📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 নাজরানবাসীর প্রতিনিধিদল

📄 নাজরানবাসীর প্রতিনিধিদল


দক্ষিণ আরবের এক বিশাল এলাকা নাজরান। দ্রুতগামী ঘোড়াও এটি পার হতে একদিন লাগিয়ে ফেলবে। এখানকার তিয়াত্তরটি লোকালয়ের প্রতিরক্ষায় আছে ১ লক্ষ ২০ হাজার খ্রিষ্টান সেনা। নবি নাজরানের বিশপের কাছে চিঠি লিখে ইসলামের দাওয়াত দেন। উপদেষ্টাদের সাথে পরামর্শ করেন বিশপ। তারপর নবি-দাবিদার এই ব্যক্তিটি সম্পর্কে নাজরানের জনগণকে জানান।
অনেক আলোচনার পর ঠিক হয় যে, ষাট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হবে। মদীনায় এসে পৌঁছানো এই প্রতিনিধিদের পরনে ছিল মাটি ছেঁচড়ানো অলংকৃত রেশমি আলখাল্লা। আঙুলে ঝকমক করছিল স্বর্ণের আংটি।
এত জাঁকজমক সজ্জা দেখে নবি তাদের সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। সাহাবিরা নাজরানিদের পরামর্শ দেন এগুলো পাল্টে অনাড়ম্বর পোশাক পরে নিতে। নবিজির উপস্থিতিতে স্বর্ণ ব্যবহার করতেও নিষেধ করা হয়। তারা সে উপদেশ মোতাবেক কাজ করার পর নবি কথা বলতে সম্মত হন। ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি তাদের। তারা প্রত্যাখ্যান করে বলে যে, নবি তাঁর মিশন শুরু করার অনেক আগ থেকেই তারা 'মুসলিম' হয়ে আছে।
নবি নাজরানের প্রতিনিধিদের বলেন, "তোমাদের ইসলাম থেকে বিরত রাখছে তিনটি জিনিস-১. ক্রুশের পূজা, ২. শূকর ভক্ষণ, এবং ৩. আল্লাহর পুত্র আছে বলে দাবি করা।”
প্রতিনিধিদলটি নবিজি-কে চ্যালেঞ্জ করে, "ঈসা জন্মেছেন কোনও পিতা ছাড়া। তাঁর সমকক্ষ আর কে আছে?”
আয়াত নাযিল করে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা এর জবাব দেন,
“আল্লাহর কাছে ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের মতো। আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে। তারপর বলেছেন "হও” আর হয়ে গেছে। এটি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আগত সত্য। অতএব, সন্দেহ পোষণকারীদের দলভুক্ত হয়ো না। সত্য জানার পরও যদি কেউ তোমার সাথে ঈসার ব্যাপারে তর্ক করে, তাকে বলে দাও, 'এসো, আমরা আমাদের স্ত্রী-সন্তানসহ জড়ো হই। তারপর চলো আমরা মিলে আল্লাহর কাছে দুআ করি এবং তাদের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত করি, যারা মিথ্যাবাদী।'”
নবি প্রতিনিধিদলকে আয়াতগুলো তিলাওয়াত করে শোনান। আয়াতের নির্দেশনা অনুযায়ী চ্যালেঞ্জও করেন। প্রতিনিধিরা নিজেদের মাঝে আলোচনা করার সময় চায়। সিদ্ধান্তে আসে, “উনি যদি সত্যিই নবি হন, আর আমরা অভিসম্পাতের দুআ করি, তাহলে তো সবাই ধ্বংস হয়ে যাব।" তাই নির্দ্বিধায় জিয়ইয়া প্রদান করতে রাজি হয়ে ফিরে যায় তারা।
তারা সফর মাসে এক হাজার এবং রজব মাসে এক হাজার সেট করে কাপড় প্রদান করবে। বিনিময়ে নবি নাজরান ভূমিতে তাদের শান্তি, নিরাপত্তা ও ধর্মপালনের স্বাধীনতা দেন। শর্তের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একজন বিশ্বস্ত মুসলিমকে সাথে পাঠানোর অনুরোধ করে প্রতিনিধিরা। নবি আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে তাদের সাথে পাঠান। এ থেকে তাঁর নাম পড়ে যায় أَمِينُ هَذِهِ لْأُمَّةِ। অর্থাৎ 'এই উম্মাহর সবচেয়ে বিশ্বস্ত ব্যক্তি'। আবূ উবাইদার প্রভাবে দু'জন প্রতিনিধি ইসলামও গ্রহণ করেন মাঝপথে। এরপর ধীরে ধীরে ইসলাম নাজরানবাসীর অন্তর জয় করে নেয়। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে তারা সবাই মুসলমান হয়ে যায়।

টিকাঃ
[৫১৬] ফাতহুল বারি, ৮/৯৪।
[৫১৭] সূরা আল ইমরান, ৩: ৫৯-৬১।
[৫১৮] ফাতহুল বারি, ৮/৯৪-৯৫; যাদুল মাআদ, ৩/৩৮-৪১।

দক্ষিণ আরবের এক বিশাল এলাকা নাজরান। দ্রুতগামী ঘোড়াও এটি পার হতে একদিন লাগিয়ে ফেলবে। এখানকার তিয়াত্তরটি লোকালয়ের প্রতিরক্ষায় আছে ১ লক্ষ ২০ হাজার খ্রিষ্টান সেনা। নবি নাজরানের বিশপের কাছে চিঠি লিখে ইসলামের দাওয়াত দেন। উপদেষ্টাদের সাথে পরামর্শ করেন বিশপ। তারপর নবি-দাবিদার এই ব্যক্তিটি সম্পর্কে নাজরানের জনগণকে জানান।
অনেক আলোচনার পর ঠিক হয় যে, ষাট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হবে। মদীনায় এসে পৌঁছানো এই প্রতিনিধিদের পরনে ছিল মাটি ছেঁচড়ানো অলংকৃত রেশমি আলখাল্লা। আঙুলে ঝকমক করছিল স্বর্ণের আংটি।
এত জাঁকজমক সজ্জা দেখে নবি তাদের সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। সাহাবিরা নাজরানিদের পরামর্শ দেন এগুলো পাল্টে অনাড়ম্বর পোশাক পরে নিতে। নবিজির উপস্থিতিতে স্বর্ণ ব্যবহার করতেও নিষেধ করা হয়। তারা সে উপদেশ মোতাবেক কাজ করার পর নবি কথা বলতে সম্মত হন। ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি তাদের। তারা প্রত্যাখ্যান করে বলে যে, নবি তাঁর মিশন শুরু করার অনেক আগ থেকেই তারা 'মুসলিম' হয়ে আছে।
নবি নাজরানের প্রতিনিধিদের বলেন, "তোমাদের ইসলাম থেকে বিরত রাখছে তিনটি জিনিস-১. ক্রুশের পূজা, ২. শূকর ভক্ষণ, এবং ৩. আল্লাহর পুত্র আছে বলে দাবি করা।”
প্রতিনিধিদলটি নবিজি-কে চ্যালেঞ্জ করে, "ঈসা জন্মেছেন কোনও পিতা ছাড়া। তাঁর সমকক্ষ আর কে আছে?”
আয়াত নাযিল করে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা এর জবাব দেন,
“আল্লাহর কাছে ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের মতো। আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে। তারপর বলেছেন "হও” আর হয়ে গেছে। এটি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আগত সত্য। অতএব, সন্দেহ পোষণকারীদের দলভুক্ত হয়ো না। সত্য জানার পরও যদি কেউ তোমার সাথে ঈসার ব্যাপারে তর্ক করে, তাকে বলে দাও, 'এসো, আমরা আমাদের স্ত্রী-সন্তানসহ জড়ো হই। তারপর চলো আমরা মিলে আল্লাহর কাছে দুআ করি এবং তাদের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত করি, যারা মিথ্যাবাদী।'”
নবি প্রতিনিধিদলকে আয়াতগুলো তিলাওয়াত করে শোনান। আয়াতের নির্দেশনা অনুযায়ী চ্যালেঞ্জও করেন। প্রতিনিধিরা নিজেদের মাঝে আলোচনা করার সময় চায়। সিদ্ধান্তে আসে, “উনি যদি সত্যিই নবি হন, আর আমরা অভিসম্পাতের দুআ করি, তাহলে তো সবাই ধ্বংস হয়ে যাব।" তাই নির্দ্বিধায় জিয়ইয়া প্রদান করতে রাজি হয়ে ফিরে যায় তারা।
তারা সফর মাসে এক হাজার এবং রজব মাসে এক হাজার সেট করে কাপড় প্রদান করবে। বিনিময়ে নবি নাজরান ভূমিতে তাদের শান্তি, নিরাপত্তা ও ধর্মপালনের স্বাধীনতা দেন। শর্তের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একজন বিশ্বস্ত মুসলিমকে সাথে পাঠানোর অনুরোধ করে প্রতিনিধিরা। নবি আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে তাদের সাথে পাঠান। এ থেকে তাঁর নাম পড়ে যায় أَمِينُ هَذِهِ لْأُمَّةِ। অর্থাৎ 'এই উম্মাহর সবচেয়ে বিশ্বস্ত ব্যক্তি'। আবূ উবাইদার প্রভাবে দু'জন প্রতিনিধি ইসলামও গ্রহণ করেন মাঝপথে। এরপর ধীরে ধীরে ইসলাম নাজরানবাসীর অন্তর জয় করে নেয়। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে তারা সবাই মুসলমান হয়ে যায়।

