📄 রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াসের প্রতি চিঠি
তার উদ্দেশে নবি লিখেছেন, "বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে রোমানাধিপতি হিরাক্লিয়াসের প্রতি। হিদায়াতের অনুসারীরা সৌভাগ্যবান। আমি আপনাকে ইসলামের প্রতি আহ্বান করছি। ইসলাম গ্রহণ করে নিন, নিরাপদ হয়ে যাবেন। আল্লাহ আপনাকে দ্বিগুণ পুরস্কার দেবেন। আর যদি তাঁর বার্তা প্রত্যাখ্যান করেন, তাহলে প্রজা ও অনুসারীদের পাপের ভার আপনাকেও বহন করতে হবে। 'হে কিতাবধারী সম্প্রদায়, এসো সেই বিষয়ে দিকে যা তোমাদের ও আমাদের মাঝে অভিন্ন যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারও উপাসনা করব না, কোনো কিছুকে তাঁর সাথে শরীক সাব্যস্ত করব না এবং একমাত্র আল্লাহকে ছাড়া অন্য কাউকে পালনকর্তা বানাব না।' কিন্তু যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে বলুন, 'সাক্ষী থেকো, আমরা মুসলিম।
দিহইয়া ইবনু খলীফা কালবি (রদিয়াল্লাহু আনহু) এই চিঠিটি বুসরার প্রশাসকের হাতে পৌঁছে দেন। তার কাছ থেকে সেটি যায় হিরাক্লিয়াসের কাছে। হিরাক্লিয়াস সিরিয়ার হিমস থেকে পায়ে হেঁটে তীর্থস্থান জেরুসালেম এসেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল, পারস্যের ওপর রোমের বিজয় উপলক্ষ্যে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা। চিঠিটি হাতে পেয়েই তিনি এমন কারও সন্ধান করার আদেশ দেন, যে সরাসরি রাসূল ﷺ -কে চেনে। ব্যবসার উদ্দেশ্যে আবূ সুফইয়ানের নেতৃত্বাধীন একটি কুরাইশ কাফেলা তখন সে এলাকায়। তাদেরই ডেকে আনা হয় হিরাক্লিয়াসের রাজদরবারে। রোম-সম্রাট জানতে চান, “আপনাদের মধ্যে আত্মীয়তার দিক দিয়ে মুহাম্মাদের সবচেয়ে নিকটজন কে?”
আবূ সুফইয়ানকে দেখিয়ে দিল কাফেলার লোকেরা। তাকে সামনে এগিয়ে এনে আলাদা আসনে বসানো হলো। বাকি কুরাইশদের হিরাক্লিয়াস বললেন, “আমি তাকে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসা করব। যদি সে কোনও মিথ্যা তথ্য দেয়, তাহলে আপনারা তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করবেন।” নড়েচড়ে বসলেন আবূ সুফইয়ান। চাইলেও মিথ্যে বলা যাবে না এখন। হিরাক্লিয়াস ও আবূ সুফইয়ানের মধ্যকার কথোপকথনটি ছিল এমন:
হিরাক্লিয়াস : “তাঁর বংশ সম্পর্কে বলুন।”
আবূ সুফ্ইয়ান : “তিনি আমাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত বংশের সন্তান।”
হিরাক্লিয়াস : “তাঁর মতো এই দাবি কি তাঁর আগে আপনাদের মধ্যে আর কেউ করেছিল?"
আবূ সুফ্ইয়ান : “জি না।”
হিরাক্লিয়াস : "তাঁর পরিবারের কেউ রাজা-বাদশা ছিলেন?”
আবূ সুফইয়ান : “না।”
হিরাক্লিয়াস : “তাঁর অনুসারী কারা? দরিদ্র এবং দুর্বলেরা, নাকি সম্ভ্রান্ত লোকেরা?”
আবূ সুফইয়ান : “তাদের সকলেই দরিদ্র এবং দুর্বল।”
হিরাক্লিয়াস : “তাঁর অনুসারী-সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, না কমছে?”
আবূ সুফইয়ান : “বেড়েই চলেছে।”
হিরাক্লিয়াস : “তাঁর ধর্মগ্রহণকারীরা কি তাঁর প্রতি ঘৃণাবশত তাঁকে ছেড়ে চলে যায়?"
আবূ সুফইয়ান: "জি না।”
হিরাক্লিয়াস : "নিজেকে নবি দাবি করার আগে কখনও কি তাঁকে মিথ্যে বলতে শুনেছেন?"
আবূ সুফইয়ান: "জি না।”
হিরাক্লিয়াস : "তিনি কখনও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন?"
আবু সুফইয়ান : “এখন পর্যন্ত করেননি—এখানে একটি সংশয়পূর্ণ কথা ঢুকিয়ে দেওয়ার সুযোগ পায় আবূ সুফইয়ান, বলেন—আসলে আমাদের সাথে তাঁর একটি শান্তিচুক্তি কার্যকর আছে বর্তমানে। ভবিষ্যতে তিনি কী করবেন, বলতে পারছি না।”
হিরাক্লিয়াস : “আচ্ছা। কখনও যুদ্ধ করেছেন তাঁর বিরুদ্ধে?”
আবূ সুফইয়ান : “জি।”
হিরাক্লিয়াস : "ফলাফল?”
আবূ সুফইয়ান : “কখনও আমরা জিতেছি, কখনও তিনি জিতেছেন।”
হিরাক্লিয়াস : "তিনি আপনাদের কী কী শিক্ষা দেন?"
