📘 রাসূলে আরাবি ﷺ > 📄 বদরের দ্বিতীয় যুদ্ধ (শা’বান, ৪র্থ হিজরি)

📄 বদরের দ্বিতীয় যুদ্ধ (শা’বান, ৪র্থ হিজরি)


উহুদ থেকে ফেরার সময় আবূ সুফইয়ান বলে গিয়েছিল পরের বছর বদরে আবার মুখোমুখি হওয়ার কথা। চৌঠা হিজরি সনের শা'বান মাস আসতেই নবি ﷺ আগেভাগে ময়দানে রওনা হন। বদরে শিবির স্থাপন করে আট দিন অপেক্ষা করেন আবূ সুফইয়ানের জন্য। সাথে ছিল দেড় হাজার সেনা ও দশটি ঘোড়া। সেনাদলের পতাকাবাহী ছিলেন আলি, আর মদীনার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক হিসেবে ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রদিয়াল্লাহু আনহুমা)।

আবূ সুফইয়ানও দু-হাজার সৈনিক নিয়ে বেরোন, যার মাঝে পঞ্চাশ জন ঘোড়সওয়ার। কিন্তু শুরু থেকেই তার মাঝে প্রত্যয়ের অভাব ছিল সুস্পষ্ট। 'মাররুয যাহরান' নামক স্থানে 'মাজিন্না নামক প্রসিদ্ধ ঝরনার নিকট পৌঁছে বাহিনীকে তিনি বলেন, "চারপাশে সবুজ থাকলেই না যুদ্ধ করা যায়। প্রাণীগুলোও খেতে পায়, আমাদেরও দুধ দেয়। কিন্তু এখন তো দেখছি চারদিকে খরা আর খরা। চলো, ফিরে যাই।” পুরো দলকেই সহমত জানাতে দেখা গেল। শত্রুর মুখোমুখি না হয়েই গুটি-গুটি পায়ে ফিরে গেল তারা।

এদিকে মুসলিমরা বদরে অবস্থান করে বেশ কয়েকটি ব্যবসায়িক লেনদেন সেরে ফেলেন। কয়েকটি বাণিজ্য কাফেলার কাছে নিজেদের বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে ভালোই লাভ হয় তাদের। কুরাইশরা যুদ্ধ না করে ফিরে যাওয়ায় মুসলিমদের সামরিক মর্যাদাও সমুন্নত থাকে। একই বছরের রবীউল আউয়াল মাসে 'দূমাতুল জান্দাল' নামক স্থানে একটি ডাকাতদলের ওপর শাস্তিমূলক অভিযান চালান রাসূল ﷺ। সব জাতের শত্রুকে পরাস্ত করে পুরো এক বছর ধরে শান্তিময় অবস্থা বিরাজ করে মদীনায়। অনুসারীদের ঈমান দৃঢ়করণ ও দ্বীনি শিক্ষাদানের মাধ্যমে এ পরিস্থিতির সদ্ব্যবহার করেন নবি ﷺ।

টিকাঃ
৩৩৮. ইবনু হিশাম, আস-সীরাহ, ২/২০৯-২১০; ইবনুল কাইয়িম, যাদুল মাআদ, ২/১১২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00