টিকাঃ
[৫১৬] ফাতহুল বারি, ৮/৯৪।
[৫১৭] সূরা আল ইমরান, ৩: ৫৯-৬১।
[৫১৮] ফাতহুল বারি, ৮/৯৪-৯৫; যাদুল মাআদ, ৩/৩৮-৪১।

দক্ষিণ আরবের এক বিশাল এলাকা নাজরান। দ্রুতগামী ঘোড়াও এটি পার হতে একদিন লাগিয়ে ফেলবে। এখানকার তিয়াত্তরটি লোকালয়ের প্রতিরক্ষায় আছে ১ লক্ষ ২০ হাজার খ্রিষ্টান সেনা। নবি নাজরানের বিশপের কাছে চিঠি লিখে ইসলামের দাওয়াত দেন। উপদেষ্টাদের সাথে পরামর্শ করেন বিশপ। তারপর নবি-দাবিদার এই ব্যক্তিটি সম্পর্কে নাজরানের জনগণকে জানান।
অনেক আলোচনার পর ঠিক হয় যে, ষাট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হবে। মদীনায় এসে পৌঁছানো এই প্রতিনিধিদের পরনে ছিল মাটি ছেঁচড়ানো অলংকৃত রেশমি আলখাল্লা। আঙুলে ঝকমক করছিল স্বর্ণের আংটি।
এত জাঁকজমক সজ্জা দেখে নবি তাদের সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। সাহাবিরা নাজরানিদের পরামর্শ দেন এগুলো পাল্টে অনাড়ম্বর পোশাক পরে নিতে। নবিজির উপস্থিতিতে স্বর্ণ ব্যবহার করতেও নিষেধ করা হয়। তারা সে উপদেশ মোতাবেক কাজ করার পর নবি কথা বলতে সম্মত হন। ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি তাদের। তারা প্রত্যাখ্যান করে বলে যে, নবি তাঁর মিশন শুরু করার অনেক আগ থেকেই তারা 'মুসলিম' হয়ে আছে।
নবি নাজরানের প্রতিনিধিদের বলেন, "তোমাদের ইসলাম থেকে বিরত রাখছে তিনটি জিনিস-১. ক্রুশের পূজা, ২. শূকর ভক্ষণ, এবং ৩. আল্লাহর পুত্র আছে বলে দাবি করা।”
প্রতিনিধিদলটি নবিজি-কে চ্যালেঞ্জ করে, "ঈসা জন্মেছেন কোনও পিতা ছাড়া। তাঁর সমকক্ষ আর কে আছে?”
আয়াত নাযিল করে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা এর জবাব দেন,
“আল্লাহর কাছে ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের মতো। আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে। তারপর বলেছেন "হও” আর হয়ে গেছে। এটি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আগত সত্য। অতএব, সন্দেহ পোষণকারীদের দলভুক্ত হয়ো না। সত্য জানার পরও যদি কেউ তোমার সাথে ঈসার ব্যাপারে তর্ক করে, তাকে বলে দাও, 'এসো, আমরা আমাদের স্ত্রী-সন্তানসহ জড়ো হই। তারপর চলো আমরা মিলে আল্লাহর কাছে দুআ করি এবং তাদের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত করি, যারা মিথ্যাবাদী।'”
নবি প্রতিনিধিদলকে আয়াতগুলো তিলাওয়াত করে শোনান। আয়াতের নির্দেশনা অনুযায়ী চ্যালেঞ্জও করেন। প্রতিনিধিরা নিজেদের মাঝে আলোচনা করার সময় চায়। সিদ্ধান্তে আসে, “উনি যদি সত্যিই নবি হন, আর আমরা অভিসম্পাতের দুআ করি, তাহলে তো সবাই ধ্বংস হয়ে যাব।" তাই নির্দ্বিধায় জিয়ইয়া প্রদান করতে রাজি হয়ে ফিরে যায় তারা।
তারা সফর মাসে এক হাজার এবং রজব মাসে এক হাজার সেট করে কাপড় প্রদান করবে। বিনিময়ে নবি নাজরান ভূমিতে তাদের শান্তি, নিরাপত্তা ও ধর্মপালনের স্বাধীনতা দেন। শর্তের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একজন বিশ্বস্ত মুসলিমকে সাথে পাঠানোর অনুরোধ করে প্রতিনিধিরা। নবি আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে তাদের সাথে পাঠান। এ থেকে তাঁর নাম পড়ে যায় أَمِينُ هَذِهِ لْأُمَّةِ। অর্থাৎ 'এই উম্মাহর সবচেয়ে বিশ্বস্ত ব্যক্তি'। আবূ উবাইদার প্রভাবে দু'জন প্রতিনিধি ইসলামও গ্রহণ করেন মাঝপথে। এরপর ধীরে ধীরে ইসলাম নাজরানবাসীর অন্তর জয় করে নেয়। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে তারা সবাই মুসলমান হয়ে যায়।

টিকাঃ
[৫১৬] ফাতহুল বারি, ৮/৯৪।
[৫১৭] সূরা আল ইমরান, ৩: ৫৯-৬১।
[৫১৮] ফাতহুল বারি, ৮/৯৪-৯৫; যাদুল মাআদ, ৩/৩৮-৪১।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 তায়িফবাসীদের প্রতিনিধিদল

📄 তায়িফবাসীদের প্রতিনিধিদল


হুনাইনের যুদ্ধের পর তায়িফ নগরে অবরোধ আরোপ করেও লাভ হয়নি। নবি মদীনায় ফিরে আসার সময় পেছন পেছন ছুটে আসেন তায়িফের এক গোত্রপতি উরওয়া ইবনু মাসউদ সাকাফি। মুসলিম সেনাদল মদীনায় ঢোকার ঠিক আগ মুহূর্তে এসে তাদের নাগাল পান। নবিজির সাথে কথোপকথনের পর ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি। তারপর আত্মবিশ্বাসী মন নিয়ে ফিরে যান তায়িফে। তায়িফের জনগণ প্রায়ই তাকে বলে যে, নিজ পরিবারের চেয়েও তিনি তাদের বেশি প্রিয়। তাই ইসলামের ব্যাপারগুলো ব্যাখ্যা করে দিলে তারা অবশ্যই মেনে নেবে, এমনটাই ধরে নেন উরওয়া। কিন্তু তার ঈমানের ঘোষণা শুনে তায়িফবাসীরা তিরবর্ষণে শহীদ করে ফেলে তাকে।
পৌত্তলিকতার জযবা একটু থিতিয়ে আসার পর তায়িফবাসীরা ঠিকই বাস্তবসম্মত চিন্তা করতে শুরু করে। ইসলামের জোয়ারে যে বেশিদিন বাঁধ দিয়ে রাখা যাবে না, সে বোধোদয় হয় তাদের। চারপাশের গোত্রগুলোও একে একে মুসলিম হয়ে যাচ্ছে। তাই তারা নবিজি -এর সাথে আলাপ করার সিদ্ধান্ত নেয়। আবদু ইয়ালীলের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের এক প্রতিনিধিদল আসে মদীনায়। মাসজিদের এক কোণে নবি তাদের জন্য একটি তাঁবু খাটান। যাতে সেখানে অবস্থান করেই তারা কুরআন তিলাওয়াত শুনতে পায় এবং দেখতে পায় মুসলিমদের সালাত আদায়ের দৃশ্য।
কয়েক দফা বৈঠকে নবি অতিথিদের ইসলামের দাওয়াহ দেন। কিন্তু এটি তাদের জীবনব্যবস্থার একেবারেই বিপরীত। পরে দাবি করে যে, তারা কয়েকটি শর্তে মুসলিম হতে রাজি। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে পারবে না তারা। সেই সাথে ব্যভিচার, মদ এবং সুদও হারাম না করার অনুরোধ করে। আর তাদের প্রধান দেবী লাতের মূর্তিও যেন অক্ষত রাখা হয়।
স্বভাবতই রাসূল ﷺ সোজা “না” করে দেন এসব প্রস্তাবে। অবশেষে প্রতিনিধিদলটি নিঃশর্তভাবে ইসলাম গ্রহণ করতে রাজি হয়। তবে নিজ হাতে লাত মূর্তি ধ্বংস করতে পারবে না তারা—তাদের এই একটি অনুরোধ নবি মেনে নেন।
প্রতিনিধিদলের নবীনতম সদস্য উসমান ইবনু আবিল আস সাকাফি (রদিয়াল্লাহু আনহু)। তাকে সাধারণত তাঁবুতেই রাখা হতো। নবি ও আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে থাকতেই তিনি কুরআন শিক্ষা করতে থাকেন। স্বগোত্রীয়দের অজান্তে হিফয করে ফেলেন কুরআনের একটি বড় অংশ। বাকি সবাইকে অবাক করে দিয়ে উসমানকে ওই দলের ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার ইলম এবং কুরআনের প্রতি ভালোবাসার কারণেই নবি এ সম্মান দেন তাকে।
তায়িফে ফিরে গেলেও প্রতিনিধিরা স্বজাতির কাছে নিজেদের ইসলাম গ্রহণের কথা গোপন রাখেন। রাসূল-এর এক ভয়ংকর চিত্র তৈরি করে তাদের ভয় পাওয়ানোর চেষ্টা করেন, “কী আর বলব! এমন এক তেজি যোদ্ধার সাথে দেখা করে এলাম, যিনি তলোয়ার দিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। সবাই তাঁর বড়ত্ব মেনে নিয়েছে। আমাদের সাথে খুব নির্দয় আচরণ করে বললেন যে, ব্যভিচার-মদ-সুদ না ছাড়লে যুদ্ধ করে শেষ করে দেবেন আমাদের।"
প্রথম প্রথম তায়িফবাসীরা এই হুমকিতে ভয় না পাওয়ার চেষ্টা করে। নিজেদের মিথ্যে মর্যাদাবোধ রক্ষায় মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করতেও প্রস্তুত থাকার দাবি করে বসে। দুই-তিন দিন পর্যন্ত যুদ্ধের জন্য সাজ-সরঞ্জাম তৈরি করতে থাকে। কিন্তু ধীরে ধীরে মুসলিম বাহিনীর ব্যাপারে ভয় তাদের অন্তরকে গ্রাস করে ফেলে। প্রতিনিধিদের কাছে অনুরোধ করে আবারও মদীনায় গিয়ে নবিজি-এর আদেশে সম্মতি জানিয়ে আসতে। এবার প্রতিনিধিরা প্রকাশ করেন যে, ইতিমধ্যে তারা সেসবে সম্মতি দিয়ে মুসলিম হয়ে এসেছেন। ফলে হাঁপ ছেড়ে বাঁচে বানু সাকীফ। তারপর সবাই মুসলিম হয়ে যায়।
খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ, মুগীরা ইবনু শু’বা সাকাফি (রদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথে তায়েফের আরও কয়েকজন মুসলিমকে নবি প্রেরণ করেন লাত দেবীর মূর্তি ধ্বংস করতে। আক্ষরিক ও রূপক উভয় অর্থেই ধসে পড়ে তায়িফে শিরকের এই শেষ চিহ্নটি। এলাকাটি পরিণত হয় ইসলামি রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে।

