📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 যাতুস সালাসিলের অভিযান (জুমাদাল আখিরাহ, ৮ম হিজরি)

📄 যাতুস সালাসিলের অভিযান (জুমাদাল আখিরাহ, ৮ম হিজরি)


এই যুদ্ধটি সম্পন্ন হয় মৃতার যুদ্ধের এক মাস পরে অষ্টম হিজরি সনের জুমাদাল আখিরাহতে। মুসলিম সেনাদল একটি জলাধারের পাশের ভূমিতে শিবির গাড়েন। সেখানকার জায়গাটির নাম ছিল 'যাতুস সালাসিল'। এই কারণে অভিযানটির নামও হয় তারই নামে।
মৃতার যুদ্ধেই প্রমাণিত হয়েছে যে, রোমানপন্থী সিরিয়ান আরবরা মুসলিমদের জন্য বড় হুমকি। এদের শায়েস্তা না করলে এরা ইসলামের জন্য বড় বিপদ হয়ে দাঁড়াতে পারে। নবি ﷺ এ উদ্দেশ্যেই মৃতার যুদ্ধের এক মাস পর আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নেতৃত্বে তিন শ জনের এক বাহিনী প্রেরণ করেন। সাথে ছিল ত্রিশটি ঘোড়া। উদ্দেশ্য বালি গোত্রের মিত্রতা আদায়। মায়ের দিক থেকে আমর এ গোত্রেরই বংশধর। যদি গোত্রটির কাছ থেকে নিরপেক্ষতার প্রতিশ্রুতি আদায় করা না যায়, তাহলে রোমানদের পক্ষ নেওয়ার জন্য বালি গোত্রের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক আক্রমণ করা হবে।
সেনাদল সিরিয়ার কাছাকাছি হতেই জানা গেল যে, সিরিয়ানরা আগে থেকেই নিজেদের বড় এক সেনাবাহিনী প্রস্তুত করে রেখেছে। লোকবলের আবেদন জানিয়ে মদীনায় খবর পাঠান আমর। নবি আবূ উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নেতৃত্বে আরও দুই শ জন দক্ষ সেনা প্রেরণ করেন। তবে সেনাপতি ও আমীর হিসেবে আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বহাল থাকেন।
লোকবল এসে পৌঁছানোর পর মুসলিম সেনাদল কাদাআ অঞ্চলের বড় একটি অংশ পার হন। একটি শত্রুদল মুখোমুখি হলে তীব্র আক্রমণ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেন মুসলিমরা।

টিকাঃ
[৪৫৬] ইবনু হিশাম, ২/৬২৩-৬২৬; যাদুল মাআদ, ২/১৫৭।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 যুদ্ধবিগ্রহ সম্পর্কে একটি নিগূঢ় তত্ত্ব

