📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 রোমানদের মুখোমুখি হতে মুসলিম বাহিনীর প্রস্তুতি

📄 রোমানদের মুখোমুখি হতে মুসলিম বাহিনীর প্রস্তুতি


আসন্ন রোমান হুমকির কথা জানতে পেরে রাসূল মুসলিমদের প্রস্তুতি নেওয়ার আদেশ দেন। তপ্ত গ্রীষ্মের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে এই আদেশ পালন দৃশ্যত অসম্ভব মনে হতে থাকে। গাছে গাছে মাত্র খেজুর পেকেছে, গাছের শীতল ছায়ায় বসলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। আর ছায়া থেকে বেরোলেই চামড়া ঝলসানো রোদ। এরই মাঝে সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তাবুক পৌঁছানো মানে রীতিমতো অসাধ্য সাধন করা। চলতে থাকে প্রস্তুতি। রাসূল তাঁর ধনী সাহাবিদের আহ্বান করেন দু-হাত ভরে আল্লাহর রাস্তার জন্য খরচ করতে। বিত্তবান সাহাবিগণ অবারিত করে দেন দানের হাত। উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর সমগ্র সম্পত্তির অর্ধেক এনে হাজির করেন। উসমান ইবনু আফফান (রদিয়াল্লাহু আনহু) নিয়ে আসেন দশ হাজার দীনার, হাওদাসহ তিন শ উট এবং পঞ্চাশটি ঘোড়া। (অন্যান্য কিছু সূত্রে, নয় শ উট এবং দেড় শ ঘোড়ার কথা এসেছে।) নবি বলেন, "আজ থেকে উসমান যা-ই করুক না কেন, ওর কোনও ক্ষতি হবে না।”
আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রদিয়াল্লাহু আনহু) আট হাজার দিরহাম দান করেন। আব্বাস, তালহা, সা'দ ইবনু উবাদা এবং মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামা (রদিয়াল্লাহু আনহুম)-ও প্রদান করেন বিপুল সম্পদ। নব্বই ওয়াসাক বা সাড়ে তেরো হাজার কিলোগ্রাম খেজুর নিয়ে আসেন আসিম ইবন আদি (রদিয়াল্লাহু আনহু)।
আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু) ঘরের সমস্ত সম্পদ নিয়ে হাজির হন। যার মোট পরিমাণ ছিল চার হাজার দিরহাম। ওটাই ছিল তাঁর সর্বস্ব। নবি জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার পরিবারের জন্য কি কিছু রেখে এসেছ?” আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু) জবাব দেন, “ওদের জন্য আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে রেখে এসেছি।”
কম সামর্থ্যবান সাহাবিরাও সাধ্যানুযায়ী দান করতে থাকেন। এমনকি এক কেজির মতো খাবার হলেও। মুসলিম নারীরাও সামর্থ্যানুযায়ী দান করেন। কেউ কেউ তাদের গয়নাগাটিও দিয়ে দেন আল্লাহর রাহে।
একেবারেই দরিদ্র মুসলিমরা চাইছিলেন আর্থিকভাবে না পারলেও কায়িক শ্রম দিয়ে শরীক হতে। নবিজি -এর কাছে এসে তারা উট বা ঘোড়া কিছু একটা চান, যাতে যুদ্ধে যেতে পারেন। নবি জানালেন, “কিছুই যে পাচ্ছি না তোমাদের দেওয়ার মতো!” অশ্রু নেমে আসে সাহাবিদের চোখ বেয়ে। এই সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন,
"আমার কাছে এমন কোনও বস্তু নেই যে তার ওপর তোমাদের সওয়ার করাব। তখন তারা এমন অবস্থায় ফিরে গেছে যে, তাদের চোখ থেকে অশ্রু ঝরে পড়ছিল এ দুঃখে যে, তারা এমন কোনও বস্তু পাচ্ছে না যা ব্যয় করবে।”
তবে উসমান, আব্বাস এবং আরও কিছু সামর্থ্যশালী সাহাবি মিলে কারও কারও জন্য বাহনের ব্যবস্থা করে দেন।
মুসলিমরা যখন দুর্গম এক অভিযানের প্রস্তুতিতে মগ্ন, মুনাফিকরা যথারীতি নিজে কাজ না করে অন্যের কাজে খোঁটা মারায় লিপ্ত। কেউ বেশি দান করলে-লোক-দেখানো, আর কম দান করলে-এতটুকু দানের জন্য বুঝি আল্লাহ মুখাপেক্ষী, এসব বলে বলে সবাইকে টিটকারি মারার ও ঠাট্টা করার একটা-না-একটা পথ খুঁজে নেয় তারা। আবার অজেয় রোমানদের সাথে লড়াই করতে চাচ্ছেন বলে নবি-কেও তারা বিদ্রুপ করতে থাকে। এ নিয়ে জেরা করা হলে বলে, "আরে এমনিই মজা করলাম, আমরা অন্তর থেকে এগুলো বলিনি।” অভিযানের সময় এগিয়ে আসে, আর বেদুইন ও মুনাফিকরা একে একে এসে নিজ নিজ অজুহাত পেশ করতে থাকে। নবিজি -ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে তাদের মদীনায় থেকে যাওয়ার অনুমতি দেন। দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো। তবে কিছু মুসলিম যাওয়া-না যাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় দুলতে থাকেন। শুধু অলসতার কারণেই যুদ্ধে যাওয়া থেকে দূরে থাকেন।

টিকাঃ
[৪৯০] তিরমিযি, ৩৭০১, হাসান।
[৪৯১] নূরুদ্দীন হালাবি, আস-সীরাতুল হালাবিয়্যা, ৩/১৮৪।
[৪৯২] সূরা তাওবা, ৯: ৯২।