আবূ সুফইয়ান: "তিনি আমাদের এক আল্লাহর আরাধনা করতে বলেন। তাঁর সাথে যেন অন্যকিছুকে শরীক করতে নিষেধ করেন। আমাদের পূর্বপুরুষরা যা কিছুর উপাসনা করতেন, সেগুলোও প্রত্যাখ্যান করতে বলেন। আরও আদেশ করেন সালাত আদায় করতে, সত্যবাদী ও সৎ হতে এবং আত্মীয়দের সাথে সদাচরণ করতে।”
সব শুনে হিরাক্লিয়াস উপসংহার টানলেন, “আপনি বললেন যে, তিনি সম্ভ্রান্ততম বংশের সদস্য। সকল নবিই সম্ভ্রান্ত বংশের সন্তান হয়ে থাকেন। তাঁর আগে আর কেউ অনুরূপ দাবি করেনি আপনাদের ওখানে। যদি করতেন, তাহলে বলতাম তিনি আগেরজনকে অনুসরণ করছেন। তাঁর বংশে আগে কেউ রাজাও ছিলেন না। থাকলে বলতাম, তিনি হারানো প্রতিপত্তি পুনরুদ্ধার করতে চাইছেন। বললেন যে, তাঁকে কখনও মিথ্যে বলতেও শোনেননি। মানুষের সাথে সত্যবাদী হয়ে ঈশ্বরের ব্যাপারে মিথ্যে বলা আসলেই অসম্ভব। আবার এটিও ঠিক যে, শুরুতে শুধু নির্বল ও দরিদ্ররাই নবির অনুসরণ করে থাকেন। তাঁর অনুসারী দিন দিন বেড়েই চলেছে। ঈমানের ব্যাপারটি এমনই। সংখ্যাবৃদ্ধি করতে করতেই একসময় এটি বিজয়ী শক্তিতে পরিণত হয়। আর একবার অন্তরে ঈমান প্রোথিত হলে তা আর কখনও উপড়ানো যায় না। এ কারণেই তাঁকে ত্যাগ করে তাঁর অনুসারীরা চলে যান না। তিনি কখনও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেননি, তাও বলেছেন। বাস্তবিকই নবিগণ কখনও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না। আরও বলেছেন যে, তিনি এক আল্লাহর আরাধনা করতে, তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করতে, মূর্তি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে, সালাত আদায় করতে, সত্য ও সততার চর্চা করতে আদেশ দেন।
যদি তা-ই হয়ে থাকে, তবে শীঘ্রই তিনি আমার পায়ের নিচের এ মাটিও জয় করে নেবেন। একজন নবি আবির্ভূত হবেন, তা আমিও জানতাম। কিন্তু তিনি যে আপনাদের মধ্য থেকে আত্মপ্রকাশ করবেন, তা আমার কল্পনাতেও আসেনি। আমি নিশ্চিতভাবে যদি তাঁর নিকট পৌঁছতে পারতাম তাহলে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতাম। আর তাঁর কাছে থাকতে পারলে তাঁর পদদ্বয় জল দিয়ে ধুয়ে দিতাম।”
এই বলে হিরাক্লিয়াস আবারও নবিজি ﷺ -এর চিঠিটি আনিয়ে জোরে জোরে পড়ে শোনান। আল্লাহর রাসূল-এর বার্তা শুনে শ্রোতাদের মাঝে বিস্ময় ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিরাকিয়াস আবূ সুইয়ান ও তার সহচরদের বিদায় দিয়ে দেন। বাইরে এসে আবূ সুফইয়ান নিজে নিজে বলতে থাকেন, “আবূ কাবশার পুত্রের প্রতিপত্তি এত দূর ছড়িয়ে পড়েছে! বানু আসফার (রোমান) সম্রাটও দেখি তাঁকে ভয় করছে!” দিনে দিনে আবূ সুফইয়ান উপলব্ধি করতে থাকেন যে, বিরোধীদের শত চেষ্টার পরও ইসলাম বিজয়ী হবে। এভাবে একসময় তিনি নিজেও ইসলাম গ্রহণের নিয়ামাত লাভ করেন।
রাসূল ﷺ -এর বার্তায় হিরাক্লিয়াস এতই মুগ্ধ ছিলেন যে, পত্রবাহক দিহইয়া ইবনু খলীফা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বিপুল অর্থ ও দামি পোশাক উপঢৌকন দেন। তারপর তিনি হিমসে ফিরে এসে সভাসদদের ডাকিয়ে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। সবার উদ্দেশে বলেন, “দেখুন! আপনাদের এই সাম্রাজ্যের স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা ও সঠিক পথ পেতে চাইলে এই নবির অনুসরণ করুন।” সমবেত সভাসদরা খেপে গিয়ে পাগলা গাধার মতো দরজার দিকে ছুটে যায়। কিন্তু গিয়ে দেখে তা বন্ধ।
ইসলামের বার্তার বিরুদ্ধে সভাসদদের এই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখে আবার তাদের ডাক দেন হিরাক্লিয়াস এবং বলেন, "আসলে আপনারা নিজেদের ধর্মবিশ্বাসে কতটা দৃঢ় তা পরখ করার জন্যই এই কথাটি বলেছিলাম। আমি আপনাদের এই দৃঢ়তা ও ধার্মিকতা দেখে সন্তুষ্ট।" এ কথা শুনে হাঁপ ছেড়ে বাঁচল সবাই।
হিরাক্লিয়াস স্পষ্টতই নবি-এর বার্তার সত্যতা বুঝতে পেরেছিলেন। কিন্তু মসনদের মোহ প্রবলতর হয়ে ওঠায় তার আর ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য হয়নি। আল্লাহর দৃষ্টিতে তাই হিরাক্লিয়াস নিজের ও প্রজাদের পথভ্রষ্টতার জন্য দায়ী আসামি। যেমন রাসূল তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।
কাজ শেষে দিহইয়া ইবনু খলীফা (রদিয়াল্লাহু আনহু) 'হিসমা' হয়ে মদীনায় ফিরছিলেন। ওই জায়গায় বানু জুযাম তাকে আক্রমণ করে সাথের সব উপঢৌকন ছিনিয়ে নেয়। প্রাণ নিয়ে মদীনায় পালিয়ে এসে তিনি নবিজি ﷺ -কে পুরা ঘটনা জানান।
