📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 মুসলিম সৈন্যবাহিনী তাবূকের পথে

📄 মুসলিম সৈন্যবাহিনী তাবূকের পথে


অবশেষে মুসলিমরা দীর্ঘ মরু পাড়ি দিয়ে তাবুকে যেতে প্রস্তুত। মদীনার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক হন মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামা (রদিয়াল্লাহু আনহু)। আলি ইবনু আবী তালিব (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কেও রেখে যাওয়া হয় নারী ও শিশুদের দেখভাল করতে। সেনাদলের সবচেয়ে বড় পতাকাটি থাকে আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে। যুবাইর, উসাইদ ইবনু হুদাইর এবং হুবাব ইবনুল মুনযির (রদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর হাতে যথাক্রমে মুহাজির, আওস ও খাযরাজের পতাকা।
ত্রিশ হাজার সেনা নিয়ে নবি তাবুক অভিমুখে রওনা হন ৯ম হিজরি সনের রজব মাসের কোনও এক বৃহস্পতিবারে। মানুষ অনুপাতে উটের সংখ্যা এতই কম যে, একটি উঠের পিঠে পালা করে আঠারো জন পর্যন্ত আরোহণ করেন। খুব কষ্টের সফর ছিল। খাদ্যাভাবের কারণে গাছের পাতা চিবিয়ে খেতে খেতে সবার ঠোঁট ফুলে যায়। একে তো উটের অভাব, তার ওপর পানিসংকট। তৃষ্ণায় প্রাণ বের হওয়ার উপক্রম হলে কয়েকটি উট যবাই করে সেগুলোর পেটে থাকা পানি পর্যন্ত পান করেন সাহাবায়ে কেরাম। কারণ, মাথার ওপর ছিল তখন মরুভূমির পাথর-ফাটা তপ্ত রোদ।
ওদিকে মদীনায় মুনাফিকদের ঠাট্টা-মশকরা দিনে দিনে সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আলি (রদিয়াল্লাহু আনহু) ধৈর্য হারিয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন সেনাদলের সাথে গিয়ে যোগ দেওয়ার। বাহন ছুটিয়ে তিনি সেনাদলের কাছে পৌঁছে যান। নবি তাঁকে মদীনায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “তুমি কি এতে সন্তুষ্ট না যে, আমার সাথে তোমার সম্পৃক্ততা হবে মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে যেমন হারুন (আলাইহিস সালাম) ছিলেন? তবে আমার পরে কোনও নবি আসবেন না, এ-ই যা পার্থক্য।”
সামূদ জাতির আদি বাসস্থান 'হিজর'-এ এসে থামে মুসলিম বাহিনী। এই জাতির কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন নবি সালিহ (আলাইহিস সালাম)। বেপরোয়াভাবে কুফরিতে লিপ্ত এই জাতিটির কাছে আল্লাহর মু'জিযা হিসেবে পাহাড় থেকে বের করে আনা হয়েছিল একটি উটনী। সাময়িকভাবে শান্ত হওয়া জাতিটিকে বলা হয় যে, আল্লাহ তাআলার এই উটনীটির যেন কোনও ক্ষতি করা না হয়। কিন্তু অহংকারবশত একসময় তারা এই নিষিদ্ধ কাজটিই করে বসে। হত্যা করে ফেলে উটনীটিকে। ফলে প্রচণ্ড এক ভূমিকম্পের মাধ্যমে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়। হিজরের ঘরগুলো আজও তাদের বিলুপ্ত অস্তিত্বের সাক্ষী।
এলাকাটির কুয়া থেকে সাহাবিরা পানি তুলতে লাগলেন। রুটির জন্য খামির প্রস্তুত করতে হবে। নবি এ দৃশ্য দেখামাত্র নির্দেশ দেন পানি ফেলে দিতে। খামির যা ইতিমধ্যে বানানো হয়ে গেছে, সেগুলো উট আর ঘোড়াগুলোকে খাইয়ে দিতে বললেন। সালিহ (আলাইহিস সালাম)-এর সেই উটনী যে কুয়া থেকে পানি পান করত, সেটি দেখিয়ে দেন নবিজি । সেখান থেকেই পানি নিতে বলেন সাহাবিদের।
অবাধ্য এ জাতিটির এলাকা পার হতে হতে নবি সাথিদের এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে বললেন। আল্লাহর অবাধ্যতার ফল এমনই কঠোর।
“তোমরা জালিমদের বাসস্থানে কেবল কান্নারত অবস্থায় প্রবেশ করো। এই ভয়ে যে, তাদের ওপর যে মুসীবত এসেছিল তা তোমাদের ওপরও এসে পড়বে।”
এরপর মুসলিমরা বিনীত ভঙ্গিতে কাপড়ে মাথা ঢেকে দ্রুত স্থানটি পার হয়ে যান। রাস্তার মধ্যে রাসূলুল্লাহ যোহরের ওয়াক্তে যোহরকে আসরের সাথে মিলিয়ে এবং ইশার ওয়াক্তে মাগরিব ও ইশার সালাত একত্রে আদায় করেন।
প্রায় চার শ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নবিজি -এর সেনারা তাবুকে এসে পৌঁছান। এখানে এসে সবাই আবূ খাইসামা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর দেখা পান। ইনি কোনও বৈধ অজুহাত ছাড়া মদীনায় রয়ে গিয়েছিলেন। জানালেন যে, সেনাদল মদীনা ছেড়ে যাওয়ার পর একদিন প্রচণ্ড গরমে তিনি তার বাগানে প্রবেশ করে বসেন। তার দুই স্ত্রী চারপাশে পানি ছিটিয়ে দেন এবং সুশীতল পানি ও খাবার নিয়ে আসেন তার জন্য। হঠাৎ বোধোদয় হলে তিনি স্ত্রীদের বলেন, “নবিজি ওদিকে রোদে পুড়ছেন। আর আমি কি না বসে বসে শীতল ছায়া, ঠান্ডা পানি আর মধুর নারীসঙ্গ ভোগ করছি? এ তো অন্যায়! আল্লাহর কসম! আমি ঘরেও ঢুকব না। সোজা নবিজির কাছে চলে যাব। তোমরা দু'জন আমার মালপত্র প্রস্তুত করে দাও।” স্ত্রীদ্বয় তা-ই করেন। তরবারি ও বর্শা নিয়ে উট ছুটিয়ে নবিজি -এর কাছে চলে আসেন আবূ খাইসামা (রদিয়াল্লাহু আনহু)। তখন নবি মাত্র তাবূকে এসে পৌঁছেছেন।