আসন্ন রোমান হুমকির কথা জানতে পেরে রাসূল মুসলিমদের প্রস্তুতি নেওয়ার আদেশ দেন। তপ্ত গ্রীষ্মের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে এই আদেশ পালন দৃশ্যত অসম্ভব মনে হতে থাকে। গাছে গাছে মাত্র খেজুর পেকেছে, গাছের শীতল ছায়ায় বসলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। আর ছায়া থেকে বেরোলেই চামড়া ঝলসানো রোদ। এরই মাঝে সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তাবুক পৌঁছানো মানে রীতিমতো অসাধ্য সাধন করা। চলতে থাকে প্রস্তুতি। রাসূল তাঁর ধনী সাহাবিদের আহ্বান করেন দু-হাত ভরে আল্লাহর রাস্তার জন্য খরচ করতে। বিত্তবান সাহাবিগণ অবারিত করে দেন দানের হাত। উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর সমগ্র সম্পত্তির অর্ধেক এনে হাজির করেন। উসমান ইবনু আফফান (রদিয়াল্লাহু আনহু) নিয়ে আসেন দশ হাজার দীনার, হাওদাসহ তিন শ উট এবং পঞ্চাশটি ঘোড়া। (অন্যান্য কিছু সূত্রে, নয় শ উট এবং দেড় শ ঘোড়ার কথা এসেছে।) নবি বলেন, "আজ থেকে উসমান যা-ই করুক না কেন, ওর কোনও ক্ষতি হবে না।”
আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রদিয়াল্লাহু আনহু) আট হাজার দিরহাম দান করেন। আব্বাস, তালহা, সা'দ ইবনু উবাদা এবং মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামা (রদিয়াল্লাহু আনহুম)-ও প্রদান করেন বিপুল সম্পদ। নব্বই ওয়াসাক বা সাড়ে তেরো হাজার কিলোগ্রাম খেজুর নিয়ে আসেন আসিম ইবন আদি (রদিয়াল্লাহু আনহু)।
আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু) ঘরের সমস্ত সম্পদ নিয়ে হাজির হন। যার মোট পরিমাণ ছিল চার হাজার দিরহাম। ওটাই ছিল তাঁর সর্বস্ব। নবি জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার পরিবারের জন্য কি কিছু রেখে এসেছ?” আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু) জবাব দেন, “ওদের জন্য আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে রেখে এসেছি।”
কম সামর্থ্যবান সাহাবিরাও সাধ্যানুযায়ী দান করতে থাকেন। এমনকি এক কেজির মতো খাবার হলেও। মুসলিম নারীরাও সামর্থ্যানুযায়ী দান করেন। কেউ কেউ তাদের গয়নাগাটিও দিয়ে দেন আল্লাহর রাহে।
একেবারেই দরিদ্র মুসলিমরা চাইছিলেন আর্থিকভাবে না পারলেও কায়িক শ্রম দিয়ে শরীক হতে। নবিজি -এর কাছে এসে তারা উট বা ঘোড়া কিছু একটা চান, যাতে যুদ্ধে যেতে পারেন। নবি জানালেন, “কিছুই যে পাচ্ছি না তোমাদের দেওয়ার মতো!” অশ্রু নেমে আসে সাহাবিদের চোখ বেয়ে। এই সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন,
"আমার কাছে এমন কোনও বস্তু নেই যে তার ওপর তোমাদের সওয়ার করাব। তখন তারা এমন অবস্থায় ফিরে গেছে যে, তাদের চোখ থেকে অশ্রু ঝরে পড়ছিল এ দুঃখে যে, তারা এমন কোনও বস্তু পাচ্ছে না যা ব্যয় করবে।”
তবে উসমান, আব্বাস এবং আরও কিছু সামর্থ্যশালী সাহাবি মিলে কারও কারও জন্য বাহনের ব্যবস্থা করে দেন।
মুসলিমরা যখন দুর্গম এক অভিযানের প্রস্তুতিতে মগ্ন, মুনাফিকরা যথারীতি নিজে কাজ না করে অন্যের কাজে খোঁটা মারায় লিপ্ত। কেউ বেশি দান করলে-লোক-দেখানো, আর কম দান করলে-এতটুকু দানের জন্য বুঝি আল্লাহ মুখাপেক্ষী, এসব বলে বলে সবাইকে টিটকারি মারার ও ঠাট্টা করার একটা-না-একটা পথ খুঁজে নেয় তারা। আবার অজেয় রোমানদের সাথে লড়াই করতে চাচ্ছেন বলে নবি-কেও তারা বিদ্রুপ করতে থাকে। এ নিয়ে জেরা করা হলে বলে, "আরে এমনিই মজা করলাম, আমরা অন্তর থেকে এগুলো বলিনি।” অভিযানের সময় এগিয়ে আসে, আর বেদুইন ও মুনাফিকরা একে একে এসে নিজ নিজ অজুহাত পেশ করতে থাকে। নবিজি -ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে তাদের মদীনায় থেকে যাওয়ার অনুমতি দেন। দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো। তবে কিছু মুসলিম যাওয়া-না যাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় দুলতে থাকেন। শুধু অলসতার কারণেই যুদ্ধে যাওয়া থেকে দূরে থাকেন।

টিকাঃ
[৪৯০] তিরমিযি, ৩৭০১, হাসান।
[৪৯১] নূরুদ্দীন হালাবি, আস-সীরাতুল হালাবিয়্যা, ৩/১৮৪।
[৪৯২] সূরা তাওবা, ৯: ৯২।

