📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 সালাতে আবূ বকরের ইমামতি

📄 সালাতে আবূ বকরের ইমামতি


অসুস্থতা সত্ত্বেও এতদিন নবি সালাতে ইমামতি করে এসেছেন। কিন্তু ওই বৃহস্পতিবারে ইশার ওয়াক্তে ব্যতিক্রম ঘটে। ব্যথা কমাতে নবি চৌবাচ্চায় গোসল করে নেন। কিন্তু উঠে দাঁড়াতে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। জ্ঞান ফিরে আসার পর গোসল করেন আবারও। এ-রকম তিনবার ঘটে। শেষে তিনি আবূ বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে খবর পাঠান ইমামতি করার জন্য। এই ওয়াক্তের পর থেকে অবশিষ্ট দিনগুলোতে তিনিই ইমামতি করেন। নবিজি -এর জীবদ্দশায় এভাবে মোট সতেরো ওয়াক্ত সালাতের ইমামতি করেন আবূ বকর। শনিবারে কিংবা রবিবারে একটু ভালো বোধ করেন রাসূলুল্লাহ । যুহরের সালাতের জন্য দু'জনের কাঁধে ভর দিয়ে আসেন মাসজিদে। সে সময় আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু) ইমামতি করছিলেন। নবি গিয়ে তার বামদিকে বসে পড়েন। আবূ বকর নবিজির অনুসরণ করছিলেন আর অন্যান্যরা আবূ বকরের অনুসরণ করছিলেন। তিনিই জোরে জোরে তাকবীর বলে সবাইকে অবগত করছিলেন।

টিকাঃ
[৫৬০] বুখারি, ৬৮৭।
[৫৬১] বুখারি, ৬৮৭।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 নবিজির যা ছিল সব সদাকা

📄 নবিজির যা ছিল সব সদাকা


রবিবারে নবি তাঁর দাসদের মুক্ত করে দেন। সম্পদ বলতে বাকি ছিল মাত্র সাতটি দীনার। সদাকা করে দেন সেগুলোও। অস্ত্রশস্ত্রগুলো মুসলিম সেনাবাহিনীকে দিয়ে দেন। রাত হলে আয়িশা (রদিয়াল্লাহু আনহা) এক প্রতিবেশিনীর ঘরে তাঁর প্রদীপটি পাঠান। একটুখানি ঘি ঢেলে দিতে বলেন তাতে। যাতে প্রদীপটি জ্বালাতে পারেন। আর নবিজি -এর বর্মটি এক ইয়াহুদির কাছে বন্ধক ছিল ত্রিশ সা' (প্রায় ৬৬ কেজি) যবের বিনিময়ে।

টিকাঃ
[৫৬২] ইবনু সা'দ, তবাকাত, ২/২৩৭-২৩৯।
[৫৬৩] বুখারি, ২০১৬।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জীবনের শেষ দিন

📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জীবনের শেষ দিন


সোমবার। আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু) ফজরের সালাতের ইমামতি করছেন। রাসূলুল্লাহ আয়িশা (রদিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘরের ঘরের পর্দা তুলে সেদিকে তাকান। দেখতে পান সালাতরত সাহাবিদের। মুচকি হাসি ফুটে ওঠে মুখে। নবিজি এসে ইমামতি করবেন ভেবে আবূ বকর একটু পিছিয়ে আসেন। সেদিন নবিজি -এর চেহারায় যে খুশির ছটা দেখা যায়, তা দেখে সাহাবিরাও এত খুশি হয়েছিলেন যে, প্রায় সালাত ছেড়ে দিয়েই তাঁর নিকট চলে আসবেন। কিন্তু নবি হাতের ইশারায় তাদের আগে সালাত সম্পন্ন করে নিতে বলেন। এরপর তিনি ঘরের ভেতর চলে যান এবং পর্দা নামিয়ে দেন।
সেদিনই কিংবা সে সপ্তাহতেই নবি ফাতিমা (রদিয়াল্লাহু আনহা)-কে ডাকিয়ে আনেন। কানে কানে কিছু একটা বলেন তাকে। ফলে কান্নায় ভেঙে পড়েন ফাতিমা (রদিয়াল্লাহু আনহা)। একটু পর মেয়ের কানে নবি আরও কিছু একটা বলেন। এতে ফাতিমা এবার হেসে ওঠেন। আয়িশা (রদিয়াল্লাহু আনহা) সেদিন ফাতিমাকে ডেকে জানতে চেয়েছিলেন নবিজি কী বললেন। কিন্তু ফাতিমা বলেন যে, রাসূল সেটা গোপন রাখতে বলেছেন। নবিজি মারা যাওয়ার পর ফাতিমা (রদিয়াল্লাহু আনহা) প্রকাশ করেন কথাটি। প্রথমবার বলেছিলেন যে, এই রোগেই তাঁর মৃত্যু হবে। তা শুনে ফাতিমা (রদিয়াল্লাহু আনহা) কান্না করেন। পরেরবার বলেন যে, পরিবার-পরিজনদের মাঝে ফাতিমাই প্রথমে নবিজি -এর সাথে মিলিত হবে। ফলে তিনি হেসেছিলেন এই কথাটি শুনে। জান্নাতের নারীদের নেত্রী (সাইয়্যিদা) হবেন ফাতিমা (রদিয়াল্লাহু আনহা) এটিও বলে গেছেন রাসূল। মৃত্যুশয্যায় নবিজির ব্যথা দেখে ফাতিমা (রদিয়াল্লাহু আনহা) কেঁদে বললেন, "আহ! বাবার কী কষ্ট!” নবি উত্তর দেন, “এই দিনের পর তোমার বাবার আর কোনও কষ্ট হবে না!”
তারপর নবি ফাতিমার দুই ছেলে হাসান ও হুসাইন (রদিয়াল্লাহু আনহুমা)কে ডাকিয়ে আনেন। কাছে নিয়ে চুমু দেন তাদের এবং পাশে থাকা স্ত্রীদেরও কিছু নসীহত ও উপদেশ দেন। ব্যথা আস্তে আস্তে বাড়ছে। খাইবারে তাঁকে যে বিষ খাওয়ানো হয়েছে তার বিষক্রিয়া প্রকটভাবে প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। নবি যন্ত্রণায় একটি চাদর দিয়ে চেহারা ঢেকে রাখেন। শুধু শ্বাস নেওয়ার প্রয়োজনে তা সরান। এই অবস্থাতেও তিনি বলেন, “ইয়াহুদি-খ্রিষ্টানদের ওপর আল্লাহর লা'নত! তারা তাদের নবিদের কবরসমূহকে ইবাদাতখানা বানিয়েছে।” আরও বলেন, “আরবভূমিতে দুইটি দ্বীন বাকি রাখা হবে না।” সবশেষে বারকয়েক বলেন, “সালাত! সালাত! এবং তোমাদের দাস ও অধীনস্থরা।”

