ পেটুক, বাজারে চিৎকারকারী, রাতে মৃত দেহ ও দিনে গাধা, জেনেও আখিরাতের বিষয়ে মূর্খদের"।
৩. আশা ছোট রাখা ও মৃত্যুকে স্মরণ করা। কারণ, তার ফলে আমলের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয় ও অলসতা দূর হয়। আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘাড় ধরে বলেন, كن في الدنيا كأنك غريب أو عابر سبيل». “তুমি দুনিয়াতে বাস কর অপরিচিত অথবা পথিকের ন্যায়”। ইবন উমার বলতেন: “যখন তুমি সন্ধ্যা কর, সকালের অপেক্ষা কর না, আর যখন তুমি সকাল কর, সন্ধ্যার অপেক্ষা কর না। সুস্থ অবস্থায় অসুস্থতার সম্বল অর্জন কর, আর জীবিত অবস্থায় মৃত্যুর সম্বল অর্জন কর"।
ইমাম বুখারী রহ. বলেছেন: اغتنم في الفراغ فضل ركوع - فعسى أن يكون موتك بغتة كم صحيح رأيت من غير سقيم - ذهبت نفسه الصحيحة فلتة "অবসরে তুমি রুকুর ফযীলত গণিমত জ্ঞান কর, কারণ তোমার মৃত্যু হঠাৎও হতে পারে। রোগহীন কত সুস্থ ব্যক্তিকে দেখেছি, তার সুস্থ দেহ হঠাৎ প্রস্থান করেছে"।
ইমাম বুখারী রহ.-কে যখন হাফেযে হাদীস, আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুর রহমান দারামি রহ.-এর মৃত্যু সংবাদ শুনানো হয়, তখন তিনি আবৃতি করেন: إن عشت تفجع بالأحبة كلهم - وبقاء نفسك لا أبا لك أفجع "যদি তুমি বেঁচে থাক, সকল প্রিয়দের দ্বারা তুমি আতঙ্কিত হবে, তোমার বেঁচে থাকাও আতঙ্কের বিষয়"।
অপর কবি বলেছেন: صلاتك نور والعباد رقود - ونومك ضد للصلاة عنيد وعمرك غنم إن عقلت ومهلة - يسير ويفنى دائباً ويبيد "তোমার সালাত নূর, বান্দারা যখন ঘুমিয়ে থাকে, তোমার ঘুম সালাতের বিপরীত-প্রতিপক্ষ, তোমার জীবন গণিমত যদি বুঝতে সক্ষম হও এবং সামান্য সুযোগ, যা অনবরত শেষ হচ্ছে ও নিঃশেষ হয়ে যাবে"।
কতক নেককার লোক বলেছেন: عجبت من جسم ومن صحة - ومن فتى نام إلى الفجر فالموت لا تؤمن خطفاته - في ظلم الليل إذا يسري من بين منقول إلى حفرة - يفترش الأعمال في القبر وبين مأخوذ على غرة - بات طويل الكبر والفخر عاجله الموت على غفلة - فمات محسوراً إلى خسر "আমি সে শরীর, সুস্থতা ও যুবককে দেখে আশ্চর্য হই যে ফজর পর্যন্ত ঘুমিয়ে আছে, অথচ মৃত্যুর ছোবল থেকে তার কোনো নিরাপত্তা নেই, এমনকি রাতেও যখন অন্ধকার আচ্ছন্ন করে; গর্তে নিয়ে যাওয়ার দেরি, অতি শীঘ্র তার আমল বিছানো হবে কবরে; হঠাৎ পাকড়াও করার অপেক্ষা, দীর্ঘ অহংকার ও বড়ত্ব মাটি হয়ে যাবে; মৃত্যু তাকে অতর্কিত হানা দিল, সে হতাশার মৃত্যু নিয়ে হাশরের দিকে ধাবিত হল"।
৪. সুস্থতা ও অবসরকে গণিমত মনে করা, যেন অসুখ ও ব্যস্ততার সময় সুস্থতা ও অবসরের আমল লিখা হয়। আবু মুসা আশা'আরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: إِذَا مَرِضَ الْعَبْدُ أَوْ سَافَرَ كُتِبَ لَهُ مِثْلُ مَا كَانَ يَعْمَلُ مُقِيمًا صَحِيحًا». "বান্দা যখন অসুস্থ হয় অথবা সফর করে, সে মুকিম ও সুস্থ অবস্থায় যে আমল করত, তাই তার জন্য লেখা হয়"। অতএব, বুদ্ধিমানের কাজ নয় এ ফযীলত হাত ছাড়া করা, তার উচিৎ সুস্থতা, অবসর ও মুকিম অবস্থায় অধিক আমল করা, যেন এ পরিমাণ আমল তার অক্ষমতা অথবা ব্যস্ততার সময় লেখা হয়"।