টিকাঃ
[৪৯৩] বুখারি, ৩৭০৬।
[৪৯৪] বুখারি, ৪৩৩।
[৪৯৫] মুসলিম, ৭০৬; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৫/২৩৭।
[৪৯৬] বাইহাকি, দালাইলুন নুবুওয়াহ, ৫/২২৩।

অবশেষে মুসলিমরা দীর্ঘ মরু পাড়ি দিয়ে তাবুকে যেতে প্রস্তুত। মদীনার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক হন মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামা (রদিয়াল্লাহু আনহু)। আলি ইবনু আবী তালিব (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কেও রেখে যাওয়া হয় নারী ও শিশুদের দেখভাল করতে। সেনাদলের সবচেয়ে বড় পতাকাটি থাকে আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে। যুবাইর, উসাইদ ইবনু হুদাইর এবং হুবাব ইবনুল মুনযির (রদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর হাতে যথাক্রমে মুহাজির, আওস ও খাযরাজের পতাকা।
ত্রিশ হাজার সেনা নিয়ে নবি তাবুক অভিমুখে রওনা হন ৯ম হিজরি সনের রজব মাসের কোনও এক বৃহস্পতিবারে। মানুষ অনুপাতে উটের সংখ্যা এতই কম যে, একটি উঠের পিঠে পালা করে আঠারো জন পর্যন্ত আরোহণ করেন। খুব কষ্টের সফর ছিল। খাদ্যাভাবের কারণে গাছের পাতা চিবিয়ে খেতে খেতে সবার ঠোঁট ফুলে যায়। একে তো উটের অভাব, তার ওপর পানিসংকট। তৃষ্ণায় প্রাণ বের হওয়ার উপক্রম হলে কয়েকটি উট যবাই করে সেগুলোর পেটে থাকা পানি পর্যন্ত পান করেন সাহাবায়ে কেরাম। কারণ, মাথার ওপর ছিল তখন মরুভূমির পাথর-ফাটা তপ্ত রোদ।
ওদিকে মদীনায় মুনাফিকদের ঠাট্টা-মশকরা দিনে দিনে সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আলি (রদিয়াল্লাহু আনহু) ধৈর্য হারিয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন সেনাদলের সাথে গিয়ে যোগ দেওয়ার। বাহন ছুটিয়ে তিনি সেনাদলের কাছে পৌঁছে যান। নবি তাঁকে মদীনায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “তুমি কি এতে সন্তুষ্ট না যে, আমার সাথে তোমার সম্পৃক্ততা হবে মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে যেমন হারুন (আলাইহিস সালাম) ছিলেন? তবে আমার পরে কোনও নবি আসবেন না, এ-ই যা পার্থক্য।”
সামূদ জাতির আদি বাসস্থান 'হিজর'-এ এসে থামে মুসলিম বাহিনী। এই জাতির কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন নবি সালিহ (আলাইহিস সালাম)। বেপরোয়াভাবে কুফরিতে লিপ্ত এই জাতিটির কাছে আল্লাহর মু'জিযা হিসেবে পাহাড় থেকে বের করে আনা হয়েছিল একটি উটনী। সাময়িকভাবে শান্ত হওয়া জাতিটিকে বলা হয় যে, আল্লাহ তাআলার এই উটনীটির যেন কোনও ক্ষতি করা না হয়। কিন্তু অহংকারবশত একসময় তারা এই নিষিদ্ধ কাজটিই করে বসে। হত্যা করে ফেলে উটনীটিকে। ফলে প্রচণ্ড এক ভূমিকম্পের মাধ্যমে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়। হিজরের ঘরগুলো আজও তাদের বিলুপ্ত অস্তিত্বের সাক্ষী।
