📄 বানূ আসাদ ইবনি খুযাইমা গোত্রের প্রতিনিধিদল
নবম হিজরির শুরুর দিকে বানু আসাদ ইবনি খুযাইমার একটি দল নবিজি -এর সাক্ষাতে আসে। এসে মাসজিদের ভেতর কয়েকজন সাহাবির সাথে বসা দেখতে পায় নবিজিকে। সবাই সালাম প্রদানের পর তাদের মুখপাত্র বলেন,
“হে আল্লাহর রাসূল, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ এক। তাঁর কোনও অংশীদার বা সমকক্ষ নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি তাঁর দাস ও বার্তাবাহক। হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমাদের কাছে কোনও দূত পাঠানো ছাড়াই আমরা ইসলাম গ্রহণ করছি। অন্যান্য গোত্রের মতো আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধও করিনি। নিজ জাতির পক্ষ থেকে শান্তির বার্তা নিয়ে এসেছি আমরা।”
এ দাবির প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা আয়াত নাযিল করেন,
"তারা ভেবেছে ইসলাম গ্রহণ করে তারা আপনার ওপর অনুগ্রহ করে ফেলেছে। বলে দিন, 'তোমরা মুসলিম হয়ে আমাকে করুণা করোনি; বরং আল্লাহই তোমাদের ঈমানের দিকে হিদায়াত দিয়ে বিরাট করুণা করেছেন। যদি তোমরা সত্যনিষ্ঠ হয়ে থাকো।”
এরপর প্রতিনিধিদলটি ভাগ্যগণনা, জ্যোতিষশাস্ত্র চর্চা করা এবং পাখির ওড়ার পথ দেখে সুলক্ষণ-কুলক্ষণ নির্ধারণ করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে। নবি জানিয়ে দেন যে, এগুলো সব শরীআতে নিষিদ্ধ, করা যাবে না। লক্ষণের অর্থ বের করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে নবি বলেন, “এক নবি ছিলেন, যিনি এটা পারতেন। তোমাদের জ্ঞান ওই নবির সমান হলে করতে পারো।” মোটকথা, ভবিষ্যৎ নির্ণয়ের যেকোনও চেষ্টা ইসলামে হারাম। আরও কিছুদিন মদীনায় অবস্থান করে ইসলামের মৌলিক বিষয়াদি শিখে নেয় দলটি।
টিকাঃ
[৫১৪] সূরা হুজুরাত, ৪৯ : ১৭।
নবম হিজরির শুরুর দিকে বানু আসাদ ইবনি খুযাইমার একটি দল নবিজি -এর সাক্ষাতে আসে। এসে মাসজিদের ভেতর কয়েকজন সাহাবির সাথে বসা দেখতে পায় নবিজিকে। সবাই সালাম প্রদানের পর তাদের মুখপাত্র বলেন,
“হে আল্লাহর রাসূল, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ এক। তাঁর কোনও অংশীদার বা সমকক্ষ নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি তাঁর দাস ও বার্তাবাহক। হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমাদের কাছে কোনও দূত পাঠানো ছাড়াই আমরা ইসলাম গ্রহণ করছি। অন্যান্য গোত্রের মতো আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধও করিনি। নিজ জাতির পক্ষ থেকে শান্তির বার্তা নিয়ে এসেছি আমরা।”
এ দাবির প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা আয়াত নাযিল করেন,
"তারা ভেবেছে ইসলাম গ্রহণ করে তারা আপনার ওপর অনুগ্রহ করে ফেলেছে। বলে দিন, 'তোমরা মুসলিম হয়ে আমাকে করুণা করোনি; বরং আল্লাহই তোমাদের ঈমানের দিকে হিদায়াত দিয়ে বিরাট করুণা করেছেন। যদি তোমরা সত্যনিষ্ঠ হয়ে থাকো।”
এরপর প্রতিনিধিদলটি ভাগ্যগণনা, জ্যোতিষশাস্ত্র চর্চা করা এবং পাখির ওড়ার পথ দেখে সুলক্ষণ-কুলক্ষণ নির্ধারণ করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে। নবি জানিয়ে দেন যে, এগুলো সব শরীআতে নিষিদ্ধ, করা যাবে না। লক্ষণের অর্থ বের করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে নবি বলেন, “এক নবি ছিলেন, যিনি এটা পারতেন। তোমাদের জ্ঞান ওই নবির সমান হলে করতে পারো।” মোটকথা, ভবিষ্যৎ নির্ণয়ের যেকোনও চেষ্টা ইসলামে হারাম। আরও কিছুদিন মদীনায় অবস্থান করে ইসলামের মৌলিক বিষয়াদি শিখে নেয় দলটি।