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: نِعْمَتَانِ مَغْبُونٌ فِيهِمَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ: الصِّحَةُ وَالْفَرَاغُ». "দু'টি নি'আমত রয়েছে অধিকাংশ মানুষ যার ব্যাপারে ধোঁকায় আছে: তা হল সুস্থতা ও অবসর"। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে উপদেশ দিয়ে বলেন, اِغْتَنِمْ خَمْسًا قَبْلَ خَمْسٍ: شَبَابَكَ قَبْلَ هَرَمِكَ، وَصِحَّتَكَ قَبْلَ سَقَمِكَ، وَغِنَاكَ قَبْلَ فَقْرِكَ، وَفَرَاغَكَ قَبْلَ شُغْلِكَ، وَحَيَاتَكَ قَبْلَ مَوْتِكَ». "তুমি পাঁচটি জিনিসকে পাঁচটি জিনিসের পূর্বে গণিমত মনে কর: বার্ধক্যের আগে যৌবনকে, অসুস্থতার আগে সুস্থতাকে, অভাবের আগে সচ্ছলতাকে, ব্যস্ততার আগে অবসরকে ও মৃত্যুর আগে জীবনকে"।
৫. দ্রুত ঘুমানোর চেষ্টা করা। দ্রুত ঘুমালে কিয়ামুল লাইল ও ফজর সালাতের শক্তি সঞ্চয় হয়। আবু বারযাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার পূর্বে ঘুমানো ও তার পরে কথা বলা অপছন্দ করতেন।
৬. ঘুমের আদব রক্ষা করা। যেমন ওযুসহ শয়ন করা, যদি ওযু না থাকে ওযু করে দু'রাকাত অযুর সালাত আদায় করা। অতঃপর ঘুমের আযকার ও দো'আ পাঠ করা। দু'হাতের তালু জমা করে, তাতে সামান্য থু থু-র ছিটা দেওয়া ও তাতে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করা। অতঃপর এ দু'হাত দ্বারা শরীরের সম্ভাব্য স্থান মাসাহ করা, মাথা, চেহারা ও শরীরের সম্মুখভাগ থেকে আরম্ভ করা। এভাবে তিনবার করা। আয়াতুল কুরসি পাঠ করা, সূরা বাকারার শেষ দু'আয়াত তিলাওয়াত করা এবং ঘুমের দো'আগুলো পূর্ণ করা। এভাবে ঘুমালে ইনশাআল্লাহ রাতে জাগ্রত হওয়া সহজ হবে। এ ছাড়া অন্যান্য পদ্ধতি গ্রহণ করা যেমন মাথার নিকট এলার্ম ঘড়ি রাখা, অথবা পরিবারের কাউকে, অথবা কোনো আত্মীয়কে, অথবা প্রতিবেশীকে, অথবা কোনো বন্ধুকে জাগিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা।
৭. কিয়ামুল লাইলের জন্য সহায়ক অন্যান্য পদ্ধতি গ্রহণ করা। যেমন অধিক ভক্ষণ না করা, দিনে অযথা কঠিন কর্মে নিজেকে ক্লান্ত না করা, বরং উপকারী কর্মে নিজেকে ব্যাপৃত রাখা। কায়লুলা তথা দিবানিদ্রা ত্যাগ না করা, কারণ দিনে সামান্য ঘুমালে রাতে জাগ্রত হওয়া সহজ হয়। পাপ ও অপরাধ থেকে বিরত থাকা। ইমাম সাওরি রহ. থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, তিনি বলেছেন: "আমি একটি পাপের কারণে পাঁচ মাস কিয়ামুল লাইল থেকে বঞ্চিত হয়েছি"। পাপের কারণে বান্দা অনেক সময় বঞ্চিত হয়, তার থেকে অনেক কল্যাণ ছুটে যায়: যেমন কিয়ামুল লাইল। কিয়ামুল লাইলের বড় একটি উপায় হচ্ছে মুসলিমদের ব্যাপারে অন্তর পরিষ্কার থাকা, বিদ'আত থেকে মুক্ত থাকা ও অতিরিক্ত দুনিয়া পরিহার করা তম উপায় হচ্ছে: আল্লাহর মহব্বত ও ঈমানী শক্তি। যেমন, সে যখন সালাতে দাঁড়ায় আল্লাহর সাথে মোনাজাত করে, তার সম্মুখে উপস্থিত হয় ও তার সম্মুখে দণ্ডায়মান থাকে, এ অনুভূতি তাকে দীর্ঘ কিয়ামের জন্য অনুপ্রাণিত করবে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটি বিশুদ্ধ হাদীসে এসেছে, তিনি বলেছেন: إِنَّ فِي اللَّيْلِ لَسَاعَةً لَا يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ يَسْأَلُ اللَّهَ خَيْرًا مِنْ أَمْرِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ، وَذَلِكَ كُلَّ لَيْلَةٍ». "নিশ্চয় রাতে একটি মুহূর্ত রয়েছে, মুসলিম বান্দা সে সময় মোতাবেক আল্লাহর নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের যে কোনো কল্যাণ প্রার্থনা করে, আল্লাহ অবশ্যই তাকে তা প্রদান করেন, আর এটা প্রতি রাতেই হয়"।
টিকাঃ
১১২. এ অংশের প্রত্যেক বাক্যের দলিল সালাতুল লাইলের ফযীলত বর্ণনার সময় পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
১১৩. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৪৪, ৩২৭০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৭৪।
১১৪. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৪২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৭৬।
১১৫. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৪২) ও (১১৩১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৫-১১৫৯।
১১৬. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১২১, ১১২২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৪৭৯।
১১৭. ইবন হিব্বান ফিল ইহসান: (৭২) ও (১/২৭৩), বায়হাকি ফিস সুনান, সহীহ ইবন হিব্বানের টিকায় শুআইব আরনাউত এ হাদীসের সনদ সহীহ মুসলিমের শর্ত মোতাবেক সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ ইবন হিব্বান 'আল-ইহসান' অধ্যায়: (১/২৭৪), আলবানী 'সিলসিলা আহাদীসিস সহীহা' গ্রন্থে এ হাদীসের সনদ সহীহ বলেছেন, হাদীস নং (১৯৫), সহীহ তারগিব গ্রন্থে তিনি এ হাদীসের সনদ হাসান বলেছেন, হাদীস নং (৬৪৫)।
১১৮. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৪১৬।
১১৯. 'হাদইউস সারি' মুকাদ্দামাহ সহিহুল সহীহ বুখারী, হাদীস নং পৃ.৪৮১)
১২০. 'হাদইউস সারি' মুকাদ্দামাহ সহিহুল সহীহ বুখারী, হাদীস নং পৃ.৪৮১
১২১. 'কিয়ামুল লাইল' লি মুহাম্মদ ইবন নাসর: (পৃ.৪২), 'তাহাজ্জুদ ও কিয়ামুল লাইল' লি ইবন আবিদ দুনিয়া: (পৃ.৩২৯)
১২২. 'তাহাজ্জুদ ও কিয়ামুল লাইল' লি ইবন আবিদ দুনিয়া: (পৃ. ৩৩); 'কিয়ামুল লাইল' লি মুহাম্মদ ইবন নাসার: (পৃ. ৯২)।
১২৩. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৯৯৬।
১২৪. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৪১২।
১২৫. আল-হাকেম: (৪/৩০৬), হাকিম হাদীসটি সহীহ বলেছেন, ইমাম যাহাবী তার সমর্থন করেছেন। ইবনুল মুবারক ফিয 'যুহদ': (১/১০৪), হাদীস নং (২), ইবন হাজার 'ফাতহুল বারি'তে: (১১/২৩৫) বলেছেন: "... ইবন মুবারাক 'যুহদ' গ্রন্থে সহীহ সনদে এ হাদীসটি ইরসালকারী আমর ইবন মাইমুন থেকে বর্ণনা করেছেন"। আমর ইবন মাইমুনের মুরসাল হাদীস হাকেমের বর্ণনাকৃত হাদীসের শাহেদ। আলবানী এ হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ জামে সাগির: (২/৩৫৫), হাদীস নং (১০৮৮)।
১২৬. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৬৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৬১।