এলাকাটির কুয়া থেকে সাহাবিরা পানি তুলতে লাগলেন। রুটির জন্য খামির প্রস্তুত করতে হবে। নবি এ দৃশ্য দেখামাত্র নির্দেশ দেন পানি ফেলে দিতে। খামির যা ইতিমধ্যে বানানো হয়ে গেছে, সেগুলো উট আর ঘোড়াগুলোকে খাইয়ে দিতে বললেন। সালিহ (আলাইহিস সালাম)-এর সেই উটনী যে কুয়া থেকে পানি পান করত, সেটি দেখিয়ে দেন নবিজি । সেখান থেকেই পানি নিতে বলেন সাহাবিদের।
অবাধ্য এ জাতিটির এলাকা পার হতে হতে নবি সাথিদের এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে বললেন। আল্লাহর অবাধ্যতার ফল এমনই কঠোর।
“তোমরা জালিমদের বাসস্থানে কেবল কান্নারত অবস্থায় প্রবেশ করো। এই ভয়ে যে, তাদের ওপর যে মুসীবত এসেছিল তা তোমাদের ওপরও এসে পড়বে।”
এরপর মুসলিমরা বিনীত ভঙ্গিতে কাপড়ে মাথা ঢেকে দ্রুত স্থানটি পার হয়ে যান। রাস্তার মধ্যে রাসূলুল্লাহ যোহরের ওয়াক্তে যোহরকে আসরের সাথে মিলিয়ে এবং ইশার ওয়াক্তে মাগরিব ও ইশার সালাত একত্রে আদায় করেন।
প্রায় চার শ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নবিজি -এর সেনারা তাবুকে এসে পৌঁছান। এখানে এসে সবাই আবূ খাইসামা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর দেখা পান। ইনি কোনও বৈধ অজুহাত ছাড়া মদীনায় রয়ে গিয়েছিলেন। জানালেন যে, সেনাদল মদীনা ছেড়ে যাওয়ার পর একদিন প্রচণ্ড গরমে তিনি তার বাগানে প্রবেশ করে বসেন। তার দুই স্ত্রী চারপাশে পানি ছিটিয়ে দেন এবং সুশীতল পানি ও খাবার নিয়ে আসেন তার জন্য। হঠাৎ বোধোদয় হলে তিনি স্ত্রীদের বলেন, “নবিজি ওদিকে রোদে পুড়ছেন। আর আমি কি না বসে বসে শীতল ছায়া, ঠান্ডা পানি আর মধুর নারীসঙ্গ ভোগ করছি? এ তো অন্যায়! আল্লাহর কসম! আমি ঘরেও ঢুকব না। সোজা নবিজির কাছে চলে যাব। তোমরা দু'জন আমার মালপত্র প্রস্তুত করে দাও।” স্ত্রীদ্বয় তা-ই করেন। তরবারি ও বর্শা নিয়ে উট ছুটিয়ে নবিজি -এর কাছে চলে আসেন আবূ খাইসামা (রদিয়াল্লাহু আনহু)। তখন নবি মাত্র তাবূকে এসে পৌঁছেছেন।

টিকাঃ
[৪৯৩] বুখারি, ৩৭০৬।
[৪৯৪] বুখারি, ৪৩৩।
[৪৯৫] মুসলিম, ৭০৬; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৫/২৩৭।
[৪৯৬] বাইহাকি, দালাইলুন নুবুওয়াহ, ৫/২২৩।