টিকাঃ
[৫১৯] ইবনু হিশাম, আস-সীরাহ, ২/৫৩৭-৫৪২; ইবনুল কাইয়িম, যাদুল মাআদ, ৩/২৬-২৮।

হুনাইনের যুদ্ধের পর তায়িফ নগরে অবরোধ আরোপ করেও লাভ হয়নি। নবি মদীনায় ফিরে আসার সময় পেছন পেছন ছুটে আসেন তায়িফের এক গোত্রপতি উরওয়া ইবনু মাসউদ সাকাফি। মুসলিম সেনাদল মদীনায় ঢোকার ঠিক আগ মুহূর্তে এসে তাদের নাগাল পান। নবিজির সাথে কথোপকথনের পর ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি। তারপর আত্মবিশ্বাসী মন নিয়ে ফিরে যান তায়িফে। তায়িফের জনগণ প্রায়ই তাকে বলে যে, নিজ পরিবারের চেয়েও তিনি তাদের বেশি প্রিয়। তাই ইসলামের ব্যাপারগুলো ব্যাখ্যা করে দিলে তারা অবশ্যই মেনে নেবে, এমনটাই ধরে নেন উরওয়া। কিন্তু তার ঈমানের ঘোষণা শুনে তায়িফবাসীরা তিরবর্ষণে শহীদ করে ফেলে তাকে।
পৌত্তলিকতার জযবা একটু থিতিয়ে আসার পর তায়িফবাসীরা ঠিকই বাস্তবসম্মত চিন্তা করতে শুরু করে। ইসলামের জোয়ারে যে বেশিদিন বাঁধ দিয়ে রাখা যাবে না, সে বোধোদয় হয় তাদের। চারপাশের গোত্রগুলোও একে একে মুসলিম হয়ে যাচ্ছে। তাই তারা নবিজি -এর সাথে আলাপ করার সিদ্ধান্ত নেয়। আবদু ইয়ালীলের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের এক প্রতিনিধিদল আসে মদীনায়। মাসজিদের এক কোণে নবি তাদের জন্য একটি তাঁবু খাটান। যাতে সেখানে অবস্থান করেই তারা কুরআন তিলাওয়াত শুনতে পায় এবং দেখতে পায় মুসলিমদের সালাত আদায়ের দৃশ্য।
কয়েক দফা বৈঠকে নবি অতিথিদের ইসলামের দাওয়াহ দেন। কিন্তু এটি তাদের জীবনব্যবস্থার একেবারেই বিপরীত। পরে দাবি করে যে, তারা কয়েকটি শর্তে মুসলিম হতে রাজি। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে পারবে না তারা। সেই সাথে ব্যভিচার, মদ এবং সুদও হারাম না করার অনুরোধ করে। আর তাদের প্রধান দেবী লাতের মূর্তিও যেন অক্ষত রাখা হয়।
স্বভাবতই রাসূল ﷺ সোজা “না” করে দেন এসব প্রস্তাবে। অবশেষে প্রতিনিধিদলটি নিঃশর্তভাবে ইসলাম গ্রহণ করতে রাজি হয়। তবে নিজ হাতে লাত মূর্তি ধ্বংস করতে পারবে না তারা—তাদের এই একটি অনুরোধ নবি মেনে নেন।
প্রতিনিধিদলের নবীনতম সদস্য উসমান ইবনু আবিল আস সাকাফি (রদিয়াল্লাহু আনহু)। তাকে সাধারণত তাঁবুতেই রাখা হতো। নবি ও আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে থাকতেই তিনি কুরআন শিক্ষা করতে থাকেন। স্বগোত্রীয়দের অজান্তে হিফয করে ফেলেন কুরআনের একটি বড় অংশ। বাকি সবাইকে অবাক করে দিয়ে উসমানকে ওই দলের ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার ইলম এবং কুরআনের প্রতি ভালোবাসার কারণেই নবি এ সম্মান দেন তাকে।
তায়িফে ফিরে গেলেও প্রতিনিধিরা স্বজাতির কাছে নিজেদের ইসলাম গ্রহণের কথা গোপন রাখেন। রাসূল-এর এক ভয়ংকর চিত্র তৈরি করে তাদের ভয় পাওয়ানোর চেষ্টা করেন, “কী আর বলব! এমন এক তেজি যোদ্ধার সাথে দেখা করে এলাম, যিনি তলোয়ার দিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। সবাই তাঁর বড়ত্ব মেনে নিয়েছে। আমাদের সাথে খুব নির্দয় আচরণ করে বললেন যে, ব্যভিচার-মদ-সুদ না ছাড়লে যুদ্ধ করে শেষ করে দেবেন আমাদের।"
প্রথম প্রথম তায়িফবাসীরা এই হুমকিতে ভয় না পাওয়ার চেষ্টা করে। নিজেদের মিথ্যে মর্যাদাবোধ রক্ষায় মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করতেও প্রস্তুত থাকার দাবি করে বসে। দুই-তিন দিন পর্যন্ত যুদ্ধের জন্য সাজ-সরঞ্জাম তৈরি করতে থাকে। কিন্তু ধীরে ধীরে মুসলিম বাহিনীর ব্যাপারে ভয় তাদের অন্তরকে গ্রাস করে ফেলে। প্রতিনিধিদের কাছে অনুরোধ করে আবারও মদীনায় গিয়ে নবিজি-এর আদেশে সম্মতি জানিয়ে আসতে। এবার প্রতিনিধিরা প্রকাশ করেন যে, ইতিমধ্যে তারা সেসবে সম্মতি দিয়ে মুসলিম হয়ে এসেছেন। ফলে হাঁপ ছেড়ে বাঁচে বানু সাকীফ। তারপর সবাই মুসলিম হয়ে যায়।
খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ, মুগীরা ইবনু শু’বা সাকাফি (রদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথে তায়েফের আরও কয়েকজন মুসলিমকে নবি প্রেরণ করেন লাত দেবীর মূর্তি ধ্বংস করতে। আক্ষরিক ও রূপক উভয় অর্থেই ধসে পড়ে তায়িফে শিরকের এই শেষ চিহ্নটি। এলাকাটি পরিণত হয় ইসলামি রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে।

