📄 ১.২ অনুগ্রহ শব্দার্থের ব্যাখ্যা
চতুর্থ: কিয়ামুল লাইলের সর্বোত্তম সময় রাতের শেষ তৃতীয়াংশ:
রাতের সালাত রাতের শুরু, শেষ ও মধ্যখানে আদায় করা বৈধ, তবে উত্তম হচ্ছে শেষ তৃতীয়াংশ। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يفطر من الشهر حتى نظن أن لا يصوم منه، ويصوم حتى نظن أن لا يفطر، وكان لا تشاء أن تراه من الليل مصلياً إلا رأيته، ولا نائماً إلا رأيته». “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো মাসে পানাহার করতেন, এক সময় আমরা মনে করতাম তিনি এ মাসে সিয়াম পালন করবেন না। আবার কোনো মাসে সিয়াম পালন করতেন, এক সময় আমরা মনে করতাম এ মাসে তিনি পানাহার করবেন না। তিনি এমন ছিলেন, যদি তুমি তাকে রাতে সালাত আদায়কারী দেখতে চাও দেখতে পাবে, আর যদি তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে চাও, তাও দেখতে পাবে”।
এ থেকে রাতের সালাতের সহজ নিয়ম বুঝে আসে, যার যখন সুবিধা উঠে সালাত আদায় করবে। হ্যাঁ রাতের শেষ অংশে সালাত আদায় করা উত্তম। আমর ইবন আবাসা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: «أقرب ما يكون الرب من العبد في جوف الليل الآخر، فإن استطعت أن تكون ممن يذكر الله في تلك الساعة فكن». “রাতের শেষ ভাগে বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়, যদি তুমি সে সময়ে আল্লাহর যিকিরকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পার, তাহলে তাদের অন্তর্ভুক্ত হও”।
এ বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয় আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীস দ্বারা, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ينزل ربنا تبارك وتعالى كل ليلة إلى السماء الدنيا حين يبقى ثلث الليل الآخر فيقول: من يدعوني فأستجيب له؟ من يسألني فأعطيه؟ من يستغفرني فأغفر له؟ فلا يزال كذلك حتى يضيء الفجر». “আমাদের রব প্রতি রাতে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন, যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ বাকি থাকে। অতঃপর তিনি বলেন, কে আমাকে আহ্বান করবে, আমি যার ডাকে সাড়া দেব? কে আমার নিকট প্রার্থনা করবে, আমি যাকে প্রদান করব? কে আমার নিকট ইস্তেগফার করবে, আমি যাকে ক্ষমা করব? ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত অনুরূপ বলতে থাকেন”।
জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: إن في الليل لساعة لا يوافقها عبد مسلم يسأل الله خيراً من أمر الدنيا والآخرة إلا أعطاه إياه، وذلك كل ليلة». “নিশ্চয় রাতে এমন একটি সময় রয়েছে, সে সময় যদি বান্দা আল্লাহর নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের কোনো কল্যাণ প্রার্থনা করে, তাকে অবশ্যই তা প্রদান করা হয়। আর এটা প্রত্যেক রাতে হয়”।
আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন 'আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেন: أحب الصلاة إلى الله صلاة داود عليه السلام، وأحب الصيام إلى الله صيام داود، وكان ينام نصف الليل، ويقوم ثلثه، وينام سدسه، ويصوم يوماً ويُفطر يوماً، ولا يفر إذا لاق». "আল্লাহর নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় সালাত হচ্ছে দাউদের সালাত, তিনি রাতের অর্ধেক সময় ঘুমাতেন, এক তৃতীয়াংশ কিয়াম করতেন ও এক ষষ্ঠাংশ ঘুমাতেন। তিনি এক দিন সিয়াম পালন করতেন ও একদিন পানাহার করতেন। তিনি শত্রুদের মুখোমুখি হলে কখনো পলায়ন করতেন না"।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কোনো আমল রাসূলুল্লাহর নিকট সবচেয়ে বেশি প্রিয় ছিল? তিনি বলেন, নিয়মতান্ত্রিকতা। আমি বললাম: তিনি কখন দাঁড়াতেন? তিনি বললেন: যখন মুরগির ডাক শুনতেন, তিনি দাঁড়াতেন”। তার থেকে অপর হাদীসে এসেছে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ রাতে জাগিয়ে দিতেন, তার অযীফা শেষ করার আগে সাহরীর সময় হত না"।
টিকাঃ
২১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৪১।
২২. তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫৭৯; আবু দাউদ, হাদীস নং ১২৭৭; নাসাঈ, হাদীস নং ৫৭২, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সুনান তিরমিযী: (৩/১৮৩)।
২৩. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৪৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৫৮।
২৪. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৫৭।
২৫. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৩১, ১৯৭৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৫৯।
২৬. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৩২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৪১।
২৭. আবু দাউদ, হাদীস নং ১৩১৬, আল-বাহিন হাদীসটি হাসান বলেছেন। দেখুন: সহীহ সুনান আবু দাউদ: (১/২৪৪)।
📄 ১.৩ কর্ম ও জান্নাত উভয় আসে আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে
পঞ্চম: কিয়ামুল লাইলের রাকাত সংখ্যা।
কিয়ামুল লাইলের নির্দিষ্ট কোনো রাকাত সংখ্যা নেই। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «صلاة الليل مثنى مثنى، فإذا خشي أحدكم الصبح صلى ركعة واحدة توتر له ما قد صلى». "রাতের সালাত দু'রাকাত, দু'রাকাত, যখন তোমাদের কেউ ভোর হওয়ার আশংকা করবে, সে এক রাকাত সালাত আদায় করবে, যা তার পূর্বের সালাতগুলো বেজোড় করে দিবে"।
কিন্তু এগারো বা তেরো রাকাতে সীমাবদ্ধ থাকাই উত্তম, যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাকাত সংখ্যা ছিল অনুরূপ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي ما بين أن يفرغ من صلاة العشاء إلى الفجر إحدى عشرة ركعة يسلم بين كل ركعتين ويوتر بواحدة ؛ ولحديثها الآخر: ما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يزيد في رمضان ولا في غيره على إحدى عشرة ركعة». "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতুল এশা শেষ করে ফজর পর্যন্ত এগারো রাকাত সালাত আদায় করতেন, প্রত্যেক দু'রাকাত পর সালাত ফিরাতেন এবং এক রাকাত দ্বারা বিতর আদায় করতেন"। তার থেকে অপর হাদীসে এসেছে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান ও গায়রে রমযানে এগারো রাকাতের অধিক পড়তেন না"।
টিকাঃ
২৮. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৯০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৪৯।
২৯. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৩৬।
৩০. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৪৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৩৮।
📄 ১.৪ আল্লাহর ক্ষমা ও ন্যায়পরায়ণতার মধ্য দিয়ে আসে সুখ-দুঃখ
ষষ্ঠ: কিয়ামুল লাইলের আদব:
১. ঘুমের সময় কিয়ামুল লাইলের নিয়ত করা আর ঘুমের উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ ইবাদাতে শক্তি অর্জন করা, তাহলে ঘুমেও সাওয়াব হবে। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ما من امرئ تكون له صلاة بليل فغلبه عليها نوم إلا كتب الله له أجر صلاته، وكان نومه صدقة عليه» "এমন কোনো ব্যক্তি নেই, যার রাতে সালাত আদায়ের অভ্যাস ছিল, অতঃপর তার ওপর ঘুম প্রবল হল, আল্লাহ তার জন্য অবশ্যই সালাতের সাওয়াব লিখবেন, আর তার ঘুম হবে তার জন্য সদকা"।
আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «من أتى فراشه وهو ينوي أن يقوم يصلي من الليل فغلبته عيناه حتى أصبح، كتب له ما نوى، وكان نومه صدقة عليه من ربه تعالى». “যে ব্যক্তি তার বিছানায় আসল, যার নিয়ত ছিল রাতে উঠে সালাত আদায় করা, কিন্তু তার ওপর ঘুম প্রবল হল, অতঃপর ভোর করল, তার নিয়ত অনুযায়ী তার জন্য লেখা হবে। আর তার ঘুম হবে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য সদকা স্বরূপ”।
