📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 মূতা অভিযান (জুমাদাল উলা, ৮ম হিজরি)

📄 মূতা অভিযান (জুমাদাল উলা, ৮ম হিজরি)


আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, বুসরার প্রশাসকের কাছে নবিজি ﷺ-এর চিঠি নিয়ে যাওয়ার সময় শুরাহবীল ইবনু আমর গাসসানির হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন হারিস ইবনু উমাইর আযদি (রদিয়াল্লাহু আনহু)। এ কাজটি সরাসরি যুদ্ধঘোষণার শামিল। যাইদ ইবনু হারিসা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নেতৃত্বে তিন হাজার সৈনিকের একটি বাহিনী প্রেরণ করেন আল্লাহর রাসূল ﷺ। বাহিনীর সাদা পতাকাটি তুলে দেওয়া হয় যাইদের হাতে। তখন নবি ﷺ বলেন, “যদি যাইদ শহীদ হয়ে যায় তাহলে জা'ফার, আর যদি জা'ফারও শহীদ হয়ে যায় তাহলে আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা আমীর হবে।”
হারিসের নিহত হওয়ার স্থানে গিয়ে যাইদ ইবনু হারিসা (রদিয়াল্লাহু আনহু) প্রথমে জনগণকে ইসলামের দিকে আহ্বান করবেন। তারা প্রত্যাখ্যান করলে তবেই শুরু হবে যুদ্ধ।
বাহিনীকে বিদায় দেওয়ার কালে নবিজি কিছু চিরস্মরণীয় উক্তি করেন: “আল্লাহর নামে, আল্লাহর পথে-আল্লাহদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করো। সাবধান! প্রতিশ্রুতি ভেঙো না, খিয়ানত কোরো না। ওদের শিশু, নারী এবং অশীতিপর বৃদ্ধদের হত্যা করবে না। সন্ন্যাসীদের মঠে আক্রমণ কোরো না, ফলদ গাছ কেটো না এবং কোনও দালানও ধ্বংস কোরো না।”
সানিয়্যাতুল ওয়াদা' পর্যন্ত সেনাদলকে এগিয়ে দিয়ে আসেন আল্লাহর রাসূল ﷺ। দক্ষিণ জর্দানের 'মা'আন' অঞ্চলে গিয়ে শিবির খাটায় সেনারা। কিন্তু সেখানে হাজির হলো এক অপ্রত্যাশিত বিপদ। খুব কাছেই মাআবে বসে আছে হিরাক্লিয়াসের এক লক্ষ সেনা। তাদের সাথে যোগ দিয়েছে আরও এক লক্ষের একটি খ্রিষ্টান দল। পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে দুই রাত ধরে সলা-পরামর্শ চলে মুসলিম শিবিরে। অকল্পনীয় সংখ্যালঘুতা নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বে, না মদীনা থেকে সাহায্য আনানো হবে-কোনও সিদ্ধান্তেই আসা সম্ভব হচ্ছিল না। এমন সময় মুসলিম ভাইদের উদ্দেশে এক আবেগঘন বক্তৃতা দেন আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রদিয়াল্লাহু আনহু):
“আল্লাহর কসম! আপনারা যে জিনিসের আশায় এখানে এসেছেন, সেটাকেই এখন এড়ানোর চেষ্টা করছেন-অর্থাৎ শাহাদাত। আমরা সংখ্যা ও শক্তি দিয়ে কখনও যুদ্ধ করি না; বরং আমরা দ্বীনের শক্তিতেই যুদ্ধ করি, লড়াই করি, যে দ্বীন আল্লাহ আমাদের দান করেছেন। আমাদের সামনে রয়েছে দুটি পুরস্কার-গনীমাত নয়তো শাহাদাত!”
