📘 রাতে দ্রুত ঘুমানোর উপকারিতা > 📄 ঘুমের হিকমত ও উপকারিতা

📄 ঘুমের হিকমত ও উপকারিতা


আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:
وَجَعَلْنَا نَوْمَكُمْ سُبَاتًا وَجَعَلْنَا الَّيْلَ لِبَاسًا وَجَعَلْنَا النَّهَارَ مَعَاشًا ﴾ [النبا: ۹، ۱۱]
“আর আমরা তোমাদের নিদ্রাকে করেছি বিশ্রাম। আর আমরা রাতকে করেছি আবরণ। আর আমরা দিনকে করেছি জীবিকার্জনের সময়”। [সূরা আন-নাবা, আয়াত: ৯-১১]
ঘুম আল্লাহর নিখুঁত পরিকল্পনার ফল। ঘুম মানুষের স্বস্তি আনয়ন করে, দিনের কঠোর পরিশ্রম ও কর্ম-ব্যস্ততা থেকে মুক্তি দেয়। ঘুম না মৃত্যু-না জীবন বরং উভয়ের মধ্যকার এক বিশেষ অবস্থা, শরীর ও অস্থির প্রশান্তি বিধায়ক। দিনের নানান কোলাহল ও কর্ম-ক্লান্তির বিপরীতে রয়েছে রাতের পিনপতন নীরবতা। সব কিছু এমন সূক্ষ্ম ও নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হয়, যা মানুষের চিন্তার অতীত, যেখানে তাদের ইচ্ছার কোনো দখল নেই। জেগে আছে, অথচ জানে না কীভাবে জেগে আছে! ঘুমিয়ে আছে, অথচ জানে না কিভাবে ঘুমিয়ে আছে! এ সব পর্যবেক্ষণ করার ক্ষমতা তার নেই। এখানে বিদ্যমান জীব জগতের গুঢ় রহস্য, যা তার স্রষ্টা ব্যতীত কেউ জানে না। কোনো প্রাণী লাগাতার নির্ঘুম থাকতে পারে না, যে কৃত্রিম উপায়ে চেষ্টা করবে, তার মৃত্যু নিশ্চিত।
শরীর ও অস্থির প্রয়োজন ছাড়া আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে ঘুমে। যেমন, ঘুম আত্মার প্রশান্তি, যার স্পর্শ পাওয়া মাত্র ব্যক্তির হাত ফসকে অস্ত্র-ঢাল সব মাটিতে পড়ে যায়, ইচ্ছা বা অনিচ্ছায়। মুহূর্তের জন্য তলীয়ে যায় সে প্রশান্তির অতল গহীনে, যার প্রয়োজন তার নিকট খাদ্য-পানির চেয়ে কম নয়। এর মধ্যে ঘটে যায় কতক সময় অলৌকিক ঘটনা। যেমন, চোখের ঝিমুনি, শরীরের মন্থরতা, অস্থির নিষ্ক্রিয়তা, অন্তরের বেচঈনি ও মনের ভীতিকর অবস্থা। এ হালত বেশি দীর্ঘায়ু হয় না, কিন্তু ব্যক্তির জীবনে এনে দেয় পরিপূর্ণ বিপ্লব। এর ফলে তার শুধু শক্তিই বৃদ্ধি পায় না, বরং সে নিজে শক্তিতে পরিণত হয়, যেন নতুন করে জাগ্রত হলো, সাহস পেল ও ভয় দূরীভূত হল। যেরূপ ঘটেছিল বদর ও উহুদ যুদ্ধে মুসলিম মুজাহিদ বাহিনীতে। তাই অনুগ্রহ প্রকাশ করে আল্লাহ তা'আলা বলেন:
إِذْ يُغَشِيكُمُ النُّعَاسَ أَمَنَةً مِّنْهُ ﴾ [ الانفال: ١١]
“স্মরণ কর, যখন তিনি তোমাদেরকে তন্দ্রায় আচ্ছন্ন করেন তাঁর পক্ষ থেকে নিরাপত্তাস্বরূপ”। [সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ১১]
অন্যত্র বলেন,
ثُمَّ أَنزَلَ عَلَيْكُم مِّنْ بَعْدِ الْغَمِّ أَمَنَةً نُّعَاسًا يَغْشَى طَائِفَةً مِّنكُم ﴾ [ال عمران: ١٥٤]
“তারপর তিনি তোমাদের ওপর দুশ্চিন্তার পর নাযিল করলেন প্রশান্ত তন্দ্রা, যা তোমাদের মধ্য থেকে একদলকে ঢেকে ফেলেছিল”। [সূরা আল ইমরান, আয়াত: ১৫৪]
অতএব, দিনের ব্যস্ততা ও কর্ম ক্লান্তি থেকে মুক্তির জন্য ঘুম গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়, আল্লাহর বিশেষ কুদরত, যেখানে রয়েছে অফুরন্ত হিকমত ও রহস্য, যা তিনি ব্যতীত কেউ জানে না। এ কারণে ঘুমের আলোচনা কুরআনে এসেছে বারবার, তাতে চিন্তা, গবেষণা ও তা থেকে উপদেশ গ্রহণ করার জন্য বারবার তাগিদ প্রদান করা হয়েছে।
সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ তা'আলা এ বিশ্ব চরাচরকে পুরোপুরি জীব জগতের অনুকূল ও অনুগামী করে দিয়েছেন। মানুষ যখন ঘুমায়, পুরো জগত তখন ঘুমায়। তিনি রাতকে অন্ধকার আচ্ছাদন দ্বারা ঢেকে দিয়েছেন, ফলে স্বস্তি ও প্রশান্তি লাভের জন্য সকলে রাতের আচ্ছাদনে অদৃশ্য হয়ে যায়। অতঃপর রাতের ওপর দিনের বিচ্ছুরণ ঘটান, ফলে পুনরায় সবাই জীবিকার অন্বেষণ ও কর্ম-ব্যস্ততায় মগ্ন হয়। এভাবে মহান আল্লাহ তার সৃষ্ট জগতের ভারসাম্য রক্ষা করেন, যে কারণে পৃথিবী বসবাস উপযোগী। প্রকৃতির এ সাধারণ নিয়মে জীব জগত যেরূপ অভ্যস্ত, অনুরূপ জীব জগতের সাধারণ স্বভাবের অনুগামী প্রকৃতি। একে অপরের পরিপূরক, একটি ব্যতীত অপরটি অসম্পূর্ণ, উভয়ের সমন্বয়ে এ সুন্দর পৃথিবী। এখানে আল্লাহর কুদরতের প্রমাণ, এ হচ্ছে তার নিখুঁত ও ত্রুটিহীন নির্মাণ। সুবহানাল্লাহ!⁶