টিকাঃ
[৫১৪] সূরা হুজুরাত, ৪৯ : ১৭।
নবম হিজরির শুরুর দিকে বানু আসাদ ইবনি খুযাইমার একটি দল নবিজি -এর সাক্ষাতে আসে। এসে মাসজিদের ভেতর কয়েকজন সাহাবির সাথে বসা দেখতে পায় নবিজিকে। সবাই সালাম প্রদানের পর তাদের মুখপাত্র বলেন,
“হে আল্লাহর রাসূল, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ এক। তাঁর কোনও অংশীদার বা সমকক্ষ নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি তাঁর দাস ও বার্তাবাহক। হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমাদের কাছে কোনও দূত পাঠানো ছাড়াই আমরা ইসলাম গ্রহণ করছি। অন্যান্য গোত্রের মতো আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধও করিনি। নিজ জাতির পক্ষ থেকে শান্তির বার্তা নিয়ে এসেছি আমরা।”
এ দাবির প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা আয়াত নাযিল করেন,
"তারা ভেবেছে ইসলাম গ্রহণ করে তারা আপনার ওপর অনুগ্রহ করে ফেলেছে। বলে দিন, 'তোমরা মুসলিম হয়ে আমাকে করুণা করোনি; বরং আল্লাহই তোমাদের ঈমানের দিকে হিদায়াত দিয়ে বিরাট করুণা করেছেন। যদি তোমরা সত্যনিষ্ঠ হয়ে থাকো।”
এরপর প্রতিনিধিদলটি ভাগ্যগণনা, জ্যোতিষশাস্ত্র চর্চা করা এবং পাখির ওড়ার পথ দেখে সুলক্ষণ-কুলক্ষণ নির্ধারণ করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে। নবি জানিয়ে দেন যে, এগুলো সব শরীআতে নিষিদ্ধ, করা যাবে না। লক্ষণের অর্থ বের করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে নবি বলেন, “এক নবি ছিলেন, যিনি এটা পারতেন। তোমাদের জ্ঞান ওই নবির সমান হলে করতে পারো।” মোটকথা, ভবিষ্যৎ নির্ণয়ের যেকোনও চেষ্টা ইসলামে হারাম। আরও কিছুদিন মদীনায় অবস্থান করে ইসলামের মৌলিক বিষয়াদি শিখে নেয় দলটি।
টিকাঃ
[৫১৪] সূরা হুজুরাত, ৪৯ : ১৭।
📄 তুজীব গোত্রের প্রতিনিধিদল
কিন্দা গোত্রের একটি শাখা তুজীব। তারা আগেই ইসলাম গ্রহণ করেছে। যাকাত বণ্টনের পর বেঁচে যাওয়া কিছু টাকা তারা সাথে করে নিয়ে আসে, যাতে অন্যান্য অভাবী মুসলিমদের সাহায্য করা যায়। নবি এতে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং তাদের বেশ সম্মান করেন।
সপ্রশংস দৃষ্টিতে প্রতিনিধিদলটির দিকে তাকিয়ে আবূ বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মন্তব্য করেন, "আমাদের নিকট আরবের এদের চেয়ে উত্তম কোনও প্রতিনিধিদল আসেনি।"
প্রত্যুত্তরে নবি বলেন, "হিদায়াত আল্লাহর হাতে। সুতরাং তিনি যার কল্যাণের ইচ্ছা করেন তার বক্ষকে ঈমানের জন্য অবারিত করে দেন।”
তুজীব সদস্যরা ইসলাম শেখার ব্যাপারে প্রচুর আগ্রহ প্রকাশ করেন। কুরআন-সুন্নাহ হিফয করার ব্যাপারেও তাদের তৎপরতা দেখা যায়। বিদায়বেলায় নবি তাদের অনেক উপঢৌকন দেন। জিজ্ঞেস করেন যে, কেউ বাদ পড়ে গেছে কি না। তারা জানায় যে, শিবিরে একটি বালককে রেখে এসেছেন তারা। যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে কমবয়েসি। নবি বলেন, “ওকেও পাঠিয়ে দাও।”
দলটি ফিরে গিয়ে সেই ছেলেকে নবিজি -এর কথা বলে। ছেলেটি এসে জানায়, “ইয়া রাসুলাল্লাহ, একটু আগে যেই গোত্রটি এসেছিল, আমিও তাদের সদস্য। আপনি তাদের তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়েছেন। এবার আমাকেও আমার প্রয়োজনীয় জিনিসটি দিন।”
রাসূলুল্লাহ জিজ্ঞাসা করলেন, “কী চাও তুমি?”
“আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন তিনি আমাকে মাফ করে দেন, আমাকে রহম করেন এবং আমার হৃদয় প্রাচুর্যে ভরে দেন।” নবি ছেলেটির জন্য দুআ করেন। স্বগোত্রীয়দের চেয়ে সন্তুষ্টতর মন নিয়ে ফিরে যায় সে। পরে আবূ বকর (রাদিয়াল্লাহ আনহু)-এর শাসনামলে যখন ধর্মত্যাগের ফিতনা ছড়িয়ে পড়ে, তখন এই ছেলেটি নিজে তো ঈমান ও ইসলামের ওপর অটল ছিলই, অন্যদেরও আহ্বান করে গেছে মুসলিম থাকার ব্যাপারে।
কিন্দা গোত্রের একটি শাখা তুজীব। তারা আগেই ইসলাম গ্রহণ করেছে। যাকাত বণ্টনের পর বেঁচে যাওয়া কিছু টাকা তারা সাথে করে নিয়ে আসে, যাতে অন্যান্য অভাবী মুসলিমদের সাহায্য করা যায়। নবি এতে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং তাদের বেশ সম্মান করেন।
সপ্রশংস দৃষ্টিতে প্রতিনিধিদলটির দিকে তাকিয়ে আবূ বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মন্তব্য করেন, "আমাদের নিকট আরবের এদের চেয়ে উত্তম কোনও প্রতিনিধিদল আসেনি।"
প্রত্যুত্তরে নবি বলেন, "হিদায়াত আল্লাহর হাতে। সুতরাং তিনি যার কল্যাণের ইচ্ছা করেন তার বক্ষকে ঈমানের জন্য অবারিত করে দেন।”
তুজীব সদস্যরা ইসলাম শেখার ব্যাপারে প্রচুর আগ্রহ প্রকাশ করেন। কুরআন-সুন্নাহ হিফয করার ব্যাপারেও তাদের তৎপরতা দেখা যায়। বিদায়বেলায় নবি তাদের অনেক উপঢৌকন দেন। জিজ্ঞেস করেন যে, কেউ বাদ পড়ে গেছে কি না। তারা জানায় যে, শিবিরে একটি বালককে রেখে এসেছেন তারা। যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে কমবয়েসি। নবি বলেন, “ওকেও পাঠিয়ে দাও।”
দলটি ফিরে গিয়ে সেই ছেলেকে নবিজি -এর কথা বলে। ছেলেটি এসে জানায়, “ইয়া রাসুলাল্লাহ, একটু আগে যেই গোত্রটি এসেছিল, আমিও তাদের সদস্য। আপনি তাদের তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়েছেন। এবার আমাকেও আমার প্রয়োজনীয় জিনিসটি দিন।”
রাসূলুল্লাহ জিজ্ঞাসা করলেন, “কী চাও তুমি?”
“আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন তিনি আমাকে মাফ করে দেন, আমাকে রহম করেন এবং আমার হৃদয় প্রাচুর্যে ভরে দেন।” নবি ছেলেটির জন্য দুআ করেন। স্বগোত্রীয়দের চেয়ে সন্তুষ্টতর মন নিয়ে ফিরে যায় সে। পরে আবূ বকর (রাদিয়াল্লাহ আনহু)-এর শাসনামলে যখন ধর্মত্যাগের ফিতনা ছড়িয়ে পড়ে, তখন এই ছেলেটি নিজে তো ঈমান ও ইসলামের ওপর অটল ছিলই, অন্যদেরও আহ্বান করে গেছে মুসলিম থাকার ব্যাপারে।
কিন্দা গোত্রের একটি শাখা তুজীব। তারা আগেই ইসলাম গ্রহণ করেছে। যাকাত বণ্টনের পর বেঁচে যাওয়া কিছু টাকা তারা সাথে করে নিয়ে আসে, যাতে অন্যান্য অভাবী মুসলিমদের সাহায্য করা যায়। নবি এতে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং তাদের বেশ সম্মান করেন।
সপ্রশংস দৃষ্টিতে প্রতিনিধিদলটির দিকে তাকিয়ে আবূ বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মন্তব্য করেন, "আমাদের নিকট আরবের এদের চেয়ে উত্তম কোনও প্রতিনিধিদল আসেনি।"
প্রত্যুত্তরে নবি বলেন, "হিদায়াত আল্লাহর হাতে। সুতরাং তিনি যার কল্যাণের ইচ্ছা করেন তার বক্ষকে ঈমানের জন্য অবারিত করে দেন।”
তুজীব সদস্যরা ইসলাম শেখার ব্যাপারে প্রচুর আগ্রহ প্রকাশ করেন। কুরআন-সুন্নাহ হিফয করার ব্যাপারেও তাদের তৎপরতা দেখা যায়। বিদায়বেলায় নবি তাদের অনেক উপঢৌকন দেন। জিজ্ঞেস করেন যে, কেউ বাদ পড়ে গেছে কি না। তারা জানায় যে, শিবিরে একটি বালককে রেখে এসেছেন তারা। যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে কমবয়েসি। নবি বলেন, “ওকেও পাঠিয়ে দাও।”
দলটি ফিরে গিয়ে সেই ছেলেকে নবিজি -এর কথা বলে। ছেলেটি এসে জানায়, “ইয়া রাসুলাল্লাহ, একটু আগে যেই গোত্রটি এসেছিল, আমিও তাদের সদস্য। আপনি তাদের তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়েছেন। এবার আমাকেও আমার প্রয়োজনীয় জিনিসটি দিন।”
রাসূলুল্লাহ জিজ্ঞাসা করলেন, “কী চাও তুমি?”
“আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন তিনি আমাকে মাফ করে দেন, আমাকে রহম করেন এবং আমার হৃদয় প্রাচুর্যে ভরে দেন।” নবি ছেলেটির জন্য দুআ করেন। স্বগোত্রীয়দের চেয়ে সন্তুষ্টতর মন নিয়ে ফিরে যায় সে। পরে আবূ বকর (রাদিয়াল্লাহ আনহু)-এর শাসনামলে যখন ধর্মত্যাগের ফিতনা ছড়িয়ে পড়ে, তখন এই ছেলেটি নিজে তো ঈমান ও ইসলামের ওপর অটল ছিলই, অন্যদেরও আহ্বান করে গেছে মুসলিম থাকার ব্যাপারে।
📄 বানূ ফাযারা গোত্রের প্রতিনিধিদল
বানু ফাযারা থেকে বিশ জনেরও বেশি সদস্যবিশিষ্ট একটি দল আসে। নবি তাবুক থেকে ফিরে আসার পর সাক্ষাৎ করে তারা। তারাও মুসলমান হয়েছে। তাদের এলাকায় চলছিল ভয়াবহ খরা। নবিজি -এর সাহায্যের জন্য তাই তারা উদগ্রীব ছিল।
তারা নবিজি -কে বললেন, "আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন আমাদের গ্রামে বৃষ্টি পাঠান। আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন, আপনার রবও যেন আপনার কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করেন।”
নবি বললেন, “সুবহানাল্লাহ! তোমাদের জন্য আফসোস! এ কী বলছ তোমরা! হ্যাঁ, অবশ্যই আমি আল্লাহর কাছে সুপারিশ করব। কিন্তু আল্লাহর কী প্রয়োজন কারও কাছে সুপারিশ করার? আল্লাহ ছাড়া কোনও উপাস্য নেই। তিনি সুউচ্চ, সুমহান। তাঁর কুরসি সমগ্র আসমান-জমীনে ব্যাপ্ত। তাঁর মহিমা ও প্রতাপের কারণে সেগুলো উটের পিঠে নতুন হাওদার মতো আওয়াজ করে কাঁপতে থাকে।”
এই নসীহত করে নবি মিম্বরে উঠে দাঁড়ান। বানু ফাযারার দুর্ভোগ দূর হওয়ার দুআ করেন। আল্লাহ তাআলা নবিজির এ দুআ কবুল করে তাদের ভূমিতে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করেন।
টিকাঃ
[৫১৫] যাদুল মাআদ, ৩/৪৮।