টিকাঃ
[৫১৯] ইবনু হিশাম, আস-সীরাহ, ২/৫৩৭-৫৪২; ইবনুল কাইয়িম, যাদুল মাআদ, ৩/২৬-২৮।

হুনাইনের যুদ্ধের পর তায়িফ নগরে অবরোধ আরোপ করেও লাভ হয়নি। নবি মদীনায় ফিরে আসার সময় পেছন পেছন ছুটে আসেন তায়িফের এক গোত্রপতি উরওয়া ইবনু মাসউদ সাকাফি। মুসলিম সেনাদল মদীনায় ঢোকার ঠিক আগ মুহূর্তে এসে তাদের নাগাল পান। নবিজির সাথে কথোপকথনের পর ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি। তারপর আত্মবিশ্বাসী মন নিয়ে ফিরে যান তায়িফে। তায়িফের জনগণ প্রায়ই তাকে বলে যে, নিজ পরিবারের চেয়েও তিনি তাদের বেশি প্রিয়। তাই ইসলামের ব্যাপারগুলো ব্যাখ্যা করে দিলে তারা অবশ্যই মেনে নেবে, এমনটাই ধরে নেন উরওয়া। কিন্তু তার ঈমানের ঘোষণা শুনে তায়িফবাসীরা তিরবর্ষণে শহীদ করে ফেলে তাকে।
পৌত্তলিকতার জযবা একটু থিতিয়ে আসার পর তায়িফবাসীরা ঠিকই বাস্তবসম্মত চিন্তা করতে শুরু করে। ইসলামের জোয়ারে যে বেশিদিন বাঁধ দিয়ে রাখা যাবে না, সে বোধোদয় হয় তাদের। চারপাশের গোত্রগুলোও একে একে মুসলিম হয়ে যাচ্ছে। তাই তারা নবিজি -এর সাথে আলাপ করার সিদ্ধান্ত নেয়। আবদু ইয়ালীলের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের এক প্রতিনিধিদল আসে মদীনায়। মাসজিদের এক কোণে নবি তাদের জন্য একটি তাঁবু খাটান। যাতে সেখানে অবস্থান করেই তারা কুরআন তিলাওয়াত শুনতে পায় এবং দেখতে পায় মুসলিমদের সালাত আদায়ের দৃশ্য।
কয়েক দফা বৈঠকে নবি অতিথিদের ইসলামের দাওয়াহ দেন। কিন্তু এটি তাদের জীবনব্যবস্থার একেবারেই বিপরীত। পরে দাবি করে যে, তারা কয়েকটি শর্তে মুসলিম হতে রাজি। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে পারবে না তারা। সেই সাথে ব্যভিচার, মদ এবং সুদও হারাম না করার অনুরোধ করে। আর তাদের প্রধান দেবী লাতের মূর্তিও যেন অক্ষত রাখা হয়।
স্বভাবতই রাসূল ﷺ সোজা “না” করে দেন এসব প্রস্তাবে। অবশেষে প্রতিনিধিদলটি নিঃশর্তভাবে ইসলাম গ্রহণ করতে রাজি হয়। তবে নিজ হাতে লাত মূর্তি ধ্বংস করতে পারবে না তারা—তাদের এই একটি অনুরোধ নবি মেনে নেন।
প্রতিনিধিদলের নবীনতম সদস্য উসমান ইবনু আবিল আস সাকাফি (রদিয়াল্লাহু আনহু)। তাকে সাধারণত তাঁবুতেই রাখা হতো। নবি ও আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে থাকতেই তিনি কুরআন শিক্ষা করতে থাকেন। স্বগোত্রীয়দের অজান্তে হিফয করে ফেলেন কুরআনের একটি বড় অংশ। বাকি সবাইকে অবাক করে দিয়ে উসমানকে ওই দলের ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার ইলম এবং কুরআনের প্রতি ভালোবাসার কারণেই নবি এ সম্মান দেন তাকে।
তায়িফে ফিরে গেলেও প্রতিনিধিরা স্বজাতির কাছে নিজেদের ইসলাম গ্রহণের কথা গোপন রাখেন। রাসূল-এর এক ভয়ংকর চিত্র তৈরি করে তাদের ভয় পাওয়ানোর চেষ্টা করেন, “কী আর বলব! এমন এক তেজি যোদ্ধার সাথে দেখা করে এলাম, যিনি তলোয়ার দিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। সবাই তাঁর বড়ত্ব মেনে নিয়েছে। আমাদের সাথে খুব নির্দয় আচরণ করে বললেন যে, ব্যভিচার-মদ-সুদ না ছাড়লে যুদ্ধ করে শেষ করে দেবেন আমাদের।"
প্রথম প্রথম তায়িফবাসীরা এই হুমকিতে ভয় না পাওয়ার চেষ্টা করে। নিজেদের মিথ্যে মর্যাদাবোধ রক্ষায় মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করতেও প্রস্তুত থাকার দাবি করে বসে। দুই-তিন দিন পর্যন্ত যুদ্ধের জন্য সাজ-সরঞ্জাম তৈরি করতে থাকে। কিন্তু ধীরে ধীরে মুসলিম বাহিনীর ব্যাপারে ভয় তাদের অন্তরকে গ্রাস করে ফেলে। প্রতিনিধিদের কাছে অনুরোধ করে আবারও মদীনায় গিয়ে নবিজি-এর আদেশে সম্মতি জানিয়ে আসতে। এবার প্রতিনিধিরা প্রকাশ করেন যে, ইতিমধ্যে তারা সেসবে সম্মতি দিয়ে মুসলিম হয়ে এসেছেন। ফলে হাঁপ ছেড়ে বাঁচে বানু সাকীফ। তারপর সবাই মুসলিম হয়ে যায়।
খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ, মুগীরা ইবনু শু’বা সাকাফি (রদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথে তায়েফের আরও কয়েকজন মুসলিমকে নবি প্রেরণ করেন লাত দেবীর মূর্তি ধ্বংস করতে। আক্ষরিক ও রূপক উভয় অর্থেই ধসে পড়ে তায়িফে শিরকের এই শেষ চিহ্নটি। এলাকাটি পরিণত হয় ইসলামি রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে।

টিকাঃ
[৫১৯] ইবনু হিশাম, আস-সীরাহ, ২/৫৩৭-৫৪২; ইবনুল কাইয়িম, যাদুল মাআদ, ৩/২৬-২৮।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 বানূ আমির ইবনি সা’সাআ গোত্রের প্রতিনিধিদল

📄 বানূ আমির ইবনি সা’সাআ গোত্রের প্রতিনিধিদল


বানু আমির ইবনি সা'সাআর প্রতিনিধিদলে ছিল আরবাদ ইবনু কাইস, জাব্বার ইবনু আসলাম এবং আমির ইবন তুফাইল। ভুলে গেলে চলবে না, আল্লাহর দুশমন এই আমির ইবনু তুফাইলই ছিল বি'রু মাউনার সেই গণহত্যার মূল হোতা। সে এবং আরবাদ এবার এখানে এসেছে সুযোগ বুঝে নবি -কে হত্যা করতে।
দলটি মদীনায় আসার পর নবি তাদের ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। দলের নেতা হিসেবে আমির উল্টো বলে, “আপনাকে তিনটির যেকোনও একটি বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দিচ্ছি।
১. আপনি উপত্যকাবাসীদের শাসক হবেন, আর আমি হব মরুবাসীদের শাসক।
২. অথবা আমাকে আপনার পরে শাসনভারের উত্তরাধিকারী বানিয়ে যাবেন।
৩. যদি দুটার একটাও না মানেন, তাহলে গতফানের এক হাজার ঘোড়া আর এক হাজার ঘুড়ি নিয়ে আপনার ওপর হামলা করব আমি।”
নবি প্রতিটি প্রস্তাবই নাকচ করে দিয়ে বলেন যে, “হে আল্লাহ, আমিরের বিরুদ্ধে আপনিই আমার পক্ষে যথেষ্ট হয়ে যান এবং তার জাতিকে হিদায়াত দান করুন।”
এদিকে পরিকল্পনামাফিক আরবাদ একটু একটু করে সরে নবি -এর পেছনে চলে যায়। আর আমির তাঁকে কথার মাধ্যমে ব্যস্ত রাখে। যেই না আরবাদ তরবারি বের করতে যাবে, অমনি সে খেয়াল করে তার হাত পক্ষাঘাতগ্রস্তের মতো নিশ্চল হয়ে গেছে। ব্যর্থমনোরথে ফিরে যায় নিকৃষ্ট দুই ষড়যন্ত্রকারী।
ফিরতি পথে আপন বংশ বানূ সালূলের এক নারীর বাসায় যাত্রাবিরতি করে আমির ইবনু তুফাইল। সেখানে সে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় আল্লাহ তাকে প্রচণ্ড অসুস্থ করে দেন। উটের কুঁজের মতো বড় একটি টিউমার তৈরি হয় তার গলায়। সে বলে উঠল, “উটের রোগ নিয়ে মারা যাব আমি! তাও কিনা এক মহিলার বাড়িতে! এ হতে পারে না। আমার ঘোড়া নিয়ে আসো!" তারপর সে ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হয় এবং সেখানে বসেই তার মৃত্যু হয়।
ওদিকে আমিরের সহযোগী আরবাদ ফিরছিল তার উটে চড়ে। হঠাৎ এক বজ্রাঘাতে সে ও তার উট একেবারে ছাইয়ে পরিণত হয়। আরবাদের এই পরিণতির ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা আয়াত নাযিল করেন,
“সভয়ে তাঁর প্রশংসা পাঠ করে বজ্র এবং সব ফেরেশতা। তিনি বজ্রপাত করেন, অতঃপর যাকে ইচ্ছা তাকে তা দ্বারা আঘাত করেন। তারপরও তারা আল্লাহর ব্যাপারে বিতণ্ডা করে অথচ তিনি মহাশক্তিশালী!”
আমির এবং আরবাদের মৃত্যুর খবর নবিজি -এর কাছে নিয়ে আসেন বানু আমিরের আরেক ব্যক্তি মাওইলা ইবনু জামিল (রদিয়াল্লাহু আনহু)। তিনিও বাকি দু'জনের সাথে মদীনা এসেছিলেন। পার্থক্য হলো, তিনি নবিজি -এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। নিজের উটটিও উপহার হিসেবে দিয়ে দেন নবিজিকে। সে সময় মাওইলার বয়স ছিল বিশ বছর। তিনি নবিজির হাতে বাইআতও গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে শতবর্ষ আয়ুপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিটি বাগ্মিতার কারণে “দুই জিহ্বাধারী” উপাধি পান।

টিকাঃ
[৫২০] বুখারি, ৪০৯১; ফাতহুল বারি, ৭/৪৪১।
[৫২১] বুখারি, ৪০৯১।
[৫২২] সূরা রাদ, ১৩: ১৩।