১২৭. দেখুন: লেখকের হিসনুল সহীহ মুসলিম, হাদীস নং পৃ. (৬৮-৭৮)।
১২৮. দেখুন: 'মুখতাসারু মিনহাজুল কাসেদিন' লি ইবন কুদামাহ: (পৃ. ৬৭-৬৮)।
১২৯. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৫৭, জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে।
📄 ১.৬ কৃতজ্ঞতা একটি অন্যতম বড় নিয়ামত
অষ্টম: রাত ও দিনের স্বাভাবিক সালাত:
দিন-রাত যখন ইচ্ছা মুসলিম নফল ও সাধারণ সালাত আদায় করতে পারে নিষিদ্ধ সময় ব্যতীত, তার সালাত হবে দু'রাকাত দু'রাকাত। আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (صلاة الليل والنهار، مثنى مثنى...) "রাত ও দিনের সালাত দু'রাকাত দু'রাকাত..." অতএব মুমিন যত ইচ্ছা সালাত আদায় করবে। আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে নিম্নের আয়াত সম্পর্কে বর্ণিত আছে: تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ [السجدة : ١٦] "তাদের পার্শ্বদেশ বিছানা থেকে আলাদা হয়। তারা ভয় ও আশা নিয়ে তাদের রবকে ডাকে। আর আমি তাদেরকে যে রিযিক দান করেছি, তা থেকে তারা ব্যয় করে” [সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত: ১৬] তিনি বলেন, "তারা মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময় সালাত অবস্থায় অতিবাহিত করতেন"। হাসান রহ, বলতেন: "এর অর্থ কিয়ামুল লাইল"।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি আল্লাহর নিম্নের বাণী সম্পর্কে বলেছেন: ﴿كَانُوا قَلِيلًا مِّنَ الَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ ﴾ [الذاريات: ١٧] "রাতের সামান্য অংশই এরা ঘুমিয়ে কাটাত”। [সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত: ১৭] "তারা মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে সালাত আদায় করত, অনুরূপ অর্থে এসেছে আল্লাহর বাণী: ﴿تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ ﴾ [السجدة : ١٦] "তাদের পার্শ্বদেশ বিছানা থেকে আলাদা হয়”। [সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত: ১৬]
হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিবের সালাত আদায় করলেন, অতঃপর তিনি মসজিদে সালাত আদায় করতে লাগলেন, অবশেষে এশার সালাত আদায় করেন"। তার থেকে অপর বর্ণনায় রয়েছে, তিনি বলেন, আমার মা আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি কবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামে সাথে সাক্ষাত করেছ? আমি তাকে বললাম: অমুক অমুক দিন থেকে সাক্ষাত নেই, তিনি আমাকে বকুনি দিলেন। আমি তাকে বললাম: আমাকে সুযোগ দিন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গমন করে তার সাথে সালাত আদায় করব, অতঃপর আমার ও আপনার জন্য ইস্তেগফারের প্রার্থনা জানাব আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে তার সাথে মাগরিব সালাত আদায় করি। এরপর তিনি সালাত আদায় করতে লাগলেন, অতঃপর তিনি এশার সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি রওয়ানা দিলেন, আমি তার