📄 খলীফাতুল মুসলিমীন নির্বাচন
নবি -এর মৃত্যুর পরপরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল একজন খলীফা নির্বাচন করা। যিনি জনসাধারণ এবং রাষ্ট্রীয় কাজে নবি -এর স্থলাভিষিক্ত হবেন। আলি (রদিয়াল্লাহু আনহু) মনে করেন যে, তিনিই এ ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য। নবিজি -এর মিশনের শুরু থেকেই তিনি তাঁর খুব কাছের মানুষ এবং নিকটাত্মীয়। তাই আলি ও যুবাইর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা)-সহ বানু হাশিমের আরও অনেকে গিয়ে ফাতিমার বাড়িতে জড়ো হয়। আনসাররা সমবেত হন আরেক জায়গায়। তারা চাইছিলেন, পরবর্তী নেতা তাদের মাঝ থেকেই আসুক। বাকি মুহাজিররা আবূ বকর ও উমর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথে সাথেই রয়েছে। আবূ বকর ও উমর দু'জনে আনসারদের নিকট উপস্থিত হলেন। আবূ উবাইদাসহ অন্যান্য মুহাজিরও উপস্থিত হন সেখানে। আনসাররা তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ও উপযুক্ততা তুলে ধরেন। এভাবে অনেক আলাপ-আলোচনা ও কথা কাটাকাটির পর আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু) একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন, “আপনারা যে সমস্ত শ্রেষ্ঠত্ব ও যোগ্যতার কথা উল্লেখ করেছেন, সত্যিকারার্থেই আপনারা তার উপযুক্ত। কিন্তু আরবরা প্রশাসনিক ব্যাপারে কুরাইশদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী বলে জানে। কুরাইশের বাইরের কোনও শাসককে তারা মেনে নেবে না। বংশ-পরিবারের দিক দিয়েও কুরাইশরা অন্যদের চেয়ে সেরা।”
তারপর উমর এবং আবু উবাইদার হাত ধরে আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, “আমি আপনাদের জন্য এই দু'জনের মধ্যে যেকোনও একজনকে খলীফা হিসেবে পছন্দ করছি।"
একজন আনসার বলেন, “আমাদের মধ্য থেকে একজন, আর আপনাদের মধ্য থেকে একজন আমির হলে কেমন হয়?” আবারও শুরু হতে থাকে শোরগোল। উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) হঠাৎ করে আবূ বকরকে হাত বাড়িয়ে দিতে বলেন। আবু বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু) হাত বাড়িয়ে দেন। অতঃপর উমর, মুহাজির এবং আনসার সবাই একে একে তাঁর হাতে হাত রেখে বাইআত গ্রহণ করেন। অবশেষে আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-ই নবিজির খলীফা হিসেবে নির্বাচিত হন।
📄 দাফন-কাফন
মঙ্গলবার রাসূল -এর পবিত্র দেহ কাপড় পরিহিত অবস্থাতেই ধুয়ে দেন আব্বাস, আলি, আব্বাসের দুই ছেলে ফাদল ও কুসাম, নবিজি -এর মুক্ত করা দাস শুকরান, উসামা ইবনু যাইদ এবং আওস ইবনু খাওলা (রদিয়াল্লাহু আনহুম)। আব্বাস ও তার ছেলেরা নবিজির দেহ এপাশ-ওপাশ করান। উসামা ও শুকরান পানি ঢালেন। আলি হাত দিয়ে শরীর ধৌত করেন। আর আওস তুলে ধরে রাখতে সাহায্য করেন নবিজির দেহ। পানি ও বরইপাতা দিয়ে তিনবার ধোয়া হয় নবিজির শরীর। কুবায় সা'দ ইবনু খাইসামার একটি কুয়া ছিল 'গারস' নামে। সেখান থেকেই আনা হয় পানি। জীবদ্দশায় নবি এখান থেকে পানি পান করতেন।
গোসলের পর তিনটি ইয়েমেনি সুতি কাপড় দিয়ে তাঁর পবিত্র দেহে কাফন পরানো হয়। তাতে জামা এবং পাগড়ি ছিল না। চাদরে তাঁর শরীর মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। আয়িশা (রদিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘরে ঠিক যে জায়গায় নবি ইন্তিকাল করেন, সেখানেই কবর খোঁড়েন আবূ তালহা (রদিয়াল্লাহু আনহু)। কবরটি ছিল লাহদ, যার পাশে কুলুঙ্গির মতো থাকে। নবিজি -কে খাটিয়ায় শোয়ানো হয়। সাহাবিরা দশজন দশজন করে এসে ইমাম ছাড়া একাকী সালাতে জানাযা আদায় করেন। প্রথমে নবিজির পরিবারের সদস্যরা, তারপর মুহাজিরগণ, তারপর আনসারগণ, তারপর নারী ও শিশুরা। মঙ্গলবার সারাদিন এবং বুধবারের রাতের বেশির ভাগ সময় জুড়ে চলতে থাকে জানাযার সালাত আদায়। বুধবার গভীর রাতে সমাধিস্থ হন আল্লাহর রাসূল।
টিকাঃ
[৫৭৬] ইবনু মাজাহ, ১৬২৮।
[৫৭৭] ইবনু সা'দ, তবাকাতুল কুবরা, ২/২৭৭-২৮৮।
[৫৭৮] বুখারি, ১২৬৪; মুসলিম, ৯৪১।
[৫৭৯] মালিক, আল-মুওয়াত্তা, ১/২৩১; ইবনু সা'দ, ২/২৮৮-২৯২।
[৫৮০] আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৬/৬২, ২৭৪।