বানু আমির ইবনি সা'সাআর প্রতিনিধিদলে ছিল আরবাদ ইবনু কাইস, জাব্বার ইবনু আসলাম এবং আমির ইবন তুফাইল। ভুলে গেলে চলবে না, আল্লাহর দুশমন এই আমির ইবনু তুফাইলই ছিল বি'রু মাউনার সেই গণহত্যার মূল হোতা। সে এবং আরবাদ এবার এখানে এসেছে সুযোগ বুঝে নবি -কে হত্যা করতে।
দলটি মদীনায় আসার পর নবি তাদের ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। দলের নেতা হিসেবে আমির উল্টো বলে, “আপনাকে তিনটির যেকোনও একটি বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দিচ্ছি।
১. আপনি উপত্যকাবাসীদের শাসক হবেন, আর আমি হব মরুবাসীদের শাসক।
২. অথবা আমাকে আপনার পরে শাসনভারের উত্তরাধিকারী বানিয়ে যাবেন।
৩. যদি দুটার একটাও না মানেন, তাহলে গতফানের এক হাজার ঘোড়া আর এক হাজার ঘুড়ি নিয়ে আপনার ওপর হামলা করব আমি।”
নবি প্রতিটি প্রস্তাবই নাকচ করে দিয়ে বলেন যে, “হে আল্লাহ, আমিরের বিরুদ্ধে আপনিই আমার পক্ষে যথেষ্ট হয়ে যান এবং তার জাতিকে হিদায়াত দান করুন।”
এদিকে পরিকল্পনামাফিক আরবাদ একটু একটু করে সরে নবি -এর পেছনে চলে যায়। আর আমির তাঁকে কথার মাধ্যমে ব্যস্ত রাখে। যেই না আরবাদ তরবারি বের করতে যাবে, অমনি সে খেয়াল করে তার হাত পক্ষাঘাতগ্রস্তের মতো নিশ্চল হয়ে গেছে। ব্যর্থমনোরথে ফিরে যায় নিকৃষ্ট দুই ষড়যন্ত্রকারী।
ফিরতি পথে আপন বংশ বানূ সালূলের এক নারীর বাসায় যাত্রাবিরতি করে আমির ইবনু তুফাইল। সেখানে সে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় আল্লাহ তাকে প্রচণ্ড অসুস্থ করে দেন। উটের কুঁজের মতো বড় একটি টিউমার তৈরি হয় তার গলায়। সে বলে উঠল, “উটের রোগ নিয়ে মারা যাব আমি! তাও কিনা এক মহিলার বাড়িতে! এ হতে পারে না। আমার ঘোড়া নিয়ে আসো!" তারপর সে ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হয় এবং সেখানে বসেই তার মৃত্যু হয়।
ওদিকে আমিরের সহযোগী আরবাদ ফিরছিল তার উটে চড়ে। হঠাৎ এক বজ্রাঘাতে সে ও তার উট একেবারে ছাইয়ে পরিণত হয়। আরবাদের এই পরিণতির ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা আয়াত নাযিল করেন,
“সভয়ে তাঁর প্রশংসা পাঠ করে বজ্র এবং সব ফেরেশতা। তিনি বজ্রপাত করেন, অতঃপর যাকে ইচ্ছা তাকে তা দ্বারা আঘাত করেন। তারপরও তারা আল্লাহর ব্যাপারে বিতণ্ডা করে অথচ তিনি মহাশক্তিশালী!”
আমির এবং আরবাদের মৃত্যুর খবর নবিজি -এর কাছে নিয়ে আসেন বানু আমিরের আরেক ব্যক্তি মাওইলা ইবনু জামিল (রদিয়াল্লাহু আনহু)। তিনিও বাকি দু'জনের সাথে মদীনা এসেছিলেন। পার্থক্য হলো, তিনি নবিজি -এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। নিজের উটটিও উপহার হিসেবে দিয়ে দেন নবিজিকে। সে সময় মাওইলার বয়স ছিল বিশ বছর। তিনি নবিজির হাতে বাইআতও গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে শতবর্ষ আয়ুপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিটি বাগ্মিতার কারণে “দুই জিহ্বাধারী” উপাধি পান।

টিকাঃ
[৫২০] বুখারি, ৪০৯১; ফাতহুল বারি, ৭/৪৪১।
[৫২১] বুখারি, ৪০৯১।
[৫২২] সূরা রাদ, ১৩: ১৩।

বানু আমির ইবনি সা'সাআর প্রতিনিধিদলে ছিল আরবাদ ইবনু কাইস, জাব্বার ইবনু আসলাম এবং আমির ইবন তুফাইল। ভুলে গেলে চলবে না, আল্লাহর দুশমন এই আমির ইবনু তুফাইলই ছিল বি'রু মাউনার সেই গণহত্যার মূল হোতা। সে এবং আরবাদ এবার এখানে এসেছে সুযোগ বুঝে নবি -কে হত্যা করতে।
দলটি মদীনায় আসার পর নবি তাদের ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। দলের নেতা হিসেবে আমির উল্টো বলে, “আপনাকে তিনটির যেকোনও একটি বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দিচ্ছি।
১. আপনি উপত্যকাবাসীদের শাসক হবেন, আর আমি হব মরুবাসীদের শাসক।
২. অথবা আমাকে আপনার পরে শাসনভারের উত্তরাধিকারী বানিয়ে যাবেন।
৩. যদি দুটার একটাও না মানেন, তাহলে গতফানের এক হাজার ঘোড়া আর এক হাজার ঘুড়ি নিয়ে আপনার ওপর হামলা করব আমি।”
নবি প্রতিটি প্রস্তাবই নাকচ করে দিয়ে বলেন যে, “হে আল্লাহ, আমিরের বিরুদ্ধে আপনিই আমার পক্ষে যথেষ্ট হয়ে যান এবং তার জাতিকে হিদায়াত দান করুন।”
এদিকে পরিকল্পনামাফিক আরবাদ একটু একটু করে সরে নবি -এর পেছনে চলে যায়। আর আমির তাঁকে কথার মাধ্যমে ব্যস্ত রাখে। যেই না আরবাদ তরবারি বের করতে যাবে, অমনি সে খেয়াল করে তার হাত পক্ষাঘাতগ্রস্তের মতো নিশ্চল হয়ে গেছে। ব্যর্থমনোরথে ফিরে যায় নিকৃষ্ট দুই ষড়যন্ত্রকারী।
ফিরতি পথে আপন বংশ বানূ সালূলের এক নারীর বাসায় যাত্রাবিরতি করে আমির ইবনু তুফাইল। সেখানে সে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় আল্লাহ তাকে প্রচণ্ড অসুস্থ করে দেন। উটের কুঁজের মতো বড় একটি টিউমার তৈরি হয় তার গলায়। সে বলে উঠল, “উটের রোগ নিয়ে মারা যাব আমি! তাও কিনা এক মহিলার বাড়িতে! এ হতে পারে না। আমার ঘোড়া নিয়ে আসো!" তারপর সে ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হয় এবং সেখানে বসেই তার মৃত্যু হয়।
ওদিকে আমিরের সহযোগী আরবাদ ফিরছিল তার উটে চড়ে। হঠাৎ এক বজ্রাঘাতে সে ও তার উট একেবারে ছাইয়ে পরিণত হয়। আরবাদের এই পরিণতির ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা আয়াত নাযিল করেন,
“সভয়ে তাঁর প্রশংসা পাঠ করে বজ্র এবং সব ফেরেশতা। তিনি বজ্রপাত করেন, অতঃপর যাকে ইচ্ছা তাকে তা দ্বারা আঘাত করেন। তারপরও তারা আল্লাহর ব্যাপারে বিতণ্ডা করে অথচ তিনি মহাশক্তিশালী!”
আমির এবং আরবাদের মৃত্যুর খবর নবিজি -এর কাছে নিয়ে আসেন বানু আমিরের আরেক ব্যক্তি মাওইলা ইবনু জামিল (রদিয়াল্লাহু আনহু)। তিনিও বাকি দু'জনের সাথে মদীনা এসেছিলেন। পার্থক্য হলো, তিনি নবিজি -এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। নিজের উটটিও উপহার হিসেবে দিয়ে দেন নবিজিকে। সে সময় মাওইলার বয়স ছিল বিশ বছর। তিনি নবিজির হাতে বাইআতও গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে শতবর্ষ আয়ুপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিটি বাগ্মিতার কারণে “দুই জিহ্বাধারী” উপাধি পান।

টিকাঃ
[৫২০] বুখারি, ৪০৯১; ফাতহুল বারি, ৭/৪৪১।
[৫২১] বুখারি, ৪০৯১।
[৫২২] সূরা রাদ, ১৩: ১৩।

