📄 দিমাম ইবনু সা’লাবার আগমন ও জিজ্ঞাসাবাদ
ইসলামের দাওয়াহ এত দূর ছড়িয়ে পড়ে যে, দুর্গম এলাকাবাসী রুক্ষস্বভাব নিরক্ষর জাতিগুলোও সে ব্যাপারে জানতে পারে। এমনই এক গোত্র সা'দ ইবনু বকর। তাদের গোত্রপতি দিমাম ইবনু সা'লাবা মদীনায় আসেন নবি -কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে।
দিমামের লম্বা চুলে ছিল দুটি বেণী। উটকে বসিয়ে মাসজিদে নববির সাথে বেঁধে নেন। তারপর সোজা মাসজিদে ঢুকে জিজ্ঞেস করে, “তোমাদের মধ্যে আবদুল মুত্তালিবের নাতি কে?” সবাই নবিজি -এর দিকে দেখিয়ে দেয়। দিমাম ইবনু সা'লাবা এগিয়ে এসে বলেন,
“মুহাম্মাদ, আপনাকে সোজাসুজি কিছু কথা জিজ্ঞাসা করব এবং জিজ্ঞাসা করার ক্ষেত্রে কঠোরতা করব। যাতে আমার মনে কোনও খটকা না থাকে।”
“যা ইচ্ছা হয় জিজ্ঞাসা করুন।"
“আমাদের নিকট আপনার দূত এসে বলেছে যে, আপনি নাকি দাবি করেন—আপনি আল্লাহর রাসূল?”
“হ্যাঁ, সে সত্য বলেছে।”
“আচ্ছা। বলুন, আসমান কে সৃষ্টি করেছে?”
"আল্লাহ।”
“জমীন কে সৃষ্টি করেছে?”
"আল্লাহ।”
"এই পাহাড় কে স্থাপন করেছে আর এর ভেতরে যা কিছু আছে, তা কে বানিয়েছে?"
"আল্লাহ।”
“যিনি আসমান সৃষ্টি করেছেন, জমীন সৃষ্টি করেছেন এবং এই সমস্ত পাহাড় স্থাপন করেছেন সেই সত্তার কসম—আল্লাহ কি আপনাকে রাসূল বানিয়ে পাঠিয়েছেন?
"জি।”
“আপনার দূত আরও বলেছে যে, আমাদের ওপর দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত (ফরজ) সালাত রয়েছে?"
“সে সত্য বলেছে।”
“আপনাকে যিনি রাসূল বানিয়েছেন, তাঁর কসম—আল্লাহ কি সত্যই আপনাকে এই আদেশ দিয়েছেন?
“হ্যাঁ।”
“আপনার দূত এ-ও বলেছে যে, আমাদের ওপর আমাদের সম্পদের যাকাত দেওয়া ফরজ।”
“জি, সে সত্য বলেছে।”
“আপনাকে যিনি রাসূল বানিয়েছেন, তাঁর কসম—আল্লাহ কি সত্যই আপনাকে এই আদেশ দিয়েছেন?”
“হ্যাঁ।”
"আপনার দূত বলেছে, আমাদের ওপর প্রতিবছর রমাদান মাসে সিয়াম পালন করা ফরজ।”
"সে সত্য বলেছে।”
"আপনাকে যিনি রাসূল বানিয়েছেন, তাঁর কসম—আল্লাহ কি সত্যই আপনাকে এই আদেশ দিয়েছেন?"
“হ্যাঁ।”
“আপনার দূত আরও বলেছে যে, যারা বাইতুল্লাহ পর্যন্ত আসা-যাওয়ার সামর্থ্য রাখে তাদের ওপর হাজ্জ করা ফরজ!"
"হ্যাঁ, সে সত্য বলেছে।”
"আপনাকে যিনি রাসূল বানিয়েছে, তাঁর কসম—আল্লাহ কি সত্যই আপনাকে এই আদেশ দিয়েছেন?”
