📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 কা’বার ছাদে বেলালের আযান

📄 কা’বার ছাদে বেলালের আযান


যুহরের ওয়াক্ত হলে বিলাল ইবনু রবাহ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে ডাক দেন নবি ﷺ। তারপর কা'বার ছাদে উঠে তাঁকে আযান দেওয়ার আদেশ করেন। কা'বার ছাদ থেকে বিলালের কণ্ঠে ধ্বনিত হলো আযান। এ তো শুধু সালাতের আহ্বান নয়, ইসলামের প্রতাপ ও বিজয়ের ঘোষণাও বটে। আল্লাহর পবিত্র ঘরে আল্লাহরই বড়ত্ব ঘোষণা হতে শুনে কতই-না শান্তি পেয়েছে মুমিনের কান! আর কতই-না অক্ষম রাগে ফেটে পড়েছে মুশরিকদের হৃদয়! বিশ্বজাহানের রব আল্লাহ তাআলার জন্যই সমস্ত প্রশংসা।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 আনসারদের আশঙ্কা

📄 আনসারদের আশঙ্কা


মক্কাবিজয় তো সুসম্পন্ন! পরশমণিটিও যদি এখানেই থেকে যায়, তাহলে? আনসারদের মনে গাঢ় হতে থাকে এই শঙ্কা। হাজার হোক, মক্কাই তো নবিজি ﷺ-এর পৈত্রিক ভিটে, এখানেই তাঁর গোত্রীয় শেকড়। সাফা পাহাড়ে দুআরত নবিজিকে গিয়ে আনসাররা নিজেদের ভয়ের কথা জানালেন। দুআ শেষে তাদের সেই অলীক ভয় দূর করে দিয়ে নবিজি বললেন, “আল্লাহর পানাহ! আমি তোমাদের সাথেই বাঁচব, তোমাদের সাথেই মরব।"
এই কথা শুনে আনসাররা মহাখুশি হয়। তাদের সমস্ত শঙ্কা ও আশঙ্কা দূর হয়ে যায়। হৃদয়-আত্মায় আচ্ছন্ন হয় অভূতপূর্ব এক অনাবিল প্রশান্তি।
উনিশ দিন মক্কায় অবস্থান করে রাসূল ﷺ জাহিলিয়াতের প্রতিটি চিহ্ন নিশ্চিহ্ন করে দেন। মক্কা হয়ে ওঠে স্নিগ্ধ ও পবিত্র এক ইসলামী শহর। মাসজিদুল হারামের সীমানা নির্দেশ করে কয়েকটি স্তম্ভ গড়ে তোলা হয়। তারপর একজন ঘোষণাকারী সবাইকে জানিয়ে দেন যে, "যে আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস করে, সে যেন তার নিজ ঘরে থাকা সমস্ত মূর্তি ভেঙে ফেলে।”

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 উযযা, সুওযা’ ও মানাত—মূর্তি ধ্বংস

📄 উযযা, সুওযা’ ও মানাত—মূর্তি ধ্বংস


রমাদানের ২৫ তারিখ। নবি খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে প্রেরণ করেন নাখলায়। সাথে আছে ত্রিশ জন অশ্বারোহী। উদ্দেশ্য, উযযা মন্দির ভেঙে দিয়ে আসা। মুশরিকদের সবচেয়ে বড় মূর্তি ছিল এই উযযা। খালিদ একে ভেঙে গুঁড়ো গুঁড়ো করে ফেলেন।
একই মাসে আরেক অভিযানে পাঠানো হয় আমর ইবনুল আস (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে। তার দায়িত্ব বানু হুযাইলের প্রধান উপাস্য সুওয়া'-মূর্তি ধ্বংস করা। মক্কা থেকে ১৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে 'রুহাত' নামক স্থানে অবস্থিত মন্দিরটিকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেন তিনি ও তার বাহিনী। সেখানকার পুরোহিত তাদের উপাস্যকে ভূপাতিত হতে দেখে উপলব্ধি করে যে, সত্যিকারের উপাস্যের কখনও এই পরিণতি হতে পারে না। ফলে তিনি মূর্তিপূজা ছেড়ে ইসলাম গ্রহণ করেন।
আরও একটি মিথ্যা উপাস্য বাকি আছে। কালব, খুযাআ, গাসসান, আওস ও খাযরাজ গোত্রের সম্মিলিত উপাস্য 'মানাত'। এটির অবস্থান ছিল কুদাইদের পাশে 'মুশাল্লাল' নামক স্থানে। সা'দ ইবনু যাইদ আশহালি (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ওপর দায়িত্ব বর্তায় বিশ জন ঘোড়সওয়ারসহ গিয়ে সেটি ভেঙে দিয়ে আসার। মূর্তি-মন্দির উভয়ই ধ্বংস করে শিরকের আরেকটি নোংরা ঘাঁটি নিশ্চিহ্ন করেন সা'দ ইবনু যাইদ। দিকে দিকে দৃশ্যমান হতে থাকে সাদৃশ্যহীন, চিরঞ্জীব, অদ্বিতীয় এক আল্লাহর অপ্রতিদ্বন্দ্বিতা।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 বানূ জাযীমার কাছে খালিদ

