📄 আবদুল কাইস গোত্রের প্রতিনিধিদল
বানু আবদিল কাইসের বসবাস পূর্ব আরবে। এরাই মদীনার বাইরে ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম গোত্র। মাসজিদে নববির বাইরে প্রথম জুমুআ আদায় হয় আবদুল কাইস গোত্রের মাসজিদে। যার অবস্থান বাহরাইনের 'জুআসা' নামক গ্রামে।
পঞ্চম ও নবম হিজরি সনে মোট দুবার দেখা করতে আসেন তারা। প্রথম দলটিতে ছিলেন তেরো কি চৌদ্দ জন সদস্য। বাইরে থেকেই মাসজিদের ভেতর নবিজি -কে দেখে তারা দ্রুত বাহন থেকে নেমে দৌড়ে আসে।
তবে তাদের মধ্যকার কনিষ্ঠতম সদস্য মুনযির ইবনু আইয আশাজ্জ দৌড়ে আসেননি। তিনি আস্তেধীরে সবার উটগুলো বসান। তারপর সব মালামাল হাওদা থেকে নামিয়ে একজায়গার জমা করেন। আগের পরিধেয় কাপড় পাল্টে পরে নেন নতুন দুটি সাদা কাপড়। তারপর এগিয়ে গিয়ে নবি -কে সালাম দেন। মুনযির (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর আচরণের প্রশংসা করে রাসূল বলেন, “তোমার মাঝে দুটি গুণ রয়েছে, যা আল্লাহ তাআলার অতি প্রিয়-সহিষ্ণুতা ও ধীরতা।”
এই দলটি মদীনায় এসে পৌঁছানোর আগেই নবি সাহাবিদের জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, “এখন একটি কাফেলা আসবে। পূর্ববাসীদের মাঝে এরাই শ্রেষ্ঠ। স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছে তারা। আমার কাছে আসার জন্যই তারা উটগুলোকে ক্লান্ত করে ফেলেছে, শেষ করে ফেলেছে সব রসদ। হে আল্লাহ, আবদুল কাইসকে ক্ষমা করুন।” প্রতিনিধিদলটি এসে পৌঁছানোর পর নবি বলেন, “স্বাগতম! তোমরা লাঞ্ছিতও হবে না, লজ্জিতও হবে না।” তারা জীবনপথে চলার জন্য দরকারি কিছু বিষয় শিখিয়ে দিতে নবি -কে অনুরোধ করেন। নবি তাদের চারটে দায়িত্ব দেন-
১. আল্লাহকে একমাত্র উপাস্য এবং মুহাম্মাদ -কে তাঁর নবি ও রাসূল বলে মেনে নেওয়া,
২. সালাত প্রতিষ্ঠা,
৩. যাকাত প্রদান,
৪. রমাদানের সিয়াম পালন।
হাজ্জ তখনো ফরজ হয়নি। তাই এর হুকুম তখন আবদুল কাইসের প্রতিনিধিদের বলেননি রাসূল। তা ছাড়া যেকোনও যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক-পঞ্চমাংশ দিয়ে যাওয়ার আদেশও করা হয়। মাদক সেবন নিষেধ করার পাশাপাশি ধ্বংস করে ফেলতে বলা হয় মদ পরিবেশনে ব্যবহার্য সব পাত্রও।
চার বছর পর চল্লিশ সদস্যবিশিষ্ট আরেকটি দল আসে। সে দলে জারূদ ইবনু আলা আবদি নামে একজন খ্রিষ্টানও ছিল। নবিজি -এর সাথে দেখা করার পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং খুব ভালোভাবে তা পালন করতে থাকেন।
টিকাঃ
[৫০৯] বুখারি, ৮৯২।
[৫১০] মুসলিম, ১৮।
[৫১১] বুখারি, ৫৩।
[৫১২] ইবনু হাজার, ফাতহুল বারি, ৮/৮৫-৮৬; নববি, শারহু মুসলিম, ১/৩৩।
বানু আবদিল কাইসের বসবাস পূর্ব আরবে। এরাই মদীনার বাইরে ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম গোত্র। মাসজিদে নববির বাইরে প্রথম জুমুআ আদায় হয় আবদুল কাইস গোত্রের মাসজিদে। যার অবস্থান বাহরাইনের 'জুআসা' নামক গ্রামে।
পঞ্চম ও নবম হিজরি সনে মোট দুবার দেখা করতে আসেন তারা। প্রথম দলটিতে ছিলেন তেরো কি চৌদ্দ জন সদস্য। বাইরে থেকেই মাসজিদের ভেতর নবিজি -কে দেখে তারা দ্রুত বাহন থেকে নেমে দৌড়ে আসে।