“হ্যাঁ।”
দিমাম ইবন সা'লাবা বললেন, “যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, তাঁর কসম—আমি এর চেয়ে বাড়াবও না আবার কমও করব না।”
রাসূল দিমামের ব্যাপারে সাহাবিদের বলেছিলেন, “যদি সে সত্য বলে থাকে, তাহলে নিশ্চয়ই জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
দিমাম ইবনু সা'লাবা (রদিয়াল্লাহু আনহু) সেদিন মদীনায় ইসলাম গ্রহণ করে নিজ সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে যান। রাসূল ﷺ-এর সাথে কথোপকথনের বিষয়টি জানান সবাইকে। তিনি কী আদেশ করেছেন আর কী নিষেধ করেছেন সব খুলে বললে সেদিনই তার সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ সবাই মুসলিম হয়ে যায়। একজনও বাকি ছিল না। এরপরে তারা সেখানে মাসজিদ নির্মাণ করে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা আরম্ভ করেন। এই কারণে নিঃসন্দেহে বলা যায়, দিমাম ইবনু সা'লাবা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর চেয়ে উত্তম কোনও আগমনকারী ছিল না।
টিকাঃ
[৫১৩] বুখারি, ৬৩; তিরমিযি, ৬১৯।
ইসলামের দাওয়াহ এত দূর ছড়িয়ে পড়ে যে, দুর্গম এলাকাবাসী রুক্ষস্বভাব নিরক্ষর জাতিগুলোও সে ব্যাপারে জানতে পারে। এমনই এক গোত্র সা'দ ইবনু বকর। তাদের গোত্রপতি দিমাম ইবনু সা'লাবা মদীনায় আসেন নবি -কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে।
দিমামের লম্বা চুলে ছিল দুটি বেণী। উটকে বসিয়ে মাসজিদে নববির সাথে বেঁধে নেন। তারপর সোজা মাসজিদে ঢুকে জিজ্ঞেস করে, “তোমাদের মধ্যে আবদুল মুত্তালিবের নাতি কে?” সবাই নবিজি -এর দিকে দেখিয়ে দেয়। দিমাম ইবনু সা'লাবা এগিয়ে এসে বলেন,
“মুহাম্মাদ, আপনাকে সোজাসুজি কিছু কথা জিজ্ঞাসা করব এবং জিজ্ঞাসা করার ক্ষেত্রে কঠোরতা করব। যাতে আমার মনে কোনও খটকা না থাকে।”
“যা ইচ্ছা হয় জিজ্ঞাসা করুন।"
“আমাদের নিকট আপনার দূত এসে বলেছে যে, আপনি নাকি দাবি করেন—আপনি আল্লাহর রাসূল?”
“হ্যাঁ, সে সত্য বলেছে।”
“আচ্ছা। বলুন, আসমান কে সৃষ্টি করেছে?”
"আল্লাহ।”
“জমীন কে সৃষ্টি করেছে?”
"আল্লাহ।”
"এই পাহাড় কে স্থাপন করেছে আর এর ভেতরে যা কিছু আছে, তা কে বানিয়েছে?"
"আল্লাহ।”
“যিনি আসমান সৃষ্টি করেছেন, জমীন সৃষ্টি করেছেন এবং এই সমস্ত পাহাড় স্থাপন করেছেন সেই সত্তার কসম—আল্লাহ কি আপনাকে রাসূল বানিয়ে পাঠিয়েছেন?
"জি।”
“আপনার দূত আরও বলেছে যে, আমাদের ওপর দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত (ফরজ) সালাত রয়েছে?"
“সে সত্য বলেছে।”
“আপনাকে যিনি রাসূল বানিয়েছেন, তাঁর কসম—আল্লাহ কি সত্যই আপনাকে এই আদেশ দিয়েছেন?
“হ্যাঁ।”
“আপনার দূত এ-ও বলেছে যে, আমাদের ওপর আমাদের সম্পদের যাকাত দেওয়া ফরজ।”
“জি, সে সত্য বলেছে।”
“আপনাকে যিনি রাসূল বানিয়েছেন, তাঁর কসম—আল্লাহ কি সত্যই আপনাকে এই আদেশ দিয়েছেন?”
“হ্যাঁ।”
"আপনার দূত বলেছে, আমাদের ওপর প্রতিবছর রমাদান মাসে সিয়াম পালন করা ফরজ।”
"সে সত্য বলেছে।”
"আপনাকে যিনি রাসূল বানিয়েছেন, তাঁর কসম—আল্লাহ কি সত্যই আপনাকে এই আদেশ দিয়েছেন?"
“হ্যাঁ।”
“আপনার দূত আরও বলেছে যে, যারা বাইতুল্লাহ পর্যন্ত আসা-যাওয়ার সামর্থ্য রাখে তাদের ওপর হাজ্জ করা ফরজ!"