পিছু নিলাম। তিনি আমার শব্দ শুনে বললেন: কে হুযায়ফা? আমি বললাম: হ্যাঁ, তিনি বললেন: আল্লাহ তোমাকে ও তোমার মাকে ক্ষমা করুন, তোমার কোনো প্রয়োজন? তিনি বললেন: إِنَّ هَذَا مَلَكُ لَّمْ يَنزِلِ الأَرْضَ قَطُّ قَبْلَ هَذِهِ اللَّيْلَةِ اسْتَأْذَنَ رَبَّهُ أَنْ يُسَلِّمَ عَلَيَّ وَيُبَشِّرَنِي بِأَنَّ فَاطِمَةَ سَيِّدَةُ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَأَنَّ الْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ سَيِّدَا شَبَابِ أَهْلِ الْجَنَّةِ». "এ হচ্ছে ফিরিশতা, এ রাতের পূর্বে তিনি কখনো অবতীর্ণ হন নি, তিনি তার রব থেকে অনুমতি নিয়ে এসেছেন আমাকে সালাম ও সুসংবাদ দেওয়ার জন্য যে, ফাতেমা জান্নাতের নারীদের সরদার, আর হাসান ও হুসাইন জান্নাতের যুবকদের সরদার"।
অপর শব্দে এরূপ এসেছে: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আগমন করে তার সাথে মাগরিব সালাত আদায় করি, তিনি এশা পর্যন্ত সালাত আদায় করলেন"।
টিকাঃ
১৩০. নাসাঈ, হাদীস নং ১১৬৬; আবু দাউদ, হাদীস নং ১২৯৫; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৩২২, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ নাসাঈ: (১/৩৬৬); সহীহ ইবন মাজাহ: (১/২২১), সহীহ ইবন আবু দাউদ: (১/২৪০)।
১৩১. আবু দাউদ, হাদীস নং ১৩২১; তিরমিযী, হাদীস নং ৩১৯৬, কিন্তু তিরমিযীর শব্দ হচ্ছে: ﴿تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا عن أنس بن مالك عن هذه الآية: وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ ﴾ [السجدة : ١٦] نزلت في انتظار (هذه) الصلاة التي تدعى "العتمة" আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এ আয়াত সম্পর্কে বর্ণিত: (আয়াতের অর্থ মূল লেখায় দেখুন) এ আয়াতটি সালাতের অপেক্ষার জন্য নাযিল হয়েছে, যাকে তোমরা "আতামাহ" বল অর্থাৎ এশা আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ তিরমিযী: (৩/৮৯) ও সহীহ আবু দাউদ: (১/২৪৫)।
১৩২. আবু দাউদ, হাদীস নং ১৩২২, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ সুনান আবু দাউদ: (১/২৪৫)।
১৩৩. তিরমিযী, হাদীস নং ৬০৪, তিরমিযি বলেছেন: এ হাদীসটি হুযায়ফা থেকেও বর্ণনা করা হয়েছে। দেখুন: সহীহ তিরমিযী লিল আলবানী: (১/১৮৭)।
১৩৪. তিরমিযী, হাদীস নং ৩৭৮১; আহমদ: (৫/৪০৪), আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন, সহীহ সুনান তিরমিযী: (৩/২২৬), আল্লামা আহমদ মুহাম্মাদ শাকের তিরমিযীর টিকায় ইমাম আহমদের সনদ উল্লেখ করার পর বলেছেন: (২/৫০২) "এটা খুব সুন্দর সনদ হাসান অথবা সহীহ"।
১৩৫. ইবন খুজাইমাহ: (১১৯৪), নাসাঈ ফিল সুনানিল কুবরা: (৩৮০), মুনযিরি 'তারগিব ও তারহিব': (১/৪৫৮) গ্রন্থে বলেছেন: "নাসায়ি জায়্যেদ সনদে এটা বর্ণনা করেছেন"। আলবানী সহীহ 'তারগিব ও তারহিব': (১/২৪১) গ্রন্থে হাদীসটি সহীহ বলেছেন তিনি 'মিশকাতে'র টিকায় (৬১৬২) নং হাদীসে, তিরমিযীর সনদ সম্পর্কে বলেছেন: “তার সনদ জায়্যেদ"। তিরমিযীর মূল কিতাবে এ হাদীস নং (৩৭৮১)।
📄 ১.৭ আল্লাহর অনুগ্রহের স্বীকারোক্তি
