📄 অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ
নবি -এর ছিল বড় বড় হাড়। কনুই, কাঁধ, হাঁটু ও কবজি ছিল দীর্ঘকায়। হাত ও পায়ের তালু প্রশস্ত। হাত দুটো রেশমের চেয়েও নরম, বরফের চেয়েও শীতল এবং মিশকের চেয়েও সুগন্ধময়। তবে পায়ের গোছা ও গোড়ালি ছিল পাতলা। চওড়া কাঁধ রোমশ হলেও প্রশস্ত বক্ষ প্রায় চুলবিহীন। শুধু বুক থেকে নাভি পর্যন্ত সরু এক সারি চুল ছিল।
📄 গড়ন ও আকৃতি
নবি বেশি লম্বাও ছিলেন না, বেশি খাটোও না। লম্বার নিকটবর্তী ছিলেন। তবুও কোনও উঁচু ব্যক্তি যখন নবী -এর সাথে হাঁটত তখন নবিজি -কেই বেশি উঁচু দেখা যেত। শারীরিক গড়ন ছিল স্বাভাবিক। খুব বেশি মোটাও না আবার খুব বেশি হালকা-পাতলাও না; বরং দুটির মাঝামাঝি অবস্থায় ছিলেন। যা দেখতে অত্যন্ত চমৎকার ও আকর্ষণীয় ছিল।
📄 নবিজির সুবাস
নবিজি -এর শরীর থেকে আতরের চেয়েও মন-মাতানো এক সুবাস বেরোনোর কথা বলেছেন সাহাবিগণ। আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, “আমি নবিজির গায়ের সুগন্ধের চেয়ে উত্তম ও মিষ্টতর কোনও সুগন্ধি মিশক, আম্বার কিংবা অন্য কোনোকিছুতেই পাইনি।"
জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, “নবিজি কোনও পথ অতিক্রম করলে তাঁর পরে কেউ সে পথ দিয়ে চললে সুগন্ধ শুঁকেই জেনে যেত যে, এই পথ দিয়ে নবি অতিক্রম করেছেন।” কারও সাথে নবিজি হাত মেলালে সারাদিন তার হাতে রয়ে যেত মিষ্টি সুবাস। নবিজি শিশুদের মাথায় হাত বুলাতেন। ফলে তার সুবাসিত মাথা শুঁকলেই অন্য সব শিশুদের থেকে আলাদা করা যেত। উম্মু সুলাইম (রাদিয়াল্লাহু আনহা) নবিজি -এর ঘাম সংগ্রহ করে একটি শিশিতে করে রাখতেন। পরে আতরের সাথে মেশাতেন। কারণ, নবিজির ঘাম ছিল সর্বশ্রেষ্ঠ আতর।
📄 চালচলন
নবি হাঁটতেন দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপে। বসা থেকে উঠতেন একটু ঝাঁকুনি দিয়ে, হাঁটতেন দ্রুত কিন্তু মসৃণ গতিতে। মনে হতো যেন ঢাল বেয়ে নামছেন। মানুষের দিকে দ্রুত এবং আন্তরিকভাবে ফিরে তাকাতেন।
হাঁটতে গিয়ে কখনও ক্লান্ত মনে হতো না তাঁকে। সাথের লোকজন তাঁর সাথে হেঁটে পেরে উঠত না। আবূ হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, "আমি নবিজি -এর চেয়ে দ্রুত কাউকে হাঁটতে দেখিনি। জমীন যেন গুটিয়ে আসে তাঁর জন্য। আমরা যতক্ষণে হেঁটে ক্লান্ত হয়ে যাই, তিনি তখনো সচ্ছন্দে হেঁটে চলেছেন।”