"হ্যাঁ, সে সত্য বলেছে।”
"আপনাকে যিনি রাসূল বানিয়েছে, তাঁর কসম—আল্লাহ কি সত্যই আপনাকে এই আদেশ দিয়েছেন?”
“হ্যাঁ।”
দিমাম ইবন সা'লাবা বললেন, “যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, তাঁর কসম—আমি এর চেয়ে বাড়াবও না আবার কমও করব না।”
রাসূল দিমামের ব্যাপারে সাহাবিদের বলেছিলেন, “যদি সে সত্য বলে থাকে, তাহলে নিশ্চয়ই জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
দিমাম ইবনু সা'লাবা (রদিয়াল্লাহু আনহু) সেদিন মদীনায় ইসলাম গ্রহণ করে নিজ সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে যান। রাসূল ﷺ-এর সাথে কথোপকথনের বিষয়টি জানান সবাইকে। তিনি কী আদেশ করেছেন আর কী নিষেধ করেছেন সব খুলে বললে সেদিনই তার সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ সবাই মুসলিম হয়ে যায়। একজনও বাকি ছিল না। এরপরে তারা সেখানে মাসজিদ নির্মাণ করে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা আরম্ভ করেন। এই কারণে নিঃসন্দেহে বলা যায়, দিমাম ইবনু সা'লাবা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর চেয়ে উত্তম কোনও আগমনকারী ছিল না।
টিকাঃ
[৫১৩] বুখারি, ৬৩; তিরমিযি, ৬১৯।
ইসলামের দাওয়াহ এত দূর ছড়িয়ে পড়ে যে, দুর্গম এলাকাবাসী রুক্ষস্বভাব নিরক্ষর জাতিগুলোও সে ব্যাপারে জানতে পারে। এমনই এক গোত্র সা'দ ইবনু বকর। তাদের গোত্রপতি দিমাম ইবনু সা'লাবা মদীনায় আসেন নবি -কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে।
দিমামের লম্বা চুলে ছিল দুটি বেণী। উটকে বসিয়ে মাসজিদে নববির সাথে বেঁধে নেন। তারপর সোজা মাসজিদে ঢুকে জিজ্ঞেস করে, “তোমাদের মধ্যে আবদুল মুত্তালিবের নাতি কে?” সবাই নবিজি -এর দিকে দেখিয়ে দেয়। দিমাম ইবনু সা'লাবা এগিয়ে এসে বলেন,
“মুহাম্মাদ, আপনাকে সোজাসুজি কিছু কথা জিজ্ঞাসা করব এবং জিজ্ঞাসা করার ক্ষেত্রে কঠোরতা করব। যাতে আমার মনে কোনও খটকা না থাকে।”
“যা ইচ্ছা হয় জিজ্ঞাসা করুন।”
“আমাদের নিকট আপনার দূত এসে বলেছে যে, আপনি নাকি দাবি করেন—আপনি আল্লাহর রাসূল?”
“হ্যাঁ, সে সত্য বলেছে।”
“আচ্ছা। বলুন, আসমান কে সৃষ্টি করেছে?”
"আল্লাহ।”
“জমীন কে সৃষ্টি করেছে?”
"আল্লাহ।”
"এই পাহাড় কে স্থাপন করেছে আর এর ভেতরে যা কিছু আছে, তা কে বানিয়েছে?"
"আল্লাহ।”
“যিনি আসমান সৃষ্টি করেছেন, জমীন সৃষ্টি করেছেন এবং এই সমস্ত পাহাড় স্থাপন করেছেন সেই সত্তার কসম—আল্লাহ কি আপনাকে রাসূল বানিয়ে পাঠিয়েছেন?
"জি।”
“আপনার দূত আরও বলেছে যে, আমাদের ওপর দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত (ফরজ) সালাত রয়েছে?”
“সে সত্য বলেছে।”
“আপনাকে যিনি রাসূল বানিয়েছেন, তাঁর কসম—আল্লাহ কি সত্যই আপনাকে এই আদেশ দিয়েছেন?
“হ্যাঁ।”
“আপনার দূত এ-ও বলেছে যে, আমাদের ওপর আমাদের সম্পদের যাকাত দেওয়া ফরজ।”
“জি, সে সত্য বলেছে।”
“আপনাকে যিনি রাসূল বানিয়েছেন, তাঁর কসম—আল্লাহ কি সত্যই আপনাকে এই আদেশ দিয়েছেন?”