নবি ﷺ ঘটনা শুনে যাইদ ইবনু হারিসা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নেতৃত্বে পাঁচ শ জনের একটি বাহিনী প্রেরণ করেন। বানু জুযামের ওই দুষ্কৃতকারী দলটিকে আক্রমণ করে অনেককে হত্যা করেন যাইদ ও তার বাহিনী। বন্দি করেন প্রায় শ-খানেক নারী ও শিশু। এক হাজার উট এবং পাঁচ শ ছাগলও হস্তগত হয় গনীমাত হিসেবে।
এ ঘটনার পর বানু জুযাম গোত্রের এক নেতা যাইদ ইবনু রিফাআ জুযামি ছুটে আসেন মদীনায়। তিনিসহ তার গোত্রের কিছু মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা আক্রান্ত দিহইয়াকে সাহায্যও করেছিলেন তিনি। তাই নবি তার সাথে সমস্ত গনীমাত ও বন্দিকে ফিরিয়ে দেন।
টিকাঃ
৪০৬. সূরা আল ইমরান, ৩: ৬৪; ইবনুল কাইয়িম, যাদুল মাআদ, ৩/৬৮৮।
৪০৭. বুখারি, ৭; মুসলিম, ১৭৭৩।
৪০৮. ইবনুল কাইয়িম, ২/১২২।
তার উদ্দেশে নবি লিখেছেন, "বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে রোমানাধিপতি হিরাক্লিয়াসের প্রতি। হিদায়াতের অনুসারীরা সৌভাগ্যবান। আমি আপনাকে ইসলামের প্রতি আহ্বান করছি। ইসলাম গ্রহণ করে নিন, নিরাপদ হয়ে যাবেন। আল্লাহ আপনাকে দ্বিগুণ পুরস্কার দেবেন। আর যদি তাঁর বার্তা প্রত্যাখ্যান করেন, তাহলে প্রজা ও অনুসারীদের পাপের ভার আপনাকেও বহন করতে হবে। 'হে কিতাবধারী সম্প্রদায়, এসো সেই বিষয়ে দিকে যা তোমাদের ও আমাদের মাঝে অভিন্ন যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারও উপাসনা করব না, কোনো কিছুকে তাঁর সাথে শরীক সাব্যস্ত করব না এবং একমাত্র আল্লাহকে ছাড়া অন্য কাউকে পালনকর্তা বানাব না।' কিন্তু যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে বলুন, 'সাক্ষী থেকো, আমরা মুসলিম।
দিহইয়া ইবনু খলীফা কালবি (রদিয়াল্লাহু আনহু) এই চিঠিটি বুসরার প্রশাসকের হাতে পৌঁছে দেন। তার কাছ থেকে সেটি যায় হিরাক্লিয়াসের কাছে। হিরাক্লিয়াস সিরিয়ার হিমস থেকে পায়ে হেঁটে তীর্থস্থান জেরুসালেম এসেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল, পারস্যের ওপর রোমের বিজয় উপলক্ষ্যে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা। চিঠিটি হাতে পেয়েই তিনি এমন কারও সন্ধান করার আদেশ দেন, যে সরাসরি রাসূল ﷺ -কে চেনে। ব্যবসার উদ্দেশ্যে আবূ সুফইয়ানের নেতৃত্বাধীন একটি কুরাইশ কাফেলা তখন সে এলাকায়। তাদেরই ডেকে আনা হয় হিরাক্লিয়াসের রাজদরবারে। রোম-সম্রাট জানতে চান, “আপনাদের মধ্যে আত্মীয়তার দিক দিয়ে মুহাম্মাদের সবচেয়ে নিকটজন কে?”
আবূ সুফইয়ানকে দেখিয়ে দিল কাফেলার লোকেরা। তাকে সামনে এগিয়ে এনে আলাদা আসনে বসানো হলো। বাকি কুরাইশদের হিরাক্লিয়াস বললেন, “আমি তাকে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসা করব। যদি সে কোনও মিথ্যা তথ্য দেয়, তাহলে আপনারা তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করবেন।” নড়েচড়ে বসলেন আবূ সুফইয়ান। চাইলেও মিথ্যে বলা যাবে না এখন। হিরাক্লিয়াস ও আবূ সুফইয়ানের মধ্যকার কথোপকথনটি ছিল এমন:
হিরাক্লিয়াস : “তাঁর বংশ সম্পর্কে বলুন।”
আবূ সুফ্ইয়ান : “তিনি আমাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত বংশের সন্তান।”
হিরাক্লিয়াস : “তাঁর মতো এই দাবি কি তাঁর আগে আপনাদের মধ্যে আর কেউ করেছিল?"
আবূ সুফ্ইয়ান : “জি না।”
হিরাক্লিয়াস : "তাঁর পরিবারের কেউ রাজা-বাদশা ছিলেন?”
আবূ সুফইয়ান : “না।”
হিরাক্লিয়াস : “তাঁর অনুসারী কারা? দরিদ্র এবং দুর্বলেরা, নাকি সম্ভ্রান্ত লোকেরা?”
আবূ সুফইয়ান : “তাদের সকলেই দরিদ্র এবং দুর্বল।”
হিরাক্লিয়াস : “তাঁর অনুসারী-সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, না কমছে?”
আবূ সুফইয়ান : “বেড়েই চলেছে।”
হিরাক্লিয়াস : “তাঁর ধর্মগ্রহণকারীরা কি তাঁর প্রতি ঘৃণাবশত তাঁকে ছেড়ে চলে যায়?"
আবূ সুফইয়ান: "জি না।”
হিরাক্লিয়াস : "নিজেকে নবি দাবি করার আগে কখনও কি তাঁকে মিথ্যে বলতে শুনেছেন?"
আবূ সুফইয়ান: "জি না।”
হিরাক্লিয়াস : "তিনি কখনও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন?"
আবু সুফইয়ান : “এখন পর্যন্ত করেননি—এখানে একটি সংশয়পূর্ণ কথা ঢুকিয়ে দেওয়ার সুযোগ পায় আবূ সুফইয়ান, বলেন—আসলে আমাদের সাথে তাঁর একটি শান্তিচুক্তি কার্যকর আছে বর্তমানে। ভবিষ্যতে তিনি কী করবেন, বলতে পারছি না।”
হিরাক্লিয়াস : “আচ্ছা। কখনও যুদ্ধ করেছেন তাঁর বিরুদ্ধে?”
আবূ সুফইয়ান : “জি।”
হিরাক্লিয়াস : "ফলাফল?”
আবূ সুফইয়ান : “কখনও আমরা জিতেছি, কখনও তিনি জিতেছেন।”
হিরাক্লিয়াস : "তিনি আপনাদের কী কী শিক্ষা দেন?"