অবশেষে মুসলিমরা দীর্ঘ মরু পাড়ি দিয়ে তাবুকে যেতে প্রস্তুত। মদীনার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক হন মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামা (রদিয়াল্লাহু আনহু)। আলি ইবনু আবী তালিব (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কেও রেখে যাওয়া হয় নারী ও শিশুদের দেখভাল করতে। সেনাদলের সবচেয়ে বড় পতাকাটি থাকে আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে। যুবাইর, উসাইদ ইবনু হুদাইর এবং হুবাব ইবনুল মুনযির (রদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর হাতে যথাক্রমে মুহাজির, আওস ও খাযরাজের পতাকা।
ত্রিশ হাজার সেনা নিয়ে নবি তাবুক অভিমুখে রওনা হন ৯ম হিজরি সনের রজব মাসের কোনও এক বৃহস্পতিবারে। মানুষ অনুপাতে উটের সংখ্যা এতই কম যে, একটি উঠের পিঠে পালা করে আঠারো জন পর্যন্ত আরোহণ করেন। খুব কষ্টের সফর ছিল। খাদ্যাভাবের কারণে গাছের পাতা চিবিয়ে খেতে খেতে সবার ঠোঁট ফুলে যায়। একে তো উটের অভাব, তার ওপর পানিসংকট। তৃষ্ণায় প্রাণ বের হওয়ার উপক্রম হলে কয়েকটি উট যবাই করে সেগুলোর পেটে থাকা পানি পর্যন্ত পান করেন সাহাবায়ে কেরাম। কারণ, মাথার ওপর ছিল তখন মরুভূমির পাথর-ফাটা তপ্ত রোদ।
ওদিকে মদীনায় মুনাফিকদের ঠাট্টা-মশকরা দিনে দিনে সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আলি (রদিয়াল্লাহু আনহু) ধৈর্য হারিয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন সেনাদলের সাথে গিয়ে যোগ দেওয়ার। বাহন ছুটিয়ে তিনি সেনাদলের কাছে পৌঁছে যান। নবি তাঁকে মদীনায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “তুমি কি এতে সন্তুষ্ট না যে, আমার সাথে তোমার সম্পৃক্ততা হবে মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে যেমন হারুন (আলাইহিস সালাম) ছিলেন? তবে আমার পরে কোনও নবি আসবেন না, এ-ই যা পার্থক্য।”
সামূদ জাতির আদি বাসস্থান 'হিজর'-এ এসে থামে মুসলিম বাহিনী। এই জাতির কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন নবি সালিহ (আলাইহিস সালাম)। বেপরোয়াভাবে কুফরিতে লিপ্ত এই জাতিটির কাছে আল্লাহর মু'জিযা হিসেবে পাহাড় থেকে বের করে আনা হয়েছিল একটি উটনী। সাময়িকভাবে শান্ত হওয়া জাতিটিকে বলা হয় যে, আল্লাহ তাআলার এই উটনীটির যেন কোনও ক্ষতি করা না হয়। কিন্তু অহংকারবশত একসময় তারা এই নিষিদ্ধ কাজটিই করে বসে। হত্যা করে ফেলে উটনীটিকে। ফলে প্রচণ্ড এক ভূমিকম্পের মাধ্যমে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়। হিজরের ঘরগুলো আজও তাদের বিলুপ্ত অস্তিত্বের সাক্ষী।
এলাকাটির কুয়া থেকে সাহাবিরা পানি তুলতে লাগলেন। রুটির জন্য খামির প্রস্তুত করতে হবে। নবি এ দৃশ্য দেখামাত্র নির্দেশ দেন পানি ফেলে দিতে। খামির যা ইতিমধ্যে বানানো হয়ে গেছে, সেগুলো উট আর ঘোড়াগুলোকে খাইয়ে দিতে বললেন। সালিহ (আলাইহিস সালাম)-এর সেই উটনী যে কুয়া থেকে পানি পান করত, সেটি দেখিয়ে দেন নবিজি । সেখান থেকেই পানি নিতে বলেন সাহাবিদের।
অবাধ্য এ জাতিটির এলাকা পার হতে হতে নবি সাথিদের এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে বললেন। আল্লাহর অবাধ্যতার ফল এমনই কঠোর।
“তোমরা জালিমদের বাসস্থানে কেবল কান্নারত অবস্থায় প্রবেশ করো। এই ভয়ে যে, তাদের ওপর যে মুসীবত এসেছিল তা তোমাদের ওপরও এসে পড়বে।”
এরপর মুসলিমরা বিনীত ভঙ্গিতে কাপড়ে মাথা ঢেকে দ্রুত স্থানটি পার হয়ে যান। রাস্তার মধ্যে রাসূলুল্লাহ যোহরের ওয়াক্তে যোহরকে আসরের সাথে মিলিয়ে এবং ইশার ওয়াক্তে মাগরিব ও ইশার সালাত একত্রে আদায় করেন।
প্রায় চার শ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নবিজি -এর সেনারা তাবুকে এসে পৌঁছান। এখানে এসে সবাই আবূ খাইসামা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর দেখা পান। ইনি কোনও বৈধ অজুহাত ছাড়া মদীনায় রয়ে গিয়েছিলেন। জানালেন যে, সেনাদল মদীনা ছেড়ে যাওয়ার পর একদিন প্রচণ্ড গরমে তিনি তার বাগানে প্রবেশ করে বসেন। তার দুই স্ত্রী চারপাশে পানি ছিটিয়ে দেন এবং সুশীতল পানি ও খাবার নিয়ে আসেন তার জন্য। হঠাৎ বোধোদয় হলে তিনি স্ত্রীদের বলেন, “নবিজি ওদিকে রোদে পুড়ছেন। আর আমি কি না বসে বসে শীতল ছায়া, ঠান্ডা পানি আর মধুর নারীসঙ্গ ভোগ করছি? এ তো অন্যায়! আল্লাহর কসম! আমি ঘরেও ঢুকব না। সোজা নবিজির কাছে চলে যাব। তোমরা দু'জন আমার মালপত্র প্রস্তুত করে দাও।” স্ত্রীদ্বয় তা-ই করেন। তরবারি ও বর্শা নিয়ে উট ছুটিয়ে নবিজি -এর কাছে চলে আসেন আবূ খাইসামা (রদিয়াল্লাহু আনহু)। তখন নবি মাত্র তাবূকে এসে পৌঁছেছেন।