“হ্যাঁ।”
"আপনার দূত বলেছে, আমাদের ওপর প্রতিবছর রমাদান মাসে সিয়াম পালন করা ফরজ।”
"সে সত্য বলেছে।”
"আপনাকে যিনি রাসূল বানিয়েছেন, তাঁর কসম—আল্লাহ কি সত্যই আপনাকে এই আদেশ দিয়েছেন?"
“হ্যাঁ।”
“আপনার দূত আরও বলেছে যে, যারা বাইতুল্লাহ পর্যন্ত আসা-যাওয়ার সামর্থ্য রাখে তাদের ওপর হাজ্জ করা ফরজ!"
"হ্যাঁ, সে সত্য বলেছে।”
"আপনাকে যিনি রাসূল বানিয়েছে, তাঁর কসম—আল্লাহ কি সত্যই আপনাকে এই আদেশ দিয়েছেন?”
“হ্যাঁ।”
দিমাম ইবন সা'লাবা বললেন, “যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, তাঁর কসম—আমি এর চেয়ে বাড়াবও না আবার কমও করব না।”
রাসূল দিমামের ব্যাপারে সাহাবিদের বলেছিলেন, “যদি সে সত্য বলে থাকে, তাহলে নিশ্চয়ই জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
দিমাম ইবনু সা'লাবা (রদিয়াল্লাহু আনহু) সেদিন মদীনায় ইসলাম গ্রহণ করে নিজ সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে যান। রাসূল ﷺ-এর সাথে কথোপকথনের বিষয়টি জানান সবাইকে। তিনি কী আদেশ করেছেন আর কী নিষেধ করেছেন সব খুলে বললে সেদিনই তার সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ সবাই মুসলিম হয়ে যায়। একজনও বাকি ছিল না। এরপরে তারা সেখানে মাসজিদ নির্মাণ করে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা আরম্ভ করেন। এই কারণে নিঃসন্দেহে বলা যায়, দিমাম ইবনু সা'লাবা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর চেয়ে উত্তম কোনও আগমনকারী ছিল না।
টিকাঃ
[৫১৩] বুখারি, ৬৩; তিরমিযি, ৬১৯।
📄 আযরা এবং বালি গোত্রদ্বয়ের প্রতিনিধিদল
নবম হিজরি সনের সফর মাসে বানু আযরা থেকে বারো জন লোক আসেন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে। নবিজির গোত্রের প্রতিষ্ঠাতা কুসাইয়ের সাথে নিজেদের মিত্রতার কথা জানান তারা। মক্কা থেকে বকর এবং খুযাআ গোত্রকে বিতাড়িত করতে তাকে কীভাবে সাহায্য করেছেন, সে কথাও বলেন। এই কারণে নবি তাদের মারহাবা ও অভিনন্দন জানান।
এরপর তাদের সকলে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাদের তিনি সিরিয়া বিজয়ের সুসংবাদ প্রদান করেন এবং পৌত্তলিক ধর্মের আচারপ্রথা ছেড়ে দেওয়ার আদেশ দেন। যেমন, জ্যোতিষীদের কাছে যাওয়া, মন্দিরে পশুবলি দেওয়া, অগ্নিপূজা করা ইত্যাদি।
একই বছরে বালি থেকেও আরেকটি প্রতিনিধিদল আসে। এর সদস্যরাও ইসলাম গ্রহণ করে বাড়ি ফেরেন। মদীনায় তিন দিন অবস্থান করেছিলেন তারা।
নবম হিজরি সনের সফর মাসে বানু আযরা থেকে বারো জন লোক আসেন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে। নবিজির গোত্রের প্রতিষ্ঠাতা কুসাইয়ের সাথে নিজেদের মিত্রতার কথা জানান তারা। মক্কা থেকে বকর এবং খুযাআ গোত্রকে বিতাড়িত করতে তাকে কীভাবে সাহায্য করেছেন, সে কথাও বলেন। এই কারণে নবি তাদের মারহাবা ও অভিনন্দন জানান।
এরপর তাদের সকলে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাদের তিনি সিরিয়া বিজয়ের সুসংবাদ প্রদান করেন এবং পৌত্তলিক ধর্মের আচারপ্রথা ছেড়ে দেওয়ার আদেশ দেন। যেমন, জ্যোতিষীদের কাছে যাওয়া, মন্দিরে পশুবলি দেওয়া, অগ্নিপূজা করা ইত্যাদি।
একই বছরে বালি থেকেও আরেকটি প্রতিনিধিদল আসে। এর সদস্যরাও ইসলাম গ্রহণ করে বাড়ি ফেরেন। মদীনায় তিন দিন অবস্থান করেছিলেন তারা।