বানু আমির ইবনি সা'সাআর প্রতিনিধিদলে ছিল আরবাদ ইবনু কাইস, জাব্বার ইবনু আসলাম এবং আমির ইবন তুফাইল। ভুলে গেলে চলবে না, আল্লাহর দুশমন এই আমির ইবনু তুফাইলই ছিল বি'রু মাউনার সেই গণহত্যার মূল হোতা। সে এবং আরবাদ এবার এখানে এসেছে সুযোগ বুঝে নবি -কে হত্যা করতে।
দলটি মদীনায় আসার পর নবি তাদের ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। দলের নেতা হিসেবে আমির উল্টো বলে, “আপনাকে তিনটির যেকোনও একটি বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দিচ্ছি।
১. আপনি উপত্যকাবাসীদের শাসক হবেন, আর আমি হব মরুবাসীদের শাসক।
২. অথবা আমাকে আপনার পরে শাসনভারের উত্তরাধিকারী বানিয়ে যাবেন।
৩. যদি দুটার একটাও না মানেন, তাহলে গতফানের এক হাজার ঘোড়া আর এক হাজার ঘুড়ি নিয়ে আপনার ওপর হামলা করব আমি।”
নবি প্রতিটি প্রস্তাবই নাকচ করে দিয়ে বলেন যে, “হে আল্লাহ, আমিরের বিরুদ্ধে আপনিই আমার পক্ষে যথেষ্ট হয়ে যান এবং তার জাতিকে হিদায়াত দান করুন।”
এদিকে পরিকল্পনামাফিক আরবাদ একটু একটু করে সরে নবি -এর পেছনে চলে যায়। আর আমির তাঁকে কথার মাধ্যমে ব্যস্ত রাখে। যেই না আরবাদ তরবারি বের করতে যাবে, অমনি সে খেয়াল করে তার হাত পক্ষাঘাতগ্রস্তের মতো নিশ্চল হয়ে গেছে। ব্যর্থমনোরথে ফিরে যায় নিকৃষ্ট দুই ষড়যন্ত্রকারী।
ফিরতি পথে আপন বংশ বানূ সালূলের এক নারীর বাসায় যাত্রাবিরতি করে আমির ইবনু তুফাইল। সেখানে সে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় আল্লাহ তাকে প্রচণ্ড অসুস্থ করে দেন। উটের কুঁজের মতো বড় একটি টিউমার তৈরি হয় তার গলায়। সে বলে উঠল, “উটের রোগ নিয়ে মারা যাব আমি! তাও কিনা এক মহিলার বাড়িতে! এ হতে পারে না। আমার ঘোড়া নিয়ে আসো!" তারপর সে ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হয় এবং সেখানে বসেই তার মৃত্যু হয়।
ওদিকে আমিরের সহযোগী আরবাদ ফিরছিল তার উটে চড়ে। হঠাৎ এক বজ্রাঘাতে সে ও তার উট একেবারে ছাইয়ে পরিণত হয়। আরবাদের এই পরিণতির ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা আয়াত নাযিল করেন,
“সভয়ে তাঁর প্রশংসা পাঠ করে বজ্র এবং সব ফেরেশতা। তিনি বজ্রপাত করেন, অতঃপর যাকে ইচ্ছা তাকে তা দ্বারা আঘাত করেন। তারপরও তারা আল্লাহর ব্যাপারে বিতণ্ডা করে অথচ তিনি মহাশক্তিশালী!”
আমির এবং আরবাদের মৃত্যুর খবর নবিজি -এর কাছে নিয়ে আসেন বানু আমিরের আরেক ব্যক্তি মাওইলা ইবনু জামিল (রদিয়াল্লাহু আনহু)। তিনিও বাকি দু'জনের সাথে মদীনা এসেছিলেন। পার্থক্য হলো, তিনি নবিজি -এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। নিজের উটটিও উপহার হিসেবে দিয়ে দেন নবিজিকে। সে সময় মাওইলার বয়স ছিল বিশ বছর। তিনি নবিজির হাতে বাইআতও গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে শতবর্ষ আয়ুপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিটি বাগ্মিতার কারণে “দুই জিহ্বাধারী” উপাধি পান।

টিকাঃ
[৫২০] বুখারি, ৪০৯১; ফাতহুল বারি, ৭/৪৪১।
[৫২১] বুখারি, ৪০৯১।
[৫২২] সূরা রাদ, ১৩: ১৩।

বানু আমির ইবনি সা'সাআর প্রতিনিধিদলে ছিল আরবাদ ইবনু কাইস, জাব্বার ইবনু আসলাম এবং আমির ইবন তুফাইল। ভুলে গেলে চলবে না, আল্লাহর দুশমন এই আমির ইবনু তুফাইলই ছিল বি'রু মাউনার সেই গণহত্যার মূল হোতা। সে এবং আরবাদ এবার এখানে এসেছে সুযোগ বুঝে নবি -কে হত্যা করতে।
দলটি মদীনায় আসার পর নবি তাদের ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। দলের নেতা হিসেবে আমির উল্টো বলে, “আপনাকে তিনটির যেকোনও একটি বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দিচ্ছি।
১. আপনি উপত্যকাবাসীদের শাসক হবেন, আর আমি হব মরুবাসীদের শাসক।
২. অথবা আমাকে আপনার পরে শাসনভারের উত্তরাধিকারী বানিয়ে যাবেন।
৩. যদি দুটার একটাও না মানেন, তাহলে গতফানের এক হাজার ঘোড়া আর এক হাজার ঘুড়ি নিয়ে আপনার ওপর হামলা করব আমি।”
নবি প্রতিটি প্রস্তাবই নাকচ করে দিয়ে বলেন যে, “হে আল্লাহ, আমিরের বিরুদ্ধে আপনিই আমার পক্ষে যথেষ্ট হয়ে যান এবং তার জাতিকে হিদায়াত দান করুন।”
এদিকে পরিকল্পনামাফিক আরবাদ একটু একটু করে সরে নবি -এর পেছনে চলে যায়। আর আমির তাঁকে কথার মাধ্যমে ব্যস্ত রাখে। যেই না আরবাদ তরবারি বের করতে যাবে, অমনি সে খেয়াল করে তার হাত পক্ষাঘাতগ্রস্তের মতো নিশ্চল হয়ে গেছে। ব্যর্থমনোরথে ফিরে যায় নিকৃষ্ট দুই ষড়যন্ত্রকারী।
ফিরতি পথে আপন বংশ বানূ সালূলের এক নারীর বাসায় যাত্রাবিরতি করে আমির ইবনু তুফাইল। সেখানে সে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় আল্লাহ তাকে প্রচণ্ড অসুস্থ করে দেন। উটের কুঁজের মতো বড় একটি টিউমার তৈরি হয় তার গলায়। সে বলে উঠল, “উটের রোগ নিয়ে মারা যাব আমি! তাও কিনা এক মহিলার বাড়িতে! এ হতে পারে না। আমার ঘোড়া নিয়ে আসো!" তারপর সে ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হয় এবং সেখানে বসেই তার মৃত্যু হয়।
ওদিকে আমিরের সহযোগী আরবাদ ফিরছিল তার উটে চড়ে। হঠাৎ এক বজ্রাঘাতে সে ও তার উট একেবারে ছাইয়ে পরিণত হয়। আরবাদের এই পরিণতির ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা আয়াত নাযিল করেন,
“সভয়ে তাঁর প্রশংসা পাঠ করে বজ্র এবং সব ফেরেশতা। তিনি বজ্রপাত করেন, অতঃপর যাকে ইচ্ছা তাকে তা দ্বারা আঘাত করেন। তারপরও তারা আল্লাহর ব্যাপারে বিতণ্ডা করে অথচ তিনি মহাশক্তিশালী!”
আমির এবং আরবাদের মৃত্যুর খবর নবিজি -এর কাছে নিয়ে আসেন বানু আমিরের আরেক ব্যক্তি মাওইলা ইবনু জামিল (রদিয়াল্লাহু আনহু)। তিনিও বাকি দু'জনের সাথে মদীনা এসেছিলেন। পার্থক্য হলো, তিনি নবিজি -এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। নিজের উটটিও উপহার হিসেবে দিয়ে দেন নবিজিকে। সে সময় মাওইলার বয়স ছিল বিশ বছর। তিনি নবিজির হাতে বাইআতও গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে শতবর্ষ আয়ুপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিটি বাগ্মিতার কারণে “দুই জিহ্বাধারী” উপাধি পান।

টিকাঃ
[৫২০] বুখারি, ৪০৯১; ফাতহুল বারি, ৭/৪৪১।
[৫২১] বুখারি, ৪০৯১।
[৫২২] সূরা রাদ, ১৩: ১৩।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 বানূ হানীফা গোত্রের প্রতিনিধিদল

📄 বানূ হানীফা গোত্রের প্রতিনিধিদল


বানূ হানীফাও নবম হিজরিতেই সাক্ষাতে আসে। সতেরো সদস্যের দলটি মদীনায় এসে রাসূলুল্লাহ -এর হাতে মুসলিম হন। নবি-দাবিদার কুখ্যাত মিথ্যুক মুসাইলিমাও সেখানে ছিল। তবে সে-ও অন্যদের সাথে ইসলাম গ্রহণ করেছিল, নাকি নবিজির সাথে দেখা না করে তাঁবুতেই বসে ছিল-এ নিয়ে মতপার্থক্য আছে। কিছু সূত্রে এমনও উল্লেখ করা হয় যে, ইসলাম গ্রহণের বিনিময়ে সে নবি -এর উত্তরাধিকারী হওয়ার বায়না ধরে।
এই প্রতিনিধিদলটি আসার আগে নবি একটি স্বপ্ন দেখেন। দেখেন যে, তাঁর কাছে অনেক ধনসম্পদ নিয়ে আসা হয়েছে। সেখান থেকে স্বর্ণের দুটি বালা এনে নবি -এর দু-হাতে পরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রচণ্ড ব্যথা লাগতে থাকে তাঁর হাতে। আদেশ করা হয় বালা দুটিতে ফুঁ দিতে। তিনি ফুৎকার দিতেই বালা দুটো খুলে পড়ে যায়। নবি সাহাবিদের বলেন যে, বালা দুটো তাঁর পরে আসন্ন দু'জন মিথ্যে নবি দাবিদারের প্রতীক।
সাহাবি সাবিদ ইবনু কাইস (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে একবার হাঁটছিলেন রাসূল । এমন সময় দেখা হয় প্রথম মিথ্যকের সাথে। মুসাইলিমা কাযযাব। সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে এসে দাম্ভিক ভঙ্গিতে মুসাইলিমা বলে, "চাইলে আপনি রাষ্ট্রপ্রধান থাকতে পারেন। তবে আমাকে আপনার খলীফা বানিয়ে যেতে হবে।”
নবি -এর হাতে ছোট একটি খেজুরের থোকা ছিল। সেটি দেখিয়ে তিনি বলেন, “যদি এটিও চাও আমি তোমাকে তাও দেবো না। আল্লাহর ফায়সালা থেকে তো পালাতে পারবে না। যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তাহলে আল্লাহ তোমায় ধ্বংস করে দেবেন। আল্লাহর শপথ! তোমাকে নিয়ে আমি স্বপ্নে যা দেখার তা দেখেছি। ইনি সাবিত ইবনু কাইস। আমার পক্ষ থেকে ইনিই তোমার জবাব দেবেন। তারপর নবি ফিরে আসেন।”
প্রতিনিধিদল ফিরে আসার পর মুসাইলিমা কিছুদিন চুপচাপ থাকে। তারপর হঠাৎ একদিন ঘোষণা করে বসে যে, রাসূল -এর সাথে নুবুওয়াতের ব্যাপারে তাকেও শরীক করা হয়েছে। ফলে নিজেকেও ওহিপ্রাপ্ত নবি দাবি করে নিজ জাতির জন্য মদ ও ব্যভিচার হালাল ঘোষণা করে সে। তার কারণে অনেক ফিতনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তার জাতিকে। এমনকি নবি জীবিত থাকতেই তাদের অনেকে মুসাইলিমার মিথ্যে মতাদর্শ গ্রহণ করে নেয়।
রাসূল -এর মৃত্যুর সময়ও মুসাইলিমার কর্মকাণ্ড চলমান ছিল। খলীফা আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু) নিজ শাসনামলে তাকে চূড়ান্ত শাস্তি দেন। খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নেতৃত্বে একটি বাহিনীকে পাঠান মুসাইলিমা-বাহিনীকে শেষ করে দিয়ে আসতে। প্রচণ্ড যুদ্ধ বেঁধে যায় উভয় পক্ষের মাঝে। অতীত জীবনে হামযা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে হত্যা করে কুখ্যাতি কুড়ানো ওয়াহশি ইবনু হারব (রদিয়াল্লাহু আনহু) এখন এক মুসলিম মুজাহিদ। আল্লাহর রহমতে তিনিই এবার লাভ করেন ভণ্ড নবিকে হত্যা করার সুউচ্চ মর্যাদা।