টিকাঃ
[৪৯৩] বুখারি, ৩৭০৬।
[৪৯৪] বুখারি, ৪৩৩।
[৪৯৫] মুসলিম, ৭০৬; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৫/২৩৭।
[৪৯৬] বাইহাকি, দালাইলুন নুবুওয়াহ, ৫/২২৩।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 তাবূকে বিশটি দিন

📄 তাবূকে বিশটি দিন


রোমানরা ইতিমধ্যে খবর পেয়ে গেছে যে, মুসলিম সৈন্যরা তাদের মুখোমুখি হতে চার শ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে চলে এসেছে। এতেই রোমানদের মনোবল ভেঙে পড়ে। সিদ্ধান্ত নেয় যুদ্ধে না আসার। তারপরও নবি তাবূকে শিবির স্থাপন করে বিশ দিন অবস্থান করেন। উপস্থিতির মাধ্যমে ভীতি ধরিয়ে দেন রোম সাম্রাজ্য এবং তাদের অনুগত আরব খ্রিষ্টানদের হৃদয়-রাজ্যে।
আরবের নতুন এই শাসকের সাথে শান্তি স্থাপন করতে অনেক গোত্রই তখন উদগ্রীব। তাবূকের আশপাশের অনেক গোত্র থেকেই প্রতিনিধিদল এসে নবিজি -এর সাথে একের পর এক দেখা করতে থাকে। আইলার প্রশাসক ইউহান্না ইবনু রু'বা আসেন সাক্ষাৎ করতে। সাথে ছিলেন জারবা, আযরুহ এবং মীনা অঞ্চলের দলগুলোও। সবাই-ই জিযইয়া প্রদান করতে রাজি হন, তবে ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত জানাননি। নবি তাদের জন্য একটি শান্তিচুক্তিপত্র লিখে দেন। স্থল আর সাগর মিলিয়ে তাদের এলাকা এবং সেখানকার গবাদি পশু ও কাফেলা মুসলিমদের হাত থেকে নিরাপদ। আর যদি কোনও ধরনের অপতৎপরতা দেখা যায় তাহলে তাদের সম্পদ তাদের জীবন বাঁচাতে পারবে না।
প্রতি বছরের রজব মাসে এক শ দীনার জিযইয়ার মাধ্যমে জারবা এবং আযরুহ গোত্রের সাথেও অনুরূপ চুক্তি হয়। আর মীনা গোত্র সম্মত হয় তাদের অঞ্চলে উৎপন্ন ফসলের এক-চতুর্থাংশ দান করতে।

টিকাঃ
[৪৯৭] বাইহাকি, দালাইলুন নুবুওয়াহ, ৫/২৪৭-২৪৮।

রোমানরা ইতিমধ্যে খবর পেয়ে গেছে যে, মুসলিম সৈন্যরা তাদের মুখোমুখি হতে চার শ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে চলে এসেছে। এতেই রোমানদের মনোবল ভেঙে পড়ে। সিদ্ধান্ত নেয় যুদ্ধে না আসার। তারপরও নবি তাবূকে শিবির স্থাপন করে বিশ দিন অবস্থান করেন। উপস্থিতির মাধ্যমে ভীতি ধরিয়ে দেন রোম সাম্রাজ্য এবং তাদের অনুগত আরব খ্রিষ্টানদের হৃদয়-রাজ্যে।
আরবের নতুন এই শাসকের সাথে শান্তি স্থাপন করতে অনেক গোত্রই তখন উদগ্রীব। তাবূকের আশপাশের অনেক গোত্র থেকেই প্রতিনিধিদল এসে নবিজি -এর সাথে একের পর এক দেখা করতে থাকে। আইলার প্রশাসক ইউহান্না ইবনু রু'বা আসেন সাক্ষাৎ করতে। সাথে ছিলেন জারবা, আযরুহ এবং মীনা অঞ্চলের দলগুলোও। সবাই-ই জিযইয়া প্রদান করতে রাজি হন, তবে ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত জানাননি। নবি তাদের জন্য একটি শান্তিচুক্তিপত্র লিখে দেন। স্থল আর সাগর মিলিয়ে তাদের এলাকা এবং সেখানকার গবাদি পশু ও কাফেলা মুসলিমদের হাত থেকে নিরাপদ। আর যদি কোনও ধরনের অপতৎপরতা দেখা যায় তাহলে তাদের সম্পদ তাদের জীবন বাঁচাতে পারবে না।
প্রতি বছরের রজব মাসে এক শ দীনার জিযইয়ার মাধ্যমে জারবা এবং আযরুহ গোত্রের সাথেও অনুরূপ চুক্তি হয়। আর মীনা গোত্র সম্মত হয় তাদের অঞ্চলে উৎপন্ন ফসলের এক-চতুর্থাংশ দান করতে।