২. জাগ্রত হয়ে হাত মলে চেহারা থেকে ঘুম দূর করা, আল্লাহর যিকির করা ও মিসওয়াক করা, এবং বলা: «لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد، وهو على كل شيء قدير، سبحان الله، والحمد لله، ولا إله إلا الله، والله أكبر، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم، رب اغفر لي» কারণ উবাদা ইবন সামেত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে আড়মোড়া দিয়ে উঠে বলল: «لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد، وهو على كل شيء قدير، الحمد لله وسبحان الله، ولا إله إلا الله، والله أكبر، ولا حول ولا قوة إلا بالله، ثم قال: اللهم اغفر لي، أو دعا استجيب له». অতঃপর সে বলল: হে আল্লাহ আমাকে মাফ কর, অথবা দো'আ করল, তার দো'আ কবুল করা হবে"।
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: "...রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাগ্রত হয়ে হাত দ্বারা চেহারা থেকে ঘুম মুছতে ছিলেন, অতঃপর সূরা আল ইমরানের শেষ দশ আয়াত তিলাওয়াত করলেন..."।
হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, «كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا قام من الليل يشوص فاه بالسواك»، "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে যখন ঘুম থেকে উঠতেন, মিসওয়াক দ্বারা তার মুখ দাঁতন করতেন"। অতঃপর জাগ্রত হওয়ার অন্যান্য যিকির পড়া এবং আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক অযু করা।
৩. হালকা দু'রাকাত সালাত দ্বারা তাহাজ্জুদ আরম্ভ করা। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা ও কর্ম দ্বারা অনুরূপ প্রমাণিত হয়। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا قام من الليل ليصلي افتتح صلاته بركعتين خفيفتين» "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে সালাত আদায়ের জন্য উঠতেন, তিনি হালকা দু'রাকাত সালাত দ্বারা তার সালাত আরম্ভ করতেন"।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «إذا قام أحدكم من الليل فليفتتح صلاته بركعتين خفيفتين». "যখন তোমাদের কেউ রাতে সালাতের জন্য উঠে, সে যেন তার সালাত হালকা দু'রাকাত দ্বারা আরম্ভ করে"।
৪. ঘরে তাহাজ্জুদ আদায় করা মুস্তাহাব, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে তাহাজ্জুদ আদায় করতেন। যায়েদ ইবন সাবেত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «... فعليكم بالصلاة في بيوتكم، فإن خير صلاة المرء في بيته إلا المكتوبة». "... তোমরা ঘরে সালাত আদায় কর, কারণ ব্যক্তির উত্তম সালাত হচ্ছে তার ঘরে ফরয ব্যতীত"।
৫. নিয়মিত কিয়ামুল লাইল আদায় করা, কখনো ত্যাগ না করা। নির্দিষ্ট সংখ্যক রাকাত নিয়মিত পড়া মুস্তাহাব যদি শরীর চাঙ্গা ও মন প্রফুল্ল থাকে, তাহলে দীর্ঘ কিরাত করবে, অন্যথায় হালকা কিরাতে সালাত আদায় করবে, আর কখনো ছুটে গেলে কাযা করবে। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «خذوا من الأعمال ما تطيقون فإن الله لا يمل حتى تملوا» “তোমরা সে পরিমাণ আমল কর, যার সাধ্য তোমাদের রয়েছে, কারণ আল্লাহ ক্লান্ত হন না, যতক্ষণ না তোমরা ক্লান্ত হও”। তিনি বলতেন: «أحب العمل إلى الله ما داوم عليه صاحبه وإن قل» "আল্লাহর নিকট সে আমলই অধিক পছন্দনীয়, বান্দা যার ওপর নিয়মতান্ত্রিকতা বজায় রাখে, যদিও তার পরিমাণ কম হয়"।
আব্দুল্লাহ ইবন আমর আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন: يا عبد الله لا تكن مثل فلان كان يقوم الليل فترك قيام الليل "হে আব্দুল্লাহ তুমি অমুকের মত হয়ো না, সে রাতে কিয়াম করত, কিন্তু সে তা ত্যাগ করেছে"।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন: "...وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا صلى صلاة أحب أن يداوم عليها، وكان إذا غلبه نوم أو وجع عن قيام الليل صلى من النهار ثنتي عشرة ركعة» "...রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো সালাত আদায় করতেন, তা তিনি নিয়মিত আদায় করা পছন্দ করতেন। যদি তার ওপর ঘুম প্রবল হত অথবা দাঁড়াতে কষ্ট হত, তাহলে তিনি দিনে বারো রাকাত সালাত আদায় করতেন"।
উমার ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «من نام عن حزبه أو عن شيء منه فقرأه فيما بين صلاة الفجر وصلاة الظهر كتب له كأنما قرأه من الليل». "যে ব্যক্তি তার অযীফা থেকে ঘুমিয়ে পড়ল অথবা তার কতক অবশিষ্ট রইল, সে যদি তা ফজর ও যোহর সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে পড়ে নেয়, তাহলে তার জন্য লেখা হবে যেন সে তা রাতেই পড়েছে"।
৬. যদি তন্দ্রা চলে আসে, তাহলে সালাত ত্যাগ করে ঘুমানো উত্তম, যেন ঘুম পূর্ণ হয়। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «إذا نعس أحدكم في الصلاة فليرقد حتى يذهب عنه النوم؛ فإن أحدكم إذا صلى وهو ناعس لعله يذهب يستغفر فيسب نفسه؟» "যখন তোমাদের কেউ সালাতে ঝিমায়, তার উচিৎ শুয়ে পড়া, যেন তার থেকে ঘুম চলে যায়। কারণ, ঘুমানো অবস্থায় যখন তোমাদের কেউ সালাত আদায় করে, তখন হয়তো সে নিজের জন্য ইস্তেগফার করতে গিয়ে নিজেকে গালি দেবে"।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু 'মারফু' সনদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন: «إذا قام أحدكم من الليل فاستعجم القرآن على لسانه فلم يدر ما يقول فليضطجع». "যখন তোমাদের কেউ রাতে দণ্ডায়মান হয়, অতঃপর তার জন্য যদি কুরআন পড়া কষ্টকর হয়, কী বলে বলতে পারে না, তাহলে সে যেন শুয়ে পড়ে”।
৭. রাতের সালাতের জন্য স্ত্রীকে জাগ্রত করা মুস্তাহাব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে সালাত আদায় করতেন, যখন তিনি বিতর আদায় করতেন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বলতেন: «قومي فأوتري يا عائشة» "হে আয়েশা উঠ, বিতর আদায় কর"। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "রহম আল্লাহ রাজুলান ক্বামা মিনাল লাইলি ফাসাল্লা, ছুম্মা আইক্বাযা ইমরা’আতাহু ফাসাল্লাত, ফাইয়ান আবাত নাযা ফি ওয়াজহাহা আলমা’আ, ওয়া রহেমাল্লাহু ইমরা’আতূন ক্বামাত মিনাল লাইলি ফাসাল্লাত, ছুম্মা আইক্বাযাত জাওজাহা ফাইয়ান আবাই নাযাআত ফি ওয়াজহাহু আলমা’আ।" “আল্লাহ সে ব্যক্তিকে রহম করুন, সে রাতে উঠে সালাত আদায় করল, অতঃপর তার স্ত্রীকে জাগ্রত করল। যদি সে উঠতে না চায় তার চেহারায় পানির ছিটা দিল। আল্লাহ সে নারীর ওপর রহম করুন যে রাতে উঠে সালাত আদায় করল, অতঃপর তার স্বামীকে জাগ্রত করল, যদি সে উঠতে না চায় তার চেহারায় পানির ছেটা দিল”।
আবু সাঈদ ও আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «إذا استيقظ الرجل من الليل وأيقظ امرأته فصليا ركعتين كتبا من الذاكرين الله كثيراً والذاكرات». “যখন ব্যক্তি ঘুম থেকে উঠে ও তার স্ত্রীকে জাগ্রত করে, অতঃপর উভয়ে সালাত আদায় করে, তাদেরকে অধিক যিকিরকারী নারী ও অধিক যিকিরকারী পুরুষদের অন্তর্ভুক্ত লেখা হয়”।
আলী ইবন আবু তালিব বর্ণনা করেন, কোনো এক রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ও ফাতিমার নিকট গমন করলেন, অতঃপর বললেন: "তোমরা কি সালাত আদায় করছ না?" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, সন্দেহ নেই আমাদের অন্তর আল্লাহর হাতে, যখন তিনি আমাদেরকে উঠাতে চাইবেন আমরা উঠে যাব আমার এ কথা বলার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলে গেলেন। আমাকে কোনো উত্তর করলেন না। অতঃপর তার প্রস্থানের সময় আমি তাকে শুনলাম, তিনি উরুতে হাত মেরে বলতে ছিলেন: ﴿ وَكَانَ الْإِنسَانُ أَكْثَرَ شَيْءٍ جَدَلًا ﴾ [الكهف: ٥٤] "আর মানুষ সবচেয়ে বেশি তর্ককারী”। [সূরা আল-কাহাফ, আয়াত: ৫৪]
