📄 ইয়ামামা-অধিপতি হাওযা ইবনু আলির প্রতি চিঠি
তাকে উদ্দেশ্য করে নবি চিঠিতে লেখেন, “বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে হাওযা ইবনু আলির প্রতি। হিদায়াতের অনুসারীদের ওপর শান্তি অবতীর্ণ হোক। জেনে রাখুন! উট আর ঘোড়া যত জায়গায় পৌঁছাতে সক্ষম, আমার দ্বীন সেই সবক'টি জায়গায় প্রবল হবে। ইসলাম গ্রহণ করুন, তাহলে নিরাপত্তা লাভ করবেন। আপনার অধিকারে যা আছে, তার কোনও ক্ষতি করব না, তা আপনার অধীনেই থাকবে।”
সুলাইত ইবনু আমর আমিরি (রদিয়াল্লাহু আনহু) এ চিঠিটি বহন করেন। সসম্মানে চিঠিটি গ্রহণ করে তাকে উপঢৌকন দেন হাওযা। জবাবে লেখেন,
"আপনার আহ্বায়িত আদর্শের প্রশংসায় কী-বা বলতে পারি? আমি নিজ জাতির কবি ও কথক। পুরো আরবজুড়ে আমার খ্যাতি বিস্তৃত। আপনার রাজ্যের একাংশের দায়িত্ব আমাকে দিন, আমি আপনার অনুসারী হয়ে যাব।"
চিঠিটি গ্রহণ করে নবি মন্তব্য করেন, "সে চাওয়া মতো এক টুকরো ভূমিও আমি তাকে দেবো না। সে নিজেও ধ্বংস হবে এবং যা তার অধীনে আছে তাও সমূলে ধ্বংস হবে।"
রাসূলুল্লাহ যখন মক্কা বিজয়ের পর সেখান থেকে ফিরে আসেন তখন হাওযা মারা যায়।
টিকাঃ
৪১১. ইবনুল কাইয়িম, যাদুল মাআদ, ৩/৬০।
৪১২. ইবনুল কাইয়িম, যাদুল মাআদ, ৩/৬৩।
তাকে উদ্দেশ্য করে নবি চিঠিতে লেখেন, “বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে হাওযা ইবনু আলির প্রতি। হিদায়াতের অনুসারীদের ওপর শান্তি অবতীর্ণ হোক। জেনে রাখুন! উট আর ঘোড়া যত জায়গায় পৌঁছাতে সক্ষম, আমার দ্বীন সেই সবক'টি জায়গায় প্রবল হবে। ইসলাম গ্রহণ করুন, তাহলে নিরাপত্তা লাভ করবেন। আপনার অধিকারে যা আছে, তার কোনও ক্ষতি করব না, তা আপনার অধীনেই থাকবে।”
সুলাইত ইবনু আমর আমিরি (রদিয়াল্লাহু আনহু) এ চিঠিটি বহন করেন। সসম্মানে চিঠিটি গ্রহণ করে তাকে উপঢৌকন দেন হাওযা। জবাবে লেখেন,
"আপনার আহ্বায়িত আদর্শের প্রশংসায় কী-বা বলতে পারি? আমি নিজ জাতির কবি ও কথক। পুরো আরবজুড়ে আমার খ্যাতি বিস্তৃত। আপনার রাজ্যের একাংশের দায়িত্ব আমাকে দিন, আমি আপনার অনুসারী হয়ে যাব।"
চিঠিটি গ্রহণ করে নবি মন্তব্য করেন, "সে চাওয়া মতো এক টুকরো ভূমিও আমি তাকে দেবো না। সে নিজেও ধ্বংস হবে এবং যা তার অধীনে আছে তাও সমূলে ধ্বংস হবে।"
রাসূলুল্লাহ যখন মক্কা বিজয়ের পর সেখান থেকে ফিরে আসেন তখন হাওযা মারা যায়।
টিকাঃ
৪১১. ইবনুল কাইয়িম, যাদুল মাআদ, ৩/৬০।
৪১২. ইবনুল কাইয়িম, যাদুল মাআদ, ৩/৬৩।