টিকাঃ
[৪৯৭] বাইহাকি, দালাইলুন নুবুওয়াহ, ৫/২৪৭-২৪৮।

রোমানরা ইতিমধ্যে খবর পেয়ে গেছে যে, মুসলিম সৈন্যরা তাদের মুখোমুখি হতে চার শ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে চলে এসেছে। এতেই রোমানদের মনোবল ভেঙে পড়ে। সিদ্ধান্ত নেয় যুদ্ধে না আসার। তারপরও নবি তাবূকে শিবির স্থাপন করে বিশ দিন অবস্থান করেন। উপস্থিতির মাধ্যমে ভীতি ধরিয়ে দেন রোম সাম্রাজ্য এবং তাদের অনুগত আরব খ্রিষ্টানদের হৃদয়-রাজ্যে।
আরবের নতুন এই শাসকের সাথে শান্তি স্থাপন করতে অনেক গোত্রই তখন উদগ্রীব। তাবূকের আশপাশের অনেক গোত্র থেকেই প্রতিনিধিদল এসে নবিজি -এর সাথে একের পর এক দেখা করতে থাকে। আইলার প্রশাসক ইউহান্না ইবনু রু'বা আসেন সাক্ষাৎ করতে। সাথে ছিলেন জারবা, আযরুহ এবং মীনা অঞ্চলের দলগুলোও। সবাই-ই জিযইয়া প্রদান করতে রাজি হন, তবে ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত জানাননি। নবি তাদের জন্য একটি শান্তিচুক্তিপত্র লিখে দেন। স্থল আর সাগর মিলিয়ে তাদের এলাকা এবং সেখানকার গবাদি পশু ও কাফেলা মুসলিমদের হাত থেকে নিরাপদ। আর যদি কোনও ধরনের অপতৎপরতা দেখা যায় তাহলে তাদের সম্পদ তাদের জীবন বাঁচাতে পারবে না।
প্রতি বছরের রজব মাসে এক শ দীনার জিযইয়ার মাধ্যমে জারবা এবং আযরুহ গোত্রের সাথেও অনুরূপ চুক্তি হয়। আর মীনা গোত্র সম্মত হয় তাদের অঞ্চলে উৎপন্ন ফসলের এক-চতুর্থাংশ দান করতে।

টিকাঃ
[৪৯৭] বাইহাকি, দালাইলুন নুবুওয়াহ, ৫/২৪৭-২৪৮।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 উকাইদিরের বন্দিত্ব

📄 উকাইদিরের বন্দিত্ব


দুমাতুল জান্‌দালের প্রশাসক উকাইদিরকে বন্দি করার জন্য নবি খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নেতৃত্বে চার শ বিশ জন ঘোড়সওয়ারের একটি দল পাঠান। খালিদকে বলে দেন যে, উকাইদিরকে পাওয়া যাবে নীলগাই বা সাদা অ্যান্টিলোপ শিকাররত অবস্থায়। কথামতো খালিদ গিয়ে উকাইদিরের দুর্গের সামনে থামেন। একটি সাদা অ্যান্টিলোপ চোখে পড়ে তার। ঠিকই সেটা শিকার করতে দুর্গ থেকে বেরিয়ে আসে উকাইদির। জানে না যে, নিজেই একটু পর শিকারে পরিণত হবে। খালিদ (রদিয়াল্লাহু আনহু) অতর্কিত আক্রমণে তাকে বন্দি করে ফেলেন। নবিজি -এর কাছে নিয়ে আসা হয় তাকে। দুই হাজার উট, আট শ দাস, চার শ বর্ম এবং চার শ বর্শার বিমিনয়ে উকাইদিরকে মুক্তি দিয়ে দেন তিনি। আইলা এবং মীনার মতো একই শর্তে উকাইদিরও জিযইয়া দিতে সম্মত হয়।

টিকাঃ
[৪৯৮] বাইহাকি, দালাইলুন নুবুওয়াহ, ৫/২৫০-২৫১।

দুমাতুল জান্‌দালের প্রশাসক উকাইদিরকে বন্দি করার জন্য নবি খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নেতৃত্বে চার শ বিশ জন ঘোড়সওয়ারের একটি দল পাঠান। খালিদকে বলে দেন যে, উকাইদিরকে পাওয়া যাবে নীলগাই বা সাদা অ্যান্টিলোপ শিকাররত অবস্থায়। কথামতো খালিদ গিয়ে উকাইদিরের দুর্গের সামনে থামেন। একটি সাদা অ্যান্টিলোপ চোখে পড়ে তার। ঠিকই সেটা শিকার করতে দুর্গ থেকে বেরিয়ে আসে উকাইদির। জানে না যে, নিজেই একটু পর শিকারে পরিণত হবে। খালিদ (রদিয়াল্লাহু আনহু) অতর্কিত আক্রমণে তাকে বন্দি করে ফেলেন। নবিজি -এর কাছে নিয়ে আসা হয় তাকে। দুই হাজার উট, আট শ দাস, চার শ বর্ম এবং চার শ বর্শার বিমিনয়ে উকাইদিরকে মুক্তি দিয়ে দেন তিনি। আইলা এবং মীনার মতো একই শর্তে উকাইদিরও জিযইয়া দিতে সম্মত হয়।