ইবন বাত্তাল রহ, বলেছেন: "এ থেকে রাতের সালাতের ফযীলত প্রমাণিত হয় এবং এ জন্য পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের জাগ্রত করা উচিৎ”। তাবারি রহ. বলেছেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যদি রাতের সালাতের অধিক ফযীলত জানা না থাকত, তাহলে তিনি কখনো নিজ মেয়ে ও চাচতো ভাইকে তার জন্য কষ্ট দিতেন না, তাও এমন সময় যা আল্লাহ তার মখলুকের আরামের জন্য নির্ধারণ করেছেন। কিন্তু তিনি চেয়েছেন আরাম ও বিশ্রাম ত্যাগ করে তারা সে ফযীলত অর্জন করুক। কারণ আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْلُكَ رِزْقًا نَحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَى [طه: ١٣٢] "আর তোমার পরিবার-পরিজনকে সালাত আদায়ের আদেশ দাও এবং নিজেও তার ওপর অবিচল থাক। আমি তোমার কাছে কোনো রিযিক চাই না। আমিই তোমাকে রিযিক দেই আর শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য”। [সূরা ত্বহা, আয়াত: ১৩২]
আর আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু যে বলেছেন: "হে আল্লাহর রাসূল, সন্দেহ নেই আমাদের অন্তর আল্লাহর হাতে, যখন তিনি আমাদেরকে উঠাতে চাইবেন আমরা উঠে যাব" এ কথার উৎস হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার বাণী: اللَّهُ يَتَوَفَّى الْأَنفُسَ حِينَ مَوْتِهَا وَالَّتِي لَمْ تَمُتْ فِي مَنَامِهَا فَيُمْسِكُ الَّتِي قَضَى عَلَيْهَا الْمَوْتَ وَيُرْسِلُ الْأُخْرَى إِلَى أَجَلٍ مُّسَمًّى إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ ﴾ [الزمر: ٤١] "আল্লাহ জীবসমূহের প্রাণ হরণ করেন তাদের মৃত্যুর সময় এবং যারা মরেনি তাদের নিদ্রার সময়। তারপর যার জন্য তিনি মৃত্যুর ফয়সালা করেন তার প্রাণ তিনি রেখে দেন এবং অন্যগুলো ফিরিয়ে দেন একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল কওমের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৪১]
নবী পত্নী উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে ঘাবড়ে উঠেন, অতঃপর তিনি বলেন, «سبحان الله ماذا أنزل الله من الخزائن؟ وماذا أنزل من الفتن؟ أيقظوا صواحب يوسف ( يريد أزواجه) لكي يصلين، رُبَّ كاسية في الدنيا عارية في الآخرة». وفي لفظ: «ماذا أنزل الليلة؟». "সুবহানাল্লাহ, আল্লাহ কত খাজানা নাযিল করেছেন? কত ফিতনা নাযিল করা হয়েছে? হে ইউসুফের সাথীগণ (তার স্ত্রীগণ উদ্দেশ্য) তোমরা সালাত আদায়ের জন্য জাগ্রত হও। দুনিয়াতে অনেক পোশাক পরিহিতা আখিরাতে নগ্ন থাকবে"। অপর বর্ণনায় এসেছে: "আজ রাতে কী নাযিল করা হয়েছে?"।
হাফেয ইবন হাজার রহ. বলেছেন: "...এ হাদীস থেকে রাতের সালাতের প্রতি উদ্বুদ্ধ করণ ও তা ওয়াজিব নয় বুঝে আসে। কারণ তিনি তাদের ওপর অবশ্য জরুরি করেন নি"। এ হাদীস থেকে আরো প্রমাণিত হয় ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে আল্লাহর যিকির করা মুস্তাহাব, অনুরূপ ইবাদাতের জন্য নিজ পরিবারের লোকদের জাগ্রত করা, বিশেষ করে যখন কোনো কিছু ঘটে তখন মুস্তাহাব"।
ইবন আসির রহ. বলেছেন: "দুনিয়াতে অনেক পোশাক পরিহিতা আখিরাতে নগ্ন থাকবে" এ কথা দ্বারা মানুষের নেক আমলের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা সে পরকালের জন্য প্রেরণ করে। তিনি বলেন, "দুনিয়ার অনেক সম্পদশালী কোনো ভালো কাজ করে না, সে আখিরাতে ফকির। দুনিয়াতে অনেক পোশাক পরিহিতা, বিত্ত ও সচ্ছলতার মালিক আখিরাতে নগ্ন ও হতভাগা হবে"।
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তার পিতা উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহর তাওফীক মোতাবেক রাতে সালাত আদায় করতেন, অতঃপর যখন শেষ রাত হত তার পরিবারকে সালাতের জন্য জাগিয়ে দিতেন। তিনি তাদেরকে বলতেন: সালাত, সালাত, অতঃপর নিম্নের আয়াত তিলাওয়াত করতেন: ﴿وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلٰوةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْـَٔلُكَ رِزْقًا ۖ نَّحْنُ نَرْزُقُكَ ۗ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوٰى﴾ [طه: ١٣٢] “আর তোমার পরিবার-পরিজনকে সালাত আদায়ের আদেশ দাও এবং নিজেও তার ওপর অবিচল থাক। আমি তোমার কাছে কোনো রিযিক চাই না। আমিই তোমাকে রিযিক দেই আর শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য” [সূরা ত্বহা, আয়াত: ১৩২]
৮. মনোযোগ ও বুঝে বুঝে যে পরিমাণ কুরআন তিলাওয়াত করা যায়, তাহাজ্জুদে সে পরিমাণ পাঠ করা: এক পারা বা তার চেয়ে অধিক বা তার চেয়ে কম উচ্চ-অনুচ্চ যেভাবে ইচ্ছা পড়ার অনুমতি রয়েছে। হ্যাঁ যদি উচ্চ স্বরে তিলাওয়াত করলে পড়াতে প্রাণ আসে অথবা উপস্থিত লোকেরা শ্রবণ করতে পারে, অথবা অন্য কোনো ফায়দা রয়েছে, তাহলে উচ্চ স্বরে পড়া উত্তম। আর যদি নিকটে কেউ তাহাজ্জুদ পড়ে, অথবা তার উচ্চ স্বরের কারণে কারো কষ্ট হয়, তাহলে আস্তে পড়া উত্তম। আর যদি অগ্রাধিকারের কোনো কারণ না থাকে, তাহলে যেভাবে ইচ্ছা পড়বে।
উপরে বর্ণিত সব অবস্থা সম্পর্কে হাদীস রয়েছে। আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, صليت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة فأطال حتى هممت بأمر سوء، قيل: و ما هممت به؟ قال: هممت أن أجلس وأدعه». "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কোনো এক রাতে সালাত আদায় করেছি, তিনি এত লম্বা করলেন যে আমি খারাপ ইচ্ছা করে ছিলাম, বলা হল: কি ইচ্ছা করে ছিলেন? তিনি বললেন: আমি ইচ্ছা করে ছিলাম তাকে ত্যাগ করে আমি বসে যাব"।
হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আমি কোনো এক রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সালাত আদায় করেছি, তিনি বাকারা আরম্ভ করলেন, আমি বললাম: একশ' আয়াত হলে হয়ত রুকু করবে। তিনি পড়তে থাকলেন আমি বললাম হয়ত এক রাকাতে এ সূরা শেষ করবেন, তিনি পড়তে থাকলেন আমি বললাম: এর দ্বারা হয়ত রুকু করবেন। অতঃপর তিনি সূরা আলে-ইমরান আরম্ভ করে তা শেষ করলেন। অতঃপর তিনি সূরা নিসা আরম্ভ করে শেষ করলেন তিনি ধীরে ধীরে স্পষ্ট করে পড়তে ছিলেন। যখন কোনো তাসবীহের আয়াত পাঠ করতেন, তাসবীহ পড়তেন, যখন কোনো প্রার্থনার আয়াত পড়তেন, প্রার্থনা করতেন। যখন কোনো আশ্রয় চাওয়ার আয়াত পড়তেন, আশ্রয় চাইতেন...।"
মালেক ইবন আশজায়ি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সালাতে দাঁড়িয়েছি, তিনি সূরা বাকারা তিলাওয়াত করলেন, তিনি এমন কোনো রহমতের আয়াত তিলাওয়াত করেননি, যেখানে তিনি বিরতি দিয়ে প্রার্থনা করেন নি। তিনি আযাবের কোনো অতিক্রম করলে সেখানে বিরতি দিয়ে আশ্রয় চেয়েছেন। অতঃপর তিনি দাঁড়ানোর সমপরিমাণ রুকু করেন, রুকুতে তিনি বলতেন: سبحان ذي الجبروت، والملكوت، والكبرياء، والعظمة অতঃপর তিনি সাজদা করেন, রুকুর অনুরূপ তিনি সাজদাতে বলেন। অতঃপর দাঁড়িয়ে তিনি সূরা আল ইমরান তিলাওয়াত করেন, অতঃপর তিনি একেকটি সূরা তিলাওয়াত করেন"।
হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি এক রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাত আদায় করতে দেখেছেন, তিনি চার রাকাত সালাত আদায় করেন, তাতে তিনি সূরা বাকারাহ, আলে ইমরান, আন-নিসা, আল-মায়েদাহ অথবা সূরা আল-'আনআম তিলাওয়াত করেন"।
আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা জনৈক ব্যক্তিকে বলেন, যে এক রাকাতে মুফাস্সালের সকল সূরা তিলাওয়াত করেছে: "তুমি কি কবিতার মতো দ্রুত পড়েছ? আমি তো সামঞ্জস্যপূর্ণ সে সব সূরা জানি, যেগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটির সাথে অপরটি মিলিয়ে পাঠ করতেন। অতঃপর তিনি মুফাস্সাল থেকে বিশটি সূরা উল্লেখ করেন, প্রতি রাকাতে দু'টি করে সূরা। অপর বাক্যে এসেছে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক রাকাতে এগুলো থেকে দু'টি সূরা তিলাওয়াত করতেন”। তিনি বলেন, ইবন মাসউদের 'মাসহাফ' মোতাবেক বিশটি সূরা মুফাস্সালের শুরু থেকে, যার সর্বশেষ সূরা দুখান ও সূরা নাবা"। সহীহ মুসলিমের বর্ণিত শব্দ: "আব্দুল্লাহর রচনা মোতাবেক দশ রাকাতে মুফাস্সালের বিশটি সূরা"। সহীহ মুসলিমের অপর বর্ণনায় এসেছে: ... هذاً كهذ الشعر، إن أقواماً يقرؤون القرآن لا يجاوز تراقيهم، ولكن إذا وقع في القلب فرسخ فيه نفع، وإن أفضل الصلاة الركوع والسجود، إني لأعلم النظائر التي كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرن بينهن ...... "কবিতার মতো দ্রুত পড়েছ, নিশ্চয় এক জাতি রয়েছে যারা কুরআন তিলাওয়াত করে, তবে তাদের গর্দান অতিক্রম করে না; কিন্তু যখন অন্তরে স্থির হও ও তাতে প্রোথিত হয় উপকার করে। সর্বোত্তম সালাত হচ্ছে রুকু ও সাজদা। নিশ্চয় আমি সে সব সূরা জানি, যেগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিলিয়ে পাঠ করতেন...।"
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনের এক আয়াত দ্বারা এক রাত শেষ করেছেন"। আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাতে এক আয়াত পড়তে থাকেন, সকাল পর্যন্ত তিনি তা বারবার পড়তে ছিলেন। আর সে আয়াতটি হচ্ছে: إِن تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِن تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ) [المائدة: [۱۱۸ "যদি আপনি তাদেরকে শাস্তি প্রদান করেন তবে তারা আপনারই বান্দা, আর তাদেরকে যদি ক্ষমা করেন, তবে নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়” [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ১১৮] এ থেকে বুঝা যায় সালাতুল লাইলে বান্দার তাওফিক, সুস্থতা ও ইমানী শক্তি মোতাবেক বিভিন্ন কিরাত পড়া শ্রেয়।
কিয়ামুল লাইলে কিরাত জোরে ও আস্তে পড়ার দলীল: আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে কিরাত জোরে পড়তেন, না আস্তে পড়তেন? তিনি বললেন: তিনি সব করতেন, কখনো জোরে পড়তেন আবার কখনো আস্তে পড়তেন"। আবু কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকরকে বলেন, يا أبا بكر، مررت بك وإنك تصلي تخفض صوتك قال: قد أسمعت من ناجيت يا رسول الله، قال: «ارفع قليلاً» "হে আবু বকর, আমি তোমার পাশ দিয়ে গিয়েছি, তুমি নিচু স্বরে সালাত আদায় করতে ছিলে" তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি যার সাথে নিভৃতে কথোপকথন করেছি তাকে শুনিয়েছি। তিনি বললেন: "তোমার আওয়াজ সামান্য উঁচু কর" আর উমারকে তিনি বলেন, مررت بك وأنت تصلي رافعاً صوتك فقال: يا رسول الله! أوقظ الوسنان وأطرد الشيطان، قال: «اخفض قليلاً». "আমি তোমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি, তুমি উঁচু আওয়াজে সালাত আদায় করছিলে"। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি ঘুমন্তদের জাগ্রত ও শয়তান বিতাড়িত করছিলাম। তিনি বললেন: "তুমি সামান্য নিচু কর"।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো এক রাতে জনৈক ব্যক্তিকে কুরআন তিলাওয়াত করতে শুনেন, অতঃপর তিনি বলেন, «يرحمه الله لقد أذكرني كذا وكذا ، آية كنت أسقطتها من سورة كذا وكذا» وفي لفظ : كان النبي صلى الله عليه وسلم يستمع قراءة رجل في المسجد فقال: «رحمه الله لقد أذكرني آية كنت أنسيتها». "আল্লাহ তাকে রহম করুন, সে আমাকে অমুক অমুক আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, যা আমি অমুক অমুক সূরা থেকে বাদ দিয়ে ছিলাম"। অপর শব্দে এভাবে এসেছে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে এক ব্যক্তির কিরাত শুনতে ছিলেন, তিনি বললেন: "আল্লাহ তাকে রহম করুন, সে আমাকে অমুক আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, যা আমি ভুলে গিয়ে ছিলাম"।
কুরআনের হাফেয যদি দিন-রাতের সালাতে কুরআন তিলাওয়াত করে, তাহলে কুরআন তার স্মরণ ও মুখস্থ থাকবে। আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «إنما مثل صاحب القرآن كمثل صاحب الإبل المعقلة إن عاهد عليها أمسكها وإن أطلقها ذهبت». "কুরআনের হাফেযের উদাহরণ হচ্ছে উটের মালিকের ন্যায়, যদি সে তা বারবার তিলাওয়াত করে রাখতে পারবে, আর যদি ছেড়ে দেয় চলে যাবে"।
মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে: وإذا قام صاحب القرآن فقرأه بالليل والنهار ذكره وإذا لم يقم به نسيه». "কুরআনের হাফিয যদি রাতে ও দিনে সালাতে দণ্ডায়মান হয়ে তিলাওয়াত করে, স্মরণ রাখতে পারবে, আর যদি সে তা সালাতে না পড়ে ভুলে যাবে"।
৯. কখনো কখনো জামা'আতের সাথে রাতের নফল আদায় করা বৈধ। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামা'আতের সাথে ও একলা সালাত আদায় করেছেন, তবে তার অধিকাংশ নফল সালাত ছিল একলা। তিনি কখনো হুযায়ফার সাথে সালাত আদায় করেছেন। কখনো ইবন আব্বাসের সাথে। কখনো আনাস, তার মাতা ও ইয়াতিমের সাথে। কখনো ইবন মাসউদের সাথে। কখনো আউফ ইবন মালেকের সাথে। কখনো আনাস ও তার মা এবং তার খালা উম্মে হারামের সাথে। কখনো ইতবান ইবন মালেক ও আবু বাকরার সাথে। একবার তাঁর সাহাবীগণ উসমানের বাড়িতে ইমামতি করেছে। হ্যাঁ এটাকে নিয়মিত সুন্নাত হিসেবে গ্রহণ করবে না, যদি কখনো তা করে তাহলে সমস্যা নেই, তারাবীর সালাত ব্যতীত, কারণ তাতে জামা'আত দায়েমি সুন্নাত"।
১০. বিতর সালাত দ্বারা তাহাজ্জুদ শেষ। আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «اجعلوا آخر صلاتكم بالليل وتراً». وفي لفظ لمسلم: «من صلى من الليل فليجعل آخر صلاته وتراً قبل الصبح، فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يأمر بذلك». "বেতেরকে তোমাদের রাতের শেষ সালাত বানাও”। মুসলিমের বর্ণনায় এরূপ এসেছে, (আব্দুল্লাহ ইবন উমার বলেছেন): "যে রাতে সালাত আদায় করে, সে যেন তার শেষ সালাত করে বিতরকে 'ফজরের পূর্বে', কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুরূপ নির্দেশ করতেন"।
১১. ঘুম যাওয়া ও দণ্ডায়মানকে সাওয়াব জ্ঞান করা, তাহলে ঘুম ও সজাগ সর্বাবস্থায় সাওয়াব হাসিল হবে। একবার মুয়ায ও আবু মুসা আশা'আরি রাদিয়াল্লাহু আনহুমা নেক আমলের আলোচনা করতে ছিলেন। মুয়ায বললেন: হে আব্দুল্লাহ আপনি কীভাবে কুরআন তিলাওয়াত করেন? তিনি বললেন: আমি রাত-দিন সর্বদা বিরতি দিয়ে দিয়ে তিলাওয়াত করি। তিনি বললেন: আপনি কীভাবে তিলাওয়াত করেন হে মুয়ায? তিনি বললেন: আমি প্রথম রাতে ঘুমাই অতঃপর সালাতে দাঁড়াই, যখন আমার কিছু ঘুম হয়ে যায় এবং আল্লাহর তাওফীক মোতাবেক তিলাওয়াত করি। আমি ঘুমকে ইবাদাত মনে করি, যেমন দাঁড়ানোকে ইবাদাত মনে করি"। অপর বর্ণনায় এসেছে: "মুয়ায আবু মুসাকে বললেন: আপনি কিভাবে তিলাওয়াত করেন? তিনি বললেন: দাঁড়িয়ে, বসে ও আমার বাহনের ওপর, বিরতি দিয়ে দিয়ে তিলাওয়াত করি। তিনি বলেন, কিন্তু আমি দাঁড়াই ও ঘুমাই, আমি আমার ঘুমকে ইবাদাত মনে করি যেমন দাঁড়ানোকে ইবাদাত মনে করি"।
হাফেয ইবন হাজার রহ. বলেছেন: "এর অর্থ হচ্ছে তিনি বিশ্রামে সাওয়াব অন্বেষণ করেন, যেমন তিনি কষ্ট করে সাওয়াব অন্বেষণ করেন কারণ বিশ্রাম দ্বারা যদি ইবাদাতের শক্তি অর্জন উদ্দেশ্য হয়, তাহলে সেখানেও সাওয়াব হয়"।
আমি আল্লামা আব্দুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বায রহ.-কে বলতে শুনেছি: “এতে সাহাবীদের সুন্দর আখলাক, ইবাদাতের প্রতি তাদের ঈর্ষা ও পরস্পর ইবাদাতের আলোচনার প্রমাণ পাওয়া যায়। তারা ঘুম ও দাঁড়ানোকে পর্যন্ত ইবাদাত গণ্য করতেন। অতএব, মুসলিমের উচিৎ তার সময় ও কাজ বণ্টন করে নেওয়া: একটি সময় কুরআনের জন্য, একটি সময় অন্যান্য কাজের জন্য ও একটি সময় পরিবারের জন্য...”