টিকাঃ
[৫৬৪] বুখারি, ৬৮০।
[৫৬৫] বুখারি, ৩৬২৩-৩৬২৬১
[৫৬৬] বুখারি, ৪৪৬২।
[৫৬৭] বুখারি, ৪৪৬৮।
[৫৬৮] বাইহাকি, আস-সুনানুল কুবরা, ৬/১৩৬।
[৫৬৯] ইবনু মাজাহ, ১৬২৫, আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৬/২৯০।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 মহানবির মহাপ্রয়াণ

📄 মহানবির মহাপ্রয়াণ


নবিজি -এর শক্তি নিঃশেষ হয়ে আসে। বুক ও গলার মাঝে তাঁকে ধরে রেখেছিলেন আয়িশা (রদিয়াল্লাহু আনহা)। ঠিক এমন সময় একটি মিসওয়াক হাতে নিয়ে ঘরে ঢোকেন আয়িশার ভাই আবদুর রহমান ইবনু আবী বকর (রদিয়াল্লাহু আনহুম)। নবিজিকে মিসওয়াকটির দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে আয়িশা জিজ্ঞেস করলেন এটি তাঁর লাগবে কি না। নবি মাথা নাড়েন। আয়িশা সেটি তার ভাইয়ের কাছ থেকে নিয়ে একটু চিবিয়ে নরম করে নবিজির কাছে দেন। রাসূল তা নিয়ে খুব ভালো করে মিসওয়াক করেন। নবি -এর কাছে রাখা এক পাত্রে পানি রাখা ছিল। সেখানে তিনি হাত ডুবিয়ে বারবার মুখ মুছতে থাকেন এবং বলতে থাকেন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ! নিশ্চয় মৃত্যুর সময় অনেক যন্ত্রণা আছে।”
তারপর দু-হাত অথবা তর্জনী উঁচিয়ে ছাদের দিকে দৃষ্টি রেখে তিনি নিচু স্বরে কিছু একটা বলেন। আয়িশা (রদিয়াল্লাহু আনহা) খুব কাছে থাকায় কান লাগিয়ে শুনতে পান সেটি। রাসূল বলছেন, “আল্লাহ যাদের নিয়ামাত দিয়েছেন, সে সকল নবী, সিদ্দীক, শহীদ এবং সালিহগণের সঙ্গ। হে আল্লাহ, ক্ষমা করে দিন, রহম করুন আমাকে। হে আল্লাহ, সুউচ্চ বন্ধুর কাছে।” শেষের এই কথাগুলো তিনবার বলেছেন তিনি। আর তা বলার পরপরই নবি তাঁর সুউচ্চ বন্ধুর সাথে গিয়ে মিলিত হন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন।
সেদিনটি ছিল সোমবার, ১২ই রবীউল আউয়াল, ১১ হিজরি। তখন রাসূলুল্লাহ এর বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর।

টিকাঃ
[৫৭০] বুখারি, ৪৪৪৯।
[৫৭১] বুখারি, ৪৪৩৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00