নবম হিজরি সনের সফর মাসে বানু আযরা থেকে বারো জন লোক আসেন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে। নবিজির গোত্রের প্রতিষ্ঠাতা কুসাইয়ের সাথে নিজেদের মিত্রতার কথা জানান তারা। মক্কা থেকে বকর এবং খুযাআ গোত্রকে বিতাড়িত করতে তাকে কীভাবে সাহায্য করেছেন, সে কথাও বলেন। এই কারণে নবি তাদের মারহাবা ও অভিনন্দন জানান।
এরপর তাদের সকলে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাদের তিনি সিরিয়া বিজয়ের সুসংবাদ প্রদান করেন এবং পৌত্তলিক ধর্মের আচারপ্রথা ছেড়ে দেওয়ার আদেশ দেন। যেমন, জ্যোতিষীদের কাছে যাওয়া, মন্দিরে পশুবলি দেওয়া, অগ্নিপূজা করা ইত্যাদি।
একই বছরে বালি থেকেও আরেকটি প্রতিনিধিদল আসে। এর সদস্যরাও ইসলাম গ্রহণ করে বাড়ি ফেরেন। মদীনায় তিন দিন অবস্থান করেছিলেন তারা।
📄 বানূ আসাদ ইবনি খুযাইমা গোত্রের প্রতিনিধিদল
নবম হিজরির শুরুর দিকে বানু আসাদ ইবনি খুযাইমার একটি দল নবিজি -এর সাক্ষাতে আসে। এসে মাসজিদের ভেতর কয়েকজন সাহাবির সাথে বসা দেখতে পায় নবিজিকে। সবাই সালাম প্রদানের পর তাদের মুখপাত্র বলেন,
“হে আল্লাহর রাসূল, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ এক। তাঁর কোনও অংশীদার বা সমকক্ষ নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি তাঁর দাস ও বার্তাবাহক। হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমাদের কাছে কোনও দূত পাঠানো ছাড়াই আমরা ইসলাম গ্রহণ করছি। অন্যান্য গোত্রের মতো আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধও করিনি। নিজ জাতির পক্ষ থেকে শান্তির বার্তা নিয়ে এসেছি আমরা।”
এ দাবির প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা আয়াত নাযিল করেন,
"তারা ভেবেছে ইসলাম গ্রহণ করে তারা আপনার ওপর অনুগ্রহ করে ফেলেছে। বলে দিন, 'তোমরা মুসলিম হয়ে আমাকে করুণা করোনি; বরং আল্লাহই তোমাদের ঈমানের দিকে হিদায়াত দিয়ে বিরাট করুণা করেছেন। যদি তোমরা সত্যনিষ্ঠ হয়ে থাকো।”
এরপর প্রতিনিধিদলটি ভাগ্যগণনা, জ্যোতিষশাস্ত্র চর্চা করা এবং পাখির ওড়ার পথ দেখে সুলক্ষণ-কুলক্ষণ নির্ধারণ করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে। নবি জানিয়ে দেন যে, এগুলো সব শরীআতে নিষিদ্ধ, করা যাবে না। লক্ষণের অর্থ বের করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে নবি বলেন, “এক নবি ছিলেন, যিনি এটা পারতেন। তোমাদের জ্ঞান ওই নবির সমান হলে করতে পারো।” মোটকথা, ভবিষ্যৎ নির্ণয়ের যেকোনও চেষ্টা ইসলামে হারাম। আরও কিছুদিন মদীনায় অবস্থান করে ইসলামের মৌলিক বিষয়াদি শিখে নেয় দলটি।
টিকাঃ
[৫১৪] সূরা হুজুরাত, ৪৯ : ১৭।
নবম হিজরির শুরুর দিকে বানু আসাদ ইবনি খুযাইমার একটি দল নবিজি -এর সাক্ষাতে আসে। এসে মাসজিদের ভেতর কয়েকজন সাহাবির সাথে বসা দেখতে পায় নবিজিকে। সবাই সালাম প্রদানের পর তাদের মুখপাত্র বলেন,
“হে আল্লাহর রাসূল, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ এক। তাঁর কোনও অংশীদার বা সমকক্ষ নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি তাঁর দাস ও বার্তাবাহক। হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমাদের কাছে কোনও দূত পাঠানো ছাড়াই আমরা ইসলাম গ্রহণ করছি। অন্যান্য গোত্রের মতো আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধও করিনি। নিজ জাতির পক্ষ থেকে শান্তির বার্তা নিয়ে এসেছি আমরা।”