আবূ সুফইয়ান: "তিনি আমাদের এক আল্লাহর আরাধনা করতে বলেন। তাঁর সাথে যেন অন্যকিছুকে শরীক করতে নিষেধ করেন। আমাদের পূর্বপুরুষরা যা কিছুর উপাসনা করতেন, সেগুলোও প্রত্যাখ্যান করতে বলেন। আরও আদেশ করেন সালাত আদায় করতে, সত্যবাদী ও সৎ হতে এবং আত্মীয়দের সাথে সদাচরণ করতে।”
সব শুনে হিরাক্লিয়াস উপসংহার টানলেন, “আপনি বললেন যে, তিনি সম্ভ্রান্ততম বংশের সদস্য। সকল নবিই সম্ভ্রান্ত বংশের সন্তান হয়ে থাকেন। তাঁর আগে আর কেউ অনুরূপ দাবি করেনি আপনাদের ওখানে। যদি করতেন, তাহলে বলতাম তিনি আগেরজনকে অনুসরণ করছেন। তাঁর বংশে আগে কেউ রাজাও ছিলেন না। থাকলে বলতাম, তিনি হারানো প্রতিপত্তি পুনরুদ্ধার করতে চাইছেন। বললেন যে, তাঁকে কখনও মিথ্যে বলতেও শোনেননি। মানুষের সাথে সত্যবাদী হয়ে ঈশ্বরের ব্যাপারে মিথ্যে বলা আসলেই অসম্ভব। আবার এটিও ঠিক যে, শুরুতে শুধু নির্বল ও দরিদ্ররাই নবির অনুসরণ করে থাকেন। তাঁর অনুসারী দিন দিন বেড়েই চলেছে। ঈমানের ব্যাপারটি এমনই। সংখ্যাবৃদ্ধি করতে করতেই একসময় এটি বিজয়ী শক্তিতে পরিণত হয়। আর একবার অন্তরে ঈমান প্রোথিত হলে তা আর কখনও উপড়ানো যায় না। এ কারণেই তাঁকে ত্যাগ করে তাঁর অনুসারীরা চলে যান না। তিনি কখনও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেননি, তাও বলেছেন। বাস্তবিকই নবিগণ কখনও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না। আরও বলেছেন যে, তিনি এক আল্লাহর আরাধনা করতে, তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করতে, মূর্তি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে, সালাত আদায় করতে, সত্য ও সততার চর্চা করতে আদেশ দেন।
যদি তা-ই হয়ে থাকে, তবে শীঘ্রই তিনি আমার পায়ের নিচের এ মাটিও জয় করে নেবেন। একজন নবি আবির্ভূত হবেন, তা আমিও জানতাম। কিন্তু তিনি যে আপনাদের মধ্য থেকে আত্মপ্রকাশ করবেন, তা আমার কল্পনাতেও আসেনি। আমি নিশ্চিতভাবে যদি তাঁর নিকট পৌঁছতে পারতাম তাহলে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতাম। আর তাঁর কাছে থাকতে পারলে তাঁর পদদ্বয় জল দিয়ে ধুয়ে দিতাম।”
এই বলে হিরাক্লিয়াস আবারও নবিজি ﷺ -এর চিঠিটি আনিয়ে জোরে জোরে পড়ে শোনান। আল্লাহর রাসূল-এর বার্তা শুনে শ্রোতাদের মাঝে বিস্ময় ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিরাকিয়াস আবূ সুইয়ান ও তার সহচরদের বিদায় দিয়ে দেন। বাইরে এসে আবূ সুফইয়ান নিজে নিজে বলতে থাকেন, “আবূ কাবশার পুত্রের প্রতিপত্তি এত দূর ছড়িয়ে পড়েছে! বানু আসফার (রোমান) সম্রাটও দেখি তাঁকে ভয় করছে!” দিনে দিনে আবূ সুফইয়ান উপলব্ধি করতে থাকেন যে, বিরোধীদের শত চেষ্টার পরও ইসলাম বিজয়ী হবে। এভাবে একসময় তিনি নিজেও ইসলাম গ্রহণের নিয়ামাত লাভ করেন।
রাসূল ﷺ -এর বার্তায় হিরাক্লিয়াস এতই মুগ্ধ ছিলেন যে, পত্রবাহক দিহইয়া ইবনু খলীফা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বিপুল অর্থ ও দামি পোশাক উপঢৌকন দেন। তারপর তিনি হিমসে ফিরে এসে সভাসদদের ডাকিয়ে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। সবার উদ্দেশে বলেন, “দেখুন! আপনাদের এই সাম্রাজ্যের স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা ও সঠিক পথ পেতে চাইলে এই নবির অনুসরণ করুন।” সমবেত সভাসদরা খেপে গিয়ে পাগলা গাধার মতো দরজার দিকে ছুটে যায়। কিন্তু গিয়ে দেখে তা বন্ধ।
ইসলামের বার্তার বিরুদ্ধে সভাসদদের এই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখে আবার তাদের ডাক দেন হিরাক্লিয়াস এবং বলেন, "আসলে আপনারা নিজেদের ধর্মবিশ্বাসে কতটা দৃঢ় তা পরখ করার জন্যই এই কথাটি বলেছিলাম। আমি আপনাদের এই দৃঢ়তা ও ধার্মিকতা দেখে সন্তুষ্ট।" এ কথা শুনে হাঁপ ছেড়ে বাঁচল সবাই।
হিরাক্লিয়াস স্পষ্টতই নবি-এর বার্তার সত্যতা বুঝতে পেরেছিলেন। কিন্তু মসনদের মোহ প্রবলতর হয়ে ওঠায় তার আর ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য হয়নি। আল্লাহর দৃষ্টিতে তাই হিরাক্লিয়াস নিজের ও প্রজাদের পথভ্রষ্টতার জন্য দায়ী আসামি। যেমন রাসূল তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।
কাজ শেষে দিহইয়া ইবনু খলীফা (রদিয়াল্লাহু আনহু) 'হিসমা' হয়ে মদীনায় ফিরছিলেন। ওই জায়গায় বানু জুযাম তাকে আক্রমণ করে সাথের সব উপঢৌকন ছিনিয়ে নেয়। প্রাণ নিয়ে মদীনায় পালিয়ে এসে তিনি নবিজি ﷺ -কে পুরা ঘটনা জানান।
নবি ﷺ ঘটনা শুনে যাইদ ইবনু হারিসা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নেতৃত্বে পাঁচ শ জনের একটি বাহিনী প্রেরণ করেন। বানু জুযামের ওই দুষ্কৃতকারী দলটিকে আক্রমণ করে অনেককে হত্যা করেন যাইদ ও তার বাহিনী। বন্দি করেন প্রায় শ-খানেক নারী ও শিশু। এক হাজার উট এবং পাঁচ শ ছাগলও হস্তগত হয় গনীমাত হিসেবে।
এ ঘটনার পর বানু জুযাম গোত্রের এক নেতা যাইদ ইবনু রিফাআ জুযামি ছুটে আসেন মদীনায়। তিনিসহ তার গোত্রের কিছু মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা আক্রান্ত দিহইয়াকে সাহায্যও করেছিলেন তিনি। তাই নবি তার সাথে সমস্ত গনীমাত ও বন্দিকে ফিরিয়ে দেন।
টিকাঃ
৪০৬. সূরা আল ইমরান, ৩: ৬৪; ইবনুল কাইয়িম, যাদুল মাআদ, ৩/৬৮৮।
৪০৭. বুখারি, ৭; মুসলিম, ১৭৭৩।
৪০৮. ইবনুল কাইয়িম, ২/১২২।
তার উদ্দেশে নবি লিখেছেন, "বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে রোমানাধিপতি হিরাক্লিয়াসের প্রতি। হিদায়াতের অনুসারীরা সৌভাগ্যবান। আমি আপনাকে ইসলামের প্রতি আহ্বান করছি। ইসলাম গ্রহণ করে নিন, নিরাপদ হয়ে যাবেন। আল্লাহ আপনাকে দ্বিগুণ পুরস্কার দেবেন। আর যদি তাঁর বার্তা প্রত্যাখ্যান করেন, তাহলে প্রজা ও অনুসারীদের পাপের ভার আপনাকেও বহন করতে হবে। 'হে কিতাবধারী সম্প্রদায়, এসো সেই বিষয়ের দিকে যা তোমাদের ও আমাদের মাঝে অভিন্ন যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারও উপাসনা করব না, কোনো কিছুকে তাঁর সাথে শরীক সাব্যস্ত করব না এবং একমাত্র আল্লাহকে ছাড়া অন্য কাউকে পালনকর্তা বানাব না।' কিন্তু যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে বলুন, 'সাক্ষী থেকো, আমরা মুসলিম।'
দিহইয়া ইবনু খলীফা কালবি (রদিয়াল্লাহু আনহু) এই চিঠিটি বুসরার প্রশাসকের হাতে পৌঁছে দেন। তার কাছ থেকে সেটি যায় হিরাক্লিয়াসের কাছে। হিরাক্লিয়াস সিরিয়ার হিমস থেকে পায়ে হেঁটে তীর্থস্থান জেরুসালেম এসেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল, পারস্যের ওপর রোমের বিজয় উপলক্ষ্যে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা। চিঠিটি হাতে পেয়েই তিনি এমন কারও সন্ধান করার আদেশ দেন, যে সরাসরি রাসূল ﷺ-কে চেনে। ব্যবসার উদ্দেশ্যে আবূ সুফইয়ানের নেতৃত্বাধীন একটি কুরাইশ কাফেলা তখন সে এলাকায়। তাদেরই ডেকে আনা হয় হিরাক্লিয়াসের রাজদরবারে। রোম-সম্রাট জানতে চান, “আপনাদের মধ্যে আত্মীয়তার দিক দিয়ে মুহাম্মাদের সবচেয়ে নিকটজন কে?”