বানু ফাযারা থেকে বিশ জনেরও বেশি সদস্যবিশিষ্ট একটি দল আসে। নবি তাবুক থেকে ফিরে আসার পর সাক্ষাৎ করে তারা। তারাও মুসলমান হয়েছে। তাদের এলাকায় চলছিল ভয়াবহ খরা। নবিজি -এর সাহায্যের জন্য তাই তারা উদগ্রীব ছিল।
তারা নবিজি -কে বললেন, "আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন আমাদের গ্রামে বৃষ্টি পাঠান। আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন, আপনার রবও যেন আপনার কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করেন।”
নবি বললেন, “সুবহানাল্লাহ! তোমাদের জন্য আফসোস! এ কী বলছ তোমরা! হ্যাঁ, অবশ্যই আমি আল্লাহর কাছে সুপারিশ করব। কিন্তু আল্লাহর কী প্রয়োজন কারও কাছে সুপারিশ করার? আল্লাহ ছাড়া কোনও উপাস্য নেই। তিনি সুউচ্চ, সুমহান। তাঁর কুরসি সমগ্র আসমান-জমীনে ব্যাপ্ত। তাঁর মহিমা ও প্রতাপের কারণে সেগুলো উটের পিঠে নতুন হাওদার মতো আওয়াজ করে কাঁপতে থাকে।”
এই নসীহত করে নবি মিম্বরে উঠে দাঁড়ান। বানু ফাযারার দুর্ভোগ দূর হওয়ার দুআ করেন। আল্লাহ তাআলা নবিজির এ দুআ কবুল করে তাদের ভূমিতে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করেন।
টিকাঃ
[৫১৫] যাদুল মাআদ, ৩/৪৮।
বানু ফাযারা থেকে বিশ জনেরও বেশি সদস্যবিশিষ্ট একটি দল আসে। নবি তাবুক থেকে ফিরে আসার পর সাক্ষাৎ করে তারা। তারাও মুসলমান হয়েছে। তাদের এলাকায় চলছিল ভয়াবহ খরা। নবিজি -এর সাহায্যের জন্য তাই তারা উদগ্রীব ছিল।
তারা নবিজি -কে বললেন, "আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন আমাদের গ্রামে বৃষ্টি পাঠান। আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন, আপনার রবও যেন আপনার কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করেন।”
নবি বললেন, “সুবহানাল্লাহ! তোমাদের জন্য আফসোস! এ কী বলছ তোমরা! হ্যাঁ, অবশ্যই আমি আল্লাহর কাছে সুপারিশ করব। কিন্তু আল্লাহর কী প্রয়োজন কারও কাছে সুপারিশ করার? আল্লাহ ছাড়া কোনও উপাস্য নেই। তিনি সুউচ্চ, সুমহান। তাঁর কুরসি সমগ্র আসমান-জমীনে ব্যাপ্ত। তাঁর মহিমা ও প্রতাপের কারণে সেগুলো উটের পিঠে নতুন হাওদার মতো আওয়াজ করে কাঁপতে থাকে।”
এই নসীহত করে নবি মিম্বরে উঠে দাঁড়ান। বানু ফাযারার দুর্ভোগ দূর হওয়ার দুআ করেন। আল্লাহ তাআলা নবিজির এ দুআ কবুল করে তাদের ভূমিতে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করেন।
টিকাঃ
[৫১৫] যাদুল মাআদ, ৩/৪৮।
📄 নাজরানবাসীর প্রতিনিধিদল
দক্ষিণ আরবের এক বিশাল এলাকা নাজরান। দ্রুতগামী ঘোড়াও এটি পার হতে একদিন লাগিয়ে ফেলবে। এখানকার তিয়াত্তরটি লোকালয়ের প্রতিরক্ষায় আছে ১ লক্ষ ২০ হাজার খ্রিষ্টান সেনা। নবি নাজরানের বিশপের কাছে চিঠি লিখে ইসলামের দাওয়াত দেন। উপদেষ্টাদের সাথে পরামর্শ করেন বিশপ। তারপর নবি-দাবিদার এই ব্যক্তিটি সম্পর্কে নাজরানের জনগণকে জানান।
অনেক আলোচনার পর ঠিক হয় যে, ষাট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হবে। মদীনায় এসে পৌঁছানো এই প্রতিনিধিদের পরনে ছিল মাটি ছেঁচড়ানো অলংকৃত রেশমি আলখাল্লা। আঙুলে ঝকমক করছিল স্বর্ণের আংটি।
এত জাঁকজমক সজ্জা দেখে নবি তাদের সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। সাহাবিরা নাজরানিদের পরামর্শ দেন এগুলো পাল্টে অনাড়ম্বর পোশাক পরে নিতে। নবিজির উপস্থিতিতে স্বর্ণ ব্যবহার করতেও নিষেধ করা হয়। তারা সে উপদেশ মোতাবেক কাজ করার পর নবি কথা বলতে সম্মত হন। ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি তাদের। তারা প্রত্যাখ্যান করে বলে যে, নবি তাঁর মিশন শুরু করার অনেক আগ থেকেই তারা 'মুসলিম' হয়ে আছে।
নবি নাজরানের প্রতিনিধিদের বলেন, "তোমাদের ইসলাম থেকে বিরত রাখছে তিনটি জিনিস-১. ক্রুশের পূজা, ২. শূকর ভক্ষণ, এবং ৩. আল্লাহর পুত্র আছে বলে দাবি করা।”
প্রতিনিধিদলটি নবিজি-কে চ্যালেঞ্জ করে, "ঈসা জন্মেছেন কোনও পিতা ছাড়া। তাঁর সমকক্ষ আর কে আছে?”