টিকাঃ
[৫২৩] বুখারি, ৪৩৭৩।

বানূ হানীফাও নবম হিজরিতেই সাক্ষাতে আসে। সতেরো সদস্যের দলটি মদীনায় এসে রাসূলুল্লাহ -এর হাতে মুসলিম হন। নবি-দাবিদার কুখ্যাত মিথ্যুক মুসাইলিমাও সেখানে ছিল। তবে সে-ও অন্যদের সাথে ইসলাম গ্রহণ করেছিল, নাকি নবিজির সাথে দেখা না করে তাঁবুতেই বসে ছিল-এ নিয়ে মতপার্থক্য আছে। কিছু সূত্রে এমনও উল্লেখ করা হয় যে, ইসলাম গ্রহণের বিনিময়ে সে নবি -এর উত্তরাধিকারী হওয়ার বায়না ধরে।
এই প্রতিনিধিদলটি আসার আগে নবি একটি স্বপ্ন দেখেন। দেখেন যে, তাঁর কাছে অনেক ধনসম্পদ নিয়ে আসা হয়েছে। সেখান থেকে স্বর্ণের দুটি বালা এনে নবি -এর দু-হাতে পরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রচণ্ড ব্যথা লাগতে থাকে তাঁর হাতে। আদেশ করা হয় বালা দুটিতে ফুঁ দিতে। তিনি ফুৎকার দিতেই বালা দুটো খুলে পড়ে যায়। নবি সাহাবিদের বলেন যে, বালা দুটো তাঁর পরে আসন্ন দু'জন মিথ্যে নবি দাবিদারের প্রতীক।
সাহাবি সাবিদ ইবনু কাইস (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে একবার হাঁটছিলেন রাসূল । এমন সময় দেখা হয় প্রথম মিথ্যকের সাথে। মুসাইলিমা কাযযাব। সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে এসে দাম্ভিক ভঙ্গিতে মুসাইলিমা বলে, "চাইলে আপনি রাষ্ট্রপ্রধান থাকতে পারেন। তবে আমাকে আপনার খলীফা বানিয়ে যেতে হবে।”
নবি -এর হাতে ছোট একটি খেজুরের থোকা ছিল। সেটি দেখিয়ে তিনি বলেন, “যদি এটিও চাও আমি তোমাকে তাও দেবো না। আল্লাহর ফায়সালা থেকে তো পালাতে পারবে না। যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তাহলে আল্লাহ তোমায় ধ্বংস করে দেবেন। আল্লাহর শপথ! তোমাকে নিয়ে আমি স্বপ্নে যা দেখার তা দেখেছি। ইনি সাবিত ইবনু কাইস। আমার পক্ষ থেকে ইনিই তোমার জবাব দেবেন। তারপর নবি ফিরে আসেন।”
প্রতিনিধিদল ফিরে আসার পর মুসাইলিমা কিছুদিন চুপচাপ থাকে। তারপর হঠাৎ একদিন ঘোষণা করে বসে যে, রাসূল -এর সাথে নুবুওয়াতের ব্যাপারে তাকেও শরীক করা হয়েছে। ফলে নিজেকেও ওহিপ্রাপ্ত নবি দাবি করে নিজ জাতির জন্য মদ ও ব্যভিচার হালাল ঘোষণা করে সে। তার কারণে অনেক ফিতনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তার জাতিকে। এমনকি নবি জীবিত থাকতেই তাদের অনেকে মুসাইলিমার মিথ্যে মতাদর্শ গ্রহণ করে নেয়।
রাসূল -এর মৃত্যুর সময়ও মুসাইলিমার কর্মকাণ্ড চলমান ছিল। খলীফা আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু) নিজ শাসনামলে তাকে চূড়ান্ত শাস্তি দেন। খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নেতৃত্বে একটি বাহিনীকে পাঠান মুসাইলিমা-বাহিনীকে শেষ করে দিয়ে আসতে। প্রচণ্ড যুদ্ধ বেঁধে যায় উভয় পক্ষের মাঝে। অতীত জীবনে হামযা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে হত্যা করে কুখ্যাতি কুড়ানো ওয়াহশি ইবনু হারব (রদিয়াল্লাহু আনহু) এখন এক মুসলিম মুজাহিদ। আল্লাহর রহমতে তিনিই এবার লাভ করেন ভণ্ড নবিকে হত্যা করার সুউচ্চ মর্যাদা।

টিকাঃ
[৫২৩] বুখারি, ৪৩৭৩।

বানূ হানীফাও নবম হিজরিতেই সাক্ষাতে আসে। সতেরো সদস্যের দলটি মদীনায় এসে রাসূলুল্লাহ -এর হাতে মুসলিম হন। নবি-দাবিদার কুখ্যাত মিথ্যুক মুসাইলিমাও সেখানে ছিল। তবে সে-ও অন্যদের সাথে ইসলাম গ্রহণ করেছিল, নাকি নবিজির সাথে দেখা না করে তাঁবুতেই বসে ছিল-এ নিয়ে মতপার্থক্য আছে। কিছু সূত্রে এমনও উল্লেখ করা হয় যে, ইসলাম গ্রহণের বিনিময়ে সে নবি -এর উত্তরাধিকারী হওয়ার বায়না ধরে।
এই প্রতিনিধিদলটি আসার আগে নবি একটি স্বপ্ন দেখেন। দেখেন যে, তাঁর কাছে অনেক ধনসম্পদ নিয়ে আসা হয়েছে। সেখান থেকে স্বর্ণের দুটি বালা এনে নবি -এর দু-হাতে পরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রচণ্ড ব্যথা লাগতে থাকে তাঁর হাতে। আদেশ করা হয় বালা দুটিতে ফুঁ দিতে। তিনি ফুৎকার দিতেই বালা দুটো খুলে পড়ে যায়। নবি সাহাবিদের বলেন যে, বালা দুটো তাঁর পরে আসন্ন দু'জন মিথ্যে নবি দাবিদারের প্রতীক।
সাহাবি সাবিদ ইবনু কাইস (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে একবার হাঁটছিলেন রাসূল । এমন সময় দেখা হয় প্রথম মিথ্যকের সাথে। মুসাইলিমা কাযযাব। সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে এসে দাম্ভিক ভঙ্গিতে মুসাইলিমা বলে, "চাইলে আপনি রাষ্ট্রপ্রধান থাকতে পারেন। তবে আমাকে আপনার খলীফা বানিয়ে যেতে হবে।”
নবি -এর হাতে ছোট একটি খেজুরের থোকা ছিল। সেটি দেখিয়ে তিনি বলেন, “যদি এটিও চাও আমি তোমাকে তাও দেবো না। আল্লাহর ফায়সালা থেকে তো পালাতে পারবে না। যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তাহলে আল্লাহ তোমায় ধ্বংস করে দেবেন। আল্লাহর শপথ! তোমাকে নিয়ে আমি স্বপ্নে যা দেখার তা দেখেছি। ইনি সাবিত ইবনু কাইস। আমার পক্ষ থেকে ইনিই তোমার জবাব দেবেন। তারপর নবি ফিরে আসেন।”
প্রতিনিধিদল ফিরে আসার পর মুসাইলিমা কিছুদিন চুপচাপ থাকে। তারপর হঠাৎ একদিন ঘোষণা করে বসে যে, রাসূল -এর সাথে নুবুওয়াতের ব্যাপারে তাকেও শরীক করা হয়েছে। ফলে নিজেকেও ওহিপ্রাপ্ত নবি দাবি করে নিজ জাতির জন্য মদ ও ব্যভিচার হালাল ঘোষণা করে সে। তার কারণে অনেক ফিতনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তার জাতিকে। এমনকি নবি জীবিত থাকতেই তাদের অনেকে মুসাইলিমার মিথ্যে মতাদর্শ গ্রহণ করে নেয়।
রাসূল -এর মৃত্যুর সময়ও মুসাইলিমার কর্মকাণ্ড চলমান ছিল। খলীফা আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু) নিজ শাসনামলে তাকে চূড়ান্ত শাস্তি দেন। খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নেতৃত্বে একটি বাহিনীকে পাঠান মুসাইলিমা-বাহিনীকে শেষ করে দিয়ে আসতে। প্রচণ্ড যুদ্ধ বেঁধে যায় উভয় পক্ষের মাঝে। অতীত জীবনে হামযা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে হত্যা করে কুখ্যাতি কুড়ানো ওয়াহশি ইবনু হারব (রদিয়াল্লাহু আনহু) এখন এক মুসলিম মুজাহিদ। আল্লাহর রহমতে তিনিই এবার লাভ করেন ভণ্ড নবিকে হত্যা করার সুউচ্চ মর্যাদা।