📄 বানূ জাযীমার কাছে খালিদ


এখন যথাসম্ভব বেশি বেশি মানুষের অন্তরে ইসলাম প্রোথিত করা সময়ের দাবি। তাই শাওয়াল মাসে খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে নবি পাঠালেন জাযীমা গোত্রের কাছে। মুহাজির, আনসার এবং বানূ সুলাইমের তিন শ জন সাথিও ছিলেন সঙ্গে।
ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দেওয়ার পর বানু জাযীমার লোকেরা চিৎকার করতে লাগল, “সাবানা! সাবানা!-আমরা আমাদের পূর্বধর্ম ত্যাগ করেছি! আমাদের পূর্বধর্ম ছেড়ে দিয়েছি!” তাদের এই উত্তর খালিদ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে ধোঁকাবাজির মতো মনে হলো। জান বাঁচানোর ফন্দি ভেবে তাদের বন্দি করার পাশাপাশি কয়েকজনকে হত্যাও করে ফেলেন তিনি। এরপর একদিন সব সৈনিককে আদেশ দেন নিজ নিজ বন্দিকে হত্যা করতে। এই অন্যায় আদেশ মানতে অস্বীকৃতি জানান আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রদিয়াল্লাহু আনহুমা)-সহ বেশ কয়েকজন সাহাবি।
ফিরে এসে ওই সৈনিকেরা নবি-এর কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেন। শিহরিত নবিজি দুআ করলেন, “হে আল্লাহ, খালিদ যা করেছে আমি তা থেকে মুক্ত।” এরপর আলি (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বানু জাযীমার কাছে পাঠিয়ে নবিজি নিহতদের পরিবার-পরিজনকে তাদের রক্তপণ হিসেবে যা পাওনা তা পরিশোধ করে দেন। যাদের সহায়-সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাদেরও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। রক্তপণ আর ক্ষতিপূরণ দেওয়া শেষে বেঁচে যাওয়া অর্থটুকুও দিয়ে আসা হয় জাযীমা সদস্যদের।
অনেক সাহাবির কাছেই সমালোচিত হয় খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর এই কাজটি। আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে এ নিয়ে কথা কাটাকাটিও হয় তার। বাগ্বিতণ্ডার খবর রাসূলুল্লাহ -এর কাছে পৌঁছালে তিনি ডাকিয়ে এনে বলেন,
“খালিদ, থামো। আমার সাহাবিদের কঠোর কিছু বলা থেকে বিরত থাকো। আল্লাহর কসম! উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও যদি তুমি আল্লাহর পথে ব্যয় করো, তবু আমার কোনও সাহাবির এক সকালের কিংবা এক সন্ধ্যার ইবাদাতের নিকটও পৌঁছতে পারবে না।”

টিকাঃ
[৪৭৫] বুখারি, ৪৩৩৯।
[৪৭৬] বুখারি, ৪২৮০; মুসলিম, ১৭৮০; ইবনু হিশাম, ২/৩৮৯, ৪৩৭; যাদুল মাআদ, ২/১৬০-১৬৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00