টিকাঃ
⁶ তাফসীর 'ফী জিলালিল কুরআন' লি সাইয়্যেদ কুতুব: (৮/৪৩০)।

📘 রাতে দ্রুত ঘুমানোর উপকারিতা > 📄 রাত-দিনের ঘটনাবলি ও রহস্যসমূহ

📄 রাত-দিনের ঘটনাবলি ও রহস্যসমূহ


রাত-দিন আল্লাহর অলৌকিক নিদর্শন, দু'টি আশ্চর্য সৃষ্টি ও রহস্য ঘেরা মখলুক। এ জন্য কুরআনুল কারীমে বারবার এর উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন, তিনি বলেছেন:
وَمِنْ ءَايَتِهِ الَّيْلُ وَالنَّهَارُ ﴾ [فصلت: ۳۷]
“আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে রাত ও দিন”। [সূরা ফুসসিলাত, আয়াত: ৩৭]
অন্যত্র তিনি বলেছেন:
وَهُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الَّيْلَ لِبَاسًا وَالنَّوْمَ سُبَاتًا وَجَعَلَ النَّهَارَ نُشُورًا ﴾ [الفرقان: ٤٧]
“আর তিনিই তোমাদের জন্য রাতকে আবরণ ও নিদ্রাকে আরামপ্রদ করেছেন এবং দিনকে করেছেন জাগ্রত থাকার সময়”। [সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৪৭]
তিনি আরো বলেছেন:
اللَّهُ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الَّيْلَ لِتَسْكُنُوا فِيهِ وَالنَّهَارَ مُبْصِرًا ﴾ [غافر: ٦١]
“আল্লাহ, যিনি তোমাদের জন্য রাত বানিয়েছেন যাতে তোমরা তাতে বিশ্রাম করতে পার এবং দিনকে করেছেন আলোকোজ্জ্বল”। [সূরা গাফির, আয়াত: ৬১] এ জাতীয় আরো অনেক আয়াত রয়েছে।
এ সব আয়াতে আল্লাহর কুদরত লক্ষ্য করুন। তিনি রাতকে স্বস্তি ও পৃথিবীর আচ্ছাদন বানিয়েছেন। এতে সর্বত্র পিনপতন নীরবতা বিরাজ করে ও যাবতীয় কোলাহল স্তিমিত হয়। প্রতিটি প্রাণী নিজ নিজ আশ্রয় স্থলে ফিরে যায়। আত্মাগুলো দিনের ক্লান্তি শেষে বিশ্রাম গ্রহণ করে। অতঃপর প্রভাত উদ্ভাসক আগমন করেন দিনের আলো ও উজ্জ্বলতা নিয়ে, ফলে অন্ধকার বিদীর্ণ করে আলোর বিচ্ছুরণ ঘটে। রাত শেষে পুনরায় জীব জগত জীবিকা নির্বাহ ও কর্ম ব্যস্ততায় মগ্ন হয়। মানুষেরা বিছানা ত্যাগ করে কর্মে যোগদান করছে, পাখিগুলো তাদের বাসা থেকে বের হয়ে আসছে! এ পুনরুত্থান ও পুনর্জীবন কিয়ামতের পুনরুত্থান ও পুনর্জীবনের প্রমাণ নয়! সন্দেহ নেই পৃথিবীর এ প্রকৃতি পরকালের পুনরুত্থান ও পুনর্জীবনের আশ্চর্য এক নমুনা! কিন্তু নিত্য ঘটমান তাই আমরা একে গতানুগতিক নিয়ম জ্ঞান করি, কোনো উপদেশ গ্রহণ করি না। আমরা এ থেকে গাফেল, অন্যমনস্ক। যাকে ইচ্ছে আল্লাহ হিদায়েত দান করেন, যাকে ইচ্ছে তিনি গোমরাহ করেন। যাকে ইচ্ছে তিনি এসব নিদর্শন থেকে অন্ধ করে দেন, সে চোখ দ্বারা তা দেখে না, কান দ্বারা তা শ্রবণ করে না, অন্তর দ্বারা তা চিন্তা করে না, সে হিদায়াত থেকে বঞ্চিত। ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে আবক্ষ পানিতে থেকেও তৃষ্ণায় পানি পানি চিৎকার করছে, আর পানির অস্তিত্ব অস্বীকার করছে। অতএব এসব কুদরত দেখে আল্লাহকে জানা, তার শোকর ও প্রশংসা করা এবং তার নিকট আকুল প্রার্থনা করা প্রত্যেকের জন্য জরুরি।'