আবূ সুফইয়ানকে দেখিয়ে দিল কাফেলার লোকেরা। তাকে সামনে এগিয়ে এনে আলাদা আসনে বসানো হলো। বাকি কুরাইশদের হিরাক্লিয়াস বললেন, “আমি তাকে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসা করব। যদি সে কোনও মিথ্যা তথ্য দেয়, তাহলে আপনারা তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করবেন।” নড়েচড়ে বসলেন আবূ সুফইয়ান। চাইলেও মিথ্যে বলা যাবে না এখন। হিরাক্লিয়াস ও আবূ সুফইয়ানের মধ্যকার কথোপকথনটি ছিল এমন:
হিরাক্লিয়াস : “তাঁর বংশ সম্পর্কে বলুন।”
আবূ সুফ্ইয়ান : “তিনি আমাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত বংশের সন্তান।”
হিরাক্লিয়াস : “তাঁর মতো এই দাবি কি তাঁর আগে আপনাদের মধ্যে আর কেউ করেছিল?"
আবূ সুফ্ইয়ান : “জি না।”
হিরাক্লিয়াস : "তাঁর পরিবারের কেউ রাজা-বাদশা ছিলেন?”
আবূ সুফইয়ান : “না।”
হিরাক্লিয়াস : “তাঁর অনুসারী কারা? দরিদ্র এবং দুর্বলেরা, নাকি সম্ভ্রান্ত লোকেরা?”
আবূ সুফইয়ান : “তাদের সকলেই দরিদ্র এবং দুর্বল।”
হিরাক্লিয়াস : “তাঁর অনুসারী-সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, না কমছে?”
আবূ সুফইয়ান : “বেড়েই চলেছে।”
হিরাক্লিয়াস : “তাঁর ধর্মগ্রহণকারীরা কি তাঁর প্রতি ঘৃণাবশত তাঁকে ছেড়ে চলে যায়?"
আবূ সুফইয়ান: "জি না।”
হিরাক্লিয়াস : "নিজেকে নবি দাবি করার আগে কখনও কি তাঁকে মিথ্যে বলতে শুনেছেন?"
আবূ সুফইয়ান: "জি না।”
হিরাক্লিয়াস : "তিনি কখনও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন?"
আবু সুফইয়ান : “এখন পর্যন্ত করেননি—এখানে একটি সংশয়পূর্ণ কথা ঢুকিয়ে দেওয়ার সুযোগ পায় আবূ সুফইয়ান, বলেন—আসলে আমাদের সাথে তাঁর একটি শান্তিচুক্তি কার্যকর আছে বর্তমানে। ভবিষ্যতে তিনি কী করবেন, বলতে পারছি না।”
হিরাক্লিয়াস : “আচ্ছা। কখনও যুদ্ধ করেছেন তাঁর বিরুদ্ধে?”
আবূ সুফইয়ান : “জি।”
হিরাক্লিয়াস : "ফলাফল?”
আবূ সুফইয়ান : “কখনও আমরা জিতেছি, কখনও তিনি জিতেছেন।”
হিরাক্লিয়াস : "তিনি আপনাদের কী কী শিক্ষা দেন?"