📄 যুদ্ধবিগ্রহ সম্পর্কে একটি নিগূঢ় তত্ত্ব


জাহিলি যুগে আরব মুশরিকদের কাছে যুদ্ধ ছিল দুর্বলদের গণহত্যা, সম্পদ লুণ্ঠন, গ্রাম ও গবাদিপশু ধ্বংস এবং নারীদের ধর্ষণ করার নামান্তর। কিন্তু ইসলাম এসে যুদ্ধের ধারণাই পাল্টে দেয়। যুদ্ধ রূপান্তরিত হয় অত্যাচারিতের উদ্ধার এবং অত্যাচারীকে শাস্তি প্রদানের মাধ্যম হিসেবে। সবচেয়ে বড় জুলুম-মিথ্যে উপাস্যের আরাধনা। এই জুলুম থেকে মুক্ত করে মানুষকে ইসলামের ছায়াতলে আনার জন্য চলতে থাকে নবিজি -এর গযাওয়াত (যুদ্ধসমূহ)।
তা ছাড়া ইসলাম আগমনের আগে মরুবাসী আরবদের জীবনব্যবস্থারই অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এসব যুদ্ধ। বকর এবং তাগলাব গোত্রদ্বয়ের মধ্যকার যুদ্ধ চল্লিশ বছর স্থায়ী হয়েছিল। এতে প্রাণ হারায় সত্তর হাজার মানুষ। তবু কেউ কারও কাছে মাথানত করেনি। একইভাবে আওস-খাযরাজের যুদ্ধও শতবর্ষী। এতেও কোনও পক্ষ আত্মসমর্পণ করেনি। তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয় নিয়ে বেঁধে যাওয়া যুদ্ধকেও টেনে নেওয়া হতো বছরের পর বছর, কেউই হার মানতে চাইত না। এটিই ছিল তৎকালীন আরবদের স্বভাব।
তাই রাসূল ইসলাম নিয়ে আসার পরও তারা স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই প্রতিক্রিয়া জানায়-যুদ্ধ। কিন্তু নবিজি মানুষকে পরাজিত করার বদলে তাদের জয় করতে থাকেন। মাত্র আট বছর যুদ্ধ করেন তিনি। মুসলিম, মুশরিক, ইয়াহুদি, খ্রিষ্টান সবমিলিয়ে মৃতের সংখ্যা হাজারের আশপাশে। এত কম রক্তপাত ও অল্প সময়ের মাঝেই তিনি পুরো আরব উপদ্বীপকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।
অনেক ইতিহাসবিদই নবিজি -এর সাফল্যকে সামরিক দক্ষতার ভেতর সীমাবদ্ধ করে ফেলে। কিন্তু যুদ্ধের প্রতি আরবদের লালসা এবং তুচ্ছ কারণে যুদ্ধ বাঁধিয়ে ফেলার স্বভাব বিবেচনা করলেই বোঝা যায় যে, নবিজি -এর কাছে তরবারির চেয়েও মোক্ষম ভিন্ন কোনও অস্ত্র ছিল।
আপনি কি মনে করেন ইসলামের এই বিজয় তরবারির শক্তিতে অর্জন হয়েছে?- বিশেষ করে ওই সমস্ত মানুষদের ওপর, যারা অতি তুচ্ছ বিষয়ে বহুকাল পর্যন্ত যুদ্ধ করতে থাকে এবং বিনাদ্বিধায় নিজেদের হাজার হাজার সৈন্য কুরবান করে দেয়, কিন্তু তাদের অন্তরে এই চিন্তাও আসে না যে, প্রতিপক্ষের নিকট মাথা নত করবে-কক্ষনো নয়! বরং নবি যা কিছু পেশ করেছেন তা ছিল নুবুওয়াত ও রহমত, রিসালাত ও হিকমাত, মুজিযা ও দাওয়াত এবং আল্লাহ তাআলার বিশেষ দয়া ও নিয়ামাত।

জাহিলি যুগে আরব মুশরিকদের কাছে যুদ্ধ ছিল দুর্বলদের গণহত্যা, সম্পদ লুণ্ঠন, গ্রাম ও গবাদিপশু ধ্বংস এবং নারীদের ধর্ষণ করার নামান্তর। কিন্তু ইসলাম এসে যুদ্ধের ধারণাই পাল্টে দেয়। যুদ্ধ রূপান্তরিত হয় অত্যাচারিতের উদ্ধার এবং অত্যাচারীকে শাস্তি প্রদানের মাধ্যম হিসেবে। সবচেয়ে বড় জুলুম-মিথ্যে উপাস্যের আরাধনা। এই জুলুম থেকে মুক্ত করে মানুষকে ইসলামের ছায়াতলে আনার জন্য চলতে থাকে নবিজি -এর গযাওয়াত (যুদ্ধসমূহ)।
তা ছাড়া ইসলাম আগমনের আগে মরুবাসী আরবদের জীবনব্যবস্থারই অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এসব যুদ্ধ। বকর এবং তাগলাব গোত্রদ্বয়ের মধ্যকার যুদ্ধ চল্লিশ বছর স্থায়ী হয়েছিল। এতে প্রাণ হারায় সত্তর হাজার মানুষ। তবু কেউ কারও কাছে মাথানত করেনি। একইভাবে আওস-খাযরাজের যুদ্ধও শতবর্ষী। এতেও কোনও পক্ষ আত্মসমর্পণ করেনি। তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয় নিয়ে বেঁধে যাওয়া যুদ্ধকেও টেনে নেওয়া হতো বছরের পর বছর, কেউই হার মানতে চাইত না। এটিই ছিল তৎকালীন আরবদের স্বভাব।
তাই রাসূল ইসলাম নিয়ে আসার পরও তারা স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই প্রতিক্রিয়া জানায়-যুদ্ধ। কিন্তু নবিজি মানুষকে পরাজিত করার বদলে তাদের জয় করতে থাকেন। মাত্র আট বছর যুদ্ধ করেন তিনি। মুসলিম, মুশরিক, ইয়াহুদি, খ্রিষ্টান সবমিলিয়ে মৃতের সংখ্যা হাজারের আশপাশে। এত কম রক্তপাত ও অল্প সময়ের মাঝেই তিনি পুরো আরব উপদ্বীপকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।
অনেক ইতিহাসবিদই নবিজি -এর সাফল্যকে সামরিক দক্ষতার ভেতর সীমাবদ্ধ করে ফেলে। কিন্তু যুদ্ধের প্রতি আরবদের লালসা এবং তুচ্ছ কারণে যুদ্ধ বাঁধিয়ে ফেলার স্বভাব বিবেচনা করলেই বোঝা যায় যে, নবিজি -এর কাছে তরবারির চেয়েও মোক্ষম ভিন্ন কোনও অস্ত্র ছিল।
আপনি কি মনে করেন ইসলামের এই বিজয় তরবারির শক্তিতে অর্জন হয়েছে?- বিশেষ করে ওই সমস্ত মানুষদের ওপর, যারা অতি তুচ্ছ বিষয়ে বহুকাল পর্যন্ত যুদ্ধ করতে থাকে এবং বিনাদ্বিধায় নিজেদের হাজার হাজার সৈন্য কুরবান করে দেয়, কিন্তু তাদের অন্তরে এই চিন্তাও আসে না যে, প্রতিপক্ষের নিকট মাথা নত করবে-কক্ষনো নয়! বরং নবি যা কিছু পেশ করেছেন তা ছিল নুবুওয়াত ও রহমত, রিসালাত ও হিকমাত, মুজিযা ও দাওয়াত এবং আল্লাহ তাআলার বিশেষ দয়া ও নিয়ামাত।

