📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 উযযা, সুওযা’ ও মানাত—মূর্তি ধ্বংস

📄 উযযা, সুওযা’ ও মানাত—মূর্তি ধ্বংস


রমাদানের ২৫ তারিখ। নবি খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে প্রেরণ করেন নাখলায়। সাথে আছে ত্রিশ জন অশ্বারোহী। উদ্দেশ্য, উযযা মন্দির ভেঙে দিয়ে আসা। মুশরিকদের সবচেয়ে বড় মূর্তি ছিল এই উযযা। খালিদ একে ভেঙে গুঁড়ো গুঁড়ো করে ফেলেন।
একই মাসে আরেক অভিযানে পাঠানো হয় আমর ইবনুল আস (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে। তার দায়িত্ব বানু হুযাইলের প্রধান উপাস্য সুওয়া'-মূর্তি ধ্বংস করা। মক্কা থেকে ১৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে 'রুহাত' নামক স্থানে অবস্থিত মন্দিরটিকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেন তিনি ও তার বাহিনী। সেখানকার পুরোহিত তাদের উপাস্যকে ভূপাতিত হতে দেখে উপলব্ধি করে যে, সত্যিকারের উপাস্যের কখনও এই পরিণতি হতে পারে না। ফলে তিনি মূর্তিপূজা ছেড়ে ইসলাম গ্রহণ করেন।
আরও একটি মিথ্যা উপাস্য বাকি আছে। কালব, খুযাআ, গাসসান, আওস ও খাযরাজ গোত্রের সম্মিলিত উপাস্য 'মানাত'। এটির অবস্থান ছিল কুদাইদের পাশে 'মুশাল্লাল' নামক স্থানে। সা'দ ইবনু যাইদ আশহালি (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ওপর দায়িত্ব বর্তায় বিশ জন ঘোড়সওয়ারসহ গিয়ে সেটি ভেঙে দিয়ে আসার। মূর্তি-মন্দির উভয়ই ধ্বংস করে শিরকের আরেকটি নোংরা ঘাঁটি নিশ্চিহ্ন করেন সা'দ ইবনু যাইদ। দিকে দিকে দৃশ্যমান হতে থাকে সাদৃশ্যহীন, চিরঞ্জীব, অদ্বিতীয় এক আল্লাহর অপ্রতিদ্বন্দ্বিতা।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 বানূ জাযীমার কাছে খালিদ

📄 বানূ জাযীমার কাছে খালিদ


এখন যথাসম্ভব বেশি বেশি মানুষের অন্তরে ইসলাম প্রোথিত করা সময়ের দাবি। তাই শাওয়াল মাসে খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে নবি পাঠালেন জাযীমা গোত্রের কাছে। মুহাজির, আনসার এবং বানূ সুলাইমের তিন শ জন সাথিও ছিলেন সঙ্গে।
ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দেওয়ার পর বানু জাযীমার লোকেরা চিৎকার করতে লাগল, “সাবানা! সাবানা!-আমরা আমাদের পূর্বধর্ম ত্যাগ করেছি! আমাদের পূর্বধর্ম ছেড়ে দিয়েছি!” তাদের এই উত্তর খালিদ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে ধোঁকাবাজির মতো মনে হলো। জান বাঁচানোর ফন্দি ভেবে তাদের বন্দি করার পাশাপাশি কয়েকজনকে হত্যাও করে ফেলেন তিনি। এরপর একদিন সব সৈনিককে আদেশ দেন নিজ নিজ বন্দিকে হত্যা করতে। এই অন্যায় আদেশ মানতে অস্বীকৃতি জানান আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা)-সহ বেশ কয়েকজন সাহাবি।
ফিরে এসে ওই সৈনিকেরা নবি-এর কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেন। শিহরিত নবিজি দুআ করলেন, “হে আল্লাহ, খালিদ যা করেছে আমি তা থেকে মুক্ত।” এরপর আলি (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বানু জাযীমার কাছে পাঠিয়ে নবিজি নিহতদের পরিবার-পরিজনকে তাদের রক্তপণ হিসেবে যা পাওনা তা পরিশোধ করে দেন। যাদের সহায়-সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাদেরও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। রক্তপণ আর ক্ষতিপূরণ দেওয়া শেষে বেঁচে যাওয়া অর্থটুকুও দিয়ে আসা হয় জাযীমা সদস্যদের।
অনেক সাহাবির কাছেই সমালোচিত হয় খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর এই কাজটি। আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে এ নিয়ে কথা কাটাকাটিও হয় তার। বাগ্বিতণ্ডার খবর রাসূলুল্লাহ -এর কাছে পৌঁছালে তিনি ডাকিয়ে এনে বলেন,
“খালিদ, থামো। আমার সাহাবিদের কঠোর কিছু বলা থেকে বিরত থাকো। আল্লাহর কসম! উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও যদি তুমি আল্লাহর পথে ব্যয় করো, তবু আমার কোনও সাহাবির এক সকালের কিংবা এক সন্ধ্যার ইবাদাতের নিকটও পৌঁছতে পারবে না।”

টিকাঃ
[৪৭৫] বুখারি, ৪৩৩৯।
[৪৭৬] বুখারি, ৪২৮০; মুসলিম, ১৭৮০; ইবনু হিশাম, ২/৩৮৯, ৪৩৭; যাদুল মাআদ, ২/১৬০-১৬৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00