📄 হামরাউল আসাদের যুদ্ধ
ঠিক পরদিন সকালেই নবি ও একজন ঘোষককে দিয়ে ঘোষণা করান যে, উহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সবাইকে এক্ষুনি শত্রু ধাওয়া করতে যেতে হবে। চরম ক্লান্তি আর মারাত্মক ক্ষত নিয়ে প্রতিটি মুসলিম সে নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন। মদীনা থেকে আট মাইল দূরে হামরাউল আসাদে স্থাপন করা হয় সেনাশিবির।
ওদিকে মদীনা থেকে ছত্রিশ মাইল দূরে রাওহা নামক স্থানে যাত্রাবিরতি করে সলা-পরামর্শ চলছে মুশরিক শিবিরে। সেনাপতিদের কটূক্তি করার জের ধরে চলছে বাগবিতণ্ডা। অরক্ষিত মদীনায় আক্রমণ করার সুবর্ণ সুযোগকে পায়ে ঠেলে আসার শিশুসুলভ সিদ্ধান্ত নিয়ে সবাই এখন খেপা।
মুসলিম শিবিরেও তখন পরিকল্পনা চলছে। মা'বাদ ইবনু আবী মা'বাদ খুযাঈ নবিজি ﷺ -এর এক শুভাকাঙ্ক্ষী। তিনি হামরাউল আসাদে এসে উহুদের ঘটনা সম্পর্কে সমবেদনা জানান। নবিজি তাকে বললেন আবূ সুফইয়ানের কাছে যেতে। ভীতিকৌশল ব্যবহার করে তাড়িয়ে দিতে বললেন মুশরিক বাহিনীকে। কথামতো মা'বাদ গেলেন রাওহায়। সিদ্ধান্তের পাল্লা তখন মদীনা পুনরাক্রমণের দিকেই হেলে আছে।
মা'বাদ গিয়ে শুরু করলেন মারাত্মক বর্ণনা। মুসলিমরা কেমন ভয়ানক প্রস্তুতি নিয়ে পাল্টা আক্রমণ করতে আসছে, তা বলতে লাগলেন রং চড়িয়ে, “আরে আপনারা তো জানেন না। মুহাম্মাদ এত বিশাল এক দল নিয়ে বেরিয়েছেন, জীবনে এত বড় বাহিনী দেখিনি। প্রতিশোধ আর রক্তের নেশায় পাগল হয়ে আছে সবাই। তোমরা কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ওই পাহাড়টার পেছন দিকে ওদের প্রস্তুতিটা একবার দেখে নাও।"
বুদ্ধি কাজে দিল। সাহস হারিয়ে ফেলল মাক্কি বাহিনী। আবূ সুফইয়ানও তার রণপরিকল্পনাকে একই রকম ভীতিকৌশলে সীমিত করে ফেলেন। মাক্কি বাহিনী আরেক রাউন্ডের জন্য প্রস্তুত—এই বলে একটি কাফেলাকে দায়িত্ব দেন যেন তারা মুসলিম বাহিনীর নিকট তা খুব করে প্রচার করে। এই ফাঁকে বাহিনী নিয়ে তড়িঘড়ি করে নিজেরা ধরেন মক্কার পথ।
হারতে হারতে বেঁচে আসা মুসলিম বাহিনী এই সতর্কবার্তা শুনে লড়াইয়ের পূর্ণপ্রস্তুতি নেন। নতুন আক্রমণের ঘোষণায় তাদের মনোবল আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে।
“যাদের লোকেরা বলেছে যে, তোমাদের সাথে মুকাবিলা করার জন্য কাফিররা বহু সাজ-সরঞ্জাম সমাবেশ করেছে, তাদের ভয় করো। তখন তাদের বিশ্বাস আরও দৃঢ়তর হয়ে যায় এবং তারা বলে, আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট আর তিনি কতই-না চমৎকার তত্ত্বাবধায়ক।”
যেহেতু ফাঁকা হুমকি আর বাস্তবায়িত হয়নি, তাই পরের প্রশান্ত অবস্থাটির কথা আয়াতে তুলে ধরা হয় এভাবে,
“ফলে তারা ফিরে এল আল্লাহর নিয়ামাত ও অনুগ্রহ নিয়ে। কোনও ক্ষতিই তাদের স্পর্শ করেনি। আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া আর কিছু তারা চায়ওনি। আর আল্লাহ তো সীমাহীন অনুগ্রহকারী।”
টিকাঃ
৩৩০. সূরা আ-ল ইমরান, ৩ : ১৭৩।
৩৩১. সূরা আ-ল ইমরান, ৩: ১৭৪।