আয়াত নাযিল করে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা এর জবাব দেন,
“আল্লাহর কাছে ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের মতো। আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে। তারপর বলেছেন "হও” আর হয়ে গেছে। এটি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আগত সত্য। অতএব, সন্দেহ পোষণকারীদের দলভুক্ত হয়ো না। সত্য জানার পরও যদি কেউ তোমার সাথে ঈসার ব্যাপারে তর্ক করে, তাকে বলে দাও, 'এসো, আমরা আমাদের স্ত্রী-সন্তানসহ জড়ো হই। তারপর চলো আমরা মিলে আল্লাহর কাছে দুআ করি এবং তাদের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত করি, যারা মিথ্যাবাদী।'”
নবি প্রতিনিধিদলকে আয়াতগুলো তিলাওয়াত করে শোনান। আয়াতের নির্দেশনা অনুযায়ী চ্যালেঞ্জও করেন। প্রতিনিধিরা নিজেদের মাঝে আলোচনা করার সময় চায়। সিদ্ধান্তে আসে, “উনি যদি সত্যিই নবি হন, আর আমরা অভিসম্পাতের দুআ করি, তাহলে তো সবাই ধ্বংস হয়ে যাব।" তাই নির্দ্বিধায় জিয়ইয়া প্রদান করতে রাজি হয়ে ফিরে যায় তারা।
তারা সফর মাসে এক হাজার এবং রজব মাসে এক হাজার সেট করে কাপড় প্রদান করবে। বিনিময়ে নবি নাজরান ভূমিতে তাদের শান্তি, নিরাপত্তা ও ধর্মপালনের স্বাধীনতা দেন। শর্তের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একজন বিশ্বস্ত মুসলিমকে সাথে পাঠানোর অনুরোধ করে প্রতিনিধিরা। নবি আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে তাদের সাথে পাঠান। এ থেকে তাঁর নাম পড়ে যায় أَمِينُ هَذِهِ لْأُمَّةِ। অর্থাৎ 'এই উম্মাহর সবচেয়ে বিশ্বস্ত ব্যক্তি'। আবূ উবাইদার প্রভাবে দু'জন প্রতিনিধি ইসলামও গ্রহণ করেন মাঝপথে। এরপর ধীরে ধীরে ইসলাম নাজরানবাসীর অন্তর জয় করে নেয়। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে তারা সবাই মুসলমান হয়ে যায়।
টিকাঃ
[৫১৬] ফাতহুল বারি, ৮/৯৪।
[৫১৭] সূরা আল ইমরান, ৩: ৫৯-৬১।
[৫১৮] ফাতহুল বারি, ৮/৯৪-৯৫; যাদুল মাআদ, ৩/৩৮-৪১।
দক্ষিণ আরবের এক বিশাল এলাকা নাজরান। দ্রুতগামী ঘোড়াও এটি পার হতে একদিন লাগিয়ে ফেলবে। এখানকার তিয়াত্তরটি লোকালয়ের প্রতিরক্ষায় আছে ১ লক্ষ ২০ হাজার খ্রিষ্টান সেনা। নবি নাজরানের বিশপের কাছে চিঠি লিখে ইসলামের দাওয়াত দেন। উপদেষ্টাদের সাথে পরামর্শ করেন বিশপ। তারপর নবি-দাবিদার এই ব্যক্তিটি সম্পর্কে নাজরানের জনগণকে জানান।
অনেক আলোচনার পর ঠিক হয় যে, ষাট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হবে। মদীনায় এসে পৌঁছানো এই প্রতিনিধিদের পরনে ছিল মাটি ছেঁচড়ানো অলংকৃত রেশমি আলখাল্লা। আঙুলে ঝকমক করছিল স্বর্ণের আংটি।
এত জাঁকজমক সজ্জা দেখে নবি তাদের সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। সাহাবিরা নাজরানিদের পরামর্শ দেন এগুলো পাল্টে অনাড়ম্বর পোশাক পরে নিতে। নবিজির উপস্থিতিতে স্বর্ণ ব্যবহার করতেও নিষেধ করা হয়। তারা সে উপদেশ মোতাবেক কাজ করার পর নবি কথা বলতে সম্মত হন। ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি তাদের। তারা প্রত্যাখ্যান করে বলে যে, নবি তাঁর মিশন শুরু করার অনেক আগ থেকেই তারা 'মুসলিম' হয়ে আছে।
নবি নাজরানের প্রতিনিধিদের বলেন, "তোমাদের ইসলাম থেকে বিরত রাখছে তিনটি জিনিস-১. ক্রুশের পূজা, ২. শূকর ভক্ষণ, এবং ৩. আল্লাহর পুত্র আছে বলে দাবি করা।”
প্রতিনিধিদলটি নবিজি-কে চ্যালেঞ্জ করে, "ঈসা জন্মেছেন কোনও পিতা ছাড়া। তাঁর সমকক্ষ আর কে আছে?”