তবে তাদের মধ্যকার কনিষ্ঠতম সদস্য মুনযির ইবনু আইয আশাজ্জ দৌড়ে আসেননি। তিনি আস্তেধীরে সবার উটগুলো বসান। তারপর সব মালামাল হাওদা থেকে নামিয়ে একজায়গার জমা করেন। আগের পরিধেয় কাপড় পাল্টে পরে নেন নতুন দুটি সাদা কাপড়। তারপর এগিয়ে গিয়ে নবি -কে সালাম দেন। মুনযির (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর আচরণের প্রশংসা করে রাসূল বলেন, “তোমার মাঝে দুটি গুণ রয়েছে, যা আল্লাহ তাআলার অতি প্রিয়-সহিষ্ণুতা ও ধীরতা।”
এই দলটি মদীনায় এসে পৌঁছানোর আগেই নবি সাহাবিদের জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, “এখন একটি কাফেলা আসবে। পূর্ববাসীদের মাঝে এরাই শ্রেষ্ঠ। স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছে তারা। আমার কাছে আসার জন্যই তারা উটগুলোকে ক্লান্ত করে ফেলেছে, শেষ করে ফেলেছে সব রসদ। হে আল্লাহ, আবদুল কাইসকে ক্ষমা করুন।” প্রতিনিধিদলটি এসে পৌঁছানোর পর নবি বলেন, “স্বাগতম! তোমরা লাঞ্ছিতও হবে না, লজ্জিতও হবে না।” তারা জীবনপথে চলার জন্য দরকারি কিছু বিষয় শিখিয়ে দিতে নবি -কে অনুরোধ করেন। নবি তাদের চারটে দায়িত্ব দেন-
১. আল্লাহকে একমাত্র উপাস্য এবং মুহাম্মাদ -কে তাঁর নবি ও রাসূল বলে মেনে নেওয়া,
২. সালাত প্রতিষ্ঠা,
৩. যাকাত প্রদান,
৪. রমাদানের সিয়াম পালন।
হাজ্জ তখনো ফরজ হয়নি। তাই এর হুকুম তখন আবদুল কাইসের প্রতিনিধিদের বলেননি রাসূল। তা ছাড়া যেকোনও যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক-পঞ্চমাংশ দিয়ে যাওয়ার আদেশও করা হয়। মাদক সেবন নিষেধ করার পাশাপাশি ধ্বংস করে ফেলতে বলা হয় মদ পরিবেশনে ব্যবহার্য সব পাত্রও।
চার বছর পর চল্লিশ সদস্যবিশিষ্ট আরেকটি দল আসে। সে দলে জারূদ ইবনু আলা আবদি নামে একজন খ্রিষ্টানও ছিল। নবিজি -এর সাথে দেখা করার পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং খুব ভালোভাবে তা পালন করতে থাকেন।
টিকাঃ
[৫০৯] বুখারি, ৮৯২।
[৫১০] মুসলিম, ১৮।
[৫১১] বুখারি, ৫৩।
[৫১২] ইবনু হাজার, ফাতহুল বারি, ৮/৮৫-৮৬; নববি, শারহু মুসলিম, ১/৩৩।
বানু আবদিল কাইসের বসবাস পূর্ব আরবে। এরাই মদীনার বাইরে ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম গোত্র। মাসজিদে নববির বাইরে প্রথম জুমুআ আদায় হয় আবদুল কাইস গোত্রের মাসজিদে। যার অবস্থান বাহরাইনের 'জুআসা' নামক গ্রামে।
পঞ্চম ও নবম হিজরি সনে মোট দুবার দেখা করতে আসেন তারা। প্রথম দলটিতে ছিলেন তেরো কি চৌদ্দ জন সদস্য। বাইরে থেকেই মাসজিদের ভেতর নবিজি -কে দেখে তারা দ্রুত বাহন থেকে নেমে দৌড়ে আসে।
তবে তাদের মধ্যকার কনিষ্ঠতম সদস্য মুনযির ইবনু আইয আশাজ্জ দৌড়ে আসেননি। তিনি আস্তেধীরে সবার উটগুলো বসান। তারপর সব মালামাল হাওদা থেকে নামিয়ে একজায়গার জমা করেন। আগের পরিধেয় কাপড় পাল্টে পরে নেন নতুন দুটি সাদা কাপড়। তারপর এগিয়ে গিয়ে নবি -কে সালাম দেন। মুনযির (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর আচরণের প্রশংসা করে রাসূল বলেন, “তোমার মাঝে দুটি গুণ রয়েছে, যা আল্লাহ তাআলার অতি প্রিয়-সহিষ্ণুতা ও ধীরতা।”