সবাই কথাটি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে বললেন, “আল্লাহর শপথ! ইবনু রাওয়াহা সত্য বলেছে।” তাই আগে বেড়ে মৃতায় এসে ঘাঁটি গাড়লেন সাহাবিরা। মযবুত অবস্থান নিলেন বিরাট শত্রু বাহিনীর মুখোমুখি হতে।
বেঁধে যায় এক অভূতপূর্ব অথচ ইতিহাস-বিস্মৃত এক প্রচণ্ড সংঘর্ষ। সদ্য উদীয়মান মুসলিম রাষ্ট্রের ৩০০০ সেনা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় বিশ্বপরাশক্তি রোমান সাম্রাজ্যের দুই লাখ সেনাকে। রোমান বাহিনী সারাদিন লড়াই করেও ক্ষুদ্র এই প্রতিপক্ষের সাথে পেরে ওঠেনি। উল্টো হারিয়েছে নিজেদের সেরা সেরা কিছু সৈনিক।
মুসলিম বাহিনীর পতাকাবাহী যাইদ ইবনু হারিসা (রদিয়াল্লাহু আনহু) বর্শার আঘাতে শহীদ হওয়ার আগ পর্যন্ত বীরবিক্রমে লড়াই করেন। তারপর পতাকা তুলে নেন জা'ফার ইবনু আবী তালিব (রদিয়াল্লাহু আনহু)। যুদ্ধের প্রচণ্ডতম মুহূর্তে বাহন থেকে নেমে শত্রুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। যুদ্ধ করতে করতে একসময় তাঁর ডান হাতটি কেটে পড়ে যায়। তখন তিনি বাম হাতে পতাকা আঁকড়ে ধরেন। তবুও বীরত্বের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকেন। পরে শত্রুরা তাঁর বাম হাতটিও কেটে ফেলে। তখনো তিনি অবশিষ্ট দুই বাহু দিয়ে বুকের সাথে চেপে ধরে উঁচু করে রাখেন মুসলিম বাহিনীর পতাকা। অবশেষে তিনিও শাহাদাতবরণ করেন। সে সময় জা'ফার (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর শরীরের সামনের অংশে তরবারির নব্বইটিরও বেশি আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
এরপর নবিজি -এর নির্দেশানুযায়ী পতাকা তুলে নেন আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রদিয়াল্লাহু আনহু)। এগিয়ে যেতে যেতে একসময় ঘোড়া থেকে নেমে আক্রমণ শুরু করেন শত্রুদের। অবশেষে তিনিও শাহাদাত লাভ করেন।
সাবিত ইবনু আরকাম (রদিয়াল্লাহু আনহু) একরকম যেন উড়ে এসেই নবিজি -এর পতাকাকে ধুলায় লুটানো থেকে রক্ষা করেন। এরপর তিনি মুসলিমদের আহ্বান করেন কোনও একজনকে নিজেদের আমীর নির্বাচন করে নিতে। মুসলিমদের ঐকমত্যে নতুন সেনাপতি হন খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রদিয়াল্লাহু আনহু)। যিনি কুরাইশ সেনাপতি হিসেবে আগেও নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। পতাকা চলে আসে খালিদের হাতে। খালিদ ধেয়ে গিয়ে এত প্রবলভাবে লড়াই করেন যে, সেদিন তার একার হাতেই ভেঙেছিল নয়টি তরবারি।
ওদিকে মদীনায় বসেই সুদূর মৃতায় চলমান যুদ্ধের খবরাখবর ওহির মাধ্যমে জানতে পারেন রাসূলুল্লাহ ﷺ। তিন মুসলিম সেনাপতির সকলেই শহীদ হয়েছেন। নতুন সেনাপতি নিযুক্ত হয়েছেন খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ। তখন নবিজি ﷺ তাকে সাইফুল্লাহ (আল্লাহর তরবারি) বলে সম্বোধন করেন।