১২. লম্বা কিরাতের সাথে অধিক রুকু সাজদা করা উত্তম রাতের সালাতে যদি কষ্ট অথবা বিরক্ত না লাগে। জাবের ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "أفضل الصلاة طول القنوت..." “লম্বা কুনুত” বিশিষ্ট সালাত উত্তম"। সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি তাকে জান্নাতে প্রকাশকারী আমল অথবা আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল, তিনি বলেন, আমি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছি, তিনি বলেছেন: عليك بكثرة السجود لله، فإنك لا تسجد لله سجدة إلا رفعك الله بها درجة وحط عنك بها خطيئة؛ "তুমি আল্লাহর জন্য অধিক সাজদা কর। কারণ, তুমি এমন কোনো সাজদা করবে না, যার বিনিময়ে আল্লাহ তোমার মর্তবা বৃদ্ধি করবেন না ও তোমার পাপ মোচন করবেন না"।
রাবিআ ইবন কাব আসলামি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে রাত্রি যাপন করতাম, তার অযুর পানি ও প্রয়োজনীয় জিনিস পেশ করতাম। তিনি আমাকে বলেন, "চাও”, আমি বললাম: আমি জান্নাতে আপনার সাথে থাকতে চাই। তিনি বললেন: "এ ছাড়া অন্য কিছু?” আমি বললাম: এটাই। তিনি বললেন: «فأعني على نفسك بكثرة السجود» "অধিক সাজদা দ্বারা তুমি আমাকে সাহায্য কর, তোমার জন্যই”।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «أقرب ما يكون العبد من ربه وهو ساجد، فأكثروا الدعاء» "বান্দা তার রবের অধিক নিকটবর্তী হয় সাজদা অবস্থায়, অতএব তোমরা অধিক দো'আ কর"।
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত একটি 'মারফু' হাদীসে আছে: «أما الركوع فعظموا فيه الرب، وأما السجود فاجتهدوا في الدعاء، فقمن أن يُستجاب لكم». "আর রুকুতে তোমরা আল্লাহর বড়ত্ব বর্ণনা কর, সাজদাতে অধিকহারে দো'আ কর, অধিক সম্ভাবনা রয়েছে যে তোমাদের ডাকে সাড়া দেওয়া হবে"।
এসব হাদীসের কারণে আলিমগণ ইখতিলাফ করেছেন কোনোটি উত্তম; লম্বা কিয়াম করে কম সাজদা করা অথবা সংক্ষেপ কিয়াম করে অধিক সাজদা করা? কেউ বলেছেন: লম্বা কিয়ামের তুলনায় অধিক রুকু সাজদা উত্তম। ইমাম আহমদের সাথীদের একটি জামা'আত এ অভিমত গ্রহণ করেছেন, তাদের দলীল পূর্বে উল্লিখিত সাজদার ফযীলত সংক্রান্ত হাদীস। কেউ বলেছেন: উভয় সমান। কেউ বলেছেন: লম্বা কিয়াম করা অধিক রুকু সাজদা থেকে উত্তম। তাদের দলীল পূর্বে উল্লিখিত জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীস: «أفضل الصلاة طول القنوت»، "লম্বা কুনুত বিশিষ্ট সালাতই উত্তম"।
ইমাম তাবারি রহ, আল্লাহ তা'আলার বাণী: ﴿أَمَّنْ هُوَ قَانِتٌ آنَاءَ الَّيْلِ سَاجِدًا وَقَائِمًا ﴾ [الزمر: ৯] “যে ব্যক্তি রাতের প্রহরে সাদজাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে আনুগত্য প্রকাশ করে" [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৯] সম্পর্কে বলেন, এখানে কুনুতের অর্থ সালাতে দাঁড়িয়ে কিরাত পড়া। অন্যরা বলেছেন: কুনুত অর্থ ইবাদাত, আর 'কানেত' অর্থ আনুগত্যকারী।”
ইবন কাসির রহ. বলেন, أَمَّنْ هُوَ قَائِنُ وَانَاءَ الَّيْلِ سَاجِدًا وَقَائِمًا ﴾ [الزمر: ٩] “যে ব্যক্তি রাতের প্রহরে সাদজাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে আনুগত্য প্রকাশ করে" [সূরা যুমারআয়াত: ৯] অর্থাৎ সাজদা ও কিয়াম অবস্থায়। এ জন্য যারা কুনুতের অর্থ বলেছেন সালাতে খুশু বা একাগ্রতা, তারা দলীল হিসেবে এ আয়াত পেশ করেছেন, এখানে কুনুত অর্থ শুধু দাঁড়ানো নয় যেমন অনেকে বলেছেন। ইবন মাসউদ বলেছেন: قَانَتْ “কানেত” অর্থ আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্যকারী"।
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়া রহ. বলেছেন: "কিয়াম, রুকু ও সাজদা লম্বা করা অধিক কিয়াম, রুকু ও সাজদা থেকে উত্তম"। আমি শাইখ আব্দুল আযীয ইবন বায রহ.-কে বলতে শুনেছি: "এ নিয়ে আলিমগণ মতবিরোধ করেছেন কোনোটি উত্তম: কম সাজদা করে দীর্ঘ কিয়াম করা, অথবা সংক্ষেপে কিয়াম করে অধিক সাজদা করা তাদের কেউ এটা, আর কেউ ওটা উত্তম বলেছেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত ছিল মধ্যম পন্থার, তিনি যদি লম্বা কিয়াম করতেন, তাহলে রুকু-সেজদাও লম্বা করতেন। আর যদি সংক্ষেপে কিয়াম করতেন, তাহলে রুকু-সাজদাও সংক্ষেপ করতেন এটাই উত্তম"।
তিনি আরো বলেছেন: উত্তম হচ্ছে মুসল্লি তার সাধ্যমত সালাত আদায় করবে যেন বিরক্তি না আসে। তার মন যদি লম্বা কিরাতের জন্য সায় দেয় তাহলে লম্বা করবে। আর যদি তার মন সংক্ষেপে আরাম বোধ করে, তাহলে সংক্ষেপ করবে, যখন দেখবে যে সংক্ষেপে অধিক খুশু/একাগ্রতা সৃষ্টি হয়, মনোযোগ তৈরি হয় ও ইবাদত করতে আনন্দ লাগে। সাজদা যত অধিক হবে, তত উত্তম, অতএব মুসলিম যদি এরূপ করতে পারে, তাহলে দীর্ঘ কিয়াম করা উত্তম অধিক রুকু-সাজদার সাথে, যেখানে উভয় পদ্ধতি বিদ্যমান, আর তা হচ্ছে মধ্যম পন্থার সালাত, যদি কিয়াম লম্বা করে রুকু-সাজদা লম্বা করবে, আর যদি কিয়াম সংক্ষেপ করে, রুকু-সাজদা সংক্ষেপ করবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রচুর ইবাদাত করতেন ও তার থেকে তিনি আনন্দ পেতেন। অনেক সময় তিনি রাতের সালাতে দীর্ঘ কিরাত পড়তেন যে, তার দু'পা ফেটে যেত। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাকে বলেন; আপনি এরূপ করেন কেন, অথচ আল্লাহ আপনার পূর্বাপর সব গুনা মাফ করে দিয়েছেন? তিনি বলেন, «أفلا أكون عبداً شكوراً». "আমি কি আল্লাহর শোকর গুজার বান্দা হবো না?" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত, তিনি রাতের সালাতে এক রাকাতে সূরা বাকারাহ, নিসা ও আল ইমরান তিলাওয়াত করেছেন। হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু রাতে তাকে চার রাকাত সালাত আদায় করতে দেখেছেন, সেখানে তিনি সূরা বাকারাহ, আল ইমরান, নিসা, মায়েদাহ অথবা আন'আম তিলাওয়াত করেছেন"। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বলেন, «كان يصلي إحدى عشرة ركعة، كانت تلك صلاته - تعني بالليل - فيسجد السجدة من ذلك قدر ما يقرأ أحدكم خمسين آية قبل أن يرفع رأسه». "তিনি এগারো রাকাত সালাত আদায় করতেন, তার সালাত এমন ছিল যে, তিনি একটি সাজদা করতেন, তার মাথা উঠানোর আগে তোমাদের কেউ পঞ্চাশ আয়াত পড়তে পারত"। তিনি এ কারণে আনন্দ বোধ করতেন, তার রবের ইবাদাতে তিনি বিরক্ত হতেন না, বরং সালাত ছিল তার চোখের শীতলতা।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «حُبِّبَ إِلَيَّ النِّسَاءُ وَالطِّيبُ، وَجُعِلَتْ قُرَّةُ عَيْنِي فِي الصَّلَاةِ». “আমার নিকট নারী ও সুগন্ধি প্রিয় করে দেওয়া হয়েছে, আর আমার চোখের শীতলতা বানানো হয়েছে সালাতকে”। সালাত ছিল তার আরামের বস্তু। সালেম ইবন আবুল জাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলল: আফসোস আমি যদি সালাত আদায় করে স্বস্তি হাসিল করতাম! ফলে তারা (উপস্থিত লোকেরা) তাকে তিরস্কার করল, সে বলল: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: يا بلال أقم الصلاة أرحنا بها». “হে বেলাল সালাত কায়েম কর, আমাদেরকে তার দ্বারা স্বস্তি দাও”।
কিন্তু উম্মতের জন্য তিনি বলেছেন: خذوا من الأعمال ما تطيقون، فإن الله لا يمل حتى تملوا». “তোমরা যা পার তাই আমল কর। কারণ আল্লাহ ক্লান্ত হন না, যতক্ষণ না তোমরা ক্লান্ত হও”।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: إن الدين يسر ولن يشاد الدين أحد إلا غَلَبَهُ، فسدّوا وقاربوا، وأبشروا، واستعينوا بالغدوة والروحة، وشيء من الدلجة، والقصد القصد تبلغوا». "দীন সহজ, তোমাদের যে কেউ দীনে কঠোরতা করবে, দীন তার ওপর গালেব হবে। অতএব, তোমরা মধ্যম পন্থা অবলম্বন কর, তার নিকটবর্তী থাক ও সুসংবাদ গ্রহণ কর, (কারণ নিয়মতান্ত্রিক আমল কম হলেও অধিক সাওয়াব), আর সকাল, সন্ধ্যা ও রাতের কিছু অংশে অর্থাৎ প্রাণবন্ত সময়ে নিয়মিত আমল করে সাহায্য চাও। আর মধ্যম পন্থা অবলম্বন কর, মধ্যম পন্থা অবলম্বন কর, তাহলে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে"।