এই দলটি মদীনায় এসে পৌঁছানোর আগেই নবি সাহাবিদের জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, “এখন একটি কাফেলা আসবে। পূর্ববাসীদের মাঝে এরাই শ্রেষ্ঠ। স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছে তারা। আমার কাছে আসার জন্যই তারা উটগুলোকে ক্লান্ত করে ফেলেছে, শেষ করে ফেলেছে সব রসদ। হে আল্লাহ, আবদুল কাইসকে ক্ষমা করুন।” প্রতিনিধিদলটি এসে পৌঁছানোর পর নবি বলেন, “স্বাগতম! তোমরা লাঞ্ছিতও হবে না, লজ্জিতও হবে না।” তারা জীবনপথে চলার জন্য দরকারি কিছু বিষয় শিখিয়ে দিতে নবি -কে অনুরোধ করেন। নবি তাদের চারটে দায়িত্ব দেন-
১. আল্লাহকে একমাত্র উপাস্য এবং মুহাম্মাদ -কে তাঁর নবি ও রাসূল বলে মেনে নেওয়া,
২. সালাত প্রতিষ্ঠা,
৩. যাকাত প্রদান,
৪. রমাদানের সিয়াম পালন।
হাজ্জ তখনো ফরজ হয়নি। তাই এর হুকুম তখন আবদুল কাইসের প্রতিনিধিদের বলেননি রাসূল। তা ছাড়া যেকোনও যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক-পঞ্চমাংশ দিয়ে যাওয়ার আদেশও করা হয়। মাদক সেবন নিষেধ করার পাশাপাশি ধ্বংস করে ফেলতে বলা হয় মদ পরিবেশনে ব্যবহার্য সব পাত্রও।
চার বছর পর চল্লিশ সদস্যবিশিষ্ট আরেকটি দল আসে। সে দলে জারূদ ইবনু আলা আবদি নামে একজন খ্রিষ্টানও ছিল। নবিজি -এর সাথে দেখা করার পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং খুব ভালোভাবে তা পালন করতে থাকেন।
টিকাঃ
[৫০৯] বুখারি, ৮৯২।
[৫১০] মুসলিম, ১৮।
[৫১১] বুখারি, ৫৩।
[৫১২] ইবনু হাজার, ফাতহুল বারি, ৮/৮৫-৮৬; নববি, শারহু মুসলিম, ১/৩৩।
📄 দিমাম ইবনু সা’লাবার আগমন ও জিজ্ঞাসাবাদ
ইসলামের দাওয়াহ এত দূর ছড়িয়ে পড়ে যে, দুর্গম এলাকাবাসী রুক্ষস্বভাব নিরক্ষর জাতিগুলোও সে ব্যাপারে জানতে পারে। এমনই এক গোত্র সা'দ ইবনু বকর। তাদের গোত্রপতি দিমাম ইবনু সা'লাবা মদীনায় আসেন নবি -কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে।
দিমামের লম্বা চুলে ছিল দুটি বেণী। উটকে বসিয়ে মাসজিদে নববির সাথে বেঁধে নেন। তারপর সোজা মাসজিদে ঢুকে জিজ্ঞেস করে, “তোমাদের মধ্যে আবদুল মুত্তালিবের নাতি কে?” সবাই নবিজি -এর দিকে দেখিয়ে দেয়। দিমাম ইবনু সা'লাবা এগিয়ে এসে বলেন,
“মুহাম্মাদ, আপনাকে সোজাসুজি কিছু কথা জিজ্ঞাসা করব এবং জিজ্ঞাসা করার ক্ষেত্রে কঠোরতা করব। যাতে আমার মনে কোনও খটকা না থাকে।”
“যা ইচ্ছা হয় জিজ্ঞাসা করুন।"
“আমাদের নিকট আপনার দূত এসে বলেছে যে, আপনি নাকি দাবি করেন—আপনি আল্লাহর রাসূল?”
“হ্যাঁ, সে সত্য বলেছে।”
“আচ্ছা। বলুন, আসমান কে সৃষ্টি করেছে?”
"আল্লাহ।”
“জমীন কে সৃষ্টি করেছে?”
"আল্লাহ।”
"এই পাহাড় কে স্থাপন করেছে আর এর ভেতরে যা কিছু আছে, তা কে বানিয়েছে?"
"আল্লাহ।”
“যিনি আসমান সৃষ্টি করেছেন, জমীন সৃষ্টি করেছেন এবং এই সমস্ত পাহাড় স্থাপন করেছেন সেই সত্তার কসম—আল্লাহ কি আপনাকে রাসূল বানিয়ে পাঠিয়েছেন?
"জি।”
“আপনার দূত আরও বলেছে যে, আমাদের ওপর দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত (ফরজ) সালাত রয়েছে?"
“সে সত্য বলেছে।”
“আপনাকে যিনি রাসূল বানিয়েছেন, তাঁর কসম—আল্লাহ কি সত্যই আপনাকে এই আদেশ দিয়েছেন?