আয়াত নাযিল করে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা এর জবাব দেন,
“আল্লাহর কাছে ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের মতো। আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে। তারপর বলেছেন "হও” আর হয়ে গেছে। এটি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আগত সত্য। অতএব, সন্দেহ পোষণকারীদের দলভুক্ত হয়ো না। সত্য জানার পরও যদি কেউ তোমার সাথে ঈসার ব্যাপারে তর্ক করে, তাকে বলে দাও, 'এসো, আমরা আমাদের স্ত্রী-সন্তানসহ জড়ো হই। তারপর চলো আমরা মিলে আল্লাহর কাছে দুআ করি এবং তাদের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত করি, যারা মিথ্যাবাদী।'”
নবি প্রতিনিধিদলকে আয়াতগুলো তিলাওয়াত করে শোনান। আয়াতের নির্দেশনা অনুযায়ী চ্যালেঞ্জও করেন। প্রতিনিধিরা নিজেদের মাঝে আলোচনা করার সময় চায়। সিদ্ধান্তে আসে, “উনি যদি সত্যিই নবি হন, আর আমরা অভিসম্পাতের দুআ করি, তাহলে তো সবাই ধ্বংস হয়ে যাব।" তাই নির্দ্বিধায় জিয়ইয়া প্রদান করতে রাজি হয়ে ফিরে যায় তারা।
তারা সফর মাসে এক হাজার এবং রজব মাসে এক হাজার সেট করে কাপড় প্রদান করবে। বিনিময়ে নবি নাজরান ভূমিতে তাদের শান্তি, নিরাপত্তা ও ধর্মপালনের স্বাধীনতা দেন। শর্তের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একজন বিশ্বস্ত মুসলিমকে সাথে পাঠানোর অনুরোধ করে প্রতিনিধিরা। নবি আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে তাদের সাথে পাঠান। এ থেকে তাঁর নাম পড়ে যায় أَمِينُ هَذِهِ لْأُمَّةِ। অর্থাৎ 'এই উম্মাহর সবচেয়ে বিশ্বস্ত ব্যক্তি'। আবূ উবাইদার প্রভাবে দু'জন প্রতিনিধি ইসলামও গ্রহণ করেন মাঝপথে। এরপর ধীরে ধীরে ইসলাম নাজরানবাসীর অন্তর জয় করে নেয়। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে তারা সবাই মুসলমান হয়ে যায়।
টিকাঃ
[৫১৬] ফাতহুল বারি, ৮/৯৪।
[৫১৭] সূরা আল ইমরান, ৩: ৫৯-৬১।
[৫১৮] ফাতহুল বারি, ৮/৯৪-৯৫; যাদুল মাআদ, ৩/৩৮-৪১।
দক্ষিণ আরবের এক বিশাল এলাকা নাজরান। দ্রুতগামী ঘোড়াও এটি পার হতে একদিন লাগিয়ে ফেলবে। এখানকার তিয়াত্তরটি লোকালয়ের প্রতিরক্ষায় আছে ১ লক্ষ ২০ হাজার খ্রিষ্টান সেনা। নবি নাজরানের বিশপের কাছে চিঠি লিখে ইসলামের দাওয়াত দেন। উপদেষ্টাদের সাথে পরামর্শ করেন বিশপ। তারপর নবি-দাবিদার এই ব্যক্তিটি সম্পর্কে নাজরানের জনগণকে জানান।
অনেক আলোচনার পর ঠিক হয় যে, ষাট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হবে। মদীনায় এসে পৌঁছানো এই প্রতিনিধিদের পরনে ছিল মাটি ছেঁচড়ানো অলংকৃত রেশমি আলখাল্লা। আঙুলে ঝকমক করছিল স্বর্ণের আংটি।