সূর্যাস্তের সময় উভয় সেনাদল নিজ নিজ শিবিরে ফিরে আসে। এবার শুরু হয় সাইফুল্লাহর সামরিক কলাকৌশলের জাদু। পরদিন সকালে খালিদ (রদিয়াল্লাহু আনহু) সেনাসারিকে নতুন করে সাজান। সামনের সেনাদের পেছনে, পেছনের সেনাদের সামনে নিয়ে আসেন। একইভাবে ডান-বামের সেনাদেরও স্থানান্তর করান। রোমানরা দূর থেকে দেখে ধরে নেয় যে, শত্রুরা তাদের রাজধানী থেকে আরও বাহিনী নিয়ে এসেছে। ঘটনার এই পটপরিবর্তনে মনোবল একেবারেই ভেঙে যায় তাদের।
হালকা কিছু দাঙ্গার পর খালিদ (রদিয়াল্লাহু আনহু) সেনাদলকে নিয়ে আস্তে আস্তে পিছিয়ে আসেন। কিন্তু তা দেখেও রোমানরা এগিয়ে আসার সাহস পায় না। তারা ভাবে যে, শত্রুদের এই পিছিয়ে যাওয়াটা নিশ্চয়ই কোনও ফাঁদ হবে হয়তো। ওদিকে নতুন সেনাও নিয়ে এসেছে, আবার তাদের টেনে মরুভূমির ভেতরেও নিয়ে যাচ্ছে-এই ভেবে তারাও পেছাতে থাকে। সাতদিন ধরে ছোট ছোট খণ্ডযুদ্ধ চালানোর পর উভয় সেনাদল সম্পূর্ণ পিছু হটে। শেষ হয় যুদ্ধ।
এই যুদ্ধে বারো জন মুসলিম শহীদ হন। আর কাফিরদের বহুসংখ্যক সৈন্য নিহত হয়। তবে এদের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি।

টিকাঃ
[৪৪৯] বুখারি, ৫০৬৭।
[৪৫০] ফাতহুল বারি, ৭/৫১১; যাদুল মাআদ, ২/১৫৫।
[৪৫১] মুখতাসারুস সীরাহ, ৩২৭; মুসলিম, ১৭৩১; আবু দাউদ, ২৬১৪, ২৬৩১।
[৪৫২] যাদুল মাআদ, ২/১৫৬; ইবনু হিশাম, ২/৩৭৩-৩৭৪।
[৪৫৩] বুখারি, ৪২৪৪, ৪২৪৫; ইবনু হিশাম, ৪/২০; যাদুল মাআদ, ২/৫৬৯।
[৪৫৪] বুখারি, ৪২৬২।
[৪৫৫] ইবনু হাজার, ফাতহুল বারি, ৭/৫১৩-৫১৪; যাদুল মাআদ, ২/১৫৬।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 যাতুস সালাসিলের অভিযান (জুমাদাল আখিরাহ, ৮ম হিজরি)

📄 যাতুস সালাসিলের অভিযান (জুমাদাল আখিরাহ, ৮ম হিজরি)


এই যুদ্ধটি সম্পন্ন হয় মৃতার যুদ্ধের এক মাস পরে অষ্টম হিজরি সনের জুমাদাল আখিরাহতে। মুসলিম সেনাদল একটি জলাধারের পাশের ভূমিতে শিবির গাড়েন। সেখানকার জায়গাটির নাম ছিল 'যাতুস সালাসিল'। এই কারণে অভিযানটির নামও হয় তারই নামে।
মৃতার যুদ্ধেই প্রমাণিত হয়েছে যে, রোমানপন্থী সিরিয়ান আরবরা মুসলিমদের জন্য বড় হুমকি। এদের শায়েস্তা না করলে এরা ইসলামের জন্য বড় বিপদ হয়ে দাঁড়াতে পারে। নবি ﷺ এ উদ্দেশ্যেই মৃতার যুদ্ধের এক মাস পর আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নেতৃত্বে তিন শ জনের এক বাহিনী প্রেরণ করেন। সাথে ছিল ত্রিশটি ঘোড়া। উদ্দেশ্য বালি গোত্রের মিত্রতা আদায়। মায়ের দিক থেকে আমর এ গোত্রেরই বংশধর। যদি গোত্রটির কাছ থেকে নিরপেক্ষতার প্রতিশ্রুতি আদায় করা না যায়, তাহলে রোমানদের পক্ষ নেওয়ার জন্য বালি গোত্রের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক আক্রমণ করা হবে।