আমি শাইখ আব্দুল আযীয ইবন বায রহ.-কে বলতে শুনেছি: "এ থেকে প্রমাণিত হয় আমাদের পক্ষে উত্তম হচ্ছে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করা, অধিক লম্বা না করা যেন আমরা বিরক্ত না হই ও ইবাদাত ত্যাগ না করি। মুমিন নিজেকে কষ্ট না দিয়ে সালাত আদায় করবে, মুজাহাদা ও ইবাদাত করবে, বরং সব বিষয়ে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করবে, যেন বিরক্তির ফলে ইবাদাতের প্রতি অনিহা সৃষ্টি না হয়”।
টিকাঃ
৩১. নাসাঈ, হাদীস নং ১৭৮৪; আবু দাউদ, হাদীস নং ১৩১৪; মালেক ফিল 'মুয়াত্তা': (১/১১৭), আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ সুনান নাসাঈ: (১/৩৮৬) ও 'ইরওয়াউল গালিল': (২/২০৫)।
৩২. নাসাঈ, হাদীস নং ৬৮৭, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: 'ইরওয়াউল গালিল': (৪৫৪) ও সহীহ সুনান নাসাঈ: (১/৩৮৬)।
৩৩. হাফিয ইবন হাজার রহ. বলেছেন: [১] শব্দটি 'আসলি' বাড়িয়েছেন। তিনি বলেছেন: অন্যান্য বর্ণনাতে এরূপ রয়েছে। আমি বলছি: এ শব্দ ইবন মাজাহ তার সুনান গ্রন্থে বাড়িয়েছেন, দেখুন হাদীস নং (৩৮৭৮), আলবানী হাদীসের এ বৃদ্ধিকে সুনান ইবন মাজাহ গ্রন্থে সহীহ বলেছেন। দেখুন: (২/৩৩৫)।
৩৪. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৫৪।
৩৫. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮২-৭৬৩।
৩৬. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৪৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৫৪।
৩৭. দেখুন: লেখকের হিসনুল মুসলিম, (পৃ. ১২-১৬)।
৩৮. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৬৭।
৩৯. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৬৮।
৪০. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৩১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৮১।
৪১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৭০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৮২।
৪২. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৫২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১১৯।
৪৩. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৪৬।
৪৪. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৪৭।
৪৫. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২১২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৮৬।
৪৬. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৮৭।
৪৭. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৯৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৪৪।
৪৮. নাসাঈ, হাদীস নং ১৬১০; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৩৩৬; আবু দাউদ, হাদীস নং ১৩০৮, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ সুনান নাসাঈ: (১/৩৫৪)।
৪৯. ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৩৩৫; আবু দাউদ, হাদীস নং ১৩০৯, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ সুনান আবু দাউদ: (১/২৪৩)।
৫০. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১২৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৭৫।
৫১. 'ফাতহুল বারি' থেকে সংগৃহীত: (৩/১১)।
৫২. ফাতহুল বারি: (৩/১১)।
৫৩. ফাতহুল বারি: (৩/১১)।
৫৪. শারহুন নববী আলা সহীহি মুসলিম: (৬/৩১১); 'ফাতহুল বারি' লি ইবন হাজার: (৩/১১)।
৫৫. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৫, ১১২৬, ২৬১৮, ৭০৭৯।
৫৬. 'ফাতহুল বারি': (৩/১১)।
৫৭. 'ফাতহুল বারি': (৩/১১)।
৫৮. 'জামেউর রাসূল ফি আহাদিসির রাসূল": (৬/৬৮)।
৫৯. ‘জামেউল উসূল ফি আহাদিসির’ রাসূল: (৬/৬৮)।
৬০. ‘আল-মুগনি’ লি ইবন কুদামাহ: (২/৫৬২)।
৬১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৩৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৭৩।
৬২. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৭২।
৬৩. আবু দাউদ, হাদীস নং ৮৭৩; নাসাঈ, হাদীস নং ১০৪৯, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ সুনান আবু দাউদ: (১/১৬৬)।
৬৪. আবু দাউদ, হাদীস নং ৭৭৪, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ সুনান আবু দাউদ: (১/১৬৬)।
৬৫. এখানে সামঞ্জস্যশীল বলতে অর্থের সামঞ্জস্য, যেমন উপদেশ, হিকমত, ঘটনা ইত্যাদি, আয়াতের সংখ্যার সমতা উদ্দেশ্য নয়।
৬৬. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৭৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭৫-৭২২।
৬৭. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৯৯৬, ৫০৪৩।
৬৮. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭৬-৭২২।
৬৯. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭৫-৭২২।
৭০. তিরমিযী, হাদীস নং ৪৪৮, আলবানী এ হাদীসের সনদ সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ তিরমিযী: (১/১৪০)।
৭১. ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৩৫০, আলবানী হাদীসটি হাসান বলেছেন। দেখুন: সহীহ সুনান ইবন মাজাহ: (১/২২৫), আরনাউত 'জামেউল উসূল': (৬/১০৫) গ্রন্থে তা সহীহ বলেছেন।
৭২. আবু দাউদ, হাদীস নং ১৪৩৭; তিরমিযী, হাদীস নং ২৯২৪; নাসাঈ, হাদীস নং ১৬৬২; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৩৫৪; আহমদ: (৬/১৪৯), আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ সুনান নাসাঈ: (১/৩৬৫)।
৭৩. আবু দাউদ, হাদীস নং ১৩২৯; তিরমিযী, হাদীস নং ৪৪৭, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ সুনান আবু দাউদ: (১/২৪৭)।
৭৪. বুখারি: ফাদায়েলুল কুরআন ও সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৮৮।
৭৫. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫০৩১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৮৯।
৭৬. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২৭-৭৮৯।
৭৭. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২৭।
৭৮. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৯২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৮২-৭৬৩।
৭৯. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৫৮।
৮০. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৩৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৭৩।
৮১. আবু দাউদ, হাদীস নং ৮৭৩; নাসাঈ, হাদীস নং ১০৪৯।
৮২. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৬০।
৮৩. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৮৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৩।
৮৪. 'আল-মুগনি' লি ইবন কুদামাহ: (২/৫৬৭)।
৮৫. 'ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ' লি ইবন তাইমিয়াহ: (পৃ. ৯৮)।
৮৬. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৯৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৫১।
৮৭. আবু মুসা আশ'আরী রাদিয়াল্লাহু আনহুর নাম আব্দুল্লাহ ইবন কায়েস।
৮৮. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৩৪২, ৪৩৪২, ৪৩৪৪, ৪৩৪৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৭৩৩।
৮৯. 'ফাতহুল বারি': (৮/৬২)।
৯০. আমি এ বাণী সহীহ বুখারীর তাকরিরের সময় শুনেছি হাদীস নং (৪৩৪১), সোমবার দিন, ফজরের সময়, রিয়াদে অবস্থিত জামে কাবির মসজিদে। তারিখ: ২২/৭/১৪১৬হি.।