আসন্ন রোমান হুমকির কথা জানতে পেরে রাসূল মুসলিমদের প্রস্তুতি নেওয়ার আদেশ দেন। তপ্ত গ্রীষ্মের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে এই আদেশ পালন দৃশ্যত অসম্ভব মনে হতে থাকে। গাছে গাছে মাত্র খেজুর পেকেছে, গাছের শীতল ছায়ায় বসলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। আর ছায়া থেকে বেরোলেই চামড়া ঝলসানো রোদ। এরই মাঝে সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তাবুক পৌঁছানো মানে রীতিমতো অসাধ্য সাধন করা। চলতে থাকে প্রস্তুতি। রাসূল তাঁর ধনী সাহাবিদের আহ্বান করেন দু-হাত ভরে আল্লাহর রাস্তার জন্য খরচ করতে। বিত্তবান সাহাবিগণ অবারিত করে দেন দানের হাত। উমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর সমগ্র সম্পত্তির অর্ধেক এনে হাজির করেন। উসমান ইবনু আফফান (রদিয়াল্লাহু আনহু) নিয়ে আসেন দশ হাজার দীনার, হাওদাসহ তিন শ উট এবং পঞ্চাশটি ঘোড়া। (অন্যান্য কিছু সূত্রে, নয় শ উট এবং দেড় শ ঘোড়ার কথা এসেছে।) নবি বলেন, "আজ থেকে উসমান যা-ই করুক না কেন, ওর কোনও ক্ষতি হবে না।”
আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রদিয়াল্লাহু আনহু) আট হাজার দিরহাম দান করেন। আব্বাস, তালহা, সা'দ ইবনু উবাদা এবং মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামা (রদিয়াল্লাহু আনহুম)-ও প্রদান করেন বিপুল সম্পদ। নব্বই ওয়াসাক বা সাড়ে তেরো হাজার কিলোগ্রাম খেজুর নিয়ে আসেন আসিম ইবন আদি (রদিয়াল্লাহু আনহু)।
আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু) ঘরের সমস্ত সম্পদ নিয়ে হাজির হন। যার মোট পরিমাণ ছিল চার হাজার দিরহাম। ওটাই ছিল তাঁর সর্বস্ব। নবি জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার পরিবারের জন্য কি কিছু রেখে এসেছ?” আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু) জবাব দেন, “ওদের জন্য আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে রেখে এসেছি।”
কম সামর্থ্যবান সাহাবিরাও সাধ্যানুযায়ী দান করতে থাকেন। এমনকি এক কেজির মতো খাবার হলেও। মুসলিম নারীরাও সামর্থ্যানুযায়ী দান করেন। কেউ কেউ তাদের গয়নাগাটিও দিয়ে দেন আল্লাহর রাহে।
একেবারেই দরিদ্র মুসলিমরা চাইছিলেন আর্থিকভাবে না পারলেও কায়িক শ্রম দিয়ে শরীক হতে। নবিজি -এর কাছে এসে তারা উট বা ঘোড়া কিছু একটা চান, যাতে যুদ্ধে যেতে পারেন। নবি জানালেন, “কিছুই যে পাচ্ছি না তোমাদের দেওয়ার মতো!” অশ্রু নেমে আসে সাহাবিদের চোখ বেয়ে। এই সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন,
"আমার কাছে এমন কোনও বস্তু নেই যে তার ওপর তোমাদের সওয়ার করাব। তখন তারা এমন অবস্থায় ফিরে গেছে যে, তাদের চোখ থেকে অশ্রু ঝরে পড়ছিল এ দুঃখে যে, তারা এমন কোনও বস্তু পাচ্ছে না যা ব্যয় করবে।”
তবে উসমান, আব্বাস এবং আরও কিছু সামর্থ্যশালী সাহাবি মিলে কারও কারও জন্য বাহনের ব্যবস্থা করে দেন।
মুসলিমরা যখন দুর্গম এক অভিযানের প্রস্তুতিতে মগ্ন, মুনাফিকরা যথারীতি নিজে কাজ না করে অন্যের কাজে খোঁটা মারায় লিপ্ত। কেউ বেশি দান করলে-লোক-দেখানো, আর কম দান করলে-এতটুকু দানের জন্য বুঝি আল্লাহ মুখাপেক্ষী, এসব বলে বলে সবাইকে টিটকারি মারার ও ঠাট্টা করার একটা-না-একটা পথ খুঁজে নেয় তারা। আবার অজেয় রোমানদের সাথে লড়াই করতে চাচ্ছেন বলে নবি-কেও তারা বিদ্রুপ করতে থাকে। এ নিয়ে জেরা করা হলে বলে, "আরে এমনিই মজা করলাম, আমরা অন্তর থেকে এগুলো বলিনি।” অভিযানের সময় এগিয়ে আসে, আর বেদুইন ও মুনাফিকরা একে একে এসে নিজ নিজ অজুহাত পেশ করতে থাকে। নবিজি -ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে তাদের মদীনায় থেকে যাওয়ার অনুমতি দেন। দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো। তবে কিছু মুসলিম যাওয়া-না যাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় দুলতে থাকেন। শুধু অলসতার কারণেই যুদ্ধে যাওয়া থেকে দূরে থাকেন।

টিকাঃ
[৪৯০] তিরমিযি, ৩৭০১, হাসান।
[৪৯১] নূরুদ্দীন হালাবি, আস-সীরাতুল হালাবিয়্যা, ৩/১৮৪।
[৪৯২] সূরা তাওবা, ৯: ৯২।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 মুসলিম সৈন্যবাহিনী তাবূকের পথে