টিকাঃ
[৪৯৮] বাইহাকি, দালাইলুন নুবুওয়াহ, ৫/২৫০-২৫১।

দুমাতুল জান্‌দালের প্রশাসক উকাইদিরকে বন্দি করার জন্য নবি খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নেতৃত্বে চার শ বিশ জন ঘোড়সওয়ারের একটি দল পাঠান। খালিদকে বলে দেন যে, উকাইদিরকে পাওয়া যাবে নীলগাই বা সাদা অ্যান্টিলোপ শিকাররত অবস্থায়। কথামতো খালিদ গিয়ে উকাইদিরের দুর্গের সামনে থামেন। একটি সাদা অ্যান্টিলোপ চোখে পড়ে তার। ঠিকই সেটা শিকার করতে দুর্গ থেকে বেরিয়ে আসে উকাইদির। জানে না যে, নিজেই একটু পর শিকারে পরিণত হবে। খালিদ (রদিয়াল্লাহু আনহু) অতর্কিত আক্রমণে তাকে বন্দি করে ফেলেন। নবিজি -এর কাছে নিয়ে আসা হয় তাকে। দুই হাজার উট, আট শ দাস, চার শ বর্ম এবং চার শ বর্শার বিমিনয়ে উকাইদিরকে মুক্তি দিয়ে দেন তিনি। আইলা এবং মীনার মতো একই শর্তে উকাইদিরও জিযইয়া দিতে সম্মত হয়।

টিকাঃ
[৪৯৮] বাইহাকি, দালাইলুন নুবুওয়াহ, ৫/২৫০-২৫১।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 ফের মদীনায় ফেরা

📄 ফের মদীনায় ফেরা


বিশ দিন তাবূকে অবস্থানের পর রাসূলুল্লাহ ও তাঁর বাহিনী মদীনায় ফিরতি যাত্রা আরম্ভ করেন। আসা-যাওয়াতেই সময় লাগে ত্রিশ দিন। এভাবে মদীনার বাইরে পঞ্চাশ দিন অতিবাহিত হয় মুসলিম বাহিনীর। এখন পর্যন্ত রোমানদের বিরুদ্ধে নবিজি -এর অভিযান কোনও সংঘর্ষ ছাড়াই এগোচ্ছে। আরবে মুসলিম শাসনের বিরুদ্ধে রোম যদিও বড় একটি হুমকি, কিন্তু তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন তাবূকে নিরাপদেই বিশ দিন অবস্থান করে এসেছেন সাহাবিরা। শুধু তা-ই না, আশপাশের গোত্রগুলোর সাথে শান্তিচুক্তি করে উপদ্বীপে মুসলিমদের হাত আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। কিন্তু খানিক পরেই ঘটনায় আসে এক অপ্রত্যাশিত মোড়।
ফিরতি যাত্রার মাঝপথে সেনাদলটি একটি পর্বতগিরি পার হন। উপত্যকার ভেতর দিয়ে পেরিয়ে যান বেশির ভাগ সেনা। শুধু আম্মার এবং হুযাইফা (রদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে সাথে নিয়ে নবি অন্য আরেকটি পথ ধরেন।
সেনাদলে মুসলিমদের সাথেই ছিল বারো জন মুনাফিক। রাসূলুল্লাহ -কে প্রায় একা পেয়ে তাঁকে হত্যার শ্রেষ্ঠ সুযোগ পেয়ে যায় তারা। মুখ ঢেকে চুপে চুপে অনুসরণ করতে থাকে। অপেক্ষায় থাকে মোক্ষম সময়ের।
হঠাৎ তারা বাহন ছুটিয়ে এগিয়ে আসে। তখন নবি হুযাইফাকে বলেন ঢাল দিয়ে ওদের ঘোড়াগুলোর মুখে আঘাত হানতে। এতেই মুনাফিকদের অন্তরে আল্লাহ তাআলা ভয় ঢেলে দেন। পিঠটান দিয়ে পালায় তারা। মিশে যায় বাকি সেনাদলের সাথে। কিন্তু নবি হুযাইফাকে জানিয়ে দেন তাদের প্রত্যেকের নাম ও উদ্দেশ্য। সেদিন থেকে হুযাইফা পরিচিত হন নবিজি -এর রহস্যবিদ হিসেবে।