সেনাদল সিরিয়ার কাছাকাছি হতেই জানা গেল যে, সিরিয়ানরা আগে থেকেই নিজেদের বড় এক সেনাবাহিনী প্রস্তুত করে রেখেছে। লোকবলের আবেদন জানিয়ে মদীনায় খবর পাঠান আমর। নবি আবূ উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নেতৃত্বে আরও দুই শ জন দক্ষ সেনা প্রেরণ করেন। তবে সেনাপতি ও আমীর হিসেবে আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বহাল থাকেন।
লোকবল এসে পৌঁছানোর পর মুসলিম সেনাদল কাদাআ অঞ্চলের বড় একটি অংশ পার হন। একটি শত্রুদল মুখোমুখি হলে তীব্র আক্রমণ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেন মুসলিমরা।

টিকাঃ
[৪৫৬] ইবনু হিশাম, ২/৬২৩-৬২৬; যাদুল মাআদ, ২/১৫৭।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 যুদ্ধবিগ্রহ সম্পর্কে একটি নিগূঢ় তত্ত্ব

📄 যুদ্ধবিগ্রহ সম্পর্কে একটি নিগূঢ় তত্ত্ব


জাহিলি যুগে আরব মুশরিকদের কাছে যুদ্ধ ছিল দুর্বলদের গণহত্যা, সম্পদ লুণ্ঠন, গ্রাম ও গবাদিপশু ধ্বংস এবং নারীদের ধর্ষণ করার নামান্তর। কিন্তু ইসলাম এসে যুদ্ধের ধারণাই পাল্টে দেয়। যুদ্ধ রূপান্তরিত হয় অত্যাচারিতের উদ্ধার এবং অত্যাচারীকে শাস্তি প্রদানের মাধ্যম হিসেবে। সবচেয়ে বড় জুলুম-মিথ্যে উপাস্যের আরাধনা। এই জুলুম থেকে মুক্ত করে মানুষকে ইসলামের ছায়াতলে আনার জন্য চলতে থাকে নবিজি -এর গযাওয়াত (যুদ্ধসমূহ)।
তা ছাড়া ইসলাম আগমনের আগে মরুবাসী আরবদের জীবনব্যবস্থারই অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এসব যুদ্ধ। বকর এবং তাগলাব গোত্রদ্বয়ের মধ্যকার যুদ্ধ চল্লিশ বছর স্থায়ী হয়েছিল। এতে প্রাণ হারায় সত্তর হাজার মানুষ। তবু কেউ কারও কাছে মাথানত করেনি। একইভাবে আওস-খাযরাজের যুদ্ধও শতবর্ষী। এতেও কোনও পক্ষ আত্মসমর্পণ করেনি। তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয় নিয়ে বেঁধে যাওয়া যুদ্ধকেও টেনে নেওয়া হতো বছরের পর বছর, কেউই হার মানতে চাইত না। এটিই ছিল তৎকালীন আরবদের স্বভাব।
তাই রাসূল ইসলাম নিয়ে আসার পরও তারা স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই প্রতিক্রিয়া জানায়-যুদ্ধ। কিন্তু নবিজি মানুষকে পরাজিত করার বদলে তাদের জয় করতে থাকেন। মাত্র আট বছর যুদ্ধ করেন তিনি। মুসলিম, মুশরিক, ইয়াহুদি, খ্রিষ্টান সবমিলিয়ে মৃতের সংখ্যা হাজারের আশপাশে। এত কম রক্তপাত ও অল্প সময়ের মাঝেই তিনি পুরো আরব উপদ্বীপকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।
অনেক ইতিহাসবিদই নবিজি -এর সাফল্যকে সামরিক দক্ষতার ভেতর সীমাবদ্ধ করে ফেলে। কিন্তু যুদ্ধের প্রতি আরবদের লালসা এবং তুচ্ছ কারণে যুদ্ধ বাঁধিয়ে ফেলার স্বভাব বিবেচনা করলেই বোঝা যায় যে, নবিজি -এর কাছে তরবারির চেয়েও মোক্ষম ভিন্ন কোনও অস্ত্র ছিল।