টিকাঃ
' মিফাতুহু দারুস সাআদাহ লি ইবনিল কাইয়্যেম: (১/২৫৬)।

📘 রাতে দ্রুত ঘুমানোর উপকারিতা > 📄 রাত-দিন ও জীবিকান্বেষণ আল্লাহর নি'আমত ও নিদর্শন

📄 রাত-দিন ও জীবিকান্বেষণ আল্লাহর নি'আমত ও নিদর্শন


আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:
وَمِنْ ءَايَتِهِ مَنَامُكُم بِالَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَابْتِغَاؤُكُم مِّن فَضْلِهِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَسْمَعُونَ ﴾ [الروم: ٢٣]
“আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে রাতে ও দিনে তোমাদের নিদ্রা এবং তাঁর অনুগ্রহ থেকে তোমাদের (জীবিকা) অন্বেষণ। নিশ্চয় এর মধ্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে সে কওমের জন্য যারা শোনে”। [সূরা আর-রূম, আয়াত: ২৩]
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেছেন:
اللهُ يَتَوَفَّى الْأَنْفُسَ حِينَ مَوْتِهَا وَالَّتِي لَمْ تَمُتْ فِي مَنَامِهَا فَيُمْسِكُ الَّتِي قَضَى عَلَيْهَا الْمَوْتَ وَيُرْسِلُ الْأُخْرَى إِلَى أَجَلٍ مُّسَمًّى إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ ﴾ [الزمر: ٤١]
“আল্লাহ জীবসমূহের প্রাণ হরণ করেন তাদের মৃত্যুর সময় এবং যারা মরেনি তাদের নিদ্রার সময়। তারপর যার জন্য তিনি মৃত্যুর ফয়সালা করেন তার প্রাণ তিনি রেখে দেন এবং অন্যগুলো ফিরিয়ে দেন একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল কাওমের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে”। [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৪২]

📘 রাতে দ্রুত ঘুমানোর উপকারিতা > 📄 দিনের ব্যস্ততা ও রাতের স্বস্তি আল্লাহর অনুগ্রহ

📄 দিনের ব্যস্ততা ও রাতের স্বস্তি আল্লাহর অনুগ্রহ


আল্লাহ তা'আলা বলেন,
قُلْ أَرَعَيْتُمْ إِن جَعَلَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ الَّيْلَ سَرْمَدًا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَنْ إِلَهُ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيكُم بِضِيَاءٍ أَفَلَا تَسْمَعُونَ قُلْ أَرَعَيْتُمْ إِن جَعَلَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ النَّهَارَ سَرْمَدًا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَنْ إِلَهُ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيكُم بِلَيْلٍ تَسْكُنُونَ فِيهِ أَفَلَا تُبْصِرُونَ * وَمِن رَّحْمَتِهِ، جَعَلَ لَكُمُ الَّيْلَ وَالنَّهَارَ لِتَسْكُنُوا فِيهِ وَلِتَبْتَغُوا مِن فَضْلِهِ، وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴾ [القصص: ۷۱ ۷۳]
“বল, 'তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি আল্লাহ রাতকে তোমাদের উপর কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী করে দেন, তবে তাঁর পরিবর্তে কোন ইলাহ আছে কি যে তোমাদের আলো এনে দেবে? তবুও কি তোমরা শুনবে না'? বল, 'তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি আল্লাহ দিনকে তোমাদের উপর কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী করে দেন, তবে তাঁর পরিবর্তে কোন ইলাহ আছে কি, যে তোমাদের রাত এনে দেবে যাতে তোমরা বিশ্রাম করবে? তবুও কি তোমরা ভেবে দেখবে না'? আর তাঁর অনুগ্রহে তিনি তোমাদের জন্য রাত ও দিন করেছেন যাতে তোমরা বিশ্রাম নিতে পার এবং তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার এবং যেন তোমরা শোকর আদায় করতে পার”। [সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ৭১-৭৩]
আল্লাহ তা'আলা বান্দার ওপর রাত-দিনের অনুগ্রহ প্রকাশ করে তাদেরকে কৃতজ্ঞতা আদায় ও ইবাদাতের প্রতি আহ্বান করেছেন। কারণ, তিনি নিজ অনুগ্রহে দিন বানিয়েছেন, যেখানে তারা রিযক অন্বেষণ করে, তাদের প্রয়োজনে দিক্বিদিক ছুটে চলে। অনুরূপ তিনি রাত বানিয়েছেন যেন তারা স্বস্তি হাসিল করে, তাদের রুহ ও শরীর ক্লান্তি দূর হয়, যা বান্দার ওপর আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ।
রাত-দিন একমাত্র আল্লাহ তা'আলার সৃষ্টি, এতে কোনো মখলুকের দখল নেই। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
إِن جَعَلَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ الَّيْلَ سَرْمَدًا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَنْ إِلَهُ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيكُم بِضِيَاءٍ أَفَلَا تَسْمَعُونَ ﴾ [القصص: ۷۱]
“যদি আল্লাহ রাতকে তোমাদের ওপর কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী করে দেন, তবে তাঁর পরিবর্তে কোনো ইলাহ আছে কি যে তোমাদের আলো এনে দেবে?”। [সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ৭১]
অন্যত্র তিনি বলেন,
إِن جَعَلَ اللَّهُ عَلَيْكُمُ النَّهَارَ سَرْمَدًا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَنْ إِلَهُ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيكُم بِلَيْلٍ تَسْكُنُونَ فِيهِ أَفَلَا تُبْصِرُونَ ﴾ [القصص: ٧٢]
“যদি আল্লাহ দিনকে তোমাদের ওপর কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী করে দেন, তবে তাঁর পরিবর্তে কোনো ইলাহ আছে কি, যে তোমাদের রাত এনে দেবে যাতে তোমরা বিশ্রাম করবে?”। [সূরা আল-কاسাস, আয়াত: ৭২]
লক্ষ্য করুন আল্লাহ রাত সম্পর্কে বলেছেন: أَفَلَا تَسْمَعُونَ “তোমরা কি শোেন না”। আর দিন সম্পর্কে বলেছেন: أَفَلَا تُبْصِرُونَ “তোমরা কি দেখ না”। কারণ, রাতে দৃষ্টি শক্তির চেয়ে শ্রবণ শক্তি প্রখর থাকে, অনুরূপ দিনে শ্রবণ শক্তির চেয়ে দৃষ্টি শক্তি প্রখর থাকে। বান্দা যদি এসব নি'আমত নিঃশেষ ও বিলীন হওয়ার কথা চিন্তা করে, তাহলে তার বিবেক আল্লাহর অনুগ্রহের নিকট অবনত হবে। আর যে মনে করে এগুলো প্রকৃতির চিরাচরিত নিয়ম, আদিকাল থেকে চলছে, অনন্তকাল চলবে, তার অন্তর কখনো আল্লাহর কৃতজ্ঞতার জন্য উন্মুক্ত হবে না। তার চোখ অন্ধ, সে কখনো এ থেকে উপদেশ গ্রহণ করবে না, তার থেকে কখনো আল্লাহর শোকর প্রকাশ পাবে না।⁸
আল্লাহর সকল প্রশংসা, তিনি আমাদেরকে অগণন ও বেহিসাব নি'আমত দান করেছেন। তিনি আমাদেরকে ঘুমের জন্য দিয়েছেন অন্ধকার রাত, আর কাজের জন্য দিয়েছেন আলোকিত দিন। আমরা এতে নানা ইবাদত সম্পাদন করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে সক্ষম হই।

টিকাঃ
⁸ তাফসীর সাদী: (৬/৫৩-৫৪)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00