📘 রাতে দ্রুত ঘুমানোর উপকারিতা > 📄 দিনের ঘুম ক্ষতিকর

📄 দিনের ঘুম ক্ষতিকর


দিনের ঘুম ক্ষতিকর। এর ফলে রোগের বিভিন্ন উপসর্গ সৃষ্টি হয়, যেমন বংশগত রোগ, স্নায়ু তন্ত্রের দুর্বলতা ও অলসতা এবং যৌন শক্তি হ্রাস পায়, তবে গরমের মৌসুমে দ্বি-প্রহরের ঘুম উপকারী। প্রভাতের ঘুম বেশী ক্ষতিকর, আরো ক্ষতিকর আসর পরবর্তী ঘুম। আব্দুল্লাহ ইন্ন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু তার এক ছেলেকে সকালে ঘুমাতে দেখে বলেন: “উঠ, তুমি এমন সময় ঘুমচ্ছ যখন রিযক বণ্টন হচ্ছে?!”

কেউ বলেছেন: দিনের ঘুম তিন প্রকার: উত্তম অভ্যাস, দহন ও বোকামি। উত্তম অভ্যাস: দ্বিপ্রহরের ঘুম, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভ্যাস ছিল। নির্বুদ্ধিতা: প্রথম প্রহরের ঘুম, যা দুনিয়া ও আখেরাতের কাজ থেকে বিরত রাখে। বোকামি: আসর পরবর্তী ঘুম।

জনৈক বুজুর্গ বলেছেন: আসরের পর ঘুমানোর কারণে যার বিবেকের বিলুপ্তি ঘটে, সে যেন নিজেকে ব্যতীত কাউকে দোষারোপ না করে।

কোনো এক কবি বলেছেন:
أَلَا إِنَّ نَوْمَاتِ الضُّحَى تُورِثُ الفَتَى - خَبَالاً وَنَوْمَاتُ العُصَيْرِ جُنُونُ
“জেনে রেখ! প্রথম প্রহরের ঘুম মানসিক বিকৃতি সৃষ্টি করে, আর আসর পরবর্তী ঘুম পাগলামি”।

দিনের শুরুতে সকল সৃষ্টিজীব রিযকের সন্ধানে বের হয়। এটা মূলত রিযক বণ্টনের বিশেষ মুহূর্ত। তাই এ সময়ের ঘুম মূলত বঞ্চিত হওয়ার ঘুম, তবে প্রয়োজনের সময় ব্যতীত। এ ঘুম শরীরের জন্য ক্ষতিকর, অলসতা সৃষ্টি করে ও হজম ক্রিয়া বাধা গ্রস্ত করে, ফলে দুর্বলতা, অস্বস্তি ও আলস্য দেখা দেয়। আর এ ঘুম যদি হয় প্রভাতের মল ত্যাগ, হাঁটাচলা ও সামান্য খাদ্য গ্রহণের পূর্বে, তাহলে আরো ক্ষতিকর, যার ফলে কঠিন ও জটিল রোগ সৃষ্টি হতে পারে।¹⁰

টিকাঃ
¹⁰ যাদুল মায়াদ: (৪/২৪১-২৪২)।

📘 রাতে দ্রুত ঘুমানোর উপকারিতা > 📄 বিশেষ করে ফজর ও আসরের পর

📄 বিশেষ করে ফজর ও আসরের পর


দিনের ঘুম ক্ষতিকর। এর ফলে রোগের বিভিন্ন উপসর্গ সৃষ্টি হয়, যেমন বংশগত রোগ, স্নায়ু তন্ত্রের দুর্বলতা ও অলসতা এবং যৌন শক্তি হ্রাস পায়, তবে গরমের মৌসুমে দ্বি-প্রহরের ঘুম উপকারী। প্রভাতের ঘুম বেশী ক্ষতিকর, আরো ক্ষতিকর আসর পরবর্তী ঘুম। আব্দুল্লাহ ইন্ন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু তার এক ছেলেকে সকালে ঘুমাতে দেখে বলেন: “উঠ, তুমি এমন সময় ঘুমচ্ছ যখন রিযক বণ্টন হচ্ছে?!”