আবূ সুফইয়ান: "তিনি আমাদের এক আল্লাহর আরাধনা করতে বলেন। তাঁর সাথে যেন অন্যকিছুকে শরীক করতে নিষেধ করেন। আমাদের পূর্বপুরুষরা যা কিছুর উপাসনা করতেন, সেগুলোও প্রত্যাখ্যান করতে বলেন। আরও আদেশ করেন সালাত আদায় করতে, সত্যবাদী ও সৎ হতে এবং আত্মীয়দের সাথে সদাচরণ করতে।”
সব শুনে হিরাক্লিয়াস উপসংহার টানলেন, “আপনি বললেন যে, তিনি সম্ভ্রান্ততম বংশের সদস্য। সকল নবিই সম্ভ্রান্ত বংশের সন্তান হয়ে থাকেন। তাঁর আগে আর কেউ অনুরূপ দাবি করেনি আপনাদের ওখানে। যদি করতেন, তাহলে বলতাম তিনি আগেরজনকে অনুসরণ করছেন। তাঁর বংশে আগে কেউ রাজাও ছিলেন না। থাকলে বলতাম, তিনি হারানো প্রতিপত্তি পুনরুদ্ধার করতে চাইছেন। বললেন যে, তাঁকে কখনও মিথ্যে বলতেও শোনেননি। মানুষের সাথে সত্যবাদী হয়ে ঈশ্বরের ব্যাপারে মিথ্যে বলা আসলেই অসম্ভব। আবার এটিও ঠিক যে, শুরুতে শুধু নির্বল ও দরিদ্ররাই নবির অনুসরণ করে থাকেন। তাঁর অনুসারী দিন দিন বেড়েই চলেছে। ঈমানের ব্যাপারটি এমনই। সংখ্যাবৃদ্ধি করতে করতেই একসময় এটি বিজয়ী শক্তিতে পরিণত হয়। আর একবার অন্তরে ঈমান প্রোথিত হলে তা আর কখনও উপড়ানো যায় না। এ কারণেই তাঁকে ত্যাগ করে তাঁর অনুসারীরা চলে যান না। তিনি কখনও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেননি, তাও বলেছেন। বাস্তবেই নবিগণ কখনও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না। আরও বলেছেন যে, তিনি এক আল্লাহর আরাধনা করতে, তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করতে, মূর্তি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে, সালাত আদায় করতে, সত্য ও সততার চর্চা করতে আদেশ দেন।
যদি তা-ই হয়ে থাকে, তবে শীঘ্রই তিনি আমার পায়ের নিচের এ মাটিও জয় করে নেবেন। একজন নবি আবির্ভূত হবেন, তা আমিও জানতাম। কিন্তু তিনি যে আপনাদের মধ্য থেকে আত্মপ্রকাশ করবেন, তা আমার কল্পনাতেও আসেনি। আমি নিশ্চিতভাবে যদি তাঁর নিকট পৌঁছতে পারতাম তাহলে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতাম। আর তাঁর কাছে থাকতে পারলে তাঁর পদদ্বয় জল দিয়ে ধুয়ে দিতাম।”
এই বলে হিরাক্লিয়াস আবারও নবিজি -এর চিঠিটি আনিয়ে জোরে জোরে পড়ে শোনান। আল্লাহর রাসূল-এর বার্তা শুনে শ্রোতাদের মাঝে বিস্ময় ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিরাকিয়াস আবূ সুইয়ান ও তার সহচরদের বিদায় দিয়ে দেন। বাইরে এসে আবূ সুফইয়ান নিজে নিজে বলতে থাকেন, “আবূ কাবশার পুত্রের প্রতিপত্তি এত দূর ছড়িয়ে পড়েছে! বানু আসফার (রোমান) সম্রাটও দেখি তাঁকে ভয় করছে!” দিনে দিনে আবূ সুফইয়ান উপলব্ধি করতে থাকেন যে, বিরোধীদের শত চেষ্টার পরও ইসলাম বিজয়ী হবে। এভাবে একসময় তিনি নিজেও ইসলাম গ্রহণের নিয়ামাত লাভ করেন।
রাসূল -এর বার্তায় হিরাক্লিয়াস এতই মুগ্ধ ছিলেন যে, পত্রবাহক দিহইয়া ইবনু খলীফা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বিপুল অর্থ ও দামি পোশাক উপঢৌকন দেন। তারপর তিনি হিমসে ফিরে এসে সভাসদদের ডাকিয়ে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। সবার উদ্দেশে বলেন, “দেখুন! আপনাদের এই সাম্রাজ্যের স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা ও সঠিক পথ পেতে চাইলে এই নবির অনুসরণ করুন।” সমবেত সভাসদরা খেপে গিয়ে পাগলা গাধার মতো দরজার দিকে ছুটে যায়। কিন্তু গিয়ে দেখে তা বন্ধ।
ইসলামের বার্তার বিরুদ্ধে সভাসদদের এই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখে আবার তাদের ডাক দেন হিরাক্লিয়াস এবং বলেন, "আসলে আপনারা নিজেদের ধর্মবিশ্বাসে কতটা দৃঢ় তা পরখ করার জন্যই এই কথাটি বলেছিলাম। আমি আপনাদের এই দৃঢ়তা ও ধার্মিকতা দেখে সন্তুষ্ট।" এ কথা শুনে হাঁপ ছেড়ে বাঁচল সবাই।
হিরাক্লিয়াস স্পষ্টতই নবি-এর বার্তার সত্যতা বুঝতে পেরেছিলেন। কিন্তু মসনদের মোহ প্রবলতর হয়ে ওঠায় তার আর ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য হয়নি। আল্লাহর দৃষ্টিতে তাই হিরাক্লিয়াস নিজের ও প্রজাদের পথভ্রষ্টতার জন্য দায়ী আসামি। যেমন রাসূল তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।
কাজ শেষে দিহইয়া ইবনু খলীফা (রদিয়াল্লাহু আনহু) 'হিসমা' হয়ে মদীনায় ফিরছিলেন। ওই জায়গায় বানু জুযাম তাকে আক্রমণ করে সাথের সব উপঢৌকন ছিনিয়ে নেয়। প্রাণ নিয়ে মদীনায় পালিয়ে এসে তিনি নবিজি -কে পুরা ঘটনা জানান।
নবি ঘটনা শুনে যাইদ ইবনু হারিসা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নেতৃত্বে পাঁচ শ জনের একটি বাহিনী প্রেরণ করেন। বানু জুযামের ওই দুষ্কৃতকারী দলটিকে আক্রমণ করে অনেককে হত্যা করেন যাইদ ও তার বাহিনী। বন্দি করেন প্রায় শ-খানেক নারী ও শিশু। এক হাজার উট এবং পাঁচ শ ছাগলও হস্তগত হয় গনীমাত হিসেবে।