নবম: নফল সালাত বসে আদায় করা বৈধ।
দাঁড়ানোর শক্তি থাকা সত্ত্বেও নফল সালাত বসে আদায় করা বৈধ। ইমাম নববী রহ. বলেছেন: "এ ব্যাপারে আলেমদের ইজমা রয়েছে"। অনুরূপ দরুস্ত আছে সালাতের কিছু অংশ দাঁড়িয়ে পড়া ও কিছু অংশ বসে পড়া। হ্যাঁ ফরয সালাতের কিয়াম রোকন, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে তা ত্যাগ করল, তার সালাত বাতিল।
এ সম্পর্কে অনেক হাদীস রয়েছে। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাতের সালাত সম্পর্কে বলেন, ... كان يصلي من الليل تسع ركعات فيهن الوتر، وكان يصلي ليلاً طويلاً قائماً، وليلاً طويلاً قاعداً، وكان إذا قرأ وهو قائم ركع وسجد وهو قائم، وإذا قرأ قاعداً ركع وسجد وهو قاعد .... "... তিনি রাতে নয় রাকাত সালাত আদায় করতেন, তাতে বিতরও রয়েছে। তিনি দীর্ঘ রাত দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতেন, আবার দীর্ঘ রাত বসে আদায় করতেন। তিনি যখন দাঁড়িয়ে পড়তেন, তখন রুকু-সেজদা দাঁড়িয়ে করতেন। আর যখন বসে পড়তেন, তখন রুকু-সেজদা বসে আদায় করতেন..."।
তার থেকে আরো বর্ণিত, তিনি বলেছেন: ما رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرأ في شيء من صلاة الليل جالساً حتى إذا كبر قرأ جالساً حتى إذا بقي عليه من السورة ثلاثون أو أربعون آية قام فقر أهن ثم ركع». "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কখনো রাতের সালাতে বসে কুরআন পড়তে দেখিনি, যখন তিনি বার্ধক্যে উপনীত হয়েছেন বসে তিলাওয়াত করেছেন, যখন সূরার ত্রিশ অথবা চল্লিশ আয়াত অবশিষ্ট থাকত, তিনি দাঁড়াতেন অতঃপর তা তিলাওয়াত করতেন, অতঃপর রুকু করতেন"।
হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নফল সালাত বসে পড়তে দেখি নি, মারা যাওয়ার এক বছর আগে শেষ বয়সে দেখেছি তিনি নফল সালাত বসে আদায় করতেন, তিনি সূরাগুলো তারতীলসহ পাঠ করতেন, ফলে দীর্ঘ সূরা আরো দীর্ঘ হয়ে যেত”।
সামর্থ্য থাকলে মুসলিমের দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা উত্তম। আব্দুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে 'মারফু' সনদে বর্ণিত: "ব্যক্তির বসে সালাত অর্ধেক সালাত”।
ইমরান ইবন হাসিন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ব্যক্তির বসাবস্থার সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, তিনি বললেন: ﴿إن صلى قائماً فهو أفضل، ومن صلى قاعداً فله نصف أجر القائم...﴾ "যদি সে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, তাহলে সেটাই উত্তম। আর যে বসে সালাত আদায় করল, তার জন্য দাঁড়ানো ব্যক্তির অর্ধেক সাওয়াব..."।