📄 মুসলিম সৈন্যবাহিনী তাবূকের পথে


অবশেষে মুসলিমরা দীর্ঘ মরু পাড়ি দিয়ে তাবুকে যেতে প্রস্তুত। মদীনার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক হন মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামা (রদিয়াল্লাহু আনহু)। আলি ইবনু আবী তালিব (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কেও রেখে যাওয়া হয় নারী ও শিশুদের দেখভাল করতে। সেনাদলের সবচেয়ে বড় পতাকাটি থাকে আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে। যুবাইর, উসাইদ ইবনু হুদাইর এবং হুবাব ইবনুল মুনযির (রদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর হাতে যথাক্রমে মুহাজির, আওস ও খাযরাজের পতাকা।
ত্রিশ হাজার সেনা নিয়ে নবি তাবুক অভিমুখে রওনা হন ৯ম হিজরি সনের রজব মাসের কোনও এক বৃহস্পতিবারে। মানুষ অনুপাতে উটের সংখ্যা এতই কম যে, একটি উঠের পিঠে পালা করে আঠারো জন পর্যন্ত আরোহণ করেন। খুব কষ্টের সফর ছিল। খাদ্যাভাবের কারণে গাছের পাতা চিবিয়ে খেতে খেতে সবার ঠোঁট ফুলে যায়। একে তো উটের অভাব, তার ওপর পানিসংকট। তৃষ্ণায় প্রাণ বের হওয়ার উপক্রম হলে কয়েকটি উট যবাই করে সেগুলোর পেটে থাকা পানি পর্যন্ত পান করেন সাহাবায়ে কেরাম। কারণ, মাথার ওপর ছিল তখন মরুভূমির পাথর-ফাটা তপ্ত রোদ।
ওদিকে মদীনায় মুনাফিকদের ঠাট্টা-মশকরা দিনে দিনে সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আলি (রদিয়াল্লাহু আনহু) ধৈর্য হারিয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন সেনাদলের সাথে গিয়ে যোগ দেওয়ার। বাহন ছুটিয়ে তিনি সেনাদলের কাছে পৌঁছে যান। নবি তাঁকে মদীনায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “তুমি কি এতে সন্তুষ্ট না যে, আমার সাথে তোমার সম্পৃক্ততা হবে মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে যেমন হারুন (আলাইহিস সালাম) ছিলেন? তবে আমার পরে কোনও নবি আসবেন না, এ-ই যা পার্থক্য।”
সামূদ জাতির আদি বাসস্থান 'হিজর'-এ এসে থামে মুসলিম বাহিনী। এই জাতির কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন নবি সালিহ (আলাইহিস সালাম)। বেপরোয়াভাবে কুফরিতে লিপ্ত এই জাতিটির কাছে আল্লাহর মু'জিযা হিসেবে পাহাড় থেকে বের করে আনা হয়েছিল একটি উটনী। সাময়িকভাবে শান্ত হওয়া জাতিটিকে বলা হয় যে, আল্লাহ তাআলার এই উটনীটির যেন কোনও ক্ষতি করা না হয়। কিন্তু অহংকারবশত একসময় তারা এই নিষিদ্ধ কাজটিই করে বসে। হত্যা করে ফেলে উটনীটিকে। ফলে প্রচণ্ড এক ভূমিকম্পের মাধ্যমে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়। হিজরের ঘরগুলো আজও তাদের বিলুপ্ত অস্তিত্বের সাক্ষী।
এলাকাটির কুয়া থেকে সাহাবিরা পানি তুলতে লাগলেন। রুটির জন্য খামির প্রস্তুত করতে হবে। নবি এ দৃশ্য দেখামাত্র নির্দেশ দেন পানি ফেলে দিতে। খামির যা ইতিমধ্যে বানানো হয়ে গেছে, সেগুলো উট আর ঘোড়াগুলোকে খাইয়ে দিতে বললেন। সালিহ (আলাইহিস সালাম)-এর সেই উটনী যে কুয়া থেকে পানি পান করত, সেটি দেখিয়ে দেন নবিজি । সেখান থেকেই পানি নিতে বলেন সাহাবিদের।
অবাধ্য এ জাতিটির এলাকা পার হতে হতে নবি সাথিদের এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে বললেন। আল্লাহর অবাধ্যতার ফল এমনই কঠোর।
“তোমরা জালিমদের বাসস্থানে কেবল কান্নারত অবস্থায় প্রবেশ করো। এই ভয়ে যে, তাদের ওপর যে মুসীবত এসেছিল তা তোমাদের ওপরও এসে পড়বে।”
এরপর মুসলিমরা বিনীত ভঙ্গিতে কাপড়ে মাথা ঢেকে দ্রুত স্থানটি পার হয়ে যান। রাস্তার মধ্যে রাসূলুল্লাহ যোহরের ওয়াক্তে যোহরকে আসরের সাথে মিলিয়ে এবং ইশার ওয়াক্তে মাগরিব ও ইশার সালাত একত্রে আদায় করেন।
প্রায় চার শ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নবিজি -এর সেনারা তাবুকে এসে পৌঁছান। এখানে এসে সবাই আবূ খাইসামা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর দেখা পান। ইনি কোনও বৈধ অজুহাত ছাড়া মদীনায় রয়ে গিয়েছিলেন। জানালেন যে, সেনাদল মদীনা ছেড়ে যাওয়ার পর একদিন প্রচণ্ড গরমে তিনি তার বাগানে প্রবেশ করে বসেন। তার দুই স্ত্রী চারপাশে পানি ছিটিয়ে দেন এবং সুশীতল পানি ও খাবার নিয়ে আসেন তার জন্য। হঠাৎ বোধোদয় হলে তিনি স্ত্রীদের বলেন, “নবিজি ওদিকে রোদে পুড়ছেন। আর আমি কি না বসে বসে শীতল ছায়া, ঠান্ডা পানি আর মধুর নারীসঙ্গ ভোগ করছি? এ তো অন্যায়! আল্লাহর কসম! আমি ঘরেও ঢুকব না। সোজা নবিজির কাছে চলে যাব। তোমরা দু'জন আমার মালপত্র প্রস্তুত করে দাও।” স্ত্রীদ্বয় তা-ই করেন। তরবারি ও বর্শা নিয়ে উট ছুটিয়ে নবিজি -এর কাছে চলে আসেন আবূ খাইসামা (রদিয়াল্লাহু আনহু)। তখন নবি মাত্র তাবূকে এসে পৌঁছেছেন।

টিকাঃ
[৪৯৩] বুখারি, ৩৭০৬।
[৪৯৪] বুখারি, ৪৩৩।
[৪৯৫] মুসলিম, ৭০৬; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৫/২৩৭।
[৪৯৬] বাইহাকি, দালাইলুন নুবুওয়াহ, ৫/২২৩।