এ ঘটনার পর বানু জুযাম গোত্রের এক নেতা যাইদ ইবনু রিফাআ জুযামি ছুটে আসেন মদীনায়। তিনিসহ তার গোত্রের কিছু মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা আক্রান্ত দিহইয়াকে সাহায্যও করেছিলেন তিনি। তাই নবি তার সাথে সমস্ত গনীমাত ও বন্দিকে ফিরিয়ে দেন।
টিকাঃ
[৪০৬] সূরা আল ইমরান, ৩: ৬৪; ইবনুল কাইয়িম, যাদুল মাআদ, ৩/৬৮৮।
[৪০৭] বুখারি, ৭; মুসলিম, ১৭৭৩।
[৪০৮] ইবনুল কাইয়িম, ২/১২২।
📄 হারিস ইবনু আবী শিম্র গাসসানির প্রতি চিঠি
নবিজি এর পরের চিঠিটি শুজা' ইবনু ওয়াহাব আসাদি (রদিয়াল্লাহু আনহু) নিয়ে যান দামেশকে। হিরাক্লিয়াসের প্রতিনিধি হারিস ইবনু আবী শিঘ্ন গাসসানি সেখানকার প্রশাসক ছিলেন।
“বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে হারিস ইবন আবী শিমর-এর নিকট। যারা সত্যের অনুসারী এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী তাদের ওপর শান্তি অবতীর্ণ হোক। আমি আপনাকে আহ্বান করছি যে, আপনি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনুন, যিনি একক, অংশীদারবিহীন। তাহলে আপনার রাজত্ব টিকে থাকবে।”
হারিসের জবাব ছিল ক্ষোভে ভরা। চিঠিটি ছুঁড়ে ফেলে তিনি বলেন, "কার এত বড় সাহস, আমার রাজ্য দখল করতে চায়?” শুজা'কে বলেন যে, তিনি যেন নবিজিকে আসন্ন এক যুদ্ধের ব্যাপারে সতর্ক করে দেন। ওপরমহলের কাছে তিনি অনুমতি চান নবিজির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার। কিন্তু হিরাক্লিয়াস সে অনুরোধ নাকচ করে দেন। ফলে হারিস আগের যুদ্ধংদেহী অবস্থান থেকে সরে আসেন। সেই সাথে অর্থ ও দামি কাপড় উপঢৌকন দিয়ে শুজা' ইবনু ওয়াহাবকে সৌজন্য সহকারে ফিরিয়ে দেন।
টিকাঃ
৪০৯. যাদুল মাআদ, ৩/৬৯৭।
৪১০. যাদুল মাআদ, ৩/৬৯৮।
নবিজি এর পরের চিঠিটি শুজা' ইবনু ওয়াহাব আসাদি (রদিয়াল্লাহু আনহু) নিয়ে যান দামেশকে। হিরাক্লিয়াসের প্রতিনিধি হারিস ইবনু আবী শিঘ্ন গাসসানি সেখানকার প্রশাসক ছিলেন।
“বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে হারিস ইবন আবী শিমর-এর নিকট। যারা সত্যের অনুসারী এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী তাদের ওপর শান্তি অবতীর্ণ হোক। আমি আপনাকে আহ্বান করছি যে, আপনি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনুন, যিনি একক, অংশীদারবিহীন। তাহলে আপনার রাজত্ব টিকে থাকবে।”
হারিসের জবাব ছিল ক্ষোভে ভরা। চিঠিটি ছুঁড়ে ফেলে তিনি বলেন, "কার এত বড় সাহস, আমার রাজ্য দখল করতে চায়?” শুজা'কে বলেন যে, তিনি যেন নবিজিকে আসন্ন এক যুদ্ধের ব্যাপারে সতর্ক করে দেন। ওপরমহলের কাছে তিনি অনুমতি চান নবিজির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার। কিন্তু হিরাক্লিয়াস সে অনুরোধ নাকচ করে দেন। ফলে হারিস আগের যুদ্ধংদেহী অবস্থান থেকে সরে আসেন। সেই সাথে অর্থ ও দামি কাপড় উপঢৌকন দিয়ে শুজা' ইবনু ওয়াহাবকে সৌজন্য সহকারে ফিরিয়ে দেন।
টিকাঃ
৪০৯. যাদুল মাআদ, ৩/৬৯৭।
৪১০. যাদুল মাআদ, ৩/৬৯৮।
নবিজি এর পরের চিঠিটি শুজা' ইবনু ওয়াহাব আসাদি (রদিয়াল্লাহু আনহু) নিয়ে যান দামেশকে। হিরাক্লিয়াসের প্রতিনিধি হারিস ইবনু আবী শিঘ্ন গাসসানি সেখানকার প্রশাসক ছিলেন।
“বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে হারিস ইবন আবী শিমর-এর নিকট। যারা সত্যের অনুসারী এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী তাদের ওপর শান্তি অবতীর্ণ হোক। আমি আপনাকে আহ্বান করছি যে, আপনি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনুন, যিনি একক, অংশীদারবিহীন। তাহলে আপনার রাজত্ব টিকে থাকবে।”
হারিসের জবাব ছিল ক্ষোভে ভরা। চিঠিটি ছুঁড়ে ফেলে তিনি বলেন, "কার এত বড় সাহস, আমার রাজ্য দখল করতে চায়?” শুজা'কে বলেন যে, তিনি যেন নবিজিকে আসন্ন এক যুদ্ধের ব্যাপারে সতর্ক করে দেন। ওপরমহলের কাছে তিনি অনুমতি চান নবিজির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার। কিন্তু হিরাক্লিয়াস সে অনুরোধ নাকচ করে দেন। ফলে হারিস আগের যুদ্ধংদেহী অবস্থান থেকে সরে আসেন। সেই সাথে অর্থ ও দামি কাপড় উপঢৌকন দিয়ে শুজা' ইবনু ওয়াহাবকে সৌজন্য সহকারে ফিরিয়ে দেন।
টিকাঃ
[৪০৯] যাদুল মাআদ, ৩/৬৯৭।
[৪১০] যাদুল মাআদ, ৩/৬৯৮।
📄 বুসরার আমীরের প্রতি চিঠি
এরপর বুসরার প্রশাসককে ইসলামের দিকে আহ্বান করে চিঠি লেখেন রাসূলুল্লাহ । হারিস ইবনু উমাইর আযদি (রদিয়াল্লাহু আনহু) সেটি প্রাপকের কাছে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু দক্ষিণ জর্দানের 'মৃতা' অঞ্চলে আসতেই শুরাহবীল ইবনু আমর গাসসানি তার শিরশ্ছেদ করে তাকে হত্যা করে। হারিস ইবনু উমাইর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-ই একমাত্র সাহাবি, যিনি চিঠিবহনের কাজ করতে গিয়ে শহীদ হন। হারিসের মৃত্যুতে নবি অত্যন্ত ব্যথিত হন। এমনকি পরে তিনি শুরাহবীলের বিরুদ্ধে যুদ্ধও করেন। যা 'মৃতার যুদ্ধ' নামে পরিচিতি পায়।
