📄 বানূ লিহইয়ানের যুদ্ধ (রবীউল আউয়াল, ৬ষ্ঠ হিজরি)
হিজায অঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র উসফান। সেখানে বাস করে লিহইয়ান গোত্র। রজী'তে এরাই সত্তর জন সাহাবিকে আক্রমণ করে শহীদ করেছিল। নবি অনেক আগে থেকেই এদের ওপর প্রতিশোধ নিতে ইচ্ছুক ছিলেন। কিন্তু এতদিন খন্দক যুদ্ধের মতো বড় বড় ঘটনাগুলো ব্যস্ত রেখেছিল তাঁকে। এখন আর সে ঝামেলা নেই। আর দেরি না করে ষষ্ঠ হিজরির রবীউল আউয়াল মাসে দুই শ সেনা ও বিশ জন অশ্বারোহী নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি। এ সময়ও তিনি মদীনার দায়িত্ব অর্পণ করে যান আবদুল্লাহ ইবনু উম্মি মাকতুম (রদিয়াল্লাহু আনহু)-কে।
আজ ও উসফানের মাঝামাঝি 'বাতনু গারান'-এ গিয়ে পৌঁছায় বাহিনীটি। এখানেই হয়েছিল সেই মর্মান্তিক গণহত্যা। সেখানে দুদিনের যাত্রাবিরতি করে নবি শহীদদের জন্য দুআ করেন। অভিযানের খবর পেয়ে বানূ লিহইয়ান পাহাড়ে আশ্রয় নিয়ে আত্মরক্ষা করে। দশ জন অশ্বারোহীর একটি অগ্রগামী বাহিনী নিয়ে উসফানে যান নবিজি ﷺ। 'কুরাউল গমীম' পর্যন্ত গিয়েছিলেন তারা। চৌদ্দ দিন পর মুসলিম বাহিনী মদীনায় ফিরে আসেন। কিন্তু কাউকেই হাতের নাগালে পাননি। মুসলিম বাহিনীর ভয়ে তারা সবাই দূর-দূরান্তে পালিয়ে গিয়েছিল।
📄 যাইনাব ؓ-এর স্বামী আবুল আসের ইসলাম গ্রহণ
একই বছরের জুমাদাল উলা মাসে রাসূল ﷺ একটি সিরিয়াফেরত কুরাইশ কাফেলার খবর পান। যাইদ ইবনু হারিসা (রদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নেতৃত্বে ১৭০ জন অশ্বারোহীর একটি বাহিনীকে 'ঈস'-এ পাঠান তিনি। কুরাইশ কাফেলার নেতৃত্বে ছিলেন আবুল আস ইবনু রবী'। ইনি নবি-তনয়া যাইনাব (রদিয়াল্লাহু আনহা)-এর স্বামী। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে তিন বছর যাবৎ দেখা নেই। একদিকে যাইনাব মদীনায় হিজরত করে এসেছেন, আরেকদিকে আবুল আস ইসলাম গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে রয়ে গেছেন মক্কায়।
মুসলিম বাহিনী পুরো কাফেলাটিকে কব্জা করে ফেলেন। আবুল আস শুধু পালিয়ে চলে আসেন মদীনায়। আশ্রয় নেন যাইনাবের ঘরে। স্ত্রীকে অনুরোধ করেন, যেন রাসূল ﷺ -কে বলে কাফেলার মালপত্র ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। কন্যার অনুরোধ রক্ষা করেন নবিজি।
ঝানু ব্যবসায়ী আবুল আস মক্কায় গিয়ে যার যার পণ্য তার তার কাছে বুঝিয়ে দিয়ে আসেন। তারপর মদীনায় ফিরে এসে ইসলাম কবুল করেন। পুনর্মিলন হয় স্বামী-স্ত্রীর। কাফিরদের সাথে মুসলিম নারীদের বিয়ে নিষিদ্ধ করে তখনো আয়াত নাযিল হয়নি। তাই পুনঃনবায়ন ছাড়াই বৈবাহিক সম্পর্ক অটুট থাকে।
এ সময়টায় আল্লাহর রাসূল আরও কয়েকটি অশ্বারোহী অভিযাত্রী দল প্রেরণ করেন। দূরবর্তী এলাকাগুলোতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে থাকা শত্রুদের খতম করে শান্তি নিশ্চিত করা হয় এই অভিযানগুলোর মাধ্যমে।
টিকাঃ
৩৬৭. আবু দাউদ, ২২৪০।
৩৬৮. যাদুল মাআদ, ২/১২০-১২২।