টিকাঃ
[৫২৩] বুখারি, ৪৩৭৩।

বানূ হানীফাও নবম হিজরিতেই সাক্ষাতে আসে। সতেরো সদস্যের দলটি মদীনায় এসে রাসূলুল্লাহ -এর হাতে মুসলিম হন। নবি-দাবিদার কুখ্যাত মিথ্যুক মুসাইলিমাও সেখানে ছিল। তবে সে-ও অন্যদের সাথে ইসলাম গ্রহণ করেছিল, নাকি নবিজির সাথে দেখা না করে তাঁবুতেই বসে ছিল-এ নিয়ে মতপার্থক্য আছে। কিছু সূত্রে এমনও উল্লেখ করা হয় যে, ইসলাম গ্রহণের বিনিময়ে সে নবি -এর উত্তরাধিকারী হওয়ার বায়না ধরে।
এই প্রতিনিধিদলটি আসার আগে নবি একটি স্বপ্ন দেখেন। দেখেন যে, তাঁর কাছে অনেক ধনসম্পদ নিয়ে আসা হয়েছে। সেখান থেকে স্বর্ণের দুটি বালা এনে নবি -এর দু-হাতে পরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রচণ্ড ব্যথা লাগতে থাকে তাঁর হাতে। আদেশ করা হয় বালা দুটিতে ফুঁ দিতে। তিনি ফুৎকার দিতেই বালা দুটো খুলে পড়ে যায়। নবি সাহাবিদের বলেন যে, বালা দুটো তাঁর পরে আসন্ন দু'জন মিথ্যে নবি দাবিদারের প্রতীক।
সাহাবি সাবিদ ইবনু কাইস (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে একবার হাঁটছিলেন রাসূল । এমন সময় দেখা হয় প্রথম মিথ্যকের সাথে। মুসাইলিমা কাযযাব। সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে এসে দাম্ভিক ভঙ্গিতে মুসাইলিমা বলে, "চাইলে আপনি রাষ্ট্রপ্রধান থাকতে পারেন। তবে আমাকে আপনার খলীফা বানিয়ে যেতে হবে।”
নবি -এর হাতে ছোট একটি খেজুরের থোকা ছিল। সেটি দেখিয়ে তিনি বলেন, “যদি এটিও চাও আমি তোমাকে তাও দেবো না। আল্লাহর ফায়সালা থেকে তো পালাতে পারবে না। যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তাহলে আল্লাহ তোমায় ধ্বংস করে দেবেন। আল্লাহর শপথ! তোমাকে নিয়ে আমি স্বপ্নে যা দেখার তা দেখেছি। ইনি সাবিত ইবনু কাইস। আমার পক্ষ থেকে ইনিই তোমার জবাব দেবেন। তারপর নবি ফিরে আসেন।”
প্রতিনিধিদল ফিরে আসার পর মুসাইলিমা কিছুদিন চুপচাপ থাকে। তারপর হঠাৎ একদিন ঘোষণা করে বসে যে, রাসূল -এর সাথে নুবুওয়াতের ব্যাপারে তাকেও শরীক করা হয়েছে। ফলে নিজেকেও ওহিপ্রাপ্ত নবি দাবি করে নিজ জাতির জন্য মদ ও ব্যভিচার হালাল ঘোষণা করে সে। তার কারণে অনেক ফিতনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তার জাতিকে। এমনকি নবি জীবিত থাকতেই তাদের অনেকে মুসাইলিমার মিথ্যে মতাদর্শ গ্রহণ করে নেয়।
রাসূল -এর মৃত্যুর সময়ও মুসাইলিমার কর্মকাণ্ড চলমান ছিল। খলীফা আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু) নিজ শাসনামলে তাকে চূড়ান্ত শাস্তি দেন। খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নেতৃত্বে একটি বাহিনীকে পাঠান মুসাইলিমা-বাহিনীকে শেষ করে দিয়ে আসতে। প্রচণ্ড যুদ্ধ বেঁধে যায় উভয় পক্ষের মাঝে। অতীত জীবনে হামযা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে হত্যা করে কুখ্যাতি কুড়ানো ওয়াহশি ইবনু হারব (রদিয়াল্লাহু আনহু) এখন এক মুসলিম মুজাহিদ। আল্লাহর রহমতে তিনিই এবার লাভ করেন ভণ্ড নবিকে হত্যা করার সুউচ্চ মর্যাদা।

টিকাঃ
[৫২৩] বুখারি, ৪৩৭৩।

বানূ হানীফাও নবম হিজরিতেই সাক্ষাতে আসে। সতেরো সদস্যের দলটি মদীনায় এসে রাসূলুল্লাহ -এর হাতে মুসলিম হন। নবি-দাবিদার কুখ্যাত মিথ্যুক মুসাইলিমাও সেখানে ছিল। তবে সে-ও অন্যদের সাথে ইসলাম গ্রহণ করেছিল, নাকি নবিজির সাথে দেখা না করে তাঁবুতেই বসে ছিল-এ নিয়ে মতপার্থক্য আছে। কিছু সূত্রে এমনও উল্লেখ করা হয় যে, ইসলাম গ্রহণের বিনিময়ে সে নবি -এর উত্তরাধিকারী হওয়ার বায়না ধরে।
এই প্রতিনিধিদলটি আসার আগে নবি একটি স্বপ্ন দেখেন। দেখেন যে, তাঁর কাছে অনেক ধনসম্পদ নিয়ে আসা হয়েছে। সেখান থেকে স্বর্ণের দুটি বালা এনে নবি -এর দু-হাতে পরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রচণ্ড ব্যথা লাগতে থাকে তাঁর হাতে। আদেশ করা হয় বালা দুটিতে ফুঁ দিতে। তিনি ফুৎকার দিতেই বালা দুটো খুলে পড়ে যায়। নবি সাহাবিদের বলেন যে, বালা দুটো তাঁর পরে আসন্ন দু'জন মিথ্যে নবি দাবিদারের প্রতীক।
সাহাবি সাবিদ ইবনু কাইস (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে একবার হাঁটছিলেন রাসূল । এমন সময় দেখা হয় প্রথম মিথ্যকের সাথে। মুসাইলিমা কাযযাব। সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে এসে দাম্ভিক ভঙ্গিতে মুসাইলিমা বলে, "চাইলে আপনি রাষ্ট্রপ্রধান থাকতে পারেন। তবে আমাকে আপনার খলীফা বানিয়ে যেতে হবে।”
নবি -এর হাতে ছোট একটি খেজুরের থোকা ছিল। সেটি দেখিয়ে তিনি বলেন, “যদি এটিও চাও আমি তোমাকে তাও দেবো না। আল্লাহর ফায়সালা থেকে তো পালাতে পারবে না। যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তাহলে আল্লাহ তোমায় ধ্বংস করে দেবেন। আল্লাহর শপথ! তোমাকে নিয়ে আমি স্বপ্নে যা দেখার তা দেখেছি। ইনি সাবিত ইবনু কাইস। আমার পক্ষ থেকে ইনিই তোমার জবাব দেবেন। তারপর নবি ফিরে আসেন।”
প্রতিনিধিদল ফিরে আসার পর মুসাইলিমা কিছুদিন চুপচাপ থাকে। তারপর হঠাৎ একদিন ঘোষণা করে বসে যে, রাসূল -এর সাথে নুবুওয়াতের ব্যাপারে তাকেও শরীক করা হয়েছে। ফলে নিজেকেও ওহিপ্রাপ্ত নবি দাবি করে নিজ জাতির জন্য মদ ও ব্যভিচার হালাল ঘোষণা করে সে। তার কারণে অনেক ফিতনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তার জাতিকে। এমনকি নবি জীবিত থাকতেই তাদের অনেকে মুসাইলিমার মিথ্যে মতাদর্শ গ্রহণ করে নেয়।
রাসূল -এর মৃত্যুর সময়ও মুসাইলিমার কর্মকাণ্ড চলমান ছিল। খলীফা আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু) নিজ শাসনামলে তাকে চূড়ান্ত শাস্তি দেন। খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নেতৃত্বে একটি বাহিনীকে পাঠান মুসাইলিমা-বাহিনীকে শেষ করে দিয়ে আসতে। প্রচণ্ড যুদ্ধ বেঁধে যায় উভয় পক্ষের মাঝে। অতীত জীবনে হামযা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে হত্যা করে কুখ্যাতি কুড়ানো ওয়াহশি ইবনু হারব (রদিয়াল্লাহু আনহু) এখন এক মুসলিম মুজাহিদ। আল্লাহর রহমতে তিনিই এবার লাভ করেন ভণ্ড নবিকে হত্যা করার সুউচ্চ মর্যাদা।

টিকাঃ
[৫২৩] বুখারি, ৪৩৭৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00