এ দাবির প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা আয়াত নাযিল করেন,
"তারা ভেবেছে ইসলাম গ্রহণ করে তারা আপনার ওপর অনুগ্রহ করে ফেলেছে। বলে দিন, 'তোমরা মুসলিম হয়ে আমাকে করুণা করোনি; বরং আল্লাহই তোমাদের ঈমানের দিকে হিদায়াত দিয়ে বিরাট করুণা করেছেন। যদি তোমরা সত্যনিষ্ঠ হয়ে থাকো।”
এরপর প্রতিনিধিদলটি ভাগ্যগণনা, জ্যোতিষশাস্ত্র চর্চা করা এবং পাখির ওড়ার পথ দেখে সুলক্ষণ-কুলক্ষণ নির্ধারণ করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে। নবি জানিয়ে দেন যে, এগুলো সব শরীআতে নিষিদ্ধ, করা যাবে না। লক্ষণের অর্থ বের করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে নবি বলেন, “এক নবি ছিলেন, যিনি এটা পারতেন। তোমাদের জ্ঞান ওই নবির সমান হলে করতে পারো।” মোটকথা, ভবিষ্যৎ নির্ণয়ের যেকোনও চেষ্টা ইসলামে হারাম। আরও কিছুদিন মদীনায় অবস্থান করে ইসলামের মৌলিক বিষয়াদি শিখে নেয় দলটি।
টিকাঃ
[৫১৪] সূরা হুজুরাত, ৪৯ : ১৭।
নবম হিজরির শুরুর দিকে বানু আসাদ ইবনি খুযাইমার একটি দল নবিজি -এর সাক্ষাতে আসে। এসে মাসজিদের ভেতর কয়েকজন সাহাবির সাথে বসা দেখতে পায় নবিজিকে। সবাই সালাম প্রদানের পর তাদের মুখপাত্র বলেন,
“হে আল্লাহর রাসূল, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ এক। তাঁর কোনও অংশীদার বা সমকক্ষ নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি তাঁর দাস ও বার্তাবাহক। হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমাদের কাছে কোনও দূত পাঠানো ছাড়াই আমরা ইসলাম গ্রহণ করছি। অন্যান্য গোত্রের মতো আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধও করিনি। নিজ জাতির পক্ষ থেকে শান্তির বার্তা নিয়ে এসেছি আমরা।”
এ দাবির প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা আয়াত নাযিল করেন,
"তারা ভেবেছে ইসলাম গ্রহণ করে তারা আপনার ওপর অনুগ্রহ করে ফেলেছে। বলে দিন, 'তোমরা মুসলিম হয়ে আমাকে করুণা করোনি; বরং আল্লাহই তোমাদের ঈমানের দিকে হিদায়াত দিয়ে বিরাট করুণা করেছেন। যদি তোমরা সত্যনিষ্ঠ হয়ে থাকো।”
এরপর প্রতিনিধিদলটি ভাগ্যগণনা, জ্যোতিষশাস্ত্র চর্চা করা এবং পাখির ওড়ার পথ দেখে সুলক্ষণ-কুলক্ষণ নির্ধারণ করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে। নবি জানিয়ে দেন যে, এগুলো সব শরীআতে নিষিদ্ধ, করা যাবে না। লক্ষণের অর্থ বের করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে নবি বলেন, “এক নবি ছিলেন, যিনি এটা পারতেন। তোমাদের জ্ঞান ওই নবির সমান হলে করতে পারো।” মোটকথা, ভবিষ্যৎ নির্ণয়ের যেকোনও চেষ্টা ইসলামে হারাম। আরও কিছুদিন মদীনায় অবস্থান করে ইসলামের মৌলিক বিষয়াদি শিখে নেয় দলটি।
টিকাঃ
[৫১৪] সূরা হুজুরাত, ৪৯ : ১৭।
📄 তুজীব গোত্রের প্রতিনিধিদল
কিন্দা গোত্রের একটি শাখা তুজীব। তারা আগেই ইসলাম গ্রহণ করেছে। যাকাত বণ্টনের পর বেঁচে যাওয়া কিছু টাকা তারা সাথে করে নিয়ে আসে, যাতে অন্যান্য অভাবী মুসলিমদের সাহায্য করা যায়। নবি এতে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং তাদের বেশ সম্মান করেন।