৯১. হাদীসে বর্ণিত "قنوت" (কুনুত) শব্দ বিভিন্ন অর্থ প্রদান করে। যেমন, আনুগত্য, খুশু বা একাগ্রতা, সালাত, দো'আ, ইবাদত, কিয়াম, লম্বা কিয়াম, চুপ থাকা, স্থিরতা, আনুগত্য প্রতিষ্ঠা করা ও বিনয়বনতা। দেখুন: 'নিহায়া ফি গারিবিল হাদীস' লি ইবন আসির, বাবুল কাফ মাআন নুন: (৪/১১১); 'মাশারিকুল আনওয়ার আলাস সিহাহ ওয়াল আসার' লিল কাদি আয়াদ, হারফুল কাফ মাআ সায়েরিল হুরুফ: (২/১৮৬); 'হাদইউস সারি মুকাদ্দামাহ ফাতহুল বারি' লি ইবন হাজার: (পৃ. ১৭৬), হাফেয ইবন হাজার বলেছেন, ইবনুল আরাবি কুনুতের দশটি অর্থ উল্লেখ করেছেন... দেখুন: 'ফাতহুল বারি' মাকতাবাহ সালফিয়াহ: (২/৪৯১) ইবন আসির হাদীসে বর্ণিত কুনুতের অর্থ উল্লেখ করে বলেছেন: “হাদীসে বর্ণিত কুনুত উল্লিখিত যে শব্দের সম্ভাবনা রাখে, সে অর্থে তা ব্যবহার করতে হবে"। 'আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদীস ওয়াল আসর': (৪/১১১)।
৯২. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৫৬।
৯৩. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৮৮।
৯৪. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৮৯।
৯৫. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৮২।
৯৬. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৭৯।
৯৭. দেখুন: 'আল-মুগনি' লি ইবন কুদামাহ: (২/৫৬৪); ফাতওয়া শাইখুল ইসলাম লি ইবন তাইমিয়াহ: (২৩/৬৯); 'নাইলুল আওতার' লি শাওকানি: (২/২৭০)।
৯৮. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৫৬।
৯৯. 'জামেউল বায়ান আন তাবিলি আয়াল কুরআন': (৪/৪৮)।
১০০. 'তাফসিরে ইবন কাসির': (৪/৪৮)।
১০১. ফতোয়া শাইখুল ইসলাম: (২৩/৭১), তিনি (২৩/৬৯-৮৩) নং পৃষ্ঠাসমূহে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন, সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন শুধু সাজদা বারোটি কারণে শুধু রুকু থেকে উত্তম অতঃপর তিনি তা দলীলসহ উল্লেখ করেছেন।
১০২. 'মুনতাকাল আখবার' লি ইবন তাইমিয়াহ গ্রন্থের (১২৬১) নং হাদীসের তাকরিরের সময় শুনেছি।
১০৩. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৮৩৬, ৪৮৩৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৮১৯, ২৮২০, আয়েশা ও মুগিরা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন।
১০৪. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৭২।
১০৫. আবু দাউদ, হাদীস নং ৮৭৩; নাসাঈ, হাদীস নং ১০৪৯।
১০৬. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৯৪।
১০৭. নাসাঈ, হাদীস নং ৩৯০৪; আহমদ: (৩/১২৮), আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ নাসাঈ: (৩/৮২৭)।
১০৮. আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৯৮৫, ৪৯৮৬, আলবানী সহীহ সুনান নাসাঈতে হাদীসটি সহীহ বলেছেন: (৩/৯৪১)।
১০৯. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৮২।
১১০. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৯, ৬৪৬৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৮১৬।
১১১. 'মুনতাকাল আখবার' এর (১২৫৭-১২৬২) নং হাদীসের ব্যাখ্যার সময় আমি তার এ বাণী শ্রবণ করেছি。
📄 ১.৫ আল্লাহর নিয়ামত কখনোই পরিশোধ যোগ্য নয়
সপ্তম: কিয়ামুল লাইলের জন্য সহায়ক উপকরণ:
১. কিয়ামুল লাইলের ফযীলত, আল্লাহর নিকট রাতে সালাত আদায়কারীদের মর্তবা ও দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের জন্য যে বিনিময় রয়েছে তা জানা। যেমন, আল্লাহ তাদের পূর্ণ ঈমানের সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা ও মূর্খরা কখনো সমান নয়, কিয়ামুল লাইলের ফলে জান্নাত ও তার উঁচু প্রাসাদ লাভ হয়। কিয়ামুল লাইল আল্লাহর নেককার বান্দাদের সিফাত ও মুমিনদের সম্মানের ভূষণ। মুমিন ব্যক্তি রাতের সালাতের জন্য ঈর্ষা করে।
২. শয়তানের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ থাকা। কারণ, শয়তান তাতে বাধার সৃষ্টি করে। রাতে না উঠার ক্ষতি জানা ইত্যাদি। আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এক ব্যক্তির উল্লেখ করা হল, যে সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়ে ছিল, তিনি বললেন: «ذاك رجل بال الشيطان في أذنه»، أو قال: «في أذنيه» "সে এমন লোক, যার কানে শয়তান পেশাব করেছে” অথবা বলেছেন: "তার দু'কানে"।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «يعقد الشيطان على قافية رأس أحدكم إذا هو نام ثلاث عقد، يضرب على مكان كل عقدة: عليك ليل طويل فارقد، فإن استيقظ فذكر الله انحلت عقدة، فإن توضأ انحلت عقدة، فإن صلى انحلت عُقَدُهُ، فأصبح نشيطاً طيب النفس، وإلا أصبح خبيث النفس كسلان» "তোমাদের প্রত্যেকের মাথার শেষাংশে শয়তান তিনটি ঘিরা দেয়, যখন সে ঘুমায়। প্রত্যেক ঘিরার স্থানে সে মোহর এঁটে দেয়: তোমার রাত এখনো অনেক বাকি। অতএব, ঘুমাও যদি সে জাগ্রত হয়ে আল্লাহর যিকর করে একটি ঘিরা খুলে যায়, যদি সে ওযু করে অপর ঘিরা খুলে যায়, যদি সে সালাত আদায় করে, তার সব ঘিরা খুলে যায়, ফলে সে প্রাণবন্ত ও প্রফুল্ল চিত্তে ভোর করে, অন্যথায় সে খারাপ মন ও অলসতাসহ ভোর করে"।
আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: يا عبد الله لا تكن مثل فلان كان يقوم من الليل فترك قيام الليل "হে আব্দুল্লাহ তুমি অমুকের মত হয়ো না, সে রাতে কিয়াম করত, পরে সে তা ত্যাগ করেছে"।
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি একটি স্বপ্ন দেখেন, অতঃপর তা বোন উম্মুল মুমিনীন হাফসার নিকট বর্ণনা করেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বলেন, তিনি বলেন, "আব্দুল্লাহ খুব ভালো ছেলে, যদি সে রাতে সালাত আদায় করত"। এরপর থেকে তিনি রাতে খুব কম ঘুমাতেন।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: إِنَّ اللهَ يُبْغِضُ كُلَّ جَعْظَرِيٌّ جَوَّاظ ، سَخَّابٌ بِالأَسْوَاقِ، جِيْفَةٌ بِاللَّيْلِ، حِمَارٌ بِالنَّهَارِ، عَالِمٌ جَاهِلٌ بِأَمْرِ الآخِرَة». “নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা অপছন্দ করেন প্রত্যেক কঠোর মেজাজ পেটুক, বাজারে চিৎকারকারী, রাতে মৃত দেহ ও দিনে গাধা, জেনেও আখিরাতের বিষয়ে মূর্খদের"।
৩. আশা ছোট রাখা ও মৃত্যুকে স্মরণ করা। কারণ, তার ফলে আমলের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয় ও অলসতা দূর হয়। আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘাড় ধরে বলেন, كن في الدنيا كأنك غريب أو عابر سبيل». “তুমি দুনিয়াতে বাস কর অপরিচিত অথবা পথিকের ন্যায়”। ইবন উমার বলতেন: “যখন তুমি সন্ধ্যা কর, সকালের অপেক্ষা কর না, আর যখন তুমি সকাল কর, সন্ধ্যার অপেক্ষা কর না। সুস্থ অবস্থায় অসুস্থতার সম্বল অর্জন কর, আর জীবিত অবস্থায় মৃত্যুর সম্বল অর্জন কর"।
ইমাম বুখারী রহ. বলেছেন: اغتنم في الفراغ فضل ركوع - فعسى أن يكون موتك بغتة كم صحيح رأيت من غير سقيم - ذهبت نفسه الصحيحة فلتة "অবসরে তুমি রুকুর ফযীলত গণিমত জ্ঞান কর, কারণ তোমার মৃত্যু হঠাৎও হতে পারে। রোগহীন কত সুস্থ ব্যক্তিকে দেখেছি, তার সুস্থ দেহ হঠাৎ প্রস্থান করেছে"।
ইমাম বুখারী রহ.-কে যখন হাফেযে হাদীস, আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুর রহমান দারামি রহ.-এর মৃত্যু সংবাদ শুনানো হয়, তখন তিনি আবৃতি করেন: إن عشت تفجع بالأحبة كلهم - وبقاء نفسك لا أبا لك أفجع "যদি তুমি বেঁচে থাক, সকল প্রিয়দের দ্বারা তুমি আতঙ্কিত হবে, তোমার বেঁচে থাকাও আতঙ্কের বিষয়"।
অপর কবি বলেছেন: صلاتك نور والعباد رقود - ونومك ضد للصلاة عنيد وعمرك غنم إن عقلت ومهلة - يسير ويفنى دائباً ويبيد "তোমার সালাত নূর, বান্দারা যখন ঘুমিয়ে থাকে, তোমার ঘুম সালাতের বিপরীত-প্রতিপক্ষ, তোমার জীবন গণিমত যদি বুঝতে সক্ষম হও এবং সামান্য সুযোগ, যা অনবরত শেষ হচ্ছে ও নিঃশেষ হয়ে যাবে"।