অবশেষে মুসলিমরা দীর্ঘ মরু পাড়ি দিয়ে তাবুকে যেতে প্রস্তুত। মদীনার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক হন মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামা (রদিয়াল্লাহু আনহু)। আলি ইবনু আবী তালিব (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কেও রেখে যাওয়া হয় নারী ও শিশুদের দেখভাল করতে। সেনাদলের সবচেয়ে বড় পতাকাটি থাকে আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে। যুবাইর, উসাইদ ইবনু হুদাইর এবং হুবাব ইবনুল মুনযির (রদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর হাতে যথাক্রমে মুহাজির, আওস ও খাযরাজের পতাকা।
ত্রিশ হাজার সেনা নিয়ে নবি তাবুক অভিমুখে রওনা হন ৯ম হিজরি সনের রজব মাসের কোনও এক বৃহস্পতিবারে। মানুষ অনুপাতে উটের সংখ্যা এতই কম যে, একটি উঠের পিঠে পালা করে আঠারো জন পর্যন্ত আরোহণ করেন। খুব কষ্টের সফর ছিল। খাদ্যাভাবের কারণে গাছের পাতা চিবিয়ে খেতে খেতে সবার ঠোঁট ফুলে যায়। একে তো উটের অভাব, তার ওপর পানিসংকট। তৃষ্ণায় প্রাণ বের হওয়ার উপক্রম হলে কয়েকটি উট যবাই করে সেগুলোর পেটে থাকা পানি পর্যন্ত পান করেন সাহাবায়ে কেরাম। কারণ, মাথার ওপর ছিল তখন মরুভূমির পাথর-ফাটা তপ্ত রোদ।
ওদিকে মদীনায় মুনাফিকদের ঠাট্টা-মশকরা দিনে দিনে সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আলি (রদিয়াল্লাহু আনহু) ধৈর্য হারিয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন সেনাদলের সাথে গিয়ে যোগ দেওয়ার। বাহন ছুটিয়ে তিনি সেনাদলের কাছে পৌঁছে যান। নবি তাঁকে মদীনায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “তুমি কি এতে সন্তুষ্ট না যে, আমার সাথে তোমার সম্পৃক্ততা হবে মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে যেমন হারুন (আলাইহিস সালাম) ছিলেন? তবে আমার পরে কোনও নবি আসবেন না, এ-ই যা পার্থক্য।”
সামূদ জাতির আদি বাসস্থান 'হিজর'-এ এসে থামে মুসলিম বাহিনী। এই জাতির কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন নবি সালিহ (আলাইহিস সালাম)। বেপরোয়াভাবে কুফরিতে লিপ্ত এই জাতিটির কাছে আল্লাহর মু'জিযা হিসেবে পাহাড় থেকে বের করে আনা হয়েছিল একটি উটনী। সাময়িকভাবে শান্ত হওয়া জাতিটিকে বলা হয় যে, আল্লাহ তাআলার এই উটনীটির যেন কোনও ক্ষতি করা না হয়। কিন্তু অহংকারবশত একসময় তারা এই নিষিদ্ধ কাজটিই করে বসে। হত্যা করে ফেলে উটনীটিকে। ফলে প্রচণ্ড এক ভূমিকম্পের মাধ্যমে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়। হিজরের ঘরগুলো আজও তাদের বিলুপ্ত অস্তিত্বের সাক্ষী।
এলাকাটির কুয়া থেকে সাহাবিরা পানি তুলতে লাগলেন। রুটির জন্য খামির প্রস্তুত করতে হবে। নবি এ দৃশ্য দেখামাত্র নির্দেশ দেন পানি ফেলে দিতে। খামির যা ইতিমধ্যে বানানো হয়ে গেছে, সেগুলো উট আর ঘোড়াগুলোকে খাইয়ে দিতে বললেন। সালিহ (আলাইহিস সালাম)-এর সেই উটনী যে কুয়া থেকে পানি পান করত, সেটি দেখিয়ে দেন নবিজি । সেখান থেকেই পানি নিতে বলেন সাহাবিদের।
অবাধ্য এ জাতিটির এলাকা পার হতে হতে নবি সাথিদের এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে বললেন। আল্লাহর অবাধ্যতার ফল এমনই কঠোর।
“তোমরা জালিমদের বাসস্থানে কেবল কান্নারত অবস্থায় প্রবেশ করো। এই ভয়ে যে, তাদের ওপর যে মুসীবত এসেছিল তা তোমাদের ওপরও এসে পড়বে।”
এরপর মুসলিমরা বিনীত ভঙ্গিতে কাপড়ে মাথা ঢেকে দ্রুত স্থানটি পার হয়ে যান। রাস্তার মধ্যে রাসূলুল্লাহ যোহরের ওয়াক্তে যোহরকে আসরের সাথে মিলিয়ে এবং ইশার ওয়াক্তে মাগরিব ও ইশার সালাত একত্রে আদায় করেন।
প্রায় চার শ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নবিজি -এর সেনারা তাবুকে এসে পৌঁছান। এখানে এসে সবাই আবূ খাইসামা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর দেখা পান। ইনি কোনও বৈধ অজুহাত ছাড়া মদীনায় রয়ে গিয়েছিলেন। জানালেন যে, সেনাদল মদীনা ছেড়ে যাওয়ার পর একদিন প্রচণ্ড গরমে তিনি তার বাগানে প্রবেশ করে বসেন। তার দুই স্ত্রী চারপাশে পানি ছিটিয়ে দেন এবং সুশীতল পানি ও খাবার নিয়ে আসেন তার জন্য। হঠাৎ বোধোদয় হলে তিনি স্ত্রীদের বলেন, “নবিজি ওদিকে রোদে পুড়ছেন। আর আমি কি না বসে বসে শীতল ছায়া, ঠান্ডা পানি আর মধুর নারীসঙ্গ ভোগ করছি? এ তো অন্যায়! আল্লাহর কসম! আমি ঘরেও ঢুকব না। সোজা নবিজির কাছে চলে যাব। তোমরা দু'জন আমার মালপত্র প্রস্তুত করে দাও।” স্ত্রীদ্বয় তা-ই করেন। তরবারি ও বর্শা নিয়ে উট ছুটিয়ে নবিজি -এর কাছে চলে আসেন আবূ খাইসামা (রদিয়াল্লাহু আনহু)। তখন নবি মাত্র তাবূকে এসে পৌঁছেছেন।

টিকাঃ
[৪৯৩] বুখারি, ৩৭০৬।
[৪৯৪] বুখারি, ৪৩৩।
[৪৯৫] মুসলিম, ৭০৬; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৫/২৩৭।
[৪৯৬] বাইহাকি, দালাইলুন নুবুওয়াহ, ৫/২২৩।