আপনি কি মনে করেন ইসলামের এই বিজয় তরবারির শক্তিতে অর্জন হয়েছে?- বিশেষ করে ওই সমস্ত মানুষদের ওপর, যারা অতি তুচ্ছ বিষয়ে বহুকাল পর্যন্ত যুদ্ধ করতে থাকে এবং বিনাদ্বিধায় নিজেদের হাজার হাজার সৈন্য কুরবান করে দেয়, কিন্তু তাদের অন্তরে এই চিন্তাও আসে না যে, প্রতিপক্ষের নিকট মাথা নত করবে-কক্ষনো নয়! বরং নবি যা কিছু পেশ করেছেন তা ছিল নুবুওয়াত ও রহমত, রিসালাত ও হিকমাত, মুজিযা ও দাওয়াত এবং আল্লাহ তাআলার বিশেষ দয়া ও নিয়ামাত।

জাহিলি যুগে আরব মুশরিকদের কাছে যুদ্ধ ছিল দুর্বলদের গণহত্যা, সম্পদ লুণ্ঠন, গ্রাম ও গবাদিপশু ধ্বংস এবং নারীদের ধর্ষণ করার নামান্তর। কিন্তু ইসলাম এসে যুদ্ধের ধারণাই পাল্টে দেয়। যুদ্ধ রূপান্তরিত হয় অত্যাচারিতের উদ্ধার এবং অত্যাচারীকে শাস্তি প্রদানের মাধ্যম হিসেবে। সবচেয়ে বড় জুলুম-মিথ্যে উপাস্যের আরাধনা। এই জুলুম থেকে মুক্ত করে মানুষকে ইসলামের ছায়াতলে আনার জন্য চলতে থাকে নবিজি -এর গযাওয়াত (যুদ্ধসমূহ)।
তা ছাড়া ইসলাম আগমনের আগে মরুবাসী আরবদের জীবনব্যবস্থারই অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এসব যুদ্ধ। বকর এবং তাগলাব গোত্রদ্বয়ের মধ্যকার যুদ্ধ চল্লিশ বছর স্থায়ী হয়েছিল। এতে প্রাণ হারায় সত্তর হাজার মানুষ। তবু কেউ কারও কাছে মাথানত করেনি। একইভাবে আওস-খাযরাজের যুদ্ধও শতবর্ষী। এতেও কোনও পক্ষ আত্মসমর্পণ করেনি। তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয় নিয়ে বেঁধে যাওয়া যুদ্ধকেও টেনে নেওয়া হতো বছরের পর বছর, কেউই হার মানতে চাইত না। এটিই ছিল তৎকালীন আরবদের স্বভাব।
তাই রাসূল ইসলাম নিয়ে আসার পরও তারা স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই প্রতিক্রিয়া জানায়-যুদ্ধ। কিন্তু নবিজি মানুষকে পরাজিত করার বদলে তাদের জয় করতে থাকেন। মাত্র আট বছর যুদ্ধ করেন তিনি। মুসলিম, মুশরিক, ইয়াহুদি, খ্রিষ্টান সবমিলিয়ে মৃতের সংখ্যা হাজারের আশপাশে। এত কম রক্তপাত ও অল্প সময়ের মাঝেই তিনি পুরো আরব উপদ্বীপকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।
অনেক ইতিহাসবিদই নবিজি -এর সাফল্যকে সামরিক দক্ষতার ভেতর সীমাবদ্ধ করে ফেলে। কিন্তু যুদ্ধের প্রতি আরবদের লালসা এবং তুচ্ছ কারণে যুদ্ধ বাঁধিয়ে ফেলার স্বভাব বিবেচনা করলেই বোঝা যায় যে, নবিজি -এর কাছে তরবারির চেয়েও মোক্ষম ভিন্ন কোনও অস্ত্র ছিল।