“হ্যাঁ।”
“আপনার দূত এ-ও বলেছে যে, আমাদের ওপর আমাদের সম্পদের যাকাত দেওয়া ফরজ।”
“জি, সে সত্য বলেছে।”
“আপনাকে যিনি রাসূল বানিয়েছেন, তাঁর কসম—আল্লাহ কি সত্যই আপনাকে এই আদেশ দিয়েছেন?”
“হ্যাঁ।”
"আপনার দূত বলেছে, আমাদের ওপর প্রতিবছর রমাদান মাসে সিয়াম পালন করা ফরজ।”
"সে সত্য বলেছে।”
"আপনাকে যিনি রাসূল বানিয়েছেন, তাঁর কসম—আল্লাহ কি সত্যই আপনাকে এই আদেশ দিয়েছেন?"
“হ্যাঁ।”
“আপনার দূত আরও বলেছে যে, যারা বাইতুল্লাহ পর্যন্ত আসা-যাওয়ার সামর্থ্য রাখে তাদের ওপর হাজ্জ করা ফরজ!"
"হ্যাঁ, সে সত্য বলেছে।”
"আপনাকে যিনি রাসূল বানিয়েছে, তাঁর কসম—আল্লাহ কি সত্যই আপনাকে এই আদেশ দিয়েছেন?”
“হ্যাঁ।”
দিমাম ইবন সা'লাবা বললেন, “যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, তাঁর কসম—আমি এর চেয়ে বাড়াবও না আবার কমও করব না।”
রাসূল দিমামের ব্যাপারে সাহাবিদের বলেছিলেন, “যদি সে সত্য বলে থাকে, তাহলে নিশ্চয়ই জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
দিমাম ইবনু সা'লাবা (রদিয়াল্লাহু আনহু) সেদিন মদীনায় ইসলাম গ্রহণ করে নিজ সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে যান। রাসূল ﷺ-এর সাথে কথোপকথনের বিষয়টি জানান সবাইকে। তিনি কী আদেশ করেছেন আর কী নিষেধ করেছেন সব খুলে বললে সেদিনই তার সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ সবাই মুসলিম হয়ে যায়। একজনও বাকি ছিল না। এরপরে তারা সেখানে মাসজিদ নির্মাণ করে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা আরম্ভ করেন। এই কারণে নিঃসন্দেহে বলা যায়, দিমাম ইবনু সা'লাবা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর চেয়ে উত্তম কোনও আগমনকারী ছিল না।
টিকাঃ
[৫১৩] বুখারি, ৬৩; তিরমিযি, ৬১৯।
ইসলামের দাওয়াহ এত দূর ছড়িয়ে পড়ে যে, দুর্গম এলাকাবাসী রুক্ষস্বভাব নিরক্ষর জাতিগুলোও সে ব্যাপারে জানতে পারে। এমনই এক গোত্র সা'দ ইবনু বকর। তাদের গোত্রপতি দিমাম ইবনু সা'লাবা মদীনায় আসেন নবি -কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে।
দিমামের লম্বা চুলে ছিল দুটি বেণী। উটকে বসিয়ে মাসজিদে নববির সাথে বেঁধে নেন। তারপর সোজা মাসজিদে ঢুকে জিজ্ঞেস করে, “তোমাদের মধ্যে আবদুল মুত্তালিবের নাতি কে?” সবাই নবিজি -এর দিকে দেখিয়ে দেয়। দিমাম ইবনু সা'লাবা এগিয়ে এসে বলেন,
“মুহাম্মাদ, আপনাকে সোজাসুজি কিছু কথা জিজ্ঞাসা করব এবং জিজ্ঞাসা করার ক্ষেত্রে কঠোরতা করব। যাতে আমার মনে কোনও খটকা না থাকে।”
“যা ইচ্ছা হয় জিজ্ঞাসা করুন।"
“আমাদের নিকট আপনার দূত এসে বলেছে যে, আপনি নাকি দাবি করেন—আপনি আল্লাহর রাসূল?”
“হ্যাঁ, সে সত্য বলেছে।”
“আচ্ছা। বলুন, আসমান কে সৃষ্টি করেছে?”
"আল্লাহ।”
“জমীন কে সৃষ্টি করেছে?”
"আল্লাহ।”
"এই পাহাড় কে স্থাপন করেছে আর এর ভেতরে যা কিছু আছে, তা কে বানিয়েছে?"
"আল্লাহ।”
“যিনি আসমান সৃষ্টি করেছেন, জমীন সৃষ্টি করেছেন এবং এই সমস্ত পাহাড় স্থাপন করেছেন সেই সত্তার কসম—আল্লাহ কি আপনাকে রাসূল বানিয়ে পাঠিয়েছেন?