অবশেষে মুসলিমরা দীর্ঘ মরু পাড়ি দিয়ে তাবুকে যেতে প্রস্তুত। মদীনার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক হন মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামা (রদিয়াল্লাহু আনহু)। আলি ইবনু আবী তালিব (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কেও রেখে যাওয়া হয় নারী ও শিশুদের দেখভাল করতে। সেনাদলের সবচেয়ে বড় পতাকাটি থাকে আবূ বকর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে। যুবাইর, উসাইদ ইবনু হুদাইর এবং হুবাব ইবনুল মুনযির (রদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর হাতে যথাক্রমে মুহাজির, আওস ও খাযরাজের পতাকা।
ত্রিশ হাজার সেনা নিয়ে নবি তাবুক অভিমুখে রওনা হন ৯ম হিজরি সনের রজব মাসের কোনও এক বৃহস্পতিবারে। মানুষ অনুপাতে উটের সংখ্যা এতই কম যে, একটি উঠের পিঠে পালা করে আঠারো জন পর্যন্ত আরোহণ করেন। খুব কষ্টের সফর ছিল। খাদ্যাভাবের কারণে গাছের পাতা চিবিয়ে খেতে খেতে সবার ঠোঁট ফুলে যায়। একে তো উটের অভাব, তার ওপর পানিসংকট। তৃষ্ণায় প্রাণ বের হওয়ার উপক্রম হলে কয়েকটি উট যবাই করে সেগুলোর পেটে থাকা পানি পর্যন্ত পান করেন সাহাবায়ে কেরাম। কারণ, মাথার ওপর ছিল তখন মরুভূমির পাথর-ফাটা তপ্ত রোদ।
ওদিকে মদীনায় মুনাফিকদের ঠাট্টা-মশকরা দিনে দিনে সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আলি (রদিয়াল্লাহু আনহু) ধৈর্য হারিয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন সেনাদলের সাথে গিয়ে যোগ দেওয়ার। বাহন ছুটিয়ে তিনি সেনাদলের কাছে পৌঁছে যান। নবি তাঁকে মদীনায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “তুমি কি এতে সন্তুষ্ট না যে, আমার সাথে তোমার সম্পৃক্ততা হবে মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে যেমন হারুন (আলাইহিস সালাম) ছিলেন? তবে আমার পরে কোনও নবি আসবেন না, এ-ই যা পার্থক্য।”
সামূদ জাতির আদি বাসস্থান 'হিজর'-এ এসে থামে মুসলিম বাহিনী। এই জাতির কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন নবি সালিহ (আলাইহিস সালাম)। বেপরোয়াভাবে কুফরিতে লিপ্ত এই জাতিটির কাছে আল্লাহর মু'জিযা হিসেবে পাহাড় থেকে বের করে আনা হয়েছিল একটি উটনী। সাময়িকভাবে শান্ত হওয়া জাতিটিকে বলা হয় যে, আল্লাহ তাআলার এই উটনীটির যেন কোনও ক্ষতি করা না হয়। কিন্তু অহংকারবশত একসময় তারা এই নিষিদ্ধ কাজটিই করে বসে। হত্যা করে ফেলে উটনীটিকে। ফলে প্রচণ্ড এক ভূমিকম্পের মাধ্যমে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়। হিজরের ঘরগুলো আজও তাদের বিলুপ্ত অস্তিত্বের সাক্ষী।
এলাকাটির কুয়া থেকে সাহাবিরা পানি তুলতে লাগলেন। রুটির জন্য খামির প্রস্তুত করতে হবে। নবি এ দৃশ্য দেখামাত্র নির্দেশ দেন পানি ফেলে দিতে। খামির যা ইতিমধ্যে বানানো হয়ে গেছে, সেগুলো উট আর ঘোড়াগুলোকে খাইয়ে দিতে বললেন। সালিহ (আলাইহিস সালাম)-এর সেই উটনী যে কুয়া থেকে পানি পান করত, সেটি দেখিয়ে দেন নবিজি । সেখান থেকেই পানি নিতে বলেন সাহাবিদের।
অবাধ্য এ জাতিটির এলাকা পার হতে হতে নবি সাথিদের এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে বললেন। আল্লাহর অবাধ্যতার ফল এমনই কঠোর।
“তোমরা জালিমদের বাসস্থানে কেবল কান্নারত অবস্থায় প্রবেশ করো। এই ভয়ে যে, তাদের ওপর যে মুসীবত এসেছিল তা তোমাদের ওপরও এসে পড়বে।”
এরপর মুসলিমরা বিনীত ভঙ্গিতে কাপড়ে মাথা ঢেকে দ্রুত স্থানটি পার হয়ে যান। রাস্তার মধ্যে রাসূলুল্লাহ যোহরের ওয়াক্তে যোহরকে আসরের সাথে মিলিয়ে এবং ইশার ওয়াক্তে মাগরিব ও ইশার সালাত একত্রে আদায় করেন।
প্রায় চার শ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নবিজি -এর সেনারা তাবুকে এসে পৌঁছান। এখানে এসে সবাই আবূ খাইসামা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর দেখা পান। ইনি কোনও বৈধ অজুহাত ছাড়া মদীনায় রয়ে গিয়েছিলেন। জানালেন যে, সেনাদল মদীনা ছেড়ে যাওয়ার পর একদিন প্রচণ্ড গরমে তিনি তার বাগানে প্রবেশ করে বসেন। তার দুই স্ত্রী চারপাশে পানি ছিটিয়ে দেন এবং সুশীতল পানি ও খাবার নিয়ে আসেন তার জন্য। হঠাৎ বোধোদয় হলে তিনি স্ত্রীদের বলেন, “নবিজি ওদিকে রোদে পুড়ছেন। আর আমি কি না বসে বসে শীতল ছায়া, ঠান্ডা পানি আর মধুর নারীসঙ্গ ভোগ করছি? এ তো অন্যায়! আল্লাহর কসম! আমি ঘরেও ঢুকব না। সোজা নবিজির কাছে চলে যাব। তোমরা দু'জন আমার মালপত্র প্রস্তুত করে দাও।” স্ত্রীদ্বয় তা-ই করেন। তরবারি ও বর্শা নিয়ে উট ছুটিয়ে নবিজি -এর কাছে চলে আসেন আবূ খাইসামা (রদিয়াল্লাহু আনহু)। তখন নবি মাত্র তাবূকে এসে পৌঁছেছেন।

টিকাঃ
[৪৯৩] বুখারি, ৩৭০৬।
[৪৯৪] বুখারি, ৪৩৩।
[৪৯৫] মুসলিম, ৭০৬; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৫/২৩৭।
[৪৯৬] বাইহাকি, দালাইলুন নুবুওয়াহ, ৫/২২৩।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 তাবূকে বিশটি দিন

📄 তাবূকে বিশটি দিন


রোমানরা ইতিমধ্যে খবর পেয়ে গেছে যে, মুসলিম সৈন্যরা তাদের মুখোমুখি হতে চার শ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে চলে এসেছে। এতেই রোমানদের মনোবল ভেঙে পড়ে। সিদ্ধান্ত নেয় যুদ্ধে না আসার। তারপরও নবি তাবূকে শিবির স্থাপন করে বিশ দিন অবস্থান করেন। উপস্থিতির মাধ্যমে ভীতি ধরিয়ে দেন রোম সাম্রাজ্য এবং তাদের অনুগত আরব খ্রিষ্টানদের হৃদয়-রাজ্যে।
আরবের নতুন এই শাসকের সাথে শান্তি স্থাপন করতে অনেক গোত্রই তখন উদগ্রীব। তাবূকের আশপাশের অনেক গোত্র থেকেই প্রতিনিধিদল এসে নবিজি -এর সাথে একের পর এক দেখা করতে থাকে। আইলার প্রশাসক ইউহান্না ইবনু রু'বা আসেন সাক্ষাৎ করতে। সাথে ছিলেন জারবা, আযরুহ এবং মীনা অঞ্চলের দলগুলোও। সবাই-ই জিযইয়া প্রদান করতে রাজি হন, তবে ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত জানাননি। নবি তাদের জন্য একটি শান্তিচুক্তিপত্র লিখে দেন। স্থল আর সাগর মিলিয়ে তাদের এলাকা এবং সেখানকার গবাদি পশু ও কাফেলা মুসলিমদের হাত থেকে নিরাপদ। আর যদি কোনও ধরনের অপতৎপরতা দেখা যায় তাহলে তাদের সম্পদ তাদের জীবন বাঁচাতে পারবে না।
প্রতি বছরের রজব মাসে এক শ দীনার জিযইয়ার মাধ্যমে জারবা এবং আযরুহ গোত্রের সাথেও অনুরূপ চুক্তি হয়। আর মীনা গোত্র সম্মত হয় তাদের অঞ্চলে উৎপন্ন ফসলের এক-চতুর্থাংশ দান করতে।

টিকাঃ
[৪৯৭] বাইহাকি, দালাইলুন নুবুওয়াহ, ৫/২৪৭-২৪৮।

রোমানরা ইতিমধ্যে খবর পেয়ে গেছে যে, মুসলিম সৈন্যরা তাদের মুখোমুখি হতে চার শ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে চলে এসেছে। এতেই রোমানদের মনোবল ভেঙে পড়ে। সিদ্ধান্ত নেয় যুদ্ধে না আসার। তারপরও নবি তাবূকে শিবির স্থাপন করে বিশ দিন অবস্থান করেন। উপস্থিতির মাধ্যমে ভীতি ধরিয়ে দেন রোম সাম্রাজ্য এবং তাদের অনুগত আরব খ্রিষ্টানদের হৃদয়-রাজ্যে।
আরবের নতুন এই শাসকের সাথে শান্তি স্থাপন করতে অনেক গোত্রই তখন উদগ্রীব। তাবূকের আশপাশের অনেক গোত্র থেকেই প্রতিনিধিদল এসে নবিজি -এর সাথে একের পর এক দেখা করতে থাকে। আইলার প্রশাসক ইউহান্না ইবনু রু'বা আসেন সাক্ষাৎ করতে। সাথে ছিলেন জারবা, আযরুহ এবং মীনা অঞ্চলের দলগুলোও। সবাই-ই জিযইয়া প্রদান করতে রাজি হন, তবে ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত জানাননি। নবি তাদের জন্য একটি শান্তিচুক্তিপত্র লিখে দেন। স্থল আর সাগর মিলিয়ে তাদের এলাকা এবং সেখানকার গবাদি পশু ও কাফেলা মুসলিমদের হাত থেকে নিরাপদ। আর যদি কোনও ধরনের অপতৎপরতা দেখা যায় তাহলে তাদের সম্পদ তাদের জীবন বাঁচাতে পারবে না।
প্রতি বছরের রজব মাসে এক শ দীনার জিযইয়ার মাধ্যমে জারবা এবং আযরুহ গোত্রের সাথেও অনুরূপ চুক্তি হয়। আর মীনা গোত্র সম্মত হয় তাদের অঞ্চলে উৎপন্ন ফসলের এক-চতুর্থাংশ দান করতে।