এরপর বুসরার প্রশাসককে ইসলামের দিকে আহ্বান করে চিঠি লেখেন রাসূলুল্লাহ । হারিস ইবনু উমাইর আযদি (রদিয়াল্লাহু আনহু) সেটি প্রাপকের কাছে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু দক্ষিণ জর্দানের 'মৃতা' অঞ্চলে আসতেই শুরাহবীল ইবনু আমর গাসসানি তার শিরশ্ছেদ করে তাকে হত্যা করে। হারিস ইবনু উমাইর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-ই একমাত্র সাহাবি, যিনি চিঠিবহনের কাজ করতে গিয়ে শহীদ হন। হারিসের মৃত্যুতে নবি অত্যন্ত ব্যথিত হন। এমনকি পরে তিনি শুরাহবীলের বিরুদ্ধে যুদ্ধও করেন। যা 'মৃতার যুদ্ধ' নামে পরিচিতি পায়।
এরপর বুসরার প্রশাসককে ইসলামের দিকে আহ্বান করে চিঠি লেখেন রাসূলুল্লাহ । হারিস ইবনু উমাইর আযদি (রদিয়াল্লাহু আনহু) সেটি প্রাপকের কাছে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু দক্ষিণ জর্দানের 'মৃতা' অঞ্চলে আসতেই শুরাহবীল ইবনু আমর গাসসানি তার শিরশ্ছেদ করে তাকে হত্যা করে। হারিস ইবনু উমাইর (রদিয়াল্লাহু আনহু)-ই একমাত্র সাহাবি, যিনি চিঠিবহনের কাজ করতে গিয়ে শহীদ হন। হারিসের মৃত্যুতে নবি অত্যন্ত ব্যথিত হন। এমনকি পরে তিনি শুরাহবীলের বিরুদ্ধে যুদ্ধও করেন। যা 'মৃতার যুদ্ধ' নামে পরিচিতি পায়।
📄 ইয়ামামা-অধিপতি হাওযা ইবনু আলির প্রতি চিঠি
তাকে উদ্দেশ্য করে নবি চিঠিতে লেখেন, “বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে হাওযা ইবনু আলির প্রতি। হিদায়াতের অনুসারীদের ওপর শান্তি অবতীর্ণ হোক। জেনে রাখুন! উট আর ঘোড়া যত জায়গায় পৌঁছাতে সক্ষম, আমার দ্বীন সেই সবক'টি জায়গায় প্রবল হবে। ইসলাম গ্রহণ করুন, তাহলে নিরাপত্তা লাভ করবেন। আপনার অধিকারে যা আছে, তার কোনও ক্ষতি করব না, তা আপনার অধীনেই থাকবে।”
সুলাইত ইবনু আমর আমিরি (রদিয়াল্লাহু আনহু) এ চিঠিটি বহন করেন। সসম্মানে চিঠিটি গ্রহণ করে তাকে উপঢৌকন দেন হাওযা। জবাবে লেখেন,
"আপনার আহ্বায়িত আদর্শের প্রশংসায় কী-বা বলতে পারি? আমি নিজ জাতির কবি ও কথক। পুরো আরবজুড়ে আমার খ্যাতি বিস্তৃত। আপনার রাজ্যের একাংশের দায়িত্ব আমাকে দিন, আমি আপনার অনুসারী হয়ে যাব।"
চিঠিটি গ্রহণ করে নবি মন্তব্য করেন, "সে চাওয়া মতো এক টুকরো ভূমিও আমি তাকে দেবো না। সে নিজেও ধ্বংস হবে এবং যা তার অধীনে আছে তাও সমূলে ধ্বংস হবে।"
রাসূলুল্লাহ যখন মক্কা বিজয়ের পর সেখান থেকে ফিরে আসেন তখন হাওযা মারা যায়।
টিকাঃ
৪১১. ইবনুল কাইয়িম, যাদুল মাআদ, ৩/৬০।
৪১২. ইবনুল কাইয়িম, যাদুল মাআদ, ৩/৬৩।
তাকে উদ্দেশ্য করে নবি চিঠিতে লেখেন, “বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে হাওযা ইবনু আলির প্রতি। হিদায়াতের অনুসারীদের ওপর শান্তি অবতীর্ণ হোক। জেনে রাখুন! উট আর ঘোড়া যত জায়গায় পৌঁছাতে সক্ষম, আমার দ্বীন সেই সবক'টি জায়গায় প্রবল হবে। ইসলাম গ্রহণ করুন, তাহলে নিরাপত্তা লাভ করবেন। আপনার অধিকারে যা আছে, তার কোনও ক্ষতি করব না, তা আপনার অধীনেই থাকবে।”
সুলাইত ইবনু আমর আমিরি (রদিয়াল্লাহু আনহু) এ চিঠিটি বহন করেন। সসম্মানে চিঠিটি গ্রহণ করে তাকে উপঢৌকন দেন হাওযা। জবাবে লেখেন,
"আপনার আহ্বায়িত আদর্শের প্রশংসায় কী-বা বলতে পারি? আমি নিজ জাতির কবি ও কথক। পুরো আরবজুড়ে আমার খ্যাতি বিস্তৃত। আপনার রাজ্যের একাংশের দায়িত্ব আমাকে দিন, আমি আপনার অনুসারী হয়ে যাব।"
চিঠিটি গ্রহণ করে নবি মন্তব্য করেন, "সে চাওয়া মতো এক টুকরো ভূমিও আমি তাকে দেবো না। সে নিজেও ধ্বংস হবে এবং যা তার অধীনে আছে তাও সমূলে ধ্বংস হবে।"
রাসূলুল্লাহ যখন মক্কা বিজয়ের পর সেখান থেকে ফিরে আসেন তখন হাওযা মারা যায়।
টিকাঃ
৪১১. ইবনুল কাইয়িম, যাদুল মাআদ, ৩/৬০।
৪১২. ইবনুল কাইয়িম, যাদুল মাআদ, ৩/৬৩।
তাকে উদ্দেশ্য করে নবি চিঠিতে লেখেন, “বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে হাওযা ইবনু আলির প্রতি। হিদায়াতের অনুসারীদের ওপর শান্তি অবতীর্ণ হোক। জেনে রাখুন! উট আর ঘোড়া যত জায়গায় পৌঁছাতে সক্ষম, আমার দ্বীন সেই সবক'টি জায়গায় প্রবল হবে। ইসলাম গ্রহণ করুন, তাহলে নিরাপত্তা লাভ করবেন। আপনার অধিকারে যা আছে, তার কোনও ক্ষতি করব না, তা আপনার অধীনেই থাকবে।”
সুলাইত ইবনু আমর আমিরি (রদিয়াল্লাহু আনহু) এ চিঠিটি বহন করেন। সসম্মানে চিঠিটি গ্রহণ করে তাকে উপঢৌকন দেন হাওযা। জবাবে লেখেন,
"আপনার আহ্বায়িত আদর্শের প্রশংসায় কী-বা বলতে পারি? আমি নিজ জাতির কবি ও কথক। পুরো আরবজুড়ে আমার খ্যাতি বিস্তৃত। আপনার রাজ্যের একাংশের দায়িত্ব আমাকে দিন, আমি আপনার অনুসারী হয়ে যাব।"
চিঠিটি গ্রহণ করে নবি মন্তব্য করেন, "সে চাওয়া মতো এক টুকরো ভূমিও আমি তাকে দেবো না। সে নিজেও ধ্বংস হবে এবং যা তার অধীনে আছে তাও সমূলে ধ্বংস হবে।"
রাসূলুল্লাহ যখন মক্কা বিজয়ের পর সেখান থেকে ফিরে আসেন তখন হাওযা মারা যায়।
টিকাঃ
[৪১১] ইবনুল কাইয়িম, যাদুল মাআদ, ৩/৬০।
[৪১২] ইবনুল কাইয়িম, যাদুল মাআদ, ৩/৬৩।