কতক নেককার লোক বলেছেন: عجبت من جسم ومن صحة - ومن فتى نام إلى الفجر فالموت لا تؤمن خطفاته - في ظلم الليل إذا يسري من بين منقول إلى حفرة - يفترش الأعمال في القبر وبين مأخوذ على غرة - بات طويل الكبر والفخر عاجله الموت على غفلة - فمات محسوراً إلى خسر "আমি সে শরীর, সুস্থতা ও যুবককে দেখে আশ্চর্য হই যে ফজর পর্যন্ত ঘুমিয়ে আছে, অথচ মৃত্যুর ছোবল থেকে তার কোনো নিরাপত্তা নেই, এমনকি রাতেও যখন অন্ধকার আচ্ছন্ন করে; গর্তে নিয়ে যাওয়ার দেরি, অতি শীঘ্র তার আমল বিছানো হবে কবরে; হঠাৎ পাকড়াও করার অপেক্ষা, দীর্ঘ অহংকার ও বড়ত্ব মাটি হয়ে যাবে; মৃত্যু তাকে অতর্কিত হানা দিল, সে হতাশার মৃত্যু নিয়ে হাশরের দিকে ধাবিত হল"।
৪. সুস্থতা ও অবসরকে গণিমত মনে করা, যেন অসুখ ও ব্যস্ততার সময় সুস্থতা ও অবসরের আমল লিখা হয়। আবু মুসা আশা'আরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: إِذَا مَرِضَ الْعَبْدُ أَوْ سَافَرَ كُتِبَ لَهُ مِثْلُ مَا كَانَ يَعْمَلُ مُقِيمًا صَحِيحًا». "বান্দা যখন অসুস্থ হয় অথবা সফর করে, সে মুকিম ও সুস্থ অবস্থায় যে আমল করত, তাই তার জন্য লেখা হয়"। অতএব, বুদ্ধিমানের কাজ নয় এ ফযীলত হাত ছাড়া করা, তার উচিৎ সুস্থতা, অবসর ও মুকিম অবস্থায় অধিক আমল করা, যেন এ পরিমাণ আমল তার অক্ষমতা অথবা ব্যস্ততার সময় লেখা হয়"।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: نِعْمَتَانِ مَغْبُونٌ فِيهِمَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ: الصِّحَةُ وَالْفَرَاغُ». "দু'টি নি'আমত রয়েছে অধিকাংশ মানুষ যার ব্যাপারে ধোঁকায় আছে: তা হল সুস্থতা ও অবসর"। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে উপদেশ দিয়ে বলেন, اِغْتَنِمْ خَمْسًا قَبْلَ خَمْسٍ: شَبَابَكَ قَبْلَ هَرَمِكَ، وَصِحَّتَكَ قَبْلَ سَقَمِكَ، وَغِنَاكَ قَبْلَ فَقْرِكَ، وَفَرَاغَكَ قَبْلَ شُغْلِكَ، وَحَيَاتَكَ قَبْلَ مَوْتِكَ». "তুমি পাঁচটি জিনিসকে পাঁচটি জিনিসের পূর্বে গণিমত মনে কর: বার্ধক্যের আগে যৌবনকে, অসুস্থতার আগে সুস্থতাকে, অভাবের আগে সচ্ছলতাকে, ব্যস্ততার আগে অবসরকে ও মৃত্যুর আগে জীবনকে"।
৫. দ্রুত ঘুমানোর চেষ্টা করা। দ্রুত ঘুমালে কিয়ামুল লাইল ও ফজর সালাতের শক্তি সঞ্চয় হয়। আবু বারযাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার পূর্বে ঘুমানো ও তার পরে কথা বলা অপছন্দ করতেন।
৬. ঘুমের আদব রক্ষা করা। যেমন ওযুসহ শয়ন করা, যদি ওযু না থাকে ওযু করে দু'রাকাত অযুর সালাত আদায় করা। অতঃপর ঘুমের আযকার ও দো'আ পাঠ করা। দু'হাতের তালু জমা করে, তাতে সামান্য থু থু-র ছিটা দেওয়া ও তাতে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করা। অতঃপর এ দু'হাত দ্বারা শরীরের সম্ভাব্য স্থান মাসাহ করা, মাথা, চেহারা ও শরীরের সম্মুখভাগ থেকে আরম্ভ করা। এভাবে তিনবার করা। আয়াতুল কুরসি পাঠ করা, সূরা বাকারার শেষ দু'আয়াত তিলাওয়াত করা এবং ঘুমের দো'আগুলো পূর্ণ করা। এভাবে ঘুমালে ইনশাআল্লাহ রাতে জাগ্রত হওয়া সহজ হবে। এ ছাড়া অন্যান্য পদ্ধতি গ্রহণ করা যেমন মাথার নিকট এলার্ম ঘড়ি রাখা, অথবা পরিবারের কাউকে, অথবা কোনো আত্মীয়কে, অথবা প্রতিবেশীকে, অথবা কোনো বন্ধুকে জাগিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা।
৭. কিয়ামুল লাইলের জন্য সহায়ক অন্যান্য পদ্ধতি গ্রহণ করা। যেমন অধিক ভক্ষণ না করা, দিনে অযথা কঠিন কর্মে নিজেকে ক্লান্ত না করা, বরং উপকারী কর্মে নিজেকে ব্যাপৃত রাখা। কায়লুলা তথা দিবানিদ্রা ত্যাগ না করা, কারণ দিনে সামান্য ঘুমালে রাতে জাগ্রত হওয়া সহজ হয়। পাপ ও অপরাধ থেকে বিরত থাকা। ইমাম সাওরি রহ. থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, তিনি বলেছেন: "আমি একটি পাপের কারণে পাঁচ মাস কিয়ামুল লাইল থেকে বঞ্চিত হয়েছি"। পাপের কারণে বান্দা অনেক সময় বঞ্চিত হয়, তার থেকে অনেক কল্যাণ ছুটে যায়: যেমন কিয়ামুল লাইল। কিয়ামুল লাইলের বড় একটি উপায় হচ্ছে মুসলিমদের ব্যাপারে অন্তর পরিষ্কার থাকা, বিদ'আত থেকে মুক্ত থাকা ও অতিরিক্ত দুনিয়া পরিহার করা তম উপায় হচ্ছে: আল্লাহর মহব্বত ও ঈমানী শক্তি। যেমন, সে যখন সালাতে দাঁড়ায় আল্লাহর সাথে মোনাজাত করে, তার সম্মুখে উপস্থিত হয় ও তার সম্মুখে দণ্ডায়মান থাকে, এ অনুভূতি তাকে দীর্ঘ কিয়ামের জন্য অনুপ্রাণিত করবে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটি বিশুদ্ধ হাদীসে এসেছে, তিনি বলেছেন: إِنَّ فِي اللَّيْلِ لَسَاعَةً لَا يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ يَسْأَلُ اللَّهَ خَيْرًا مِنْ أَمْرِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ، وَذَلِكَ كُلَّ لَيْلَةٍ». "নিশ্চয় রাতে একটি মুহূর্ত রয়েছে, মুসলিম বান্দা সে সময় মোতাবেক আল্লাহর নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের যে কোনো কল্যাণ প্রার্থনা করে, আল্লাহ অবশ্যই তাকে তা প্রদান করেন, আর এটা প্রতি রাতেই হয়"।
টিকাঃ
১১২. এ অংশের প্রত্যেক বাক্যের দলিল সালাতুল লাইলের ফযীলত বর্ণনার সময় পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
১১৩. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৪৪, ৩২৭০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৭৪।
১১৪. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৪২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৭৬।
১১৫. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৪২) ও (১১৩১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৫-১১৫৯।
১১৬. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১২১, ১১২২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৪৭৯।
১১৭. ইবন হিব্বান ফিল ইহসান: (৭২) ও (১/২৭৩), বায়হাকি ফিস সুনান, সহীহ ইবন হিব্বানের টিকায় শুআইব আরনাউত এ হাদীসের সনদ সহীহ মুসলিমের শর্ত মোতাবেক সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ ইবন হিব্বান 'আল-ইহসান' অধ্যায়: (১/২৭৪), আলবানী 'সিলসিলা আহাদীসিস সহীহা' গ্রন্থে এ হাদীসের সনদ সহীহ বলেছেন, হাদীস নং (১৯৫), সহীহ তারগিব গ্রন্থে তিনি এ হাদীসের সনদ হাসান বলেছেন, হাদীস নং (৬৪৫)।
১১৮. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৪১৬।
১১৯. 'হাদইউস সারি' মুকাদ্দামাহ সহিহুল সহীহ বুখারী, হাদীস নং পৃ.৪৮১)
১২০. 'হাদইউস সারি' মুকাদ্দামাহ সহিহুল সহীহ বুখারী, হাদীস নং পৃ.৪৮১
১২১. 'কিয়ামুল লাইল' লি মুহাম্মদ ইবন নাসর: (পৃ.৪২), 'তাহাজ্জুদ ও কিয়ামুল লাইল' লি ইবন আবিদ দুনিয়া: (পৃ.৩২৯)
১২২. 'তাহাজ্জুদ ও কিয়ামুল লাইল' লি ইবন আবিদ দুনিয়া: (পৃ. ৩৩); 'কিয়ামুল লাইল' লি মুহাম্মদ ইবন নাসার: (পৃ. ৯২)।
১২৩. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৯৯৬।
১২৪. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৪১২।
১২৫. আল-হাকেম: (৪/৩০৬), হাকিম হাদীসটি সহীহ বলেছেন, ইমাম যাহাবী তার সমর্থন করেছেন। ইবনুল মুবারক ফিয 'যুহদ': (১/১০৪), হাদীস নং (২), ইবন হাজার 'ফাতহুল বারি'তে: (১১/২৩৫) বলেছেন: "... ইবন মুবারাক 'যুহদ' গ্রন্থে সহীহ সনদে এ হাদীসটি ইরসালকারী আমর ইবন মাইমুন থেকে বর্ণনা করেছেন"। আমর ইবন মাইমুনের মুরসাল হাদীস হাকেমের বর্ণনাকৃত হাদীসের শাহেদ। আলবানী এ হাদীসটি সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ জামে সাগির: (২/৩৫৫), হাদীস নং (১০৮৮)।
১২৬. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৬৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৬১।
১২৭. দেখুন: লেখকের হিসনুল সহীহ মুসলিম, হাদীস নং পৃ. (৬৮-৭৮)।
১২৮. দেখুন: 'মুখতাসারু মিনহাজুল কাসেদিন' লি ইবন কুদামাহ: (পৃ. ৬৭-৬৮)।
১২৯. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৫৭, জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে।