📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 নবিজি ﷺ-কে বিষপ্রয়োগ

📄 নবিজি ﷺ-কে বিষপ্রয়োগ


শান্তিপূর্ণ অবস্থাও নিশ্চিত হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড বা নির্বাসনের হুমকিও নেই। এই সুযোগে ইয়াহুদিরা নতুন আরেক ধরনের যুদ্ধ শুরু করল। রাসূল-কে গোপনে হত্যার প্রচেষ্টা! সাল্লাম ইবনু মিশকামের স্ত্রীর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ-কে দাওয়াত করে তার কাছে তারা একটি ভুনা ছাগল পেশ করে। নবিজির বেশি পছন্দ কাঁধের গোশত। তাই ঠিক ওই টুকরোটিতে ইচ্ছেমতো বিষ মাখিয়ে নেয় মহিলাটি। এক টুকরো গোশত মুখে দিতেই নবি বিষয়টি জেনে যান। মুখ থেকে ফেলে দিয়ে বলেন, “এটা বিষ-মিশ্রিত বকরি।”
স্বীকারোক্তি আদায়ের লক্ষ্যে সেই নারীসহ আয়োজক ইয়াহুদিদের ডাকিয়ে আনেন নবি । তারা স্বীকার করে বলে, “ভেবেছিলাম যে, আপনি ভণ্ড হলে বিষ প্রয়োগে আপনার হাত থেকে নিস্তার পেয়ে যাব। আর যদি সত্যিই নবি হয়ে থাকেন, তাহলে বিষ আপনার কোনও ক্ষতি করতে পারবে না।” তাদের এই বক্তব্য শুনে নবি সেই নারীটিকে ও ইয়াহুদিদের ক্ষমা করে দেন। কিন্তু আরেক সাহাবি বিশর ইবনু বারা ইবনি মা'রূর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ওই বিষের কারণে ইন্তিকাল করেছিলেন। তাই শাস্তি হিসেবে নারীটিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

টিকাঃ
[৪০২] বুখারি, ৩১৬৯।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 ফাদাকবাসীর আত্মসমর্পণ

📄 ফাদাকবাসীর আত্মসমর্পণ


খাইবারে পৌঁছানোর পর রাসূল মুহাইয়িসা ইবনু মাসঊদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে পাঠিয়েছিলেন পূর্ব দিকের আরেকটি শহর ফাদাকে। খাইবার থেকে প্রায় দুই দিনের দূরত্বে অবস্থিত এই স্থানটির বর্তমান নাম 'হাইত'। বর্তমান সৌদি আরবের হাইল অঞ্চলে অবস্থিত এটি। সেখানকার ইয়াহুদিদেরও ইসলামের দিকে আহ্বান করা হয়। কিন্তু তারা তৎক্ষণাৎ জবাব না দিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে খাইবারের পানি কোন দিকে গড়ায়, তা পর্যবেক্ষণ করতে।
কিছুদিনের মাঝেই খবর চলে এল যে, মুসলিমদের হাতে খাইবারের পতন হয়েছে। ফলে ফাদাকবাসীরাও দ্রুত চুক্তি করতে এগিয়ে আসে। অনুরোধ করে খাইবারবাসীদের মতো তাদেরও একই সুযোগ দিতে। সে অনুরোধও গ্রহণ করেন নবি । ফাদাকের ভূমি নবি নিজের মালিকানায় নেন। এখান থেকে প্রাপ্ত আয় তিনি ব্যয় করতেন নিজের ও নিজ গোত্র বানু হাশিমের ব্যয়ভার বহনে। এ ছাড়া অভাবী যুবকদের বিয়েসহ অন্যান্য দাতব্য খাতেও এ অর্থ ব্যয় করেন তিনি।

টিকাঃ
[৪০৩] ইবনু হিশাম, ২/৩৩৭-৩৫৩।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 ওয়াদিল কুরা

📄 ওয়াদিল কুরা


খাইবার-দমনের পর নবি মনোযোগ দেন ওয়াদিল কুরার অধিবাসীদের প্রতি। সেখানকার ইয়াহুদিরা ইসলামও গ্রহণ করেনি, চুক্তিতেও আসেনি। তারা বেছে নিয়েছে যুদ্ধ। প্রথম দ্বন্দ্বযুদ্ধেই তাদের শ্রেষ্ঠ দুই বীর কতল হয় যুবাইর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে। আলি (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে প্রাণ হারায় তৃতীয়জন। এভাবে একে একে তাদের এগারো জন জাহান্নামের পথ ধরে।
প্রত্যেকটি দ্বন্দ্বযুদ্ধ শেষে নবি ﷺ তাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পুনরাবৃত্তি করতে থাকেন। প্রতিওয়াক্ত সালাতের পরও তা-ই করেন। এভাবে শেষ হয় সে দিনটি। পরেরদিন সূর্য বেশি দূর ওঠার আগেই যুদ্ধের মাধ্যমে ইয়াহুদিদের শায়েস্তা করে ফেলা হয়। যথেষ্ট পরিমাণ ভূমি হস্তগত হয় মুসলিমদের।
এবারে ওয়াদিল কুরার ইয়াহুদিরাও খাইবারের মতো শান্তিচুক্তির অনুরোধ নিয়ে আসে। নবিজি ﷺ সেটাও গ্রহণ করেন। আরও একটি অঞ্চল চলে আসে সম্পূর্ণ মুসলিম নিয়ন্ত্রণাধীনে।

টিকাঃ
[৪৩৪] ইবনু সা'দ, তবাকাত, ১/২৭৯; যাদুল মাআদ, ২/১৪৬।

📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 তাইমাবাসীদের সাথে বোঝাপড়া

📄 তাইমাবাসীদের সাথে বোঝাপড়া


খাইবার, ফাদাক এবং ওয়াদিল কুরায় স্বধর্মীয়দের পরিণতি দেখে শিক্ষা গ্রহণ করে তাইমার ইয়াহুদিরা। তারাও শত্রুতা ছেড়ে দিয়ে জিযইয়া প্রদানের মাধ্যমে মুসলিম সেনাদের নিরাপত্তা-ছায়ায় আসে।

টিকাঃ
[৪৩৫] যাদুল মাআদ, ২/১৪৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00