📄 কথা ও কণ্ঠ
নবিজি -এর কণ্ঠ কিছুটা চড়া, বাগ্মিতা অসাধারণ। মৌনতা গাম্ভীর্যপূর্ণ আর কথা আকর্ষণীয়। একদম যথাযথ বিষয়ে স্পষ্ট ও সংক্ষেপে কথা বলতে পারতেন তিনি।
📄 নবি ﷺ-এর আচরণ ও আখলাকের একটুখানি
নবি সাধারণত হাসিখুশি থাকতেন। মুচকি হাসি হাসতেন সব সময়। রূঢ় আচরণের জবাবেও রূঢ়তা দেখাতেন না। চ্যাঁচামেচি করে কথা বলতেন না, এমনকি বাজারে গিয়েও না।
দুটি বৈধ কাজের একটি গ্রহণ করার সুযোগ থাকলে রাসূল সব সময় বেছে নিতেন সহজটি। তবে গুনাহ বা আল্লাহর অবাধ্যতার আশঙ্কা আছে, এমন যেকোনও কিছু এড়িয়ে যেতেন। ব্যক্তিগত কারণে কখনও প্রতিশোধ নেননি। কিন্তু আল্লাহর আদেশের শাস্তিযোগ্য বিরোধিতা ঘটলে অবশ্যই শাস্তি দিতেন অপরাধীকে। সে ব্যাপারে তাঁর অবস্থান ছিল শক্ত ও সুদৃঢ়।
তাঁর জীবনী আলোচনায় আমরা দেখে এসেছি তিনি কতটা দয়ালু, সাহসী, শক্তিশালী ও অসাধারণ ধৈর্যশীল ছিলেন। কখনও কারও সাথে কোনও অশ্লীল আচরণ করতেন না। কোনোকিছু তাঁর অপছন্দ হলে চেহারা দেখেই বোঝা যেত। সোজাসুজি কারও দিকে অসন্তুষ্ট ভঙ্গিতে তাকাতেন না। অন্য কাউকে তো বটেই, দাসদেরও কখনও ধমক দেননি।
আল্লাহর রাসূল হিসেবে মনোনীত হওয়ার আগেও সমাজে তিনি আল-আমীন (বিশ্বাসভাজন) নামে পরিচিত ছিলেন। কথা দিয়ে কথা রাখা আর জয়লাভের পরও বিনীত থাকা তাঁর চিরাচরিত অভ্যাস। আত্মীয়তার বন্ধনকে সম্মান করা, তা যথাযথভাবে বজায় রাখা, মৃত মুসলিমদের জানাযায় অংশগ্রহণ, দাসদের কাছ থেকে দাওয়াত পেলেও গ্রহণ করা, দরিদ্রদের পাশে একসাথে বসা ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য সামাজিক বৈশিষ্ট্য। প্রতাপশালী ইসলামি রাষ্ট্রের শাসক হয়েও তিনি অনাড়ম্বর জীবনযাপন করেন আমৃত্যু। বিলাসী খাবারে কিংবা দামি পোশাকে কখনও আসক্ত ছিলেন না তিনি এবং এ নিয়ে কখনও তাঁর মাঝে কোনও প্রতিযোগী মনোভাবও দেখা যায়নি।
টিকাঃ
[৫৮৪] বুখারি, ৫৪০৯, ৬৪৫৪; মুসলিম, ২০৬৪, ২৯৭২; তিরমিযি, ২০১৬; মিশকাত, ৫৮২০।