📄 ওয়াদিল কুরা
খাইবার-দমনের পর নবি মনোযোগ দেন ওয়াদিল কুরার অধিবাসীদের প্রতি। সেখানকার ইয়াহুদিরা ইসলামও গ্রহণ করেনি, চুক্তিতেও আসেনি। তারা বেছে নিয়েছে যুদ্ধ। প্রথম দ্বন্দ্বযুদ্ধেই তাদের শ্রেষ্ঠ দুই বীর কতল হয় যুবাইর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে। আলি (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে প্রাণ হারায় তৃতীয়জন। এভাবে একে একে তাদের এগারো জন জাহান্নামের পথ ধরে।
প্রত্যেকটি দ্বন্দ্বযুদ্ধ শেষে নবি ﷺ তাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পুনরাবৃত্তি করতে থাকেন। প্রতিওয়াক্ত সালাতের পরও তা-ই করেন। এভাবে শেষ হয় সে দিনটি। পরেরদিন সূর্য বেশি দূর ওঠার আগেই যুদ্ধের মাধ্যমে ইয়াহুদিদের শায়েস্তা করে ফেলা হয়। যথেষ্ট পরিমাণ ভূমি হস্তগত হয় মুসলিমদের।
এবারে ওয়াদিল কুরার ইয়াহুদিরাও খাইবারের মতো শান্তিচুক্তির অনুরোধ নিয়ে আসে। নবিজি ﷺ সেটাও গ্রহণ করেন। আরও একটি অঞ্চল চলে আসে সম্পূর্ণ মুসলিম নিয়ন্ত্রণাধীনে।
টিকাঃ
[৪৩৪] ইবনু সা'দ, তবাকাত, ১/২৭৯; যাদুল মাআদ, ২/১৪৬।
📄 তাইমাবাসীদের সাথে বোঝাপড়া
খাইবার, ফাদাক এবং ওয়াদিল কুরায় স্বধর্মীয়দের পরিণতি দেখে শিক্ষা গ্রহণ করে তাইমার ইয়াহুদিরা। তারাও শত্রুতা ছেড়ে দিয়ে জিযইয়া প্রদানের মাধ্যমে মুসলিম সেনাদের নিরাপত্তা-ছায়ায় আসে।
টিকাঃ
[৪৩৫] যাদুল মাআদ, ২/১৪৭।
📄 সফিয়্যার সাথে নবিজির পরিণয়
চার-চারটে অঞ্চল বিজয় শেষে নবি ﷺ মদীনায় ফিরতি যাত্রা শুরু করেন। এ যাত্রার মাঝেই 'সাহবা' উপত্যকার কাছে থাকাকালে সফিয়্যা বিনতু হুয়াই ইবনু আখতাব (রদিয়াল্লাহু আনহা)-এর সাথে নবি ﷺ-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিধবা হিসেবে বন্দি হওয়া এই নারীকে দিহইয়া ইবনু খলীফা কালবি (রদিয়াল্লাহু আনহু) রাসূল ﷺ-এর অনুমতিতে নিজ বণ্টনে নিয়ে নেন। কিন্তু সাহাবিরা প্রস্তাব দেন যে, একজন গোত্রপতির প্রাক্তন স্ত্রী হিসেবে তাকে বরং নবিজি ﷺ-এর সাথেই বেশি মানায়। এরপর নবিজি ﷺ-এর আহ্বানে সফিয়্যা ইসলাম গ্রহণ করেন। ফলে নবি ﷺ তাকে স্বাধীন করে দেন। আর এই স্বাধীনতা প্রদানকেই নবিজি তার সাথে বিয়ের মোহর হিসেবে নির্ধারণ করেন।
বিয়ের পরদিন ওলিমা অনুষ্ঠিত হয়। খেজুর, পনির এবং ঘি দিয়ে মিশ্রিত একপ্রকার খাদ্য দ্বারা আপ্যায়ন করা হয় সবাইকে। নববধূর সাথে তিন রাত অতিবাহিত করার পর রাসূলুল্লাহ যাত্রা পুনরারম্ভ করেন। সপ্তম হিজরি সনের সফর মাসের শেষ এবং রবীউল আউয়ালের শুরুতেই মদীনা এসে পৌঁছান তিনি।
টিকাঃ
[৪৩৬] বুখারি, ৩৭১।