সপ্রশংস দৃষ্টিতে প্রতিনিধিদলটির দিকে তাকিয়ে আবূ বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মন্তব্য করেন, "আমাদের নিকট আরবের এদের চেয়ে উত্তম কোনও প্রতিনিধিদল আসেনি।"
প্রত্যুত্তরে নবি বলেন, "হিদায়াত আল্লাহর হাতে। সুতরাং তিনি যার কল্যাণের ইচ্ছা করেন তার বক্ষকে ঈমানের জন্য অবারিত করে দেন।”
তুজীব সদস্যরা ইসলাম শেখার ব্যাপারে প্রচুর আগ্রহ প্রকাশ করেন। কুরআন-সুন্নাহ হিফয করার ব্যাপারেও তাদের তৎপরতা দেখা যায়। বিদায়বেলায় নবি তাদের অনেক উপঢৌকন দেন। জিজ্ঞেস করেন যে, কেউ বাদ পড়ে গেছে কি না। তারা জানায় যে, শিবিরে একটি বালককে রেখে এসেছেন তারা। যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে কমবয়েসি। নবি বলেন, “ওকেও পাঠিয়ে দাও।”
দলটি ফিরে গিয়ে সেই ছেলেকে নবিজি -এর কথা বলে। ছেলেটি এসে জানায়, “ইয়া রাসুলাল্লাহ, একটু আগে যেই গোত্রটি এসেছিল, আমিও তাদের সদস্য। আপনি তাদের তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়েছেন। এবার আমাকেও আমার প্রয়োজনীয় জিনিসটি দিন।”
রাসূলুল্লাহ জিজ্ঞাসা করলেন, “কী চাও তুমি?”
“আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন তিনি আমাকে মাফ করে দেন, আমাকে রহম করেন এবং আমার হৃদয় প্রাচুর্যে ভরে দেন।” নবি ছেলেটির জন্য দুআ করেন। স্বগোত্রীয়দের চেয়ে সন্তুষ্টতর মন নিয়ে ফিরে যায় সে। পরে আবূ বকর (রাদিয়াল্লাহ আনহু)-এর শাসনামলে যখন ধর্মত্যাগের ফিতনা ছড়িয়ে পড়ে, তখন এই ছেলেটি নিজে তো ঈমান ও ইসলামের ওপর অটল ছিলই, অন্যদেরও আহ্বান করে গেছে মুসলিম থাকার ব্যাপারে।
কিন্দা গোত্রের একটি শাখা তুজীব। তারা আগেই ইসলাম গ্রহণ করেছে। যাকাত বণ্টনের পর বেঁচে যাওয়া কিছু টাকা তারা সাথে করে নিয়ে আসে, যাতে অন্যান্য অভাবী মুসলিমদের সাহায্য করা যায়। নবি এতে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং তাদের বেশ সম্মান করেন।
সপ্রশংস দৃষ্টিতে প্রতিনিধিদলটির দিকে তাকিয়ে আবূ বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মন্তব্য করেন, "আমাদের নিকট আরবের এদের চেয়ে উত্তম কোনও প্রতিনিধিদল আসেনি।"
প্রত্যুত্তরে নবি বলেন, "হিদায়াত আল্লাহর হাতে। সুতরাং তিনি যার কল্যাণের ইচ্ছা করেন তার বক্ষকে ঈমানের জন্য অবারিত করে দেন।”
তুজীব সদস্যরা ইসলাম শেখার ব্যাপারে প্রচুর আগ্রহ প্রকাশ করেন। কুরআন-সুন্নাহ হিফয করার ব্যাপারেও তাদের তৎপরতা দেখা যায়। বিদায়বেলায় নবি তাদের অনেক উপঢৌকন দেন। জিজ্ঞেস করেন যে, কেউ বাদ পড়ে গেছে কি না। তারা জানায় যে, শিবিরে একটি বালককে রেখে এসেছেন তারা। যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে কমবয়েসি। নবি বলেন, “ওকেও পাঠিয়ে দাও।”
দলটি ফিরে গিয়ে সেই ছেলেকে নবিজি -এর কথা বলে। ছেলেটি এসে জানায়, “ইয়া রাসুলাল্লাহ, একটু আগে যেই গোত্রটি এসেছিল, আমিও তাদের সদস্য। আপনি তাদের তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়েছেন। এবার আমাকেও আমার প্রয়োজনীয় জিনিসটি দিন।”
রাসূলুল্লাহ জিজ্ঞাসা করলেন, “কী চাও তুমি?”
“আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন তিনি আমাকে মাফ করে দেন, আমাকে রহম করেন এবং আমার হৃদয় প্রাচুর্যে ভরে দেন।” নবি ছেলেটির জন্য দুআ করেন। স্বগোত্রীয়দের চেয়ে সন্তুষ্টতর মন নিয়ে ফিরে যায় সে। পরে আবূ বকর (রাদিয়াল্লাহ আনহু)-এর শাসনামলে যখন ধর্মত্যাগের ফিতনা ছড়িয়ে পড়ে, তখন এই ছেলেটি নিজে তো ঈমান ও ইসলামের ওপর অটল ছিলই, অন্যদেরও আহ্বান করে গেছে মুসলিম থাকার ব্যাপারে।
কিন্দা গোত্রের একটি শাখা তুজীব। তারা আগেই ইসলাম গ্রহণ করেছে। যাকাত বণ্টনের পর বেঁচে যাওয়া কিছু টাকা তারা সাথে করে নিয়ে আসে, যাতে অন্যান্য অভাবী মুসলিমদের সাহায্য করা যায়। নবি এতে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং তাদের বেশ সম্মান করেন।
সপ্রশংস দৃষ্টিতে প্রতিনিধিদলটির দিকে তাকিয়ে আবূ বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মন্তব্য করেন, "আমাদের নিকট আরবের এদের চেয়ে উত্তম কোনও প্রতিনিধিদল আসেনি।"
প্রত্যুত্তরে নবি বলেন, "হিদায়াত আল্লাহর হাতে। সুতরাং তিনি যার কল্যাণের ইচ্ছা করেন তার বক্ষকে ঈমানের জন্য অবারিত করে দেন।”
তুজীব সদস্যরা ইসলাম শেখার ব্যাপারে প্রচুর আগ্রহ প্রকাশ করেন। কুরআন-সুন্নাহ হিফয করার ব্যাপারেও তাদের তৎপরতা দেখা যায়। বিদায়বেলায় নবি তাদের অনেক উপঢৌকন দেন। জিজ্ঞেস করেন যে, কেউ বাদ পড়ে গেছে কি না। তারা জানায় যে, শিবিরে একটি বালককে রেখে এসেছেন তারা। যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে কমবয়েসি। নবি বলেন, “ওকেও পাঠিয়ে দাও।”
দলটি ফিরে গিয়ে সেই ছেলেকে নবিজি -এর কথা বলে। ছেলেটি এসে জানায়, “ইয়া রাসুলাল্লাহ, একটু আগে যেই গোত্রটি এসেছিল, আমিও তাদের সদস্য। আপনি তাদের তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়েছেন। এবার আমাকেও আমার প্রয়োজনীয় জিনিসটি দিন।”
রাসূলুল্লাহ জিজ্ঞাসা করলেন, “কী চাও তুমি?”
“আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন তিনি আমাকে মাফ করে দেন, আমাকে রহম করেন এবং আমার হৃদয় প্রাচুর্যে ভরে দেন।” নবি ছেলেটির জন্য দুআ করেন। স্বগোত্রীয়দের চেয়ে সন্তুষ্টতর মন নিয়ে ফিরে যায় সে। পরে আবূ বকর (রাদিয়াল্লাহ আনহু)-এর শাসনামলে যখন ধর্মত্যাগের ফিতনা ছড়িয়ে পড়ে, তখন এই ছেলেটি নিজে তো ঈমান ও ইসলামের ওপর অটল ছিলই, অন্যদেরও আহ্বান করে গেছে মুসলিম থাকার ব্যাপারে।