এত জাঁকজমক সজ্জা দেখে নবি তাদের সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। সাহাবিরা নাজরানিদের পরামর্শ দেন এগুলো পাল্টে অনাড়ম্বর পোশাক পরে নিতে। নবিজির উপস্থিতিতে স্বর্ণ ব্যবহার করতেও নিষেধ করা হয়। তারা সে উপদেশ মোতাবেক কাজ করার পর নবি কথা বলতে সম্মত হন। ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি তাদের। তারা প্রত্যাখ্যান করে বলে যে, নবি তাঁর মিশন শুরু করার অনেক আগ থেকেই তারা 'মুসলিম' হয়ে আছে।
নবি নাজরানের প্রতিনিধিদের বলেন, "তোমাদের ইসলাম থেকে বিরত রাখছে তিনটি জিনিস-১. ক্রুশের পূজা, ২. শূকর ভক্ষণ, এবং ৩. আল্লাহর পুত্র আছে বলে দাবি করা।”
প্রতিনিধিদলটি নবিজি-কে চ্যালেঞ্জ করে, "ঈসা জন্মেছেন কোনও পিতা ছাড়া। তাঁর সমকক্ষ আর কে আছে?”
আয়াত নাযিল করে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা এর জবাব দেন,
“আল্লাহর কাছে ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের মতো। আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে। তারপর বলেছেন "হও” আর হয়ে গেছে। এটি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আগত সত্য। অতএব, সন্দেহ পোষণকারীদের দলভুক্ত হয়ো না। সত্য জানার পরও যদি কেউ তোমার সাথে ঈসার ব্যাপারে তর্ক করে, তাকে বলে দাও, 'এসো, আমরা আমাদের স্ত্রী-সন্তানসহ জড়ো হই। তারপর চলো আমরা মিলে আল্লাহর কাছে দুআ করি এবং তাদের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত করি, যারা মিথ্যাবাদী।'”
নবি প্রতিনিধিদলকে আয়াতগুলো তিলাওয়াত করে শোনান। আয়াতের নির্দেশনা অনুযায়ী চ্যালেঞ্জও করেন। প্রতিনিধিরা নিজেদের মাঝে আলোচনা করার সময় চায়। সিদ্ধান্তে আসে, “উনি যদি সত্যিই নবি হন, আর আমরা অভিসম্পাতের দুআ করি, তাহলে তো সবাই ধ্বংস হয়ে যাব।" তাই নির্দ্বিধায় জিয়ইয়া প্রদান করতে রাজি হয়ে ফিরে যায় তারা।
তারা সফর মাসে এক হাজার এবং রজব মাসে এক হাজার সেট করে কাপড় প্রদান করবে। বিনিময়ে নবি নাজরান ভূমিতে তাদের শান্তি, নিরাপত্তা ও ধর্মপালনের স্বাধীনতা দেন। শর্তের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একজন বিশ্বস্ত মুসলিমকে সাথে পাঠানোর অনুরোধ করে প্রতিনিধিরা। নবি আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে তাদের সাথে পাঠান। এ থেকে তাঁর নাম পড়ে যায় أَمِينُ هَذِهِ لْأُمَّةِ। অর্থাৎ 'এই উম্মাহর সবচেয়ে বিশ্বস্ত ব্যক্তি'। আবূ উবাইদার প্রভাবে দু'জন প্রতিনিধি ইসলামও গ্রহণ করেন মাঝপথে। এরপর ধীরে ধীরে ইসলাম নাজরানবাসীর অন্তর জয় করে নেয়। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে তারা সবাই মুসলমান হয়ে যায়।
টিকাঃ
[৫১৬] ফাতহুল বারি, ৮/৯৪।
[৫১৭] সূরা আল ইমরান, ৩: ৫৯-৬১।
[৫১৮] ফাতহুল বারি, ৮/৯৪-৯৫; যাদুল মাআদ, ৩/৩৮-৪১।