📄 দাগি আসামীদের মৃত্যুদণ্ড
সাধারণ ক্ষমা বহাল থাকলেও কিছু দাগী অপরাধীকে সেদিন মৃত্যুদণ্ড দেন আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ । তাদের দেখামাত্র হত্যার নির্দেশ দেন, এমনকি তারা কা'বা শরীফের গিলাফ ধরে ঝুলে থাকলেও। অবশেষে তাদের ঘিরে ধরেছে আল্লাহর ক্রোধ। প্রশস্ত পৃথিবী তাদের কাছে সংকীর্ণ হয়ে এসেছে। ইসলামবিরোধী যুদ্ধে অংশগ্রহণের দায়ে দোষী সমগ্র মক্কাবাসী। এর মাঝে মাত্র চার জনকে সেদিন হত্যা করা হয়। ইবনু খাতাল, মিকইয়াস ইবনু সুবাবা, হারিস ইবনু নুফাইল এবং ইবনু খাতালের এক দাসী। কিছু কিছু সূত্রে অবশ্য উল্লেখ করা হয়েছে যে, হারিস ইবনু তালাতিল খুযাঈ এবং উন্মু সা'দও মৃত্যুদণ্ড পেয়েছে। তবে উম্মু সা'দ সম্ভবত ইবনু খাতালের সেই দাসীও হতে পারে। তাই সব মিলিয়ে এমন আসামীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ছয়।
আরও চার জন মৃত্যুদণ্ড এড়াতে পেরেছিলেন সেদিন। প্রথমে পালিয়ে গিয়ে লুকিয়েছিলেন তারা। তারপর ফিরে এসে ইসলাম গ্রহণের কথা জানান। ফলে মাফ করে দেওয়া হয় তাদের। এরা হলেন আবদুল্লাহ ইবনু সা'দ ইবনি আবী সার্হ, ইকরিমা ইবনু আবী জাহল, হাব্বার ইবনুল আসওয়াদ এবং ইবনু খাতালের আরেক দাসী। কিছু উৎসে কা'ব ইবনু যুহাইর, ওয়াহশি ইবনু হারব এবং হিন্দ বিনতু উতবার নামও উল্লেখ করা হয়। সব মিলিয়ে সাত জন। রদিয়াল্লাহু আনহুম।
মৃত্যুদণ্ড না পেলেও সফওয়ান ইবনু উমাইয়া, যুহাইর ইবনু আবী উমাইয়া এবং সুহাইল ইবনু আমরসহ অনেকে প্রাণভয়ে লুকিয়ে ছিলেন। পরে তাদের সকলেই ইসলাম গ্রহণ করেন। রদিয়াল্লহু আনহুম।
📄 বিজয়-সালাত
মধ্যাহ্নের দিকে রাসূল তাঁর চাচাতো বোন উম্মু হানি বিনতু আবী তালিব (রদিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘরে যান। তিনি সেখানে গোসল সেরে দুই দুই করে মোট আট রাকাআত সালাত আদায় করেন।
উম্মু হানির দুই মুশরিক দেবর লুকিয়ে ছিল সে ঘরেই। আলি (রদিয়াল্লাহু আনহু) যখন টের পেয়ে গেলেন যে, তার বোন দুই জন মুশরিককে ইচ্ছে করে লুকিয়ে রেখেছে। সাথে সাথে তাদের হত্যা করতে উদ্যত হন। উম্মু হানি (রদিয়াল্লাহু আনহা) এসে নবিজি -এর কাছে অনুযোগ করেন। জবাবে নবি বলেন, "তুমি যাকে নিরাপত্তা দিয়েছ, আমরাও তাকে নিরাপত্তা দিয়েছি।"
টিকাঃ
[৪৭৩] বুখারি, ১১০৩।
[৪৭৪] বুখারি, ৩৫৭।
📄 কা’বার ছাদে বেলালের আযান
যুহরের ওয়াক্ত হলে বিলাল ইবনু রবাহ (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে ডাক দেন নবি ﷺ। তারপর কা'বার ছাদে উঠে তাঁকে আযান দেওয়ার আদেশ করেন। কা'বার ছাদ থেকে বিলালের কণ্ঠে ধ্বনিত হলো আযান। এ তো শুধু সালাতের আহ্বান নয়, ইসলামের প্রতাপ ও বিজয়ের ঘোষণাও বটে। আল্লাহর পবিত্র ঘরে আল্লাহরই বড়ত্ব ঘোষণা হতে শুনে কতই-না শান্তি পেয়েছে মুমিনের কান! আর কতই-না অক্ষম রাগে ফেটে পড়েছে মুশরিকদের হৃদয়! বিশ্বজাহানের রব আল্লাহ তাআলার জন্যই সমস্ত প্রশংসা।
📄 আনসারদের আশঙ্কা
মক্কাবিজয় তো সুসম্পন্ন! পরশমণিটিও যদি এখানেই থেকে যায়, তাহলে? আনসারদের মনে গাঢ় হতে থাকে এই শঙ্কা। হাজার হোক, মক্কাই তো নবিজি ﷺ-এর পৈত্রিক ভিটে, এখানেই তাঁর গোত্রীয় শেকড়। সাফা পাহাড়ে দুআরত নবিজিকে গিয়ে আনসাররা নিজেদের ভয়ের কথা জানালেন। দুআ শেষে তাদের সেই অলীক ভয় দূর করে দিয়ে নবিজি বললেন, “আল্লাহর পানাহ! আমি তোমাদের সাথেই বাঁচব, তোমাদের সাথেই মরব।"
এই কথা শুনে আনসাররা মহাখুশি হয়। তাদের সমস্ত শঙ্কা ও আশঙ্কা দূর হয়ে যায়। হৃদয়-আত্মায় আচ্ছন্ন হয় অভূতপূর্ব এক অনাবিল প্রশান্তি।
উনিশ দিন মক্কায় অবস্থান করে রাসূল ﷺ জাহিলিয়াতের প্রতিটি চিহ্ন নিশ্চিহ্ন করে দেন। মক্কা হয়ে ওঠে স্নিগ্ধ ও পবিত্র এক ইসলামী শহর। মাসজিদুল হারামের সীমানা নির্দেশ করে কয়েকটি স্তম্ভ গড়ে তোলা হয়। তারপর একজন ঘোষণাকারী সবাইকে জানিয়ে দেন যে, "যে আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস করে, সে যেন তার নিজ ঘরে থাকা সমস্ত মূর্তি ভেঙে ফেলে।”