বসে সালাত আদায়কারী ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হচ্ছে এক পায়ের উপর আরেক পা আড়াআড়িভাবে রেখে বসা অর্থাৎ আসন করে বসা। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, «رأيت النبي صلى الله عليه وسلم يصلي متربعاً». "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আসন করে বসে সালাত আদায় করতে দেখেছি”।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম রহ. বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাতের সালাত তিন প্রকার ছিল: এক. দাঁড়িয়ে, এভাবেই তিনি অধিক সালাত আদায় করতেন। দুই. বসা অবস্থায় সালাত আদায় ও রুকু করতেন। তিন. তিনি বসা অবস্থায় তিলাওয়াত করতেন, যখন কিরাতের সামান্য বাকি থাকত দাঁড়িয়ে রুকু করতেন। এ তিন পদ্ধতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত"।
আমি শাইখ আব্দুল আযীয ইবন বায রহ.-কে বলতে শুনেছি: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাতের সালাত চার প্রকার ছিল, যেমন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বর্ণনা সমষ্টি থেকে জানা যায়: ১. তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় সালাত আদায় ও রুকু করতেন। ২. তিনি বসা অবস্থায় সালাত আদায় করতেন, অতঃপর যখন ত্রিশ অথবা চল্লিশ আয়াত পরিমাণ বাকি থাকত, তিনি দাঁড়াতেন ও তিলাওয়াত শেষ করে অতঃপর রুকু করতেন। ৩. তিনি বসা অবস্থায় সালাত আদায় করতেন, অতঃপর কিরাত শেষ করে দাঁড়িয়ে রুকু করতেন। ৪. তিনি বসা অবস্থায় সালাত ও রুকু উভয় সম্পন্ন করতেন”।
টিকাঃ
১৩৬. শারহুন নববী আলা সাহিহে সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬/২৫৫), দেখুন: 'আল- মুগনি' লি ইবন কুদামাহ: (২/৫৬৭)।
১৩৭. দেখুন: শারহুন নববী: (৬/২৫৬)।
১৩৮. শারহুন নববী: (৬/২৫৮)।
১৩৯. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৩০।
১৪০. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১১৮, ১১১৯, ১১৪৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২১১।
১৪১. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৩৩।
১৪২. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৩৫।
১৪৩. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১১৫। পূর্ণ হাদীস হচ্ছে: ﴿ومن صلى نائماً فله نصف أجر القاعد﴾ “আর যে ঘুমিয়ে সালাত আদায় করল, তার জন্য বসা ব্যক্তির অর্ধেক সওয়াব” এখানে ঘুমিয়ে অর্থ শুয়ে। খাত্তাবি রহ. প্রাধান্য দিয়েছেন যে, নফল আদায়কারী শুয়ে সালাত আদায় করবে না, এ হুকুম হচ্ছে অসুস্থ ফরয আদায়কারী ব্যক্তির জন্য যে খুব কষ্ট করে দাঁড়াতে সক্ষম, এরূপ হালতে বসা ব্যক্তির সওয়াব দাঁড়ানো ব্যক্তির অর্ধেক নির্ধারণ করা হয়েছে, দাঁড়ানোর প্রতি উৎসাহ প্রদান করার জন্য, যদিও বসে পড়া জায়েয... দাঁড়াতে সক্ষম ব্যক্তির শুয়ে নফল পড়া সম্পর্কে তিনি বলেন: “কোন আলেম থেকে প্রমাণিত নেই, যিনি এর অনুমতি দিয়েছেন"। সামান্য পরিবর্তনসহ 'ফাতহুল বারি': (২/৫৮৫) লি ইবন হাজার থেকে উদ্ধৃত। আমি ইমাম ইবন বায রহ.-কে বলতে শুনেছি, তিনি এর সাথে সংযোজন করে বলেছেন: "এ প্রসঙ্গে যা বলা হয়েছে তার মধ্যে এটাই অধিক যথার্থ, তবে ফরয সালাতে যে দাঁড়াতে ও বসতে অক্ষম, তার জন্য পূর্ণ সাওয়াব হবে তবে নফল আদায়কারী কারণ ব্যতীত শুয়ে সালাত আদায় করবে না"
১৪৪. 'যাদুল মায়াদ': (১/৩৩১)।
১৪৫. আমি সহীহ বুখারির: (১১১৮ ও ১১১৯) নং হাদীসের ব্যাখ্যার সময় তার থেকে এ বাণী শ্রবণ করেছি।