কেউ বলেছেন: দিনের ঘুম তিন প্রকার: উত্তম অভ্যাস, দহন ও বোকামি। উত্তম অভ্যাস: দ্বিপ্রহরের ঘুম, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভ্যাস ছিল। নির্বুদ্ধিতা: প্রথম প্রহরের ঘুম, যা দুনিয়া ও আখেরাতের কাজ থেকে বিরত রাখে। বোকামি: আসর পরবর্তী ঘুম।

জনৈক বুজুর্গ বলেছেন: আসরের পর ঘুমানোর কারণে যার বিবেকের বিলুপ্তি ঘটে, সে যেন নিজেকে ব্যতীত কাউকে দোষারোপ না করে।

কোনো এক কবি বলেছেন:
أَلَا إِنَّ نَوْمَاتِ الضُّحَى تُورِثُ الفَتَى - خَبَالاً وَنَوْمَاتُ العُصَيْرِ جُنُونُ
“জেনে রেখ! প্রথম প্রহরের ঘুম মানসিক বিকৃতি সৃষ্টি করে, আর আসর পরবর্তী ঘুম পাগলামি”।

দিনের শুরুতে সকল সৃষ্টিজীব রিযকের সন্ধানে বের হয়। এটা মূলত রিযক বণ্টনের বিশেষ মুহূর্ত। তাই এ সময়ের ঘুম মূলত বঞ্চিত হওয়ার ঘুম, তবে প্রয়োজনের সময় ব্যতীত। এ ঘুম শরীরের জন্য ক্ষতিকর, অলসতা সৃষ্টি করে ও হজম ক্রিয়া বাধা গ্রস্ত করে, ফলে দুর্বলতা, অস্বস্তি ও আলস্য দেখা দেয়। আর এ ঘুম যদি হয় প্রভাতের মল ত্যাগ, হাঁটাচলা ও সামান্য খাদ্য গ্রহণের পূর্বে, তাহলে আরো ক্ষতিকর, যার ফলে কঠিন ও জটিল রোগ সৃষ্টি হতে পারে।¹⁰

টিকাঃ
¹⁰ যাদুল মায়াদ: (৪/২৪১-২৪২)।

📘 রাতে দ্রুত ঘুমানোর উপকারিতা > 📄 ঘুম দমিয়ে রাখার ফলে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়

📄 ঘুম দমিয়ে রাখার ফলে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়


দীর্ঘ সময় ঘুম দমিয়ে রাখা উচিৎ নয়। দীর্ঘ সময় ঘুম দমিয়ে রাখার ফলে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি হয়। স্বভাব রূঢ় ও কর্কশ হয়, মননশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কর্মের ধারাবাহিকতা বিপর্যস্ত হয় ও শরীরের চঞ্চলতা দূরীভূত হয় ইত্যাদি। তাই ঘুম ও রাত জাগায় মধ্যম পন্থা অবলম্বন করা শরীর ও সুস্থতার জন্য কল্যাণকর।

“আদাবুল কুবরা” গ্রন্থে রয়েছে: কতক মনীষী বলেছেন: তন্দ্রা আকল দুর্বল করে, আর ঘুম তা বৃদ্ধি করে। অতএব, ঘুম বান্দার ওপর আল্লাহর মহা নি'আমত, আর তাই বারবার ঘুমের উল্লেখ করে আল্লাহ বান্দার ওপর অনুগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

📘 রাতে দ্রুত ঘুমানোর উপকারিতা > 📄 যার রাত জাগা ইবাদাত, তার রাত জাগা উত্তম

📄 যার রাত জাগা ইবাদাত, তার রাত জাগা উত্তম


যার রাত জাগা ইবাদাত, তার পক্ষে তা উত্তম; কিন্তু যার জন্য রাত জাগা গুনাহের কারণ, তার পক্ষে তা ক্ষতিকর। জাগ্রত থাকার কারণে যদি খারাপ সঙ্গের সম্ভাবনা থাকে, পাপ ও অপরাধে জড়িত হওয়ার আশঙ্কা হয়, তাহলে ঘুম উত্তম সন্দেহ নেই, বরং ওয়াজিব, যদি ঘুম ছাড়া হারাম ত্যাগ করার উপায় না থাকে।

কতক বুজুর্গ বলেছেন: এমন যুগ আসবে, যখন মানুষের জন্য ঘুম ও চুপ থাকাই উত্তম হবে।

সুফিয়ান সাওরী রহ. বলেছেন: “আদর্শ পূর্বসূরিগণ নিরাপত্তার আশায় অবসর হলে ঘুমানো পছন্দ করতেন”।

অতএব, ঘুম উত্তম, কারণ এতে বেহুদা ও অনর্থক কর্মকাণ্ড থেকে নিরাপত্তা লাভ হয়, শেষ রাতে তাহাজ্জুতের জন্য উঠা সম্ভব হয়, যা বিশেষ ইবাদাত এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করার উসীলা। আর যদি তন্দ্রা, দুর্বলতা ও ক্লান্তি দূর করার নিয়তে কেউ ঘুমায় এবং প্রয়োজনীয় ঘুম শেষে নতুন করে ইবাদাত, যিকির ও কুরআন তিলাওয়াতে মশগুল হয়, তাহলে তার ঘুমও ইবাদাত।¹¹

টিকাঃ
¹¹ গিযাউল আলবাব, শারহু মানজুমাতুল আদাব: (২/৩৫৮)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00