টিকাঃ
[৪৯৭] বাইহাকি, দালাইলুন নুবুওয়াহ, ৫/২৪৭-২৪৮।

রোমানরা ইতিমধ্যে খবর পেয়ে গেছে যে, মুসলিম সৈন্যরা তাদের মুখোমুখি হতে চার শ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে চলে এসেছে। এতেই রোমানদের মনোবল ভেঙে পড়ে। সিদ্ধান্ত নেয় যুদ্ধে না আসার। তারপরও নবি তাবূকে শিবির স্থাপন করে বিশ দিন অবস্থান করেন। উপস্থিতির মাধ্যমে ভীতি ধরিয়ে দেন রোম সাম্রাজ্য এবং তাদের অনুগত আরব খ্রিষ্টানদের হৃদয়-রাজ্যে।
আরবের নতুন এই শাসকের সাথে শান্তি স্থাপন করতে অনেক গোত্রই তখন উদগ্রীব। তাবূকের আশপাশের অনেক গোত্র থেকেই প্রতিনিধিদল এসে নবিজি -এর সাথে একের পর এক দেখা করতে থাকে। আইলার প্রশাসক ইউহান্না ইবনু রু'বা আসেন সাক্ষাৎ করতে। সাথে ছিলেন জারবা, আযরুহ এবং মীনা অঞ্চলের দলগুলোও। সবাই-ই জিযইয়া প্রদান করতে রাজি হন, তবে ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত জানাননি। নবি তাদের জন্য একটি শান্তিচুক্তিপত্র লিখে দেন। স্থল আর সাগর মিলিয়ে তাদের এলাকা এবং সেখানকার গবাদি পশু ও কাফেলা মুসলিমদের হাত থেকে নিরাপদ। আর যদি কোনও ধরনের অপতৎপরতা দেখা যায় তাহলে তাদের সম্পদ তাদের জীবন বাঁচাতে পারবে না।
প্রতি বছরের রজব মাসে এক শ দীনার জিযইয়ার মাধ্যমে জারবা এবং আযরুহ গোত্রের সাথেও অনুরূপ চুক্তি হয়। আর মীনা গোত্র সম্মত হয় তাদের অঞ্চলে উৎপন্ন ফসলের এক-চতুর্থাংশ দান করতে।

টিকাঃ
[৪৯৭] বাইহাকি, দালাইলুন নুবুওয়াহ, ৫/২৪৭-২৪৮।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 উকাইদিরের বন্দিত্ব

📄 উকাইদিরের বন্দিত্ব


দুমাতুল জান্‌দালের প্রশাসক উকাইদিরকে বন্দি করার জন্য নবি খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নেতৃত্বে চার শ বিশ জন ঘোড়সওয়ারের একটি দল পাঠান। খালিদকে বলে দেন যে, উকাইদিরকে পাওয়া যাবে নীলগাই বা সাদা অ্যান্টিলোপ শিকাররত অবস্থায়। কথামতো খালিদ গিয়ে উকাইদিরের দুর্গের সামনে থামেন। একটি সাদা অ্যান্টিলোপ চোখে পড়ে তার। ঠিকই সেটা শিকার করতে দুর্গ থেকে বেরিয়ে আসে উকাইদির। জানে না যে, নিজেই একটু পর শিকারে পরিণত হবে। খালিদ (রদিয়াল্লাহু আনহু) অতর্কিত আক্রমণে তাকে বন্দি করে ফেলেন। নবিজি -এর কাছে নিয়ে আসা হয় তাকে। দুই হাজার উট, আট শ দাস, চার শ বর্ম এবং চার শ বর্শার বিমিনয়ে উকাইদিরকে মুক্তি দিয়ে দেন তিনি। আইলা এবং মীনার মতো একই শর্তে উকাইদিরও জিযইয়া দিতে সম্মত হয়।

টিকাঃ
[৪৯৮] বাইহাকি, দালাইলুন নুবুওয়াহ, ৫/২৫০-২৫১।

দুমাতুল জান্‌দালের প্রশাসক উকাইদিরকে বন্দি করার জন্য নবি খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নেতৃত্বে চার শ বিশ জন ঘোড়সওয়ারের একটি দল পাঠান। খালিদকে বলে দেন যে, উকাইদিরকে পাওয়া যাবে নীলগাই বা সাদা অ্যান্টিলোপ শিকাররত অবস্থায়। কথামতো খালিদ গিয়ে উকাইদিরের দুর্গের সামনে থামেন। একটি সাদা অ্যান্টিলোপ চোখে পড়ে তার। ঠিকই সেটা শিকার করতে দুর্গ থেকে বেরিয়ে আসে উকাইদির। জানে না যে, নিজেই একটু পর শিকারে পরিণত হবে। খালিদ (রদিয়াল্লাহু আনহু) অতর্কিত আক্রমণে তাকে বন্দি করে ফেলেন। নবিজি -এর কাছে নিয়ে আসা হয় তাকে। দুই হাজার উট, আট শ দাস, চার শ বর্ম এবং চার শ বর্শার বিমিনয়ে উকাইদিরকে মুক্তি দিয়ে দেন তিনি। আইলা এবং মীনার মতো একই শর্তে উকাইদিরও জিযইয়া দিতে সম্মত হয়।

টিকাঃ
[৪৯৮] বাইহাকি, দালাইলুন নুবুওয়াহ, ৫/২৫০-২৫১।

দুমাতুল জান্‌দালের প্রশাসক উকাইদিরকে বন্দি করার জন্য নবি খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নেতৃত্বে চার শ বিশ জন ঘোড়সওয়ারের একটি দল পাঠান। খালিদকে বলে দেন যে, উকাইদিরকে পাওয়া যাবে নীলগাই বা সাদা অ্যান্টিলোপ শিকাররত অবস্থায়। কথামতো খালিদ গিয়ে উকাইদিরের দুর্গের সামনে থামেন। একটি সাদা অ্যান্টিলোপ চোখে পড়ে তার। ঠিকই সেটা শিকার করতে দুর্গ থেকে বেরিয়ে আসে উকাইদির। জানে না যে, নিজেই একটু পর শিকারে পরিণত হবে। খালিদ (রদিয়াল্লাহু আনহু) অতর্কিত আক্রমণে তাকে বন্দি করে ফেলেন। নবিজি -এর কাছে নিয়ে আসা হয় তাকে। দুই হাজার উট, আট শ দাস, চার শ বর্ম এবং চার শ বর্শার বিমিনয়ে উকাইদিরকে মুক্তি দিয়ে দেন তিনি। আইলা এবং মীনার মতো একই শর্তে উকাইদিরও জিযইয়া দিতে সম্মত হয়।

টিকাঃ
[৪৯৮] বাইহাকি, দালাইলুন নুবুওয়াহ, ৫/২৫০-২৫১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00