টিকাঃ
[৪৯৯] বাইহাকি, দালাইলুন নুবুওয়াহ, ৫/২৫১।

বিশ দিন তাবূকে অবস্থানের পর রাসূলুল্লাহ ও তাঁর বাহিনী মদীনায় ফিরতি যাত্রা আরম্ভ করেন। আসা-যাওয়াতেই সময় লাগে ত্রিশ দিন। এভাবে মদীনার বাইরে পঞ্চাশ দিন অতিবাহিত হয় মুসলিম বাহিনীর। এখন পর্যন্ত রোমানদের বিরুদ্ধে নবিজি -এর অভিযান কোনও সংঘর্ষ ছাড়াই এগোচ্ছে। আরবে মুসলিম শাসনের বিরুদ্ধে রোম যদিও বড় একটি হুমকি, কিন্তু তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন তাবূকে নিরাপদেই বিশ দিন অবস্থান করে এসেছেন সাহাবিরা। শুধু তা-ই না, আশপাশের গোত্রগুলোর সাথে শান্তিচুক্তি করে উপদ্বীপে মুসলিমদের হাত আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। কিন্তু খানিক পরেই ঘটনায় আসে এক অপ্রত্যাশিত মোড়।
ফিরতি যাত্রার মাঝপথে সেনাদলটি একটি পর্বতগিরি পার হন। উপত্যকার ভেতর দিয়ে পেরিয়ে যান বেশির ভাগ সেনা। শুধু আম্মার এবং হুযাইফা (রদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে সাথে নিয়ে নবি অন্য আরেকটি পথ ধরেন।
সেনাদলে মুসলিমদের সাথেই ছিল বারো জন মুনাফিক। রাসূলুল্লাহ -কে প্রায় একা পেয়ে তাঁকে হত্যার শ্রেষ্ঠ সুযোগ পেয়ে যায় তারা। মুখ ঢেকে চুপে চুপে অনুসরণ করতে থাকে। অপেক্ষায় থাকে মোক্ষম সময়ের।
হঠাৎ তারা বাহন ছুটিয়ে এগিয়ে আসে। তখন নবি হুযাইফাকে বলেন ঢাল দিয়ে ওদের ঘোড়াগুলোর মুখে আঘাত হানতে। এতেই মুনাফিকদের অন্তরে আল্লাহ তাআলা ভয় ঢেলে দেন। পিঠটান দিয়ে পালায় তারা। মিশে যায় বাকি সেনাদলের সাথে। কিন্তু নবি হুযাইফাকে জানিয়ে দেন তাদের প্রত্যেকের নাম ও উদ্দেশ্য। সেদিন থেকে হুযাইফা পরিচিত হন নবিজি -এর রহস্যবিদ হিসেবে।

টিকাঃ
[৪৯৯] বাইহাকি, দালাইলুন নুবুওয়াহ, ৫/২৫১।

বিশ দিন তাবূকে অবস্থানের পর রাসূলুল্লাহ ও তাঁর বাহিনী মদীনায় ফিরতি যাত্রা আরম্ভ করেন। আসা-যাওয়াতেই সময় লাগে ত্রিশ দিন। এভাবে মদীনার বাইরে পঞ্চাশ দিন অতিবাহিত হয় মুসলিম বাহিনীর। এখন পর্যন্ত রোমানদের বিরুদ্ধে নবিজি -এর অভিযান কোনও সংঘর্ষ ছাড়াই এগোচ্ছে। আরবে মুসলিম শাসনের বিরুদ্ধে রোম যদিও বড় একটি হুমকি, কিন্তু তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন তাবূকে নিরাপদেই বিশ দিন অবস্থান করে এসেছেন সাহাবিরা। শুধু তা-ই না, আশপাশের গোত্রগুলোর সাথে শান্তিচুক্তি করে উপদ্বীপে মুসলিমদের হাত আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। কিন্তু খানিক পরেই ঘটনায় আসে এক অপ্রত্যাশিত মোড়।
ফিরতি যাত্রার মাঝপথে সেনাদলটি একটি পর্বতগিরি পার হন। উপত্যকার ভেতর দিয়ে পেরিয়ে যান বেশির ভাগ সেনা। শুধু আম্মার এবং হুযাইফা (রদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে সাথে নিয়ে নবি অন্য আরেকটি পথ ধরেন।
সেনাদলে মুসলিমদের সাথেই ছিল বারো জন মুনাফিক। রাসূলুল্লাহ -কে প্রায় একা পেয়ে তাঁকে হত্যার শ্রেষ্ঠ সুযোগ পেয়ে যায় তারা। মুখ ঢেকে চুপে চুপে অনুসরণ করতে থাকে। অপেক্ষায় থাকে মোক্ষম সময়ের।
হঠাৎ তারা বাহন ছুটিয়ে এগিয়ে আসে। তখন নবি হুযাইফাকে বলেন ঢাল দিয়ে ওদের ঘোড়াগুলোর মুখে আঘাত হানতে। এতেই মুনাফিকদের অন্তরে আল্লাহ তাআলা ভয় ঢেলে দেন। পিঠটান দিয়ে পালায় তারা। মিশে যায় বাকি সেনাদলের সাথে। কিন্তু নবি হুযাইফাকে জানিয়ে দেন তাদের প্রত্যেকের নাম ও উদ্দেশ্য। সেদিন থেকে হুযাইফা পরিচিত হন নবিজি -এর রহস্যবিদ হিসেবে।

টিকাঃ
[৪৯৯] বাইহাকি, দালাইলুন নুবুওয়াহ, ৫/২৫১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00