"জি।”
“আপনার দূত আরও বলেছে যে, আমাদের ওপর দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত (ফরজ) সালাত রয়েছে?"
“সে সত্য বলেছে।”
“আপনাকে যিনি রাসূল বানিয়েছেন, তাঁর কসম—আল্লাহ কি সত্যই আপনাকে এই আদেশ দিয়েছেন?
“হ্যাঁ।”
“আপনার দূত এ-ও বলেছে যে, আমাদের ওপর আমাদের সম্পদের যাকাত দেওয়া ফরজ।”
“জি, সে সত্য বলেছে।”
“আপনাকে যিনি রাসূল বানিয়েছেন, তাঁর কসম—আল্লাহ কি সত্যই আপনাকে এই আদেশ দিয়েছেন?”
“হ্যাঁ।”
"আপনার দূত বলেছে, আমাদের ওপর প্রতিবছর রমাদান মাসে সিয়াম পালন করা ফরজ।”
"সে সত্য বলেছে।”
"আপনাকে যিনি রাসূল বানিয়েছেন, তাঁর কসম—আল্লাহ কি সত্যই আপনাকে এই আদেশ দিয়েছেন?"
“হ্যাঁ।”
“আপনার দূত আরও বলেছে যে, যারা বাইতুল্লাহ পর্যন্ত আসা-যাওয়ার সামর্থ্য রাখে তাদের ওপর হাজ্জ করা ফরজ!"
"হ্যাঁ, সে সত্য বলেছে।”
"আপনাকে যিনি রাসূল বানিয়েছে, তাঁর কসম—আল্লাহ কি সত্যই আপনাকে এই আদেশ দিয়েছেন?”
“হ্যাঁ।”
দিমাম ইবন সা'লাবা বললেন, “যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, তাঁর কসম—আমি এর চেয়ে বাড়াবও না আবার কমও করব না।”
রাসূল দিমামের ব্যাপারে সাহাবিদের বলেছিলেন, “যদি সে সত্য বলে থাকে, তাহলে নিশ্চয়ই জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
দিমাম ইবনু সা'লাবা (রদিয়াল্লাহু আনহু) সেদিন মদীনায় ইসলাম গ্রহণ করে নিজ সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে যান। রাসূল ﷺ-এর সাথে কথোপকথনের বিষয়টি জানান সবাইকে। তিনি কী আদেশ করেছেন আর কী নিষেধ করেছেন সব খুলে বললে সেদিনই তার সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ সবাই মুসলিম হয়ে যায়। একজনও বাকি ছিল না। এরপরে তারা সেখানে মাসজিদ নির্মাণ করে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা আরম্ভ করেন। এই কারণে নিঃসন্দেহে বলা যায়, দিমাম ইবনু সা'লাবা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর চেয়ে উত্তম কোনও আগমনকারী ছিল না।
টিকাঃ
[৫১৩] বুখারি, ৬৩; তিরমিযি, ৬১৯।
ইসলামের দাওয়াহ এত দূর ছড়িয়ে পড়ে যে, দুর্গম এলাকাবাসী রুক্ষস্বভাব নিরক্ষর জাতিগুলোও সে ব্যাপারে জানতে পারে। এমনই এক গোত্র সা'দ ইবনু বকর। তাদের গোত্রপতি দিমাম ইবনু সা'লাবা মদীনায় আসেন নবি -কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে।
দিমামের লম্বা চুলে ছিল দুটি বেণী। উটকে বসিয়ে মাসজিদে নববির সাথে বেঁধে নেন। তারপর সোজা মাসজিদে ঢুকে জিজ্ঞেস করে, “তোমাদের মধ্যে আবদুল মুত্তালিবের নাতি কে?” সবাই নবিজি -এর দিকে দেখিয়ে দেয়। দিমাম ইবনু সা'লাবা এগিয়ে এসে বলেন,
“মুহাম্মাদ, আপনাকে সোজাসুজি কিছু কথা জিজ্ঞাসা করব এবং জিজ্ঞাসা করার ক্ষেত্রে কঠোরতা করব। যাতে আমার মনে কোনও খটকা না থাকে।”
“যা ইচ্ছা হয় জিজ্ঞাসা করুন।”
“আমাদের নিকট আপনার দূত এসে বলেছে যে, আপনি নাকি দাবি করেন—আপনি আল্লাহর রাসূল?”
“হ্যাঁ, সে সত্য বলেছে।”
“আচ্ছা। বলুন, আসমান কে সৃষ্টি করেছে?”
"আল্লাহ।”
“জমীন কে সৃষ্টি করেছে?”
"আল্লাহ।”
"এই পাহাড় কে স্থাপন করেছে আর এর ভেতরে যা কিছু আছে, তা কে বানিয়েছে?"