তাকে উদ্দেশ্য করে নবি চিঠিতে লেখেন, “বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে হাওযা ইবনু আলির প্রতি। হিদায়াতের অনুসারীদের ওপর শান্তি অবতীর্ণ হোক। জেনে রাখুন! উট আর ঘোড়া যত জায়গায় পৌঁছাতে সক্ষম, আমার দ্বীন সেই সবক'টি জায়গায় প্রবল হবে। ইসলাম গ্রহণ করুন, তাহলে নিরাপত্তা লাভ করবেন। আপনার অধিকারে যা আছে, তার কোনও ক্ষতি করব না, তা আপনার অধীনেই থাকবে।”
সুলাইত ইবনু আমর আমিরি (রদিয়াল্লাহু আনহু) এ চিঠিটি বহন করেন। সসম্মানে চিঠিটি গ্রহণ করে তাকে উপঢৌকন দেন হাওযা। জবাবে লেখেন,
"আপনার আহ্বায়িত আদর্শের প্রশংসায় কী-বা বলতে পারি? আমি নিজ জাতির কবি ও কথক। পুরো আরবজুড়ে আমার খ্যাতি বিস্তৃত। আপনার রাজ্যের একাংশের দায়িত্ব আমাকে দিন, আমি আপনার অনুসারী হয়ে যাব।"
চিঠিটি গ্রহণ করে নবি মন্তব্য করেন, "সে চাওয়া মতো এক টুকরো ভূমিও আমি তাকে দেবো না। সে নিজেও ধ্বংস হবে এবং যা তার অধীনে আছে তাও সমূলে ধ্বংস হবে।"
রাসূলুল্লাহ যখন মক্কা বিজয়ের পর সেখান থেকে ফিরে আসেন তখন হাওযা মারা যায়।
টিকাঃ
[৪১১] ইবনুল কাইয়িম, যাদুল মাআদ, ৩/৬০।
[৪১২] ইবনুল কাইয়িম, যাদুল মাআদ, ৩/৬৩।
📄 বাহরাইনের প্রশাসক মুনযির ইবনু সাওয়ার প্রতি চিঠি
আলা ইবনুল হাদরামি (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে করে নবি আরেকটি চিঠি পাঠান বাহরাইনের প্রশাসক মুনযির ইবনু সাওয়াকে। তাকেও অনুরূপভাবে ইসলামের দিকে আহ্বান করেন। এতে মুনযির ও তার কয়েকজন প্রজা ইসলাম কবুল করে নেন। তবে অধিকাংশই ইয়াহুদি ধর্ম ও অগ্নিপূজার ধর্মে অটল থাকে। মুনযির ঠিকই বুঝতে পেরেছিলেন যে, নবি সমগ্র মুসলিম বিশ্বের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা। তাই তাঁর কাছেই জানতে চান নিজ শাসনাধীনে বসবাসরত অমুসলিমদের সাথে তাঁর আচরণবিধি সম্পর্কে। নবি উত্তরে লেখেন যে, ইয়াহুদি ও অগ্নিপূজকদের কাছ থেকে জিযইয়া আদায় করা হবে। তা ছাড়া কারও অবস্থানের অনুমতি নেই।
টিকাঃ
৪১৩. যাদুল মাআদ, ৩/৬১-৬২।
আলা ইবনুল হাদরামি (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে করে নবি আরেকটি চিঠি পাঠান বাহরাইনের প্রশাসক মুনযির ইবনু সাওয়াকে। তাকেও অনুরূপভাবে ইসলামের দিকে আহ্বান করেন। এতে মুনযির ও তার কয়েকজন প্রজা ইসলাম কবুল করে নেন। তবে অধিকাংশই ইয়াহুদি ধর্ম ও অগ্নিপূজার ধর্মে অটল থাকে। মুনযির ঠিকই বুঝতে পেরেছিলেন যে, নবি সমগ্র মুসলিম বিশ্বের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা। তাই তাঁর কাছেই জানতে চান নিজ শাসনাধীনে বসবাসরত অমুসলিমদের সাথে তাঁর আচরণবিধি সম্পর্কে। নবি উত্তরে লেখেন যে, ইয়াহুদি ও অগ্নিপূজকদের কাছ থেকে জিযইয়া আদায় করা হবে। তা ছাড়া কারও অবস্থানের অনুমতি নেই।
টিকাঃ
৪১৩. যাদুল মাআদ, ৩/৬১-৬২।
আলা ইবনুল হাদরামি (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে করে নবি আরেকটি চিঠি পাঠান বাহরাইনের প্রশাসক মুনযির ইবনু সাওয়াকে। তাকেও অনুরূপভাবে ইসলামের দিকে আহ্বান করেন। এতে মুনযির ও তার কয়েকজন প্রজা ইসলাম কবুল করে নেন। তবে অধিকাংশই ইয়াহুদি ধর্ম ও অগ্নিপূজার ধর্মে অটল থাকে। মুনযির ঠিকই বুঝতে পেরেছিলেন যে, নবি সমগ্র মুসলিম বিশ্বের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা। তাই তাঁর কাছেই জানতে চান নিজ শাসনাধীনে বসবাসরত অমুসলিমদের সাথে তাঁর আচরণবিধি সম্পর্কে। নবি উত্তরে লেখেন যে, ইয়াহুদি ও অগ্নিপূজকদের কাছ থেকে জিযইয়া আদায় করা হবে। তা ছাড়া কারও অবস্থানের অনুমতি নেই।
টিকাঃ
[৪১৩] যাদুল মাআদ, ৩/৬১-৬২।
📄 ওমানের শাসক জাইফার ও তার ভাইয়ের প্রতি চিঠি
ওমানের শাসক ছিলেন যৌথভাবে দুই ভাই আব্দ এবং জাইফার। তাদের পিতার নাম ছিল জুলানদার। নবিজি ﷺ -এর সব চিঠি পাঠানো হয়েছিল হুদাইবিয়ার সন্ধির ঠিক পরপর। শুধু এই চিঠিটি পাঠানো হয় মক্কা বিজয়ের পর। বাহক ছিলেন আমর ইবনুল আস (রদিয়াল্লাহু আনহু)। এ চিঠিতে নবি ও ওই দুই ভাইকে জানান যে, তাঁর দাওয়াতের উদ্দেশ্য মানুষকে সত্যের সাথে পরিচিত করানো এবং কুফরের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করা। তাদের আরও সতর্ক করে দেওয়া হয় যে, তারা ইসলাম প্রত্যাখ্যান করলে দুনিয়া-আখিরাত উভয় স্থানেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, ইসলাম সর্বত্রই বিজয়ী হবে। ফলে তারা তাদের রাজত্বও হারাবে।
পত্রবাহক আমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে প্রথমে আব্দ ইবনু জুলানদারের সাক্ষাৎ হয়। দু'জনের মাঝে হয় দীর্ঘ কথোপকথন।
আব্দ জিজ্ঞেস করেন “আপনারা কিসের আহ্বান জানান?”
আমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) জবাব দেন, “আমরা মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকি, যিনি অদ্বিতীয়, সমকক্ষবিহীন। আমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য সব উপাস্যকে প্রত্যাখ্যান করতে বলি এবং এই সাক্ষ্য দিতে বলি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।”
“আল্লাহর রাসূল আপনাদের কিসের আদেশ করেন?”
“তিনি আমাদের আল্লাহর আনুগত্য করতে আদেশ করেন। তাঁর অবাধ্য হতে নিষেধ করেন। সৎকাজ করতে, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সুসম্পর্ক রাখতেও আদেশ করেন। আর নিষেধ করেন অপচয়, ব্যভিচার, মদ্যপান এবং পাথর, মূর্তি ও ক্রুশের পূজা করা থেকে।"
“বাহ! এগুলো কত চমৎকার বিষয় যেগুলোর প্রতি তিনি আহ্বান করেন। আমার ভাইও যদি রাজি হয়ে যেতেন, তাহলে আমরা একসাথে গিয়ে মুহাম্মাদের কাছে আনুগত্য স্বীকার করতাম, আর তাঁর নুবুওয়াতের সত্যতার সাক্ষ্য দিতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমার ভাই মসনদের মোহে আবিষ্ট। অন্যের আদেশ তিনি মানতে চান না।”
আমর বলেন, “আপনার ভাই যদি ইসলাম গ্রহণ করে নেন, তাহলে নবি আপনাদের রাজ্য অক্ষত রাখবেন। তবে ধনীদের থেকে যাকাত হিসেবে কিছু সম্পদ নিয়ে দরিদ্র ও অভাবীদের দান করবেন।”
“খুব সুন্দর। কিন্তু যাকাত কী?”
আমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) যাকাতের বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিলেন। কিন্তু গবাদি পশুও যাকাতের অন্তর্ভুক্ত জানার পর আব্দ শঙ্কিত কণ্ঠে বললেন, “আমার সম্প্রদায় এটা মানবে কি না, কে জানে!”
তারপর তিনি আমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে নিজের সহোদর ভাই জাইফারের কাছে নিয়ে যান। তিনি চিঠিটি তাকে দেন। জাইফার, আমরকে জিজ্ঞেস করেন, 'কুরাইশরা কী করেছে?'
আমর জবাবে বলেন, "তাদের সকলেই ইসলাম গ্রহণ করে নিয়েছে। যদি আপনিও ইসলাম গ্রহণ করেন, তাহলে নিরাপদ হয়ে যাবেন। নাহলে ঘোড়ার পদতলে পিষ্ট হবে আপনার রাজত্ব, ধ্বংস করে দেওয়া হবে এর সমস্ত সম্পদ।"
জাইফার ভাবনা-চিন্তার জন্য একদিন সময় চান। পরদিন তিনি ইচ্ছে করে সামরিক শক্তির একটি প্রদর্শনী করেন। কিন্তু গোপনে পরে ভাইয়ের সাথে সলা-পরামর্শ করেন। আলাপ-আলোচনা করার পর অবশেষে ইসলাম কবুল করেন দু'জনেই। তারা আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে যাকাত সংগ্রহের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে দেন। যারা যাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছিল, তাদের বিরুদ্ধে তাঁকে সাহায্যও করেন তারা।
টিকাঃ
৪১৪. যাদুল মাআদ, ৩/৯২।
৪১৫. যাদুল মাআদ, ৩/৬২-৬৩।
ওমানের শাসক ছিলেন যৌথভাবে দুই ভাই আব্দ এবং জাইফার। তাদের পিতার নাম ছিল জুলানদার। নবিজি ﷺ -এর সব চিঠি পাঠানো হয়েছিল হুদাইবিয়ার সন্ধির ঠিক পরপর। শুধু এই চিঠিটি পাঠানো হয় মক্কা বিজয়ের পর। বাহক ছিলেন আমর ইবনুল আস (রদিয়াল্লাহু আনহু)। এ চিঠিতে নবি ও ওই দুই ভাইকে জানান যে, তাঁর দাওয়াতের উদ্দেশ্য মানুষকে সত্যের সাথে পরিচিত করানো এবং কুফরের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করা। তাদের আরও সতর্ক করে দেওয়া হয় যে, তারা ইসলাম প্রত্যাখ্যান করলে দুনিয়া-আখিরাত উভয় স্থানেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, ইসলাম সর্বত্রই বিজয়ী হবে। ফলে তারা তাদের রাজত্বও হারাবে।
পত্রবাহক আমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে প্রথমে আব্দ ইবনু জুলানদারের সাক্ষাৎ হয়। দু'জনের মাঝে হয় দীর্ঘ কথোপকথন।
আব্দ জিজ্ঞেস করেন “আপনারা কিসের আহ্বান জানান?”
আমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) জবাব দেন, “আমরা মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকি, যিনি অদ্বিতীয়, সমকক্ষবিহীন। আমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য সব উপাস্যকে প্রত্যাখ্যান করতে বলি এবং এই সাক্ষ্য দিতে বলি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।”
“আল্লাহর রাসূল আপনাদের কিসের আদেশ করেন?”
“তিনি আমাদের আল্লাহর আনুগত্য করতে আদেশ করেন। তাঁর অবাধ্য হতে নিষেধ করেন। সৎকাজ করতে, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সুসম্পর্ক রাখতেও আদেশ করেন। আর নিষেধ করেন অপচয়, ব্যভিচার, মদ্যপান এবং পাথর, মূর্তি ও ক্রুশের পূজা করা থেকে।"
“বাহ! এগুলো কত চমৎকার বিষয় যেগুলোর প্রতি তিনি আহ্বান করেন। আমার ভাইও যদি রাজি হয়ে যেতেন, তাহলে আমরা একসাথে গিয়ে মুহাম্মাদের কাছে আনুগত্য স্বীকার করতাম, আর তাঁর নুবুওয়াতের সত্যতার সাক্ষ্য দিতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমার ভাই মসনদের মোহে আবিষ্ট। অন্যের আদেশ তিনি মানতে চান না।”
আমর বলেন, “আপনার ভাই যদি ইসলাম গ্রহণ করে নেন, তাহলে নবি আপনাদের রাজ্য অক্ষত রাখবেন। তবে ধনীদের থেকে যাকাত হিসেবে কিছু সম্পদ নিয়ে দরিদ্র ও অভাবীদের দান করবেন।”
“খুব সুন্দর। কিন্তু যাকাত কী?”
আমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) যাকাতের বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিলেন। কিন্তু গবাদি পশুও যাকাতের অন্তর্ভুক্ত জানার পর আব্দ শঙ্কিত কণ্ঠে বললেন, “আমার সম্প্রদায় এটা মানবে কি না, কে জানে!”
তারপর তিনি আমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে নিজের সহোদর ভাই জাইফারের কাছে নিয়ে যান। তিনি চিঠিটি তাকে দেন। জাইফার, আমরকে জিজ্ঞেস করেন, 'কুরাইশরা কী করেছে?'
আমর জবাবে বলেন, "তাদের সকলেই ইসলাম গ্রহণ করে নিয়েছে। যদি আপনিও ইসলাম গ্রহণ করেন, তাহলে নিরাপদ হয়ে যাবেন। নাহলে ঘোড়ার পদতলে পিষ্ট হবে আপনার রাজত্ব, ধ্বংস করে দেওয়া হবে এর সমস্ত সম্পদ।"
জাইফার ভাবনা-চিন্তার জন্য একদিন সময় চান। পরদিন তিনি ইচ্ছে করে সামরিক শক্তির একটি প্রদর্শনী করেন। কিন্তু গোপনে পরে ভাইয়ের সাথে সলা-পরামর্শ করেন। আলাপ-আলোচনা করার পর অবশেষে ইসলাম কবুল করেন দু'জনেই। তারা আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে যাকাত সংগ্রহের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে দেন। যারা যাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছিল, তাদের বিরুদ্ধে তাঁকে সাহায্যও করেন তারা।
টিকাঃ
৪১৪. যাদুল মাআদ, ৩/৯২।
৪১৫. যাদুল মাআদ, ৩/৬২-৬৩।
ওমানের শাসক ছিলেন যৌথভাবে দুই ভাই আব্দ এবং জাইফার। তাদের পিতার নাম ছিল জুলানদার। নবিজি -এর সব চিঠি পাঠানো হয়েছিল হুদাইবিয়া চুক্তির ঠিক পরপর। শুধু এই চিঠিটি পাঠানো হয় মক্কা বিজয়ের পর। বাহক ছিলেন আমর ইবনুল আস (রদিয়াল্লাহু আনহু)। এ চিঠিতে নবি ও ওই দুই ভাইকে জানান যে, তাঁর দাওয়াতের উদ্দেশ্য মানুষকে সত্যের সাথে পরিচিত করানো এবং কুফরের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করা। তাদের আরও সতর্ক করে দেওয়া হয় যে, তারা ইসলাম প্রত্যাখ্যান করলে দুনিয়া-আখিরাত উভয় স্থানেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, ইসলাম সর্বত্রই বিজয়ী হবে। ফলে তারা তাদের রাজত্বও হারাবে।
পত্রবাহক আমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে প্রথমে আব্দ ইবনু জুলানদারের সাক্ষাৎ হয়। দু'জনের মাঝে হয় দীর্ঘ কথোপকথন।
আব্দ জিজ্ঞেস করেন “আপনারা কিসের আহ্বান জানান?”
আমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) জবাব দেন, “আমরা মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকি, যিনি অদ্বিতীয়, সমকক্ষবিহীন। আমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য সব উপাস্যকে প্রত্যাখ্যান করতে বলি এবং এই সাক্ষ্য দিতে বলি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।”
“আল্লাহর রাসূল আপনাদের কিসের আদেশ করেন?”
“তিনি আমাদের আল্লাহর আনুগত্য করতে আদেশ করেন। তাঁর অবাধ্য হতে নিষেধ করেন। সৎকাজ করতে, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সুসম্পর্ক রাখতেও আদেশ করেন। আর নিষেধ করেন অপচয়, ব্যভিচার, মদ্যপান এবং পাথর, মূর্তি ও ক্রুশের পূজা করা থেকে।"
“বাহ! এগুলো কত চমৎকার বিষয় যেগুলোর প্রতি তিনি আহ্বান করেন। আমার ভাইও যদি রাজি হয়ে যেতেন, তাহলে আমরা একসাথে গিয়ে মুহাম্মাদের কাছে আনুগত্য স্বীকার করতাম, আর তাঁর নুবুওয়াতের সত্যতার সাক্ষ্য দিতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমার ভাই মসনদের মোহে আবিষ্ট। অন্যের আদেশ তিনি মানতে চান না।”
আমর বলেন, “আপনার ভাই যদি ইসলাম গ্রহণ করে নেন, তাহলে নবি আপনাদের রাজ্য অক্ষত রাখবেন। তবে ধনীদের থেকে যাকাত হিসেবে কিছু সম্পদ নিয়ে দরিদ্র ও অভাবীদের দান করবেন।”
“খুব সুন্দর। কিন্তু যাকাত কী?”
আমর (রদিয়াল্লাহু আনহু) যাকাতের বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিলেন। কিন্তু গবাদি পশুও যাকাতের অন্তর্ভুক্ত জানার পর আব্দ শঙ্কিত কণ্ঠে বললেন, “আমার সম্প্রদায় এটা মানবে কি না, কে জানে!”
তারপর তিনি আমর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে নিজের সহোদর ভাই জাইফারের কাছে নিয়ে যান। তিনি চিঠিটি তাকে দেন। জাইফার, আমরকে জিজ্ঞেস করেন, 'কুরাইশরা কী করেছে?'
আমর জবাবে বলেন, "তাদের সকলেই ইসলাম গ্রহণ করে নিয়েছে। যদি আপনিও ইসলাম গ্রহণ করেন, তাহলে নিরাপদ হয়ে যাবেন। নাহলে ঘোড়ার পদতলে পিষ্ট হবে আপনার রাজত্ব, ধ্বংস করে দেওয়া হবে এর সমস্ত সম্পদ।"
জাইফার ভাবনা-চিন্তার জন্য একদিন সময় চান। পরদিন তিনি ইচ্ছে করে সামরিক শক্তির একটি প্রদর্শনী করেন। কিন্তু গোপনে পরে ভাইয়ের সাথে সলা-পরামর্শ করেন। আলাপ-আলোচনা করার পর অবশেষে ইসলাম কবুল করেন দু'জনেই। তারা আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে যাকাত সংগ্রহের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে দেন। যারা যাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছিল, তাদের বিরুদ্ধে তাঁকে সাহায্যও করেন তারা।
টিকাঃ
[৪১৪] যাদুল মাআদ, ৩/৯২।
[৪১৫] যাদুল মাআদ, ৩/৬২৬৩|