জাহিলি যুগে আরব মুশরিকদের কাছে যুদ্ধ ছিল দুর্বলদের গণহত্যা, সম্পদ লুণ্ঠন, গ্রাম ও গবাদিপশু ধ্বংস এবং নারীদের ধর্ষণ করার নামান্তর। কিন্তু ইসলাম এসে যুদ্ধের ধারণাই পাল্টে দেয়। যুদ্ধ রূপান্তরিত হয় অত্যাচারিতের উদ্ধার এবং অত্যাচারীকে শাস্তি প্রদানের মাধ্যম হিসেবে। সবচেয়ে বড় জুলুম-মিথ্যে উপাস্যের আরাধনা। এই জুলুম থেকে মুক্ত করে মানুষকে ইসলামের ছায়াতলে আনার জন্য চলতে থাকে নবিজি -এর গযাওয়াত (যুদ্ধসমূহ)।
তা ছাড়া ইসলাম আগমনের আগে মরুবাসী আরবদের জীবনব্যবস্থারই অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এসব যুদ্ধ। বকর এবং তাগলাব গোত্রদ্বয়ের মধ্যকার যুদ্ধ চল্লিশ বছর স্থায়ী হয়েছিল। এতে প্রাণ হারায় সত্তর হাজার মানুষ। তবু কেউ কারও কাছে মাথানত করেনি। একইভাবে আওস-খাযরাজের যুদ্ধও শতবর্ষী। এতেও কোনও পক্ষ আত্মসমর্পণ করেনি। তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয় নিয়ে বেঁধে যাওয়া যুদ্ধকেও টেনে নেওয়া হতো বছরের পর বছর, কেউই হার মানতে চাইত না। এটিই ছিল তৎকালীন আরবদের স্বভাব।
তাই রাসূল ইসলাম নিয়ে আসার পরও তারা স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই প্রতিক্রিয়া জানায়-যুদ্ধ। কিন্তু নবিজি মানুষকে পরাজিত করার বদলে তাদের জয় করতে থাকেন। মাত্র আট বছর যুদ্ধ করেন তিনি। মুসলিম, মুশরিক, ইয়াহুদি, খ্রিষ্টান সবমিলিয়ে মৃতের সংখ্যা হাজারের আশপাশে। এত কম রক্তপাত ও অল্প সময়ের মাঝেই তিনি পুরো আরব উপদ্বীপকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।
অনেক ইতিহাসবিদই নবিজি -এর সাফল্যকে সামরিক দক্ষতার ভেতর সীমাবদ্ধ করে ফেলে। কিন্তু যুদ্ধের প্রতি আরবদের লালসা এবং তুচ্ছ কারণে যুদ্ধ বাঁধিয়ে ফেলার স্বভাব বিবেচনা করলেই বোঝা যায় যে, নবিজি -এর কাছে তরবারির চেয়েও মোক্ষম ভিন্ন কোনও অস্ত্র ছিল।
আপনি কি মনে করেন ইসলামের এই বিজয় তরবারির শক্তিতে অর্জন হয়েছে?- বিশেষ করে ওই সমস্ত মানুষদের ওপর, যারা অতি তুচ্ছ বিষয়ে বহুকাল পর্যন্ত যুদ্ধ করতে থাকে এবং বিনাদ্বিধায় নিজেদের হাজার হাজার সৈন্য কুরবান করে দেয়, কিন্তু তাদের অন্তরে এই চিন্তাও আসে না যে, প্রতিপক্ষের নিকট মাথা নত করবে-কক্ষনো নয়! বরং নবি যা কিছু পেশ করেছেন তা ছিল নুবুওয়াত ও রহমত, রিসালাত ও হিকমাত, মুজিযা ও দাওয়াত এবং আল্লাহ তাআলার বিশেষ দয়া ও নিয়ামাত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00