"আল্লাহ।”
“যিনি আসমান সৃষ্টি করেছেন, জমীন সৃষ্টি করেছেন এবং এই সমস্ত পাহাড় স্থাপন করেছেন সেই সত্তার কসম—আল্লাহ কি আপনাকে রাসূল বানিয়ে পাঠিয়েছেন?
"জি।”
“আপনার দূত আরও বলেছে যে, আমাদের ওপর দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত (ফরজ) সালাত রয়েছে?”
“সে সত্য বলেছে।”
“আপনাকে যিনি রাসূল বানিয়েছেন, তাঁর কসম—আল্লাহ কি সত্যই আপনাকে এই আদেশ দিয়েছেন?
“হ্যাঁ।”
“আপনার দূত এ-ও বলেছে যে, আমাদের ওপর আমাদের সম্পদের যাকাত দেওয়া ফরজ।”
“জি, সে সত্য বলেছে।”
“আপনাকে যিনি রাসূল বানিয়েছেন, তাঁর কসম—আল্লাহ কি সত্যই আপনাকে এই আদেশ দিয়েছেন?”
“হ্যাঁ।”
"আপনার দূত বলেছে, আমাদের ওপর প্রতিবছর রমাদান মাসে সিয়াম পালন করা ফরজ।”
"সে সত্য বলেছে।”
"আপনাকে যিনি রাসূল বানিয়েছেন, তাঁর কসম—আল্লাহ কি সত্যই আপনাকে এই আদেশ দিয়েছেন?"
“হ্যাঁ।”
“আপনার দূত আরও বলেছে যে, যারা বাইতুল্লাহ পর্যন্ত আসা-যাওয়ার সামর্থ্য রাখে তাদের ওপর হাজ্জ করা ফরজ!"
"হ্যাঁ, সে সত্য বলেছে।”
"আপনাকে যিনি রাসূল বানিয়েছে, তাঁর কসম—আল্লাহ কি সত্যই আপনাকে এই আদেশ দিয়েছেন?”
“হ্যাঁ।”
দিমাম ইবন সা'লাবা বললেন, “যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, তাঁর কসম—আমি এর চেয়ে বাড়াবও না আবার কমও করব না।”
রাসূল দিমামের ব্যাপারে সাহাবিদের বলেছিলেন, “যদি সে সত্য বলে থাকে, তাহলে নিশ্চয়ই জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
দিমাম ইবনু সা'লাবা (রদিয়াল্লাহু আনহু) সেদিন মদীনায় ইসলাম গ্রহণ করে নিজ সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে যান। রাসূল ﷺ-এর সাথে কথোপকথনের বিষয়টি জানান সবাইকে। তিনি কী আদেশ করেছেন আর কী নিষেধ করেছেন সব খুলে বললে সেদিনই তার সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ সবাই মুসলিম হয়ে যায়। একজনও বাকি ছিল না। এরপরে তারা সেখানে মাসজিদ নির্মাণ করে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা আরম্ভ করেন। এই কারণে নিঃসন্দেহে বলা যায়, দিমাম ইবনু সা'লাবা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর চেয়ে উত্তম কোনও আগমনকারী ছিল না।
টিকাঃ
[৫১৩] বুখারি, ৬৩; তিরমিযি, ৬১৯।
📄 আযরা এবং বালি গোত্রদ্বয়ের প্রতিনিধিদল
নবম হিজরি সনের সফর মাসে বানু আযরা থেকে বারো জন লোক আসেন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে। নবিজির গোত্রের প্রতিষ্ঠাতা কুসাইয়ের সাথে নিজেদের মিত্রতার কথা জানান তারা। মক্কা থেকে বকর এবং খুযাআ গোত্রকে বিতাড়িত করতে তাকে কীভাবে সাহায্য করেছেন, সে কথাও বলেন। এই কারণে নবি তাদের মারহাবা ও অভিনন্দন জানান।
এরপর তাদের সকলে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাদের তিনি সিরিয়া বিজয়ের সুসংবাদ প্রদান করেন এবং পৌত্তলিক ধর্মের আচারপ্রথা ছেড়ে দেওয়ার আদেশ দেন। যেমন, জ্যোতিষীদের কাছে যাওয়া, মন্দিরে পশুবলি দেওয়া, অগ্নিপূজা করা ইত্যাদি।
একই বছরে বালি থেকেও আরেকটি প্রতিনিধিদল আসে। এর সদস্যরাও ইসলাম গ্রহণ করে বাড়ি ফেরেন। মদীনায় তিন দিন অবস্থান করেছিলেন তারা।
নবম হিজরি সনের সফর মাসে বানু আযরা থেকে বারো জন লোক আসেন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে। নবিজির গোত্রের প্রতিষ্ঠাতা কুসাইয়ের সাথে নিজেদের মিত্রতার কথা জানান তারা। মক্কা থেকে বকর এবং খুযাআ গোত্রকে বিতাড়িত করতে তাকে কীভাবে সাহায্য করেছেন, সে কথাও বলেন। এই কারণে নবি তাদের মারহাবা ও অভিনন্দন জানান।