আপনি কি মনে করেন ইসলামের এই বিজয় তরবারির শক্তিতে অর্জন হয়েছে?- বিশেষ করে ওই সমস্ত মানুষদের ওপর, যারা অতি তুচ্ছ বিষয়ে বহুকাল পর্যন্ত যুদ্ধ করতে থাকে এবং বিনাদ্বিধায় নিজেদের হাজার হাজার সৈন্য কুরবান করে দেয়, কিন্তু তাদের অন্তরে এই চিন্তাও আসে না যে, প্রতিপক্ষের নিকট মাথা নত করবে-কক্ষনো নয়! বরং নবি যা কিছু পেশ করেছেন তা ছিল নুবুওয়াত ও রহমত, রিসালাত ও হিকমাত, মুজিযা ও দাওয়াত এবং আল্লাহ তাআলার বিশেষ দয়া ও নিয়ামাত।

জাহিলি যুগে আরব মুশরিকদের কাছে যুদ্ধ ছিল দুর্বলদের গণহত্যা, সম্পদ লুণ্ঠন, গ্রাম ও গবাদিপশু ধ্বংস এবং নারীদের ধর্ষণ করার নামান্তর। কিন্তু ইসলাম এসে যুদ্ধের ধারণাই পাল্টে দেয়। যুদ্ধ রূপান্তরিত হয় অত্যাচারিতের উদ্ধার এবং অত্যাচারীকে শাস্তি প্রদানের মাধ্যম হিসেবে। সবচেয়ে বড় জুলুম-মিথ্যে উপাস্যের আরাধনা। এই জুলুম থেকে মুক্ত করে মানুষকে ইসলামের ছায়াতলে আনার জন্য চলতে থাকে নবিজি -এর গযাওয়াত (যুদ্ধসমূহ)।
তা ছাড়া ইসলাম আগমনের আগে মরুবাসী আরবদের জীবনব্যবস্থারই অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এসব যুদ্ধ। বকর এবং তাগলাব গোত্রদ্বয়ের মধ্যকার যুদ্ধ চল্লিশ বছর স্থায়ী হয়েছিল। এতে প্রাণ হারায় সত্তর হাজার মানুষ। তবু কেউ কারও কাছে মাথানত করেনি। একইভাবে আওস-খাযরাজের যুদ্ধও শতবর্ষী। এতেও কোনও পক্ষ আত্মসমর্পণ করেনি। তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয় নিয়ে বেঁধে যাওয়া যুদ্ধকেও টেনে নেওয়া হতো বছরের পর বছর, কেউই হার মানতে চাইত না। এটিই ছিল তৎকালীন আরবদের স্বভাব।
তাই রাসূল ইসলাম নিয়ে আসার পরও তারা স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই প্রতিক্রিয়া জানায়-যুদ্ধ। কিন্তু নবিজি মানুষকে পরাজিত করার বদলে তাদের জয় করতে থাকেন। মাত্র আট বছর যুদ্ধ করেন তিনি। মুসলিম, মুশরিক, ইয়াহুদি, খ্রিষ্টান সবমিলিয়ে মৃতের সংখ্যা হাজারের আশপাশে। এত কম রক্তপাত ও অল্প সময়ের মাঝেই তিনি পুরো আরব উপদ্বীপকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।
অনেক ইতিহাসবিদই নবিজি -এর সাফল্যকে সামরিক দক্ষতার ভেতর সীমাবদ্ধ করে ফেলে। কিন্তু যুদ্ধের প্রতি আরবদের লালসা এবং তুচ্ছ কারণে যুদ্ধ বাঁধিয়ে ফেলার স্বভাব বিবেচনা করলেই বোঝা যায় যে, নবিজি -এর কাছে তরবারির চেয়েও মোক্ষম ভিন্ন কোনও অস্ত্র ছিল।
আপনি কি মনে করেন ইসলামের এই বিজয় তরবারির শক্তিতে অর্জন হয়েছে?- বিশেষ করে ওই সমস্ত মানুষদের ওপর, যারা অতি তুচ্ছ বিষয়ে বহুকাল পর্যন্ত যুদ্ধ করতে থাকে এবং বিনাদ্বিধায় নিজেদের হাজার হাজার সৈন্য কুরবান করে দেয়, কিন্তু তাদের অন্তরে এই চিন্তাও আসে না যে, প্রতিপক্ষের নিকট মাথা নত করবে-কক্ষনো নয়! বরং নবি যা কিছু পেশ করেছেন তা ছিল নুবুওয়াত ও রহমত, রিসালাত ও হিকমাত, মুজিযা ও দাওয়াত এবং আল্লাহ তাআলার বিশেষ দয়া ও নিয়ামাত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00