এরপর তাদের সকলে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাদের তিনি সিরিয়া বিজয়ের সুসংবাদ প্রদান করেন এবং পৌত্তলিক ধর্মের আচারপ্রথা ছেড়ে দেওয়ার আদেশ দেন। যেমন, জ্যোতিষীদের কাছে যাওয়া, মন্দিরে পশুবলি দেওয়া, অগ্নিপূজা করা ইত্যাদি।
একই বছরে বালি থেকেও আরেকটি প্রতিনিধিদল আসে। এর সদস্যরাও ইসলাম গ্রহণ করে বাড়ি ফেরেন। মদীনায় তিন দিন অবস্থান করেছিলেন তারা।
নবম হিজরি সনের সফর মাসে বানু আযরা থেকে বারো জন লোক আসেন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে। নবিজির গোত্রের প্রতিষ্ঠাতা কুসাইয়ের সাথে নিজেদের মিত্রতার কথা জানান তারা। মক্কা থেকে বকর এবং খুযাআ গোত্রকে বিতাড়িত করতে তাকে কীভাবে সাহায্য করেছেন, সে কথাও বলেন। এই কারণে নবি তাদের মারহাবা ও অভিনন্দন জানান।
এরপর তাদের সকলে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাদের তিনি সিরিয়া বিজয়ের সুসংবাদ প্রদান করেন এবং পৌত্তলিক ধর্মের আচারপ্রথা ছেড়ে দেওয়ার আদেশ দেন। যেমন, জ্যোতিষীদের কাছে যাওয়া, মন্দিরে পশুবলি দেওয়া, অগ্নিপূজা করা ইত্যাদি।
একই বছরে বালি থেকেও আরেকটি প্রতিনিধিদল আসে। এর সদস্যরাও ইসলাম গ্রহণ করে বাড়ি ফেরেন। মদীনায় তিন দিন অবস্থান করেছিলেন তারা।
📄 বানূ আসাদ ইবনি খুযাইমা গোত্রের প্রতিনিধিদল
নবম হিজরির শুরুর দিকে বানু আসাদ ইবনি খুযাইমার একটি দল নবিজি -এর সাক্ষাতে আসে। এসে মাসজিদের ভেতর কয়েকজন সাহাবির সাথে বসা দেখতে পায় নবিজিকে। সবাই সালাম প্রদানের পর তাদের মুখপাত্র বলেন,
“হে আল্লাহর রাসূল, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ এক। তাঁর কোনও অংশীদার বা সমকক্ষ নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি তাঁর দাস ও বার্তাবাহক। হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমাদের কাছে কোনও দূত পাঠানো ছাড়াই আমরা ইসলাম গ্রহণ করছি। অন্যান্য গোত্রের মতো আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধও করিনি। নিজ জাতির পক্ষ থেকে শান্তির বার্তা নিয়ে এসেছি আমরা।”
এ দাবির প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা আয়াত নাযিল করেন,
"তারা ভেবেছে ইসলাম গ্রহণ করে তারা আপনার ওপর অনুগ্রহ করে ফেলেছে। বলে দিন, 'তোমরা মুসলিম হয়ে আমাকে করুণা করোনি; বরং আল্লাহই তোমাদের ঈমানের দিকে হিদায়াত দিয়ে বিরাট করুণা করেছেন। যদি তোমরা সত্যনিষ্ঠ হয়ে থাকো।”
এরপর প্রতিনিধিদলটি ভাগ্যগণনা, জ্যোতিষশাস্ত্র চর্চা করা এবং পাখির ওড়ার পথ দেখে সুলক্ষণ-কুলক্ষণ নির্ধারণ করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে। নবি জানিয়ে দেন যে, এগুলো সব শরীআতে নিষিদ্ধ, করা যাবে না। লক্ষণের অর্থ বের করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে নবি বলেন, “এক নবি ছিলেন, যিনি এটা পারতেন। তোমাদের জ্ঞান ওই নবির সমান হলে করতে পারো।” মোটকথা, ভবিষ্যৎ নির্ণয়ের যেকোনও চেষ্টা ইসলামে হারাম। আরও কিছুদিন মদীনায় অবস্থান করে ইসলামের মৌলিক বিষয়াদি শিখে নেয় দলটি।
টিকাঃ
[৫১৪] সূরা হুজুরাত, ৪৯ : ১৭।
নবম হিজরির শুরুর দিকে বানু আসাদ ইবনি খুযাইমার একটি দল নবিজি -এর সাক্ষাতে আসে। এসে মাসজিদের ভেতর কয়েকজন সাহাবির সাথে বসা দেখতে পায় নবিজিকে। সবাই সালাম প্রদানের পর তাদের মুখপাত্র বলেন,
“হে আল্লাহর রাসূল, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ এক। তাঁর কোনও অংশীদার বা সমকক্ষ নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি তাঁর দাস ও বার্তাবাহক। হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমাদের কাছে কোনও দূত পাঠানো ছাড়াই আমরা ইসলাম গ্রহণ করছি। অন্যান্য গোত্রের মতো আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধও করিনি। নিজ জাতির পক্ষ থেকে শান্তির বার্তা নিয়ে এসেছি আমরা।”
এ দাবির প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা আয়াত নাযিল করেন,
"তারা ভেবেছে ইসলাম গ্রহণ করে তারা আপনার ওপর অনুগ্রহ করে ফেলেছে। বলে দিন, 'তোমরা মুসলিম হয়ে আমাকে করুণা করোনি; বরং আল্লাহই তোমাদের ঈমানের দিকে হিদায়াত দিয়ে বিরাট করুণা করেছেন। যদি তোমরা সত্যনিষ্ঠ হয়ে থাকো।”
এরপর প্রতিনিধিদলটি ভাগ্যগণনা, জ্যোতিষশাস্ত্র চর্চা করা এবং পাখির ওড়ার পথ দেখে সুলক্ষণ-কুলক্ষণ নির্ধারণ করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে। নবি জানিয়ে দেন যে, এগুলো সব শরীআতে নিষিদ্ধ, করা যাবে না। লক্ষণের অর্থ বের করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে নবি বলেন, “এক নবি ছিলেন, যিনি এটা পারতেন। তোমাদের জ্ঞান ওই নবির সমান হলে করতে পারো।” মোটকথা, ভবিষ্যৎ নির্ণয়ের যেকোনও চেষ্টা ইসলামে হারাম। আরও কিছুদিন মদীনায় অবস্থান করে ইসলামের মৌলিক বিষয়াদি শিখে নেয় দলটি।
টিকাঃ
[৫১৪] সূরা হুজুরাত, ৪৯ : ১৭।
নবম হিজরির শুরুর দিকে বানু আসাদ ইবনি খুযাইমার একটি দল নবিজি -এর সাক্ষাতে আসে। এসে মাসজিদের ভেতর কয়েকজন সাহাবির সাথে বসা দেখতে পায় নবিজিকে। সবাই সালাম প্রদানের পর তাদের মুখপাত্র বলেন,
“হে আল্লাহর রাসূল, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ এক। তাঁর কোনও অংশীদার বা সমকক্ষ নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি তাঁর দাস ও বার্তাবাহক। হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমাদের কাছে কোনও দূত পাঠানো ছাড়াই আমরা ইসলাম গ্রহণ করছি। অন্যান্য গোত্রের মতো আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধও করিনি। নিজ জাতির পক্ষ থেকে শান্তির বার্তা নিয়ে এসেছি আমরা।”
এ দাবির প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা আয়াত নাযিল করেন,
"তারা ভেবেছে ইসলাম গ্রহণ করে তারা আপনার ওপর অনুগ্রহ করে ফেলেছে। বলে দিন, 'তোমরা মুসলিম হয়ে আমাকে করুণা করোনি; বরং আল্লাহই তোমাদের ঈমানের দিকে হিদায়াত দিয়ে বিরাট করুণা করেছেন। যদি তোমরা সত্যনিষ্ঠ হয়ে থাকো।”
এরপর প্রতিনিধিদলটি ভাগ্যগণনা, জ্যোতিষশাস্ত্র চর্চা করা এবং পাখির ওড়ার পথ দেখে সুলক্ষণ-কুলক্ষণ নির্ধারণ করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে। নবি জানিয়ে দেন যে, এগুলো সব শরীআতে নিষিদ্ধ, করা যাবে না। লক্ষণের অর্থ বের করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে নবি বলেন, “এক নবি ছিলেন, যিনি এটা পারতেন। তোমাদের জ্ঞান ওই নবির সমান হলে করতে পারো।” মোটকথা, ভবিষ্যৎ নির্ণয়ের যেকোনও চেষ্টা ইসলামে হারাম। আরও কিছুদিন মদীনায় অবস্থান করে ইসলামের মৌলিক বিষয়াদি শিখে নেয় দলটি।
টিকাঃ
[৫১৪] সূরা হুজুরাত, ৪৯ : ১৭।